আসিফ নজরুল একজন ঔপন্যাসিক, রাজনীতি-বিশ্লেষক, সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও কলামিস্ট। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ১৯৯১ সাল থেকে শিক্ষকতা করছেন। আন্তর্জাতিক আইনে পিএইচডি করেন লন্ডন থেকে। এরপর জার্মানি ও ইংল্যান্ডে কিছুদিন কাজ করেছেন পোস্টডক্টরাল ফেলো হিসেবে। সাংবাদিক হিসেবে একসময় খ্যাতি অর্জন করেন। বর্তমানে কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে বহুল পরিচিত। দীর্ঘ বিরতির পর কয়েক বছর ধরে আবার সৃজনশীল লেখালেখি করছেন। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা দশের অধিক।
এই বইয়ের বর্ণনাভঙ্গি আমার দারুণ লেগেছে। হুমায়ূনের সংলাপের একটা শক্তি ছিল যে তা লোকদের বেদুম হাসাতে পারত। আসিফ নজরুলেরও সেই শক্তি রয়েছে। আবার গল্পের প্রধান চরিত্রের কীর্তিকলাপও এমন যে, না হেসে পারা যায় না। এই বই একটানে পড়ার সময় আর যাই হোক বিরক্ত হওয়া যায় না। তাই লেখকের লেখার স্টাইলকে পাঁচে পাঁচ দিতে হয়।
এখন প্রশ্ন হলো গলদটা কোথায়? এ বইয়ে এমন একটা প্লট ছিল যে সেটা দিয়ে দারুণ একটা মেসেজ দেয়া যেতো। বিশেষ করে প্রধান চরিত্র বাদলকে রাজনৈতিক কারণে গুম করার অংশটা পড়ে আমার অন্তত তাই মনে হচ্ছে। কিন্তু এই মেসেজটাকে লেখক যথেষ্ট হৃদয়গ্রাহী করে তুলতে পারেন নি। কারণ? বকুলের চরিত্রটা অসম্পূর্ণ।যে বকুল বাদলের ধ্যান জ্ঞান, কিন্তু সেই বকুলকেই লেখক ঠিক করে তুলে ধরতে চান নি। বাদলের পিছুটান না থাকায় বাদলের গুম হওয়ার এই অসাধারণ বর্ণনাও অর্থহীন হয়ে গেলো। তাই গলদটা গল্পের গভীরতা না থাকায়।
শেষমেশ এটা না হলো প্রেমের উপন্যাস, না হলো অনেকটা অস্থির একটা সময়ের প্রতিচ্ছবি। ঐ যে বলে না, একটুর জন্য মিস করা। আসিফ নজরুলও সেই একটুর জন্য মিস করেছেন। একটু এদিক সেদিক হলেই বেশ ভালো উপন্যাস হিয়ে যেতো এটা। ভবঘুরে বাদল আমাকে অনেক হাসিয়েছে, কিন্তু মুগ্ধ করতে পারে নি।
প্রথম আলোর কোনো এক ঈদ সংখ্যায় পড়েছিলাম। এই লেখার কারণে আসিফ নজরুলের ভক্ত হয়েছিলাম। কিন্তু, পরে আর লেখাটা ভালো লাগেনি। যদিও গল্পের মেসেজটা অনেক গভীর ছিল। বর্তমান সময়ের অস্থিরতার সাথে মিল পাওয়া যাবে কিছুটা।
প্রথমেই গল্পের ভাষা নিয়ে বলি, সমকালীন লেখকেরা যেভাবে চলিত আর আঞ্চলিক রীতির সংমিশ্রণে সৃষ্ট নতুন প্রজন্মের পাঠক উপযোগী রীতির ব্যবহার করে থাকেন, আসিফ নজরুলও তার বিরোধীতা করার চেষ্টা করেননি। গল্পের চরিত্রগুলোকে আরও জীবন্ত করে তোলার জন্য এরকম মিশ্রণ এবং দু-চারটা গালাগাল থাকা দোষের কিছু না। কিন্তু বর্তমান সময়ের আরেক বিশেষ প্রজাতির লেখক সম্প্রদায় প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে অশ্লীল শব্দের ব্যবহারকে সৃজনশীল রচনার মূলমন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে উঠেপড়ে লেগেছেন, এবং তাদের এক শ্রেণীর পাঠকগোষ্ঠীও তৈরি হয়েছে। এসব রচনা ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে বিব্রতকর মনে হয়। ”উধাও” সেদিক থেকে যথেষ্ট মার্জিত ভাষায় রচিত, ”শালা” জাতীয় দুই একটা গালি ছাড়া আর তেমন কোনো অশ্লীল শব্দের ব্যবহার হয়নি। ১৮+ কন্টেন্ট থাকা সত্ত্বেও সুযোগের অপব্যবহার না করে আসিফ নজরুল সাহেব যথেষ্ট কৌশলী শব্দচয়নের মাধ্যমে মার্জিত ভাষার ব্যবহার বজায় রেখেছেন যা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। আর এযুগের লেখা বলেই যারা অশ্লীল শব্দ আর ১৮+ কন্টেন্টের রগরগে বর্ণনার মজা নিতে বইটিতে হামলে পড়বেন, আগেই বলে দিচ্ছি তাদেরকে হতাশ হতে হবে, এ গল্পে যৌন উত্তেজক কিছু নেই।
তবে গল্পের কিছু কিছু অংশে অপ্রাসঙ্গিক ঘটনার দীর্ঘ বর্ণনা পাঠককে বিরক্ত করে তুলতে পারে, আবার নাও পারে। বাচাল গোছের মানুষ কথা বলতে বলতে খেই হারিয়ে অন্য বিষয়ে ঢুকে পড়লে যেমনটা হয়, ঠিক সেরকমই কিছু ব্যাপার এই উপন্যাসে পাঠকের চোখ এড়াবে না বোধকরি।
কাহিনীর প্রবাহও মার্জিত ধরণের গতিশীল। তবে পূর্বে উল্লিখিত অপ্রাসঙ্গিকতার দীর্ঘায়নে পাঠকের সামান্য ধৈর্যচ্যুতি ঘটতে পারে, তবে তা উপেক্ষা করা গেলে আর সমস্যা হবার কথা নয়। হাস্যরস রয়েছে পর্যাপ্ত, কিছু কিছু জায়গায় সে রস জমতে জমতেও জমেনি, কিছু অংশে যথেষ্ট জমেছে। গল্পের মূল চরিত্র বাদল, যাকে লেখক মধ্যবিত্ত শহুরে পরিবারের সাদামাটা বেকার যুবকদের প্রতিনিধিরূপে তুলে ধরতে চেয়েছেন, তাতে অনেকাংশে সফলও হয়েছেন। তবে নায়িকা বকুলের সক্রিয় উপস্থিতির অভাব আমি সর্বদা অনুভব করেছি। পুরো কাহিনীতে বাদল আর বকুলের মুখোমুখি কথোপকথন মাত্র একবার, তাও দুই-এক বাক্যে, কাহিনীর প্রকৃতি বিবেচনায় এটা আমার কাছে কম মনে হয়েছে। তবে অন্যান্য দিক থেকে পাঠককে একটি শহুরে পরিবেশের স্বাদ দিতে লেখক যেসব ছোট ছোট প্রভাবকের ব্যবহারে দক্ষতা দেখিয়েছেন তা এককথায় চমৎকার। কাহিনীতে গুম, দোকানে আগুন, বিক্ষোভ, ক্ষমতার অপব্যবহার- এসব সমসাময়িক বিষয়ের অবতারণা আমার কাছে লেখকের রাজনৈতিক চেতনার গভীর থেকে প্রকাশিত কোনো ইঙ্গিত বলে মনে হয়েছে।
সবমিলিয়ে একজন সাধারণ পাঠক হিসেবে আমি উপন্যাসটির বর্ণনাভঙ্গি উপভোগ করেছি , কিন্তু কাহিনী কিছুটা অসম্পূর্ণ এবং অগভীর মনে হয়েছে।
(সৈয়দ আসির হা-মীম বৃন্ত)
This entire review has been hidden because of spoilers.
আসিফ নজরুলের লেখা এটাই আমার প্রথম বই । বই পড়তে গিয়ে আমার কেবল একটা কথাই মনে হয়েছে লেখক সাহেবের লেখার প্রকাশ ভঙ্গি মোটেই ভাল নয়, পড়তে গিয়ে সাবলিলতা কিংবা রিদিম পাওয়া যায় না, অন্তত আমি পাই নি । অনেকটা কেউ খুব আগ্রহ করলা ভাজি খায় আবার কেউ খায় বাধ্য হয়ে । পড়ার সময় আমার নিজেকে দ্বিতীয় দলের মনে হয়েছে ।
গল্পের কাহিনী সাধারন । মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে বাদক । বেকার । বান্ধুর মুরগি ডিমের দোকানে বসে । সেই দোকানে কাজ হিসাবে এক বাসায় মুরগি দিতে গিয়ে দেখা হয় বলুকের সাথে যাকে সে মার্কেটে দেখেছিলো কয়েকদিন আগে এবং দেখেই তার প্রেমে পড়ে যায় । অন্য দিকে বাদলের বন্ধু শফির দোকান আছে মার্কেটে । ক্ষমতাসীন কমিশনার সেই মার্কেট ভেঙ্গে নতুন ১২ তলা মার্কেট বানাতে চায় । সেখানে একটা দন্ড শুরু হয় । বাদল সেখানে জড়িয়ে পড়ে । তারা কমিশনারের অফিসে আগুন দিয়ে যায় । তারপর বাদলকে কে বা কারা উঠিয়ে নিয়ে যায় । তাকে আটকে রাখে অনেক দিন । এই উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় দোকান মালিকেরা ভয় পায় তারপর কমিশনারের কথা মেনে নেয় । বাদল আবারো ফিরে আসে । বাদলের মা বলে যে ছেলেকে জ্বীনে নিয়ে গিয়েছিলো ।
তারপর আবারো বাদল উধাও হয় । এবার অবশ্য নিজেই পালিয়ে দেয় । বাদলের বোন কমিশনারের ডান হাত রকিবুলের সাথে পালিয়ে গিয়েছিলো । রকিবুল তার বোনের সাথে কিছুদিন মজমাস্তি করি করে তাকে ছেড়ে দেয় । সেই রাগ ছিল বাদলের মনে । কমিশনারের এক মিটিং এ বাদল বাঁশ দিয়ে পেয়াট রকিবুলকে । বাদলের নামে মামলা হয় । বাদল পালিয়ে চলে যায় ।
তারপর আবারও ফিরে আসে যখন সে জানতে পারে তার স্বপ্নের নায়িকা বকুলের বিয়ে হচ্ছে বশির ভাইয়ের সাথে । সে হয়তো বিয়ে আটকাতে পারে না কিন্তু সে দুরেও থাকতে পারে না । গল্প এখানেই শেষ হয়েছে ।
এমন কোন আহামরি গল্প আমার কাছে মনে হয় নি । তবে বইটা আমার কাছে আরও আকর্ষনীয় মনে হত যদি লেখকের লেখার প্রকাশ ভঙ্গি আমার মনমত হত । দেখা যাক আরও কয়েকটা বই পড়ে দেখি কেমন লাগে । আর আমার ���েহেতু ভাল লাগে নি আপনাদেরও পড়তে বলবো না ।
This entire review has been hidden because of spoilers.