যুবক রেজাউল করিম এক সময় এক বামপন্থী দলের সক্রিয় সদস্য ছিল। সামরিক স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে সে শিকার হয়েছিল নির্মম পুলিশি নির্যাতনের, জেল খেটেছিল ছয় মাস। এখন দলের সঙ্গে তার কোন সম্পর্ক নেই; কিন্তু সে বিশ্বাস করে বামপন্থী রাজনৈতিক আদর্শ থেকে তার মন বিচ্যুত হয়নি। দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষের প্রতি তার ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা অটুট রয়েছে। এখন সে এক বন্ধুর এনজিওতে চাকরি করে, সংবাদপত্রে কলাম লেখে শিশুশ্রম ও শিশুদের প্রতি নিষ্ঠুর আচরণের বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহপাঠিনী রেজাউলকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিল, কিন্তু বিয়েটা বেশিদিন টেকেনি। বউ তাকে ছেড়ে যাওয়ার পর থেকে রেজাউল ছোট্ট একটা বাসায় একা ভাড়া থাকে। একদিন এক কিশোর রিকশাচালকের প্রতি গভীর করুনা জাগে রেজাউলের। ছেলেটির মাকে খুন করেছে তার পাষণ্ড বাবা। কিশোরটিকে নিজের বাসায় নিয়ে আসে রেজাউল। তাকে লেখাপড়া শেখানোর চেষ্টা করে, মনে মনে এই ভেবে শ্লাঘা বোধ করে যে এই ছেলেটিকে মানুষ করার মধ্য দিয়ে সে তার রাজনৈতিক আদর্শের প্রতি বিশ্বস্ত থাকছে। অতঃপর শুরু হয় গল্প। রাজনৈতিক স্বপ্নচারিতা ও মানুষের বাস্তব জীবনের নিবিড়, অনুপুঙ্খ আখ্যান।
Mashiul Alam was born in northern Bangladesh in 1966. He graduated in journalism from the Peoples’ Friendship University of Russia in Moscow in 1993. He works at Prothom Alo, the leading Bengali daily in Bangladesh. He is the author of a dozen books including Second Night with Tanushree (a novel), Ghora Masud (a novella), Mangsher Karbar (The Meat Market, short stories), and Pakistan (short stories).
"কাল্লু ও রেজাঊলের সত্য জীবন" এক একাকী ঘরনার জীবনাহত এক নয়টা-পাচটার একঘেয়ে জীবনের অধিবাসী রেজাউল সাহেবের হঠাৎ বিপ্লবী হয়ে উঠার গল্প। দেখা যায়, কাল্লু নামের এক রিকশাচালককে রেজাউল সাহেব স্বশিক্ষায় শিক্ষিত ও বিপ্লবের মন্ত্রে দীক্ষা দেয়ার ইচ্ছায় নিজের বাসায় নিয়ে এসে, প্রচলিত শ্রমঘণ পরিবেশ এবং সমাজের কর্মের হায়রারকিকে তুচ্ছ করার বাসনায় ক্ষনিক চেষ্টা। তবে সামাজিক যে শোষনের পরিবেশ আর এটাই যে সমাজের নিম্নশ্রেণীর মানুষের কর্মের স্পৃহা তৈরি্র টনিক, সেই শোষিত ব্যবস্থাকে তুচ্ছ করলে পুরো সিস্টেমটাই যেন ভেঙ্গে যায়! এখানে তাই নেই কোন কল্পনাতুর বিপ্লব কিংবা সমাজের বেড়াজালকে নিমিষেই পরাজিত করা কোন বীর! যা আছে 'সত্য'! যা আছে ' ট্রাজেডি'!