কাঁচ বা পানি কেন স্বচ্ছ? এর পেছনে বিজ্ঞানটা আসুন জেনে নেই।
যেকোনো কিছুর উপর যখন আলো এসে পড়ে, তখন সেখান থেকে দৃশ্যমান তরঙ্গদৈর্ঘের আলো আমাদের চোখে এসে পড়লে আমরা দেখতে পাই। তারমানে এমন আরো আলো আছে, যেগুলো দৃশ্যমান নয়। সেগুলোও আলো, কিন্তু আমরা দেখতে পাই না, যেমন মাইক্রোওয়েভ, ইনফ্রারেড, আল্ট্রাভায়োলেট, রেডিও ওয়েভ, এক্সরে, গামা রে বা কসমিক রে। এর মাঝে সবচেয়ে বেশি শক্তিওয়ালা হল কসমিক রে, আর সবচেয়ে কম শক্তিওয়ালা হল রেডিও ওয়েভ।
যাই হোক, আলো যখন কোন কিছুর উপর আইসা পড়ে, তখন সেটা কিছু আলো শোষণ করে, কিছু আলো আবার ফিরাইয়া দেয়, যেইডা ফিরাইয়া দেয়, সেইটা আমাগোর চোখে আইসা পড়লে আমরা সেইটা বিভিন্ন রঙে দেখতে পাই যদি সেইটা দৃশ্যমান আলো হইয়া থাকে, আবার অন্য কিছু প্রাণী আছে যারা ইনফ্রারেড দেখতে পারে, সেগুলা আবার আমরা দেখতে পারি না।
কাঁচ বা পানির উপর যখন আলো (দৃশ্যমান বা তারচেয়েও বেশি শক্তিওয়ালা আলো) আইসা পড়ে, তখন সেই আলো পানি বা কাঁচের ভিতরে থাকা পরমাণুসমূহের ইলেকট্রনরে উত্তেজিত করতে পারে না, ফলে সেই আলোরে পানি বা কাঁচ আটকাইতে পারে না বা ধরতে পারে না ফলে সেই আলো ফুটুস কইরা পানি বা কাঁচের ভিত্তে দিয়া চইলা যায়, তাই পানি বা কাঁচ স্বচ্ছ হয়।
আরেকটা মজার ব্যপার আছে, রেডিওয়েব বা মাইক্রোয়েবের মতো আলো কিন্তু আবার পানির মইদ্ধে আটকাইয়া যায়, ফলে পানির উপর সেই সব আলো পড়লে পানি আর স্বচ্ছ থাকে না, বরং পানি কিন্তু তখন গরম হইয়া যায় (এ বিজ্ঞান কাজে লাগাইয়াই মাইক্রোওয়েভ ওভেন তৈরি করা হইছে, সেই ওভেনে আসলে খাবার গরম হয় না, খাবারের ভিতরে পানি গরম হয়)
সুতরাং পানি স্বচ্ছ এই বাক্যটা একেবারে সত্য না, দৃশ্যমান আলোর এবং মানুষের চোখের সীমার মাঝে পানি স্বচ্ছ। সুতরাং পানির স্বচ্ছ হওয়াটা যেমন তার নিজস্ব একটা লিমিটেশন, একইভাবে আলোরও একটা লিমিটেশন।
উক্ত বইয়ে যা কিছু আছে তা হলো দৃশ্যমান আলো, আর আমি হলাম পানি।
গদ্য কবিতা; আপাত মনোদৃষ্টিতে যার কোনো অর্থ নেই। তবে নিজের মতো করে অর্থ বের করে নিতে পারলে ক্ষতি নেই। আমার তো লাভই হয়। নিজের মতো করে অর্থবোধক করতে পারি; আকাশকুসুম ভাবতে পারি; কল্পনার জাহাজে চড়ে প্রাক্তনের প্ল্যাটেও ঘুরে আসতে পারি। আবার অজানা কোনো ভাবের দেশে মনোভ্রমন করতে বিস্তর সুবিধা। ভালোই লাগে এসব কবিতা। আমার জন্য চলে।
লেখক সম্ভবত শব্দের খেলায় একটা বিহবল আবেশ তৈরি করতে চেয়েছিলেন। এই যাত্রায় লেখক ব্যর্থ হয়েছেন, অন্তত আমার চোখে। শুধু শব্দের খেলা বাদে অর্থপূর্ণ কিছুই মনে হয়নি। গতবারের বইমেলায় প্রকাশিত লেখকের "স্যাডনেস উইল লাস্ট ফরেভার" বইয়ের লেখাতে সেই তুলনায় পরিপক্কতা আছে৷
(এই বইটা আকারে ছোট, প্রতি পাতায় লেখাও কম৷ সে হিসেবে খুব বেশি একটা সময় নষ্ট হয়নি বলতে গেলে!)