#পাঠকের_চোখে
বই ~ ♦#সেকালের_কলিকাতার_যৌনাচার♦
লেখক ~ #মানস ভাণ্ডারী
প্রকাশক ~ খড়ি প্রকাশনী
কলকাতা শহরের সূচনাপর্ব থেকে বাবু কালচারের সময় পর্যন্ত যৌনাচারের বিস্তৃত বিবরণ লিপিবদ্ধ হয়েছে এই বইতে। তথ্যসূত্রে প্রায় আটান্নটা বইয়ের নাম আছে, যা দেখে বোঝা যায় লেখক কী অপরিসীম পরিশ্রম করেছেন এই বিষয়ে রিসার্চ করতে। লেখক পেশায় সাংবাদিক, তবে বর্তমানে তিনি একটি সুখ্যাত প্রকাশনা সংস্থার বিখ্যাত দুটি মাসিক পত্রিকার সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত। লেখা মূলত প্রবন্ধমূলক, তবে কোনও বিশ্রাম বা পর্ব ছাড়াই টানা পড়ে যেতে হয়। এতে প্রথমাংশের হৃদয়গ্রাহী বর্ণনা যেন দ্বিতীয়াংশে গিয়ে স্কুল কলেজের টেক্সট বইয়ের মতো হয়ে যায়। বিভিন্ন বই থেকে উদ্ধৃত অংশের প্রাচুর্য আছে এই বইতে। তবে লেখক দক্ষভাবে সব ঘটনাকেই সময়ের ক্রমানুসারে সাজিয়েছেন। বেশ কিছু ঘটনা পড়ে শিউরে উঠতে হয়। এই কলকাতার বুকেই যে এমন সব ঘটনা ঘটে গেছে আমাদের অতীতে, তা জেনে অবাক হলাম৷
হার্ডকভার বইয়ের বাইন্ডিং খুব সুন্দর আর ওজনও বেশ হালকা। শুভ্রনীল ঘোষের আঁকা প্রচ্ছদ দেখেই বইটা কিনতে ইচ্ছে করে, সাথে নামকরণের আকর্ষণ তো আছেই। তবে বইয়ের ভিতরে বিভিন্ন গান বা কবিতার সব লাইনকে পাতা বাঁচানোর জন্য পাশাপাশি ছাপানো হয়েছে, আর পরের লাইন বোঝাতে "/" চিহ্ন ব্যবহার করা হয়েছে। এতে সেগুলো পড়তে অনেকের অসুবিধা হতে পারে। প্রিন্টেড মূল্য ২০০ টাকা আমার যথাযথ মনে হয়েছে।
বিষয়ের মধ্যে পুরনো কলকাতার পতিতালয়, যৌন অপরাধ, ভ্রষ্টামি, রতিজরোগ, বাবু-বিলাস, যৌনতা সম্পৃক্ত সাহিত্য সংস্কৃতি, সমকামিতা, অজাচার, বাইজি, সঙ্গীত এবং অভিনয়ে পতিতাদের অবদান - এই সবই স্থান পেয়েছে।
ধর্ম ও পূজার আড়ালে কুমারীদের সাথে বর্বরোচিত আচরণ সম্বন্ধে জানলে মনে হয় আজকের কলকাতা হয়তো সেকালেই রয়ে গেছে। ফুটে উঠেছে তখনকার বিলাসী জীবনযাপন, মদ্যপান ও অনৈতিক যৌনাচারের ছবি। তবে এইসব বিষয়ের আশ্রয় কিন্তু শুধুই নষ্টামি নয়। তাতে ফুটে উঠেছে সেকালের কলকাতার সুন্দর এক ছবি, যা লেখক সুনিপুণ হস্তে চিত্রায়িত করেছেন।
দ্বিতীয়ার্ধে এসেছে মজলিশি গানের আসর ও তার নামজাদা শিল্পীদের কথা। সেই গানের কথা আজকের দিনের সেন্সরবোর্ড যে কিভাবে নিত, তা জানতে ইচ্ছে করে। উদাহরণ দিই একটা। ১৯৫০ দশকের প্রথমার্ধে সোনাগাছির একটি বাড়িতে একজন দিদিমা-স্থানীয় বৃদ্ধার কণ্ঠে সুমন্ত বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম শুনেছিলেন এই গানটা।
"সাধে কি হইনু দিদি,
ছোকরা নাঙের বশীভূত।
টাকা পয়সা দেয় না বটে,
ঠাপগুলি দেয় মনের মতো।"
সব মিলিয়ে এই বই থেকে একটা অন্যরকমের কলকাতাকে চিনতে পারলাম। প্রবন্ধ আকারে লেখা বই আমার ব্যক্তিগতভাবে খুব একটা পছন্দের নয়। তবে তথ্যসমৃদ্ধ হতে চাইলে এটা পড়ে দেখতে পারেন।
♠
© #অরিজিৎ_গাঙ্গুলি