What do you think?


কালনামি
কৃষ্ণাষ্টমীর রাত্রে, একই কারাগারের দুইটি আলাদা কারাকক্ষে, একই ক্ষণে জন্মগ্রহন করেন এক মানব এবং এক ঈশ্বর. সেই ঈশ্বর আর কেউ নন, স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ. কিন্তু সেই মানব? কেউ তাকে মনে রাখেনি. জন্মগ্রহণের পরেই, নিয়তির স্বাভাবিক নিয়মে পৃথক হয় তাদের জীবনপথ. অথচ বারবার মুখোমুখি হন তারা, জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে, বিভিন্ন স্থানে. কখনো বৃন্দাবন, কখনো মথুরা, কখনো হস্তিনাপুর কিংবা কুরুক্ষেত্রে. কিভাবে গোপকূলে পালিত এক বালক ক্রমে ঈশ্বর হয়ে উঠলেন - একদিকে যেমন সেই কাহিনী সম্পূর্ণ যুক্তিজালে বর্ণিত হয়েছে, তেমনি অন্যদিকে বিবৃত হয়েছে সেই বিস্মৃত মানবের আশ্চর্য জীবনগাথা. মানবের ঈশ্বরের প্রতিস্পর্ধী হয়ে ওঠা এবং তাদের দন্দ্ব এবং মিলনকথাই এই উপন্যাসের প্রাণ.
মহাভারতের প্রেক্ষিতে রচিত হলেও এই উপন্যাসের মধ্যে রূপকার্থে এসেছে জাতপাত, ঐতিহাসিক বিভ্রান্তি ও অপব্যাখ্যা, হলুদ সাংবাদিকতা, রাজনৈতিক অপপ্রচার , শাসকের স্বেচ্ছাচার প্রভৃতি বর্তমান সময়ের মূল সমস্যাগুলো. আর এই সমস্ত কিছুর মধ্যে এক প্রকৃত রাষ্ট্রনায়ক এবং ভাগ্যতাড়িত মানবের জীবন সংগ্রাম ও জীবনসত্য অর্জন.
মহাভারতের প্রেক্ষিতে রচিত হলেও এই উপন্যাসের মধ্যে রূপকার্থে এসেছে জাতপাত, ঐতিহাসিক বিভ্রান্তি ও অপব্যাখ্যা, হলুদ সাংবাদিকতা, রাজনৈতিক অপপ্রচার , শাসকের স্বেচ্ছাচার প্রভৃতি বর্তমান সময়ের মূল সমস্যাগুলো. আর এই সমস্ত কিছুর মধ্যে এক প্রকৃত রাষ্ট্রনায়ক এবং ভাগ্যতাড়িত মানবের জীবন সংগ্রাম ও জীবনসত্য অর্জন.
192 pages, Hardcover
Published January 1, 2019
About the author
Sumit Nag
1 bookসুমিত নাগের জন্ম ২৬ নভেম্বর, হুগলি জেলার শ্রীরামপুরে। প্রাথমিক শিক্ষালাভ স্থানীয় চাতরা নন্দলাল ইন্সটিটিউশনে। পরে কলকাতায়, প্রেসিডেিন্স কলেজ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। রসায়নের ছাত্র। সাহিত্যচর্চার হাতেখড়ি স্কুলজীবনের শেষে, তারপর বেশ কয়েকবছর অনিয়মিতভাবে। সিরিয়াস লেখালেখির সূত্রপাত ২০১৭ থেকে। সেই বছরেই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জনপ্রিয় পত্র পত্রিকাগুলিতে ছোটগল্প ছাপা হয়। ‘কালনামি’ লেখকের প্রথম উপন্যাস।
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 2 of 2 reviews
May 16, 2025
দুর্যোগময় রাতে কারাগারের অন্দরে জন্ম নেয় দুই শিশু। একজন হয়ে উঠেন পরবর্তীতে নিপীড়িত মানুষের ঈশ্বর, আশার আলো , "শ্রীকৃষ্ণ"। অন্যদিকে অপর শিশু অবহেলিত, ইতিহাস তাকে মনে রাখে না, পরবর্তীতে যে হয়ে উঠে কৃষ্ণের প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী ও মৃত্যুবাণ "কালনামি"। মহাভারতের জটিল পথে তাদের দেখা হয় বারবার, প্রতিশোধস্পৃহাও বেড়ে হয় দ্বিগুণ ।
কারাগার থেকে কৃষ্ণ মুক্তি পেয়ে পালিত হয় নন্দের আশ্রয়ে,বিলাসিতায়। অন্যদিকে কালনামির দিন কাটে অরণ্যে , অবহেলায় ও ঘৃণায়। এখানে সে প্রথম রাধার প্রতি আকৃষ্ট হয় কিন্তু কৃষ্ণের সাথে রাধার সম্পর্ক দেখে তার ভিতরে প্রতিশোধস্পৃহা জেগে ওঠে।সে দেখতে পায় কিভাবে সাধারণ এক বালক অলৌকিক ক্ষমতা ছাড়ায় বিচক্ষণতার মাধ্যমে মানুষের ঈশ্বর হয়ে উঠছে।
এখানে কালনামির সাথে পরিচয় হয় একলব্যের , বন্ধুত্ব হয় তাদের।
কংস বধের উদ্দ্যেশে কৃষ্ণ বৃন্দাবন ছেড়ে যায় , জড়িয়ে পড়ে রাজনীতির কুটিল খেলায়। তাঁর উন্নতির সাথে চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়তে থাকা শত্রুদেরও কৌশলে হত্যা করতে থাকেন তিঁনি। অন্যদিকে কালনামিও বিভিন্ন ঘাটের পানি খেয়ে ,সব হারিয়ে যোগ দেয় কৃষ্ণের বিপক্ষ দলে। বারবার দেখা হয় তাদের। অবশেষে কুরুক্ষেত্রের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে কৌরব পক্ষে অংশ নেয় সে। এই যুদ্ধের ভিতরের অনেক অজানা রাজনীতি ও কূটনীতির সাক্ষী সে। যুদ্ধ শেষে সে ফিরে যায় অরণ্যে ব্যাসের কাছে, ব্যাসকে জানায় এই যুদ্ধের অজানা অনেক অধ্যায়।
অন্যদিকে কৃষ্ণ যুদ্ধ শেষে অভিশাপের ভার গ্রহণ করে,ধ্বংস হতে দেখে নিজ হাতে গড়া যদুবংশ। ধরার পাঠ চুকাতে আশ্রয় নেয় অরণ্যে। এখানেই শেষবার দেখা হয় তাঁর কালনামির সাথে, কিন্তু অত্যন্ত খারাপভাবে। কালনামির মনে জমে থাকা প্রতিশোধস্পৃহা কি এবার শান্ত হবে?
এই বইয়ের নায়ক বা খলনায়ক কৃষ্ণ অথবা কালনামি। কালনামি কাল্পনিক চরিত্র,তার চোখ দিয়ে শ্রীকৃষ্ণের বাল্যবস্থা থেকে শেষ জীবন পুরোটাই দেখানো হয়েছে । যেহেতু কালনামির দৃষ্টিকোণ থেকে আখ্যান বর্ণিত হয়েছে,তাই শ্রীকৃষ্ণ তথা মহাভারতের ধর্ম-অধর্মের বিষয়বস্তু অকপটভাবেই চলে এসেছে।
মহাভারতের উপর এই বিনির্মাণ খুব একটা খারাপ লাগেনি।
কারাগার থেকে কৃষ্ণ মুক্তি পেয়ে পালিত হয় নন্দের আশ্রয়ে,বিলাসিতায়। অন্যদিকে কালনামির দিন কাটে অরণ্যে , অবহেলায় ও ঘৃণায়। এখানে সে প্রথম রাধার প্রতি আকৃষ্ট হয় কিন্তু কৃষ্ণের সাথে রাধার সম্পর্ক দেখে তার ভিতরে প্রতিশোধস্পৃহা জেগে ওঠে।সে দেখতে পায় কিভাবে সাধারণ এক বালক অলৌকিক ক্ষমতা ছাড়ায় বিচক্ষণতার মাধ্যমে মানুষের ঈশ্বর হয়ে উঠছে।
এখানে কালনামির সাথে পরিচয় হয় একলব্যের , বন্ধুত্ব হয় তাদের।
কংস বধের উদ্দ্যেশে কৃষ্ণ বৃন্দাবন ছেড়ে যায় , জড়িয়ে পড়ে রাজনীতির কুটিল খেলায়। তাঁর উন্নতির সাথে চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়তে থাকা শত্রুদেরও কৌশলে হত্যা করতে থাকেন তিঁনি। অন্যদিকে কালনামিও বিভিন্ন ঘাটের পানি খেয়ে ,সব হারিয়ে যোগ দেয় কৃষ্ণের বিপক্ষ দলে। বারবার দেখা হয় তাদের। অবশেষে কুরুক্ষেত্রের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে কৌরব পক্ষে অংশ নেয় সে। এই যুদ্ধের ভিতরের অনেক অজানা রাজনীতি ও কূটনীতির সাক্ষী সে। যুদ্ধ শেষে সে ফিরে যায় অরণ্যে ব্যাসের কাছে, ব্যাসকে জানায় এই যুদ্ধের অজানা অনেক অধ্যায়।
অন্যদিকে কৃষ্ণ যুদ্ধ শেষে অভিশাপের ভার গ্রহণ করে,ধ্বংস হতে দেখে নিজ হাতে গড়া যদুবংশ। ধরার পাঠ চুকাতে আশ্রয় নেয় অরণ্যে। এখানেই শেষবার দেখা হয় তাঁর কালনামির সাথে, কিন্তু অত্যন্ত খারাপভাবে। কালনামির মনে জমে থাকা প্রতিশোধস্পৃহা কি এবার শান্ত হবে?
এই বইয়ের নায়ক বা খলনায়ক কৃষ্ণ অথবা কালনামি। কালনামি কাল্পনিক চরিত্র,তার চোখ দিয়ে শ্রীকৃষ্ণের বাল্যবস্থা থেকে শেষ জীবন পুরোটাই দেখানো হয়েছে । যেহেতু কালনামির দৃষ্টিকোণ থেকে আখ্যান বর্ণিত হয়েছে,তাই শ্রীকৃষ্ণ তথা মহাভারতের ধর্ম-অধর্মের বিষয়বস্তু অকপটভাবেই চলে এসেছে।
মহাভারতের উপর এই বিনির্মাণ খুব একটা খারাপ লাগেনি।
April 19, 2019
মানবের মহান কথা মহাভারতের নিরপেক্ষ বর্ণনা ফুটে উঠেছে কালনামির জীবন কথার মধ্যে দিয়ে। কৃষ্ণ বা অন্য কেউ এখানে দেবতা নয় সকলেই মানুষ।
একটি নিরপেক্ষ উপন্যাস যেখানে কেউ নায়ক বা খলনায়ক নেই...
সবাই নিজের নিজের পরিস্থিতির শিকার,আমাদের মতো আর পাঁচটা সাধারণ লোকের মতোই তাদের অভিব্যক্তি।
মহাভারত নিয়ে যারা উৎসাহী তাদের এই বই ভালো লাগবে বলেই আমার বিশ্বাস।
একটি নিরপেক্ষ উপন্যাস যেখানে কেউ নায়ক বা খলনায়ক নেই...
সবাই নিজের নিজের পরিস্থিতির শিকার,আমাদের মতো আর পাঁচটা সাধারণ লোকের মতোই তাদের অভিব্যক্তি।
মহাভারত নিয়ে যারা উৎসাহী তাদের এই বই ভালো লাগবে বলেই আমার বিশ্বাস।
Displaying 1 - 2 of 2 reviews



