প্রচ্ছদে অর্ক পৈতণ্ডীর কন্সেপচুয়াল আঁচড়—রঙে, রেখায়, রহস্যে টইটম্বুর; ভূমিকায় সৈকত মুখোপাধ্যায়ের সূক্ষ্মদর্শী দৃষ্টিভঙ্গির ঝলক; আর মূল পাঠে ঋজু গাঙ্গুলীর গদ্য-আগ্নিস্রোত—এই ত্রিমুখী শক্তির সংমিশ্রণে রোমাঞ্চকর ১০ নিছক একটি অনুবাদ সংকলন নয়। এটি এক বিস্ময়কর সাহিত্যানুসন্ধান—যেখানে বহু ভূগোল, বহু ভাষা ও বহু কল্পনার স্পন্দন এসে একত্রে ধ্বনিত হয়েছে। This isn’t just a collection; it’s a curated symphony of suspense, each note echoing across borders.
বিশ্ব সাহিত্যের চারটি অতি জনপ্রিয় অথচ নান্দনিকভাবে জটিল ঘরানা—থ্রিলার, হরর, মিস্ট্রি এবং সাইকোলজিকাল টেনশন—এই গ্রন্থে দশটি অনন্য রচনার মাধ্যমে একত্র হয়েছে। অনুবাদ এখানে কেবল অনুবাদ নয়—এ এক ‘re-voicing’ of the original soul. Each story retains the ghost of its mother tongue, but speaks in a Bengali so supple, so seamlessly tuned, that it feels native in its new skin.
অনুবাদের কারিগরি নিপুণতা এতটাই যে পাঠক প্রায় ভুলে যান—এই গল্পগুলি আদতে বিদেশি ভাষায় রচিত। ঋজুর অনুবাদ যেন আত্মা ছাড়িয়ে শুধু ভাব নয়, atmosphere itself মূর্ত করে। As Haruki Murakami once said, “Translation is not a matter of words only; it is a matter of making intelligible a whole culture.” এবং সেই কাজটিই এই বই করে দেখায়—অত্যন্ত দক্ষতা ও শিল্পবোধের সঙ্গে।
গল্পগুলোর প্রতিটি অনুবাদ যেন পাঠকের চেতনায় নতুন করে ‘ঘর’ বাঁধে—নতুন, অথচ কোথাও যেন চেনা। ঠিক যেন ভিনভাষার আয়নায় দেখা নিজেরই এক অল্টার ইগো। They are, in a way, haunted reflections—mirrors that do not show our face, but our fears. প্রত্যেকটিই একটি নতুন ভাষায় পুরনো ভয়ের উচ্চারণ। আর সে কারণেই এই বই কোনও চটুল সংকলন নয়—বরং বহুস্বরের মধ্যে এক পরিপক্ব সাহিত্যস্বর।
অনুবাদ কি শুধুই ভাষান্তর? আসলে, একেবারেই নয়। Translation is not just carrying words across—it is carrying worlds across. এটি কেবল ভাষার পরিবর্তন নয়; এটি রস, রূপ, রীতি, এবং রহস্যের এক শিল্পসিদ্ধ সংস্থান। অনুবাদ যদি নিছক শব্দের অদলবদল হয়ে ওঠে, তবে তা "গল্প" থাকে না, কেবল একটি ভাষাগত প্রতিবেদন হয়ে দাঁড়ায়। সাহিত্য সেখানে হারিয়ে ফেলে তার প্রাণ। যেমনটি বলেছিলেন Umberto Eco:
“The language of Europe is translation.” ঠিক তেমনই, সাহিত্যের গভীর ভাষাও আসলে অনুবাদের মধ্যেই জন্ম নেয়—যখন অনুবাদক শুধুই অনুবাদক নন, হয়ে ওঠেন সহলেখক, সহপ্রাণ।
It is not mere translation—it is transcreation. এক ভাষা থেকে আরেক ভাষায় শুধু বাক্য গলিয়ে দিলেই সাহিত্য জন্মায় না। সেখানে চাই আত্মার স্থানান্তর। অনুভবকে অনুভবে রূপান্তর করার এক নিবিড় প্রক্রিয়া। As Salman Rushdie once said,
“Sometimes we feel that we straddle two cultures; at other times, that we fall between two stools.” সফল অনুবাদক সেই শিল্পী যিনি এই ‘between’ অবস্থা থেকে একটি তৃতীয় আসন নির্মাণ করতে পারেন—যেখানে দুই সংস্কৃতি সমানভাবে গেঁথে যায়।
একটি অনুবাদ যদি নিখুঁত না হয়, গল্প পড়ার অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে ম্যাড়ম্যাড়ে, ঝাপসা। ভাষা হয়ে ওঠে একটা দোভাষী কাচ, যার ওপারে গল্পটা স্পষ্ট নয়, শুধু তার আবছা ছায়া। যেন পেছনে আলো জ্বলে থাকলেও কাচের ধুলোর জন্য আমরা কিছুই দেখতে পাই না।
কিন্তু রোমাঞ্চকর ১০ পড়তে গিয়ে সেই অভিজ্ঞতা একবারের জন্যও হয়নি। ঋজু গাঙ্গুলীর অনুবাদ এতটাই নিঃশব্দে প্রবাহমান, এতটাই স্নিগ্ধ, শুদ্ধ এবং স্বচ্ছ যে পাঠক ভুলেই যান এটি অনুবাদ।
“A good translation is like a pane of glass. You only notice it when it’s flawed.” — Norman Shapiro
আর এখানেই ঋজু গাঙ্গুলীর কারুকার্য। তাঁর অনুবাদ reads like rain falling on memory—চুপচাপ, অথচ অব্যর্থ। It doesn’t “read” like a translation—it breathes like an original. প্রতিটি বাক্যে ধরা দেয় আত্মীয়তা, যেন লেখাগুলি বাংলা ভাষায়ই জন্ম নিয়েছিল, অন্য কোথাও নয়। তাঁর শব্দচয়ন এতটাই স্বাভাবিক ও গভীর যে পাঠক অনুভব করেন—এই গল্পগুলো তাঁর চেনা শহরের রাস্তায়ই হেঁটে বেড়ায়।
Jean-Paul Nerrière একবার বলেছিলেন,
“Translation is that which transforms everything so that nothing changes.” এই বইতে ঋজু গাঙ্গুলী যেন সেই চূড়ান্ত রূপান্তরের কারিগর। তিনি এমন নিখুঁত দক্ষতায় মূল গল্পগুলিকে নতুন ভাষায় প্রতিস্থাপন করেছেন, যাতে বদলের মাঝেও অটুট থাকে আসলের মেজাজ, ছায়া, ছন্দ এবং ছায়ালোক। যেন সাহিত্যের ডিএনএ বদলায়নি, শুধু ভাষার দেহবস্র পাল্টেছে।
He is not just translating the text—he is reanimating its soul.
এটাই ‘রোমাঞ্চকর ১০’-এর সবচেয়ে বড় অর্জন—এটি অনুবাদ নয়, সাহিত্যিক পুনর্জন্ম।
আগাথা ক্রিস্টির The Dream গল্পে এরকুল পোয়ারো একটি বাক্যে যেন গোটা রহস্যের মেজাজকে ছুঁয়ে ফেলেন—
“A man who dreams of his own death may simply be entertaining himself… unless the dream comes true.”
এই এক-লাইনের মধ্যেই আছে নিঃসঙ্গ ধনী ব্যক্তির অদ্ভুত মানসিকতা, আছে মৃত্যু নিয়ে খেলা করার একরকম প্রহসন, এবং আছে আতঙ্কের ছায়া। ঋজু গাঙ্গুলীর অনুবাদে এই বাক্যটি রূপ পায়:
“নিজের মৃত্যুর স্বপ্ন দেখা মানেই যে অশুভ, তা নয়… যতক্ষণ না তা সত্যি হয়ে দাঁড়ায়।”
এখানে শুধু ইংরেজি বাক্যের তথ্যগত অনুবাদই নয়, রয়ে গেছে পোয়ারোর সেই বিখ্যাত রসবোধ, সেই শুষ্ক অথচ তীক্ষ্ণ বুদ্ধি, এবং সর্বোপরি—তার কৌতুকময় আত্মবিশ্বাস। অনুবাদক যেন শব্দ অনুবাদ করেননি, অনুবাদ করেছেন পোয়ারোর “ভয়ডরহীন বুদ্ধির ছায়া”। যেমনটি টের পাওয়া যায় পরবর্তী পংক্তিতেও, যেখানে পোয়ারো বলেন:
“The difference between a madman and a genius is only a matter of success.”
ঋজুর অনুবাদে সেটিও বেজে ওঠে একই সুরে—
“উন্মাদ আর প্রতিভাবান মানুষে পার্থক্য খুবই সামান্য—যে সফল, সেই জিনিয়াস।”
এই ধরণের অনুবাদে কোথাও কোনও 'বাউন্স' নেই। যেন মূল গল্পের রক্ত, হাড়, শিরা-উপশিরা একই অনুপাতে বাংলায় প্রতিস্থাপিত হয়েছে। It reads not like a translation, but like a whispered retelling across languages.
ঋজুর পোয়ারো “খাসা বাঙাল” হয়ে ওঠে না, আবার বিদেশি কোলন-সেমিকোলনের ভারে ঠাসাও নয়। বরং এমন এক প্রাঞ্জল গদ্যে পোয়ারোকে হাজির করা হয়, যা বাঙালি পাঠকের কল্পনায় তার নিজের 'রহস্য-দাদু'-র মতন বসে যায়। এককথায় বললে, অনুবাদক এখানে সেতুবন্ধকের চেয়েও বেশি—তিনি হয়ে ওঠেন আরেক ‘storyteller’, যিনি মূল গল্পের চেতনাকে বাংলার পাঠে নত নয়, বরং সমকক্ষ করে তোলেন।
নীরব ভালবাসার অভিঘাত: ‘গলদ’ গল্পে অনুবাদের অন্তর্লীলায় জন ডিকসন কার-এর The Wrong Problem—বাংলায় ‘গলদ’—নামেই ইঙ্গিত দেয়, সমস্যাটা হয়তো ঠিক প্রশ্নে নয়, বরং সেই প্রশ্নপূর্ব যন্ত্রণায়, যেখানে ভালোবাসা, আস্থা আর অসম্পূর্ণতা এক অদৃশ্য জট পাকিয়ে তোলে আমাদের চিন্তা ও সহানুভূতির কেন্দ্রবিন্দু।
গল্পটির কেন্দ্রকথা—এক অনাথ শিশুকে দত্তক নেওয়া এবং তার আশ্চর্য পরিণতি—নিশব্দে এক বিপুল ভালোবাসা ও মানবিক দ্বন্দ্বের আখ্যান তৈরি করে। এটি নিছক খুনের রহস্য নয়; এটি হৃদয়ের নির্জন কোণে জমে থাকা এক বেদনার ভাষ্য।
মূল ইংরেজি পাঠে এক অসামান্য মৃদু কিন্তু গভীর উচ্চারণ রয়েছে—
“He never raised his voice. He never scolded the boy. That was love. Unquestioning, tragic, vulnerable love.”
এই চারটি বাক্যে সংযম, নিরাভরণ করুণা, এবং ভঙ্গুর মানবিকতা এক অভাবনীয় ঘনত্বে মিশে গেছে। এটি এমন এক ভালোবাসা যা শব্দে উচ্চারিত হয় না, কিন্তু নিরবধি নিঃশ্বাসে থেকে যায়।
ঋজু গাঙ্গুলীর অনুবাদে সেই চেতনা নতুন ভাষায় জন্ম নেয়, গভীরতর সুরে:
এই অনুবাদে শুধু পাঠানুবাদ নেই—আছে স্পন্দনানুবাদ। “ভঙ্গুর”—এই একটি শব্দে ধরা পড়ে ভালোবাসার সেই প্রান্তিক মুহূর্ত, যেখানে এক ফোঁটা শব্দেই ভেঙে পড়ে বিশ্বাস, কিংবা টিকে যায় চিরকাল। “Vulnerable” শব্দটি হয়তো অনুবাদকের অভিধানে ছিল, কিন্তু “ভঙ্গুর” শব্দটি এসেছে তাঁর পাঠকচেতনা থেকে—এটি a poetic act of calibration, যার মাধ্যমে তিনি মূল পাঠের হৃদপিণ্ড টেনে এনেছেন বাংলার নাড়ির গভীরে।
তাঁর অনুবাদে শব্দ যেন জলবিন্দুর মতো পড়ে, প্রতিটি শব্দের চারপাশে তৈরি হয় এক নৈঃশব্দ্যবৃত্ত, যা পাঠককে শুধু ভাবায় না, থমকে দেয়। এই অনুবাদ কেবল ভাবের নয়—এটি বিশ্বাসেরও পুনর্গঠন। Roland Barthes বলেছিলেন—
“Literature is what gets said, translation is what gets felt.”
এই অনুভব, এই 'felt-sense'—ঋজুর অনুবাদে তা ঠিক যেন a soft echo of the original, একটি আত্মিক পুনর্জন্ম। তিনি ভাষার পোশাক বদলাননি; বদলে দিয়েছেন তার মেজাজ, এবং তা এতটাই নিঃশব্দে যে পাঠক টেরই পান না কখন হৃদয়ে ঢুকে পড়েছে গল্পের আলো।
সুতরাং ‘গলদ’ এখানে শুধু একটি গল্প নয়; এটি অনুবাদক ও পাঠকের মধ্যেকার এক আত্মবিশ্বাসী বোঝাপড়া—যেখানে প্রতিটি বাক্য এক শীতল দীর্ঘশ্বাসের মতো নামা দেয় এবং প্রতিধ্বনি তোলে পাঠকের নিজের জীবনের গোপন ঘরে।
গল্পচয়নের কৃতিত্ব: রোমাঞ্চের পাঠ-রসায়ন রোমাঞ্চকর ১০-এর সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ও প্রশংসাযোগ্য দিকগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো এর গল্পচয়ন। অনুবাদ সাহিত্যে গল্প নির্বাচনের কাজটা নিছক পছন্দসই বা বিখ্যাত লেখকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—বরং এখানে দরকার শিল্পদৃষ্টি, টোনের সংবেদন, এবং পাঠকপ্রতিক্রিয়ার পূর্বাভাস বোঝার ক্ষমতা। সেই কাজটিই ঋজু গাঙ্গুলী এখানে করেছেন chirurgically precise এক মুন্সিয়ানায়।
প্রথমেই ধরা যাক এম. আর. জেমস-এর ‘তেরো’। এটি একটি হান্টেড হোটেল রুম নিয়ে গল্প—কিন্তু ঐতিহ্যগত ‘ghost story’ নয়। এখানে ভয় ধীরে ধীরে হিম হয়ে জমে, যেন হাওয়ার গায়ে লেগে থাকা এক অদৃশ্য ছায়া। Creeping unease—বা বললে আরও ভালো, “a fear that does not shriek, but shivers.” এই আতঙ্ক নিঃশব্দ, কিন্তু চেতনায় কৃমির মতো ঘোরে।
ঋজু এই গল্পে মেজাজটিকে সরাসরি কোনও কুয়াশায় ঢেকে দেননি—বরং রেখেছেন খোলা জানালার মতো, যেখান দিয়ে শীতল বাতাস ধীরে ধীরে ঢোকে। অনুবাদের গদ্যে থাকে একটি deliberate restraint, যা এম. আর. জেমসের নিজস্ব গম্ভীর অথচ understated স্টাইলে নিখুঁতভাবে মানানসই।
এবার আসি ফ্রেডরিক ব্রাউনের ‘রণ’-এ। মাত্র কয়েক অনুচ্ছেদের মধ্যেই গল্পটি কল্পবিজ্ঞানের ক্লাসিক এক dilemma ছুঁয়ে যায়—আমরা মানব সভ্যতার প্রতিনিধি হিসাবে কতখানি ‘মানবিক’? ঋজুর অনুবাদে এই দোটানা অনবদ্যভাবে ধরা পড়ে—তাঁর বাংলা গদ্যে বজায় থাকে সেই sci-fi crispness, আবার কোথাও একটা নৈতিক কুয়াশাও। একটিমাত্র অনুচ্ছেদেই তিনি তুলে ধরেন—
“সে তাকিয়ে আছে মৃত্যুর দিকে, আর ভাবছে—মারা গেলে সে মানুষ থাকবে, না থাকলে সে মানুষ?”
এই বাক্যে রয়েছে অস্তিত্ববাদী এক প্রতিধ্বনি—যার রেশ পাওয়া যায় ক্যামু কিংবা বেকেট-এর ভাবনায়ও।
এবং শেষে ‘মুখ’ (E.V. Lucas)। গল্পটির শেষ দৃশ্যে, যেখানে দেওয়ালের স্যাঁতসেঁতে দাগে মুখের অবয়ব ধরা পড়ে, সেখানে লেখকের মূল ইংরেজি পঙ্ক্তি:
“The face is gone. Or never was. Or—perhaps—it still is.”
ঋজু গাঙ্গুলী অনুবাদ করেছেন:
“মুখটা আজ নেই… বা কখনও ছিলও না… বা… হয়তো এখনও আছে?”
এই বাক্যটি যেন এক নিঃশব্দ শব্দবোমা। Suspense ও existential vertigo—দুটিই একসঙ্গে আছড়ে পড়ে। এ অনুবাদে যে অস্ফুটতা, সেই দোলাচল—is it madness or memory? hallucination or haunting?—তা একেবারে মূল গল্পের প্রায় মোহঘোরে ঢুকে পড়ে। এখানে অনুবাদক শুধুমাত্র ভাষা বদলাননি—তিনি বজায় রেখেছেন মূল লেখার “liminal uncertainty”—সেই হাল্কা কুয়াশা, যেখানে পাঠক নিশ্চিত না হয়ে উঠেই শেষ লাইনে আটকে যায়।
এই তিনটি গল্পের অনুবাদ এবং চয়ন এটাই প্রমাণ করে যে, রোমাঞ্চকর ১০ কোনও অপরিকল্পিত অনুবাদ সংকলন নয়—এটি একটি পাঠপরিকল্পিত থিম্যাটিক অভিজ্ঞতা, এক সুপরিকল্পিত emotional arc। যেমন Edgar Allan Poe বলেছিলেন—
“A short story must have a single mood and every sentence must build towards it.”
এই সংকলনের প্রতিটি গল্প যেন Poe-এর এই বিধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে তৈরি হয়েছে—এখানে একেকটি গল্প একেকটি মেজাজ, আর অনুবাদক তার প্রতিটি শব্দ দিয়ে সেই মেজাজকেই যত্নে মঞ্চস্থ করেছেন।
সংকলনের টেক্সচার ও টাইপোলজি: রোমাঞ্চের মাল্টিলেয়ারড ম্যাপ ‘রোমাঞ্চকর ১০’ নিছক দশটি অনূদিত গল্পের একটি সমাহার নয়—এটি আসলে একাধিক রোমাঞ্চধারার মধ্যে একটি আন্তঃবস্তুগত সংলাপ, একটি বুনট যেখানে হরর, ক্লাসিক ডিটেকটিভ, সাইকোলজিকাল থ্রিলার, এবং স্পেকুলেটিভ ফিকশন একে অপরকে ছুঁয়ে যায়, এবং কখনও কখনও ছায়া ফেলে দেয়।
প্রতিটি গল্প যেন একেকটি স্বতন্ত্র ‘textural experience’—কখনও ধাতব-তীক্ষ্ণ (যেমন গলদ), কখনও কুয়াশার মত ঝাপসা (কুয়াশায়), কখনও যেন ঠান্ডা আতঙ্কের মত ত্বকে লেগে থাকে (তেরো), আবার কখনও নিঃশব্দ অথচ দ্ব্যর্থহীন (মুদ্রারহস্য)।
এখানে কোনও ধরণের over-clustering নেই—বরং প্রতিটি গল্প একে অপরকে ‘off-set’ করে। এক অলৌকিক গল্পের পরে এসে একটি ঠান্ডা, ক্লিন, যুক্তিনির্ভর রহস্য গল্প পাঠককে ক্লান্ত করে না—বরং মনকে সতেজ করে তোলে। যেমন চা’র পরে এক চিমটে নুন—আস্বাদন আরও উজ্জ্বল হয়।
গল্প বিন্যাসেও আছে মনস্তাত্ত্বিক সূক্ষ্মতা।
‘স্বপ্ন’ দিয়ে শুরু হওয়া সংকলন আমাদের নিয়ে যায় একটি অভ্যন্তরীণ দোলাচলের দিকে—স্বপ্ন আর বাস্তবের সীমারেখা নিয়ে খেলা। তার পরে আসে একের পর এক ঘরানা, ঠিক যেন পাঠককে পাঠানুগত্য নয়, পাঠ-প্রস্তর রোমাঞ্চে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার রোডম্যাপ।
তুলনা করতেই হয় Umberto Eco-র মত সাহিত্যিকদের কথার সঙ্গে, যিনি বলেছিলেন: “Books always speak of other books, and every story tells a story already told.”
এই সংকলনের প্রতিটি গল্প যেন পূর্ববর্তী কোনও সাহিত্যের প্রতিধ্বনি নয়—বরং সেটিকে পেরিয়ে এক নতুন বাঁকে মোড় নেওয়া। এবং এই বাঁকগুলো তৈরি হয়েছে সম্পাদনার মেধায় এবং অনুবাদকের অন্তর্দৃষ্টিতে।
সব মিলিয়ে, এটি একটি পাঠ-রোমাঞ্চের কোরিওগ্রাফি—
একটি গল্প শেষ করে আপনি যখন পরেরটিতে পা রাখেন, তখন মনে হয় আপনি শিরদাঁড়া বেয়ে একটি নতুন আবহে ঢুকে পড়েছেন। ক্লান্তি আসে না, বরং চোখে জমে যায় আরেক পরত কৌতূহল। This is not just a book—it’s a curated experience, stitched across genres like a literary mixtape.
প্রচ্ছদ ও পরিকাঠামো: The Book as a Visual and Textual Architecture:
অর্ক পৈতণ্ডীর প্রচ্ছদ এই বইয়ের শুধু চেহারাই নয়—এ তার চেতনাও। প্রচ্ছদটি যেন একটি দৃষ্টিস্বপ্ন: রঙের রোদের ভেতর ছায়ার আলো, রহস্যের অলিন্দে একটি অসমাপ্ত চোখ, কিংবা কুয়াশার ভেতর হঠাৎ জ্বলে ওঠা কোনও অনুসন্ধানী ফ্ল্যাশলাইট।
এটি নিছক "illustration" নয়—it’s a visual threshold, an invocation. একবার চোখ পড়লেই পাঠকের মনে হয়, “I don’t know what’s inside, but I need to know.” সেই টানটাই তো একজন প্রচ্ছদশিল্পীর জয়।
As Italo Calvino wrote: “A classic is a book that has never finished saying what it has to say.”
এই প্রচ্ছদ সেই টাইপের এক নীরব ‘prologue’।
ভিতরে এসে, পরিকাঠামোয় পাঠক পায় এক প্রীতিস্পর্শ—পেপারব্যাক হলেও বইটি ঝকঝকে, বানান-ত্রুটি শূন্য, স্পেসিং প্রশস্ত, লেটারিং চোখ-সই, ও গল্পানুগতভাবে ফ্লো করা একটি পরিপাটি অভিজ্ঞতা।
ভূমিকায় সূক্ষ্মতার স্পর্শ রয়েছে। সাধারণত ‘ভূমিকা’ অংশ পাঠকের কাছে এমন এক অধ্যায়, যা পড়ার বদলে ‘স্কিপ’ করা হয়। কিন্তু সৈকত মুখোপাধ্যায়ের লেখা ভূমিকা ঠিক উল্টো—এটি ‘foreword’ নয়, এটি ‘forewarned’। তিনি গল্পগুলো সম্পর্কে না বলে, গল্প পড়ার ভূমি তৈরি করে দেন। ঠিক যেন একজন উদ্বোধক, যিনি পাঠকের চোখে একপ্রস্থ স্নানজল ঢেলে দিয়ে বলেন, “তোমার পড়া এখন শুরু হোক।”
One might recall Anne Dillard’s idea: “The page is jealous. Words want to be read, not skipped.” এই ভূমিকা ঠিক সেই পৃষ্ঠার হিংসা থেকেই জন্ম—যেখানে প্রতিটি বাক্য পাঠকের মনোযোগ দাবি করে।
Lay-out as Storytelling:
গ্রন্থের বিন্যাসও অনবদ্য। প্রতিটি গল্পের শুরুতে আছে সংক্ষিপ্ত সূচনাপর্ব, আলাদা পরিচ্ছেদ ফ্রেমিং, এবং ভেতরে চমৎকার প্যারাগ্রাফ ব্রেক, যা “visual breathing room” তৈরি করে। এ কেবল পাঠ নয়—পাঠের শ্বাসপ্রশ্বাস।
এমনকি অনুবাদগুলোর পাশেও কোনও অতিরিক্ত ‘editorial annotation’ নেই—তাতে পাঠক একটানা জগতে ডুবে যেতে পারেন, কোনও "footnote fatigue" ছাড়াই। The architecture of the book respects the integrity of immersion.
সব মিলিয়ে, ‘রোমাঞ্চকর ১০’ একটি ‘reader’s object of desire’—যেখানে ফর্ম এবং ফাংশন, প্রচ্ছদ ও পাঠ, রূপ ও রস, সবকিছুই সংহত। একে কেবল একটি সংকলন বললে কম বলা হয়—এটি একটি শিল্পবস্তুরূপী গ্রন্থ, a collectable artefact of suspense.
উপসংহার: পাঠ ও রূপান্তরের রোমাঞ্চ:
‘রোমাঞ্চকর ১০’ কেবল দশটি অনুবাদ নয়—এটি দশটি সাহিত্যিক বিস্ফোরণ, যার প্রতিটি বিস্ফোরণেই একটি করে নতুন ভাষা, নতুন সংস্কৃতি, এবং নতুন পাঠ-তৃষ্ণা জন্ম নেয়। একদিকে এটি যেমন অনুবাদ সাহিত্যের সম্ভাবনাকে একটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়, তেমনি বাংলা ভাষায় ক্লাসিক থ্রিলার অনুবাদের অন্যতম উৎকৃষ্ট নিদর্শন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে ওঠে।
ঋজু গাঙ্গুলীর অনুবাদে শুধু গল্পের কাঠামো নয়—গল্পের ধমনি, রক্তচলাচল, শ্বাস-প্রশ্বাস পর্যন্ত অনুভব করা যায়। তাঁর ভাষা মসৃণ, অথচ লেগে থাকে; ঝরঝরে, তবু গভীর; যতটা নিজস্ব, ঠিক ততটাই বিশ্বসাহিত্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
As Salman Rushdie once said: “A translation is not a mirror, it is a doorway.”
এই বই সেই দরজা, যার প্রতিটি পাতায় আমরা প্রবেশ করি এক নতুন রহস্যজগতে—যেখানে পেছনের ছায়া, দরজার ওপারের মুখ, কিংবা কোনও অলৌকিক ভয় এক মুহূর্তে এসে বসে পড়ে আমাদের কাঁধে।
এই বই পড়া মানে শুধু গল্প পড়া নয়—এই বই পড়া মানে সাহিত্যের এক বহুপার্বিক রোমাঞ্চের অংশীদার হয়ে ওঠা।
তাঁরাই অনুবাদ করতে পারেন, যাঁরা কেবল শব্দ অনুবাদ করেন না, গল্পের “spirit” অনুবাদ করতে পারেন—গল্পের অন্তর্লীন ছন্দ ও নিঃশ্বাসকে নতুন ভাষায় রূপান্তর করে তাকে আবারও জীবিত করেন।
ঋজু গাঙ্গুলী সেই বিরল কয়েকজনের একজন।
এই বই পড়ার পরে আপনার মনে হয়তো একটি কথাই বারবার ফিরে আসবে— “I didn't read a translation. I read a thriller that happened to be in Bengali.”
এটাই ‘রোমাঞ্চকর ১০’-এর সবচেয়ে বড় সাফল্য। And that, dear reader, is the magic of a master translator who knows how to thrill you—twice. Once in mystery. And once in meaning.
এই বই শেষ হয় না। এটি থেকে আপনি ফিরে আসেন— পরিবর্তিত হয়ে।
বিশ্ব সাহিত্যের যে গল্পগুলো দিয়ে বইটি সাজানো হয়েছে.. চলুন...সেগুলো নিয়েই আলোচনা করা যাক।
১. স্বপ্ন.. আগাথা ক্রিস্টি : বেনেডিক্ট ফারলে নামে একজন ধনকুবের ব্যবসায়ী প্রতিরাতে স্বপ্নে দেখে যে সে আত্মহত্যা করছে। সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপান্তরিত হওয়ার পর তদন্তে নামেন পোয়ারো। স্বল্প পরিসরেও পাঠককে চমকে দেবার ক্ষমতা যে আগাথা ক্রিস্টি রাখেন তার অন্যতম উদাহরণ হলো এই গল্পটি।
২. তেরো.. এম.আর.জেমস : এই গল্পটি কে নিয়ে কিছু বলা মানেই হলো পড়ার মজাকে স্পয়েল করা। তাই শুধু এটুকুই বলব.. "ভুতুড়ে হোটেল রুম" ব্যাপারটা নিয়ে আজ পর্যন্ত যত গল্প পড়েছি, তাদের সবার ওপরে রাখব এই গল্পটিকে।
৩. গলদ.. জন ডিকসন কার : এই গল্পটা শেষ করার পর সর্বপ্রথম আমার মাথায় আসে "The Equalizer" সিনেমার সেই দৃশ্যটির কথা যেখানে Denzel Washington Marton Csokas কে একটা গল্প শোনাচ্ছেন। গল্পটা হচ্ছে একজন সোশ্যাল ওয়ার্কারের। তার পাঁচটি সন্তান থাকা সত্ত্বেও সে একটা ১২ বছরের অনাথ ছেলেকে দত্তক নেয়। সেই ছেলেটিকে নিজের ছেলের মতো প্রতিপালন করার পরও সে ঘরে চুরি করে, স্কুলের পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হয়, মিথ্যা কথা বলে, অন্যান্যদের সাথে ঝগড়া করে, তবুও সেই মানুষটি তাকে কোনোরকম বকাঝকা করেন না। বরং তাকে আরো কাছে টেনে নিয়ে ভালোভাবে বোঝান ঠিক ভুলের হিসেব। তার বিশ্বাস ছিল 'ভালোবাসা' অনাথ ছেলেটি কে পুরোপুরি পাল্টে দেবে। অবশেষে তার ইচ্ছা পূরণ হয়। কিন্তু ঠিক তার এক সপ্তাহ পরে তাদের বাড়িতে কয়েকজন দুস্কৃতী ঢুকে স্ত্রী সমেত সেই মানুষটি কে হত্যা করে। তদন্তে দেখা যায় কয়েকটা ছোটখাটো জিনিসই চুরি গেছে। যাইহোক, এরপর তাদের পাঁচটি সন্তানকেই কোনো এক আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হলে সেই অনাথ ছেলেটি আবারও অনাথ হয়ে যায়। এবার প্রশ্ন, খুনটা কী দুস্কৃতীরাই করেছিল নাকি অন্য কেউ? তার থেকেও বড় প্রশ্ন কেন করেছিল? এর উত্তরটা পেলে আপনি বুঝতে পারবেন "গলদ" গল্পটার গভীরতা এর থেকেও কিছুটা বেশি। যদি এই দুটিই আপনার পড়া ও দেখা না হয়ে থাকে অবিলম্বে ভুলটি সংশোধন করুন।
৪. মস্তান.. আর্থার কোনান ডয়েল : আর্থার কোনান ডয়েলের এই গল্পটি শিশির চক্রবর্তীর অনুবাদে আগে পড়া থাকলেও তর্জমার মান ভালো লাগেনি। ফলে গল্পটিও মনে ধরেনি। কিন্তু ঋজু গাঙ্গুলীর নির্মেদ অনুবাদ গল্পটির প্রতি আমার ধারণাকে পুরোপুরি পাল্টে দিতে সক্ষম হয়েছে।
৫. কানামাছি.. এইচ. আর. ওয়েকফিল্ড : ভুতুড়ে বাড়িতে আটকে পড়ার চিরাচরিত প্লট কে বর্ণনার গুণে কিভাবে অন্যমাত্রায় নিয়ে যেতে হয় তার বলিষ্ঠ উদাহরণ এই গল্পটি। আপনি ভয় পাচ্ছেন সেটা বুঝতে পারলেও কাকে ভয় পাচ্ছেন সেটা বুঝতে পারছেন না। এই পরিস্থিতির কথা ভাবতে গেলেই তো গা ছমছম করে ওঠে।
৬. রণ.. ফ্রেডরিক ব্রাউন : অ্যাভেঞ্জার্স এন্ডগেম এর পর আরো একটা এন্ডগেম.. হ্যাঁ সত্যি বলছি.. বহিরাগতদের দ্বারা গোটা মানব সভ্যতা ধ্বংসের মুখে.. বাঁচাতে পারে একজন.. কে? কীভাবে? সেইসব তো বলা যাবে না। কেননা.. আমিও #DontSpoilTheEndgame নীতিতে বিশ্বাসী। 😊
৭. মুখ.. ই. ভি. লুকাস : ড্যাবনের বাড়ির গল্পের আসরে উপস্থিত এক অতিথির অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথার মধ্যে দিয়েই এই গল্পের শুরু। সে অরমন্ড স্ট্রিটের একটা পুরানো বাড়িতে ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতো। একদিন সে লক্ষ্য করে দেওয়ালে নানা জায়গায় ড্যাম্পের ছোপ ধরেছে। আশ্চর্যজনকভাবে তাদের মধ্যে একটি ছাপ পুরোপুরি এক মানুষের মুখের আদল নিয়ে ফুটে উঠেছে। গল্পটা শেষ হওয়ার আগের মুহূর্তেও আমার খুব রাগ হচ্ছিল। কেননা অনেক প্রশ্ন তৈরি করে, তার সদুত্তর না দিয়েই গল্পটা শেষ হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু শেষ লাইনে, গল্পের একদম শেষ লাইনটায় ... চেক-মেট !
৮. মুদ্রারহস্য.. আরনেস্ট ব্রামা : নিলামের আগে বহুমূল্য এক মুদ্রা চুরি হয়ে যায়। সন্দেহের তীর গিয়ে পড়ে এক মহিলা সাংবাদিকের ওপর। কেননা নিলামে ওঠার আগে শেষবার তিনিই নাকি মুদ্রাটি হাতে নিয়ে দেখছিলেন। চোরের ছাপ্পাটা মুছে ফেলতে তাই তিনি স্বরণাপন্ন হন অন্ধ ডিটেকটিভ ম্যাক্স ক্যারাডক্সের কাছে। শুধুমাত্র মগজাস্ত্রের জোরে কিভাবে তিনি এই রহস্যের সমাধান করেন, সেই নিয়েই গল্প। গল্পটির মধ্যে পুরোনো গোয়েন্দা গল্পের একটা চার্ম রয়েছে। পড়তে ভালোই লাগে।
৯. রাস্তা.. উইলিয়াম হোপ জনসন : গল্পটি প্রেডিক্টেবল.. তা সত্ত্বেও যেভাবে গল্পটাকে প্রেজেন্ট করা হয়েছে তাতে সিরিয়াসলি বলছি(ঢোক গিলে) হাত পা ঠাণ্ডা হয়ে গেছিল। একটা রাস্তা .. শুধুমাত্র একটা রাস্তা চাই ওদের(??) তাহলেই তারা....
১০. কুয়াশায়.. বেসিল কপার : মুগ্ধতার বর্ণনা সবসময় দেওয়া সম্ভব হয় না। এক্ষেত্রেও পারলাম না। শুধু নোবেলের গানের কয়েকটা লাইন তুলে ধরছি আপনাদের সামনে " তোমার মনের ভেতর যাই মুখের ভীড়ে মুখোশ পাই ঘাসের ফাঁকে লুকিয়ে থাকে শিকারি যেন... তুমি দেখছো তাকে, ভাবছো যাকে, সে আসল মানুষ নয়....."
শ���ষে কয়েকটা কথা,
~ অর্ক পৈতন্ডীর করা প্রচ্ছদ ও অলংকরণ ফাটাফাটি।
~ সৈকত মুখোপাধ্যায়ের লেখা ভূমিকা টা এক কথায় অ..সা..ধা..র..ণ..!!
~ " যিনি রোমাঞ্চের ব্যকরণ জানেন, তিনিই পারেন রোমাঞ্চের সঠিক অনুবাদ করতে।" কথাটি যে অক্ষরে অক্ষরে সত্যি তা আমি বইটি পড়তে গিয়ে ভালোমতন বুঝতে পেরেছি। আপনারাও পড়ুন। এটুকু বলতে পারি.. আশাহত হবার কোনো চান্স নেই। নমস্কার।