সফল যদি হতে চাও’ বইয়ের ফ্ল্যাপের কথাঃ তুমি কি সফল হতে চাও? তোমার কি শীর্ষ স্পর্শ করতে ইচ্ছা হয়? তোমার কি পড়াশোনায় মন বসে না? তোমার কি ঘুরতে-ফিরতে, বই পড়তে, কবিতা লিখতে ভালো লাগে? তুমি শুধু খেলাধুলাই পছন্দ করো? তোমার কি গণিত ভালো লাগে কিন্তু সাহিত্য পছন্দ নয়? তুমি কি বড় বিজ্ঞানী হতে চাও? নাকি তোমার ভালো লাগে শুধু আলসেমি করতে! তুমি বলো, আমার কিস্যু ভাল্লাগে না! এই বই সফলতার সহজ সূত্র শিখিয়ে দেবে। পৃথিবীর সফল মানুষদের জীবনকাহিনি থেকে আনিসুল হক বের করার চেষ্টা করেছেন সাফল্যের গোপন চাবিকাঠি।
ভূমিকা
কিশাের আলাে পত্রিকার জানুয়ারি ২০১৯ সংখ্যায় একটি বড় লেখা লিখেছিলাম ‘সফল যদি হতে চাও’ শিরােনামে। মনে হলাে, কিশাের-তরুণদের জন্য আমি এ ধরনের লেখা আরও লিখেছি। অনেক সফল মানুষের সাক্ষাৎকার নিয়েছি, লিখেছি ভুবনবিখ্যাত মানুষের কথা। সব কটি একসঙ্গে করলে এমন একটি বই হয়, যে বই সব বয়সী পাঠককেই হয়তাে অনুপ্রেরণা জোগাবে। তা-ই করা হলাে। লেখাগুলাে প্রথম আলাে ও কিশাের আলােতে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত হয়েছিল। তাই কোনাে কোনাে কথা পুনরাবৃত্তির মতাে শােনাবে। তবে ভালাে কথা বার বার শােনাও ভালাে। তরুণদের কাজে লাগতে পারে ভেবে এই বইয়ে জামিলুর রেজা চৌধুরী ও সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের দুটি সাক্ষাৎকার দিচ্ছি। এগুলাে আমার নেওয়া নয়, কিশাের আলাে থেকে সংকলিত । আশা করি, বইটি পাঠকদের ভালাে লাগবে। বিশেষ করে তরুণদের। তারা এই বই থেকে প্রেরণা লাভ করলে তা হবে। আমার জন্য দারুণ একটি সার্থকতার ব্যাপার।
Anisul Hoque (Bangla: আনিসুল হক) is a Bangladeshi screenwriter, novelist, dramatist and journalist. He graduated from Bangladesh University of Engineering and Technology, trained as a civil engineer.
His inspiration in journalism and writing started during his student life. After his graduation he joined to serve as a government employee but resigned only after 15 days. Instead he started working as a journalist. He attended the International Writing Program at the University of Iowa in 2010. Currently, Hoque is working as an Associate Editor of a Bengali language daily, Prothom Alo.
His novel মা was translated in English as Freedom's Mother. It was published in Maithili too. He was honored with Bangla Academy Award in 2011.
আনিস ভাই আমাকে উনার একটা ইচ্ছার কথা বলছিলেন। ইচ্ছেটা হচ্ছে উনি চান "সফল যদি হতে চাও" বইটা যেন লক্ষাধিক শিক্ষার্থী পড়ুক। আমি তখনও জানতাম না সফল যদি হতে চাও বইটিতে কি লুকিয়ে আছে। আজকে আমার কাছে সেই রহস্য উদঘাটন হয়েছে।
আমি যেটা বলবো সেটা হচ্ছে এই বই শুধু শিক্ষার্থী না, শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের প্রথমে পড়া উচিৎ। এরপর অভিভাবকদের উচিৎ উনাদের ছেলেমেয়েদের এই বই দেওয়া।
বইটাতে লেখক প্রথমেই জানিয়ে দিয়েছেন লেখাগুলো বিভিন্ন সময়ে উনি পত্রিকায় এবং ম্যাগাজিনে লিখেছেন সেগুলোর সংকলন। এজন্য যেটা হয়েছে সেটা হচ্ছে আপনি যখন বইটা পড়বেন বেশ কয়েকটাতে একই উদাহরণ এবং ঘটনা পাবেন। লেখক সেখানে খুব সুন্দর একটি লাইন যুক্ত করে দিয়েছেন, "ভালো কথা বারবার শোনাও ভালো।" আমি ব্যক্তিগতভাবে উদাহরণ বা ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে কোনো ধরণের বিরক্তবোধ করিনি বরং ভালোই লেগেছে।
বইটিতে সবচেয়ে মজার বিষয় যেটা ছিল সেটা হচ্ছে সেখানে পাঠ্যক্রম এবং পাঠক্রম বহির্ভূত দুটি শিক্ষাতেই উৎসাহিত করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন সফল ব্যক্তিদের সফল হওয়ার পিছনের গল্প, উনারা কিভাবে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন, আমাদের জন্য উনাদের উপদেশ সেই বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশিদের মধ্যে যারা সফলতা অর্জন করেছেন সেই বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।
এছাড়াও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হচ্ছে আমাদের এধরণের একটা বইয়ের প্রয়োজন ছিল। এই লেখাগুলো পত্রিকা বা ম্যাগাজিনের পাতায় থাকতে থাকতে হারিয়ে যাবে। আমরা আমাদের দেশের অনেক জ্ঞানীগুণীদের সেখানেই হারিয়ে ফেলতাম। যেমন গুগল ডুডল যদি ফজলুর রহমান খানকে নিয়ে ডুডল না করতেন তাহলে হয়তো আমি উনার সম্পর্কে আরো অনেক পরে জানতে পারতাম। এই বইয়ের মাধ্যমে আমার কাছে সেগুলো নতুনভাবে উজ্জীবিত হয়েছে বলে মনে করি। আমাদের সকলের জানা উচিৎ আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা কত উচ্চতায় পৌঁছাচ্ছে। আর এই বইয়ে এক মলাটেই অনেকেরগুলো জানা যাবে। এধরণের আরো বেশকিছু বই প্রকাশ করে আমাদের ছেলেমেয়েদের পাঠ্য করলে সেটা অনেক মঙ্গলজনক হবে বলে আমার ধারণা।
এই বইয়ের শেষে দুইটা সাক্ষাৎকার দেওয়া হয়েছে। একটি জামিলুর রেজা চৌধুরী স্যারের এবং আরেকটি সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম স্যারের। এখানে এসে আমাকে একটু হতাশ হতে হয়েছে। জামিলুর রেজা চৌধুরী স্যার "একটা দেশের জন্য সায়েন্স আর নন-সায়েন্সের অনুপাত কেমন থাকা উচিৎ? আমাদের দেশের বিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের বর্তমান অবস্থা কী?" প্রশ্নের জবাবে উনি বলেছেন, "বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই না বুঝে মুখস্ত করে। এটা আর্টস বা কমার্সে করা যায়। কিন্তু বিজ্ঞানে যদি একজন শিক্ষার্থী কোনো বিষয় না বুঝে শুধু মুখস্ত করে, তাহলে কিন্তু বেশি দূর এগোতে পারবে না।" কথাটা হয়তো আপনার কাছে শুনতে ভালো লাগতে পারে। কিন্তু জাতীয় অধ্যাপক থেকে আমি এধরণের কোনো কথা আশা করতে পারিনা। উনি যদি শুধু বিজ্ঞানে যদি একজন শিক্ষার্থী কোনো বিষয় না বুঝে শুধু মুখস্ত করে, তাহলে কিন্তু বেশি দূর এগোতে পারবে না বলতেন তাহলে আমার কাছেও ভালো লাগতো। উনি সেখানে ব্যবসায় শিক্ষা এবং মানবিকের কথা উল্লেখ করেছেন। আমি মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক ব্যবসায় শিক্ষা নিয়ে পড়েছিলাম। সেই জ্ঞান থেকে উনি যে কথাটি বলেছেন সেটা সম্পূর্ণ ভুল। ব্যবসায় শিক্ষা মুখস্ত করে পার করা গেলেতো হতোই। উনি বিজ্ঞানকে অনেক উঁচুতে উঠাতে গিয়ে অন্যান্য বিষয়গুলোকে আমার মতে ছোট করে ফেলেছেন। তবে উনি সবার জন্য যে উপদেশ দিয়েছেন সেটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আর সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম স্যারের সাক্ষাৎকারটা অনেক বেশি ভালো লেগেছে।
আমি চাই এই বইটা সকল অভিভাবক এবং সকল শিক্ষার্থীরা যেন বইটা ভালো করে পড়ে এবং তাঁরা যেন তাদের জীবনে এই বইয়ের শিক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পারে।
আমি এখানে আমার ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ করেছি। যদি কারো কাছে কোনো কিছু ভুল মনে হয় তাহলে অনুগ্রহ করে জানালে আমি আমার ভুল শুধরে নিব।
কিশোর আলোর নিয়মিত পাঠক হওয়ায় এই বই এ যেসব লেখা প্রকাশিত হয়েছে তা সেই ২০১৯ সালেই পড়া ছিল ।
আর সেই বছর বইমেলায় গিয়ে আমি কী মনে করে এই বইটাই কিনেছিলাম - হয়তো লেখককে সামনাসামনি দেখার সুযোগ পেয়েছিলাম বলেই ।
বইমেলায় প্রথমবার ২০১৬ সালে যাওয়া খুব সম্ভবত - খুব আশা নিয়ে যাই প্রত্যেক বছর - যদি প্রিয় লেখক মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের সাথে দেখা হয় - যদি দেখা হয় ! কিন্তু একবারও তার সাথে দেখা হয় না , যে মানুষটাকে আমি প্রত্যেক বছর দেখি সে হচ্ছেন আনিসুল হক স্যার । প্রথমা প্রকাশনের স্টলে তিনি দাঁড়িয়ে অটোগ্রাফ দিচ্ছেন আর আমি বাঁদরের মতো লাফানো শুরু করি - উত্তেজিত হয়ে খুশিতে হাততালি দিই - "মা দেখো - আনিসুল হক - মা দেখো আনিসুল হক - ওনার সাথে আমার এইবারও দেখা হলো ! " বয়স যত বাড়ছে এই লাফানো ততই সমানুপাতিক হারে বাড়ছে -আর আমার আনন্দও ।
৩-৩ বার লেখকের সাথে দেখা হলো আমার , কিন্তু সংকোচের কারণে কখনো ছবি তোলা হয় না - অটোগ্রাফ নিয়েই আমি বরং খুশি থাকি ।
এইসব গল্প বলার কারণ -
বই পড়তে পারছি না - লিখতে পারছি না - এই হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে যেতে যেতে নিজেকে উঠিয়ে আনতে চেষ্টা করছি । ২০১৯ সালে এই ভদ্রলোক - বইটার পাতায় লিখে দিয়েছিলেন - "নাহিয়ানকে শুভেচ্ছা " ,
অটোগ্রাফ পেয়ে খুশি হলেও বইটা পড়তে যেয়ে মাথায় হাত দিয়েছিলাম - এইসবই তো আমি পড়েছি ! এখন কেমন একঘেয়ে লাগছে !- তার থেকে ত্যাঁদড় ব্যক্তির মতো আরো খুঁজে খুঁজে "ঊষার দুয়ারে" কিনতাম !
প্রায় ৩ বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর - ২০২২ সালের ১৯ জানুয়ারি বুধবারে অনেক কষ্টে একটা বই ধরলাম । বইটার উৎসর্গপত্রে লেখা "কিশোর আলোর সব পাঠককে" আর বই এর প্রথম পাতায় লেখা "নাহিয়ানকে শুভেচ্ছা" ।
বই এর পাতার ভেতরে কোমল করে আশার কথা লেখা - নাহিয়ানের মনোবল আছে - সে সেটা জানে - তবুও বিশ্বাস করতে চায় না ; তাই লেখক নাহিয়ানকে বলছেন - "তুমিও স্ট্রং - তুমিও সক্ষম - তুমি ব্যর্থ নও - নিজেকে এত কষ্ট দিও না তো - এত সেলফ ডেপ্রিকেটিং কথা বলো না তো ! "
২০২২ সালে পড়া আমার প্রথম বই হওয়ার জন্য তোমাকে অনেক অনেক ভালোবাসা জানাই মিষ্টি বই !
আমাকে ভালোবাসার জন্য আর আমাকে নিজেকে ভালোবাসতে শেখাবার জন্য তোমাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ "সফল যদি হতে চাও" ।
আনিসুল হকের লেখা যে কটা পড়েছি তার মধ্যে এইটা অন্যতম ভালো লাগার হয়ে থাকবে। সুন্দর সত্যি কথা সহজভাবে বলেছেন, যেগুলো গতানুগতিক মোটিভেশনাল বই থেকে বইটিকে করেছে আলাদা। ভালো লেগেছে বিখ্যাত ব্যক্তিদের মধ্যে দেশীয় বিখ্যাত ব্যক্তিদের কথা গুরুত্ব দিয়ে বিস্তারিতভাবে বলার জন্য। ভাবনা চিন্তা পাল্টাতে এবং শেখাতে সাহায্য করবে বইটি, বিশেষ করে কিশোরদের। তবে বড়রা পড়লেও ঠকবেন না।