কালের বিবর্তনে নাকি সব হারিয়ে যায়...হারিয়ে যায় মানুষ, হারিয়ে যায় স্মৃতি - শুধু টিকে থাকে তার সৃষ্টি। এতদিন ভাবতাম নশ্বর মানুষের এই কীর্তিটুকু বইয়ের পাতায় ধরে রাখলে সেটা বোধহয় অমর হবে। আমার এই ধারণা ভেঙ্গে গেলে এই বইটা পড়তে গিয়ে। এত অসাধারণ একটি ভ্রমণ কাহিনি বাংলা ভাষায় লিখা হয়েছে অথচ সেটা আমি জানতাম না! কালের বিবর্তনে প্রায় মুছে গেছে বিমল দের এই অসাধারণ এ্যাডভেঞ্চার মানুষের মন থেকে। আমি বাজি ধরে বলতে পারি, বইপ্রেমি বাংলাভাষীদের একটি বিশাল অংশ জানেনও না যে এই দু'মলাটের মাঝে বিমল দে রেখে গেছেন তার সাইকেলে বিশ্বভ্রমণের অসাধারণ বর্ণনা। অনেকটা ডায়েরির আকারে লিখা এই বইটাতে লেখকের দুঃসাহসিক অভিযানের খুব অল্প খানিকটা অংশই উঠে এসেছে - (এস্কিমোদের দেশে, অভিশপ্ত দ্বীপ, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র)। আর এতটুকুই যথেষ্ট একজন পাঠককে মন্ত্রমুগ্ধ করার জন্য।
লেখকের বাকী লিখা গুলো খুঁজে বের করে পড়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। কারো কাছে যদি থেকে থাকে তাহলে শেয়ার করার জন্য বিনীত অনুরোধ রইল।
বি.দ্র. নির্দ্বিধায় চার তারকা পাওয়ার মতো বই। কিন্তু লেখকের ইসলামবিদ্বেষের জন্য এক তারকা বাদ।
ভূপর্যটক বিমল দে'র গ্রিনল্যান্ড, ফ্রান্স, ইস্টার দ্বীপ, তাহিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের অনিন্দ্য বর্ণনায় ভরা বই 'সুদূরের পিয়াসী'।
ডেনমার্কের মালিকানাধীন গ্রিনল্যান্ডে সত্যিকারের এস্কিমোদের সাথে কয়েকমাস কাটানোর স্মৃতি এই বইয়ের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। পাঠককে বিমল দে সুন্দরভাবে গ্রিনল্যান্ডবাসীদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। খুব আনন্দ পেয়েছি পড়ে।
ফ্রান্সে তিনি জিপসিদের সাহচর্যে থেকেছেন। মজলিশি আড্ডা জমিয়ে ক্ষণিকের জন্য হয়ে উঠেছিলেন যাযাবর।
ইস্টার দ্বীপের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা বেশ মোহিত করেছে।
ফ্রান্সের নিয়ন্ত্রণাধীন তাহিতি সৌন্দর্য বিমল দে'র মতো আমিও অভিভূত।
সত্তরের দশকে ইউএসের সমাজ নিয়ে ভালোই ধারণা পাওয়া যায় এই বই থেকে। সুস্পষ্টভাবে আমাদের সংস্কৃতির সাথে ওদের সমাজ ও লোকাচারের ফারাক চোখে পড়ে।
বিমল দে শখের পর্যটক নন। আদি ও অকৃত্রিম ভ্রমণকারী। ছবি তুলতে এবং পকেটের পয়সায় গাইড ভাড়া করে দুনিয়া দেখতে তিনি বের হননি। একটি সাইকেলে চড়ে তিনি পৃথিবীর পথে নেমেছেন। যেখানেই গেছেন কাজ করে পয়সা জোগাড় করেছেন। মুফতে সাহায্য পারতপক্ষে নেননি।
লেখক ভূপর্যটক। লেখালিখির হাত অসাধারণ বলা যাবে না। তবে, পড়তে পারা যায়। ভ্রমণকথা পছন্দ করেন- এমন কোনো পাঠক বইটি না পড়লে বিশাল কিছু মিস করবেন মোটেও এমন নয় বইটি।
বইটার সম্পর্কে প্রথম জেনেছি তারেক অনুদার ফেসবুকে। তারপর পড়া শুরু করার পর থেকে শুধু মুগ্ধতা আর বিস্ময়। একই সাথে পরিব্রাজক এবং সুলেখক - এই কম্বিনেশন টা দুষ্প্রাপ্য। তাই ভ্রমণ কাহিনীগুলো সাধারণত ট্রাভেল গাইড হয়ে যায়। ইন্টারনেটে পাওয়া ট্রাভেল লগ বা ওয়েবসাইটের সাথে এসব বইয়ের খুব একটা পার্থক্য থাকেনা।
কিন্তু এই বই একটা অন্য জিনিস। শূন্য হাতে বাইসাইকেল নিয়ে বিশ্বভ্রমনের জমজমাট গল্প। সাথে রয়েছে অসাধারণ জীবনবোধ, প্রকৃতি প্রেম, মানবপ্রেম, অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি। ভ্রমনকালে খুব সস্তায় বা বিনে পয়সায় থেকেছেন প্রান্তিক মানুষের সাথে - কখনো দিনমজুরের সাথে, কখনো মন্দিরে বা ধর্মশালায় আবার কখনো হাইকমিশনের গার্ডদের সাথে তাদের রুমে। জাহাজের নাবিকের চাকরী নিয়ে বা মাছ ধরা নৌকায় শ্রমিক হয়ে রথ দেখা আর কলা বেচার মত বিনে পয়সায় এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গিয়েছেন। ইগলুতে থেকেছেন, রাস্তায় তাঁবু খাটিয়ে থেকেছেন। যেখানে মানুষ যা খায় তাই খেয়েছেন।
বইটা পড়ছিলাম আর মনের মধ্যে একটা প্রবল আফসোস হচ্ছিল - ইশ, আমিও যদি বিমল দে এর মত হতে পারতাম! তবে আশা আছে, আমিও একদিন ভ্রমণে বের হব। বাইসাইকেলে না হোক, যেকোন ভাবে নিশ্চয়ই হবে।
An extraordinary master piece on traveling. Never thought a there was a bengali who made such an incredible journey. Living within Eskimos and Gypsies, wandering on the heart of Pacific ocean and picking up Their lifestyles. The style of telling the tales in spontaneous way will make one fall in love with travelling