অধ্যাপক নুরুল ইসলামের স্মৃতিকথা ' বাংলাদেশ জাতি গঠনকালে এক অর্থনীতিবিদের কিছু কথা '। বাংলাদেশের প্রথম পরিকল্পনা কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যান ছিলেন নুরুল ইসলাম। সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন, দাতাদেশগুলোর চাতুর্য, বঙ্গবন্ধু শাসনামলে ভারত-বাংলাদেশ, বাংলাদেশ-চীন,সোভিয়েট সম্পর্ক এবং চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষ এই স্মৃতিকথার মুখ্য বিষয়।
পাকিস্তান আমলে দুই জাতির অর্থনীতি নিয়ে সোচ্চার ছিলেন নুরুল ইসলাম। পাকিস্তানের শোষণের শিকার বাংলাদেশ - এটা কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য নয়। এর পাই পয়সা হিসেব দিয়েছেন অধ্যাপক নুরুল ইসলাম। কীভাবে এদেশের অর্থনীতি পঙ্গু করে দিয়ে গড়ে উঠেছিল পশ্চিম পাকিস্তানের অর্থব্যবস্থা তা নিয়ে খুবই একাডেমিক ভঙিতে লিখেছেন।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পরিকল্পনা কমিশন গঠন হয়। বঙ্গবন্ধুর অনুরোধে অধ্যাপক নুরুল ইসলাম দায়িত্ব নেন দেশের প্রথম পরিকল্পনা কমিশনের। তাই খুব কাছ থেকে দেখেছেন এদেশের উত্থান। সাক্ষী ছিলেন দাতাদেশগুলোর চাপে কীভাবে পিষ্ট হচ্ছিল বাংলাদেশ সেই ঘটনার। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ সাহায্যের, ঋণের নামে সদ্যস্বাধীন দেশটিকে কবজা করতে যা যা করেছিল সবই দেখেছেন।
চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষের জন্য বিরোধীরা এককভাবে বঙ্গবন্ধুকে দায়ী করেন। নানা কল্পকাহিনি বলেন। চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষের প্রকৃত কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের নোংরামির ইতিবৃত্তের একজন প্রত্যক্ষদর্শী নুরুল ইসলাম। তিনি ঘটনাগুলো বিস্তারিত লিখেছেন।
বঙ্গবন্ধুর তাঁর শাসনামলের শেষের দিকে আস্থা হারিয়ে ফেলছিলেন সবকিছুর ওপর। সহিষ্ণুতা তাঁর চরিত্রের অকৃত্রিম বৈশিষ্ট্য। অথচ অধ্যাপক নুরুল ইসলাম লক্ষ করেছিলেন, ক্রমশ অসহিষ্ণু হয়ে উঠছিলেন বঙ্গবন্ধু। কিন্তু কেন? এই কেন'র উত্তর কিছু ঘটনা বলার মাধ্যমে দিতে চেয়েছেন অধ্যাপক নুরুল ইসলাম।
যাঁরা স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষ, দাতাদের ভূমিকা এবং তৎকালীন অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি নিয়ে জানতে আগ্রহী, তাঁদের জন্য এই বইটি অবশ্যপাঠ্য।
নুরুল ইসলাম যথেষ্ট নিরপেক্ষতা দেখাতে চেষ্টা করেছেন। তবে পরিকল্পনা কমিশনের ডেপুটি হিসেবে নিজের কাজ নিয়ে আত্মতুষ্টি লক্ষ করেছি। মূল বইটি ইংরেজিতে লেখা। বাংলা হলো মূলের সারকথা ধরনের। তবুও পড়তে একেবারে মন্দ না।