What do you think?


অপুর পাঁচালী #2
Aparajito, Yang tak Terkalahkan
Aparajito adalah sekuel dari novel Pather Panchali. Apabila di buku sebelumnya Bibhutibushan Bandopadhyay berkutat pada kisah Harihar Roy, istrinya Sabajya, dan kedua anaknya, Durga dan Apu, buku ini menelisik lebih jauh masa depan Apu. Dimulai dari masa sekolahnya di desa, hingga kemudian ia melanjutkan belajarnya di kota.
Kemiskinan bukan lagi masalah satu-satunya yang harus Apu hadapi, tetapi juga berbagai masalah hidup yang harus ia selesaikan sendiri. Kematian sang Ibu, kegagalan pernikahannya, hingga kesunyian hidup yang harus ia geluti. Namun akhirnya ia sadar akan tanggungjawabnya dan memutuskan kembali ke desa bersama sang putra, Kajal.
Kemiskinan bukan lagi masalah satu-satunya yang harus Apu hadapi, tetapi juga berbagai masalah hidup yang harus ia selesaikan sendiri. Kematian sang Ibu, kegagalan pernikahannya, hingga kesunyian hidup yang harus ia geluti. Namun akhirnya ia sadar akan tanggungjawabnya dan memutuskan kembali ke desa bersama sang putra, Kajal.
499 pages, Paperback
First published January 1, 1932
About the author
Bibhutibhushan Bandyopadhyay
213 books1,212 followersBibhutibhushan Bandyopadhyay (Bangla: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়) was an Indian Bangali author and one of the leading writers of modern Bangla literature. His best known work is the autobiographical novel, Pather Panchali: Song of the Road which was later adapted (along with Aparajito, the sequel) into the Apu Trilogy films, directed by Satyajit Ray.
The 1951 Rabindra Puraskar, the most prestigious literary award in the West Bengal state of India, was posthumously awarded to Bibhutibhushan for his novel ইছামতী.
The 1951 Rabindra Puraskar, the most prestigious literary award in the West Bengal state of India, was posthumously awarded to Bibhutibhushan for his novel ইছামতী.
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 30 of 190 reviews
September 20, 2022
শেষ করে আমার মনে হইসে, এই উপন্যাস একটা টাইমলাইনকে সমৃদ্ধশালী করেছে। বুঝেছি, বাংলার প্রকৃতি বর্ণনা, গ্রামীণ জীবনপ্রবাহের বিচিত্র রূপ, কিশোর মনের কল্পনামালা লেখক যেভাবে তুলে ধরেছেন, সেটা কেনো এক শতাব্দী শেষেও সাহিত্যের বেঞ্চমার্ক হয়ে আছে। বনাচঞ্চলের নৈর্সগিক সৌন্দর্য্যও তার লেখাতে ধরা পড়েছে মায়াবী বর্ণনার মাধ্যমে...
পড়তে পড়তে কোথায় যানি হারিয়ে গেসিলাম। এখনো ফিরতে পারিনি। আমার দুই- চোক্ষের সামনে এখন শুধু গত শতাব্দীর কোলকাতার ছবি ভাসে!!
অপুর পাচালির দ্বিতীয় পর্ব প্রথম পর্বকে ছাড়িয়ে গেছে বলে আমি মনে করি। অপুর যে কৌতূহল, বিষ্ময়, চিন্তাধারার বিশালতা যেখানে নতুন যে কোনোকিছু দীপ্তিমান, অজানার প্রতি অসহ্য আকর্ষণ পাঠক হিসেবে আমাকে স্তব্ধ ও বিষ্মিত করেছে!!
উপন্যাস টা পড়বার পর থেকে আমি ভাবছি। ভাবছি না, আদতে ভাবাচ্ছে আমায়। যদি নিজের উপলব্ধির কথা বলি তবে আমার ভাবনাচিন্তা ছিলো নেতিবাচক। একটা সময় ছিলো, যখন মাথার চুলগুলো তেলে চুবিয়ে একপাশে সিথি কেঁটে রাখতাম। রোজ সকালে ঘুম থেকে উঠে চোখ ডলতে ডলতে ক্লাসরুটিন দেখে বই ব্যাগে ঢুকাতাম আর ভাবতাম, "ইংলিশ সেকেন্ড বইটা মোটা, ওটা অন্য কেউ নিবে"। স্কুলে এসে ব্যাগ রেখেই বারান্দায় ছুটোছুটি আর পিটি পালিয়ে ব্যাঞ্চের তলায় লুকিয়ে থাকা ছিলো খুব সাধারণ ঘটনা। কে জানে, হুট করেই হয়ত আমি টাইমস্পেস আঁটকে দিয়েছিলাম নিজের! এখন আর চুলে তেল দিইনা। যাচ্ছেতাই ভাবে দৌড়াদৌড়ি করিনা। এখন আর পিটিও করতে হয়না। হয়ত, এটাই নিজের "কিছুই না" জগতের এক অপরিহার্য অংশ। তখনো আমি, সুশিলদের নষ্টামি দেখিনি... হয়ত, এখন নিজেই নষ্ট হয়ে গেছি। তাই এত এত নষ্টাদের ভীড়েও দিব্যি চোখ মেলে হাটছি কি করে? ১টা সময় এসেছিলো, আবেগ নামের বস্তু ঘিরে ছিলো কিছু স্বপ্ন। একটুকরো জমি, ক্যালেন্ডারের ছবির মত ঘর, অনেকগুলো কবুতর আর ফুটফুটে এক আমার মত কিশোরী। কিশোরীর কিশোরবয়সের ছলনা, বালিকা বয়সে এসে তখন "ছেলেমানুষি ভুল" হিসেবে বুকে ধাক্কা মারল! একটা সময় ছিলো, অনেক অনেক বন্ধু ছিলো। ধাক্কাধাক্কি করে বড় হতে হতে কোথায় যে কে ছিটকে গেলাম, টেরই পেলাম না! "ক - ঁ " পর্যন্ত সবগুলো বন্ধু আজ গ্যাসবেলুনের মত হাপিস! হয়ত, আমিই কাউকে খুঁজতে যাইনি। অথবা নিজেকে লুকোতে গিয়ে সবাইকে হারিয়েছি। ভালোবাসা কি খালি দিয়েই গিয়েছি? উহহু একটা সময় ছিলো, কিশোর বয়স শেষে বালিকা এসেছিলো ভালোবাসতে। ওরা বলে, "খুব ভালোবেসেছিলাম। তুমি মূল্য বুঝোনি"। আমি বলতে চেয়েছিলাম, "খুব ভালোবেসেছো। কিন্তু যা দরকার তা বুঝতে শেখাওনি"। যে কারণে, কর্পোরেট মানুষগুলোর বুকের উর্ধাংশ মেলে ধরতে এতটুকু কাঁপেনাহ্... আম্রা কিন্তু এমন ছিলাম্না... আজ দিনশেষে, একলা পথে হাটতে গিয়ে যখন সমীকরণ মেলাতে যাই, আমার যোগ-বিয়োগের কাটাকুটিতে উত্তর হয় তিন... তিন কেনো? আমি, তুমি, আমরা... সমীকরণের শুরুর দিকের যোগান আমি দিয়েছি, আমার যোগানের শেষে গিয়ে তা ''আমরায়" মিলিয়েছে। মনে হইতো কিছু কিছু সম্পর্কের কখনোই কোন মানে হয়না। এই সিঁথিকাটা ছেলেগুলো যখন ধুলোপড়া পায়ে রাস্তায় উদাস হয়ে হাটে, তখন তাদের বলতে ইচ্ছে করে:- "এই বুঝি চেয়েছিলে?" হয়ত তারা বলবে, "ভাই, আপনি কে? আপনাকে তো চিনলাম না!" উত্তরে বলতে চাই, "হেঁহেঁহেঁ, আমি কে? আমিও তো আমাকে চিনছি না!"...
কিন্তু উপন্যাস এর উপলব্ধি ভিন্ন। সুরমার বুকে পালতোলা নৌকায় শুয়ে সারারাত আকাশ দেখা ছেলেটাকে দৌড়ুতে হয় প্রখর রোদে লোকাল বাসের পেছনে। ঘাসের ডগা চিবুতে চিবুতে শুয়ে শুয়ে আকাশ আর পাহাড়ের প্রেম দেখা মেয়েটাকে দৌড়ুতে হয় প্রবল বৃষ্টি মাথায় করে বাস্তবতার পেছনে। আদতে জীবন সব করয়ে নেয়। কিছুই অপরিবর্তিত থাকে না। জীবন - নিজে ছাড়া। 'জীবন' শুধু অপরাজিত। আমরা কী চাই? দিনশেষে সেই অনুযায়ী কত টুকু আদতে পাই আমরা? এই দুই এর পার্থক্য আর তাকে মেনে নেওয়ার ক্ষমতা একটা স্বত্ত্বাকে শুধু অপরাজিত করতে পারে বলে বুঝেছি আমি। উপন্যাস টা ভাবায়, আগে থেকে এন্টিসপিটেড ফিউচার থেকে বাস্তব কতটা ভিন্ন হইতে পারে। অতীত বা ভবিষ্যত নয়- শুধু বর্তমানে বাস করতে পারলে যে মায়াবী স্নিগ্ধতা পাওয়া যায় সেটাও ভাবাচ্ছে এই উপন্যাস!
পড়তে পড়তে কোথায় যানি হারিয়ে গেসিলাম। এখনো ফিরতে পারিনি। আমার দুই- চোক্ষের সামনে এখন শুধু গত শতাব্দীর কোলকাতার ছবি ভাসে!!
অপুর পাচালির দ্বিতীয় পর্ব প্রথম পর্বকে ছাড়িয়ে গেছে বলে আমি মনে করি। অপুর যে কৌতূহল, বিষ্ময়, চিন্তাধারার বিশালতা যেখানে নতুন যে কোনোকিছু দীপ্তিমান, অজানার প্রতি অসহ্য আকর্ষণ পাঠক হিসেবে আমাকে স্তব্ধ ও বিষ্মিত করেছে!!
উপন্যাস টা পড়বার পর থেকে আমি ভাবছি। ভাবছি না, আদতে ভাবাচ্ছে আমায়। যদি নিজের উপলব্ধির কথা বলি তবে আমার ভাবনাচিন্তা ছিলো নেতিবাচক। একটা সময় ছিলো, যখন মাথার চুলগুলো তেলে চুবিয়ে একপাশে সিথি কেঁটে রাখতাম। রোজ সকালে ঘুম থেকে উঠে চোখ ডলতে ডলতে ক্লাসরুটিন দেখে বই ব্যাগে ঢুকাতাম আর ভাবতাম, "ইংলিশ সেকেন্ড বইটা মোটা, ওটা অন্য কেউ নিবে"। স্কুলে এসে ব্যাগ রেখেই বারান্দায় ছুটোছুটি আর পিটি পালিয়ে ব্যাঞ্চের তলায় লুকিয়ে থাকা ছিলো খুব সাধারণ ঘটনা। কে জানে, হুট করেই হয়ত আমি টাইমস্পেস আঁটকে দিয়েছিলাম নিজের! এখন আর চুলে তেল দিইনা। যাচ্ছেতাই ভাবে দৌড়াদৌড়ি করিনা। এখন আর পিটিও করতে হয়না। হয়ত, এটাই নিজের "কিছুই না" জগতের এক অপরিহার্য অংশ। তখনো আমি, সুশিলদের নষ্টামি দেখিনি... হয়ত, এখন নিজেই নষ্ট হয়ে গেছি। তাই এত এত নষ্টাদের ভীড়েও দিব্যি চোখ মেলে হাটছি কি করে? ১টা সময় এসেছিলো, আবেগ নামের বস্তু ঘিরে ছিলো কিছু স্বপ্ন। একটুকরো জমি, ক্যালেন্ডারের ছবির মত ঘর, অনেকগুলো কবুতর আর ফুটফুটে এক আমার মত কিশোরী। কিশোরীর কিশোরবয়সের ছলনা, বালিকা বয়সে এসে তখন "ছেলেমানুষি ভুল" হিসেবে বুকে ধাক্কা মারল! একটা সময় ছিলো, অনেক অনেক বন্ধু ছিলো। ধাক্কাধাক্কি করে বড় হতে হতে কোথায় যে কে ছিটকে গেলাম, টেরই পেলাম না! "ক - ঁ " পর্যন্ত সবগুলো বন্ধু আজ গ্যাসবেলুনের মত হাপিস! হয়ত, আমিই কাউকে খুঁজতে যাইনি। অথবা নিজেকে লুকোতে গিয়ে সবাইকে হারিয়েছি। ভালোবাসা কি খালি দিয়েই গিয়েছি? উহহু একটা সময় ছিলো, কিশোর বয়স শেষে বালিকা এসেছিলো ভালোবাসতে। ওরা বলে, "খুব ভালোবেসেছিলাম। তুমি মূল্য বুঝোনি"। আমি বলতে চেয়েছিলাম, "খুব ভালোবেসেছো। কিন্তু যা দরকার তা বুঝতে শেখাওনি"। যে কারণে, কর্পোরেট মানুষগুলোর বুকের উর্ধাংশ মেলে ধরতে এতটুকু কাঁপেনাহ্... আম্রা কিন্তু এমন ছিলাম্না... আজ দিনশেষে, একলা পথে হাটতে গিয়ে যখন সমীকরণ মেলাতে যাই, আমার যোগ-বিয়োগের কাটাকুটিতে উত্তর হয় তিন... তিন কেনো? আমি, তুমি, আমরা... সমীকরণের শুরুর দিকের যোগান আমি দিয়েছি, আমার যোগানের শেষে গিয়ে তা ''আমরায়" মিলিয়েছে। মনে হইতো কিছু কিছু সম্পর্কের কখনোই কোন মানে হয়না। এই সিঁথিকাটা ছেলেগুলো যখন ধুলোপড়া পায়ে রাস্তায় উদাস হয়ে হাটে, তখন তাদের বলতে ইচ্ছে করে:- "এই বুঝি চেয়েছিলে?" হয়ত তারা বলবে, "ভাই, আপনি কে? আপনাকে তো চিনলাম না!" উত্তরে বলতে চাই, "হেঁহেঁহেঁ, আমি কে? আমিও তো আমাকে চিনছি না!"...
কিন্তু উপন্যাস এর উপলব্ধি ভিন্ন। সুরমার বুকে পালতোলা নৌকায় শুয়ে সারারাত আকাশ দেখা ছেলেটাকে দৌড়ুতে হয় প্রখর রোদে লোকাল বাসের পেছনে। ঘাসের ডগা চিবুতে চিবুতে শুয়ে শুয়ে আকাশ আর পাহাড়ের প্রেম দেখা মেয়েটাকে দৌড়ুতে হয় প্রবল বৃষ্টি মাথায় করে বাস্তবতার পেছনে। আদতে জীবন সব করয়ে নেয়। কিছুই অপরিবর্তিত থাকে না। জীবন - নিজে ছাড়া। 'জীবন' শুধু অপরাজিত। আমরা কী চাই? দিনশেষে সেই অনুযায়ী কত টুকু আদতে পাই আমরা? এই দুই এর পার্থক্য আর তাকে মেনে নেওয়ার ক্ষমতা একটা স্বত্ত্বাকে শুধু অপরাজিত করতে পারে বলে বুঝেছি আমি। উপন্যাস টা ভাবায়, আগে থেকে এন্টিসপিটেড ফিউচার থেকে বাস্তব কতটা ভিন্ন হইতে পারে। অতীত বা ভবিষ্যত নয়- শুধু বর্তমানে বাস করতে পারলে যে মায়াবী স্নিগ্ধতা পাওয়া যায় সেটাও ভাবাচ্ছে এই উপন্যাস!
September 2, 2012
This one is right there at the top with Dostoyevsky's Crime and Punishment in my reading list. I have read quite a few books (in English and Bengali) in my life but nothing beats these two. If crime and Punishment is all about the conflict that pushes a character into gray,forces him to stand for himself and at the same time doubt his own decisions, Aparajito speaks of the simplicity of human life- people are borne, they experience happiness and sorrow, they suffer and they win. They move on until the end of their time. If crime and Punishment teaches us that being wrong in our own way is better than being right in someone else's, Aprajito speaks of how life is to be embraced at every moment no matter how hard it hits us. Dostoyevsky's work shows us that truth triumphs in the end while Bibhuti Bhusan's timeless classic gives us a simple truth- Life triumphs over death as we keep on living through sorrow,through all the suffering, through death. Looking for love and truth. Poetry in the form of a novel. Simple and beautiful.
July 30, 2021
পথের পাঁচালী, দেশে-বিদেশে পড়ার পরও এতো খারাপ লাগে নাই যেমনটা এটা পড়ার পর লাগতেছে। কোনো কাজেই মন বসতেছে না। সবকিছুতেই কেমন যেন নিঃসঙ্গতা ও বিষন্নতার ছোয়া :(
মাত্র পাঁচটি তারকা যেনো অনেক কম হয়ে গেছে বইটার জন্য। It deserves a thousand stars.
৩০ জুলাই ২০২১
মাত্র পাঁচটি তারকা যেনো অনেক কম হয়ে গেছে বইটার জন্য। It deserves a thousand stars.
৩০ জুলাই ২০২১
November 23, 2020
চরম মাত্রার দরিদ্রতা, হাভাত, দুঃখ-কষ্ট, স্বজন-বিয়োগেও যার চোখের জিজ্ঞাসু দৃষ্টি অবদমিত হয় নি, যার জানার আগ্রহ শেষ হয়ে যায় নি, যে প্রতিনিয়ত মানুষের মাঝে মায়া খুঁজে বেড়ায় আর প্রকৃতির মাঝে শান্তি খুঁজে বেড়ায় সে-ই তো অপরাজিত। এত ঝড়-ঝাপটার মাঝেও যে নুইয়ে পড়েনি,জীবনাদর্শ হারিয়ে যায় নি সে-ই তো অপরাজিত।
বিভূতিবাবুর পথের পাঁচালী ছিল অন্যরকম। গ্রামের একটি সাধারণ পরিবারের সহজ-সরল জীবন ফুটিয়ে তুলেছিলেন শুধু। কিন্তু এটা! অপুর ধীরে ধীরে বড় হওয়া থেকে শুরু করে যৌবনে পদার্পন, সংসারে জড়িয়ে যাওয়া কিংবা অপুর আশেপাশের মানুষের সাথে গড়ে ওঠা সম্পর্কের অর্থ উপলব্ধি করা এ সবকিছুই সহজ মনে হলেও এইগুলোই মানুষের জীবনের একদম জটিল বিষয়।"অপু বুঝিল সে লীলাকে ভালবাসে, গভীরভাবে ভালবাসে, কিন্তু তা আবেগহীন,শান্ত, ধীর ভালবাসা। মনে তৃপ্তি আনে, স্নিগ্ধ আনন্দ আনে, কিন্তু শিরায় উপশিরায় রক্তের তাণ্ডব নর্ত্তন তোলে না। লীলা তাহার বাল্যের সাথী, তাহার উপর মায়ের পেটের বোনের মত একটা মমতা, স্নেহ ও অনুকম্পা, একটা মাধুর্য্যভরা ভালবাসা। "যেমন করে অপুর মধ্য দিয়ে বিভূতি বাবু সম্পর্কের ব্যবচ্ছেদ করেছেন, কতজন মানুষ এই সহজ সম্পর্কগুলোর ভেতরকার গূঢ়তত্ত্ব উদ্ভাবন করতে পারে!?
এবার আসি অপূর্ব আর অপর্নার কাছে। কি করেই যে দুজন দুজনের অগোচরে তারা একে অপরকে আবিষ্কার করতো! অদ্ভুত সুন্দর , এভাবেই তো এত মায়া মমতা তৈরি হয়, আজীবন পথ চলার আশা তৈরি হয় তা হোক কঠিন পরিস্থিতি।

A glimpse of Apur Sansar
movie by Satyajit Ray.
অপুর অপর্নাকে এই তিনরূপে আবিষ্কার করা! এটাই তো ভালবাসায় ঘিরে থাকার মূল ভিত্তি। কখনও সে প্রেয়সী/বন্ধু, মনের কথা বলার আপনারজন; কখনও সে চপলা কিশোরী/ছোট্ট মেয়ে; আর কখনও সে স্নেহময়ী, দূর থেকে মনে হয় মাতৃত্ব ফুটে আছে সকল চলনে! একজন পুরুষ যদি নারীর এই তিনরূপ খুঁজে না পেলো তবে তা আর ভালবাসা কই! প্রেম/মোহ বৈ আর কিছু নয়, দুদিন পরে তা আপনাতেই কেটে যাবে।ঠিক নারীর বেলাতেও একই কথা খাটে। যদি সে কঠোরতার বিপরীতে পুঁচকে বালকের দেখা না পায় সেও ব্যর্থ! নতুন করে একজন মানুষের ভেতরে এই মানুষগুলোকে খুঁজে পাওয়াই তো বার্ধক্যতেও একটা অদৃশ্য সুতোয় বেঁধে রাখে।
অপরাজিত অদ্ভুত সুন্দর!
এই বই পড়তে গিয়ে বোধহয় আমার হুশ হলো। জীবন তো নির্মমই। কেউ ডাস্টবিনে উচ্ছিষ্ট খুঁজে বেড়ায় আবার কেউ এক চামচ খেয়ে কাজের উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে পড়ে বাকিটা অনাদরে প্লেটেই পড়ে থাকে যার গন্তব্য ঐ ডাস্টবিনই। স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা যেখানে পরীক্ষা নিচ্ছেন বিভিন্ন ভাবে সেখানে বিভূতিবাবুকে আর সৃষ্টির প্রতি এই নির্মমতার জন্য কথা শুনিয়েই কি হবে। যেখানে সত্য সেখানেই নির্মমতা :)
~২৩ নভেম্বর, ২০২০
June 27, 2022
বিভূতিভূষণ একজনই। তার চমৎকার জীবন দর্শন আর প্রকৃতির সাথে মিশে যাওয়ার মধ্য দিয়ে প্রত্যেক বাঙালি সন্তান যুগে যুগে নিজের শেকড়ের অস্তিত্বকে উপলব্ধি করবে। প্রত্যেকটা শব্দ যেন নাড়িয়ে দিয়ে যায়।
'অপরাজিত' বিভূতিভূষণের দ্বিতীয় উপন্যাস। এটি 'পথের পাঁচালী'র অপু-কাহিনিরই সম্প্রসারিত রূপ।
পথের পাঁচালীর প্রতি যতটুকু ভালোবাসা ছিল,তারচেয়েও বেশি ভালোবেসে ফেললাম এই অপরাজিত বইখানাকে।হয়তো অপুর প্রাপ্তবয়স্ক অবস্হার সংগ্রামই আমাকে বেশি আকৃষ্ট করেছে।জীবনকে ভিন্ন এক রূপে দর্শন করতে শিখিয়ে গেলো এই উপন্যাসটি।
নিশ্চিন্দিপুরের অপুকে এই উপন্যাসে লেখক স্থাপন করেছেন এক বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে। পিতার মৃত্যু, মায়ের উচ্চাশাহীন গণ্ডীবদ্ধ জীবনের বন্ধন কেটে কলেজে ভর্তি হওয়া, কলেজ জীবনের নিদারুণ দারিদ্রের বিরুদ্ধে অবিরাম সংগ্রাম, মায়ের মৃত্যু, হঠাৎ বিবাহ, স্ত্রী অপর্ণার সাহচর্যে একটা অল্পস্থায়ী শান্তির নীড়রচনার প্রয়াস এবং অপর্ণার আকস্মিক মৃত্যুতে সে প্রয়াসের সমাধি।
জীবনের প্রকৃত স্বার্থকতা কী সুখের ঘোরেই বসবাস করা?নাকি নিষ্ঠুর সংগ্রামের বেদনার মাধ্যমেই জীবনের প্রকৃত স্বার্থকতা? আমরা মূলত যেভাবে বসবাস করে আসছি,তার বিপরীতে এক তীক্ষ্ণ প্রশ্নের ঝংকার ছুঁড়ে দেয় এই মহান উপন্যাসের মহান লেখক।
প্রকৃতির অবাধ বিজনতায় এই নবদীক্ষার পর অপুর বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন।
অপু কখনোই সংসারী ছিল না। তার মনে এক পর্যটক বাস করতো। ঘটনাচক্রে সে চাকরী পেয়ে যায় মধ্যপ্রদেশের জঙ্গলে। প্রকৃতি যার এত প্রিয় সে কি আর এই লোভ সামলাতে পারে! দীর্ঘ পাঁচ বছর বিভিন্ন জায়গায় ঘুড়ে সে থিতু হয় সেই পুরোনো ঠিকানা, তার গ্রামে। কাজলকে নিয়ে কাটাতে চায় বাকিটা জীবন।
অপু বাঁধা পড়তে চায় না কোনো বাঁধনে। মাতৃহারা কাজলকে নিয়ে নিশ্চিন্দিপুরে ঘর বাঁধবারা সঙ্কল্প নিয়ে গ্রামে প্রত্যাবর্তন। তাই সে তার ছেলেকে দিয়ে আসে তার ছোট বেলার সঙ্গী রানুদীর কাছে। অপু জাহাজে করে বেড়িয়ে পরে ফিজির উদ্দেশ্যে, সেখান থেকে হয়ত কোনো অজানার উদ্দেশ্যে।
অপু আমাদের সমাজেরই একটি চরিত্র। এমন মানুষ আমাদের আশেপাশেই আছে, যারা জীবন যুদ্ধে অপরাজিত থেকে এগিয়ে যাচ্ছে বর্তমানকে উপভোগ করছে। আমাদের শৈশব থেকে যৌবনটা খুব বেশি বইয়ে এত স্পষ্ট করে লেখা আছে বলে মনে হয় না। অপুর বড় হওয়া, অর্থকষ্টে জর্জরিত হয়ে পদে পদে আটকে পড়া, তার জীবনের ভালবাসা, আশাগুলো এত বাস্তব লাগে,মনে হয় নিজেই সেই চরিত্র।
ঘটনার বৈচিত্র্য,অথবা চরিত্রচিত্রণ,কিংবা প্রকৃতির বর্ণনা,সবটাতেই এতটা দুর্দান্ত খুব কম লেখককেই দেখতে পেয়েছি।
তীব্র বেদনার সাথে পাঠকের মন বেদনামিশ্রিত আনন্দে পরিপূর্ণ করাই আমার কাছে এই উপন্যাসের সবচেয়ে বড় দিক। পরিশেষে বলা যায় নিঃসন্দেহে অসাধারণ একটি উপন্যাস।
'অপরাজিত' বিভূতিভূষণের দ্বিতীয় উপন্যাস। এটি 'পথের পাঁচালী'র অপু-কাহিনিরই সম্প্রসারিত রূপ।
পথের পাঁচালীর প্রতি যতটুকু ভালোবাসা ছিল,তারচেয়েও বেশি ভালোবেসে ফেললাম এই অপরাজিত বইখানাকে।হয়তো অপুর প্রাপ্তবয়স্ক অবস্হার সংগ্রামই আমাকে বেশি আকৃষ্ট করেছে।জীবনকে ভিন্ন এক রূপে দর্শন করতে শিখিয়ে গেলো এই উপন্যাসটি।
নিশ্চিন্দিপুরের অপুকে এই উপন্যাসে লেখক স্থাপন করেছেন এক বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে। পিতার মৃত্যু, মায়ের উচ্চাশাহীন গণ্ডীবদ্ধ জীবনের বন্ধন কেটে কলেজে ভর্তি হওয়া, কলেজ জীবনের নিদারুণ দারিদ্রের বিরুদ্ধে অবিরাম সংগ্রাম, মায়ের মৃত্যু, হঠাৎ বিবাহ, স্ত্রী অপর্ণার সাহচর্যে একটা অল্পস্থায়ী শান্তির নীড়রচনার প্রয়াস এবং অপর্ণার আকস্মিক মৃত্যুতে সে প্রয়াসের সমাধি।
জীবনের প্রকৃত স্বার্থকতা কী সুখের ঘোরেই বসবাস করা?নাকি নিষ্ঠুর সংগ্রামের বেদনার মাধ্যমেই জীবনের প্রকৃত স্বার্থকতা? আমরা মূলত যেভাবে বসবাস করে আসছি,তার বিপরীতে এক তীক্ষ্ণ প্রশ্নের ঝংকার ছুঁড়ে দেয় এই মহান উপন্যাসের মহান লেখক।
প্রকৃতির অবাধ বিজনতায় এই নবদীক্ষার পর অপুর বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন।
অপু কখনোই সংসারী ছিল না। তার মনে এক পর্যটক বাস করতো। ঘটনাচক্রে সে চাকরী পেয়ে যায় মধ্যপ্রদেশের জঙ্গলে। প্রকৃতি যার এত প্রিয় সে কি আর এই লোভ সামলাতে পারে! দীর্ঘ পাঁচ বছর বিভিন্ন জায়গায় ঘুড়ে সে থিতু হয় সেই পুরোনো ঠিকানা, তার গ্রামে। কাজলকে নিয়ে কাটাতে চায় বাকিটা জীবন।
অপু বাঁধা পড়তে চায় না কোনো বাঁধনে। মাতৃহারা কাজলকে নিয়ে নিশ্চিন্দিপুরে ঘর বাঁধবারা সঙ্কল্প নিয়ে গ্রামে প্রত্যাবর্তন। তাই সে তার ছেলেকে দিয়ে আসে তার ছোট বেলার সঙ্গী রানুদীর কাছে। অপু জাহাজে করে বেড়িয়ে পরে ফিজির উদ্দেশ্যে, সেখান থেকে হয়ত কোনো অজানার উদ্দেশ্যে।
অপু আমাদের সমাজেরই একটি চরিত্র। এমন মানুষ আমাদের আশেপাশেই আছে, যারা জীবন যুদ্ধে অপরাজিত থেকে এগিয়ে যাচ্ছে বর্তমানকে উপভোগ করছে। আমাদের শৈশব থেকে যৌবনটা খুব বেশি বইয়ে এত স্পষ্ট করে লেখা আছে বলে মনে হয় না। অপুর বড় হওয়া, অর্থকষ্টে জর্জরিত হয়ে পদে পদে আটকে পড়া, তার জীবনের ভালবাসা, আশাগুলো এত বাস্তব লাগে,মনে হয় নিজেই সেই চরিত্র।
ঘটনার বৈচিত্র্য,অথবা চরিত্রচিত্রণ,কিংবা প্রকৃতির বর্ণনা,সবটাতেই এতটা দুর্দান্ত খুব কম লেখককেই দেখতে পেয়েছি।
তীব্র বেদনার সাথে পাঠকের মন বেদনামিশ্রিত আনন্দে পরিপূর্ণ করাই আমার কাছে এই উপন্যাসের সবচেয়ে বড় দিক। পরিশেষে বলা যায় নিঃসন্দেহে অসাধারণ একটি উপন্যাস।
February 12, 2024
কত গ্রামের কত গল্প, একাল সেকালের কত কথা, পল্লীগৃহস্থের কত সুখ দুঃখের কাহিনী জড়ানো এ বই। লেখায় কি আন্তরিকার সুর! যেন কত কালের পুরাতন পরিচিত। সারা দেহ মন উপভোগ করিতেছিলো যেন, কি দারুণ এক তৃপ্তির বোধ!
March 11, 2022
মনে হচ্ছে আত্মাটা একদম জুড়িয়ে গেলো!
May 29, 2018
"যে জীবন যে জগৎকে আমরা প্রতিদিনের কাজকর্মে হাটে-ঘাটে হাতের কাছে পাইতেছি জীবন তাহা নয়,এই কর্মব্যাস্ত অগভীর একঘেয়ে জীবনের পিছনে লুকানো আছে-সে এক শাশ্বত রহস্যভরা গৃহ গভীর জীবন-মন্দাকিনী,যাহার গতি কল্প হইতে কল্পান্তর;দুঃখকে তাহা করিয়াছে অমৃতের পাথেয়,অশ্রুকে করিয়াছে অনন্ত জীবনের উৎসধারা..."
একটা ভালো বই অপরিসীম আনন্দের উৎসস্থল।আর তা যদি হয় বিভূতিভূষণের মায়া ভরা লেখা তাহলে তো কথাই নেই।দুঃখ-দারিদ্র্যে ভরা সাদামাটা জীবনটাকে এত গভীরভাবে কেউ হয়ত কখনো দেখেনি যেমনটা দেখেছে বিভূতিভূষণ। অপু-অপর্ণা,কাজল,সর্বজয়া,লীলাদের মাধ্যমে জীবনকে যেভাবে দেখিয়েছেন তা সত্যিই অতুলনীয়।
একটা ভালো বই অপরিসীম আনন্দের উৎসস্থল।আর তা যদি হয় বিভূতিভূষণের মায়া ভরা লেখা তাহলে তো কথাই নেই।দুঃখ-দারিদ্র্যে ভরা সাদামাটা জীবনটাকে এত গভীরভাবে কেউ হয়ত কখনো দেখেনি যেমনটা দেখেছে বিভূতিভূষণ। অপু-অপর্ণা,কাজল,সর্বজয়া,লীলাদের মাধ্যমে জীবনকে যেভাবে দেখিয়েছেন তা সত্যিই অতুলনীয়।
November 4, 2023
‘পথের পাঁচালী’ র অপু-কাহিনীরই সম্প্রসারণ ‘অপরাজিত’।পড়তে যেয়ে সবকিছুই যেনো চোখের সামনে ভাসছিলো।এতো সুন্দর,এতো মায়া দিয়ে কিভাবে লিখে?প্রত্যেকটা বর্ণে,প্রত্যেকটা শব্দে যেনো মায়া জড়িয়ে আছে।এই বইয়ের রিভিউ শব্দে ব্যাখ্যা করে অসম্ভব।
December 27, 2023
২০২৩ সালের পড়া শেষ ক্লাসিক বই 'অপরাজিত'। অসাধারণ লেগেছে বইটা। বিভূতিভূষণ এক লেখা মানেই শহরের সেই অলি গলি পেরিয়ে সবুজ শ্যামল প্রকৃতিতে ডুব দেওয়া। অপুর উত্থান পতন সবই চমৎকার ভাবে ফুটে উঠেছে।
February 7, 2018
সেই কবে কোন ছোটবেলায় পথের পাঁচালী পড়েছিলাম। অপরাজিত তখন পড়তে সাহস করিনি, মনে হয় দুঃখ পাবার ভয়ে।আরও অনেক পরে আরণ্যক পড়ে নতুন করে বিভূতিভূষণ এর ভক্ত হয়েছিলাম। আজ এতদিন পর অপরাজিত পড়লাম।বিভূতিভূষণ এর উপন্যাস সবগুলো এখনও আমার পড়া হয় নি। দৃষ্টিপ্রদীপ, দেবযান মোটেই ভালো লাগে নি।আদর্শ হিন্দু হোটেলও অসাধারণ কিছু মনে হয় নি। ইছামতী এখনও পড়ি নি। তবে পথের পাঁচালী, আরণ্যকের সাথে অপরাজিতও শুধু বিভূতি ভূষণ এর নয়, বাংলা সাহিত্যের সেরা উপন্যাসগুলোর মধ্যে প্রথম সারিতে থাকবে বলে আমার ধারণা, আমি আমার নিজের তালিকায় এই তিনটিকেই সেরা পাঁচে রাখবো। একটা ভালো উপন্যাস লিখে তার ধারাবাহিকতায় আরেকটি সেরা সৃষ্টি করা অনেক শক্ত। বিভূতি ভূষন এরও অনেক দূর্বল লেখা অাছে, হয়তো তাড়াহুড়ো করে লেখা বলেই। কিন্তু অপরাজিত সত্যিই পথের পাঁচালীকে ধরে রেখেছে একই ভাবে। এ যেন একই উপন্যাস, কেবল এক সাথে লেখা হয় নি এই যা। পথের পাঁচালী, আরণ্যক কিংবা অপরাজিত তিনটি উপন্যাসের সার্থকতা এই জায়গা থেকেই সম্ভবত এসেছে যে এর পটভূমি অনেকটাই লেখকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতালব্ধ, তাই তাতে বানানো কাহিনী কম, কৃত্রিমতা নেই। অপুর বড় হওয়া, দুঃখে-দারিদ্র্যে ভরা ছাত্র জীবন যেন বিভূতির ই জীবন কাহিনী।অপুর মতো বিভুতিও বিএ পড়ে এম.এ পড়া চালিয়ে যেতে পারেন নি। চাকরী থেকে বরখাস্ত হওয়ার অভিজ্ঞতা তার ও তো ছিলো। সেটা তার জীবনে না এলে তিনিও হয়তো সাহিত্যিক বিভূতি ভূষণ হয়ে উঠতে পারতেন না, জীবনে এতো বৈচিত্র্যপূর্ণ অভিজ্ঞতাও হয়তো হতো না।অপু চাকরী করেছে মধ্য ভারতের জঙ্গলে, বিভূতি বিহারের বন্য ভূমিতে। কি আশ্চর্য বিভূতির মতো অপুর প্রথম স্ত্রীও বিয়ের কয়েক বছরের মধ্যে মারা গেলো, তফাতটা এই কাজলের মতো কোন সন্তান বিভূতির প্রথম স্ত্রীর ঘরে হয় নি। যতদূর জানি তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায় এর জন্মের আগে পর্যন্ত বিভূতি ভূষণ একটি সন্তানের জন্য, বাবা ডাক শোনার জন্য দীর্ঘদিন আকুল ছিলেন। কাজল তার সেই তৃষিত পিতৃ হৃদয়ের কল্পনা। এতো মায়া দিয়ে চরিত্রটি বিভূতি ভূষণ সৃষ্টি করেছেন তার কোন তুলনা হয় না। জীবনে দারিদ্র্যের সাথে, অবহেলার সাথে, হৃদয় হীনতার সাথে বিভূতি ভূষণ এর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিলো বলেই বিভূতির বর্ণনা এতো নিঁখুত, অপারিজত এতো জীবন্ত, সর্বজয়া যেন তার ই মা, সারা জীবন যিনি দুঃখ পেয়েই কাটিয়ে দিলেন। বিভূতি ভূষণ যদি ভাগ্যের সাথে নিয়ত যুদ্ধে হেরে দুঃখে হতাশ হয়ে হাল ছেড়ে দিতেন, লেখা লেখিতে উৎসাহ ধরে না রাখতেন তা হলে এই সাহিত্য আমরা পেতাম কই। অপরাজিততে বিভূতি ভূষণ নিজেই বলেছেন আফ্রিকার কোন নিভৃত পল্লীর দরিদ্র বালক যাকে তার বাবা মায়ের কাছ থেকে দাস ব্যবসায়ীরা কেড়ে নিয়ে দূর দেশে চলে গেল, কত দেশ কত সমুদ্র দূরে, সে যদি নিজের দুঃখ বেদনা ভরা জীবনের কথা লিখতে পারতো কতো মহৎ সাহিত্য আমরা পেতাম। বিভূতি ভূষণ এর মতো লেখকদের আজও বড় দরকার। দেশ কাল সময়ের ব্যবধানে মানুষ তো একই, দুঃখ গুলোর কারণ হয়তো পালটেছে, চেহারা পল্টায় নি, সুখের হেতু হয়তো বদলেছে পরিমাণ বাড়ে নি বা কমে নি। এই সময়ের মানুষের কথা এভাবে লেখার মানুষ কি আছে? মহৎ দুঃখ বা মহৎ সুখ যাই হোক না কেন সত্যিকারের জীবনের গল্প সব লেখায় পাই না। অপরাজিত সেই বিরল লেখাগুলোর মধ্যে একটা যা আমার চোখে জল নিয়ে এসেছে। এই কৃতিত্ব বিভূতি ভূষণ আরও অনেকবার দেখিয়েছেন। যুগ যুগ বেঁচে থাকুন বিভূতি ভূষণ পাঠকের হৃদয়ে, যুগ যুগ বেঁচে থাকুক অপরাজিত বইয়ের পাতায়, ই-বুকের ফাইলে, লাইব্রেরীর তাকে, পাঠকের ভাবনায়।
April 9, 2021
এর থেকে সুন্দর আর কিছু হতে পারে?
আমার পড়া সব থেকে বেস্ট ৫ টা বইয়ের মদ্ধ্যে থাকবে পথের পাঁচালি-অপরাজিত। কিন্ত অপরাজিত যেন পথের পাঁচালির থেকেও সুন্দর।
কত্ত মায়া দিয়ে প্রতিটা লাইন লেখা। পড়তে পড়তে ইচ্ছা হয় আস্তে আস্তে পড়ি, পড়লেই তো শেষ। আফসোস, এমন লেখা এখন আর পাওয়া যায়না।
আমার পড়া সব থেকে বেস্ট ৫ টা বইয়ের মদ্ধ্যে থাকবে পথের পাঁচালি-অপরাজিত। কিন্ত অপরাজিত যেন পথের পাঁচালির থেকেও সুন্দর।
কত্ত মায়া দিয়ে প্রতিটা লাইন লেখা। পড়তে পড়তে ইচ্ছা হয় আস্তে আস্তে পড়ি, পড়লেই তো শেষ। আফসোস, এমন লেখা এখন আর পাওয়া যায়না।
June 24, 2023
"অপরাজিত"
নামের মতোই অপরাজেয় এক আখ্যান।
নামের মতোই অপরাজেয় এক আখ্যান।
March 3, 2021
যদি কেহ বাংলা ভাষা পড়িতে পারে পথের পাঁচালী ও অপরাজিত যেন সে পড়িয়া দেখে
April 7, 2023
“দুঃখের নিশীথে তাহার প্রাণের আকাশে সত্যের যে নক্ষত্ররাজি উজ্জ্বল হইয়া ফুটিয়াছে- তা সে লিপিবদ্ধ করিয়া রাখিয়া যাইবে… আজিকার দিন হইতে অনেকদিন পরে—হয়ত শত শত বৎসর পরে তাহার নাম যখন এ-বছরে-ফোঁটা-শালফুলের মঞ্জরীর-মত-কোথায় মিলাইয়া যাইবে,… তখন তাহার কত অনাগত বংশধর কত সকালে, সন্ধ্যায়, মাঠে, গ্রাম্য নদীতীরে, দুঃখের দিনে, শীতের সন্ধ্যায় অথবা অন্ধকার গহন নিস্তব্ধ দুপুর-রাত্রে, শিশির-ভেজা ঘাসের উপর তারার আলোর নিচে শুইয়া শুইয়া তাহার বই পড়িবে— যে বিশ্বের সে একজন নাগরিক, তা ক্ষুদ্র, দীন বিশ্ব নয়-লক্ষ কোটি আলোকবর্ষ যার গণনার মাপকাঠি, দিকে দিকে অন্ধকারে ডুবিয়া ডুবিয়া নক্ষত্রপুঞ্জ, নীহারিকদের দেশ, অদৃশ্য ঈথারের বিশ্ব যেখানে মানুষের চিন্তাতীত কল্পনাতীত দূরত্বের ক্রমবর্ধমান পরিধিপানে বিস্তৃত –সেই বিশ্বে সে জন্মিয়াছে… কত নিশ্চিন্দিপুর, কত অপর্ণা, কত দুর্গা দিদি-জীবনের ও জন্মমৃত্যুর বীথিপথ বাহিয়া ক্লান্ত ও আনন্দিত আত্মার সে কি অপরূপ অভিযান... শুধু আনন্দে, যৌবনে, জীবনে, পুণ্যে ও দুঃখে, শোকে ও শাস্তিতে। …এই সবটা লইয়া যে আসল বৃহত্তর জীবন–পৃথিবীর জীবনটুকু যার ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ মাত্র… সে জীবনের অধিকার হইতে কাহারও বঞ্চনা করিবার শক্তি নাই—তার মনে হইল সে দীন নয়, দুঃখী নয়, তুচ্ছ নয়—এটুকু শেষ নয়, এখানে আরম্ভও নয়। সে জন্ম-জন্মান্তরের পথিক-আত্মা, দূর হইতে কোন সুদূরের নিত্য নূতন পথহীন পথে তার গতি, এই বিপুল নীল আকাশ, অগণ্য জ্যোতিলোক, সপ্তর্ষিমণ্ডল, ছায়াপথ, বিশাল অ্যান্ড্রোমিডা নীহারিকার জগৎ বহির্ষদ পিতৃলোক—এই শত সহস্ৰ শতাব্দী তার পায়ে-চলার পথ—তাঁর ও সকলের মৃত্যু দ্বারা অস্পষ্ট সে বিরাট জীবনটা নিউটনের মহাসমুদ্রের মত সকলেরই পুরোভাগে অক্ষুন্নভাবে বর্তমান-নিঃসীম সময় বাহিয়া সে গতি সারা মানবের যুগে যুগে বাধাহীন হউক।…”
শুরুতেই বিভূতিবাবুর বিশাল একখানা উক্তি ঝেপে দিয়ে ভুল করলাম কিনা জানি না। তবে এই বইয়ের অসংখ্য প্রিয় অংশের মধ্যে এটা একটা। তাই দেখতে দৃষ্টিকটু লাগলেও, লোভ সংবরন করতে পারলাম না।
এই বইটা একটা নিঃসঙ্গ আত্মার নির্ভীক ভ্রমন। আমি জীবনের পথে হাঁটি, হোঁচট খাই, উঠে দাঁড়িয়ে অপুর কথা ভাবি। অপু আমার বন্ধু, আমার জীবন চলার পথের সঙ্গী।
পথের পাঁচালী যেখানে শেষ হয়, অপরাজিত শুরু হয় সেখান থেকেই। কিন্তু এ কেবল ধারাবাহিকতা নয়, বরং এক সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতার দিকে যাত্রা। এখানকার অপু আগের মতো নয়। শৈশবের প্রকৃতি-ভরা সরলতা থেকে সে ধীরে ধীরে ঢুকে পড়ে এক কঠোর আর নিঃসঙ্গ শহরের ভেতর। এখানকার সময় আর জগত তার সামনে বন্ধ দরজার মতো দাঁড়িয়ে থাকে। সে নিজেই দরজাগুলো খোলে, একটা একটা করে।
এ উপন্যাসে যে জিনিসটা আমার সবচেয়ে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে, তা হলো অপুর একাকীত্ব। মা চলে যাবার পর, অপর্ণাকে হারানোর পরে, এমনকি নিজের সন্তান পর্যন্ত যখন দূরে সরে থাকেতখনও অপু যেন ভেঙে পড়ে না। সে নিঃসঙ্গ, তবু অপরাজিত।
এই যে এক নিঃসঙ্গ আত্মা, যে কোনো নাটকীয়তা ছাড়া চুপ করে কষ্ট বয়ে নিয়ে যায়, অসংখ্য বাঁধা তবুও সামনে এগোয়, এই অপু কি আমাদেরই প্রতিচ্ছবি নয়?
বিভূতিভূষণের ভাষা এক আশ্চর্য ব্যাপার! একদিকে মাটি ছোঁয়া আবার অন্যদিকে আকাশ ছোঁয়ার মতো। তিনি কখনও অপুর চোখ দিয়ে দেখান কাশবনের মধ্য দিয়ে ফেরা বিকেল, কখনও দেখান নির্জন পড়ার ঘরে জমে ওঠা বইয়ের গন্ধ।
এই বইয়ে কোনও কৃত্রিম নাটক নেই, নেই টানটান উত্তেজনা, অথচ প্রতিটি অধ্যায়ে একটা হালকা ধাক্কা থাকে, একটা কেমন আবেগের ঝাপটা, যা এসে বুকের মাঝখানে পড়ে।
কাহিনি কাঠামো এখানে ধীরগতির, কিন্তু প্রতিটি মোড়ে থাকে এক গভীর মানসিক বাঁক। অপু কলকাতার হোস্টেলে এসে যে রকম নতুন জীবন দেখে, তার প্রথম বন্ধুত্ব, তার চিন্তাশীলতা, বইয়ের প্রতি আসক্তি, এসব শুধু চরিত্র নির্মাণ নয়, একটা আত্মার উন্মোচন।
বিশেষ করে অপর্ণার সঙ্গে সম্পর্ক, আর তার হঠাৎ চলে যাওয়া...এখানে লেখক যেভাবে শোককে সংযত রেখেছেন তা আধুনিক সাহিত্যে বিরল।
দুর্বলতা বললে, হয়তো কেউ কেউ বলবে উপন্যাসে ঘটনা কম, গতি ধীর। কিন্তু আমার মনে হয়, জীবন যেমন ধীরে চলে, এই উপন্যাসও সেই গতি নিয়েই সত্যি।
শুরুতেই বিভূতিবাবুর বিশাল একখানা উক্তি ঝেপে দিয়ে ভুল করলাম কিনা জানি না। তবে এই বইয়ের অসংখ্য প্রিয় অংশের মধ্যে এটা একটা। তাই দেখতে দৃষ্টিকটু লাগলেও, লোভ সংবরন করতে পারলাম না।
এই বইটা একটা নিঃসঙ্গ আত্মার নির্ভীক ভ্রমন। আমি জীবনের পথে হাঁটি, হোঁচট খাই, উঠে দাঁড়িয়ে অপুর কথা ভাবি। অপু আমার বন্ধু, আমার জীবন চলার পথের সঙ্গী।
পথের পাঁচালী যেখানে শেষ হয়, অপরাজিত শুরু হয় সেখান থেকেই। কিন্তু এ কেবল ধারাবাহিকতা নয়, বরং এক সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতার দিকে যাত্রা। এখানকার অপু আগের মতো নয়। শৈশবের প্রকৃতি-ভরা সরলতা থেকে সে ধীরে ধীরে ঢুকে পড়ে এক কঠোর আর নিঃসঙ্গ শহরের ভেতর। এখানকার সময় আর জগত তার সামনে বন্ধ দরজার মতো দাঁড়িয়ে থাকে। সে নিজেই দরজাগুলো খোলে, একটা একটা করে।
এ উপন্যাসে যে জিনিসটা আমার সবচেয়ে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে, তা হলো অপুর একাকীত্ব। মা চলে যাবার পর, অপর্ণাকে হারানোর পরে, এমনকি নিজের সন্তান পর্যন্ত যখন দূরে সরে থাকেতখনও অপু যেন ভেঙে পড়ে না। সে নিঃসঙ্গ, তবু অপরাজিত।
এই যে এক নিঃসঙ্গ আত্মা, যে কোনো নাটকীয়তা ছাড়া চুপ করে কষ্ট বয়ে নিয়ে যায়, অসংখ্য বাঁধা তবুও সামনে এগোয়, এই অপু কি আমাদেরই প্রতিচ্ছবি নয়?
বিভূতিভূষণের ভাষা এক আশ্চর্য ব্যাপার! একদিকে মাটি ছোঁয়া আবার অন্যদিকে আকাশ ছোঁয়ার মতো। তিনি কখনও অপুর চোখ দিয়ে দেখান কাশবনের মধ্য দিয়ে ফেরা বিকেল, কখনও দেখান নির্জন পড়ার ঘরে জমে ওঠা বইয়ের গন্ধ।
এই বইয়ে কোনও কৃত্রিম নাটক নেই, নেই টানটান উত্তেজনা, অথচ প্রতিটি অধ্যায়ে একটা হালকা ধাক্কা থাকে, একটা কেমন আবেগের ঝাপটা, যা এসে বুকের মাঝখানে পড়ে।
কাহিনি কাঠামো এখানে ধীরগতির, কিন্তু প্রতিটি মোড়ে থাকে এক গভীর মানসিক বাঁক। অপু কলকাতার হোস্টেলে এসে যে রকম নতুন জীবন দেখে, তার প্রথম বন্ধুত্ব, তার চিন্তাশীলতা, বইয়ের প্রতি আসক্তি, এসব শুধু চরিত্র নির্মাণ নয়, একটা আত্মার উন্মোচন।
বিশেষ করে অপর্ণার সঙ্গে সম্পর্ক, আর তার হঠাৎ চলে যাওয়া...এখানে লেখক যেভাবে শোককে সংযত রেখেছেন তা আধুনিক সাহিত্যে বিরল।
দুর্বলতা বললে, হয়তো কেউ কেউ বলবে উপন্যাসে ঘটনা কম, গতি ধীর। কিন্তু আমার মনে হয়, জীবন যেমন ধীরে চলে, এই উপন্যাসও সেই গতি নিয়েই সত্যি।
February 14, 2019
I don't consider myself a book reviewer. No. These are not reviews. I write these as little notes to remind me of the books I read. Giving a star doesn't cut it for me. I would like to know years later what I had thought of a particular book, the words that had moved me, and the voices that had shaped me then.
I don't need to write a little note for 'Aparajito'. This book I will remember for the rest of my life along with 'Anna Karenina.' I cried at the end for Apu because you can't help but fall in love with him. I was awed at Bibhutibhushan's marvelous writing vision. Just simply one of the best books I have ever read in my life.
I don't need to write a little note for 'Aparajito'. This book I will remember for the rest of my life along with 'Anna Karenina.' I cried at the end for Apu because you can't help but fall in love with him. I was awed at Bibhutibhushan's marvelous writing vision. Just simply one of the best books I have ever read in my life.
April 2, 2015
Sinhala Translation by Late Chintha Lakshmi Sinhaarachchi ( I'm not very sure about the name) is a great one. She has translated this great novel from Bengali to Sinhala. The relationship between Apoorva and his close friend was fascinating.
April 15, 2022
বইটা শেষ করে এত মন খারাপ লাগছে। কতবার যে কাঁদলাম। এতটা মায়া কি করে হতে পারে কোন গল্প? অপুর ভাবনাচিন্তা গুলো মনের মাঝে ঘুরপাক খাচ্ছে। ইস কি সুন্দর। বিভূতিবাবুর লেখার প্রেমে বারবার পড়ি আমি। আহ। কি অসাধারণ বর্ণনা।
December 10, 2025
বিভূতি বাবুর "পথের পাঁচালী" এর দ্বিতীয় কিস্তি শেষ করে অনুভূতি টা যে আসলে কি সেটা ঠিক বোঝাতে পারছি না। "অপরাজিত" যেন অপুর হারতে হারতে জিতে যাওয়ার উপন্যাস। বই এর পাতা জুড়ে যেন অদ্ভুত এক বিষাদের সাথে কোথাও একটুখানি আশাও জুড়ে দেয়া। "পথের পাঁচালী"র অপু " অপরাজিত" তে পুরোদমে অপূর্ব হয়ে উঠতে চেয়েও যেন হয়ে উঠতে পারে না, মনের দিকে সে ঠিক সেই নিশ্চিন্দিপুরের অপুই রয়ে যায়। জীবনের এত ঝড় ঝাপ্টা,ত্যাগ,অভাব,দারিদ্র্য, আপন জন হারানোর বেদনা কিছুই যেন তাকে ছুঁতে চেয়েও ছুঁতে পারে না।এর কারণ কি অপুর স্বার্থপরতা নাকি তার প্রচন্ডভাবে বেঁচে থাকার আকাঙ্খা আমি জানি না, কিন্তু এটাই তো বোধহয় বেঁচে থাকা সব ভুলে,অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশা করা। জীবন থেকে আমাদের একেকজনের চাওয়া পাওয়া একেকরকম,আসলে আমরা কতটুকুই বা পাই, বা পেয়েও বা কতটুকুই বা সন্তুষ্ট থাকি? দিন শেষে আসলে আমরা যা পাই তা হচ্ছে সবকিছু মেনে নেয়ার এক অদৃশ্য ক্ষমতা, জীবন আমাদের দিয়ে সব করিয়ে নেয়।
"অপরাজিত" নিয়ে লিখতে গেলে উপন্যাসের নারী চরিত্রগুলো নিয়ে বলতেই হয়। সর্বজয়া থেকে শুরু করে রানুদি সবাই যেন স্বমহিমায় দীপ্যমাম।অপর্ণা আর অপুর রসায়ন টা এত দারুণ। তারা নিজের অজান্তেই সময়ের সাথে একে অপরকে আবিষ্কার করে। কোনো প্রেমময় উক্তি ছাড়াও অপুর আর অপর্নার একে অপরের প্রতি যে ভালোবাসার দৃশ্য বিভূতিবাবু এঁকেছেন এমন আর কোথাও পড়েছি বলে মনে পরছে না।কী এক অদ্ভুত মায়ার বন্ধন।অপুর জীবনের আসা প্রতিটা নারীর সাথেই অপুর কেমন জানি এক মায়ার টান, প্রতিটা নারী যেন অপুকে সাহায্য করেছে নিজেকে অন্য ভাবে আবিষ্কার করতে হোক সে কলিকাতার জ্যাঠাইমা কিংবা হোক সে পাড়াত কোনো বৌ ঠাকুরন। অভাব,দারিদ্র্য, মানসিক অশান্তি সবকিছুর মধ্যেও নিজের সংসারের জন্য ঢাল হয়ে থাকা নারী চরিত্র গুলো যেন আরেকবার প্রমান করে নারী মানেই দেবীর স্বরূপ যাদের মন যেমন মায়ায় ভরা,তেমনি সংসারে যাতাকলে তাদের কে মন শক্ত করে অনেক কঠিন কিছুও সামলিয়ে চলতে হয়।
উপন্যাসের শেষাংশ টুকু তে বিভূতিবাবু আমাদের কে আবার নিয়ে যান গ্রাম বাংলায়। তারমতন প্রকৃতির এত সুন্দর দৃশ্যায়ন আর কেউ করতে পারেনি, পারবেও না।মন কেমন যেন পালাই পালাই করে, ছুটে যেতে ইচ্ছে করে বেত্রবতী নামের সেই মধুর স্বপ্নভরা নদীর ধারে।বাবলা ভুল ভর্তি বনঝোপের এক সুন্দর বিকাল যেন আমাদের সকলের আরাধ্য।
"অপরাজিত" নিয়ে লিখতে গেলে উপন্যাসের নারী চরিত্রগুলো নিয়ে বলতেই হয়। সর্বজয়া থেকে শুরু করে রানুদি সবাই যেন স্বমহিমায় দীপ্যমাম।অপর্ণা আর অপুর রসায়ন টা এত দারুণ। তারা নিজের অজান্তেই সময়ের সাথে একে অপরকে আবিষ্কার করে। কোনো প্রেমময় উক্তি ছাড়াও অপুর আর অপর্নার একে অপরের প্রতি যে ভালোবাসার দৃশ্য বিভূতিবাবু এঁকেছেন এমন আর কোথাও পড়েছি বলে মনে পরছে না।কী এক অদ্ভুত মায়ার বন্ধন।অপুর জীবনের আসা প্রতিটা নারীর সাথেই অপুর কেমন জানি এক মায়ার টান, প্রতিটা নারী যেন অপুকে সাহায্য করেছে নিজেকে অন্য ভাবে আবিষ্কার করতে হোক সে কলিকাতার জ্যাঠাইমা কিংবা হোক সে পাড়াত কোনো বৌ ঠাকুরন। অভাব,দারিদ্র্য, মানসিক অশান্তি সবকিছুর মধ্যেও নিজের সংসারের জন্য ঢাল হয়ে থাকা নারী চরিত্র গুলো যেন আরেকবার প্রমান করে নারী মানেই দেবীর স্বরূপ যাদের মন যেমন মায়ায় ভরা,তেমনি সংসারে যাতাকলে তাদের কে মন শক্ত করে অনেক কঠিন কিছুও সামলিয়ে চলতে হয়।
উপন্যাসের শেষাংশ টুকু তে বিভূতিবাবু আমাদের কে আবার নিয়ে যান গ্রাম বাংলায়। তারমতন প্রকৃতির এত সুন্দর দৃশ্যায়ন আর কেউ করতে পারেনি, পারবেও না।মন কেমন যেন পালাই পালাই করে, ছুটে যেতে ইচ্ছে করে বেত্রবতী নামের সেই মধুর স্বপ্নভরা নদীর ধারে।বাবলা ভুল ভর্তি বনঝোপের এক সুন্দর বিকাল যেন আমাদের সকলের আরাধ্য।
February 24, 2022
পথের পাঁচালী থেকে যাত্রা শুরু হয়েছিলো অপুর। কিন্তু সেটাতে আরো অনেক প্বার্শচরিত্র মূল চরিত্রের প্রাধান্য পেয়েছিলো। এটাতে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে শুধু অপুকে।
অপু যে অতি দরিদ্র ঘরের ছেলে। দুনিয়া দেখার চোখটা তার সবার থেকে আলাদা। বৈষয়িক বিষয়গুলো সে বোঝে না, পছন্দও করে না। দুই চোখে অনেক স্বপ্ন পড়ালেখা শিখবে, দেশ বিদেশ ঘুরবে। বই পড়তে পছন্দ করে সে।
অনেক আশা নিয়ে কলকাতায় এসেছিলো সে। তার জীবনযুদ্ধের গল্প শুরু হয় কলকাতা থেকেই। কোনোদিন একবেলা কোনোদিন আধবেলা কোনোদিন একেবারেই না খেয়ে, অর্থের চিন্তায় পাগলপারা,অপমান অসম্মান কতকিছু অর্থাভাবে দরিদ্র স্বপ্নদর্শী এই ছেলেটা সহ্য করেছে!
উপন্যাসের নায়ক বলেই তাকে একদম পারফেক্ট দেখানো হয়েছে তা কিন্তু না। অপু একটু নির্বোধ,একটু বড়াই করা স্বভাব তার। যেটা সে একেবারেই দেখায় না সেটা হচ্ছে তার অভাব। না খেয়ে সারাদিন কাটালেও সে কারো কাছে দারিদ্র্যের কথা মুখ ফুটে বলতে পারে না, বরং মিথ্যা বড়াই করে বাপ-দাদার জমিদারির। এমনই অদ্ভুত ছেলে অপু।
অপু জীবনে কখনো সুখ পায়নি,যখন যেখানে থেকেছে তখনই সেখানে কষ্ট পেয়েছে। তারপরেও জীবনের শেষদিকে এসে তার মনে হয়েছে "জীবন সার্থক,সবই তো পেলাম!" এই যে পথ চলা, দারিদ্র্যের সাথে লড়াই,এই যে সর্বদা নতুন কিছু করবার আকাঙ্ক্ষা এগুলো যথেষ্ট ভোগায়,তা সত্ত্বেও এগুলোই তো মানুষকে পরবর্তী পথটা দেখায়! এগুলোর দরকার আছে। ঠিক সে কারণেই অপু চেয়েছিলো তার ছেলে কাজলও লড়াই করে বাঁচতে শিখুক।
অপুর জীবনে তার বন্ধু লীলার গুরুত্ব অনেক। লীলা একমাত্র মেয়ে যে অপুকে দরিদ্র বলে দূরে ঠেলে দেয়নি,সে সবসময় অপুকে বুঝবার চেষ্টা করেছে,মায়া করেছে, ভালোবেসেছে। তা সত্ত্বেও কখনোই এটা ভাবা যায় না অপুর জীবনে তার অর্ধাঙ্গিনী হয়ে অপর্ণা ছাড়া আর কেউ আসতে পারে। অপুর সাথে সাথে অপর্ণাও শ্বাশত,আর অপর্ণাকে ছাড়া কাজলই বা কি করে আসতো?
এই উপন্যাসের কিছু কিছু জায়গা মনস্তাত্ত্বিক। সেটা বুঝতে হলে আপনাকে অপুর মতোই দুঃখী হতে হবে,তবেই অপুর কষ্টগুলো আপনাকে ছুঁতে পারবে।
কিছু কিছু কথা এত ভালো লেগেছে যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। অপু যখন আফসোস করে বলেছে, ঐ যে সমুদ্রে যে নাবিকটা চাকরি নিয়ে যাচ্ছে ওর দেখার আকাঙ্ক্ষা হয়তো অপুর মতো না। হয়তো কোথাও তার দেশের বন্য ফুল ফুটে আছে সে চেয়েও দেখে না,আকাশের রং পরিবর্তন তার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে না,দক্ষিণা বাতাস তারজন্য কোন নতুনত্ব বয়ে আনে না। তা সত্ত্বেও ওই দেশ বিদেশ ঘুরবে,অপু যে সব কিছু দেখে ফেলতে চায়, তুচ্ছাতিতুচ্ছ জিনিসও যাকে মুগ্ধ করে সে কেন দেখতে পারে না?
অপু দুঃখী। তার জীবনে যত মানুষের সংস্পর্শ তাকে আনন্দ দিয়েছে একে একে সবাই গেছে। আজ তাদের কেউ বেঁচে নেই। অপু একা,অপু সঙ্গীহীন। অপু সর্বদা জীবনের সাথে লড়াই চালিয়ে যায় বেঁচে থাকার জন্য,অর্থ উপার্জন করে দূরে কোথাও যাবার জন্য,প্রানভরে পৃথিবীটাকে দেখার জন্য। যদিও ক্ষণিকের জন্য কাজল তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলেছিলো। কাজলের মধ্যে অপু নিজেকে খুঁজে পায়। তার ছেলেবেলার মূর্তিমান রুপ যেন কাজল।
যদিও গল্পটা কাজলের না। গল্পটা অপুর। বাংলা সাহিত্যে আমার সবচেয়ে প্রিয় নায়ক চরিত্র অপু। শুদ্ধতা ও পবিত্র মনের প্রতীক অপু। একদম স্বপ্নের মতো অপু। ছন্নছাড়া,বোকা,জীবন পথের পথিক এই ছেলেটা যে কি মুগ্ধও করতে পারে! তার কষ্টগুলো এতও কাঁদাতে পারে!
অপরাজিত পড়বার সময় প্রতি লাইনে মশগুল ছিলাম। একবারে না দুইবার পড়ার পর মনে হয়েছে উপন্যাসটার অন্তর্নিহিত অর্থ কিছুটা ধরতে পেরেছি। এটা এমন একটা উপন্যাস যে আপনি যতবারই পড়েন নতুন কিছু পাবেন,যা আগেরবার ধরতে পারেননি বা অভিজ্ঞতা না থাকার দরুন হৃদয় দিয়ে অনুভব করতে পারেননি। বাংলা সাহিত্যে আগাগোড়া লাইনে লাইনে খাপে খাপ পারফেক্ট উপন্যাস বলে যদি কিছু থেকে থাকে,আমার কাছে সেটা অপরাজিত।
অপুর মতো দুর্গারও যদি একটা গল্প থাকতো! বিভূতিভূষণের হাতে দুর্গার জীবনও যদি পরিণতি পেতো! আহা দুর্গা! আহা!
অপু যে অতি দরিদ্র ঘরের ছেলে। দুনিয়া দেখার চোখটা তার সবার থেকে আলাদা। বৈষয়িক বিষয়গুলো সে বোঝে না, পছন্দও করে না। দুই চোখে অনেক স্বপ্ন পড়ালেখা শিখবে, দেশ বিদেশ ঘুরবে। বই পড়তে পছন্দ করে সে।
অনেক আশা নিয়ে কলকাতায় এসেছিলো সে। তার জীবনযুদ্ধের গল্প শুরু হয় কলকাতা থেকেই। কোনোদিন একবেলা কোনোদিন আধবেলা কোনোদিন একেবারেই না খেয়ে, অর্থের চিন্তায় পাগলপারা,অপমান অসম্মান কতকিছু অর্থাভাবে দরিদ্র স্বপ্নদর্শী এই ছেলেটা সহ্য করেছে!
উপন্যাসের নায়ক বলেই তাকে একদম পারফেক্ট দেখানো হয়েছে তা কিন্তু না। অপু একটু নির্বোধ,একটু বড়াই করা স্বভাব তার। যেটা সে একেবারেই দেখায় না সেটা হচ্ছে তার অভাব। না খেয়ে সারাদিন কাটালেও সে কারো কাছে দারিদ্র্যের কথা মুখ ফুটে বলতে পারে না, বরং মিথ্যা বড়াই করে বাপ-দাদার জমিদারির। এমনই অদ্ভুত ছেলে অপু।
অপু জীবনে কখনো সুখ পায়নি,যখন যেখানে থেকেছে তখনই সেখানে কষ্ট পেয়েছে। তারপরেও জীবনের শেষদিকে এসে তার মনে হয়েছে "জীবন সার্থক,সবই তো পেলাম!" এই যে পথ চলা, দারিদ্র্যের সাথে লড়াই,এই যে সর্বদা নতুন কিছু করবার আকাঙ্ক্ষা এগুলো যথেষ্ট ভোগায়,তা সত্ত্বেও এগুলোই তো মানুষকে পরবর্তী পথটা দেখায়! এগুলোর দরকার আছে। ঠিক সে কারণেই অপু চেয়েছিলো তার ছেলে কাজলও লড়াই করে বাঁচতে শিখুক।
অপুর জীবনে তার বন্ধু লীলার গুরুত্ব অনেক। লীলা একমাত্র মেয়ে যে অপুকে দরিদ্র বলে দূরে ঠেলে দেয়নি,সে সবসময় অপুকে বুঝবার চেষ্টা করেছে,মায়া করেছে, ভালোবেসেছে। তা সত্ত্বেও কখনোই এটা ভাবা যায় না অপুর জীবনে তার অর্ধাঙ্গিনী হয়ে অপর্ণা ছাড়া আর কেউ আসতে পারে। অপুর সাথে সাথে অপর্ণাও শ্বাশত,আর অপর্ণাকে ছাড়া কাজলই বা কি করে আসতো?
এই উপন্যাসের কিছু কিছু জায়গা মনস্তাত্ত্বিক। সেটা বুঝতে হলে আপনাকে অপুর মতোই দুঃখী হতে হবে,তবেই অপুর কষ্টগুলো আপনাকে ছুঁতে পারবে।
কিছু কিছু কথা এত ভালো লেগেছে যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। অপু যখন আফসোস করে বলেছে, ঐ যে সমুদ্রে যে নাবিকটা চাকরি নিয়ে যাচ্ছে ওর দেখার আকাঙ্ক্ষা হয়তো অপুর মতো না। হয়তো কোথাও তার দেশের বন্য ফুল ফুটে আছে সে চেয়েও দেখে না,আকাশের রং পরিবর্তন তার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে না,দক্ষিণা বাতাস তারজন্য কোন নতুনত্ব বয়ে আনে না। তা সত্ত্বেও ওই দেশ বিদেশ ঘুরবে,অপু যে সব কিছু দেখে ফেলতে চায়, তুচ্ছাতিতুচ্ছ জিনিসও যাকে মুগ্ধ করে সে কেন দেখতে পারে না?
অপু দুঃখী। তার জীবনে যত মানুষের সংস্পর্শ তাকে আনন্দ দিয়েছে একে একে সবাই গেছে। আজ তাদের কেউ বেঁচে নেই। অপু একা,অপু সঙ্গীহীন। অপু সর্বদা জীবনের সাথে লড়াই চালিয়ে যায় বেঁচে থাকার জন্য,অর্থ উপার্জন করে দূরে কোথাও যাবার জন্য,প্রানভরে পৃথিবীটাকে দেখার জন্য। যদিও ক্ষণিকের জন্য কাজল তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলেছিলো। কাজলের মধ্যে অপু নিজেকে খুঁজে পায়। তার ছেলেবেলার মূর্তিমান রুপ যেন কাজল।
যদিও গল্পটা কাজলের না। গল্পটা অপুর। বাংলা সাহিত্যে আমার সবচেয়ে প্রিয় নায়ক চরিত্র অপু। শুদ্ধতা ও পবিত্র মনের প্রতীক অপু। একদম স্বপ্নের মতো অপু। ছন্নছাড়া,বোকা,জীবন পথের পথিক এই ছেলেটা যে কি মুগ্ধও করতে পারে! তার কষ্টগুলো এতও কাঁদাতে পারে!
অপরাজিত পড়বার সময় প্রতি লাইনে মশগুল ছিলাম। একবারে না দুইবার পড়ার পর মনে হয়েছে উপন্যাসটার অন্তর্নিহিত অর্থ কিছুটা ধরতে পেরেছি। এটা এমন একটা উপন্যাস যে আপনি যতবারই পড়েন নতুন কিছু পাবেন,যা আগেরবার ধরতে পারেননি বা অভিজ্ঞতা না থাকার দরুন হৃদয় দিয়ে অনুভব করতে পারেননি। বাংলা সাহিত্যে আগাগোড়া লাইনে লাইনে খাপে খাপ পারফেক্ট উপন্যাস বলে যদি কিছু থেকে থাকে,আমার কাছে সেটা অপরাজিত।
অপুর মতো দুর্গারও যদি একটা গল্প থাকতো! বিভূতিভূষণের হাতে দুর্গার জীবনও যদি পরিণতি পেতো! আহা দুর্গা! আহা!
October 3, 2024
'পথের পাঁচালি' পূর্বে দু'বার পড়া হলেও 'অপরাজিত' পড়া হয়ে উঠছিল না। বই কিনেছি অনেকদিন, তবুও পড়া হয়নি, কারণ অপুকে নিয়ে বানানো সত্যজিতের সিনেমাগুলো দেখে ফেলেছিলাম। সিনেমা দেখে ফেলার জন্য পড়ার প্রতি আগ্রহ কিছুটা কমে গিয়েছিল। এবার ভাবলাম পড়ে ফেলা যাক। পড়ার পরে বুঝতে পারলাম সিনেমার সাথে উপন্যাসের বিস্তর ফারাক।
সিনেমায় সত্যজিৎ রায় অপু রায়ের জীবনের আংশিক অংশকে তুলে ধরেছেন, সম্পূর্ণটা তুলতে গেলে অপরাজিত নিয়েই আরও অন্তত একটা সিনেমা তৈরি করতে হতো। গল্পের সবটাই সিনেমায় দেখাতে হবে এমন কোন নিয়ম নেই, সবটা কেউ দেখায়ও না, দেখানো সম্ভবও না। তবে সত্যজিৎ রায় গল্পটাকে সিনেমাকারে উপস্থাপনের খাতিরে অনেক জায়গায় কিছুটা নিজের মতো করে গড়ে নিয়েছেন, তাতে গল্পের একটা সাধারণ দৃশ্যও সিনেমায় গিয়ে উপস্থাপিত হয়েছে সিনেমাটিকভাবে, গল্পে নাটকীয়তা না থাকলেও সিনেমায় মেদহীন নাটকীয়তা লক্ষ করা যায়। গল্প পালটে গেলেও মূল বিষয়টা কিন্তু পালটে যায়নি, ফলে ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হলেও সিনেমাটা কিন্তু মূল গল্পের মতোই অসাধারণ- তাতে কোন সন্দেহ নেই।
এবার আসি অপরাজিতর কথায়- অপরাজিত পড়লেই বোঝা যাবে বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় একদম মনের সব আশা মিটিয়ে উপন্যাসটি লিখেছেন। নিজেও কোন অপূর্ণতা রাখেননি, পাঠকের মনের আকাঙ্ক্ষাও মিটিয়ে দিয়েছেন। ফলে পরে কী হলো এমন জানার ইচ্ছা পাঠকের মনে আর অবশিষ্ট থাকে না। উনার লেখার একজন ভক্ত বলে এত বিস্তারিত সত্ত্বেও সবই যথেষ্ট উপভোগ করেছি। কেন বিস্তারিত লিখেছেন তাও যেন কিছুটা আন্দাজ করতে পারা যায়। বিভূতিভূষনের নিজের জীবনের অনেক কিছুই তিনি অপরাজিততে প্রকাশ করেছেন বলেই আমি মনে করি। অপুর জীবনের সাথে যে বিভূতিবাবুর জীবনের কিছু মিল আছে তাতে সন্দেহ নেই। অপর্ণার মৃত্যু, অপুর সন্ন্যাসীর ন্যায় ঘুরে বেড়ানো-বিভূতির জীবনের সাথে যা অনেকাংশে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই অপরাজিত পড়লে মনে হয় যেন বিভূতিভূষণের নিজের গল্প পড়ছি৷
মাঝে মাঝে সময়ের হিসেবটা একটু এলোমেলো লেগেছে। এছাড়া প্রকৃতির অতি বর্ণনাকে অনেক জায়গায় বাহুল্য মনে হয়েছে। প্রকৃতির বর্ণনার পরিমাণ কিঞ্চিৎ মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে বলেই মনে হয়েছে। অবশ্য সে দৈন্যতাও আমার নিজের। যাঁরা অনেক ঘুরেছেন, অনেক জানেন বা দেখেছেন তাঁদের কাছে এ বর্ণনা খারাপ লাগবে না।
অপরাজিততে বাড়তি পাওনা হিসেবে নিশ্চিন্দিপুরের পুরাতন মানুষদের সাথে অপুর সাক্ষাত ও নিশ্চিন্দিপুরে অপুর প্রত্যাবর্তন-অপুর সাথে সাথে আমাদেরও নষ্টালজিক করে তোলে। ফলে অপুর জীবনে আসা মানুষদের এত-এত মৃত্যুর মিছিল পেরিয়েও গল্পের পরিণতি মনের বিষাদে কিছুটা সুখের প্রলেপ দিয়ে যায়।
আমার কাছে বরাবরই মনে হয় বিভূতুভূষণের মতো এমন নাটকীয়তামুক্ত, ঝরঝরেভাবে এবং মানবমনের অলিগলি চিনে লিখতে পারার ক্ষমতা খুব কম মানুষেরই আছে। উনার যে গোটা'ছয়েক বই পড়েছি, তার কোনটাই আমাকে হতাশা করেনি। তাই উনার লেখনীতে অপুর দুঃখে ভরা জীবন, তবুও তা যেন কত অপূর্ব!!!
সিনেমায় সত্যজিৎ রায় অপু রায়ের জীবনের আংশিক অংশকে তুলে ধরেছেন, সম্পূর্ণটা তুলতে গেলে অপরাজিত নিয়েই আরও অন্তত একটা সিনেমা তৈরি করতে হতো। গল্পের সবটাই সিনেমায় দেখাতে হবে এমন কোন নিয়ম নেই, সবটা কেউ দেখায়ও না, দেখানো সম্ভবও না। তবে সত্যজিৎ রায় গল্পটাকে সিনেমাকারে উপস্থাপনের খাতিরে অনেক জায়গায় কিছুটা নিজের মতো করে গড়ে নিয়েছেন, তাতে গল্পের একটা সাধারণ দৃশ্যও সিনেমায় গিয়ে উপস্থাপিত হয়েছে সিনেমাটিকভাবে, গল্পে নাটকীয়তা না থাকলেও সিনেমায় মেদহীন নাটকীয়তা লক্ষ করা যায়। গল্প পালটে গেলেও মূল বিষয়টা কিন্তু পালটে যায়নি, ফলে ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হলেও সিনেমাটা কিন্তু মূল গল্পের মতোই অসাধারণ- তাতে কোন সন্দেহ নেই।
এবার আসি অপরাজিতর কথায়- অপরাজিত পড়লেই বোঝা যাবে বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় একদম মনের সব আশা মিটিয়ে উপন্যাসটি লিখেছেন। নিজেও কোন অপূর্ণতা রাখেননি, পাঠকের মনের আকাঙ্ক্ষাও মিটিয়ে দিয়েছেন। ফলে পরে কী হলো এমন জানার ইচ্ছা পাঠকের মনে আর অবশিষ্ট থাকে না। উনার লেখার একজন ভক্ত বলে এত বিস্তারিত সত্ত্বেও সবই যথেষ্ট উপভোগ করেছি। কেন বিস্তারিত লিখেছেন তাও যেন কিছুটা আন্দাজ করতে পারা যায়। বিভূতিভূষনের নিজের জীবনের অনেক কিছুই তিনি অপরাজিততে প্রকাশ করেছেন বলেই আমি মনে করি। অপুর জীবনের সাথে যে বিভূতিবাবুর জীবনের কিছু মিল আছে তাতে সন্দেহ নেই। অপর্ণার মৃত্যু, অপুর সন্ন্যাসীর ন্যায় ঘুরে বেড়ানো-বিভূতির জীবনের সাথে যা অনেকাংশে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই অপরাজিত পড়লে মনে হয় যেন বিভূতিভূষণের নিজের গল্প পড়ছি৷
মাঝে মাঝে সময়ের হিসেবটা একটু এলোমেলো লেগেছে। এছাড়া প্রকৃতির অতি বর্ণনাকে অনেক জায়গায় বাহুল্য মনে হয়েছে। প্রকৃতির বর্ণনার পরিমাণ কিঞ্চিৎ মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে বলেই মনে হয়েছে। অবশ্য সে দৈন্যতাও আমার নিজের। যাঁরা অনেক ঘুরেছেন, অনেক জানেন বা দেখেছেন তাঁদের কাছে এ বর্ণনা খারাপ লাগবে না।
অপরাজিততে বাড়তি পাওনা হিসেবে নিশ্চিন্দিপুরের পুরাতন মানুষদের সাথে অপুর সাক্ষাত ও নিশ্চিন্দিপুরে অপুর প্রত্যাবর্তন-অপুর সাথে সাথে আমাদেরও নষ্টালজিক করে তোলে। ফলে অপুর জীবনে আসা মানুষদের এত-এত মৃত্যুর মিছিল পেরিয়েও গল্পের পরিণতি মনের বিষাদে কিছুটা সুখের প্রলেপ দিয়ে যায়।
আমার কাছে বরাবরই মনে হয় বিভূতুভূষণের মতো এমন নাটকীয়তামুক্ত, ঝরঝরেভাবে এবং মানবমনের অলিগলি চিনে লিখতে পারার ক্ষমতা খুব কম মানুষেরই আছে। উনার যে গোটা'ছয়েক বই পড়েছি, তার কোনটাই আমাকে হতাশা করেনি। তাই উনার লেখনীতে অপুর দুঃখে ভরা জীবন, তবুও তা যেন কত অপূর্ব!!!
May 29, 2021
সেই 'পথের পাঁচালী'র পর থেকেই আমার সবচে' প্রিয় লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।এমন না যে বিভূতিভূষণের গল্প বলার ধরণ খুব গতিময় বা গল্পটাও খুব অনন্য।কিন্তু কোথাও যেন বিভূতিভূষণ অন্য সবার চেয়ে আলাদা,অনন্য।তার লেখার প্রতি ছত্রে ছত্রে যেন মাটির সোঁদা গন্ধ ঠিকরে বেরোয়,একটা মায়াময় আবহ,অকৃত্রিমতা - যা আর কেউ তৈরি করতে পারেননি,কখনো আর কেউ পারবেন বলে মনেও হয় না।
'পথের পাঁচালী' আমার মনে একটা ছাপ রেখে গিয়েছিলো।তীব্র দুঃখ-কষ্টের মধ্যেও ছোটখাটো আনন্দ যে কতোটুকু প্রার্থনীয় হতে পারে আমাকে তা বুঝতে শিখিয়েছিলো 'পথের পাঁচালী'।খুব ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তখনই 'অপরাজিত' শুরু করতে পারিনি।'পথের পাঁচালী'র অনুভূতি নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার পর শুরু করলাম 'অপরাজিত'।আবার ফিরে এলো সেই মন কেমন করা সময়,তীব্র দুঃখবোধ,খানিক আনন্দ এই বুঝি এবার আমাদের অপুর জীবনে ভালো কিছু হবে...এবং দিনশেষে অনিঃশেষ নিঃসঙ্গতা...
বিভূতিভূষণ অপুকে চিরাচরিত নায়কের মতো গড়ে তুলেননি।তারও অনেক দোষ-ত্রুটি রয়েছে আমাদেরই মতোন।সে নিজেকে জাহির করতে পছন্দ করে,মিথ্যা গর্ব করে বেড়ায়।ইচ্ছা করলেও সে লীলাকে অপর্ণার কথা,কাজলের কথা বলতে পারে না কিংবা চায় না।স্ত্রীর গহনা বিক্রি করে সে বই ছাপায়...তবুও অপুর রয়েছে একটা সবুজ,স্নিগ্ধ মন,যা তৈরি হয়েছিলো সেই নিশ্চিন্দিপুরে।বারবার এই বইয়ে ফিরে এসেছে সেই নিশ্চিন্দিপুর,সেই দুর্গা,সেই বাল্যবন্ধুরা।সময়ের ফেরে আজ নিশ্চিন্দিপুর ঠিকই আছে কিন্তু নেই সেই দুর্গা,নেই সেই বাল্যবন্ধুর দল আর নেই সেই বয়স,সেই শৈশব...
অপুকে নিয়ে,বিভূতিভূষণকে নিয়ে চাইলে পাতার পর পাতা লিখে যাওয়া যায়।কিন্তু মনের সব অনুভূতিকে প্রকাশ করে শব্দের কি সেই সাধ্য আছে?'পথের পাঁচালী','অপরাজিত'র আবেদন এবং টান একেকজনের একেকরকম,একটা জীবনাদর্শ যেন নিজের মাটিকে অনুভব করা...জীবনকে নতুন রূপে দেখার চোখ খুলে যাওয়া...
একটা প্রশ্ন মাথায় বারবার আসছিলো 'অপরাজিত' পড়ার সময় থেকেই - বিভূতিভূষণ 'অপরাজিত' কিংবা 'পথের পাঁচালী' লিখেছেন প্রকৃতিকে অনুভব করে।বর্তমানকালের বিষাক্ত আবহাওয়ার যুগে,দূষণের যুগে,জনঅরণ্যে তিনি কি পারতেন এভাবে লিখতে?নাকি শহরের মানুষের মতো তার মনও একটা ক্ষুদ্র গন্ডিতে আটকে যেতো চিরতরে?
'পথের পাঁচালী' আমার মনে একটা ছাপ রেখে গিয়েছিলো।তীব্র দুঃখ-কষ্টের মধ্যেও ছোটখাটো আনন্দ যে কতোটুকু প্রার্থনীয় হতে পারে আমাকে তা বুঝতে শিখিয়েছিলো 'পথের পাঁচালী'।খুব ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তখনই 'অপরাজিত' শুরু করতে পারিনি।'পথের পাঁচালী'র অনুভূতি নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার পর শুরু করলাম 'অপরাজিত'।আবার ফিরে এলো সেই মন কেমন করা সময়,তীব্র দুঃখবোধ,খানিক আনন্দ এই বুঝি এবার আমাদের অপুর জীবনে ভালো কিছু হবে...এবং দিনশেষে অনিঃশেষ নিঃসঙ্গতা...
বিভূতিভূষণ অপুকে চিরাচরিত নায়কের মতো গড়ে তুলেননি।তারও অনেক দোষ-ত্রুটি রয়েছে আমাদেরই মতোন।সে নিজেকে জাহির করতে পছন্দ করে,মিথ্যা গর্ব করে বেড়ায়।ইচ্ছা করলেও সে লীলাকে অপর্ণার কথা,কাজলের কথা বলতে পারে না কিংবা চায় না।স্ত্রীর গহনা বিক্রি করে সে বই ছাপায়...তবুও অপুর রয়েছে একটা সবুজ,স্নিগ্ধ মন,যা তৈরি হয়েছিলো সেই নিশ্চিন্দিপুরে।বারবার এই বইয়ে ফিরে এসেছে সেই নিশ্চিন্দিপুর,সেই দুর্গা,সেই বাল্যবন্ধুরা।সময়ের ফেরে আজ নিশ্চিন্দিপুর ঠিকই আছে কিন্তু নেই সেই দুর্গা,নেই সেই বাল্যবন্ধুর দল আর নেই সেই বয়স,সেই শৈশব...
অপুকে নিয়ে,বিভূতিভূষণকে নিয়ে চাইলে পাতার পর পাতা লিখে যাওয়া যায়।কিন্তু মনের সব অনুভূতিকে প্রকাশ করে শব্দের কি সেই সাধ্য আছে?'পথের পাঁচালী','অপরাজিত'র আবেদন এবং টান একেকজনের একেকরকম,একটা জীবনাদর্শ যেন নিজের মাটিকে অনুভব করা...জীবনকে নতুন রূপে দেখার চোখ খুলে যাওয়া...
একটা প্রশ্ন মাথায় বারবার আসছিলো 'অপরাজিত' পড়ার সময় থেকেই - বিভূতিভূষণ 'অপরাজিত' কিংবা 'পথের পাঁচালী' লিখেছেন প্রকৃতিকে অনুভব করে।বর্তমানকালের বিষাক্ত আবহাওয়ার যুগে,দূষণের যুগে,জনঅরণ্যে তিনি কি পারতেন এভাবে লিখতে?নাকি শহরের মানুষের মতো তার মনও একটা ক্ষুদ্র গন্ডিতে আটকে যেতো চিরতরে?
February 7, 2024
*৫ এ ১০
যতই বলি না কেন প্রশংসার ঘাটতি থেকে যাবে। এতো সুন্দরভাবে একজন মানুষের জন্ম থেকে তার জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনা গুলো কেউ তুলে ধরতে পারে! পুরো বইজুরে যেন দারিদ্র নামক অভিশাপকে লেখক ভালো ভাবে তুলে ধরেছেন। পুরো বইজুরে লেখক দেখানোর চেষ্টা করেছেন, নিজের শিকড় ছেড়ে অন্য কোথাও থাকতে গেলে সেই শিকড় বার বার মনে করিয়ে দেয় তার অস্তিত্ব। শেষের দিকে লেখক খুব ভালোভাবে এই আধুনিক যুগের মানুষের লক্ষ্যকে প্রশ্নের মধ্যে ফেলেছেন। এইযে আমরা টাকা আর ফেমের পিছে ছুটছি, এইগুলা কি আসল সুখের কারন?
যতই বলি না কেন প্রশংসার ঘাটতি থেকে যাবে। এতো সুন্দরভাবে একজন মানুষের জন্ম থেকে তার জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনা গুলো কেউ তুলে ধরতে পারে! পুরো বইজুরে যেন দারিদ্র নামক অভিশাপকে লেখক ভালো ভাবে তুলে ধরেছেন। পুরো বইজুরে লেখক দেখানোর চেষ্টা করেছেন, নিজের শিকড় ছেড়ে অন্য কোথাও থাকতে গেলে সেই শিকড় বার বার মনে করিয়ে দেয় তার অস্তিত্ব। শেষের দিকে লেখক খুব ভালোভাবে এই আধুনিক যুগের মানুষের লক্ষ্যকে প্রশ্নের মধ্যে ফেলেছেন। এইযে আমরা টাকা আর ফেমের পিছে ছুটছি, এইগুলা কি আসল সুখের কারন?
May 18, 2026
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পথের পাঁচালি' উপন্যাসখানার কাহিনী শেষ হয়েছে যেখানে 'অপরাজিত' উপন্যাসের কাহিনী শুরু ঠিক সেখান থেকেই।
কৈশোরে উপনীত অপুর জীবনের সংগ্রাম, ছাত্রজীবন, বৈবাহিক জীবন এবং দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াইয়ের মাধ্যমে তার আত্ম উপলব্ধিকে তুলে ধরা হয়েছে।
এক গল্পের মাধ্যমে জীবনের নানা বাঁক লেখক ফুটিয়ে তুলেছেন অপু চরিত্রটি চিত্রায়িত করে। মানবিকতার স্বরূপকে যে জীবনের গভীর দর্শনের মাধ্যমে এভাবে উপস্থাপন করা যায় তা বোধ হয় বিভূতিভূষণের কলম চালনার কল্যানেই যথাযথ ভাবে সম্ভব হয়েছে।
এক নজরে:
বইয়ের নাম: অপরাজিত
লেখক: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রথম প্রকাশ: ১৯৩২
কৈশোরে উপনীত অপুর জীবনের সংগ্রাম, ছাত্রজীবন, বৈবাহিক জীবন এবং দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াইয়ের মাধ্যমে তার আত্ম উপলব্ধিকে তুলে ধরা হয়েছে।
এক গল্পের মাধ্যমে জীবনের নানা বাঁক লেখক ফুটিয়ে তুলেছেন অপু চরিত্রটি চিত্রায়িত করে। মানবিকতার স্বরূপকে যে জীবনের গভীর দর্শনের মাধ্যমে এভাবে উপস্থাপন করা যায় তা বোধ হয় বিভূতিভূষণের কলম চালনার কল্যানেই যথাযথ ভাবে সম্ভব হয়েছে।
এক নজরে:
বইয়ের নাম: অপরাজিত
লেখক: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রথম প্রকাশ: ১৯৩২
September 17, 2019
In each of us a child has lived and a child has died - a child of promise, who never grew up.
পাঁচালীর নায়ক বালক অপুর বেড়ে উঠা, তাঁর স্মৃতিকাতরতা, তাঁর জীবন যুদ্ধে অবিরাম লড়ে যাওয়া, অপরাজিত-অদমনীয় জীবনস্পৃহা, চরম একাকীত্ব-দারিদ্র্যের মাঝেও জীবনের মানে খুঁজে পাওয়া আর সবকিছুর উপরে বিভূতির প্রকৃতিপ্রেমের অনন্য স্বাক্ষর - এই হলো অপরাজিত।
পথের পাঁচালী ছাপাতে যে লেখককে প্রকাশকের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়েছে, শেষে কিছু বন্ধুর সাহায্যে সে বইয়ের আত্মপ্রকাশ। অপরাজিত ছাপাতে তিনি পত্রিকা থেকে অনুরোধ পেয়েছেন। গুণমুগ্ধ পাঠকদের চিঠি পেয়ে হয়েছেন উদ্বেলিত। দিকে দিকে সেসবের কথা বলতেন গর্বভরে। এ পর্যন্ত পাঠে যদি হালকা কিছু অপূর্ব রায়ের গন্ধ পাওয়া গিয়ে থাকে, তবেই প্রমাণিত হয় বিভূতি ব্যানার্জির ছায়াই হচ্ছে অপু। ইছামতির পাড়ের অপূর্বকুমার রায়।
স্বভাবতই পাঁচালী পড়ার পর অপরাজিতের উপর আশা অনেক বেড়ে যায়। লেখকের অপরূপ মায়ায় গড়ে তোলা অপুর বড় হয়ে উঠা-তার জীবনের কথকতা কতটা মহান হয়ে উঠবে! বিভূতি মোটেও হতাশ করেননি। একইরকম যত্ন, একইরকম প্রকৃতির আবেশে তিলে তিলে কাহিনীর পাটোন্মোচন, দারিদ্র্যের রোমান্টিসিজম, সবকিছু ছাপিয়ে অপরাজিত জীবনের জয়গান - সব পুরোদমে উপস্থিত।
আর প্রকৃতির আবর্তন, জীবজগতের নিয়তচক্রের সাথে মানুষের যে গহীন সম্পর্ক উদ্ঘাটন, সাথে অনাদিকাল ধরে জীবনের পর্যায়ক্রমিক আবর্ত; পু্ত্রের স্থলে পিতা, পিতার স্থলে পুত্র - এসবের নিগূঢ় রহস্য উন্মোচন, তা বিভূতি করেছেন চিরচেনা ছোঁয়ায় আর অপরিসীম মায়ায়। এতো হাহাকার, এতো তৃষ্ণা, এতো দুঃখ, এতো ক্ষুধা, এতো রূপ, এতো মায়া-এসবের সুবিচার উপন্যাসে তো বিভূতি থেকেই পাই। যত দূরেই চলে যাক অপু-শত ইটপাথরের কাঠিন্যে, গহীন অরণ্যের বুকে, পাহাড়ি নদীর পাড়ে কোমল বনফুলের আবেশে, দর্শনীয় স্থানের মাঝে-সেখানেই অপুর হৃদয়ে থাকে সেই গ্রামের খোলা আকাশ, মাদকতাভরা মাটির গন্ধ, স্নিগ্ধ-কোমল বাতাসের ছোঁয়া। আজীবন ধরে শৈশবে ফিরে যাওয়ার আকুতি। মহৎ জীবনটাকে সে নতুন করে দেখতে শিখে, নশ্বর হয়েও অপারের মহিমা অনুধাবন করতে চায়। তাঁর দার্শনিক সত্ত্বা সকল আনন্দ-সকল সুখের মানে খুঁজে পায়। অর্থ-যশ থেকেও যে মহত্তর সার্থকতা জীবনে রয়েছে সেটার অনুধাবনই অপুর জীবনশিক্ষা।
"যে নিশ্চিন্দিপুর অপুকে বাল্যকালে কবি করেছিল, সেই গ্রামটিই বয়সকালে তাঁকে করল ভাবুক-দার্শনিক। দিল উচ্চতর জীবনের দিশা।"
এরই সাথে পাঠক অনুধাবন করে, কাজলের মাঝে ধীরে ধীরে কিভাবে পাঁচালীর ছোট্ট অপুর পুনরাবিষ্কার হয়। হরিহর রায়ের অনুভূতি অপু অনুভব করতে পারে। অপুর আরেকটি বিশেষ দিক হলঃ মা সর্বজয়ার প্রতি অপরিসীম দরদ। শহুরে শিক্ষিত হয়েও অপু ভুলতে পারে না মনসাপোতায় তাঁর দুখিনী মাকে। নিস্তরঙ্গ জীবনের একঘেয়েমি থেকে মুক্তি পেতে সে জননীর শরণাপন্ন হয়, অসীম বিস্ময়ে নারীজাতির এ অনন্য রূপ সে ধীরে ধীরে অনুভব করে। কলেজের কষ্টের মাঝেও সুচিন্তিত পদক্ষেপ না নিতে পারার দুর্ভাবনা থাকলেও সে মাকে হতাশ করে না। নিশ্চিন্দিপুরে আমবাগান সে মায়ের স্বপ্নপূরণের জন্য কিনে ফেলে। মাতৃবিয়োগে উন্মাদপ্রায় দশায় পৌঁছলেও দর্শনযাত্রার প্রথম পদক্ষেপ সেখান থেকেই। নারীর স্নেহময়ীর সন্ধান এখানেই পায় অপু।
না জেনে ভবিতব্য অর্ধাঙ্গিনীকে প্রথম দেখে অপুর মানসিক অবস্থার বর্ণনা বোধ করি কালিদাস, ভারতচন্দ্র, রবীন্দ্রের পর বাংলা সাহিত্যে নারীসৌন্দর্য বর্ণনায় অন্যতম প্রণিধানযোগ্যঃ
"Do they breed goddesses at Slocum Magna?"
অপু স্ত্রীর মাধ্যমে আবিষ্কার করে নারীপ্রেমের সর্বংসহা রূপ। অভিভূত হয়, আপ্লুত হয়। হয় প্লাবিত। ক্ষণস্থায়ী হলেও এই ঐশ্বরিক প্রেমের মধ্য দিয়ে সে জীবনের আরো বড় সত্য খুঁজে পায়। সেটা হল আবেগের মূল্য। খুব ছোট ছোট খুনসুটি, ছোট কিছু আক্ষেপ, ছোট কিছু মুহুর্ত তাঁকে আজীবন তাড়া করে ফেরে। আর ছোটবেলার লীলা তাঁর জীবনে আসে রহস্যময় প্রেমের পতাকা হিসেবে। সে এই সম্পর্ককে কোনভাবেই সংজ্ঞায়িত করতে পারে না। কিন্তু এর গভীরতা অনুভূত হয় প্রতি পদক্ষেপে। দূরে থেকেও কাছে থাকা, একটি দুটি শব্দে নৈকট্যের ছোঁয়া লাভ করা-এ আবেশ সাধারণ প্রেমের পরিচায়ক নয়। দূরত্ব-বিরহের মাঝে অপু নারীর মাঝে মায়াবতীর খোঁজ পায়।
শেষকালে রানুদির মাধ্যমে সে ফিরে পায় ভগ্নীস্বরূপ মায়া। নিজের পছন্দের সম্পদ কাজলকে রেখে অপু যখন সাগর-পাহাড়ের ডাকে দেশান্তরী হয়-তার ভরসার আশ্রয় ছিল এই রানুদি।
বন্ধুত্বের পরম পিপাসা সে মেটাতে পারে অনিল, প্রণব, দেবব্রতদের মাধ্যমে। মনের মিল, চিন্তার উৎকর্ষ আর ভাবের সাযুজ্য-এসবের উপর ভিত্তি করেই অপুর জীবনে আসে কিছু মহৎ বন্ধু। অনিলকে অকালে হারালেও প্রণব ছিল আজীবন। আর সেই সাথে সত্যিকারের বন্ধু সম্পর্কে শিক্ষা সে ধীরে ধীরে পেতে থাকে। দুধের মাছি ও সুখের পায়রাদের রেখে অপু আসল সোনা চিনতে শেখে বহু কষ্টে।
অপুর রুচিশীলতা এখানে চোখে পড়ার মত। দৈন্য-দারিদ্র্যকে ছাপিয়ে সে কিছুটা অহম নিতে শেখে। ছোট থাকার জায়গার হালকা শৌখিনতা না আসলে অপুর হয় না। না খেয়ে-পরে থাকলেও অপুর মুখচোরা স্বভাব যায় না। প্রবল আত্মসম্মান নিয়ে বেড়ে উঠে নায়ক অপু। এখানেই তাঁর চরিত্রের শক্তি। এখানেই তাঁর মহত্ত্ব। নিজের শখের ভার নিজের বইতে শেখা-এ শিক্ষাই যে অমূল্য। তা অপু নিজে থেকেই শিখেছিল। প্রকৃতির কাছে শিক্ষিত অপু, অত সহজে হার মানা যে তাঁর স্বভাববিরুদ্ধ।
বিদ্যা আর ভ্রমণ পিপাসু অপুর দেখা মেলে সর্বদা। দর্শনের তত্ত্ব, ইতিহাসের রোমাঞ্চ, ভ্রমণকাহিনী-এসবে বুঁদ হয়ে থাকত অপু হরহামেশা। ক্ষুধায় দুর্বল হয়ে পরলেও লাইব্রেরিতে এলেই চাঙ্গা হয়ে উঠত আমাদের নায়ক। দারিদ্র্য তাঁর মনের শুভ্রতা, আত্মার শুদ্ধতাতে আঁচড় দিতে পারে নি একটুও। যেখানেই গিয়েছে অপু, সেখানেই খুঁজে ফিরেছে মুক্তির পথ। আলোর দিশা। এখানেই অপরাজিত স্বত্বার জয়গান। এখানেই জীবনের প্রকৃত সৌন্দর্য।
তাইতো অপু,সমগ্র ব্রহ্মাণ্ডের যে আত্মা, সে বলতে পারেঃ
I am the owner of the sphere
Of the seven stars and the solar year
November 13, 2014
second book of apu trilogy is a bit more sad... less hopes... but yes... full of life.. I felt.. you can see the cycle of life nd time moves forward with no sympathy to you... but the nature , your dear ones still adds meaning, beauty and love to your life... even the melancholy has a tune in this novel which turns our heart a bit dense.. but at the same time u are curious about apus future.. I avoided reading the third book.. just because I know it will make me do nothing else but complete that book... so kept the book for later reading..
November 26, 2014
"পথের পাঁচালী"র সিক্যুয়াল "অপরাজিত"। দুটো উপন্যাস-ই কিছুটা বায়োগ্রাফি টাইপের। সত্যজিত রায় এই দুই উপন্যাসের উপর বেইজ করে তিনটি মুভি করেছিলেন। "পথের পাঁচালী" পড়ে তারপর যখন মুভি দেখতে বসলাম তখন মনে হলো, বই পড়ার পর মুভি দেখা ঠিক না। কারন মুভিতে অনেক ছোট ছোট চরিত্র ইগনোর করা হয়। যাইহোক, "অপরাজিত" পড়তে গিয়ে অনেক বার গলা জড়িয়ে এসেছিলো। সন্তানের জন্য মায়ের আত্নত্যাগ, দারিদ্রতা/ক্ষুধা কে জয় করা, বই পড়ার অদম্য ইচ্ছা, ক্ষনিকের অপূর্ব প্রেম, আপনজন হারানোর কষ্ট, এতিমের মত কারো সহানুভুতি/ভালোবাসা পাওয়ার আকূল ইচ্ছা এবং আর কিছু বলবো না। বই পড়েন.. :)
August 21, 2023
এক স্নিগ্ধতার আবেশে মুড়োনো একটি সেরা উপন্যাস! আমার প্রিয় লেখকের সেরা একটা উপন্যাস,জীবনে একবার হলেও অপরাজিত পড়া উচিত!
November 28, 2023
"MESMERIZING"
August 7, 2026
জীবনের গল্প, যে গল্পে মন খারাপ হয়।
Displaying 1 - 30 of 190 reviews






























