গাড়ি দুর্ঘটনা থেকে ছোট্ট ছেলেটাকে বাঁচাতে গিয়ে জড়িয়ে গেল রানা আর্ট গ্যালারির নৃশংস ঘটনায়। তাতে পেল ইটালির মানুষের অঢেল ভালোবাসা। জানতো না, ঠিক পরদিনই পরিণত হবে ও খলনায়কে! প্রশ্ন হলো: রানা যদি না করে থাকে তা হলে কে খুন করল ইটালির প্রেসিদডেন্ট পদপ্রার্থীকে? রিটিশ ইন্টেলিজেন্স? কেন দুর্ধর্ষ এসএএস মেজর নোরা গোল্ডফিন্ডকে পেছনে লেলিয়ে দিয়েছে ওরা? কী চায় ওর কাছে নিষ্ঠুর রাশান মাফিয়া ডন?
সার্বক্ষণিক তাড়া ও গুলি খেয়ে আহত, মহাবিরক্ত রানা এখন জানতে চায়, কী কারণে মরিয়া হয়ে ওকে খুন করতে চাইছে এরা! কয়েকটি দেশের সশস্ত্র পুলিশ, দুর্ধর্ষ ব্রিটিশ মেজর ও ভয়ঙ্কর রাশান মাফিয়ার বিরুদ্ধে একা কতটুকু পারবে ও?
কাজী আনোয়ার হোসেন ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দের ১৯ জুলাই ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পুরো নাম কাজী শামসুদ্দিন আনোয়ার হোসেন। ডাক নাম 'নবাব'। তাঁর পিতা প্রখ্যাত বিজ্ঞানী, গণিতবিদ ও সাহিত্যিক কাজী মোতাহার হোসেন, মাতা সাজেদা খাতুন। কাজী আনোয়ার হোসেন সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার হিসাবে ষাটের দশকের মধ্যভাগে মাসুদ রানা নামক গুপ্তচর চরিত্রকে সৃষ্টি করেন। এর কিছু আগে কুয়াশা নামক আরেকটি জনপ্রিয় চরিত্র তার হাতেই জন্ম নিয়েছিলো। কাজী আনোয়ার হোসেন ছদ্মনাম হিসেবে বিদ্যুৎ মিত্র নাম ব্যবহার করে থাকেন।
বইয়ের শুরু থেকে বেশ একটা টানটান উত্তেজনাকর ভাব থাকলেও মাঝামাঝি গিয়ে বেশ স্লো হয়ে পড়েছিলো। কাহিনী বলা চলে চলনসই। ইতালিতে আর্ট গ্যালারী ডাকাতি দিয়ে যে কাহিনীর শুরু, স্পেন মোনাকো ঘুরে সেই কাহিনী শেষ হয়েছে জর্জিয়ান পাহাড়ি এলাকায় ড্রাগ লর্ডের আস্তানায়। ইতালিয়ান পুলিশ, রাশান মাফিয়া আর ব্রিটিশ সিক্রেট সার্ভিস তিন মহাশক্তিধর শত্রুর সাথে লড়াইটা রানা একাই লড়ে গেছে। নোরা গোলফিল্ডকে আরেকটু এ্যাকশনে দেখতে পেলে ভালো লাগতো। সব মিলিয়ে খারাপনা।
উনিশ’শ ছিয়াশির কোনো এক রাতে একদল আততায়ীর আঘতের কারণে মৃত্যু হলো আটাত্তর বছর বয়সী এক অসুস্থ বৃদ্ধার। মৃত্যুর কারণ- হার্ট এ্যাটাক। কোনো বিশেষ একটি চিত্রকর্মের খোঁজে আততায়ীরা তছনছ করে ফেললো বৃদ্ধার স্টুডিও। তবে যা খুঁজছে, খুঁজে পেলো না তা। এর বত্রিশ বছর পরের কোনো এক রৌদ্রজ্জ্বল দিন। ছুটি কাটাতে ইতালির নেপলসের দিকে ফিরছে বাংলাদেশ কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের দূর্ধর্ষ স্পাই মাসুদ রানা। পথিমধ্যে ঘটনাচক্রে এ্যাক্সিডেন্টের হাত থেকে বাঁচালো এক ছোট্ট শিশুকে। শিশুটিকে তার বাবা-মায়ের হাতে পৌঁছে দেবার উদ্দেশ্যে গেলো এক আর্ট গ্যালারিতে। আর সেখানেই মুখোমুখি হলো রাশান মাফিয়া দলের। যারা এই আর্ট গ্যালারি লুট করতে এসেছে। তাদের দলনেতা ইউরি বোরকভ একজন সাইকোপ্যাথ। গ্যালারি লুটের পাশাপাশি নির্বিচারে মানুষ হত্যা করতে শুরু করলো সে। চোখের সামনে এমন অন্যায় অত্যাচার দেখে চুপ করে থাকার মতো মানুষ নয় রানা। থাকেওনি। একাই যুদ্ধ ঘোষণা করলো অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত একদল মাফিয়ার বিরুদ্ধে। পণ্ড করে দিলো তাদের পুরো পরিকল্পনা। কিন্তু ঘটনার এখানেই শেষ নয়। সবে শুরু। গ্যালারিতে এত দামী দামী পেইন্টিং রেখে ওরা কেন নিয়ে গেলো গোএয়ার সাধারণ একটি চিত্রকর্ম? ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও জড়িয়ে পড়লো রানা পুরো ঘটনার সাথে।
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ অনেকদিন পর মাসুদ রানার বই পড়লাম। বইটির শুরু থেকে শেষ অবধি ধুন্ধুমার এ্যাকশন। বইয়ে রানার সাথে সাথে পাঠকদেরও তাল মিলিয়ে ছুটতে হবে। রুদ্ধশ্বাস গতির এই থ্রিলার বইটি আপনাকে টেনে নিয়ে যাবে শেষ পাতা অবধি। পুরো বই জুড়ে রয়েছে ছোট ছোট কয়েকটি টুইস্ট, যা চমকে দেয়ার পাশাপাশি বাড়িয়ে তুলবে পাঠের আনন্দ। সেবার বইয়ের উল্লেখযোগ্য একটি দিক হলো, এতে বানান ভুল থাকে না। অসংখ্য বানান ভুলের সমাহার একটি ভালো প্লটের বইকেও করে তুলতে পারে অপাঠ্য, যা আজকাল প্রায়শই চোখে পড়ে। পাশাপাশি ঝরঝরে লেখনশৈলীর কারণে পড়া এগিয়েছে সাবলীল গতিতে। প্রিয় মাসুদ রানা যেন আবারও ফিরে এসেছে নতুন করে। ডার্ক মেডিউসা বইটি পরবর্তী রানার বইগুলোর জন্য আগ্রহ আরও বাড়িয়ে তুললো।