নতুন লেখকদের একঝাঁক রহস্য-রোমাঞ্চ কাহিনি সুন্দর চেহারায় পাঠকের কাছে পরিবেশিত হয়েছে এই সংকলনটিতে। ঐশী মণ্ডলের অলংকরণ বইটিকে আকর্ষণীয় করেছে। বইয়ের ছাপা পরিষ্কার হলেও নামের বানান ভুল, কী/কি-র ভুল ব্যবহার এবং প্রমিত বাংলায় বর্জ্য বেশ কিছু প্রয়োগের আতিশয্য থেকে বোঝা যায়, বইটি যথাযথ পরিমার্জনা ও সংশোধনের মধ্য দিয়ে যায়নি।
একটি সরল সম্পাদকীয় 'ভূমিকা'-র পর এই বইয়ে মোট আটজন লেখকের ষোলোটি গল্প স্থান পেয়েছে। তারা হল:
ক) অমৃতা কোনার-এর
১] 'চৌধুরী ভিলার রহস্য'~ ছিমছাম, তবে বড়ো বেশি ফর্মুলাইক এবং অতি সরলীকৃত।
২] 'রহস্যটা কী?'~ গল্পটা নির্মমভাবে ছাঁটলে বেশ ভালো হত৷
খ) ঈপ্সিতা মজুমদার-এর
১] মৃত্যুজাল~ প্রাপ্তবয়স্ক পাঠকের জন্য জম্পেশ রহস্য গল্প, তবে আর একটু সময় ও জায়গা নিয়ে লিখলে গল্পটা আরও ভালো, আরও সুবিন্যস্ত হত।
২] প্রহেলিকা~ অনবদ্য। নিঃসন্দেহে এই বইয়ের সবচেয়ে আধুনিক, সবচেয়ে রোমান্টিক, সবচেয়ে হন্টিং গল্প এটিই।
গ) বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী-র
১} ক্ষমা নেই~ গল্প নয়, বরং বাংলায় অতি বিরল একটি ট্রু ক্রাইম লেখা এটি। লেখকের উদ্দেশে আবেদন রইল এমন লেখা নিয়ে একটি সিরিজ করার। দেবারতি মুখোপাধ্যায় তাঁর "হারিয়ে যাওয়া খুনিরা" বইটির মাধ্যমে এই ঘরানাকে বাংলায় ফিরিয়ে এনেছেন। সেই স্রোত বলবতী হোক।
২} মৃত্যুশীতল~ প্রাপ্তবয়স্ক পাঠকের জন্য রচিত একটি উৎকৃষ্ট রহস্য গল্প এটি। ভালো লেখার যা বৈশিষ্ট্য, অর্থাৎ আরোপিত রহস্যের বদলে জীবনরহস্যের ট্র্যাজেডিই এর উপজীব্য।
ঘ) শুভ্রদীপ মণ্ডল-এর
১. সত্যিটা না জানলেও হত
২. ব্যবধান
এই দু'টি গল্পের মধ্যেই সম্ভাবনা ছিল সার্থক মনস্তাত্ত্বিক রহস্য গল্প হয়ে ওঠার। দুর্বল লেখনী এবং সম্পাদকীয় কল্যাণস্পর্শের বা স্ক্যালপেলের অভাবে দুটো গল্পই সিরিয়ালধর্মী ও সেন্টিমেন্টাল অবাস্তবতায় ডুবে গেছে।
ঙ) হিমাদ্রি শেখর দত্ত-র
১} শাপমোচন
২} চিংড়িখালির কেল্লা
এই দুটি গল্পের মধ্যে প্রথমটিতে সাধু ভাষার ব্যবহার পরীক্ষামূলক ছিল। ওটুকু বাদে গল্পে কিচ্ছু নেই। দ্বিতীয় গল্পটি ইতিহাস আর কল্পবিজ্ঞান মিশিয়ে কেমন একটা কাঁঠালের আমসত্ত্ব টাইপের হয়ে গেছে। দুটো গল্পেই সম্পাদক রামদা হাতে ট্রিমিঙে লাগলে গল্পগুলো উদ্ধার পেত।
চ) সূর্যাশিস পাল-এর
১. চেনা সুর
২. শিকার
দুটো গল্পই লেখকের সম্ভাবনাময় লেখনীকে চিনিয়ে দেয়। নিজের লেখনী এবং বিষয়ের নিরন্তর পরিমার্জনা চালিয়ে গেলে আগামী দিনে আমরা এক শক্তিশালী লেখককে পেতে পারি।
ছ) জয়জিৎ রীত-এর
১] শেরু ও নটবর
২] ফাঁদ
এই দু'টি বালখিল্য লেখা গোটা সংকলনের অবমাননা ঘটিয়েছে।
জ) মোঃ হাসান শাহরিয়ার রহমান-এর
১. আমি, অবনী, সে এবং অন্যান্য
২. প্রতিবিম্ব
ব্রিলিয়ান্ট গল্প! সম্পাদক দু'টি গল্পকেই এপার বাংলার প্রমিত প্রয়োগ অনুযায়ী সংশোধন করে নিলে অতি চমৎকার হত।
জানি না এই সংকলন আপনি জোগাড় করতে পারবেন কি না। যদি পারেন, তাহলে বেশ কিছু মনে রাখার মতো লেখা পাবেন এতে, এটুকু বলে রাখলাম।
পাঠ শুভ হোক।