এক সকালে অফিসে ঢুকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিপোর্ট দেয়া প্রিন্টারটি নষ্ট অবস্থায় আবিষ্কার করেন আমিনুল হক। যখন প্রিন্টার ঠিক করা হল ততক্ষণে দেখা গেলো সুইফট কোড ব্যবহার করে এক বিলিয়ন ডলারের উপর ট্রানজেকশন অর্ডার দেয়া হয়ে গেছে। মাথায় হাত পড়লো কর্তা ব্যক্তিদের। তৎক্ষণাৎ অর্ডারগুলো ক্যান্সেল করার নির্দেশ দেয়া হল। কিন্তু বিধি বাম, নিউ ইয়র্কে তখন সপ্তাহান্তের ছুটি শুরু হয়ে গেছে। তদন্তে নামল সিআইডির টেকনো টিমের এক তরুণ গোয়েন্দা। সাধারণ মানুষের কষ্টের টাকা চুরি করা হ্যাকারদের ধরতে সে পাড়ি জমাল দেশের সীমানার বাইরে। সে কি পারবে তাদের জালকে খুঁজে বের করে নিশ্চিহ্ন করতে? এসব কিছুর উত্তর পাওয়া যাবে সম্পূর্ণ কাল্পনিক থ্রিলার গল্প "ক্রমান্বয়" এ।
Javed Rasin (Bengali: জাবেদ রাসিন) is a Bangladeshi poet & fiction writer. He was born in Mymensingh but has raised in Dhaka from childhood. Javed completed his graduation & post-graduation in law from the University of Dhaka. He likes the charm of prosody and playing with words which fits into poetry. Shunno Pother Opekkhay (শূন্য পথের অপেক্ষায়) was his maiden published poetry.
Also the world of fiction, especially thriller & horror fiction fascinated him and he started writing in this genre. His first published thriller fiction novel was Blackgate (ব্ল্যাকগেট), co-authored with Tarim Fuad. His other works are horror novel Tomisra (তমিস্রা) & conspiracy novel Circle (সার্কেল). He continued to produce poetry and to work on fiction novels.
"জাদু" কী? যখন কোনো কিছুর যৌক্তিক ব্যাখ্যা পাই না তখন মন অজান্তেই তা জাদু হিসেবে ধরে নেয়। সাকার্সে আমরা জাদু দেখে অবাক হই। কেন হই? কারণ ট্রিকসগুলো আমাদের অজানা। কিন্তু এর পিছনে থাকে একটি কারণ "বিজ্ঞান"। একশত বছর আগের মানুষেরা কি কল্পনা করতে পেরেছিল প্রযুক্তির বদৌলতে আমরা আজ এত দূর আসবো? আদিমকাল থেকে যদি কেউ বর্তমান সময়ে চলে আসে, তার কাছে আজকের এই পৃথিবী তো জাদুই বটে। একশত বছর পর পৃথিবী কেমন হবে জানি না আমরা। তবে কল্পনা করা যায় অনেককিছুই...
● আখ্যান —
অফিসে যেতে ইচ্ছে করে না আবার না গেলেও ভালো লাগে না আমিনুল হকের। প্রযুক্তি যন্ত্রণা মনে হয়। রিটায়ারমেন্টের আর ক'দিনই বা বাকি কিন্তু চাকরি রক্ষার্থে এই বয়সে এসে শিখতে হচ্ছে বিভিন্ন প্রযুক্তির ব্যবহার। অফিসে এসে যখন এসব ভাবছেন তখনই শুরু হয় হইচই! স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিপোর্ট দেওয়া প্রিন্টার নষ্ট অবস্থায় পড়ে আছে। ট্রানজেকশন হয়ে গেছে এক বিলিয়ন ডলার! দেশের জনগণের কষ্টের টাকা যাচ্ছে পৃথিবীর কোন প্রান্তে...
বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেম হ্যাক করা হয়েছে! কারা করেছে? কেন? সকল প্রশ্নের জবাব খুঁজতে নেমে পড়ে সিআইডি অফিসার নাহিম। রহস্যের কিনারা করতে যেয়ে জড়িয়ে যায় আরও গভীর জালে। বাংলাদেশ থেকে এই ট্রানজেকশন তো মাত্রই খেলার শুরু! মাস্টারমাইন্ডের পরিকল্পনা তো আরও বড়, আরও ভয়াবহ...
● পর্যালোচনা ও প্রতিক্রিয়া —
ছোট কলেবরে ভায়োলেন্সমুক্ত থ্রিলার " ক্রমান্বয়", সিরিজের প্রথম বই। রহস্য ও থ্রিলের পরিমাণ খুব একটা বেশি নাহলেও বেশ কিছু অ্যাকশন সিন আছে।
প্রযুক্তি আমাদের জীবনের একটি অংশ হয়ে দাড়িয়েছে। বদলিয়ে দিয়েছে জীবনযাত্রা। সহজ যেমন করেছে তেমনি করেছে জটিলও। বিজ্ঞান আশির্বাদ যদি কেউ এর ব্যবহার জানে কিন্তু অভিশাপ যদি এর জালে জড়িয়ে পড়ে। কাহিনীর বেসিক মূলত এটাই। "ড্রাইডেক্স"- নামক ভাইরাস বানানো হয়েছে, যা প্রোগ্রামিং করে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় সাইটে। ড্রাইডেক্স ডাটা কালেক্ট করতে থাকে আর সাপ্লাই করে হ্যাকারকে। এখন প্রশ্ন হলো হ্যাকার কে আর কী তার উদ্দেশ্য? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে পড়তে হবে "ক্রমান্বয়"।
সায়েন্টিফিক থ্রিলার হিসেবে " ক্রমান্বয়" সুখপাঠ্য ছিল তবে কিছু জায়গায় খটকা থেকে গেছে। এখন সেগুলো নিয়েই কথা বলবো। ড্রাইডেক্স যদি পরীক্ষামূলকভাবে বাংলাদেশেই প্রথম চালানো হয় তাহলে বাকিরা এ সম্পর্কে আগে থেকে জানে কিভাবে? মাস্টারমাইন্ড একটা গেইম তাহলে গোপনীয়তা এত দূর্বল হয় কিভাবে! এবার আসি বইয়ের বিভিন্ন প্রোগ্রামিং ও টেকনিক্যাল টার্মের বিষয়ে। বেশ কিছু প্রোগ্রামিং টার্মের উল্লেখ তো করা হয়েছে কিন্তু যথার্থ আলোচনা করা হয়নি। সকল পাঠকের কাছে বিষয়টা বুঝা সহজ না-ও হতে পারে। সেক্ষেত্রে পৃষ্ঠার নিচে বা বইয়ের শেষ অংশে আলাদা করে বিষয়গুলো ক্লিয়ার করে দিলে ভালো হতো।
● লেখনশৈলী ও বর্ণনা —
সহজ ও সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ছোট ছোট ঘটনাগুলো। আশেপাশে কী ঘটছে, অ্যাকশন স্পট, ক্রাইম সিন এসব। বর্ণনার স্টাইলটা বেশ ভালো লেগেছে। সে তুলনায় সায়েন্টিফিক টার্মগুলোর আলোচনা কম। এগুলো নিয়ে আরও লেখা দরকার ছিল। আশা করি সিরিজের পরবর্তী বইয়ে বিষয়টি বিবেচনায় আনা হবে।
● চরিত্রায়ন —
বিভিন্ন চরিত্রের উল্লেখ করা হয়েছে। নাহিম, সিআইডি অফিসার, গেইমের মাস্টারমাইন্ড ধরার জন্য ছুটে চলেছে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে। তৌফিক ও ফুয়াদ, নাহিমের অধীনস্থ। সিরিজের পরবর্তী বইয়ে ফুয়াদকে পাওয়া যাবে না ; কারণ ক্রমান্বয়- এই আছে। আমিনুল হক, ড্রাইডেক্সের জালে ফেঁসে গেছেন। পারবেন কি বের হতে? নিশাত, আমিনুল হকের মেয়ে, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। এছাড়া আছে কিম, বাও, ফ্যাং, বিওম, সুপ্রিম লিভার আরও অনেকে। তবে বইয়ের শেষভাগে আবির্ভাব হয়েছে নতুন চরিত্রের, শাফাত রায়হান। যার আলোচনা পাওয়া যাবে পরবর্তীতে।
● প্রোডাকশন —
প্রথমেই বলি বইয়ের বাঁধাইয়ের কথা, মজবুত তবে স্মুথ। পেজ উল্টিয়ে পড়তে কোনো সমস্যা হয়নি, সাথে এটাও বলতে হয় ছোট বই হওয়ার দরুন আরও সহজ হয়েছে। ধবধবে সাদা পেজের মান ভালোই। তবে বইয়ের জ্যাকেটের মান খুব একটা ভালো না, সহজেই ভাঁজ পড়ে যায়। বইয়ের কিছু পেজে বাদামী রঙের দাগ আছে। এছাড়া আর তেমন কোনো সমস্যা নেয়। হার্ড কভারের মানও সন্তোষজনক।
● বানান ও সম্পাদনা —
বইয়ের সম্পাদনা হতাশ করেছে। এত বানান ভুল আর টাইপিং মিস্টেক। 'ঙ', 'ঞ', কার ( া, ি, ী, ে, ো)- এর ব্যবহারে বেশ কিছু ভুল আছে। চ্চল (চল), কোথায় (কথায়), পেলেছে (ফেলেছে), তাইপের (টাইপের), শীৎকার (চিৎকার), আওনাদের (আপনাদের), ফিলো (দিলো), দেয়ার (দেয়াল), খব(খুব), পাঠইে (পাঠাই), আছে (আছি) এমন আরও কিছু শব্দে সমস্যা আছে।
একই শব্দ দুবার - ততদিনে ইমতিয়াজ বিয়ে করে করে ফেলেছে। (পৃ- ৩৩)
নামের ভুল - তৌফিক বসে আছে নাহিমের পাশে। তৌফিক (ফুয়াদ) গেছে কিছু ফরমালিটিজ শেষ করতে। (পৃ- ১০৭)
● প্রচ্ছদ ও নামলিপি —
বইয়ের প্রচ্ছদ মেমোরি কার্ডের আদলে করা। বইয়ের বিষয়বস্তুর সাথে মানানসই। কিন্তু নামলিপি সাদামাটা হয়ে গেছে। তবে মন্দ নয়।
মূল কাহিনীর আলোচনা বইয়ে করা হয়নি বরং আভাস দেওয়া হয়েছে। তাই পড়ার পর শূন্যতা থেকেই গেছে, আসল ঘটনা তো অজানাই রয়ে গেল। সিরিজের পরবর্তী বই আরও রহস্যময় ও বিস্তারিত হবে বলে আশা রাখি।
'ক্রমান্বয়' বইটি মূলত একটি সাইবার হাইস্ট ভিত্তিক থ্রিলার। একটি আধুনিক টাইপের ব্যাংক ডাকাতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে গল্পটি গড়ে উঠেছে। ছোট পরিসরের এই থ্রিলার গল্পটি এক-দুই বসায় শেষ করে ফেলার মতো। গল্পের কলেবর ছোট হলেও বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড, ম্যাকাও সহ বিভিন্ন পটভূমি কাহিনিতে এসেছে। বইয়ের মূল ঘটনাবলীর ভেতরে কিছু ঘটনা একেবারে অবাস্তব লাগলো। তাছাড়া বইয়ের কিছু টেকনিক্যাল টার্মসও ঠিক বিশ্বাসযোগ্য মনে হলো না। সবমিলিয়ে অ্যাভারেজ সাইবার হাইস্ট ভিত্তিক একটি থ্রিলার লাগলো বইটিকে। সম্পাদনার দিক থেকে প্রচুর বানান ভুল এবং কিছু ক্ষেত্রে চরিত্রের নাম অদল-বদল ছিলো, প্রচ্ছদও আহামরি লাগেনি। যাদের সাইবার ক্রাইম/হাইস্ট ভিত্তিক থ্রিলার পছন্দ তারা হয়তো একবার বইটা পড়ে দেখতে পারেন।