রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মতে মুসলিম উম্মাহ এক দেহের মতো। আমাদের আচরণ কি সেটা প্রমাণ করছে?দেহের একটা অংশ হয়েও কি বাকি অংশের বেদনা টের পাই? টের পেলেও, সামান্য কয়েকটা টাকা ছিটিয়ে দিলেই বুঝি দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়? টাকাতেই কি সব সমস্যার সমাধান?
লেখক নিজেদের দুরাবস্থা নিয়ে আক্ষেপ ও অনুশোচনা করেই এই বইটি শুরু করেছেন। আমরা বাংলাদেশে আছিতো, বেশ শান্তিতেই আছি আলহামদুলিল্লাহ। একটাবার সিরিয়া,ফিলিস্তিন, ইসরায়েল,উইঘুর, কাশ্মীর,আরাকানের মুসলমানদের দুরবস্থা দেখে আল্লাহর কাছে তাদের জন্য দোয়া করুন,নিজের অবস্থার জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানান।
মোট ৭ টি গল্প দিয়ে লেখক তাঁর এই বইটি সাজিয়েছেন।
🔸"কালো পাহাড়ের নান " গল্পে স্থান পেয়েছে খ্রিস্টান পরিবেশে এক গির্জা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অসংখ্য নির্যাতনের সত্ত্বেও মারয়ামের মুসলমান হওয়ার কাহিনী।
🔸"স্বর্ণকেশী নীলনয়না" গল্পে স্থান পেয়েছে মুসলমান স্বামীর আদর্শে খ্রিস্টান স্ত্রী ও কন্যার মুসলমান হওয়ার কাহিনী।
🔸"তিউনিশিয়ান জিম্মি" গল্পে রয়েছে ইসলামের জন্য অকাতরে নিজেদের প্রাণ বিসর্জন দেয়ার কাহিনী।
🔸"যয়তুন রঙা খুন" গল্পে স্থান পেয়েছে ইসরায়েল সীমান্তে মুসলমানদের সংগ্রামের কাহিনী এবং এক মুজাহিদের আদর্শে এক খ্রিস্টান নারীর মুসলমান হওয়ার কাহিনী।
🔸"সলিটারি কনফাইনমেন্ট" গল্পে স্থান পেয়েছে রিমান্ডে ইসরায়েলের মোসাদ কর্তৃক এক মুজাহিদের উপর নির্যাতনের কাহিনী কিন্তু এরই মধ্যে যে মহিলা মোসাদের হয়ে তাকে রিমান্ডে রেখেছিল সেও তার আদর্শে মুগ্ধ হয়ে মুসলমান হয়ে যায়।
🔸" বিয়ের দ্বীপ" গল্পে স্থান পেয়েছে বিয়ের জন্য যেসব অমুসলিমরা আসে তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার কাহিনী, যার কারণে অনেকেই খুঁজে পেয়েছে এক আল্লাহকে।
🔸"রূজ'আ" বা "ফেরা" গল্পে স্থান পেয়েছে তুরস্ক-সিরিয়া সীমান্তের মুসলিম শরনার্থী শিবিরের মুসলমানদের জীবনকাহিনী। ইসলামের উপর অটল থাকার কাহিনী।
মূলত সবগুলো গল্পেই মুসলমানদের উপর নির্যাতনের কথা, ইসলামের জন্য মুসলমানদের আত্নত্যাগের কথা,ইসলামের দাওয়াত পেয়ে অনেকের ইসলামে ফিরে আসার গল্প ফুটে উঠেছে। এই বইটি এক নিমিষেই পড়া শেষ হয়ে যায়। লেখকের ভাষা অত্যন্ত সহজ সাবলীল। উপস্থাপনা চমৎকার। রেটিং ৪/৫। এই বই পড়ে অবচেতন মনেই লেখকের জন্য মন থেকে দোয়া বের হয়েছে আমার। সে সাথে নির্যাতিত মুসলমানদের জন্যও দোয়া এসেছে। আশা করি সবার ভালো লাগবে এই বইটি। ছোট হলেও তা আমাদেরকে নতুন করে ভাবতে শিখাবে।
আজ আমরা দ্বীন পালনে অনেকাংশেই উদাসীন। এ অবিমৃষ্যকারিতার শাস্তি আমাদের পেতেই হবে। সেই বায়তুল মুকাদ্দাস হাতছাড়া হওয়ার পর থেকেই আমাদের উপর একটা গুরুদায়িত্ব চেপে বসেছে! আমরা স্বীকার করি আর না করি! এ এক তিক্ত বাস্তবতা! রূঢ় সত্য!
কিছু কিছু বই আছে পড়তে বসার পর একটানে সম্পূর্ণ বইটা শেষ না করা পর্যন্ত চোখে ঘুম আসবে না, তাতপ আপনি যতই ক্লান্ত থাকুন না কেন! শাইখ 'আতিক উল্লাহ' (হাফি.)-র বইগুলো হচ্ছে সেই কিসিমেরই বই যা শেষ না করা পর্যন্ত বই থেকে উঠে অন্য কোন কাজ করা পর্যন্ত যেন হারাম হয়ে যায়।
“নানারঙা রঙধনু” বইটি মূলত সাতটি ভিন্ন ভিন্ন ধরনের গল্প নিয়ে রচিত! অনেকেই বলে থাকেন আমি নিজেও বলি মাঝে মাঝে, “কাল্পনিক গল্পে বা উপন্যাসে আদতে কিইবা থাকে? শুধু শুধু সময় নষ্ট এগুলো পড়ে!” কিন্তু শাইখ 'আতিক উল্লাহ' (হাফি.)-র বইগুলো এই দোষত্রুটি থেকে মুক্ত বলা চলে। প্রতিটি গল্পের ভাঁজে ভাঁজেই কিছু না কিছু শিক্ষনীয় আর ইনফরমেটিভ জিনিস দেখা যায়, যার ফলে গল্পটা পাঠকশ্রেণির কাছে হয়ে ওঠে আরও আকর্ষণীয়!
বক্ষমান বইটি সাতটি গল্পের সমন্বয়ে রচিত হলেও বাস্তবে সাতটি গল্পতে শুধু গল্পই নয় আছে ইতিহাসের টুকরো টুকরো অংশও যা বইয়ের সিংহভাগ অংশ জুড়েই বিদ্যমান আর সাথে আছে গল্পের মাধ্যমে সেই ইতিহাসের বাস্তব রুপটুকুন পাঠকের সামনে তুলে ধরার লেখকের আপ্রাণ চেষ্টা। যার ফলে গল্পের বইতে মজা না পাওয়া, তুখোড় তাত্ত্বিক কোন পাঠকও বইটিতে মজতে বাধ্য হবেন!
সর্বশেষ, বইটি পড়ার আমন্ত্রণ রইলো পাঠককুলের প্রতি! সম্ভব হলে শাইখ 'আতিক উল্লাহ' (হাফি.)-র প্রত্যেকটা বই পড়ার চেষ্টা করবেন। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কিছু জানতে যোগ বুঝতে বাধ্য হবেন ইনশাআল্লাহ! ‘গল্প পড়ে বৃথা সময় নষ্ট’ উক্তির খন্ডন যেন শাইখ 'আতিক উল্লাহ' (হাফি.)-র বইগুলো!