খুব সম্ভবত ষষ্ঠ শ্রেণিতে থাকতে মুহাম্মদ এনামুল হকের 'গ্যাব্রোভোবাসীর রসিকতা' পড়েছিলাম। এরপর বইখানা অনেক খুঁজেছি। কিন্তু হদিশ পাইনি। এবার পেলাম। গ্যাব্রোভোবাসীকে নিয়ে লেখা এনামুল হকের লেখা থেকে কিছু অংশ পাঠকের খেদমতে ও স্মৃতিকাতর করে তুলতে শেয়ার করা হলো:
"কথিত আছে যে :
১।তাঁরা যখন বাজার থেকে জিনিস কিনেন, জিনিসটাকে সেদিনকার কাগজে জড়িয়ে পেতে চান যেন পড়ার জন্য সে-দিনকার কাগজটি আর কিনতে না হয় ।
২।বাস করার জন্য বাড়ি ভাড়া করেন, তখন রাস্তায় কোন ‘দীপদণ্ড ( lamp-post ) কামরার সামনে আছে কি না, সে-বিষয়ে সুনিশ্চিত হয়ে বাড়ি ভাড়া নেন।
৩।তাঁরা যখন তাঁরা সকাল বেলায় পনির, মাখন ও দধির নমুনা সংগ্রহের জন্য একখণ্ড রুটি সাথে ক'রে রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন, আর নমুনা সংগ্রহের কাজ সে’রে ঘরে ফিরে তাই দিয়ে প্রাতরাশ (breakfast) সে'রে ফেলেন।
৪।তাঁরা চাকা ক্ষয়িয়ে যাবার ভয়ে রাত্রে তাঁদের ঘড়িগুলি বন্ধ করে রাখেন।
৫। বেচাবিক্রির জন্য সফিয়া-শহরে এলে, তারা শহরতলির উষ্ণ-প্রস্রবণের পানি থে’য়ে সকাল বেলার চা-খরচটা বাঁচিয়ে নেন।
৬।তাঁরা বিয়ের জন্য কনে খুঁজতে গিয়ে, হয়ে হয়ে তলাশ ক'রে ফেরেন একটি পাতলা ছিপছিপে কনে। কেনন। এতে বউয়ের শোয়া-বসার জন্য স্বল্প পরিসর জায়গায় যেমন কাজ চলে যাবে, পোশাক-আশাক তৈরি করার বেলায়ও ‘ছিট-কাপড়' (calico) লাগবে কম।
৭।তাঁরা রাত্রে হারিয়ে যাওয়া এক পয়সা খুঁজতে এক টাকার মোমবাতি জ্বালাতেও কসুর করেন না, যেন বাড়িতে অর্থ হারানোর মতো বদ অভ্যাস কারও গ'ড়ে না ওঠে ।
৮।তাঁরা দেশলাইয়ের একটা কাঠিকে চিরে দু'ভাগ ক'রে নিয়ে তবে সিগারেট জ্বালান, যেন এক কাঠিতে দুবার কাজ চলে।
৯। তাঁরা সারস-পাথীর বাসায় পাতি-হাঁসের (Duck) ডিম ফোটায়, যেন হাঁসী তাড়াতাড়ি ডিম পাড়ে। তাইতে গ্যাব্রোভোতে সারস পাথীর বাচ্চা দেখা যায় না।
১০। তাঁরা ফুটি (melon) আর তরমুজ (water melon) কাকেও ধার দেন না : rind ) ফল ধার দিলে, পাতলা-বাকল ওয়ালা ( thin পাছে মোটা বাকলওয়ালা ফল. ফেরত পায়, এই ভয়ে।
১১।তাঁরা যখন মাছ খান, মাছের কাঁটাগুলি জমা ক'রে রাখেন, যাতে ভবিষ্যতে ও-গুলিকে দাঁতের খড়কেরূপে ব্যবহার করা যায়। "