Jump to ratings and reviews
Rate this book

অগ্নিপ্রভাত

Rate this book
মুক্তিযুদ্ধের বিশাল ক্যানভাসে টুকরে টুকরো ঘটনা দিয়ে অগ্নিপ্রভাতে যে ছবি আকাঁ হয়েছে, তার কেন্দ্রীয় চরিত্র হাবিল আর তার স্ত্রী মরিয়ম। ১৯৭১ সালে পঁচিশে মার্চ রাতে পাকিস্তানীদের আচমকা আক্রমণের জেরে হাবিল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তার মা, ভাই আর স্ত্রীর কাছ থেকে...

'অগ্নিপ্রভাত' অসংখ্য তাজা প্রাণের আত্মত্যাগের কাহিনী। অগণ্য নারীর আর্তনাদের কাহিনী। দিপালী, মরিয়ম, কাঁকন, বাসনা, ফুলমালা এবং আরো আরো নারীদের অসহায়ত্বের কাহিনী 'অগ্নিপ্রভাত'।

200 pages, Hardcover

First published February 1, 2019

3 people want to read

About the author

Sayed Azad

3 books

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
4 (50%)
4 stars
2 (25%)
3 stars
2 (25%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 6 of 6 reviews
Profile Image for Fahad Jewel.
33 reviews14 followers
May 12, 2019
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সুবিশাল ক্যানভাসে নবীন লেখক সাঈদ আজাদ এর লেখা অসাধারণ একটি উপন্যাস। লেখকের সুনিপুণ বর্ণনা এতটাই বাস্তব, মনে হবে যেন চোখের সামনে সবগুলো ঘটনা ঘটছে। ব্যক্তিগত ভাবে বিশ্বাস করি, এ গ্রন্থটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক শ্রেষ্ঠ উপন্যাস সমূহের তালিকায় যোগ হবে একদিন।
Profile Image for Mohammad Kamrul Hasan.
359 reviews15 followers
March 29, 2020
২৫ শে মার্চ কাল রাতের অসাধারণ বর্ণনা আছে। আছে ততকালীন দেশের কিছু পরিস্থিতির বর্ণনাও। তবে বর্ণনা অনেক। যেমন কিভাবে বোমা মারা হলো, কোথায় পড়লো, কার হাত পা কিভাবে উড়ে গেলো, নারীরা কিভাবে অত্যাচারীত হচ্ছে তার বিশদ বর্ণনা অনেক সময় একঘেয়েমি আনিয়ে দেয়৷
Profile Image for Esha.
178 reviews51 followers
April 22, 2019
Made me numb by real illustration of The Liberation War
Profile Image for Tareq Ul.
31 reviews3 followers
December 4, 2020
যুদ্ধদিনের ভয়াবহতার জীবন্তচিত্র “অগ্নিপ্রভাত”

লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এ স্বাধীনতা। কত নাম না জানা মানুষ যে এ স্বাধীনতার দাম চুকিয়েছেন তা বলাই বাহুল্য। তাইতো প্রখ্যাত গীতিকার ও সুরকার আব্দুল লতিফ লিখেছেন “দাম দিয়ে কিনেছি বাংলা, কারো দামে পাওয়া নয়”। বাংলার অলিতে গলিতে এমন হাজারো ত্যাগের প্রমাণ পাওয়া যায়। সাহিত্যিকরা সেসব অজানা সত্য বিভিন্ন সময় তুলে ধরেছেন তাদের লেখার মাধ্যমে।

বাংলাসাহিত্যে অসংখ্য লেখকই কালেকালে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সাহিত্য রচনা করেছেন, করছেন। মুক্তিযুদ্ধের মতো এত বিশাল একটি ঘটনার ছোট একটি অংশ দিয়েই উপন্যাসের মতো বড় পরিসরে কাজ করা যায়। কারণ এর আবেদন কখনোই কমবে না, বরং বাড়বেই।

প্রতিভাবান কথাসাহিত্যিক সাঈদ আজাদ তার প্রথম উপন্যাসেই তুলে এনেছেন মুক্তিযুদ্ধের একটি খণ্ডচিত্র, যা তাঁর উপন্যাস অগ্নিপ্রভাতকে এনে দিয়েছে “শব্দঘর-অন্যপ্রকাশ-এর তরুণ কথাশিল্পী অন্বেষণ কার্যক্রম ২০১৮” এর নির্বাচিত প্রথম সেরা উপন্যাসের মর্যাদা। প্রথম উপন্যাসেই বাজিমাত করার কারণতো অবশ্যই আছে, আর সেটা হলো লেখকের নির্মেদ লিখা এবং কাহিনীর ঝরঝরে বর্ণনা। আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহারেও লেখক বেশ মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন।

অগ্নিপ্রভাত উপন্যাসটির ভূমিকা লিখেছেন প্রাবন্ধিক ও গবেষক বিশ্বজিৎ ঘোষ, এবং জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হরিশংকর জলদাস। তাঁরা দুজনেই বেশ ভূয়সী প্রশংসা করেছেন অগ্নিপ্রভাতের।

ছাত্র হোস্টেলের গার্ডরুমে শুয়ে হাবিলের স্ত্রী মরিয়মকে স্বপ্ন দেখার মধ্য দিয়ে সুন্দর শুরু হয় কাহিনীর। ধীরেধীরে গল্পটি এগিয়ে যায় ২৫ শে মার্চের কালরাত্রির ভয়াবহতার দিকে। এখানে লক্ষণীয় যে সাঈদ আজাদ কালরাত্রির বর্ণনায় বেশ নৈপুণ্যতা দেখিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হোস্টেলের নৃশংসতার যে চিত্র তিনি তুলে ধরেছেন তা আদতে বাস্তবতাই মনে হবে। সম্পূর্ণ উপন্যাসে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নারকীয় অত্যাচার, হত্যার প্রতিটি খণ্ডচিত্রই পাঠককে নাড়া দিতে বাধ্য। বইটি পড়ার সময় আপনার হয়ত মনে হতেই পারে আপনি স্বয়ং সেখানে উপস্থিত বা লেখক সেখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হয়ত আপনাকে পরিস্থিতির বর্ণনা করে চলছেন।

নারীদের উপর যে অকথ্য অত্যাচারের কথা আমরা পড়েছি, বা শুনেছি তার প্রত্যেকটাই ছিলো নৃশংসতায় পরিপূর্ণ। কিছুকিছু বইতে ধর্ষণের বর্ণনাও করা থাকে, বা নির্যাতনের পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা। কিছুকিছু বর্ণনা এতটাই বিভৎস যে সামনে পড়তেও ভয় লাগে। এক্ষেত্রে সাঈদ আজাদ সুনিপুণ ভাবে বিভৎসতা এড়িয়ে গেছেন বলেই মনে হয়, যা পাঠককে কিছুটা হলেও মানুষিক শান্তি দিয়েছে। নারী নির্যাতনের কথায় তিনি ততটুকুই বলেছেন যতটুকুতে পাঠক বুঝতে পারছে এর ভয়াবহতা কতটা হতে পারে। প্রবান্ধিক ও গবেষক বিশ্বজিৎ ঘোষ লেখকের এই পরিমিতবোধের যথেষ্টই প্রশংসা করেছেন।

হাবিল, মরিয়ম ও তার মা ভাইয়ের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ২৫ মার্চ রাতেই। মরিয়ম তখন ছিলো অন্তঃসত্ত্বা। এই দূর্যোগে সে, তার শাশুড়ি ও দেবরের সাথে গ্রামে ফিরে যাওয়াই শ্রেয় মনে করেছে। কিন্তু যাত্রাপথে মিলিটারির হাতে নিহত হয় মরিয়মের শাশুড়ি ও তার দেবর নাবিলকে ধরে নিয়ে যায় পাকিস্তানি মিলিটারি।

সন্তানকে পৃথিবীর মুখ দেখাতে একাই যাত্রা শুরু করে মরিয়ম। চোখের সামনে শাশুড়ি মৃত্যুতে কিছুটা অপ্রকৃতস্থ মরিয়ম আশ্রয় পায় এক বৃদ্ধ বাবার। কিন্তু সেখানেও বেশীদিন থাকে না সে। গর্ভের সন্তানকে রক্ষা করতে এগিয়ে যায় সে, একাকী এগুতে থাকে গ্রামের দিকে।

স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মযন্ত্রণাকে মরিয়মেী গর্ভযন্ত্রণার সাথে রূপকার্থে তুলনা করে কথাসাহিত্যিক ‘সাঈদ আজাদ’ এ উপন্যাসের পটভূমি নির্মাণ করেছেন। সন্তানকে পৃথিবীর বুকে ভূমিষ্ঠ করতে একজন মা-কে যেমন নিদারুণ কষ্ট সহ্য করতে হয়, ত্যাগ স্বীকার করতে হয় তেমনি নিজের মাটিকে পৃথিবীর বুকে স্বাধীন হিসেবে স্বীকৃতি এনে দিতে নিজের জীবন দিতেও কেউ কুণ্ঠাবোধ করে না।

সম্পূর্ণ উপন্যাসটিকে লেখক নয়টি ভাগে ভাগ করেছেন। এই নয়টি ভাগ দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধকেই নির্দেশ করে। প্রতিটি ভাগেই হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, অত্যাচার, নিপীড়নের দৃশ্য উঠে এসেছে। উল্লেখ্য, এ উপন্যাসে লেখক মুক্তিযুদ্ধ বা সরাসরি যুদ্ধের দৃশ্য বর্ণনা করেন নি। বরং যুদ্ধের ফলে সাধারণ মানুষের ত্যাগ, তাদের প্রতি হওয়া অত্যাচার অবিচারের দৃশ্যই তুলে ধরেছেন। এ প্রসঙ্গে প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক হরিশংকর জলদাস বলেন–

“অগ্নিপ্রভাতের বিষয়বস্তু ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গন তেমন করে স্থান পায় নি উপন্যাসটিতে। উপন্যাসটির বিপুল অংশজুড়ে যুদ্ধলাঞ্ছিত আর্তনাদমগ্ন উন্মুল মানুষগুলোর দৈনন্দিন চিত্র।…….উপন্যাসটি পড়তে পড়তে আনার মনে হয়েছে_এ যেনো ঢাকা শহরের ২৫ মার্চের কালরাত্রির হত্যাচিত্রের যথার্থ এক দলিল।’’

উপন্যাসটির পরিসমাপ্তি ঘটে মরিয়মের সন্তান প্রসবের মাধ্যমে। দেশের বিজয়ের মুহুর্তটিকে লেখক হয়ত মরিয়মের বিজয়ের মাধ্যমেই প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশকে হয়ত তিনি মরিয়মের সদ্য ভূমিষ্ঠ সন্তানের সাথেই তুলনা করেছেন। উপন্যাসের শেষ অংশে তিনি লিখেছেন–

“সবাই অপেক্ষা করতে থাকে একটা নতুন শিশুর চিৎকার শোনার জন্য। সবাই অপেক্ষা করতে থাকে একটা নতুন সূর্যের। সবাই অপেক্ষা করতে থাকে, কখন সব কুয়াশা সরে গিয়ে আঁধার ভেদ করে সবুজ ধানক্ষেতের ওপার থেকে উঠবে লাল একটা সূর্য।’’
Profile Image for MD Moshiur.
38 reviews2 followers
August 12, 2019
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহ পরিস্থিতির বর্ণনা আছে।
পড়ে দেখতে পা���েন সবাই।
Profile Image for Tife Adnan.
26 reviews9 followers
April 22, 2021
অগ্নিপ্রভাত । সাঈদ আজাদ

মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে আঁকা হয়েছে এর প্লট । এর একেকটা চিত্র বড় নির্মম । দেখার মত না । অনুভব করার মতো না । পড়তে পড়তে হয়তো কোথাও কাঁটা দিয়ে উঠতে পারে গা'টা আবার কোথাও এই পাশবিকতার কথা ভেবে ঘিনঘিনে ভাব তৈরি হতে পারে সে সমস্ত অমানুষদের ওপর । যেনো সাক্ষাৎ জাহান্নামটাকেই পৃথিবীর মাটিতে কায়েম করা হয়েছিল । যেমন কিছুটা উদৃতি টানছি এখানে বই থেকে ―

‘সকাল হলে উলঙ্গ অর্ধউলঙ্গ সবাইকে গরুর মত পিটাতে পিটাতে নিয়ে যাওয়া হয় বাইরে । একটা ছোট হাউজের সামনে সবাইকে দাঁড় করানো হয় । অগভীর হাউজে অল্প পানি । পানিটা ময়লা ও ঘোলাটে । বোধহয় এখানে পশুগুলো গোসল করে ।
'যাও শালা লোগ পিয়ো যিতনা মন চায় ।'
অমন পানি কেউ পান করতে পারে ! অবিশ্বাস‍্য চোখে হাবিলরা দেখে ওদের সামনেই মিলিটারিরা প্যান্টের বোতাম খুলে হাসতে হাসতে হাউজের পানিতে প্রস্রাব করছে । দু একজন বন্দি এখনও পানি পানি করে কাতরাচ্ছে । মিলিটারিরা তাদের মুখে প্রস্রাব করে আর বলে, পিয়ো । আর তারা ক্রমাগত হাসতে থাকে ।’ ...

যেনো অনেকটা জাহান্নামীদের আজাব দেয়ার মতো অবস্থা । যে যখন তারা পানি পানি বলে আর্তনাদ করবে তখন তার পরিবর্তে তাদের দেয়া হবে ময়লা আবর্জনা পুঁজ ইত্যাদি ।

এমনতর জঘন্য বহু চিত্র অগ্নিপ্রভাতে দেখা গেছে । যা থেকে যুদ্ধ কালীন পাকিস্তানি হানাদার বাহিদীর অত্যাচার― নিষ্ঠুরতা সম্পর্কে একটা ধারণা লাভ করা যায় ।

এছাড়া এ বইতে অত্যন্ত সুনিপুন ভাবে তিনি দৃশ্য থেকে দৃশ্যায়ন করেছেন । সেক্ষেত্রে তিনি যথাসাদ্ধ ভাষার প্রয়োগে খুব একটা বেসামাল হন নি বরং ভাষা প্রয়োগে শালীনতাই খেয়াল করেছেন । যদিও বলা হয়ে থাকে সাহিত্যে শালীন অশালীন বলে কিছু নেই । এবং ভাষার সৌন্দর্যতাও এখানে খেয়াল করার মতো―

‘হাবিলের মনে হয়, মরিয়মের শ্যামল কচি মুখখানা যেন বর্ষা শেষে শীতের পলিপড়া জমি । পিঠভর্তি রাশি রাশি চুল, যেন মেঘজমা বর্ষার কালো আকাশ ! স্বপ্নময় বড় বড় চোখ দুটি যেন কালো পানির গভীর দীঘি, ডুব দিলে শরীর মন শীতল হয় । শীতকালে পুঁটি মাছের গায়ে রোদ লাগলে যেমন ঝিলিক লাগে, মরিয়মের হাসি তেমন । আলতা―পরা শ্যামল পা দুটি যেন কচি দুর্বার মত কোমল ।’

এছাড়া অঞ্চলিকতায় এক ভিন্ন ধরনের ভাষার ব্যবহার করেছেন লেখক ―

‘পাকিস্তানিগদঅ বঙ্গবন্ধুর কাছেই ক্ষমতা দেওয়ার কথা আছিল’
‘সারা রাস্তায়ইদঅ দেখছি লাশ’
‘আমিদঅ তোমার পেডে হই নাই, তুমিই আমার পেডে অইছো’

সব মিলে সহজ স্বাভাবিক গদ্যের ওপর ভালো বই । হয়তো বিষয়ের তোড়ে বা বর্ণনার দীর্ঘায়নে খানিকটা এক ঘেয়েমি ভাব চলে আসতে পারে । তবে সম্ভাবনাময়ী তরুণ প্রতিভাবান লেখকদের মধ্যে সাঈদ আজাদ অনন্য । যা তার রচনা থেকেই অনুমান করা সম্ভব ।

সব মিলিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ওপর খানিকটা ধারণা নেয়ার জন্য বা সে সময়ের চিত্রগুলো কিছুমাত্র অবলোকন করার জন্য এ বইটিও পড়া যেতে পারে ।

বইটি শব্দঘর-অন্যপ্রকাশ–তরুণ কথাশিল্পী-অন্বেষণ কার্যক্রম ২০১৮ নির্বাচিত প্রথম সেরা উপন্যাস ।

বই: অগ্নিপ্রভাত
লেখক: সাঈদ আজাদ
প্রকাশনী: অন্যপ্রকাশ
পৃষ্ঠা: ২০০
মূল্য: ৪৫০
Displaying 1 - 6 of 6 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.