எதிர்காலத்தை பற்றிய கவலை தான் தனி மனித சுதந்திர உணர்வுக்கு இடையூறு என்பதை முன்னிறுத்தும் அசாதாரண கதைசொல்லல். இந்திய இலக்கிய வரலாற்றில் மிக முக்கியமானப் படைப்பு.
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় একজন ভারতীয় বাঙালি সাহিত্যিক।
তিনি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অন্তর্গত ময়মনসিংহে (বর্তমানে বাংলাদেশের অংশ) জন্মগ্রহণ করেন—যেখানে তাঁর জীবনের প্রথম এগারো বছর কাটে। ভারত বিভাজনের সময় তাঁর পরিবার কলকাতা চলে আসে। এই সময় রেলওয়েতে চাকুরিরত পিতার সঙ্গে তিনি অসম, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের বিভিন্ন স্থানে তাঁর জীবন অতিবাহিত করেন। তিনি কোচবিহারের ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। শীর্ষেন্দু একজন বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। বর্তমানে তিনি আনন্দবাজার পত্রিকা ও দেশ পত্রিকার সঙ্গে জড়িত।
তাঁর প্রথম গল্প জলতরঙ্গ শিরোনামে ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। সাত বছর পরে সেই একই পত্রিকার পূজাবার্ষিকীতে তাঁর প্রথম উপন্যাস ঘুণ পোকা প্রকাশিত হয়। ছোটদের জন্য লেখা তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি।
মাত্র ৬৪ পৃষ্ঠার বইটা পড়ে শেষ করতে ঘণ্টাখানেক সময় লেগেছে। শীর্ষেন্দুবাবুর লেখায় একটা মায়া বা সৌন্দর্য আছে যেটা সুচিত্রা ভট্টাচার্য ছাড়া অন্য কারোই জীবনধর্মী লেখায় পাই না আমি।
"ঘুণপোকা" শ্যামের জীবনের গল্প। একটা গালিতে রেগে গিয়ে চাকরি ছেড়ে দেয়া উদভ্রান্ত শ্যাম ; যার ছন্নছাড়া দিনগুলোর বিষণ্ণ প্রতিচ্ছবি হয়তো অনেকেরই জীবনচিত্র। এই বইয়ের রিভিউ লিখা আমার পক্ষে সম্ভব নয়, ছোট্ট পরিসরে শীর্ষেন্দু বিশাল কিছু প্রকাশ করে ফেলেছেন। হয়তো নিজে পড়ে দেখাটাই ভালো।
গ্রীষ্মের শুরুর দিকে শিমুলের তুলা যেরকম বাতাসে ভেসে ভেসে বেড়ায়, সেরকমই কোনো এক দমকা হাওয়া এসে আচমকাই ভাসিয়ে নিয়ে যায় কারো কারো অস্তিত্বকে। তখন স্মৃতি আর কল্পনার মধ্যে পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যায় না, ব্যর্থ অতীতকে মনে হয় কোনো হাস্যকর কৌতুক। ভবিষ্যৎ ভাবনা, অতীতের দহন তাপ সবকিছু পেছনে ফেলে মানুষ খুঁজে ফেরে তার আপন অস্তিত্বকে।
একটি প্রায় তুচ্ছ ঘটনার কারণে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পরে এমনই এক হাওয়ায় ভেসে যায় শ্যাম নামের এক যুবক। তারপর থেকে উল্টে যায় তার জীবনের সকল সমীকরণ। কখনও নিজেকে নিজের কাছে বিপন্ন হতে দেখে। আবার কখনও আয়নার নিজের প্রতিরূপে নিজেকে দেখে চমকে ওঠে। এক শঙ্কা বিহীন, উদাসীন,লক্ষ্যহীন জীবন স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর হয়ে ওঠে। কিন্তু কি করবে সে? কি করার আছে তার? যে দমকা হাওয়া তার জীবনে ঘুণপোকার মতো অস্তিত্বের ঘুণ ঝড়িয়ে চলছে তাকে থামানোর কি কোনো উপায় আছে?
"একদিন সে হাত-আয়নাটা মুখের সামনে ধরে জিরাফের মতো গলা বাড়িয়ে ডানহাতের চকচকে একটা সুন্দর ব্লেড কণ্ঠনালীর ওপর রাখল, সামান্য একটু চাপ দিল। বড় আরাম! কিছুক্ষণ পর সরু রক্তের কয়েকটা রেখা তার গেঞ্জীর ওপর নেমে বুক ভাসিয়ে দিল। ব্লেডটা ছুঁড়ে ফেলে সে হেসে আপনমনে বলল, ধ্যুৎ বড্ড নাটুকে। তারপর তোয়ালে দিয়ে গলা মুছে ডেটল লাগাল। জানালা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে দেখল, রাস্তায় জীবন্ত মানুষজন চলাফেরা করছে। ক্ষতের ওপর ভেজা তুলো চেপে সে চোখ বুজল। আঃ! বড় আরাম।"
যারা শরীরে একসময় পরিপূর্ণ ছিল বিশুদ্ধ বাতাস আর উজ্জ্বল রক্তে, হঠাৎ কি হলো তার? তবু সে দেখিল কোন ভূত? ঘুম কেন ভেঙে গেল তার?
...
'ঘুণপোকা' শীর্ষেন্দুর প্রথম উপন্যাস । উপন্যাসের কোথাও একটা কামুর 'দ্য আউটসাইডারের' ছাপ স্পষ্ট। তবুও শীর্ষেন্দুর 'শ্যাম' আর কামুর 'মাসরো'কে মোটা দাগে আলাদা করে চেনা যায়।
শুভ্র,মিসির আলী,কিংবা হিমু সমগ্র অনেক আগেই পড়ে শেষ করার পরে হুমায়ূন আহমেদের শঙ্খনীল কারাগার কিংবা নন্দিত নরকে যখন পড়তে গিয়েছি, বারবার কেবল বিস্মিত হয়েছি। যে হুমায়ূনী গল্পের স্টাইলের কিংবা লেখার ধাঁচের সাথে আমি পরিচিত, তার সাথে এদের মিল খুব সামান্যই পেয়েছি। বৃষ্টির ঘ্রাণ কিংবা ঘুণপোকা পড়তে নিয়ে শীর্ষেন্দু সম্পর্কেও এরকম অভিজ্ঞতা হলো। এখন মনে হয়, শীর্ষেন্দু, হুমায়ূন যেভাবে শক্তপায়ে শুরু করেছিলেন সাহিত্যের পথযাত্রা, শেষের দিকে এসে সে পথেরই উল্টোদিকে হেঁটেছেন । তাদের এই লেখাগুলোর তুলনায় তাদের বাকিসব লেখাগুলোকে খাঁজা মনে হয়। এরকম লেখা বারবার পড়তে ইচ্ছা করে। কাহিনির ঘনঘটা নেই, প্লটও আহামরি ইন্টারেস্টিং কিছু নয়, তবুও সবকিছু ছাপিয়ে যায় শ্যামের বিচ্ছিন্নতা বোধ, একাকীত্ব, অবসাদ, উদাসীনতা। যাস্ট দারুণ!
"তোমার কি অনেক প্রেমিক? ভালো, কিন্তু দেখো, একদিন পৃথিবী খুব নির্জন হয়ে যাবে। তখন তোমার লুকিয়ে থাকার নিরাপদ জায়গা থাকবে না, থাকবে না পালিয়ে যাওয়ার সহজ পথ"
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস “ঘুণপোকা” পাঠের পর... . লিখে যে কিছু হয় না সে কথা ততদিনে জেনে গিয়েছেন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। আবার এটুকুও তিনি নিশ্চিত হয়েছেন যে লিখে আর যার যা-ই কিছু হোক না কেন, তার অন্তত কিছু হবে না। তাই একটি অতি নিম্নমানের স্কুলে শিক্ষকতার চাকরি করতে করতে একরকম প্রায় কোনো কিছুর জন্যে না ভেবেই তখন একের পর এক গল্প লিখে যাচ্ছিলেন তিনি। কিছু ছাপা হত তখনকার দিনের পত্রিকায়, বাকি সব পড়ে থাকত টেবিলের এখানে ওখানে। তেমন শোরগোল ফেলত না সেসব গল্প, কেবল মাঝে মধ্যে বন্ধুমহলেই দুই একবার কথাপ্রসঙ্গে উঠলেই কথা হত সেসব গল্প নিয়ে। তারপর, একরকম আচমকাই বলা চলে, দেশ পত্রিকার সম্পাদক সাগরময় ঘোষ প্রস্তাব দিলেন শারদীয় সংখ্যায় উপন্যাস লেখবার জন্যে। তখনকার দিনে শারদীয় সংখ্যায় কিছু লেখা মানেই সেই লেখককে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হত না। তবে সাগরময় ঘোষের প্রস্তাবটা খুব যে একটা সম্মানজনক ছিল না, সে কথা বলাই চলে। প্রায় দায়সারা গোছের ভাবে তিনি বললেন, “এবারের শারদীয় সংখ্যায় হয় তুমি না হয় বরেন চক্রবর্তী লিখবে। কে লিখবে নিজেদের মধ্যে ঠিক করে নাও।” এদিকে বরেন চক্রবর্তী আবার শীর্ষেন্দুর বিশেষ বন্ধু মানুষ। তাকেই মনোনীত করলেন শীর্ষেন্দু। কিন্তু বরেন চক্রবর্তীর তখন খারাপ সময় চলছে। লেখালেখির জন্যে উপযুক্ত সময় ছিল না তার হাতে। অগত্যা শীর্ষেন্দুকেই লিখতে বসতে হল। . কিন্তু লিখবেন কি? কিছুই তো মাথায় আসে না। শীর্ষেন্দুর ভাষ্যানুসারে, “তার জীবনের মতোই তার লেখালেখিও ছিল সম্পূর্ণ পরিকল্পনাহীন। কী লিখবে তা আগে ছক কষে, কোমর বেঁধে হিসেব করে লেখার মতো এলেম তার ছিল না। লিখতে বসে ভাবতেন আর ভাবতে ভাবতে লিখতেন। তিনি অনেকটা ছিলেন কাগজকুড়োনিদের মতন। রাস্তায়, ঘাটে, নর্দমার ধারে আবর্জনা ঘেঁটে যা পায় তাই কুড়িয়ে নিয়ে ঝোলায় পোরেন। এইভাবেই জীবনের নানা টুকরোটাকরা, ভাঙা আয়না, বাঁকা পেরেক, পুরনো কাগজ, ছেঁড়া জুতোর মতন কুড়িয়ে-বাড়িয়ে তার যা কিছু সঞ্চয়। আর ওই সবই তার লেখায় ভিড় করে আসে।” . এদিকে সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসে, কিন্তু লেখা আর এগোয় না। এক চ্যাপ্টার লিখে ভাবতে থাকেন পরের চ্যাপ্টারে কি লিখবেন। এইভাবেই বেশ এলেমেলোভাবে যখন একসময় তিনি উপন্যাসের শেষ লাইন লিখলেন তখন বিপত্তি বাঁধল আরেক জায়গায় এসে। উপন্যাস তো লেখা হল একটা, উপন্যাসের নাম হবে কি? অনেক ভেবেও যখন নাম পাচ্ছিলেন না, তখন হাতে তুলে নিলেন শ্রীশ্রী অনুকূলচন্দ্র ঠাকুরের “সত্যানুসরন” বইটি। ভাবলেন, চোখ বন্ধ করে পৃষ্ঠা খুলে যে নামটি প্রথম দেখবেন, সেটিই হবে তার উপন্যাসের নাম। চোখ বন্ধ করে বইয়ের পাতা খুলে চোখ মেলে চাইতেই দেখলেন ঘুণপোকা নামটি। ব্যস, উপন্যাসের নাম রাখা হল “ঘুণপোকা”। . এই ছিল শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস “ঘুণপোকা” লেখার ইতিবৃত্ত। যা হোক, লেখা তো না হয় হল। কিন্তু বইটি চলল কেমন, এর খোঁজ একবার নেয়া যাক। প্রথম বই হিসেবে হতাশাজনকই বলা চলে। কোথাও এই বই নিয়ে আলোচনা তো হলই না এমনকি যেচে পড়ে আগ বাড়িয়ে এর ওর কাছে বই নিয়ে জিজ্ঞেস করলে বলে, “হ্যাঁ, পড়েছি বটে, আচ্ছা, পরে আলোচনা করা যাবে এই নিয়ে।” তারপরেও কিন্তু দমে গেলেন না শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। কেননা তিনি তো অনেক আগে থেকেই জেনেছিলেন, লিখে কিছু হয় না, আর হলেও তার অন্তত কিছু হবে না।
প্রকাশের দু-তিন বছরের মাথায় যখন এক আত্মঘাতী কিশোরের ডায়রিতে পাওয়া যায় এই “ঘুণপোকা” উপন্যাসটি সে সতেরোবার পড়েছে, তখন আশ্চর্য লাগে শীর্ষেন্দুর। তিনি কি এই বইতে তেমন কিছু লিখেছেন যা একজন মানুষকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিতে পারে? ভাবতে থাকেন তিনি। . উপন্যাসের প্রারম্ভে আমরা পাই শ্যাম চক্রবর্তীকে, যে কিনা মাত্রই সেইন্ট এন্ড মিলারের এডমিনেস্ট্রেশনের চাকরিতে ইস্তফা দিয়েছে। ইস্তফা দেবার কারণটা প্রথম প্রথম শ্যামের কাছে বেশ তুচ্ছই লাগে। বস তাকে “বাস্টার্ড” বলে গালি দিয়েছে, তা বস ওরকম গালি প্রায়ই একে তাকে দিয়েই থাকেন। শ্যাম নিজেও বসের এই গালিগালাজ নকল করে দেখিয়েছে এবং বলেছে এসব গালি আসলে মুখের, অন্তরের নয়। কিন্তু তারপরেও তাকে দেয়া গালিটা ঠিক হজম করতে পারল না শ্যাম। থেকে থেকে কেবলই একটা শব্দই ফিরে ফিরে আসে তার মগজের কোণায়। সেই শব্দের হাত থেকে বাঁচতেই একসময় চাকরিটা ছেড়ে দিল শ্যাম। আর তারপরেই তার সেই চিরচেনা ঘড়ি ধরে ছকে বাঁধা জীবন, মাপা হাসি, স্যুট-টাই পড়া নিখুঁত ছাঁচের চলন-বলন, নারীপ্রেমলোভী শ্যামের জীবন যেন হঠাৎ করেই এলেমেলো হয়ে গেল। . উপন্যাসটি পড়তে পড়তে শ্যামের সাথে একটা জায়গায় আশ্চর্যজনক মিল পাই হারুকি মুরাকামির “The Wind-up Bird Chronicle” উপন্যাসের নায়ক তরু ওকাডা’র। দুজনেই কর্মহীন জীবন কাটায়। তরু যেমন কাজ খুঁজে না পেয়ে স্টেশনে যাওয়া আসা করার মানুষের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে, তাদেরকে বোঝার চেষ্টা করে, শ্যামও তেমনি ট্রামে-বাসে যাতায়াত করে প্রতিদিন অচেনা লোকের পিছু নেয়। নিজেকেই যেন খোঁজে। ট্রামে ওঠা লোকটির চেহারা দেখে নিজেকে বলে, এই লোকটি তারই মতন নারীলোভী, অসৎ। তারই মতন অহংকারী, খুব তাড়াতাড়ি উপরে উঠতে চায়। এতই তার উপরে ওঠার শখ যে নিজের আত্মপরিচয় পর্যন্ত বিকিয়ে দিতে পারে নগদে। অথচ লোকটিকে কোনো খারাপ কাজ করতে না দেখে হতাশ হয়ে পড়ে শ্যাম। . অর্থ-বিত্ত-নারী-সম্পদ আর সম্মানের মোহে ছুটতে ছুটতে একসময় শ্যাম ভুলে গিয়েছিল সত্যিকারের ভালোবাসার কথা। দূর থেকে কেউ যেন বীজমন্ত্রের মতন জপে যাচ্ছে তার নাম “মনু মনু ও মনু মনু রে...” নিজেকে প্রশ্ন করে শ্যাম? সে আসলে কে? সে কি সেইন্ট এন্ড মিলারের ছোটসাহেব নাকি ঢাকা জেলার বানখড়ি গ্রামের কমলাক্ষ চক্রবর্তীর ছেলে শ্যাম? নাকি সে কেবলই মনু? সেই ডাকের কাছ থেকে কোনোখানেই নেই লুকিয়ে থাকবার নিরাপদ জায়গা, কিংবা পালিয়ে যাওয়ার সহজ পথ। সব জায়গাতেই তার জন্য অপেক্ষা করছে ওই প্রশ্ন, তুমি কে? . নিজেকে এতকাল ভীষণ ইম্পর্ট্যান্ট ভেবে এসেছিল শ্যাম। সবকিছু তার খুব সহজে পাওয়ার কথা ভেবেছিল সে। অথচ যা পেয়েছিল, একদিন জানতে পারল সে সবই ছিল ভুলে ভরা, মেকি। এতকাল সবাই কেবল ঠকিয়েই এসেছে তাকে। নইলে কেন শ্যামের বুকের ভিতরে এখনও রেলগাড়ির শব্দ হয়? কেন মাঝে মাঝে দরজা খুঁজে পায় না? গাছের ছায়া খুঁজে পায় না? কোথায় ভুল হচ্ছে? এতকাল তো শ্যামের সব দরজাই ছিল চেনা, সহজে খুলেছে সেসব দরজা। তাহলে আজ কেন হঠাৎ ভালোবাসার জন্য আবার ওর হাঁটু গেড়ে বসতে ইচ্ছে করছে? . অনেকেই দেখলাম এই উপন্যাসটিকে একজন বেকার, প্রায়-উন্মাদ যুবকের দিনলিপি গোছের কিছু মনে করেছেন। কিন্তু এই উপন্যাসটিকে কেবলই এক বেকার যুবকের হাহাকার ভাবলে বেশ ভুল ভাবা হয়। আদতে শ্যাম বেকার যুবক ছিল না, বরঞ্চ সে ইচ্ছাকৃতভাবে চাকরি ছেড়ে দিয়ে নির্বাসন নিয়েছে জনারণ্যে। উপরন্তু তার ইচ্ছাও ছিল না আর চাকরি করার, একটা চাকরির ইন্টারভিউয়ে সে যেমন দায়সারা গোছের উত্তর দিচ্ছিল তাতেও সেই জিনিসটি প্রতীয়মান হয়। এই উপন্যাস কেবল শ্যামের আত্মানুসন্ধান বলেই মনে হয়েছে আমার কাছে। নিজেকে ফিরে পাবার আকুতি রয়েছে, নিজের অস্তিত্বের কাছে ফেরার একটা প্রয়াস রয়েছে উপন্যাসটিতে। যদিও উপন্যাসটিকে আমি খুব একটা সুলিখিত বলে মানছি না। অনেক জায়গাতেই বেশ খাপছাড়া ভাবে লিখেছেন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। উপরন্তু শ্যামের শৈশবকে আরও স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলার প্রয়োজন ছিল বলে বোধ করেছি উপন্যাসটি পড়ার সময়। তারপরেও এই উপন্যাসটি বেশ সুখপাঠ্য। গতানুগতিক শীর্ষেন্দুর “রূপকথাময় ফিনিশিং”-এর বাইরের একটা কাজ। . শীর্ষেন্দু ভেবেছিলেন তার এই উপন্যাসের কথা লোকে ভুলে যাবে। অথচ প্রকাশের ৪৫ বছর পরেও যখন বইটিকে পাওয়া যায় বাজারে, তখন বেশ আশ্চর্যান্বিত হন তিনি। এখনও এই বই মানুষ খুঁজে পড়ে? আমার কাছে মনে হয়েছে যতদিন মানুষ নিজেকে খুঁজবে, যতদিন মানুষের মগজে-অন্তরে-হৃদয়ে ঘুণপোকার মতন শব্দ হবে, “তুমি কে? তুমি কে?” ততদিন মানুষ এই বই খুঁজে খুঁজে পড়বে। . সবাইকে বইটি পড়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে ধন্যবাদ।
Shirshendu: Can I copy your homework? Kafka: Sure, but make sure to alter it a little...
Shirshendu: Can I copy yours? Sartre: huh? Shirshendu: bonjour, merci beaucoup
Shirshendu: *scribbles violently with copies of Metamorphosis and Nausea open in front of him.* okay, instead of cockroach...I'm gonna make him a...what about a wood-louse?
উত্তম পুরুষে লেখা উপন্যাসে এক তরুণের গভীর ক্রনিক ডিপ্রেশনের ভেতরকার অস্থিরতা, আত্মসংলাপ, আর মানসিক জটিলতার চিত্র উঠে এসেছে। এখানে বাইরের ঘটনার চেয়ে ভেতরের অস্থির স্রোতই বেশি শক্তিশালী। বিক্ষিপ্ত ভাবনা, শূন্যতা, অবসাদ, অকারণ তীব্রতা, সবকিছু এক প্রখর স্বচ্ছতায় ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক।
কাহিনির গতি যেন কোনো সোজা রেখায় চলে না, বরং ভাঙা আয়নার মতো টুকরো টুকরো মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। এটি কেবল একটি চরিত্রের মানসিক যন্ত্রণার বিবরণ নয়, বরং মানুষের মনের গভীরে জমে থাকা অন্ধকারের এক নির্মম আখ্যান।
বাংলায় "noir" অর্থাৎ তিমিরাচ্চন্ন লেখা-র খুব কমই দৃষ্টান্ত আছে, "ঘুণপোকা" তার মধ্যে একটি। এই বইটা দিয়েই শীর্ষেন্দু-র প্রাপ্ত-বয়স সাহিত্যে আত্মপ্রকাশ। নাতি-দীর্ঘ উপন্যাস, একজন যুবকের আত্মহননের আবর্তে পড়ার কাহিনী, একজন ছিন্নমূল ভরপুর যুবকের উড্ডীয়মান জীবন থেকে নিরুৎসাহ আর নিশ্চেষ্ট হওয়ার অদ্ভুত মানুষিক যাত্রাপথের কাহিনী। আমার ব্যাক্তিগত ভাবে বইটা খুবই ভালো লেগেছে এবং অন্তরদৃষ্টিপূর্ণ লেগেছে, একজন নিরবিকার অথচ উন্মাদ-প্রায় মানুষের যে অদ্ভুত ক্রিয়াকলাপের বর্ণনা আছে, তা বিস্ময়কর হলেও সঙ্গতিপূর্ণ লেগেছে, বিনাশের অমোঘ পরিণামের দিকে ক্রমশ অগ্রসর হওয়ার অনুভূতিটা কাহিনীর সর্বক্ষণের সঙ্গি এবং এর আস্বাদন অবশ্যই সকলের করে দেখা উচিত। তুলনামূলক ভাবে, শীর্ষেন্দু-র অন্যান্য উপন্যাসে, যেমন "ফেরীঘাট"-এ, নিঃসঙ্গতা, হঠাত জীবনের প্রতি মোহ হারিয়ে যাওয়া, ইত্যাদী বিষয়গুলির আবির্ভাব হয়েছে। যেই জটিল মানুষিক প্রক্রিয়ার বিবৃতি দিয়েছেন, ওনার এই প্রথম বইটিতে তার প্রকাশ ভঙ্গি ততটা পরিণতরূপ পায়নি। এর ফলে এই ধর্মের সাহিত্যের নতুন পাঠকের কাছে ঘটনাবলীর অর্থময়তা-টা কিছুটা অবোধগম্য রয়ে যেতে পারে।
মনে হলো লেখকের চিন্তাভাবনা ছাড়া একটা উপন্যাস লিখতে ইচ্ছে হয়েছে বলেই এটা লিখেছেন। কাহিনী নেই, নাটকীয়তা নেই। থাকার মধ্যে ছিলো একটা চরিত্র। সেটারও বিকাশ নেই। শীর্ষেন্দুর সবচেয়ে বাজে লেখাগুলোর একটা।
The Bengali equivalent to Bellow's Dangling Man. It is brilliant in its intent, but being the author's debut work, there are a few plot and dialogue choices here that I feel even the author would not like if he read it now. Hence, it starts well but, towards the end, falls apart a bit even in its short length.
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের বইয়ের জগৎে আমি নতুন । এর আগে পড়েছিলাম উনার লেখা দুইটা কিশোর উপন্যাস। তারপর আজ পড়লাম ওনার এই মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস । উনার লেখা বেশ সাবলীল , পড়তে ভালো লাগে। ঘুণপোকা একটা মনস্তাত্ত্বিক ও প্রাপ্ত বয়স্কদের উপন্যাস । প্লট তেমন খুব রোমাঞ্চকর নয় । সচরাচর এমন বই আমার খুব একটা পড়া হয় না , নিজের পরিচিত গন্ডি বা কমফোর্ট জোনের বাইরের একটা বই এটা । লেখক অনেক সুন্দর ভাবে বইয়ের প্রধান চরিত্র শ্যামের মনোজগত কে আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন । মনস্তাত্ত্বিক বই আগে আমার কাছে কিছুটা বোরিং লাগতো, অ্যাটেনশন স্প্যান কমে যাওয়ার কারণে হয়তো কিছুক্ষণ পর পর আগ্রহ হারিয়ে ফেলতাম । খুব বেশি চড়াই-উত্রাই থাকে না । কিন্তু এবার বেশ লেগেছে। শ্যামের ডিপ্রেশন , ভেতরের কনফ্লিক্ট , টানাপোড়েন লেখন নিখুঁত ভাবে বর্ননা করেছেন। শ্যাম কলকাতায় একা থাকে , একাকি ভবঘুরের মতন ঘুরে বেড়ায় , বাবা-মা বোন থেকে দূরে , কাজে ইস্তফা দিয়েছে , শরীরের খেয়াল নেই । যখন বইটা আমি পড়ছিলাম , আমিও তখন একা , নিজের শহর থেকে দূরে , বাবা-মা থেকে দূরে, আমিও সময় পেলে হেঁটে বেড়াই বাঁকা শহরে.. তাই কিছু মিল পাচ্ছিলাম । উপন্যাসের শেষের দিকে শ্যামের পরিণতি ভালো হয়নি , ভালো হওয়ার কথাও নয় । বইটা শেষ করে একটা খারাপ লাগা কাজ করছে ।
উপন্যাসটি প্রথম পুরুষে লেখা, যেখানে এক তরুণের তীব্র ও দীর্ঘমেয়াদি বিষণ্নতার ভেতরের ছটফটানি, নিজের সাথে নিজের কথোপকথন এবং মানসিক জটিলতার এক বাস্তব রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মনস্তাত্ত্বিক গল্প এটা। বস তাকে বাস্টার্ড বলে গালি দেয়ায় চাকরি ছেড়ে দেন আর বাস্টার্ড কথাটার অন্তর্নিহিত অর্থ খুঁজে বেড়ান নিজের জীবনের ভিতর। মোটামুটি টাইপ এর গল্প তবে একটু বোরিং।
ছোটবেলা থেকে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় এর নাম শোনেনি বা গল্প পড়েনি এমন বাঙালী সন্তানের সংখ্যা কলকাতায় এখন হয়তো বেড়েছে, তবে আমাদের ছোটবেলায় কমই ছিল। শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় এর ভূতের গল্প ছাড়া অন্য কোনো ভুতের সঙ্গে কস্মিনকালেও সখ্যতা ছিল না আমার। তবে ভূতের গল্পের লক্ষণরেখার বাইরের অন্য শীর্ষেন্দু বাবুকে জানার সৌভাগ্য হয়নি আমার সেভাবে। সেই অজানাকে জানতে সাহায্য করেছিল এই বই।
সত্যি বলতে বাংলা সাহিত্যে 'noir' বা 'abstruct writing' প্রায় খুঁজে পাওয়া যায় না বললেই চলে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে এরকম একটা rare হাতিয়ারকে ভরসা করেই প্রাপ্ত-বয়স্ক সাহিত্যে আত্মপ্রকাশ করলেন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। 'ঘুণপোকা' বাংলা সাহিত্যের অন্যতম 'তিমিরাচ্চন্ন' বা 'noir' এর দৃষ্টান্ত। একজন যুবকের আত্মহননের আবর্তে পড়ার কাহিনী নিয়ে এই নাতিদীর্ঘ উপন্যাস তৈরী। একজন ছিন্নমূল ভরপুর যুবকের উদীয়মান জীবন থেকে নিরুৎসাহ আর নিশ্চেষ্ট হওয়ার অদ্ভূত মানসিক যাত্রাপথের বর্ণনা আছে এই বইতে। এই উন্মাদপ্রায় মানুষের যে অদ্ভুত ক্রিয়াকলাপের বর্ণনা আছে এই বইতে তা বিস্ময়কর মনে হলেও ভীষণভাবে সঙ্গতিপূর্ণ।
আমার মতামত-- ব্যক্তিগত ভাবে বইটি আমার বেশ ভালো লেগেছে। প্রথমত, এ বই পড়লে সাহিত্যের এক সম্পূর্ণ অজানা রসের সন্ধান পাওয়া যায়, যে রস খুব কমই পাওয়া যায় বাংলা সাহিত্যে। দ্বিতীয়ত, বইটি ভীষণই অন্তরদৃষ্টিপূর্ণ। বিনাশের দিকে এগোতে থাকা মানসিক পরিস্থিতির বর্ণনা এত নিপুণভাবে আমি খুব কমই পড়েছি। আমার মনে হয়, কারুর যদি শীর্ষেন্দু বাবু কে অন্যভাবে জানার ইচ্ছে থাকে তবে তার এই বই দিয়েই সেই যাত্রা শুরু করা উচিৎ।
শেষে বলি, এই বই অনেকের ভালো নাও লাগতে পারে, তার মুখ্য কারণ, 'noir' বা 'abstruct writing' সবার পছন্দের জায়গা নয়। এর মধ্যে কোনো চটুল বাঁক থাকে না, অসাধারণ রোমহর্ষক মোড় থেকে না, অভূতপূর্ব কোনো অনুভূতি মাখানো চাদরও থাকে না। শুধু থাকে একটিই গন্তব্য রেখে তার দিকে ক্রমে এগিয়ে যাওয়ার মানসিক ও শারীরিক যাত্রাপথ। যা অনেকের কাছে 'boring' হতেই পারে। তবে যারা সাহিত্য ভালোবাসেন, তাদের কাছে সব রসই সমান উপাদেয়।
খুব ক্ষুদ্র কারণে চাকরি ছেড়ে দেয়া এক উদ্দাম জীবনের যুবকের নিজেকে খুঁজে ফেরার এক জার্নি এই বইটা। গতিময়তা একটু কম ছিল। প্রথম উপন্যাস হিসেবে বিষয়বস্তু অভিনব ছিল। তবে একটু যেন মেটামরফোসিস কে মনে করিয়ে দিল। সব মিলিয়ে মোটামুটি লাগলো।
புத்தகம்: கறையான் எழுத்தாளர்: சீர்சேந்து முகோபாத்யாய தமிழாக்கம்: சு. கிருஷ்ணமூர்த்தி பதிப்பகம்: நேஷனல் புக் டிரஸ்ட் வகைமை: நாவல் பக்கங்கள்: 155
இதுவரை நான் வாசித்ததில், என் மனதிற்கு மிகவும் நெருக்கமான புத்தகங்களில், இதுவும் ஒன்று. ஆகச் சிறந்த படைப்பு, சொல்வதற்கு வார்த்தைகள் கிடையாது, நிச்சயம் வாசியுங்கள்.
வங்க மொழியின் முன்னணி எழுத்தாளர்களுள் ஒருவர் சீர்சேந்து முகோபாத்யாய அவர்கள். கறையான் இவரின் முதல் நாவல். இவர் எழுதிய பிற நூல்கள் உஜான், பராபார், ஃபேரா, உத்தரேர் பால்கனி ஆகிய நாவல்களையும் எழுதியிருக்கிறார். இதை தமிழில் மொழிபெயர்த்தவர் சு. கிருஷ்ணமூர்த்தி அவர்கள். வங்கத்திலிருந்து ஏராளமான நூல்களை தமிழுக்கு மொழிபெயர்த்த பெருமை இவருக்கு உண்டு. இவர் சாகித்ய அகாதமியின் மொழியாகப் பரிசு பெற்றவர்.
இன்றைய இளைய தலைமுறையினரிடையே, வாழ்க்கையில் எல்லா விதத்திலும், எதோ ஒருவித நிராசையும், அதிருப்தியும் ஏற்படுகின்றன. அதே போல் தான் இந்த நாவலிலும், சியாம் என்ற இளைஞனுக்கு நிலவுகிறது. அவனை மையப் பாத்திரமாக வைத்து, இந்த கதை நகர்கிறது.
கறையான் எப்படி நம் பொருட்களை சேதப்படுத்துமோ, அது போல் தான் நம்முடைய எண்ண ஓட்டமும் என்று அழகாக விவரித்துள்ளார்.
ஒரு பெருநகரத்தில் வாழும், “சியாமின்” எண்ண ஓட்டங்களின் நுட்பத்தைப் பற்றியும், அனுபவங்களைக் கொண்டும், எவ்வித அலங்காரமும் இல்லாமல், நேரடி தன்மையுடன் இன்றைய தலைமுறையின் இதயத் துடிப்பாகவே அமைந்திருக்கிறது.
செயின்ட் அன்ட் மில்லர் கம்பெனியில் சியாம் என்ற இளைஞன் வேலை செய்து வந்தான். அவனுடைய மேலதிகாரி எப்பவும் யாராவது ஒருவரை எதேனும் சொல்லி திட்டிக் கொண்டே இருப்பார். ஏதோ ஒரு கோபத்தில் அவர், சியாமை “வேசிமகன்” என்று சொல்லிவிட்டார். அதை அவன் அவமானமாக எண்ணி வேலையை விட்டு நின்றுவிட்டான். அதன் பின் அவனுடைய வாழ்க்கை எவ்வாறு அமையும் என்பதே இந்த கதை.
வேலையை விட்டபின் சியமுக்கு உணர்ச்சிகளெல்லாமே மரத்துப் போய்விட்ட உணர்வு இருந்தது. எல்லா அலுவர்களும் மகிழ்ச்சியும் அவனிடமிருந்து விடைபெற்றது போல் தோன்றியது. அப்போது வேலையிலிருந்து முழுமையாக ஓய்வு பெற்றவன் போல் மந்த நிலைக்கு சென்றது அவனது வாழ்க்கை, அதை அவன் முடிவில்லா ஓய்வாக கருதினான். ஆனால் நாட்கள் செல்ல செல்ல என்ன செய்வதென்றறியாமல் எங்கெங்கோ சுற்றி அலைவான்.
ஒரு நாள், அவன் தனது அறையிலிருந்து கண்ணாடி ஒளியை அடித்து விளையாடிக் கொண்டிருந்தான், செடிகள், பறவைகள், மனிதர்கள் என அனைத்தின் மீதும்.
மோட்டார் சைக்கிள் என்றாலே சியாமுக்கு ஏதோ ஒரு வித வெறுப்பு, அப்போது ஒரு மனிதர் சைக்கிளில் வருவதை பார்த்துவிட்டு, அவர் மீது ஒளியை கட்டினான். எதிர்பாராத வகையில் அவர் கீழே விழுந்துவிட்டார். சியாம் மாடி அறையிலிருந்து யாரும் கவனிக்க கூடாதென்று மறைந்து கொண்டான். பிறகு அவன் தொடர்ந்து செய்தித்தாளில் கவனித்து வந்தான், மோட்டார் சைக்கிள் விபத்தில் யாராவது இறந்து இருக்கிறார்களா என்று. அவருக்கும் குடும்பம் இருக்குமா, எங்கே இருப்பார்கள், அவர் என்ன செய்கிறார் என எந்த விடயமும் தெரியாது. அவர் மீது சியாமுக்கு எந்த விரோதமும் இல்லை, அவர் யாரென்று கூடத் தெரியாது. ரொம்ப நாளாக சியாமுக்கு வேலை இல்லை, கையில் இருந்த காசும் குறைந்து கொண்டே போகிறது, ஒடுங்கிக் கொண்டே போகிறான், அவனுடைய மனசுக்கும் உற்சாகமூட்ட, சோர்விலிருந்து தப்பிக்க, நாள் முழுவதும் விதவிதமான விளையாட்டைக் கற்பனை பண்ணிக் கொண்டு விளையாடுவதில் வந்த விளைவு தான் இது.
சில நேரம் கற்பனை எதிரியின் தாக்குதலைச் சமாளிப்பதற்காக சில பாவனைகள் செய்து கொண்டு அவன் அறையில் சுற்றிக் கொண்டு இருப்பான். அவனுக்கு ரொம்ப கஷ்டமான காலகட்டத்தில் இருப்பதாக தோன்றும், பொழுது விடிந்தால், நாள் மிக நீண்டிருப்பதாகத் தெரியும், பொழுது சாஞ்சா ராத்திரி முடிவே இல்லேன்னு தோணும். ஒரு சம்பவமும் தனது வாழ்க்கையில் இல்லை என்ற ஒரு விரக்தி வேறு, ஏதேதோ ஒரு கிறுக்குத் தனத்தை செய்வது போல் ஒரு உணர்வு வரும், ஆனால் அவனுக்கே தெரியாது ஏன் இப்படி செய்கிறோமென்று.
சியாமை பிடித்த ஒரு பெண், அவனை காண அவன் அறைக்கு வரும் போது கூட துரத்தி பிடிக்க சொல்லி விளையாட்டுக் காட்டிக் கொள்வான். அவன் தான் ஒரு முக்கியமானவனென்று வெகு காலமாக நினைத்துக் கொண்டிருந்தான், எல்லாத்தையும் சுலபமாக அடையும் உரிமை, திறன் இருப்பதாக நினைத்துக் கொள்வான், ஆனால் அது இறுதியில் சுக்குநூறாக உடைந்தது. இப்படி நிறைய தருணங்கள் இந்த புத்தகத்தில் இருப்பதை சொல்லிக்கொண்டே போகலாம்.
மித்ரா என்ற துணை கதாபாத்திரம், அவருடைய வாழ்வு என எழுத்தாளர் ஆங்காங்கே சொல்லியிருப்பார். அவரின் வாழ்க்கை அனுபவங்களும் வாசிக்க நன்றாக இருக்கும். சியாம் மற்றும் மித்ரா அவர்களின் வாழ்க்கையில் நடக்கும் இருவேறு நிலைகளை அற்புதகமாக படைத்திருக்கிறார்.
சியாம் வழக்கமாக சாப்பிடும் ஒரு உணவகத்தில் உள்ள மேனேஜர், தினமும் இரவு வேளையில், தெருவில் உணவுக்கு சுற்றி அலையும் ஓரிரு நாய்களுக்கு, அல்லது ஒரு கூட்டத்திற்கே உணவளிக்கும் காட்சி எல்லாம் நெகிழ வைத்தது.
இவ்வளவு அருமையான புத்தகத்தில் இறுதி பக்கம் நெருங்கையில் எழுத்து பிழைகள் சில தென்பட்டது, வேகமாக புத்தகத்தை முடிக்க வேண்டும் என்று கருதி முடித்திருக்க கூடும் என தோன்றியது.
ஒருகட்டத்தில் சியாம் தான் கஷ்டமான நிலையில் இருப்பதாக அனைவருக்கும் காட்டிக் கொள்வான், அதை பார்த்து பிறர் மகிழ்வார்கள் என்று போகும் இடமெல்லாம் காண்பித்துக் கொள்வான். பிறகு அவனுக்கே சிரிப்பு வரும், அவ்வளவு அழகாக ஒரு இளைஞனின் அனுபவங்களையும் எண்ண ஓட்டத்தையும் நம்மை கலங்க வைக்கும் பாணியில் எடுத்துரைத்திருக்கிறார்.
இந்த புத்தகம் வாசிக்கும் பொழுது, மனம் மிகவும் கனமாக இருப்பது போன்ற உணர்வு வந்தது. வாசித்து முடித்ததும், சிறிது நேரம் பிரமை பிடித்தது போல் ஒன்றுமே செய்ய முடியாமல் தள்ளாட வைத்தது, உணர்வுகளால் பிண்ணி பிணைக்கப்பட்டது, தவற விட கூடாத நாவல்.
অতি প্রিয় কাউকে ভিড়ের মধ্যে খুঁজে বের করে যেমন আনন্দ হয়,বইটা পেয়ে তেমন লেগেছে। অনেক অনেএএএএএক দিন কোনো বই এর জন্য অপেক্ষা করার পর বেশিরভাগ সময়ই দেখা যায় সেই বই overrated । সৌভাগ্যক্রমে এবার তা হয় নাই। যদি কারো "দূরবীন", "পার্থিব" অথবা "যাও পাখি " ভালো লেগে থাকে, এইটাও তার অবশ্যই অবশ্যই ভালো লাগবে।
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস ঘুণপোকা। ৮৪ পাতার ছোট্ট উপন্যাসটি আপাতদৃষ্টিতে এক নিঃশব্দ, সংযত গদ্যে বলা মধ্যবিত্ত ব্যক্তিগত জীবনের গল্প। তাই স্বাভাবিকভাবেই উঠে এসেছে middle class existential anxiety. এখানে ঘটনার নাটকীয়তা ও আবেগকে কুরে কুরে খেয়েছে দৈনন্দিনতার অবিরাম ক্ষয়। ঠিক কাঠের ঘুণপোকার মতো। চরিত্রদের ভিতরকার বিশ্বাস, সম্পর্ক ও আত্মসম্মান ধীরে ধীরে ক্ষয়ে গেছে সময়ের সাথে। উপন্যাসটির একটি কেন্দ্রীয় চরিত্র থাকলেও ঘুণপোকা কোনো একক চরিত্র বা ঘটনাকে নির্দেশ করেনি। বরং একটি structural metaphor. পরিবার ও সমাজকে এখানে আশ্রয় হিসেবে দেখানো হয়নি বরং এগুলি sites of silent coercion. ভালোবাসা, আত্মীয় পরিজন বা সামাজিক যোগাযোগ, সব ক্ষেত্রেই একটি muted power dynamic কাজ করে, যেখানে ভালোবাসা বা দায়িত্বের আড়ালে চলে নিয়ন্ত্রণ ও আত্মরক্ষার রাজনীতি। লেখক মধ্যবিত্ত মানসিকতার যে ছবি আঁকেন, তা nostalgic নয়, বরং critical psychological realism। চরিত্ররা অনেক সময়েই আপসহীন নয়, আবার সম্পূর্ণ স্বার্থপরও না। এই দ্বিধাগ্রস্ততাই উপন্যাসটির মানবিক শক্তি। উপন্যাসটি কোন তীব্র climax এ পৌঁছায় না। এর পরিণতি আসে ধীরে, প্রায় অনিবার্যভাবে। যেন সামগ্রিক ক্ষয় প্রক্রিয়াটিই উপন্যাসের শেষ কথা। এই anti climactic closure একটা শূন্যতা ও অনিশ্চয়তার অনুভূতি দিয়েছে।
সব মিলিয়ে ঘুণপোকা কোনও comfort read নয় বরং এক ধরনের অস্বস্তির মধ্যে ধরে রাখে। উপন্যাসটির slow-paced narrative অনেকের কাছেই পড়তে গিয়ে একঘেয়ে মনে হতে পারে। তবে জীবনের প্রথম উপন্যাসে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় যেভাবে মনস্তাত্ত্বিক সূক্ষ্মতা দিয়ে সমাজকে পর্যবেক্ষণ করেছেন তা প্রশংসনীয়। অনেকেই এই উপন্যাসকে Kafka-এর The Metamorphosis এর সঙ্গে তুলনা করেছেন, কিন্তু আমার তা মনে হয়নি।
শ্যামের ঘোরগ্রস্থতা যেন পুরো উপন্যাসজুড়ে ঘোরের মধ্যে ডুবিয়ে রেখেছিলো। কেমন যেন অলীক, অদ্ভুত এক গল্প। শ্যামের পথে পথে ঘুরে ফিরে বেড়ানো, তার উদ্ভট পাগলামো, এসবই কেমন এক অদ্ভুতুড়ে অনুভূতি জাগিয়ে দিচ্ছিলো বুকের ভেতর। এই বইটা ঠিক একক কাহিনীভিত্তিক নয়। তবে অনেকগুলো কাহিনী ছড়িয়ে আছে বইজুড়ে। শ্যাম, লীলা, মিত্র, কিংবা অরুণ, সেই মোটর-সাইকেলচালক অথবা মিনু, ইতু - সবারই জীবনগল্প অল্প অল্প করে উঠে এসেছে। বইটা শেষ করে অনেকটা ছোটগল্পের "শেষ হ'য়েও হইলোনা শেষ" অনুভূতি হচ্ছে।
It is a book that makes you think after completing it. The absolute parallels between Shyam and the characters he meets, and how he is somewhat saved from Suicidal thoughts or thoughts of crossing the border is depicted wonderfully. How love, in its most bare fork, can somewhat make a dead person feel alive is shown in this book
شر شیندو پادھیائے بنگالی ادب خاص طور پر برصغیر کا اک تخلیقی نام ہے، مجھے اس کا یہ شاندار ناول بہت اچھا لگا ہے ۔ میرے دوست، ناول نگار اور کہانی کار ممتاز لوہار نے سندھی زبان میں بھی اس کا بڑا زبردست ترجمہ کیا ہے ۔
You remember Taxi Driver of Martin Scorsese, right? Sometimes I think Scorsese was inspired from THIS VERY BOOK to create his cinematic masterpiece... So imagine how powerful of a book ঘুণপোকা must be.And fun fact,it was also the very first Novel of Shirshendu Mukhopadhyay..
I wish ঘুণপোকা were to be remade,of course as a cinema...The MC, শ্যাম, could be easily a cultural icon,from a cinematic perspective...Ig we could've found our very own Trevor Reznik or Travis Bickle in that character of শ্যাম।। From corporate hell to the slumdogged lifestyle,ঘুণপোকা manages to maintain its greatness. A must read,must read book for me.. Disappointment? Not a chance..
লেখকদের সাধারণত প্রথম লেখা উপন্যাস হয় অসাধারণ। এই বইটিও হয়তোবা একটি অসাধারণ উপন্যাস। কিন্তু বইটি এতই অসাধারণ যে আমার মতন ক্ষুদ্র পাঠকের পক্ষে এই উপন্যাসের অসাধারণত্ব বোঝা সম্ভব নয়। অত্যন্ত জ্ঞানী এবং সাহিত্য পণ্ডিত ছাড়া কেউ এই বইয়ের মাথামুণ্ডু বুঝতে পারবে না। বইটি খুব যে বড় এমন নয় কিন্তু তাও এই বইটি পড়ে শেষ করতে আমাকে অত্যন্ত কষ্ট করতে হয়েছে এবং সত্যি বলতে আমি বইটি ঠিক মতন পড়ে শেষ করতে পারিনি। শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় প্রত্যেকটি বইয়ের প্রশংসা করে আমি শেষ করতে পারবো না কিন্তু আমি অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলছি এই বইয়ের আমি কোনভাবেই প্রশংসা করতে পারলাম না।
যদি পারো তবে আবার জন্ম নিয়ো। আমি জানি, আবার জন্ম নেওয়া বড় সহজ হবে না। শূন্য থেকে, জল থেকে, বাতাস থেকে, মাটি থেকে আবার নিজের শরীর সংগ্রহ করে আনা, এবং তারপরও আবার ভুল, কেবল ভুল জীবন যাপন করে যাওয়া...তবু বড় ইচ্ছে হয় আর - একবার, আরও - একবার পৃথিবীতে জন্ম নিতে... যদি পারো আরও একবার জন্ম নিয়ো, ততদিনে আমি পৃথিবীকে সুন্দর করে দেবো...
While my taste might be questioned after this rating but I really struggled to finish this book despite the length being only around 80 pages. I like shirshendu but perhaps this was not my cup of tea.