ধ্রুব এষ। জন্ম ১৯৬৭। সুনামগঞ্জের উকিলপাড়ায়। বাবা শ্রী ভূপতি এষ। মা শ্রীমতী লীলা এষ। দেশের অপরিহার্য প্রচ্ছদশিল্পী। রঙে, রেখায় কত কিছু যে আঁকেন! গত তিন দশক ধরে বাংলাদেশের প্রচ্ছদ শিল্পের একচ্ছত্র অধিপতি।
এ যাবৎ প্রায় বিশ হাজার প্রচ্ছদ এঁকেছেন। প্রচ্ছদের পাশাপাশি লেখালেখিও করেন। সব ধরনের লেখাতেই সিদ্ধহস্ত। কী ছোটদের কী বড়দের—সব বয়সি পাঠক তাঁর লেখায় আকৃষ্ট হন সমানভাবে।
তাঁর লেখায় দেখা-না-দেখা জীবন আর মানুষের এক বিচিত্র সম্মিলন ঘটে যেখানে খুঁজে পাওয়া যায় পাওয়াকে, না-পাওয়াকে। জীবনের বহুবর্ণিল বাস্তবতাকে নতুন মোড়কে উপস্থাপন করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন এই লেখক।
কেন জানি না, গতবছর বইমেলায় নতুন বইয়ের মাঝে ২০১৩ তে প্রকাশ পাওয়া এই বইটা কেনার লিস্টে রেখেছিলাম। কেনার সুযোগ হয় নি তখন। শেষমেষ এই ফেব্রুয়ারিতে কিনে ফেললাম বইটা- এবং কেনাটা মোটেও বৃথা যায় নি। অনেকদিন পর একটা ভালো গ্রিটি ক্রাইম থ্রিলার পড়লাম। জনরা যদিও ক্রাইম থ্রিলার বলেছি, কিন্তু সাব প্লটটা পলিটিক্যাল থ্রিলারের মধ্যে পড়ে। এছাড়া গোয়েন্দা কাহিনীর ছোঁয়াও আছে। অনেক দিন ধরেই আমি কমপ্লেইন করে আসছি, একশন- স্পাই- সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারের ভিড়ে সিম্পল মাথা খাটানো টাইপের গোয়েন্দা কাহিনীগুলো হারিয়ে যেতে বসেছে। এই বইটায় থ্রিল, সাসপেন্স আর ডিটেকটিভ ওয়ার্কের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে চমৎকারভাবে। ফ্ল্যাপে যে রকম বলা হয়েছে- বইটাতে অ্যাডাল্ট থিম আছে, তবে সেটা কাহিনীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এমনিতে বাস্তব আর ফিকশনের মধ্যেকার ব্যালান্সটা খুব দক্ষতার সাথে ধরে রেখেছেন লেখক। ধ্রুব এষ এর লেখনভঙ্গিতে একটা স্বকীয়তা আছে, যেটা আজকাল অনেকের লেখাতেই মিসিং। শেষে গিয়ে কোনো বড় টুইস্ট ছিলো না; অপরাধীর পরিচয় বেশ আগে থেকেই আন্দাজ করা যায়, এবং সেটা লেখকের ইচ্ছাকৃত। থ্রিলারের শেষে হাই ভোল্টেজ টুইস্ট, অ্যাকশন বা ড্রামা'র মাধ্যমে যে অ্যাড্রিনালিন রাশ পাওয়া যায় সেটা এখানে অনুপস্থিত। এন্ডিংটা ট্র্যাজিক। ট্র্যাজিক না হলে কাহিনীটা তার রিয়েলিজম হারিয়ে ফেলত অনেকাংশে। রিসেন্ট মেমোরিতে আমার পড়া সেরা মৌলিক বাংলা থ্রিলার এটা। এবং ক্রিমিনালি আন্ডাররেটেড। ধ্রুব এষের দু'একটা বই পড়েছি আগে, কিন্তু থ্রিলার এই প্রথম। তাঁর আরও কিছু থ্রিলার সাজেস্ট করলে বাধিত হব।
ঠিক উপভোগ করতে পারলাম না। রহস্য কাহিনি কোথা থেকে কী হয়ে গেল, বোঝা গেল না। যাওবা বোঝা গেল শেষে এসে কেমন জানি তালগোল পাকিয়ে গেল। পাঠক হিসেবে নিজে রহস্য উদ্ঘাটনে একেবারেই সংযুক্ত হতে পারিনি, কিংবা বলা ভালো লেখক তার অবকাশ রাখেননি।
নাম শুনে ভাবতে পারেন এটা হৃতিকের বায়োগ্রাফি, কিন্তু না, তাহলে ভুল ভাববেন। এটা ডার্ক হিউমার, থ্রিলার। এখানে ডার্ক হিউমার ছিল বটে কিন্তু আর কিছু ছিল না। না আছে থ্রিল, না আছে ক্যারেক্টার বিল্ডাপ, না আছে ভালো প্লট।
বাই দ্য ওয়ে, বলতে ভুলে গেছি লেখকের বাক্য গঠন খুবই ভালো। খুবই মানে খুব খুব খুবই ভালো। না হলে বইটা শেষ করতে পারতাম না।
এতটুক বই অথচ এত এত চরিত্র যে রীতিমতো ঘুলিয়ে ফেলছিলাম। বইটাতে ফ্লো পাইনি আমি তবে শেষের দিকে এসে সেটা যদিওবা একটু পেয়েছি। আর হুটহাট একেকটা চরিত্রের প্রবেশে বেশ বিরক্ত হয়েছি বলা যায়। হয়ত এক্সপেক্টেশন বেশি ছিল আমার সেজন্যই এমনটা লেগেছিলো।