পড়ার সময় একদমই মনে হচ্ছিলো না কোনো নন-ফিকশন বই পড়ছি। গল্পচ্ছলে লেখক বেশ সাবলীলভাবে মিশরের ইতিহাস বলে গেছেন। অজানা অনেক কিছু জেনেছি। ২০০+ ছবি ছিল, যা ঘটনাগুলো বুঝতে বেশ সাহায্য করেছে।
ইতিহাসের পাতা থেকে সিনেমার পর্দা, কিংবা এমন এক রহস্য যার, ওপর লেখা যায় হাজার হাজার বই । মিশর দেশটি শুধু অতীতে মানুষের জীবন লালিত করেনি ,মানব সভ্যতা বিকাশের প্রথম দিকের ধারক ও হয়েছে । বইটি সত্যি মাঝে মাঝে আপনাকে নিয়ে চলে যাবে সেই সময়ে, যখন pyramid এর নির্মাণ চলছিল কিংবা, মিশরীয়দের , বিশ্বাস,সংস্কৃতি ও প্রাচীন জীবনধারণের সময়কালে। অন্য কোনো বই থেকে যে দিক এই বই কে আলাদা করে , তা হলো সাধারণ গল্প বই এর মতন না হয়ে আমাদের জীবনে একটা অজানা কে জানার যে , ইচ্ছা তার বর্ণনা এ মধ্যে দিয়ে মূল গল্পের উন্মোচন। এইভাবেই আমরা বইটির মধ্যে তিন জন প্রধান চরিত্রের সাথে পরিচিত হয়; তার পর একেএকে নানান গল্পের মধ্যে দিয়ে নিজের পরিচিত মিশরের সাথে ভালো করে পরিচিত হয়, যা আমাদের মধ্যে দেশটিকে জানার ইচ্ছেকে বাড়িয়ে দেয় । সত্যিই বইটি যথার্থ সার্থক হয়েছে, আমাদের সামনে ইতিহাসের পাতা উল্টে পুরনো দিনে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে!! "হায়রোগ্লিফের দেশে" লিখেছেন , অনির্বাণ ঘোষ
সর্বোপরি তথ্যবহুল উপভোগ্য একটি বই। প্রাচীন মিশরের ব্যাপারে লেখক অনেক পড়ালেখা করেছেন, অনেক কিছু জানানোর চেষ্টা করেছেন সেটা বুঝা গেছে। কিন্তু উনি যেই গল্পের ছলে পুরোটা বলার চেষ্টা করেছেন সেটা কেন জানি না আমার কাছে একটু খাপছাড়া গোছের জোর করে বসানো গল্প মনে হয়েছে। আরেকটা জিনিস মনে হয়েছে উনি কিছু তথ্য শর্টকাট করে বলতে গিয়ে বাদ দিয়েছেন, যার জন্য অনেক সময় পাঠকরা ভুল কিছুও ধরে নিতে পারেন।