কর্মসূত্রে দূরে থাকে বিহান, ঘরে আসন্নপ্রসবা স্ত্রী দরিয়া। একদিন শহর জুড়ে ভীষণ রাজনৈতিক সংঘর্ষ, উত্তপ্ত পথঘাট। তারই মধ্যে প্রসবযন্ত্রণা ওঠে দরিয়ার। শুরু হয় সময়ের, পরিস্থিতির বিরুদ্ধে নরনারীর অসম সংগ্রাম। একটি দিনের কাহিনি ‘শেষ নাহি যে’। জন্ম থেকে মৃত্যু বিরামহীন জীবনযুদ্ধকে ধরা একটি ঘনীভূতসংকটমুহূর্তের দ্যোতনায়। হিংসায় উন্মত্ত পৃথিবীর কোথাও কি তবু বেঁচে থাকে প্রেম, নতুন প্রাণকে স্বাগত জানাবে বলে?
ইন্দ্রনীল সান্যালের জন্ম হাওড়ার বালিতে, ১৯৬৬ সালে। নীলরতন সরকার মেডিকেল কলেজ থেকে এম বি বি এস। প্যাথলজিতে এম ডি, পিজি হাসপাতাল থেকে।সরকারি চাকরির সূত্রে কাজ করেছেন সুন্দরবনের প্রত্যন্ত প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে মহাকরণের ডিসপেনসারিতে, লালবাজার সেন্ট্রাল লকআপ থেকে গঙ্গাসাগর মেলার হেল্থ ক্যাম্পে।বর্তমানে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত।প্রথম প্রকাশিত গল্প ২০০৪ সালে ‘উনিশকুড়ি’ পত্রিকায়।শখ: বই পড়া, ফেসবুকে ফার্মভিল এবং হ্যাপি অ্যাকোয়ারিয়াম খেলা, সুদোকু সমাধান।
মাধ্যমিক এর সময় উপন্যাস টি রবিবাসরীয় তে ধারাবাহিক ভাবে পড়তে বেশ লাগতো তখন গোটা বছর টা , exam এর preparation টা যেনো এই ধারাবাহিক উপন্যাস এর ঘোরেই কেটে গেলো । মজার ব্যাপার Exam o শেষ উপন্যাস o শেষ।
"ভালোবাসা অত সহজ নয়, জানো তো ! কদিন বাদেই রূপ আর যৌবনের মোহ কেটে যাবে । তখন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করতে হবে সংসার চালানোর জন্য । কিন্তু আমরা সেটাই করব । কেননা আমি তোমার সঙ্গে আমার এই তুচ্ছ জীবন কাটাতে চাই । প্রতিটি সেকেন্ড, মিনিট, ঘন্টা ; প্রতিটি দিন, রাত, সপ্তাহ ; প্রতিটি মাস, বছর আর দশক তোমার সঙ্গেই কাটাতে চাই ! যতদিন বেঁচে আছি, ততদিন তোমার হাত ধরেই থাকতে চাই ।"
📄 এই উপন্যাসের মূল চরিত্র বিহান এবং দরিয়া । মফঃস্বলের দুই নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়ে বিহান ও দরিয়ার স্কুলজীবনের প্রেম পরিপূর্ণতা পেয়েছে বিবাহে । বিহান চাকরিসূত্রে দূরে থাকে । সপ্তাহে একটা দিন তাদের দেখা হয় । তবুও ওরা স্বপ্ন দেখে, কোনও একদিন এই বেঁচে থাকা বদলাবে । এক ছাদের নীচে, একসঙ্গে থাকবে ওরা দুজনে মিলে ।
▫️অন্তঃসত্ত্বা দরিয়ার গর্ভযন্ত্রণা উঠল এক বিশৃঙ্খল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে । যেদিন তার গর্ভযন্ত্রণা উঠল, সেদিন সকালে এক রাজনৈতিক নেত্রীর হত্যাকে কেন্দ্র করে বাংলার দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ শুরু হল । রাস্তায় নামল মিলিটারি । রাজ্য জুড়ে চলতে লাগল অঘোষিত বনধ । এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বিহান চেষ্টা করছে দরিয়ার কাছে পৌঁছতে । আর দরিয়াকে নিয়ে তার বাবা দৌড়চ্ছেন এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ।
▫️এইরকম পরিস্থিতিতে দরিয়া কি পারবে সুস্থ সন্তানের জন্ম দিতে ? বিহান কি আদৌ দরিয়ার কাছে পৌঁছতে পারবে ? ঘৃণায় ভরপুর, হিংসায় উন্মত্ত এই পৃথিবীতে প্রেম কি এখনও টিকে আছে ?
📄 এই সময়ের লেখকদের মধ্যে আমার অন্যতম প্রিয় লেখক ইন্দ্রনীল সান্যাল । ওনার লেখা ‛মেডিক্যাল থ্রিলার’ পাঠকমহলে বিশেষ আলোচিত হয়, কিন্তু উনি নিজেকে ওই জঁনরার মধ্যে আটকে রাখেননি । ওনার লেখা ‛রক্তবীজ’ এবং ‛ক্রান্তিকাল’ উপন্যাসদুটি আমার ব্যাক্তিগতভাবে সবচেয়ে প্রিয় উপন্যাস । এই উপন্যাসটিও আমার পছন্দের তালিকায় নবতম সংযোজন ।
▫️এই ‛শেষ নাহি যে’ উপন্যাসে চিকিৎসা ব্যবস্থার বিশেষ ভূমিকা থাকলেও, উপন্যাসটি আসলে একটি সামাজিক থ্রিলার । উপন্যাসের মূল ভিত্তি বর্তমান সামাজিক পরিস্থিতি... যা লেখকের কলমের ছোঁয়ায় ছবির মতো ফুটে উঠেছে পাঠকের চোখের সামনে । গল্পের মূল চরিত্ররা যেভাবে রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখোমুখি হয়েছে সেটি পড়তে পড়তে প্রতি মুহূর্তে অনুভব করেছি যেন আমি নিজেই ওই পরিস্থিতির শিকার... যা এককথায় ‛অসাধারণ’। এই উপন্যাসের আরেকটি শক্তিশালী দিক হল চরিত্রায়ন । মূল চরিত্রগুলির থেকেও মনে বেশি দাগ কেটে যায় রাজু হেলা, সুদাম, লেডিস পিন্টু - এই চরিত্রগুলি ।
▫️ভয়াবহ রাজনৈতিক দাঙ্গার মধ্যে শেষপর্যন্ত কে জয়লাভ করে ? রাজনীতি নাকি ভালোবাসা ? এই উত্তর পেতে অবশ্যই পড়ুন এই উপন্যাস ।
#bookish_subhajit #শুভর_আলোচনায় #পাঠক_প্রতিক্রিয়া বই- শেষ নাহি যে লেখক- ইন্দ্রনীল সান্যাল প্রকাশনা- আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড দাম- ৩৫০/- প্রচ্ছদ- শুভম দে সরকার বাইন্ডিং- হার্ড বাইন্ডিং জ্যাকেট সহ
"শেষ নাহি যে, শেষ কথা কে বলবে? আঘাত হয়ে দেখা দিল, আগুন হয়ে জ্বলবে ॥ সাঙ্গ হলে মেঘের পালা শুরু হবে বৃষ্টি-ঢালা। " - দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর
🔮 প্রচ্ছদ- প্রচ্ছদ এই জিনিসটি দেখেই শতকরা ৫০ শতাংশ মানুষ বইটি কেনেন। তাই স্বাভাবিক ভাবেই প্রচ্ছদ বই এর বিক্রিকে অনেকটাই প্রভাবিত করে। এই বই এর প্রচ্ছদ শিল্পী শুভম দে সরকার, অত্যন্ত পরিচিত মুখ। ওনার আঁকা আমরা প্রায় আনন্দবাজার এর রবিবার এর গল্পে বা উপন্যাস এ দেখতে পায়। তবে এই বই প্রচ্ছদটি মোটামুটি। কারন এই বই এর বিষয়বস্তু, লেখা যতটা চমকপ্রদ প্রচ্ছদ তার তুলনায় বড্ড ফিকে। তাই প্রচ্ছদটি আরও আকর্ষণীয় করা উচিত ছিলো আনন্দ পাবলিশার্স এর। প্রচ্ছদ রেটিং- (০৭/১০)
🔮 বই এর বাঁধন এবং পাতার মান- আনন্দ পাবলিশার্স এর বই এর দাম দিনের দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু তা হলেও তারা কোনদিনই পাতার মান বা বাঁধন এর সাথে কোন প্রকার কম্প্রোমাইজ করেন না। অসম্ভব সুন্দর এবং মজবুত একটি বাঁধন আর তার সাথে অত্যন্ত উন্নত মানের পাতা। এর জন্য অবশ্যই অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ আনন্দ পাবলিশার্স এর কর্ণধার এবং এই বই এর সাথে যুক্ত সকলকে। রেটিং- (১০/১০)
🔮 নামকরণ- শেষ নাহি যে.. এই নামকরন থেকেই বোঝা যাচ্ছে এখানে এমন কিছু আছে যার শেষ নেই, হ্যাঁ এখানে আছে তেমনই এক ভালোবাসা তেমনই এক সংসার জীবনের টানাপোড়েন এর কথা যার কোন শেষ নেই। তাই এই উপন্যাস এর নামকরণ শেষ নাহি যে একদম উপযুক্ত এবং যথার্থ। রেটিং- (১০/১০)
🔮 বইটি কারা পড়তে পারবেন আর কারা পারবেন না- এই বই এর জন্য কোন বাঁধা ধরা রাখতে নেই। কারন এই বই সবার। তবে অবশ্যই এই বই এর সমস্ত ঘটনার অর্থ বুঝতে হলে অবশ্যই প্রাপ্ত মনষ্ক এবং প্রাপ্ত বয়স্ক হতে হবে। কারন তবেই এই বই এর আসল রস আস্বাদন করা যাবে। আর আমার মত সর্বভূক পাঠকদের কাছে এই বই তো অমৃত সমান হয়ে উঠবে। আর অবশ্যই যারা ভাবছেন যে ইন্দ্রনীল বাবুর মেডিক্যাল থ্রিলার ছাড়া একটু অন্য ধারার লেখা পড়বেন তাদের কে আমি ব্যাক্তিগত ভাবে এই বই এর সাজেশন দিচ্ছি। অবশ্যই পড়ুন। এ জিনিস হাতছাড়া করা উচিৎ হবে না বলেই আমার মনে হয়।
🔮 বিষয়বস্তু- এই উপন্যাস একেবারেই একটি সামাজিক উপন্যাস। যার মধ্যে আছে সমাজের প্রতিটি গুণাবলী। তাতে যেমন আছে সুখ, দুঃখ, তেমনই আছে প্রেম , বিচ্ছেদ, হিংসা আবার তার সাথে সাথেই আছে রাজনৈতিক অস্থিরতা, আছে খুন জখম। আর এই সব কিছু মিলিয়ে মিশিয়ে এই উপন্যাস হয়ে উঠেছে এক অন্যতম প্রিয় লেখা গুলির মধ্যে একটি। এখানে আমার শুরুতেই দেখতে পায় এক মেয়ে দরিয়া চট্টোপাধ্যায় এর বর্ণনা , আদতে এই দরিয়া চট্টোপাধ্যায় ই হলো আমাদের গল্পের নায়িকা। যাকে বর্ণনা করতে গিয়ে লেখক বলেছেন " দরিয়া চট্টোপাধ্যায় দেখতে সাধারণ, চেহারা মাঝারি, গায়ের রং শ্যামলার দিকে। যে গল্প, কবিতা বা প্রবন্ধের বই পড়ে না । রবিবার ছাড়া খবরের কাগজ পড়ে না...."। এই বর্ণনা থেকেই একটা রুপ আমাদের সামনে ফুটে উঠেছে। আর ঠিক তার পরেই এসেছে বিহান চট্টোপাধ্যায় এর বর্ণনা, যার বর্ণনাও প্রায় একই রকম শুধু সে পুরুষ, বা বলা ভালো আমাদের গল্পের নায়ক। আর এই দুজনকে নিয়েই এগিয়েছেন আমাদের এই উপন্যাস এর ধারা। বিহান আর দরিয়ার স্কুল জীবনের প্রেম। তাদের বিবাহ ও হয়েছে। তবে বিহানের বাড়ি থেকে তার মা তা মেনে না নেওয়ায় দরিয়া থাকে তার বাপের বাড়ি লিলুয়া তে। আর বিহান একটি পোর্ট এ DEO পদে চাকরি করে, সপ্তাহের মাত্র একটি দিন রবিবার সে থাকে দরিয়ার কাছে, আবার সোমবার ভোরে বেরিয়ে যায় অফিসে। এবার বেশ কিছু দিন যাবার পর দরিয়া গর্ভবতী হয়। আর উপন্যাস এর সূচনা হয় সেই দর্ভবতী অবস্থার শেষ এর দিকে। একদিন হঠাৎ করেই দরিয়ার লেবার পেইন ওঠে। আর সেই সময়টা ভোট এর ঠিক আগে আগেই। আর যেদিন লেবার পেইন ওঠে ঠিক সেই দিনই সকালে দ���ষ্কৃতী দের সাথে নিহত হন "গনতান্ত্রিক মোর্চা" নামের এক পার্টির প্রাধান এর স্ত্রী মানসী বসু। আর তাতেই শুরু হয় রাজনৈতিক অস্থিরতা। এই রাজনৈতিক অস্থির অবস্থায় দরিয়া কী পারবে সুস্থ স্বাভাবিক সন্তানের জন্ম দিতে? বিহান কী পারবে এত দূর থেকে দরিয়ার কাছে আসতে? নাকী রাস্তাতেই শেষ হবে সবকিছুর? ঘৃনায় ভরপুর , হিংসায় উন্মত্ত এই পৃথিবীতে কী এখনও প্রেম আগেই মতই শক্তিশালী আর মজবুত আছে? প্রেমের কী সত্যিই কোন ক্ষমতা আছে? এই সব কিছুর উত্তর দিয়েছে এই উপন্যাস। এর সাথে সাথে এই উপন্যাস এর মধ্যে আছে একাধিক মজার মজার লাইন। তার সাথে আছে বিহান ও দরিয়ার জীবনের প্রেম এর বর্ণনা। আর আছে অন্যতম চরিত্র সাম্যব্রত এর কথা, যে আদতে দরিয়ার বাবা হলেও একজন অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও লড়াকু ব্যাক্তিত্ব। এই সমস্ত নানান ঘটনার মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে এই উপন্যাস এর ধারা। আর তাতেই সৃষ্টি হয়েছে এক অনন্য অতুলনীয় জিনিস এর।
🔮 ভালো লেগেছে- ১. বই এর সামগ্রিক দিক সবই বেশ ভালো। ২. উপন্যাস এর প্লট অত্যন্ত সুন্দর। এর সাথে সাথে লেখনী একটা অন্য লেভেলে তুলেছেন ইন্দ্রনীল বাবু, কারন এত সুন্দর প্রতিটি বর্ণনা যে কিছুই বলার অবকাশ নেই। অসম্ভব সুন্দর বিশ্লেষণ । ৩. ইন্দ্রনীল বাবুর লেখার যে বৈশিষ্ট্য , অর্থাৎ একটা সিরিয়াস জিনিস নিয়ে আলোচনা এর সময় একটা মজার লাইন বলে দেওয়া, এটা হয়তো উনিই একমাত্র পারেন। আর সেই কারনেই লেখাটা শেষ থেকে শুরু পর্যন্ত পাঠক ধরে রাখতে সক্ষম হয়। ৪. চরিত্র সৃষ্টি মারাত্মক রকমের ভালো। প্রতিটি চরিত্রের অসম্ভব সুন্দর বর্ণনা। আর যার কারনে প্রতিটি চরিত্র বড্ড বেশী জ্যান্ত মনে হয়, বড্ড বেশী বাস্তব মনে হয়। ৫. পর্ব সজ্জা অত্যন্ত সুন্দর। ৬. লেখা অত্যন্ত সাবলীল এবং সহজ সরল ভাষায় তার সাথে মার্জিত ভঙ্গিতে।
🔮 ভালো লাগেনি- এই বই এর ভালো না লাগার মতো কিছুই নেই 🙏 তবে প্রায় জায়গায় "জ" এর নীচে "ড়" এর মতো ফুটকি পড়ে গেছে। 😁
🔮 ভুল আছে - ১. আমরা দেখতে পায়, দরিয়ার চোট লেগেছে হাতে আর পায়ে লেগেছে বোমার টুকরো, কিন্তু ৩৬ পাতায় বিহান দরিয়ার মাথায় চোট এর কথা বলেছে। অথচ দরিয়ার মাথায় চোট লাগার কথা উপন্যাস এর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কোথাও নেই। এই জায়গা সংশোধন এর দরকার আছে।🙏
ধন্যবাদ 🙏 সকলে ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন 🙏 আর অবশ্যই বই এর থাকুন 🙏
হেরে যাওয়া মানুষের গল্প সহজে কেউ লেখেনা, ওদের হাত সহজে কেউ ধরতে চায়না। এই যেমন কালো বা ফর্সা নয়, বরং মাঝারি গড়নের বা মাঝারি বর্ণের ছেলেমেয়েদের গল্প, বেকার যুবক, পেটে ভুঁড়িওয়ালা হিরো কিংবা মাথার চুল কম হিরোইন... ভেবে দেখুন তো, এরকম চরিত্র নিয়ে কখনো কোনো গল্প কবিতা উপন্যাস শেষ হতে দেখেছেন?? খুঁজলে ঠিকই পাওয়া যাবে। মুশকিল টা ওখানেই; খুঁজতে হবে, মনে পড়বে না চট্ করে। "শেষ নাহি যে" তাদের গল্প। দুজন আদ্যন্ত সাধারণ, নিম্ন মধ্যবিত্ত ছেলেমেয়ে যাদের আর কিছু না থাকুক, দুচোখ ভর্তি স্বপ্ন আছে অফুরান। স্বপ্ন দেখা যেমন কখনো শেষ হয়না, স্বপ্ন দেখার মানুষেরও শেষ নেই। 🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂 "শেষ নাহি যে, শেষ কথা কে বলবে? আঘাত হয়ে দেখা দিল, আগুন হয়ে জ্বলবে ॥ সাঙ্গ হলে মেঘের পালা শুরু হবে বৃষ্টি-ঢালা। " - দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর
এই উপন্যাসেও এমন অনেককিছু রয়ে গেছে যা শেষ হয়নি... যেমন সংসারের টানাপোড়েন, টাকার অবিরাম খরচ, অভাব অনটন, রাজনৈতিক হিংসা। আবার সম্পূর্ণ হয়েছে বেশকিছু। এই যেমন বহুদিন সেই মানুষটিকে না দেখতে পাওয়া, না শুনতে পাওয়ার একটা বৃত্ত শেষে এসে যেন সম্পূর্ণ হয়েছে।
না এই গল্পে কোনো থ্রিল নেই ; নেই কোনো টানটান রোমাঞ্চকর শ্বাসের ওঠাপড়া, লুকোছাপা, কানাঘুষো কিস্সু নেই। বরং আছে বাড়ি ফেরার গল্প, কাছে এসে ছুঁয়ে দেখতে পারার আকুলতা আর অপেক্ষা। "কর্মসূত্রে দূরে থাকে বিহান, ঘরে আসন্নপ্রসবা স্ত্রী দরিয়া। একদিন শহর জুড়ে ভীষণ রাজনৈতিক সংঘর্ষ, উত্তপ্ত পথঘাট। তারই মধ্যে প্রসবযন্ত্রণা ওঠে দরিয়ার। শুরু হয় সময়ের, পরিস্থিতির বিরুদ্ধে নরনারীর অসম সংগ্রাম। একটি দিনের কাহিনি ‘শেষ নাহি যে’। জন্ম থেকে মৃত্যু বিরামহীন জীবনযুদ্ধকে ধরা একটি ঘনীভূতসংকটমুহূর্তের দ্যোতনায়। হিংসায় উন্মত্ত পৃথিবীর কোথাও কি তবু বেঁচে থাকে প্রেম, নতুন প্রাণকে স্বাগত জানাবে বলে?" হিংসায় উন্মত্ত পৃথিবীর বুকে এক হওয়ার জন্য ক্রমাগত লড়াই করে যাচ্ছে দুজন যুগল। একজোড়া চোখ শহরের বিপন্ন পরিস্থিতির মধ্যেও খুঁজে চলেছে আরেক জোড়া চোখকে। অস্তিত্বের সংকট বড়ো বালাই জেনেও বিহান এখন শুধু পৌঁছতে চায় হাওড়া হসপিটালে তার স্ত্রীয়ের কাছে, সেখানে যে রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে দরিয়া পৃথিবীর আলো দেখাতে চলেছে তাদের ভবিষ্যতকে। ওদের এই অমসৃণ জার্নির নামই হলো শেষ নাহি যে। যে পথের সঙ্গী দরিয়ার অকুতোভয় বাবা সাম্যব্রত আর একটা ফোন। 🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂
ফোন ইন্টারনেটের যুগে আলাদা করে এই সৃষ্টিগুলোর অস্তিত্ব আজকাল আমরা আর অনুভব করিনা। শ্বাসপ্রশ্বাসের মতো স্বাভাবিক একটা দৈহিক বৈশিষ্ট্যের মতো হয়ে গেছে যেন। হারানোর আগে বোঝার উপায় নেই কতটা কাছের ছিল। আমার এক দুঃসম্পর্কের বৌদির দিদা ছিলেন। ওনার স্বামী মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন সম্ভবত... দেশে ফেরা হয়নি আর.. দিদা যখন প্রথম মোবাইল ফোন দেখেছিল, তখন বৌদিকে জিজ্ঞাসা করেছিল, -- "কি যাদুর দুনিয়া হলো রে বুড়ি! ক্যামন তারে তারে কথা কয়। আচ্ছা হাত বাড়ালে ছোঁয়া যায়? গাল বাড়ালে চুমা যায়? " দরিয়া যেমন শুনেছিলো, বিহানের শ্বাসপ্রশ্বাসের ওঠানামা।।
সামাজিক-রাজনৈতিক সংকটের আবর্তে তৈরী উপন্যাসের মূল বৈশিষ্ট্য হল সময়কাল ও চরিত্রের সম্পর্কজনিত নিখুঁত উপস্থাপন, যা আমরা 'কালবেলা' সিরিজে পেয়েছি, মুগ্ধ হয়েছি, সমৃদ্ধ হয়েছি। লেখক এখানে একটি রাজনৈতিক সমস্যার চিত্র অঙ্কন করতে গিয়ে বিপরীতে তিনি একটি সাধারণ ভালোবাসার সম্পর্ককে অতিরঞ্জিত করে ভুলটা করলেন। ভাষা, বর্ননা, গল্পের উদ্দেশ্য, পরিণাম সবটাই সামঞ্জস্যহীন। কিছু কিছু জায়গায় অতিরিক্ত আধুনিক গানের ব্যবহার বর্ণনার গতিকে শিথিল করে দেয়। এর তুলনায় লেখকের মেডিকেল থ্রিলার বেশি সুখপাঠ্য। এটি কোনো সামাজিক থ্রিলার নয় বরং সামাজিক-রাজনৈতিক ঘটনাবলীর অংশবিশেষকে হিংসা ও ভালোভাসার দ্বন্দ্বের মোটিফে গড়ে তোলা হয়েছে যা আমাদের পরিচিত। এই ধরনের লেখার মধ্যে রাজর্ষি দাস ভৌমিকের 'ত্রিস্তর' অনেক বেশি পরিণত। লেখকের মেডিকেল থ্রিলার পড়ার পর যে ভাবনার গভীরতা অনুভব করেছিলাম তা এই উপন্যাসে খুঁজে পেলাম না। বাধ্য হয়ে দিলাম 2.5/5।
ঝরঝরে লেখা। পড়া শুরু করলে একমুহূর্ত থামার উপায় নেই। এতটাই টানটান একটি থ্রিলার। ভীষণ ভালো লেগেছে। ইন্দ্রনীল বাবুর লেখার ধরণ বেশ ���াবলীল। আর সব থেকে বেশি ভালো লাগে ওনার লেখায় ভালোবাসা, থ্রিল, সাসপেন্স, হিউমার সব একাকার হয়ে যায়। তাই অপেক্ষা করবেন না। অবিলম্বে পড়ে ফেলুন।