মহাভারতের নায়ক কে? এ প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধানে অনেকেই বিভ্রান্ত হয়েছেন। কেউ বলেছেন অর্জুন, কেউ নির্দেশ করেছেন কর্ণকে। কেউ বা শান্তনু-পুত্র দেবব্রত ভীষ্মের চরিত্রে নায়কোচিত গুণাবলীর সর্বাধিক প্রকাশ লক্ষ করেছেন। বস্তুত এই অনুপম মহাকাব্যে একাধিক উজ্জ্বল ও বিচিত্র পুরুষের সমাবেশের ফলে নায়ক চরিত্র বিচারে বিভ্রান্তি ঘটেছে। কিন্তু লেখক এই গ্রন্থে নিঃসংশয়ে প্রমাণ করেছেন মহাভারতের নায়ক আর কেউ নন—তিনি এক এবং অদ্বিতীয় যুধিষ্ঠির। তিনি এই মহাকাব্যের কেন্দ্রীয় চরিত্র। মহাভারতের সব ঘটনা যুধিষ্ঠিরকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হয়েছে। যুধিষ্ঠিরের পরিণতি না দেখানো পর্যন্ত মহাকবি ব্যাসদেবের যেন নিবৃত্তি নেই। যুধিষ্ঠিরের জীবন এক শান্ত সমাহিত ধর্মপরায়ণ ধর্মাত্মা ক্ষত্রিয় রাজার জীবনপরিক্রমা। বহুব্যাপ্ত জীবনপরিক্রমার অন্তিমে, মহাভারতের অন্য নায়কোচিত চরিত্ররা যেখানে শোচনীয় শোকহীন নিঃসঙ্গ মৃত্যুর নিঃশব্দতায় হারিয়ে গেছেন, সেখানে যুধিষ্ঠির পৃথিবীর ধূলি ধূসরিত মলিন দেহে সশরীরে উপস্থিত হয়েছেন মৃত্যুহীন স্বর্গে। যুধিষ্ঠিরের মৃত্যু নেই, তিনি সমগ্র মহাকাব্য জুড়ে এক মৃত্যুহীন প্রাণ। মর্ত্য ও স্বর্গের মাঝখানে তিনি এক অবিনশ্বর সেতু। মুক্তি নয়, বন্ধনই তাঁর স্বধর্ম। অথচ যুধিষ্ঠির, পিতৃদত্ত বলে বলীয়ান নন, কোনও দেবতার আশীর্বাদধন্যও নন তিনি। জীবনের সবটুকু তাঁর নিজের, স্বোপার্জিত। মহাভারত যেন তাঁরই জীবনবেদ। বিস্তৃত এবং অনুপুঙ্খ বিশ্লেষণে লেখক যুধিষ্ঠিরের নায়কত্ব প্রতিষ্ঠিত করেছেন এই গ্রন্থে।
ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য-র জন্ম ৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৪২। পিতামহ মহামহোপাধ্যায় হরিদাস সিদ্ধান্তবাগীশ। পিতা অধ্যক্ষ ঁযোগেশচন্দ্র ভট্টাচার্য। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এম. এ (১৯৬২)। ইন্টালি একাদেমিতে শিক্ষকতা ১৯৬৩ থেকে ’৭১ পর্যন্ত। ১৯৭১ থেকে তিলজলা ব্রজনাথ বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক। ২০০২-এ অবসরগ্রহণ, মাঝখানে এক বছর ডেভিড হেয়ার ট্রেনিং কলেজের খণ্ডকালীন বক্তারূপে কর্মরত ছিলেন। মূলত ভারতীয় ধ্রুপদী সাহিত্য, মহাকাব্য, পুরাণ ও নানা ধর্মের প্রধান ধর্মগ্রন্থ পাঠ ও চর্চায় লেখক আগ্রহী। প্রকাশিত গ্রন্থ নায়ক যুধিষ্ঠির।