এক জন্মদিনে আমি একটা বাঘ মামাই উপহার পেয়েছিলাম। একদিন কোথায় যেন সে হারিয়ে গেল। খুব কষ্ট পেয়েছিলাম আমি। পরের জন্মদিনের কোনো উপহার কি সেই কষ্ট ভোলাতে পারবে।
ধ্রুব এষ। জন্ম ১৯৬৭। সুনামগঞ্জের উকিলপাড়ায়। বাবা শ্রী ভূপতি এষ। মা শ্রীমতী লীলা এষ। দেশের অপরিহার্য প্রচ্ছদশিল্পী। রঙে, রেখায় কত কিছু যে আঁকেন! গত তিন দশক ধরে বাংলাদেশের প্রচ্ছদ শিল্পের একচ্ছত্র অধিপতি।
এ যাবৎ প্রায় বিশ হাজার প্রচ্ছদ এঁকেছেন। প্রচ্ছদের পাশাপাশি লেখালেখিও করেন। সব ধরনের লেখাতেই সিদ্ধহস্ত। কী ছোটদের কী বড়দের—সব বয়সি পাঠক তাঁর লেখায় আকৃষ্ট হন সমানভাবে।
তাঁর লেখায় দেখা-না-দেখা জীবন আর মানুষের এক বিচিত্র সম্মিলন ঘটে যেখানে খুঁজে পাওয়া যায় পাওয়াকে, না-পাওয়াকে। জীবনের বহুবর্ণিল বাস্তবতাকে নতুন মোড়কে উপস্থাপন করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন এই লেখক।
সেবারের জন্মদিনে অরনি একটি ডোরাকাটা কাপড়ের বাঘ উপহার পেল। ছোট্ট অরনি মাকে বলল কী নাম রাখা যায়? হ্যা! বাঘমামাই। এই বাঘমামাই এর সাথে সাথে নাম রাখা হলো মো মামা, ফিডার ফুফুর। অরণি বাঘমামাই কে ছাড়া কোত্থাও যায় না, খাই না। কিন্তু একদিন তার বাঘমামাই হারিয়ে গেল। কোথায় গেলো?
গল্পটি থেকে ছোটরা শিখবে ওরা বাঘমামাই এর মতো কীভাবে বড় হচ্ছে। আর এত্ত সুন্দর ছবি আঁকা সবাই ই পছন্দ করবে।
পৌষ দিদি রঙীন বাক্সে করে ছোট্ট অরণিকে জন্মদিনে একটি উপহার পাঠিয়েছিল। হলদে-কালোয় ডোরাকাটা কাপড়ের বাঘ মামাই। সেই থেকেই বাঘ মামাই ছাড়া অরণি থাকতে পারে না। খায় না ঘুমায় না। কিন্তু একদিন বাঘ মামাই হারিয়ে গেল। বছর ঘুরে আরেক জন্মদিনে পৌষ দিদি নতুন উপহার পাঠালো। কিন্তু হারিয়ে যাওয়া বাঘ মামাইর জন্য অরণির যে কষ্ট তা কি লাঘব করতে পারবে এই নতুন উপহার?
উপহার পেতে কে না ভালোবাসে। বিশেষ করে শিশুরা উপহার পেতে একটু বেশিই ভালোবাসে। আর যখন কোনো খেলনা উপহার হিসেবে পায় তখন তারা তো মহাখুশি। উপহার নিয়ে তেমনি এক অসাধারণ গল্প ‘আমার বাঘমামাই’। গল্পটিতে যে বিষয়টি ভালো লেগেছে তা হ’ল সেবারের জন্মদিনের উপহার আর এবারের জন্মদিনের উপহার দুটো থেকে অরণি বুঝতে পারলো যে অরণি বড় হচ্ছে। এ গল্প থেকে শিশুদের উপযোগী উপহার দেওয়ার দারুন আইডিয়াও পাওয়া গেল।