অনেক বইপড়ুয়া বই পড়েন নেশার মতো করে।সারাদিন হাতে বই।একটু অবসর পেলেই যেকোন বই নিয়ে চুপচাপ কোথাও বসে টুকটুক করে পড়তে শুরু করেন।আমার কখনোই এমন হয়নি।আমার বইপড়া একটু অন্যরকম।এমন হয় আমার -একটা নির্দিষ্ট জনরা মাথায় চেপে যায়।তখন হাতের কাছে অন্যকোনো ভালো বই থাকলেও মন বসাতে পারিনা।ঐ জনরাই খোঁজে বেড়াই।আপাতত কিভাবে জানি মাথায় চেপে বসছে হরর পড়বো।মুভি-টিভি সিরিজ না।বই পড়বো।এ ধরনের অচেনা-অজানা বই পড়বো কখনো ভাবিনি।তাও হাতের কাছে তেমন কোনো হরর বই না থাকায় এটাই পড়লাম।
আমার কেনো জানি মনে হয় হরর জনরাতে বাঙালি লেখকগণ কখনো তেমন গুরুত্ব দেননি।হাতেগোণা কিছু লেখা দেখা যায়।তার বেশিরভাগ আবার বাচ্চাদের উপযোগী করে লেখা।অনেকটাই হেলাফেলা করে।দেখা যাবে কেউ একজন মারা গেছে।শেষকাজের আগে রাতে-বিরাতে পরিচিত কাউকে দেখা দিয়েছে।অথবা কেউ একজন কিছু এটা দেখে ভয় পেয়েছে কিন্তু লেখক শেষ পর্যন্ত দেখিয়েছেন আসলে ওটা ভূত ছিলোনা।হরর গল্প পড়াই হয় ভয় পাওয়ার জন্য।যেনো চোখ বন্ধ করলেই ভয় পাওয়া যায়।রাতে একা হাঁটলে যেনো মনে হয় কেউ একজন পাশে পাশে হাঁটছে।
দুর্ভাগ্যের ব্যাপার হলো অনেক নামিদামি লেখকের গল্প এ সংকলনে স্থান পেলেও দু'একটা গল্প ছাড়া বাকিগুলো হতাশ করেছে একদম।ভয় পাওয়ার মতো কোনো গল্পই ছিলোনা।পরশুরাম,মনোজ বসুকে ছাড়া হরর গল্প সংকলন হয় কিভাবে আমি জানিনা।পরশুরামের "মহেশের মহাযাত্রা" আমার পড়া অন্যতম সেরা ভৌতিক গল্প।এ সংকলনে একটাই গল্প ভালো লেগেছে।সত্যজিৎ রায়ের "ভূতো"।ভেন্ট্রিলোকুইজম নিয়ে লেখা অসাধারণ একটি গল্প।মোটামোটি ছিলো তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়ের "আখড়াইয়ের দিঘি" এবং শৈলশেখর মিত্রের "প্রতিশোধ"।শুধুমাত্র বর্ণনাভঙ্গির জন্য ভালো লেগেছে সমরেশ বসুর "উত্তর সিকিমের ভূত বাংলো"।সবচেয়ে বাজে ছিলো অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের লেখা "বন্ধু" এবং মহাশ্বেতা দেবীর "ঝড় বাদলের ঘোড়া ভূত"।শিবরাম চক্রবর্তীর "এক রোমাঞ্চকর অ্যাডভেঞ্চারের" মাথামুন্ডু কিছুই বুঝিনি।এছাড়া বাকি গল্পগুলোরও এমন ছন্নছাড়া অবস্থা। সূচিপত্রে নামিদামি নাম লেখে মোটামোটি আশা নিয়েই পড়তে শুরু করেছিলাম বইখানা।একদম,একদমই হতাশ শেষ করে।
রকমারি থেকে ৭১% ছাড়ে কেনা বই।পুরনো বই পাওয়াই স্বাভাবিক।তাই মান আর বাঁধাই নিয়ে কিছু বলছিনা।তবে পাতাগুলো বেশ পুরু ছিলো।বানান ভুল ছিলো বেশ কিছু।যদিও তেমন কোনো সমস্যা হয়নি পড়তে।সবচেয়ে বেখাপ্পা লেগেছে সংকলকের কোনো ভূমিকা বক্তব্য নেই দেখে!বই নিয়ে,গল্পগুলো নিয়ে দু'এক কথা তো বলাটাই স্বাভাবিক।নিতান্তই অবহেলা ছাড়া কিছুইনা।
বাংলা ভাষায় হরর জনরা নিয়ে যদি কেউ আরেকটু সিরিয়াসলি চিন্তা করতেন!এতো মেধাবী লেখকেরা হরর গল্প লিখতে পারেননা এটা মানা যায়না।তারাশঙ্কর,ত্রৈলক্যনাথ, হুমায়ূন আহমেদ অতিপ্রাকৃত নিয়ে অনেক কাজ করছেন।হুমায়ূন আহমেদের "আমার প্রিয় ভৌতিক গল্প" অসাধারণ একটি হরর গল্প সংকলন।এমন আর কেউ এগিয়ে আসেননি।এগুলো নিয়ে কোনো প্রকাশক বা লেখক যদি একটু ভাবতেন!