সাহিত্যের নানান শাখার ভেতর 'প্রবন্ধ' হচ্ছে ক্ষণজন্মা। একটা নির্দিষ্ট সময় পর প্রবন্ধ তার কার্যকারিতা সময়ের সাপেক্ষে হারিয়ে ফেলে। কিন্তু সেই ক্ষণজন্মা প্রবন্ধও হতে পারে অমর, অতিক্রম করে সময়কে। এমন প্রবন্ধের সংখ্যা নিতান্তপক্ষে সামান্য, যা হাতে গোনা যায়।
এমনই একজন প্রবন্ধকার 'সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর'। তার 'গণতন্তের অভিমুখে' বইটি প্রকাশিত হয় ২০১৯ সালে, পাঁচ বছর পরে এসেও তার প্রবন্ধের প্রতিটি বাক্য সমসাময়িকতার সাথে চলমান। হয়ত আমরা এখনো গণতন্ত্রের জন্য লড়ছি, এইজন্য।
কিন্তু, এই লড়াই শেষ হলেও কিছু প্রবন্ধের কার্যকারিতা রয়ে যাবে। কারণ, গণতন্ত্রের স্বরুপ পরিবর্তন হলেও তার ইতিহাস রয়ে যায়। রয়ে যায় শ্রেণীবৈষম্য, ধর্ম, শাসন আর শোষণের রাজনীতি। এটা অতীতে ছিল, বর্তমানে আছে আর ভবিষ্যতেও থাকবে। প্রবন্ধের ফাঁকে ফাঁকে এমনি ইতিহাস তুলে এনেছেন সিরাজুল ইসলাম।
এই বইয়ের প্রবন্ধ গুলো গণতান্ত্রিক নামের হলেও, ইতিহাস সগর্বে জায়গা করে নিয়েছে। আমারে মু্ক্তিযুদ্ধ আর দেশভাগ সুস্পষ্টভাবে জায়গা করেছে বইতে। ঐতিহাসিক চরিত্রের ভেতর মাওলানা ভাসানী আছেন সবার উপরে। এছাড়া দেশভাগের অন্যতম প্রধান নেতা মাওলানা আজাদ, জিন্নাহ্ যে পাকিস্তান সৃষ্টি করে ভুল করেছিলেন তার সংক্ষিপ্ত কিন্তু স্পষ্ট কথা আছে প্রবন্ধে।
রাজনীতি, গণতন্ত্র আর ধর্মকে তিনি এক লাইনে দাঁড় করেছেন। গণতন্ত্রের কথা বলতে তিনি কেবল বাংলাদেশে সীমাবদ্ধ থাকেননি, ছড়িয়েছেন সমগ্র উপমহাদেশে। গণতন্ত্রের কথায় তিনি বাদ রাখেননি সক্রেটিস, প্লেটো, এ্যারিস্টটল কেও। দেখিয়েছেন এই মহান ব্যক্তিত্রয় ছিলেন গণতন্ত্র বিরোধী।
এমনি নতুন দৃষ্টিকোন আর ঐতিহাসিক মতামত, বক্তব্য আর সমসাময়িকতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয়ে প্রবন্ধের সংকলন নিয়ে প্রকাশিত 'গণতন্ত্রের অভিমুখে' অতিক্রম করেছে স্থান, কাল আর বিশেষ ব্যক্তিকে।