ইন্দ্রনীল সান্যালের জন্ম হাওড়ার বালিতে, ১৯৬৬ সালে। নীলরতন সরকার মেডিকেল কলেজ থেকে এম বি বি এস। প্যাথলজিতে এম ডি, পিজি হাসপাতাল থেকে।সরকারি চাকরির সূত্রে কাজ করেছেন সুন্দরবনের প্রত্যন্ত প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে মহাকরণের ডিসপেনসারিতে, লালবাজার সেন্ট্রাল লকআপ থেকে গঙ্গাসাগর মেলার হেল্থ ক্যাম্পে।বর্তমানে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত।প্রথম প্রকাশিত গল্প ২০০৪ সালে ‘উনিশকুড়ি’ পত্রিকায়।শখ: বই পড়া, ফেসবুকে ফার্মভিল এবং হ্যাপি অ্যাকোয়ারিয়াম খেলা, সুদোকু সমাধান।
বাংলায়...বিশেষত এপার বাংলায় সিরিয়াল কিলিং কেন্দ্রিক উপন্যাসের সংখ্যা নেহাতই হাতেগোনা। যাও বা পাওয়া যায় তাতেও আগডুম বাগডুম বেশি। অখাদ্য কুখাদ্যও কম নেই। এই কম্প্যাক্ট উপন্যাসটি পড়ে সেই ধোয়াশা সামান্য হলেও কাঁটলো। ভায়োলেন্ট প্রেক্ষাপটে রচিত একটি কেজো প্রসিডিউরাল থ্রিলার। যা গতি পায়, সহজ বিন্যাস, সিনেমাটিক চরিত্র-চিত্রণ ও লেখকের (ট্রেডমার্ক) এরোপ্লেন গদ্যে।
এখানে, একটা ট্রিগার ওয়ার্নিং না দিলেই নয়। বইতে নৃশংসতা পাবেন। বেশ গ্রাফিক ধরণের নৃশংসতা। যা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। আমার অবশ্য উলট-পুরাণ। কতকটা এই পটভূমির টানেই আমি বইটা কিনে ফেলি। যতই হোক, কলকাতা জুড়ে একের পর এক সেনসেশনাল খুন নাহয় আমি অন্য কোনো বইতে পেয়েও গেলাম। তবে তাই বলে, কিচেন নাইফ দিয়ে ভিক্টিমের পেট কেটে তাতে ফুটন্ত তেল ঢেলে দেওয়া?
এটা একটু বাড়াবাড়ি নয় কি?
এই বাড়াবাড়ির হিসেবটুকু নাহয় আপনারা নিজেরাই মিলিয়ে নেবেন। পড়বেন তো বইটা এক সময়, ঠিক কি না? আমি আপাতত তিনটে তারা বসিয়ে বিদেয় হচ্ছি। উপন্যাসটি অসাধারণ না হলেও, মনোরঞ্জক বটে। আহামরি কোনো টুইস্ট না থাকলেও, লেখকের সহজাত ক্ষমতা ধরেবেধে বসিয়ে রেখে এক সন্ধ্যায় পুরোটা পড়িয়ে নেয় দিব্যি। ঠিক যেন কোনো রাগী অঙ্কের মাস্টার! পড়া করবি না মানে?
ফরেনসিক সাইকিয়াট্রি ও পুলিশী লেগোয়ার্কের সমন্বয়ে বইতে একটা প্রেমের আভাসও পাবেন। যা সামান্য আতুপুতু ও গায়ে-পড়া। তবে 'বডিরাজ' বদ্দার মতন অমন অখাদ্য কিছু নয়। অ্যাটলিস্ট সিরিয়াল কিলার শেষ সিনে মঞ্চে নেমে গোয়েন্দাপ্রবরের পেশীবহুল শরীরের গুণগীতি করে না, এটা গ্যারান্টি। এছাড়াও, ইন্দ্রনীল সান্যালের লেখা হওয়ার দরুন গল্পে আসে মেডিক্যাল থ্রিলারের পঙ্কিল ছোঁয়া। যা শেষ অবধি গল্পের মানবিক হৃদয়ের প্রতি সোচ্চারে সহানুভূতি জানায়।
তাই বলিষ্ঠ লেখকের কলমে একটি দ্রুতপাঠ্য স্ট্যান্ডআলোন পড়তে চাইলে 'স্নেহজাল'কে বেছে নেওয়াই যায়। এক কেবল ওই চ্যাটচ্যাটে মেলোড্রামাটুকু কম থাকলে, বইটা আরও স্মরণীয় হয়ে রইতো। চোখ বুঝে সবাইকে রেকমেন্ড করা যেত, এই যা।
ওপার বাংলায় গোয়েন্দা উপন্যাসের ছড়াছড়ি হলেও, জুতসই পুলিশ প্রোসিডিউরাল, সাইকোলজিক্যাল/মেডিকেল থ্রিলারের বড্ড অভাব। আশার বিষয় বিগত এক-দু'বছর ধরে প্রেক্ষাপট বদলাচ্ছে। ইন্দ্রনীল স্যানালের বই যেদিন প্রথম আবিষ্কার করেছিলাম, সেদিনই কথাটা মনে হয়েছিল- ভীষণ রকমের আন্ডাররেটেড তিনি। তার লেখালেখির যে ব্যাপারটা আমাকে সবচেয়ে টানে, তা হচ্ছে বিষয়বস্তুর বৈচিত্রতা। মেডিক্যাল থৃলার যেরকম লেখেছেন, তেমনি এমন দু'টো উপন্যাস লেখেছেন, যার বিষয়বস্তু রান্না! সে'দুটোও চমৎকার যাহোক, কাজের কথায় ফিরি। স্নেহজাল। প্রধান দুই চরিত্র মোহর এবং চিনার। মোহর পেশায় ফরেনসিক সাইকিয়াট্রিস্ট৷ যারা নিয়মিত ব্রিটিশ, মার্কিন কিংবা নর্ডিক থৃলার পড়েন, তাদের কাছে হয়তো শব্দটা পরিচিত৷ কিন্তু ওপার বাংলার কোন উপন্যাসে এই প্রথম সাইকোলজিক্যাল প্রোফাইলিংয়ের সফল ব্যবহার দেখলাম। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে সিরিয়াল কিলিং উপন্যাসের প্রধান উপজীব্য, কিন্তু না। বেশ কয়েকটা লেয়ার আছে এই ১৬০ পৃষ্ঠার উপন্যাসটায়। চরিত্রগুলোও ওয়ান ডাইমেনশনাল নয়, বরং অল্পতেই আপন করে নেয়া যায়৷ শুরু থেকে শেষ অবধি আগ্রহ ধরে রেখেছিল। সেই সাথে স্যানাল সাহেবের ট্রেডমার্ক ডিটেইলিং তো আছেই। আক্ষেপ বলতে, তদন্তেরর প্যাটার্নে পশ্চিমা ছাপ একটু বেশিই পড়ে গেছে, লালবাজারের তদন্ত মনে হয়নি৷ তবে এটা গুরুতর কোন৷ বিষয় নয়। আমি উপভোগ করেছি কাহিনীটা৷ তবে কিছু ব্যাপার সবার হজম না-ও হতে পারে :)
পুরো গল্প সাধারণভাবেই আগাচ্ছিল, কিন্তু শেষটা ভালো হয়েছে। গল্পের টপিক টাও ভালো। বর্তমানে অতিভোজন এবং জাঙ্ক ফুড খাওয়া যেনো একটা ট্রেন্ড হয়ে গেছে। প্রতি সপ্তাহে দুবার অথবা মিনিমাম একবার রেস্টুরেন্ট এ গিয়ে জাঙ্ক ফুড না খেলে সমাজে যেনো মুখ দেখানো দায়। ফেসবুকের স্টোরিতে অথবা অফিসের চেইন্জ রুমে ওসব রেস্টুরেন্ট এর গপ্পো বলতে না পারাটাও যেনো জীবনের এক অত্যাশ্চর্য ব্যর্থতা!
টিক চিহ্ন কখন ব্যবহার করা হয়? যখন তালিকাভুক্ত কোনো একটি কাজ শেষ হয়। তারমানে কি খুনীর তালিকায় আরো কাজ রয়েছে? কলকাতার গোয়েন্দা বিভাগের চিনার মিত্র যোগাযোগ করলো দিল্লীর ফরেনসিক সাইক্রিয়াটিস্ট মোহর চ্যাটার্জির সাথে, খুনীর মনস্তত্ত্বকে পড়া যার কাজ।
তদন্তে নামলো দুজন। মোহর চেষ্টা করছে খুনীর মগজটা পড়ে একটা চেহারা দাঁড় করানোর, চিনার খুঁজছে তার পরিচয়। দেয়ালে আরো টিক চিহ্ন পড়তে লাগলো, এবং প্রতিটি খুনের মধ্যে রয়েছে যোগাযোগ। কিন্তু... মোহর জানে, কোথাও একটা ফাঁক রয়ে গেছে। জিগস পাজলের একটি টুকরো জায়গামত বসেনি।
এইটুকু পড়ে 'স্নেহজাল'কে ছকবাঁধা আরেকটি গতানুগতিক সিরিয়াল কিলিং থ্রিলারের কাতারে ফেলে দিলে ভুল হবে৷ গল্পটিতে মার্ডার মিস্ট্রির পাশাপাশি আরো কয়েকটি স্তর আছে। ধর্ষণজাত সন্তান গুড়িয়ার মা-বাবার সন্ধান, চিনার - মোহরের প্রেম গল্পটির রহস্যের সাথে তাল মিলিয়ে চলেছে। শহুরে সমাজের মানুষগুলোর একাকিত্ব আর ডিপ্রেশন নিয়ে আরেকবার ভাবতে বাধ্য হবে পাঠক।
ইন্দ্রনীল সান্যাল বর্তমানে কলকাতার জনপ্রিয় লেখকদের একজন। কেন, তার প্রমাণ পেলাম এবার। রহস্যটি খুব জটিল ছিল তা নয়, কিন্তু বিষয়বস্তুর বৈচিত্র্য গল্পকে তরতরিয়ে টেনে নিয়ে গেছে শেষ অবধি। ক্রিমিনাল সাইকোলজি নিয়ে এভাবে পদে পদে বিস্তারিত এগুনো থ্রিলার তেমন পড়িনি। লেখকের বর্ণনাভঙ্গি ঝরঝরে, বীভৎস খুনগুলো যথেষ্ট 'ডিস্টার্বিং' ছিল। সে অস্বস্তি কাটাতে চিনার - মোহরের প্রেম এবং মোহরের বন্ধু দয়াময়ীর রসিকতা সাহায্য করেছে।
বইটিতে ছাপার ভুল বিরক্তিকর পর্যায়ে ছিল। চরিত্রের নাম, সম্বোধন, বানান সব ক্ষেত্রেই অযত্নের ছাপ ছিল স্পষ্ট। প্রচ্ছদ বেশ পছন্দ হয়েছে, যুৎসই এবং অর্থবহ।
বইঃ স্নেহজাল লেখকঃ ইন্দ্রনীল সান্যাল প্রকাশনায়ঃ দে'জ পাবলিশিং প্রকাশকালঃ জানুয়ারি ২০১৯ প্রচ্ছদঃ সৌজন্য চক্রবর্তী পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ১৬০ ভারতীয় মূল্যঃ ২০০ টাকা
#bookish_subhajit #পাঠক_প্রতিক্রিয়া বই- স্নেহজাল লেখক- ইন্দ্রনীল সান্যাল প্রকাশনা- দে'জ পাবলিশিং প্রচ্ছদ- সৌজন্য চক্রবর্তী দাম- ২০০/- পাতা- ১৬০ টি পর্ব- ২২ টি ✍️ শুভজিৎ রায় প্রথমেই বলি আমি জীবনে প্রথম কোন মেডিক্যাল থ্রিলায় পড়লাম। তার সাথে পড়ে এমন মুগ্ধ হলাম, যেন আমি নিজেই বইটির স্নেহজালে জড়িয়ে পড়লাম। বইটি আমি পড়িনি, বলা ভালো গোগ্রাসে গিলেছি। এমন টান টান উত্তেজনা পূর্ণ থ্রিলার ও আমি জীবনে প্রথম পড়লাম। তাই এর ঘোর কাটানো সমস্যার। যাই হোক নিজের অনুভূতি টুকু ব্যাক্ত করি। আর অবশ্যই অবশ্যই আপনারাও পড়ুন এবং আমার মতো স্নেহজালে জড়িয়ে পড়ুন। জীবনে অনেক অনেক পূন্য করলে তবে এই ইন্দ্রনীল সান্যাল স্যার এর মত মানুষ এর সান্নিধ্য পাওয়া যায়। আমিও হয়ত কোন পূন্য করেছিলাম তাই ওনার সান্নিধ্য পেয়েছি। বইটি পেয়ে প্রথম পাতা ওলটাতেই মনমুগ্ধকর হাতের লেখায় লেখা, "স্নেহের শুভজিৎ কে শুভকামনা সহ ইন্দ্রনীল সান্যাল"। আমিতো সেখানেই স্নেহে আবদ্ধ হয়ে গেছি। এবার বইটি নিয়ে কিছু বলা যাক। প্রথমেই বলি প্রচ্ছদ এর কথা। যে কোন বই এর প্রচ্ছদ অনেক কথা বলে বই সম্পর্কে। তাই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলে এই প্রচ্ছদ। বইটির প্রচ্ছদ শিল্পী সৌজন্য চক্রবর্তী। যে মানুষটির সাথে বাংলা সাহিত্যের পাঠককুল খুব ভালো ভাবেই পরিচিত। ওনার আঁকা প্রচ্ছদ পাঠককুল কে মুগ্ধ করেছে বারবার। এই বই এর ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। প্রচ্ছদ এ দেখানো কিচেন নাইফ, উচ্চতা মাপার ফিতে, কিংবা রক্তের ধারা যেন বারবার বলে দিচ্ছে উপন্যাস এর বিষয় বস্তু। তার উপর পিছনের সাদার উপর হালকা বেগুনি রঙের জল ছোপ যেন আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে প্রচ্ছদ টি কে। এক কথায় অসাধারণ এবং উপযোগী একটি প্রচ্ছদ। ধন্যবাদ প্রচ্ছদ শিল্পী কে। এবার আসি নামকরণ এ। উপন্যাস টি পড়লে বোঝা যাবে স্নেহজাল কী? শুধু এটুকু বলবো সম্পূর্ণ খুনের নেপথ্যে ওই স্নেহজাল ই অবতীর্ণ হয়েছে। সে কখনও বস্তু হিসেবে তো কখনও বন্ধন হিসেবে। তাই আমার মতে বইটির নামকরণ একদম উপযুক্ত এবং আকর্ষণীয়। এরপর বলবো বই এর বাঁধন এবং পাতার মান সমন্ধে। দে' জ পাবলিশিং এর বই প্রায় সব বা বলা ভালো সব পাঠকই পড়েছেন। তাই তাদের বই এর বাঁধন যে অত্যন্ত মজবুত এবং অত্যন্ত তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আর পাতার মান খুবই ভালো এবং উন্নত। তাই এর জন্য অবশ্যই ধন্যবাদ দে'জ পাবলিশিং কে, এবং বই এর সাথে যুক্ত সকল কে। বই টির বিষয় বস্তু নিয়ে বেশি কিছু বলবো না, কারন নাহলে গল্প পড়ার মজা উবে যাবে। কলকাতা শহরে পরপর চারটি খুন। খুন হয়েছেন সব হাইপ্রোফাইল মানুষ রা। খুন হয়েছেন জিম ইন্সট্রাকটর, নিউট্রিশনিস্ট, ট্রন্সপোর্ট ব্যাবসায়ী, এবং ফাস্টফুড কম্পানির মালিক। একে খুন না বলে সিরিয়াল কিলিং বলা উচিৎ। একই ভাবে খুন হয়েছেন এই চারজন। পেট কে কিচেন নাইফ দিয়ে কেটে তার ভিতর ঢেলে দেওয়া হচ্ছে অলিভ অয়েল, আবার কখনো ঢেলে দেওয়া হচ্ছে নারকেল তেল বা মাসাজ অয়েল বা চিপস। তার পর দেওয়ালে রক্তদিয়ে এঁকে দেওয়া হচ্ছে ঠিক চিহ্ন। আর সেই সব খুনের তদন্তের দায় পড়েছে কলকাতা পুলিশ এর স্পেশাল অফিসার চিনার মিত্র ও দিল্লির ফরেনসিক সাইক্রিয়াট্রিস্ট মোহর চ্যাটার্জি এর কাঁধে। কীভাবে হলো তাদের পরিচয়? আর সেই সাথে কী ভাবেই বা হলো সমস্যার সমাধান? এই চার জন এর সাথে খুন হলেন আরও দুই হাইপ্রোফাইল ব্যাক্তি। তাদেরও খুন করার ধরন প্রায় একই। সেই দুটো খুন কে করলো? নাকি ৬ টি খুনই একই জন করেছে? নাকী অন্য কেউ? তাহলে খুনি ক টি? সব কিছুর উত্তর জানার জন্য পড়তেই হবে এই উপন্যাস স্নেহজাল। উপন্যাসটি শুধু মাত্র খুনের উপন্যাস তা কিন্তু নয়। এই উপন্যাস এক প্রেমের উপন্যাস ও বটে। সে গার্লফ্রেন্ড বয়ফ্রেন্ড এর প্রেম হোক কিংবা মা ও সন্তানের প্রেম হোক। উপন্যাস এর মোহর ও চিনার এর প্রেমের যে কেমিস্ট্রি সৃষ্টি করা হয়েছে তা অসাধারণ। টান টান উত্তেজনা মধ্যে যে এত সুন্দর একটি প্রেম কাহিনী কে এত সাবলীল ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে তার সত্যিই এক অকল্পনীয় ব্যাপার। এর জন্য উপন্যাস এর কোন জায়গা ফাঁকা লাগেনি। একেবারে জমজমাট একটা উপন্যাস পাঠকুলকে উপহার দিয়েছেন ইন্দ্রনীল স্যার। এর জন্য ওনাকে ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করবোনা, শুধু এটুকু বলবো অনেক অনেক শ্রদ্ধা। এবার উপন্যাস এর চরিত্র দের নিয়ে বলি। এখানে দুটি প্রধান চরিত্র বর্তমান। যারা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি লাইনে লাইনে আছে। এক চিনার মিত্র আর দুই মোহর চ্যাটার্জি। প্রথমে বলি চিনার এর কথা। চিনার একজন অত্যন্ত বুদ্ধিমান এবং বিচক্ষন ব্যাক্তি। তার দেহের সৌন্দর্য মুগ্ধ করে যে কোন আধুনিক মনস্ক মেয়েকেও। যাকে একবার দেখেই যে কারোর পছন্দ হতে বাধ্য। তার সাথে সে অত্যন্ত কর্মে নিপুণ এবং দক্ষ একজন। কারন যেভাবে রহস্য এর জট খুলছে একের পর এক তাতে তার নিদর্শন স্পশ্টতই পরিলক্ষিত হয়। তার কর্মদক্ষতা আরও বড় প্রমান, সে খুব কম বয়েসেই এত বড় একটি প্রশাসনিক পদে চাকরি করা। এবার বলি মোহর চ্যাটার্জি, একজন অত্যন্ত বুদ্ধিমতি মহিলা। সে বিদেশে গিয়ে ফরেনসিক সাইক্রিয়াট্রিস্ট এর পড়াশোনা করেছে। এবং এর আগেও একটি জটিল কেশের সমাধান করেছে। তাই তাতে তার কর্মদক্ষতা র প্রমান পাওয়া যায়। এককথায় মে কোনো উপন্যাস এর নায়ক নায়িকা হিসেবে এই চিনার মিত্র ও মোহর চ্যাটার্জি যথার্থ দুটি চরিত্র। এর পর আসি লেখক প্রতিভা নিয়ে। এত বড় একজন লেখকের লেখক প্রতিভা বিচারের ক্ষমতা বা দুঃসাহস কোনটাই আমার মত একজন নগণ্য পাঠকের নেই। তাই আমার মতে সকলের একবার হলেও এই জিনিসের স্বাদ নেওয়া উচিৎ, নাহলে একটি বিরাট বড় জিনিস হাতছাড়া হয়ে যাবে। লেখক যেহেতু মেডিক্যাল এর সাথে যুক্ত এবং এটা যেহেতু মেডিক্যাল থ্রিলার তাই এখানে প্রচুর মেডিক্যাল টার্ম ব্যবহার করা হয়েছে যা অনন্য এক মাত্রা দিয়েছে উপন্যাস টিকে। এর সাথে বহু নতুন তথ্য জানার সুযোগ হয়েছে উপন্যাস টির মাধ্যমে। যে কোন জিনিসের ভালো এবং খারাপ দিক থাকে। হ্যাঁ কোন জিনিসের ক্ষেত্রে কথাটি প্রযোজ্য কিন্তু এই ধরনের উপন্যাস এর ক্ষেত্রে নয়। তাই এর কোন খারাপ দিকই আমার ছোখে পড়েনি। এক দারুণ উত্তেজনায় উপন্যাস এর পরিসমাপ্তি ঘটেছে যা আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে বইটিকে। ( বিঃ দ্রঃ- মতামত একান্ত নিজস্ব এবং সৎ। প্রতিক্রিয়া আলোচনার মাত্রায় উন্নীত হোক।) 🙏 ধন্যবাদ 🙏
এটা একটা মেডিকেল থ্রিলার। এটাই পড়া আমার প্রথম মেডিকেল থ্রিলার।
🍁বইটিকে নিয়ে বলতে গেলে আগে বইয়ের নাম নিয়ে বলতে হয়। স্নেহ শব্দটির দুটি অর্থের সাথে আমরা পরিচিত , এক ভালোবাসা যেমন মাতৃ স্নেহ, পিতৃ স্নেহ..ইত্যাদি । আর একটা অর্থ হয় স্নেহজাতীয় পদার্থ বা ফ্যাট, যা মানবদেহে অতিরিক্ত পরিমানে জমলে দেখা দেয় ওবেসিটির মতো মারাত্মক কিছু উপসর্গ।
এই দুই প্রকার স্নেহই হটাৎ হটাৎ মারাত্মক আঁকার ধারণ করতে পারে। ✴️কিভাবে? তাঁর উত্তর আছে এই বইটিতে
🍁বইয়ের বিষয় নিয়ে খুব বেশি বলা উচিত নয়। তাহলে স্পয়লার দেওয়া হয়ে যাবে।
উপন্যাস শুরুর প্রাককথনে রয়েছে একটি ঘটনা, দিল্লির এক দম্পতির। তাঁদের নিজস্ব একটা হোটেল রয়েছে আর আছে তাঁদের একটা নাবালিকা মেয়ে। তাঁদের কন্যাকে ওই হোটেল এর দুজন ব্যক্তি তাঁদের অজান্তেই ধর্ষণ করে, কিন্ত যতদিনে তারা এটা বুঝতে পারলো, ততদিনে অনেক দেরি হয়ে গেছে। সেই মেয়েটা একদিন জন্মদিল এক সন্তান, আর সেই দম্পতি মেয়ের কথা ভেবে কাওকে এই কথা জানাতে বারণ করে সেই বাচ্চাটিকে এক অনাথ আশ্রমে দিয়ে তারা দিল্লি ছেড়ে চলে গেল।
🍁এর পরে শুরু হচ্ছে মূল উপন্যাস। কলকাতা শহরে একের পর এক খুন হচ্ছে। মৃতদেহের পেট কেটে টাতে ঢেলে দেওয়া হচ্ছে ফুটন্ত তেল, আর রক্ত দিয়ে দেওয়ালে আকা থাকছে একটা ঠিক চিন্হ।
এই কেসে নিযুক্ত হয় কলকাতা পুলিশের চিনার মিত্র। তিনি এই কেসে হেল্প করার জন্য দিল্লি থেকে আমন্ত্রণ করেন মোহর চ্যাটার্জী কে। যিনি একজন ফরেন্সিক সাইক্রিয়াট্রিষ্ট।
🍁উপন্যাসের প্রাককথনের সাথে মূল উপন্যাসের যোগ সূত্র এই মোহর। কারন এই মেয়েটি হলো সেই অনাথ আশ্রমে দান করা সন্তানটি। মোহর কে দিল্লির এক দম্পতি অ্যাডপ্ট নেয়, আর মানুষ করতে থাকে পরম স্নেহ দিয়ে। কিন্তু বড়ো হবার মোহর কোনো এক অজানা টানে খোঁজ পেতে চায় তাঁর বাবা মায়ের। অনেক চেষ্টাতে শুধু তাঁর মায়ের নাম আর সে কলকাতা তে থাকে এটুকুই জানতে পারে। তাই তদন্তের স্বার্থে কলকাতায় এসে খুঁজে বের করতে চায় তাঁর মাকে।
✴️তারা কিভাবে এই কেসের সমাধান করবে? ✴️তারা কি ধরতে পারবে এই সিরিয়াল কিলার কে? ✴️মোহর কি তাঁর মায়ের খোঁজ পাবে?
জানতে গেলে পড়তে হবে এই বইটি।
আমার ভালো লাগা দিক গুলো হলো -
🌼ফেভরিট বিষয় নিয়ে বইটি লেখা। ❤
🌼বইয়ের কভারটি এই বইটিকে আকর্ষণ করার জন্য যথেষ্ট। পিছনে কিছু কথা লেখা আছে, যা পড়লে বইটিকে পড়ে দেখতে ইচ্ছা হবেই।
🌼যারা খুন হচ্ছে, তাঁদের সবার সাথেই স্লিমিং বা জিম সেন্টারের সংযোগ আছে, আবার তাঁদের মধ্যেই রয়েছে মানুষের শরীরে ফ্যাট বৃদ্ধি করে, এরকম খাবার তৈরির সাথে সংযুক্ত ব্যক্তি। স্বাভাবিক ভাবেই এটা একটা রহস্য তৈরী করে, কে? কেনো? এদেরকে খুন করছে।
🌼আবার মোহর তাঁর মাকে খুঁজছে। এটাও পাঠকের কাছে একটা রহস্য তৈরি করবে, কারন এই কেসের তদন্তের জন্য তাঁর সাথে বেশ কিছু মানুষের সাথে সাক্ষাৎ হবে, যাদের সাথে এই উপন্যাসের প্রাককথনের সাথে কিছু না কিছু মিল রয়েছে।
🌼ফরেন্সিক সাইক্রিয়াট্রিস্ট বিষয়টিকে লেখক উপন্যাসে খুব সুন্দর ভাবে ব্যাখা করেছেন। তাঁদের কর্মপদ্ধতি কি রকম সে বিষয়ে ভালোভাবে পাঠককে বুঝিয়েছেন।
🌼এটা একটা মেডিকেল থ্রিলার যেহেতু, অনেক মেডিকেল সংক্রান্ত বিষয় আছে বইটিতে। এই দিক দিয়ে বইটা আমার বিশেষ ভাবে ভালো লেগেছে। ডাক্তারি সংক্রান্ত বেশ কিছু তথ্য সমৃদ্ধ বই এটি।
🌼গল্প এমন ভাবেই এগিয়েছে পাঠক কোথাও বোর হবার সুযোগ পাবেনা। আমি নিজেই একেবারেই শেষ করেছি বইটি। গল্পে কোনো অতিরিক্ত বর্ণনা নেই।আর সাথে সাথে টান টান উত্তেজনা। পুরো বই জুড়েই রহস্য, সন্দেহভাজন ব্যক্তি ছাড়াও আবার কখনো সন্দেহ গিয়ে পড়ছে স্বয়ং পুলিশের লোকের উপরে। বইটার প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত তিব্র সাসপেন্স।
🌼কিন্তু এই খুনের ভিতরেই লেখক ধীরে ধীরে একটা মিষ্টি প্রেমের গল্পও ফুটিয়ে তুলেছেন, আস্তে আস্তে সূচনা করেছেন একটা নতুন সম্পর্কের। একদিকে যেমন রহস্যর জাল বুনেছেন, অন্য দিকে প্রেমের জাল বুনেছেন। এই দিক দিয়ে বইটা একটা অন্যরকম থ্রিলার। বেশ চমকপ্রদও।
🌼আর সব চেয়ে যেটা চমক সেটা হলো খুনের মোটিভ। সেটা বলা যাবেনা। কারন সেটাই উপন্যাসের মূল। তবে এই খুনের মোটিভ টা স্নেহ শব্দের আক্ষরিক অর্থেই জড়িত। প্রথমে যে দুটো অর্থ বলেছি, সেই দুটোই ভীষণ ভাবে জড়িয়ে আছে এই খুনের পিছনে।
🌼বইটিতে উঠে এসেছে সমাজের স্থূলকায় ব্যক্তিদের কথা, দিন রাত তাঁদের কে কিভাবে লাঞ্চিত হতে হয়।
🌼কিছু কিছু লাইন আছে মনে দাগ কেটে দেবার মত।
🌼আর বইয়ের নামের সাথে উপন্যাসের সম্পর্ক ঠিক কোথায় সেটা আপনি বুঝতে পারবেন উপন্যাস শেষ করার পর, কিছু কিছু বইতে কে খুন করছে বা কেনো করছে এই সবই পাঠক অনুমান করে ফেলে, এই বইটা একদম আলাদা। খুনগুলোর মোটিভ, খুনি কে, বইয়ের নামের সাথে সম্পর্ক কোথায়, তা সহজে অনুমান করা ভীষণ শক্ত। পাঠককে এই সমস্ত উত্তর পাবার আশা তে একবারে শেষ করে ফেলতে বাধ্য করবে।
🌸খারাপ লাগা কিছু নেই বইটা নিয়ে। মেডিকেল থ্রিলার আগে পড়িনি, এটাই প্রথম। আর প্রথম অভিজ্ঞতাও ভীষণ ভালোই হলো।
❤পুনশ্চ:- লেখকের লেখা যদি অন্য কোনো থ্রিলার বই সম্পর্কে জানা থাকে, কমেন্ট বক্সে অবশ্যই জানাবেন।
এই ধরনের আরও রিভিউ পেতে এবং নিত্য নতুন বই সম্পর্কিত তথ্য পেতে like, follow..করে সাপোর্ট করতে পারেন আমার ফেসবুক পেজ Books With Amir কে❤️। সকলে ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন এবং অতি অবশ্যই সাহিত্যে থাকুন ❤। ধন্যবাদ🙏
এটা বেসিক্যালি একটা মেডিক্যাল থ্রিলার। মেডিক্যাল থ্রিলার কী জিনিস? পাঠকদের সুবিধার্থে জানিয়ে রাখি মেডিক্যাল থ্রিলারে খুনের পদ্ধতি, ফরেনসিক রিপোর্ট, ইত্যাদির ওপর অনেকটা বেশি জোর দেওয়া হয় দ্যান দ্য মোটিভ। মোটিভ আসে অনেক পরে। স্বাভাবিকভাবেই মোডাস অপারেন্ডিতে জোর দেওয়া মানে সে থ্রিলার ক্রমশঃ এগোয় সিরিয়াল কিলিং ক্রাইমের দিকে। বাংলায় সিরিয়াল কিলিংয়ের ওপর উপন্যাস স্বল্প-সংখ্যক। স্নেহজালকে একটা সাকসেসফুল সিরিয়াল কিলিং থ্রিলার বলা যায়। গল্প এগিয়েছে তরতর করে। সাবলীল, মেদহীন লেখা। কোনও অতিরিক্ততা নেই গল্পে। বরং বীভৎস খুনের পরিস্থিতিগুলোর থেকে পাঠককে রিলিফ দিতে লেখকের 'খুনখারাপির মধ্যে ভালোবাসার বারুদ' বিষয়টা বেশ ইন্টারেস্টিং। প্লটটুইস্ট এসেছে পূর্বকথন আর উত্তরকথনে। পাঠককে গুলিয়ে দিতে লেখক সিদ্ধহস্ত। এ বইকে রেটিং দিতে হলে বোম্বাইয়ের বোম্বেটে ছবিতে তোপশের ভাষায় আবার খাবো রেঁস্তোরার শিঙ্গাড়ার প্রশংসার মত বলতে হয়: 'দশে বারো'। যদি বইয়ের দাম দেখে কেউ নাক কুঁচকে থাকেন, আমি বলব পয়সা উসুল বই এটা। চোখ কান বুজে কিনে ফেলা যায়।
সদ্য পড়া শেষ করলাম বিশিষ্ট লেখক ইন্দ্রনীল সান্যাল বাবুর একটি অসাধারণ মেডিক্যাল থ্রিলার উপন্যাস " স্নেহজাল "। বলতে গেলে এটিই আমার পড়া লেখকের প্রথম বই। যদিও এর আগে ওঁর একটি ছোট গল্প পড়েছি। প্রচুর রিভিউ পড়ে এবং অনেকের সাজেশন পেয়ে বইটি পড়ার ইচ্ছা বহুদিন থেকেই ছিল। অবশেষে এক দাদার থেকে উপহার স্বরূপ বইটি পেয়ে সেই ইচ্ছে পূরণ হলো আমার। সব মিলিয়ে বইটি সম্পর্কে আমার কিছু ভালো লাগা এবং খারাপ লাগা আছে, সেগুলো সম্পর্কেই বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করব।
প্রথমেই উপন্যাসের বিষয়বস্তু সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক...
🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂
কলকাতা, স্মৃতির শহর....ভালোবাসার শহর। আমাদের বাঙালিদের কাছে কলকাতা প্রাণধিক প্রিয়। কিন্তু আমাদের এই স্বপ্নের শহরে ঘনিয়ে এসেছে এক করাল ছায়া। কলকাতা এবং তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে খুন হয়ে চলেছে একের পর এক মানুষ ( নারী-পুরুষ নির্বিশেষে )। সেই হত্যা প্রক্রিয়া একেবারেই সাধারণ নয়, হত্যাকারী প্রথমেই সেই ব্যাক্তিকে সম্পূর্ণ উলঙ্গ করে ডাক্ট টেপ দিয়ে তার হাত-পা ও মুখ বেঁধে, কিচেন নাইফ বা ধারালো কোনো অস্ত্র দিয়ে পেট কেটে পেটের ভিতর ফুটন্ত তেল ঢেলে প্রবল যন্ত্রনা দিয়ে খুন করছে। কখনো আবার কেটে নিচ্ছে সেই ব্যক্তির যৌনাঙ্গ। তার সাথে খুন হওয়া ব্যক্তির রক্ত দিয়ে দেয়ালে একটি টিক চিহ্ন (✅️)এঁকে দিয়ে যাচ্ছে। যারা খুন হচ্ছে তারা সকলেই ভিন্ন ভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত । তৎক্ষণাৎ এই কেসের তদন্তে নিযুক্ত করা হয় কলকাতার গোয়েন্দা বিভাগের হোমিসাইড শাখার চিনার মিত্রকে। চিনার এবং তার টিমের মতে এটা কোনো বিকৃত মস্তিষ্কের সাইকো কিলারের কাজ। তাই কলকাতা পুলিশ খুনীর মেন্টাল প্রোফাইলিং এর জন্য দিল্লি নিবাসী ফরেনসিক সাইকায়াট্রিস্ট মোহর চ্যাটার্জিকে আমন্ত্রণ জানাই।
( মোহরের বিষয়ে একটু বলে রাখি... মোহর একজন অ্যাডাপ্টেড চাইল্ড। বহু বছর পর সে জানতে পেরেছে তার বায়োলজিক্যাল বাবা-মা কলকাতাতেই আছে। তার এই কেসের তদন্তে কলকাতায় আসার পিছনে এটিও একটি বড় কারণ। )
খুব শীঘ্রই চিনার ও তার টিম এবং মোহর মিলে এই কেসের তদন্ত করতে শুরু করে দেয়। কেসের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন সাসপেক্টদের জিজ্ঞাসাবাদ, খুনের স্পট তল্লাশি, ফরেনসিক টেস্ট এবং খুনির মেন্টাল প্রোফাইলিং এর মাধ্যমে তারা খুনিকে খোঁজার জন্য হন্যে হয়ে পড়ে থাকে।
এই রহস্যের গোলকধাঁধার মধ্যেই মোহর এবং চিনারের মধ্যে একটি প্রেমের সম্পর্ক দানা বাঁধতে শুরু করে। একদিকে মোহর রোমান্টিক এবং মুক্ত চিন্তাধারার একটি মেয়ে, অন্য ধারে চিনার রাশভারী, ভদ্র, রাগী এবং স্বল্পভাষী একজন মানুষ। দুজনের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি অতীত।
১. শেষ অবধি কি মোহর এবং কলকাতা পুলিশের তৎপরতায় আসল খুনিকে ধরা সম্ভব হবে? নাকি সকলকে ঘোল খাইয়ে খুনী হবে পগারপর? কে সেই খুনি? কেনোই বা এতো বীভৎসভাবে খুন করছে সে সকলকে? সে কি আদৌ কোনো সাইকো কিলার নাকি খুনের পিছনে লুকিয়ে আছে তার ব্যাক্তিগত প্রতিশোধ স্পৃহা?
২. মোহর কি শেষ পর্যন্ত তার আসল বায়োলজিক্যাল বাবা মাকে খুঁজে পাবে কলকাতায় ?
৩. খুনের তদন্ত করতে এসে মোহর এবং চিনার এর মধ্যে যে প্রেমের সম্পর্ক শুরু হয়েছে তা কি শেষ পর্যন্ত পূর্ণতা পাবে?
▪️ উপন্যাসের শেষে একাধিক মারাত্মক চমক অপেক্ষা করছে পাঠকদের জন্য। যা পাঠকের মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। যখন ভাববেন এই বুঝি রহস্য শেষ হয়ে গেলো সেখানেই আবার কিছু প্রশ্নের সম্মুখীন হবে আপনার পাঠক মন।
🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂
🍁 ইন্দ্রনীল বাবুর লেখা ভীষণ সাবলীল ও বেশ অন্য ধরণের । চরিত্র চিত্রন খুব সুন্দর। প্রতিটি চরিত্রকেই দারুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে উপন্যাসে। উপন্যাসের নামকরণ আমার ভীষণ পছন্দ হয়েছে যা উপন্যাসের বিষয়বস্তুর সঙ্গে একেবারে যুক্তিযুক্ত।
🍁 উপন্যাসে বেশ কিছু মানসিক এবং শারীরিক রোগ সম্পর্কে নিখুঁতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। লেখক নিজে একজন ডাক্তার হওয়ার সুবাদে বিভিন্ন মানসিক ও শারীরিক রোগ, তাদের উপসর্গ ও চিকিৎসা প্রণালী বিষয়ে অনেক তথ্য দিয়েছেন।
এছাড়া কলকাতা পুলিশ এবং সিআইডি হোমিসাইডের কার্যকলাপ সম্পর্কেও বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
🍁 উপন্যাসে ভারতীয়দের জড়তাপূর্ণ মানসিকতার বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। কিভাবে এখনো ভারতীয়রা অ্যাডাপটেড চাইল্ডদের নিচু নজরে দেখে এবং তাদের সঙ্গে কোনো রকম সম্পর্কে জড়াতে চাইনা এমনকি তাদের থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলে সেই বিষয়ে এই উপন্যাসে আমরা জানতে পারি।
🍁 এছাড়াও এই উপন্যাসে আমরা দেখতে পাই...সমাজ এখনো মেয়ে এবং পুরুষদেরকে সমানাধিকার দেয়নি, মেয়েদেরকে এখনো এই সমাজের বিভিন্ন অবজ্ঞা ও অবিশ্বাসের শিকার হতে হয়। প্রতিটা মুহূর্তেই একটি মেয়েকে নিজের যোগ্যতা প্রমান করানোর জন্য কঠিন লড়াই করে যেতে হয় । পেট চালানোর জন্য হিংস্র নরপিশাচ গুলোর কাছে শরীর অবধি বেঁচতে হয় অসহায় মেয়েদের । নিজের কন্যাসম নিষ্পাপ ফুল গুলোকেও রেহায় দেয় না বন্য পশুরা , শরীরের মোহে তাদের ছিঁড়ে ছিঁড়ে খায় ।
🍁 উপন্যাসে বাঙালি এবং প্রবাসী বাঙালিদের বাংলার প্রতি অনীহা এবং বিদেশ প্রীতি সম্পর্কে তুলে ধরা হয়েছে।
🍁 কিছু ইন্ডাস্ট্রি কিভাবে মানুষকে নিজেদের বশে নিয়ে চলে এসেছে, পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিভাবে মানুষের জীবনের ওপর তাদের আধিপত্য কায়েম করেছে, সুযোগের সদ্ব্যবহার করে মানুষকে নিজেদের হাতের পুতুল করে তুলেছে সেই বিষয় উঠে এসেছে। এমনকি কারোর প্রাণ চলে গেলেও তাদের কোনো যায় আসে না। ওরা শুধু বোঝে টাকা এবং নিজের স্বার্থ। আমরা যেন সেই স্বার্থান্বেষী মানুষ গুলোর সৃষ্ট একটা জালে জড়িয়ে গেছি। সেই জাল কি স্নেহজাল ?
🍁 উপন্যাসটির প্রতিটি পাতায় অসম্ভব রকমের টানটান উত্তেজনা আছে। শেষে কি হবে সেটা জানার জন্য পাঠকও যেন পুলিশের সঙ্গে নেমে পরবে তদন্তে এবং মেতে উঠবে বুদ্ধির খেলায়। তবে আমার অনেক ক্ষেত্রে মনে হয়েছে প্রেম বা চরিত্রদের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে কম আলোচনা করে বিশেষ করে সাসপেন্স-এর উপর আর একটু নজর দেওয়া উচিত ছিল। রহস্য আর একটু জট পাকলে আরও বেশি উপভোগ করতাম । উপন্যাসের মধ্যে জোর করে কিছু হিউমার অ্যাড করার চেষ্টা করা হয়েছে যা মাঝে মাঝে হাসালেও, অনেক সময় বাড়তি বলে মনে হয়েছে আমার।
🍁 বইয়ের প্রচ্ছদটি আমার মোটামুটি ভালো লেগেছে। সমসাময়িক সমস্ত মেডিক্যাল থ্রিলারের ক্ষেত্রে এই ধরণের প্রচ্ছদ ব্যবহার করা হচ্ছে। এই বইটিও তার ব্যাতিক্রম নয়। পৃষ্ঠা কোয়ালিটি বেশ ভালো। বানান ভুল তেমন একটা চোখে পড়েনি। বাঁধাই খুব মজবুত।
🌿 যাইহোক অসাধারণ একটি উপন্যাস করলাম। মাঝে কোন ভাবে বোর ফিল করিনি। এক নিঃশ্বাসে শেষ করেছি গোটা বইটা। আপনারাও অবশ্যই উপন্যাসটি পড়ে দেখুন, আশা করছি ভালো লাগবে। আমি তো এবার লেখকের অন্যান্য লেখা পড়ার অপেক্ষায় রইলাম।
থ্রিলার প্রিয় পাঠক হিসেবে মেডিকেল থ্রিলার আমি সেভাবে এতদিন পড়িনি, তাই এদিক থেকে আমি এখনও পিছিয়ে আছি বলা চলে। মেডিকেল থ্রিলার যে কতটা নৃশংস হতে পারে এবং তা যদি কোনো ডাক্তারের মস্তিষ্ক প্রসূত সৃষ্টি হয় তাহলে ঠিক কতটা মারাত্মক হতে পারে, স্নেহজাল হয়তো তারই আক্ষরিক প্রমাণ। পাঠক হিসেবে কখন যে আমি নিজেই এই গল্পের স্নেহজালে আটকে গেছি বুঝতে পারিনি। কিন্তু স্নেহ যে শুধু আদর নয় বরং কখনো কখনো তা ফ্যাট বা চর্বির সমার্থক ও হয়ে ওঠে এটা মনে হয় একাদশ দ্বাদশ শ্রেণীতে নিউট্রিশন ছিল বলেই সহজে মগজস্থ করতে পেরেছি। আমার নিউট্রিশন বিষয়ে জ্ঞান সীমিত হলেও নিউট্রিশন জগতে একাধিক বন্ধু থাকার দরুন এই ইন্ড্রাস্ট্রির করুণ দিকটা সম্পর্কে অনেকটাই ওয়াকিবহাল বলা যায়। 🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂
এমন একটা সমাজব্যবস্থার কাঠগড়ায় আমরা বর্তমানে দাঁড়িয়ে রয়েছি যেখানে দুজন মানুষের অনেকদিন পর দেখা হলে প্রথম কথোপকথন শুরু হয় আবহাওয়া এবং শর���রের চর্বিতচর্বন নিয়ে। কেমন আছো র চেয়েও বেশি প্রয়োজনীয় প্রশ্ন মানুষের কাছে হয়ে পড়ে, “আগের থেকে মনে হচ্ছে অনেকটা রোগা হয়ে গেছিস, শরীর খারাপ?” কিংবা “এত মোটা হলি কী করে রে, দরজা দিয়ে ঢোকা যাচ্ছে তো? দুটো চেয়ার দেব?” মনের অবস্থা না ভেবে মানুষ কত সহজেই আজকাল স্টেটমেন্ট দিয়ে দেয়। কিন্তু এটুকু বোঝেনা আপনার বলা এই একটা কথা অন্যদিকের মানুষটাকে টেনে এনে দাঁড় করায় আয়নার সামনে। খ��ব কি মোটা লাগছে??? সত্যিই কি বড্ড রোগা প্যাঙলা মনে হয় আমাকে আজকাল?? বিশ্বাস করুন এই প্রশ্নগুলো স্বাভাবিকভাবে মানুষের মনে জন্মায় না, এগুলোর জন্মদাত্রী হলো আপনাদের ঐ প্রশ্নগুলো। আর এই প্রশ্নের মিথ্যে উত্তর দেওয়ার অছিলায় শহরে সাপের মতো বংশবিস্তার করেছে কিছু স্লিমিং সেন্টার, যার আড়ালে আবডালে প্রতিমুহূর্তে বেড়ে উঠছে বেআইনি কর্মকান্ডের প্রত্নশালা। স্নেহকে এখানে লেখক দুভাবেই ব্যাখ্যা করেছেন প্রাককথনে। স্নেহের নামে দুজন প্রাপ্তবয়স্ক বিকৃত মানসিকতার কীট একটি বারো বছরের মেয়েকে অদ্ভুত খেলার অছিলায় ভুলিয়ে তার সর্বনাশ করে এবং ফলস্বরূপ মেয়েটি একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়। কিছু বুঝতে শেখার আগেই তার জীবনটা ধ্বংস করে দেয় দুজন নরখাদক... এদের কি সত্যিই কোনো শাস্তি নেই?? এমন মানুষ তো সত্যিই আমাদের আশেপাশেই well wisher হিসেবে দিনরাত ঘুরে বেড়ায়, কিন্তু এদের চেনার উপায় কি? এদের পরিণতিই বা কি? 🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂
কলকাতা শহরে খুন হয়েছে চারজন হাই প্রোফাইল মানুষ। একজন জিম ইন্সট্রাক্টর, একজন ডাক্তার, একজন নিউট্রিশনিস্ট এবং একজন ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী। চারজনের খুনের প্যাটার্ন একইরকম, তাই সিরিয়াল কিলিং হিসেবে ধরে নেওয়া যায়। পেট কে কিচেন নাইফ দিয়ে কেটে তার ভিতর ঢেলে দেওয়া হচ্ছে অলিভ অয়েল, আবার কখনো ঢেলে দেওয়া হচ্ছে নারকেল তেল বা মাসাজ অয়েল বা চিপস। তার পর দেওয়ালে রক্তদিয়ে এঁকে দেওয়া হচ্ছে টিক চিহ্ন। আর এই খুনের ঘটনার তদন্তভার এসে পড়েছে কলকাতা পুলিশ এর স্পেশাল অফিসার চিনার মিত্র ও দিল্লির ফরেনসিক সাইক্রিয়াট্রিস্ট মোহর চ্যাটার্জি এর কাঁধে। উপন্যাস যতই এগোতে থাকে খুন হন আরও দুজন হাই প্রোফাইল ব্যক্তি। খুনের মোডাস অপারেন্ডি কি?? কেই বা খুনি ... চিনার আর মোহর কি পারবে শেষ পর্যন্ত খুনিকে ধরতে?? নাকি কেঁচো খুঁড়তে বেরিয়ে আসতে পারে কোনো কেউটে??? এইসব প্রশ্নের উত্তর রয়েছে স্নেহজালে। সবচেয়ে সুন্দর লেগেছে এত সুন্দর একটি থ্রিলারের ভীড়েও লেখক বুনে তুলেছেন এক মিষ্টি প্রেমের উপাখ্যান। রক্ত, দুর্গন্ধ, মৃতদেহের ভীড়ে যখন গা গুলিয়ে উঠবে, ঠিক তখনই চিনার আর মোহর বসন্তের বাতাস হয়ে সবকিছু হালকা করে দেবে আবার। 🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂
স্নেহ পদার্থের করুণ পরিণতি, অপত্য স্নেহ, স্নেহের আড়ালে নৃশংসতা ১৬০ পাতা জুড়ে বুনে চলা এই আঠালো জালে আপনি যে কখন নিজের অজান্তেই জড়িয়ে যাবেন, সেটা বুঝে ওঠার সুযোগই পাবেন না। প্রতিটি পাতার পরতে পরতে মেডিকেল বিষয়ের খুঁটিনাটি ডিটেলস, ফরেনসিক সাইক্রিয়াট্রি, কলকাতা পুলিশের তদন্ত অভিযানের প্রক্রিয়া প্রভৃতি লেখক এত সুচারুভাবে ফুঁটিয়ে তুলেছেন, তা হয়তো লেখকের পেশার কারণেই এতটা বাস্তবরূপ পেতে সফল হয়েছে। প্রাককথন এবং উত্তরকথন কে লেখক এতটা চমকপ্রদভাবে মিলিয়ে দেবেন শেষে এটা সত্যিই কল্পনাতীত ছিল আমার কাছে। অনেকদিন পর এত অপূর্ব থ্রিলার পড়লাম। সমৃদ্ধ হলাম।।
⛳ কি ভাবছেন বইটা কেমন হবে? বইটা কি কেনা যাবে? কী আছে এই বইতে? আসুন দেখে নিই.......
✒️🧾সদ্য পড়ে শেষ করলাম সাহিত্যিক ইন্দ্রনীল সান্যাল মহাশয়ের লেখা ‘স্নেহজাল’ উপন্যাসটি। লেখক মূলত মেডিকেল থ্রিলারই বেশি লেখেন, তার মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় উপন্যাস স্নেহজাল। এই উপন্যাস নিয়ে আগে অনেক আলোচনা, সমালোচনা হয়েছে। উপন্যাসটি আমার পড়ে কেমন লাগলো সেটাই তুলে ধরবো এই রিভিউ-এর মাধ্যমে.......
📜🌿~উপন্যাস সম্পর্কে আলোচনা~🌿📜
✒️🧾এই উপন্যাসে শুরু হওয়ার আগেই বইতে একটা ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে দিল্লি অধিবাসী এক দম্পতি, তাদের দিল্লিতে একটা হোটেলে রয়েছে। তাদের নাবালিকা কন্যা কে দুই ব্যক্তি ধর্ষণ করে, তাদেরই হোটেলে। এরফলে ওই নাবালিকা কন্যা সন্তানসম্ভবা হয়ে যায়। কিন্তু যতদিন দম্পতি এই অবস্থার কথা বুঝতে পারে তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে, যার ফলে ওই কন্যাটি একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়। সদ্যজাত সন্তানটিকে দিল্লির একটি অনাথ আশ্রমে দান করে দেন ওই দম্পতি। তারপর ওই সবাই দিল্লি ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়........
✒️🧾এর পর থেকেই শুরু হয় মূল উপন্যাস, যার প্রেক্ষাপট কলকাতা। কলকাতার বুকে হঠাৎ করেই একটা বিশেষ পদ্ধতিতে সিরিয়াল কিলিং হতে শুরু হয়.......একের পর এক খুন হতে থাকে। এই ঘটনায় কলকাতা পুলিশ নরেচরে বসে। এবং দিল্লি থেকে নিয়ে আসে মোহোর চ্যাটার্জি কে যিনি পেশায় একজন ফরেনসিক সাইকায়াট্রিস্ট। সিরিয়াল কিলিং এর কেসে কলকাতায় এসে মোহর খুঁজে বের করতে চায় তার মা কে......
✒️🧾উপন্যাসের মূখ্য চরিত্রে এই “মোহোর চ্যাটার্জি”। এই মোহোর কে তার বর্তমান বাবা-মা দিল্লির অনাথ আশ্রম থেকে দত্তক নিয়ে মানুষ করেছে। মোহর তার আসল বাব-মা কে সেটা জানার জন্য ভীষণ আগ্রহী হয়ে ওঠে। অনেক খোঁজাখুঁজি করে তার আসল মায়ের নামটা জানতে পারে....মোহর কি পারবে শেষ পর্যন্ত তার জন্মদাত্রী মাকে খুঁজে বের করতে পারবে?
✒️🧾 উপন্যাসে খুনের ধরন একদম চমকে যাওয়ার মতো - কিচেন নাইফ দিয়ে পেট কেটে নাড়িভুঁড়ির মধ্যে ফুটন্ত অলিভ অয়েল ঢেলে দিয়েছে খুনি। দেওয়ালে রক্ত দিয়ে আঁকা রয়েছে টিক চিহ্ন। মোহর আর চিনার তদন্ত শুরু করে দেখল একই পদ্ধতিতে খুন অতীতেও হয়েছিল। তদন্ত যত এগোয় তত খুনের সংখ্যা বাড়তে থাকে, বাড়তে থাকে সন্দেহভাজনের তালিকা। চিনার আর মোহর মিলে কি এই সিরিয়াল কিলারকে ধরতে পারবে? তাদের মধ্যে যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে উঠছে, পেশাদারি বাধ্যবাধকতা কি তাতে ছায়া ফেলবে? জানতে হলে অবশ্যই পড়তে হবে এই মেডিকাল থ্রিলার উপন্যাসটি।
✒️🧾অবশ্যই এই বইটি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য। উপন্যাসটি পড়ে আমার বেশ ভালো লেগেছে। দুর্বল হৃদয়ের পাঠকরা এই বইটি থেকে দূরেই থাকবেন। এতো নিশংস খুনের বর্ণনা সত্যি গায়ে কাঁটা দেয়। লেখক-এর লেখা নিয়ে বলার কিছুই নেই। উনি বরাবরই আমার প্রিয় লেখক। বইটি হার্ড কভার, ভালো কাগজ, ঝকঝকে ছাপা ও আকর্ষণীয় প্রচ্ছদ সমৃদ্ধ। লেখকের অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনার লেখার দীর্ঘায়ু কামনা করি। ভালো থাকবেন........
📥🗒️2024 Book Review ~ 57 যদি এই বইটি পূর্বেই কেউ পড়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনাদের ব্যক্তিগত মতামত জানাবেন। এছাড়াও আমার রিভিউ কেমন লাগছে সেটাও জানাবেন নিচের কমেন্ট বক্সে। যদি কিছু ভুল ত্রুটি হয় সেটাও জানতে ভুলবেননা। 🍀 আবারো দেখা হবে পরের রিভিউতে। সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন আর অনেক অনেক বই পড়ুন। 🙂 🙏🏻 !! ধন্যবাদ !! 🙏🏻
"অন্ন আলো অন্ন জ্যোতি সর্বধর্মসার অন্ন আদি অন্ন অন্ত অন্নই ওঁকার । সে অন্নে যে বিষ দেয় কিংবা তাকে কাড়ে ধ্বংস করো, ধ্বংস করো, ধ্বংস করো তারে। "
- লক ডাউনে শেষ করেছি Indranil Sanyal মহাশয়ের লেখা এই অনবদ্য রহস্য উপন্যাসটি।
কাহিনীর প্রাককথন শুরু হয় ভারতবর্ষের রাজধানী দিল্লীতে ১৯৮৮ সালে । এরপর প্রথম অধ্যায়ের প্রেক্ষাপট ২০১৮ এর কলকাতা । যেখানে এক অজ্ঞাত আততায়ী একটি স্লিমিং সেন্টারের মালকিনকে তার অফিসের মধ্যে নৃশংসভাবে হত্যা করে । জীবিত অবস্থায় কিচেন নাইফে পেট কেটে তার ক্ষতস্থানে আততায়ী ঢেলে দেয় ফুটন্ত তেল । ভিতরের মাংস তথা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ডিপ ফ্রাই হয়ে মারা যায় ভিক্টিম। এইভাবেই ঘটতে থাকে একের পর এক খুন । তদন্তে নামে কলকাতা পুলিশের লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের হোমিসাইডিয়াল অফিসার চিনার মিত্র । খুনির মোডাস অপারেন্ডি খুবই ভয়াবহ , তাই খুনির মনস্তত্ত্ব বোঝার জন্য চিনার ডেকে পাঠায় ফরেনসিক সাইকায়াট্রিস্ট মোহর চ্যাটার্জীকে । যিনি আগে দিল্লী পুলিশকে সাহায্য করেছেন ।
কাহিনীর চরিত্রগুলি অসাধারনভাবে নির্মাণ করেছেন লেখক । অতন্ত্য সাবলীল ভাষা , এই উপন্যাসে দেখতে পাই শারীরিক পরিকাঠামো বজায় রাখার জন্য কিংবা ফিল্মের খাতিরে শিল্পীরা নিজেদের কতটা কাঁটা ছেঁড়া করেন । আর সেখানে সুযোগ বুঝে ব্যাবসা ফেঁদে বসে কিছু অসাধু মুষ্টিমেয় , লেখক নিজে একজন চিকিৎসক হয়েও এই বইতেও মেডিকেল লাইনের ভয়াবহ কিছু দিক আবারও তুলেছেন । অনেক গোয়েন্দা কাহিনী পড়লেও ফরেনসিক সাইকায়াট্রিস্ট এর সাথে আমার গোয়েন্দা কাহিনীতে প্রথম পরিচয় এই বইতেই । তারা কিভাবে কাজকর্ম করে সেই বিষয়েও লেখক ভালো বুঝিয়েছেন । ফরেনসিক সার্জন ও ফরেনসিক সাইকায়াট্রিস্ট পুরোই আলাদা । দুজনই চিকিৎসক কিন্তু একজন কাজ করে ভিক্টিমের দেহ নিয়ে , অন্যজন চর্চা করে আততায়ীর মনস্তত্ত্ব নিয়ে ।
হত্যাকারী মরিয়া ,পরপর খুন করে চলেছে শহর জুড়ে, আর এদিকে মহানগরময় সন্দেহভাজনদের পিছনে ধাওয়া করে ছুটোছুটি করে বেরাচ্ছে কলকাতার কিছু থানার অফিসার ও তাদের সাথে মোহর , চিনার ও তার টিম । তারা কি পারবে ?? এই হত্যালীলা থামাতে ??? পারবে প্রকৃত অপরাধীকে ধরতে ?? জানতে হলে পড়তে হবে এই অনবদ্য উপন্যাসটি । স্নেহজাল শুধু স্নেহের বা অপরাধের কাহিনী নয় , এই কাহিনী দুঃসময়ের ,দুঃসময়ে পাশে থাকা একটি মানুষের (শ্রীনুর), এই কাহিনী এই কলকাতা শহরের , এই কাহিনী দিল্লীর , এই কাহিনী ধ্বংসের ,তার সাথে চোরাস্রোতে বহমান একটা মিষ্টি প্রেমেরও কাহিনী এটি ।
উপন্যাসের শেষ অধ্যায় উত্তরকথনের প্রেক্ষাপট কলকাতা , প্রথম প্রাককথন দিল্লী থেকে শুরু , কলকাতায় অন্ত । কিন্তু উত্তরকথনের শেষ চমকের জন্য আমি একেবারেই প্রস্তুত ছিলাম না । সেই চমকটির জন্যই উপন্যাসের নামটি স্বার্থক হয়েছে । লেখককে কুর্নিশ এইভাবে এত সুন্দর প্লটে একটি রহস্য উপন্যাস উপহার দেবার জন্য ।
🔹অনেকদিন ধরেই ডঃ ইন্দ্রনীল সান্যাল এর মেডিক্যাল থ্রিলার পড়ার ইচ্ছা ছিল, সেটা শুরু করলাম স্নেহজাল দিয়ে। বই এর সারসংক্ষেপ দেখে বইটি হাতে তুলে নিলাম। যেখানে লেখা আছে এক স্লিমিং সেন্টার এর মালকিন খুন হয়েছে, পেট কেটে তার মধ্যে ফুটন্ত অলিভ অয়েল ঢেলে দিয়েছে খুনী। কলকাতা পুলিশ এর গোয়েন্দা বিভাগ এর চিনার মিত্র খুনের তদম্ত করতে সাহায্য নিল দিল্লীনিবাসী ফরেনসিক সাইকিয়াট্রিস্ট মোহর চ্যাটার্জি এর। খুনের পর খুন হতে থাকল এরপর। ব্যাস এইটুকু পরেই আমার রন্ধ্রে রন্ধ্রে উত্তেজনা বেড়ে গেলো। আমার ফেভারিট টপিক থ্রিলার তার সাথে সিরিয়াল কিলিং উফ পুরো জমে ক্ষীর। ব্যাস পড়া শুরু করলাম।
🔹এবার আসি গল্পের কথায় অবশ্যই স্পয়লার ব্যতীত। এটি আমার পড়া লেখক এর প্রথম উপন্যাস। গল্প বলার ধরন দারুণ, প্রত্যেক পাতা পাঠককে ধরে রাখে গল্পের মধ্যে। প্লট বিল্ডিং ও দারুণ, কীভাবে একটা গল্পের পিছনে লুকিয়ে অন্য একটা গল্প বলে দিলেন লেখক সেটা জানতে হলে পড়তে হবে এই উপন্যাস। গল্পের বাইরে অতিরিক্ত জিনিস দিয়ে লেখক গল্প কে টানেন নি, সহজ লেখনী যা পাঠকের বোধগম্য। মেডিক্যাল থ্রিলার হবে বলে ভেবেছিলাম কঠিন কঠিন মেডিক্যাল টার্ম থাকবে, বুঝতে হয়তো নেট ঘাটতে হবে, কিন্তু না, লেখক খুব সুন্দরভাবে বর্ণনা করেছেন। ওই যে বললাম অতিরিক্ত মশলা নেই। চিনার ও মোহর এর প্রেম ও দেখিয়েছেন লেখক কিন্তু ওই গল্পের গতি এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই। এই গল্প টা হয়তো অন্যান্য থ্রিলার এর মতো একটা সমান্তরাল লাইন এ শেষ হতে পারত, কিন্তু গল্পের শেষ এর যে টুইস্ট টা লেখক দিয়েছেন সেটা আমার থ্রিলার গল্পের খিদে টা কে পূর্ণ রূপে মিটিয়েছে। দ্য এন্ডিং ওয়াজ জাস্ট আনএক্সপেক্টেড।প্রাককথন এ যার সূত্রপাত, উত্তরকথন এ তা যেন পূর্ণতা পেল। এরপর লেখক এর অন্য গল্প গুলো পড়ার ইচ্ছা রইল। আপনারা এই বই পড়ে থাকলে কেমন লেগেছে আলোচনা করবেন(কমেন্টে অবশ্যই স্পয়লার ছাড়া)
🔸সর্বোপরী আসি প্রকাশনী ও এডিটর এর কথায়। আমার কাছে বইটির প্রথম প্রকাশ আছে(২০১৯) কেনা কলকাতা বইমেলা ২০২৩ এর থেকে। এতো ভুল কী করে হতে পারে? ক্যারেক্টার এর নাম ই পাল্টে দিচ্ছে কখন ও কখন ও। যা আপনার গল্প বলার মজা টা কে মাটি করে দেবে। যে ক্যারেক্টার এর নাম মোহর সে মোহন চ্যাটার্জি কী করে হয়ে যায়? এরকম অনেক ভুল আছে, এক ক্যারেক্টার এর নাম এর জায়েগায় অন্য ক্যারেক্টার এর নাম(ভুলবশত)। এতো বড় একটা পাবলিশিং হাউজের থেকে এটা মেনে নেওয়া যায় না।
এতভালো লেখা আমি কেন এতদিন পড়িনি ভেবে নিজের হাত কামড়াতে ইচ্ছে করছে। ঘটনা খুবই সাধারণ- কলকাতা শহরে কিছু সিরিয়াল কিলিং হচ্ছে। ভিক্টিমের পেট কেটে গরম তেলে ঢেলে দেওয়া হচ্ছে আর যাওয়ার আগে দেওয়ালে টিক মার্ক দিয়ে যাচ্ছে খুনি। এইরকম আরও কিছু সিরিয়াল কিলিং-এর গল্প বাজারে পাওয়া যাবে বলেই আমার বিশ্বাস। সেখানে হয়তো বীভৎসতা দেখানোতেই বেশি মন দেওয়া হবে। তবে এই বইতে লেখক সেসব পথে খুব একটা হাঁটেননি। যেটুকু না হলে নয়, ব্যাস সেটুকু। কিন্তু এরকম অসাধারণ উপস্থাপনা বা স্টোরিটেলিং আর একটাও বাজারে পাওয়া যাবে কিনা আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে। ব্যক্তিগতভাবে এটা আমার মনে হয়ই যে একটা অত্যাশ্চর্য প্লট খোঁজার থেকে, একটা সাধারণ গল্পকে মনোগ্রাহী করে বলাটা বোধহয় অনেক বেশি শক্ত। কিন্তু তা পাঠককে অনেক বেশি আনন্দ দেয়। এই গল্পটা সেরকমই। পাতায় পাতায় শিহরন বা চমক নেই, কিন্তু একটা সাবলীল ভঙ্গিতে গল্প 'বয়ে' চলে। ঠিক বোধহয় 'পড়তে' হয় না। থ্রিলার লেখার সময় যে সব সময় পাতায় পাতায় সাসপেন্স আর টেনশন তৈরির দরকার নেই, সেটা সত্যি এই বইয়ের থেকে অনুকরণযোগ্য। এরকম ক্রাইম, অন্ধকার, অবিশ্বাসের গল্পের মধ্যেই লেখক যেভাবে কিছু মানুষের স্বাভাবিক জীবন ও চাহিদার কথা তুলে ধরেছেন, সেটাই ব্যক্তিগতভাবে আমায় খুব আকর্ষিত করেছে। দেখতে গেলে সেটা আবার টেনশনও তৈরি করেছে পরোক্ষভাবে। গল্পের নিরিখে বলতে গেলে মোটামুটি মাঝামাঝি পড়ে দুটো স্ট্রং অনুমান করেছিলাম সেটা যে গল্পের শেষে খেটে গিয়েছে দেখে ভালো লেগেছে। কিন্তু যদি না খাটত তাহলেও বিন্দুমাত্র খারাপ লাগত না। পুরো গল্পটা পড়ে এতটা তৃপ্ত হয়েছি যে তারপরে আর লেখকের খুনি আমার সঙ্গে মিলল কী মিলল না সেই নিয়ে বিন্দুমাত্র কোনও চিন্তাই কাজ করছিল না।
একটা মাত্র প্রিন্টিং মিসটেক চোখে পড়েছিল। তবে প্রচ্ছদটা আমার একেবারেই পছন্দ হয়নি। ভীষণই ধর তক্তা মার পেরেক গোছের একটা প্রচ্ছদ যেটা বইয়ের সেভাবে থিমের ধারে-কাছে নেই। এতই জেনেরিক ���কটা প্রচ্ছদ যে যেকোনো সিরিয়াল কিলিংয়ের বইয়ে ওই একই প্রচ্ছদ চালিয়ে দিলেও কোনও সমস্যা হবে না।
#পাঠ_প্রতিক্রিয়া বইয়ের নাম- স্নেহজাল লেখক - ইন্দ্রনীল সান্যাল Rating - 4/5 বাংলাসাহিত্যে বিশুদ্ধ টানটান উত্তেজনার ক্রাইম থ্রিলার আছে বেশ অনেকই। তবে অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে বাধ্য হচ্ছি আজকালের লেখক দের মধ্যে হরর, আধিভৌতিক, অতিপ্রাকৃত বিষয় নিয়ে লেখার প্রবণতা এতটাই বেড়ে গেছে যে আসল রক্তমাংসের মানুষ কৃত হত্যাকাহিনী গুলি একপ্রকার কোণঠাসা। লেখক ইন্দ্রনীল সান্যাল এই অভাব কিছুটা হলেও পূরণ করেছেন। কলকাতা শহরে পর পর বেশ কিছু খুন হচ্ছে অদ্ভুত নৃশংস পদ্ধতিতে। মৃতদেহের পেট কেটে তাতে ফুটন্ত তেল ঢেলে দেওয়া হচ্ছে। দেওয়ালে রক্ত দিয়ে আঁকা হচ্ছে টিক চিহ্ন। এই সিরিয়াল কিলিং এর নেপথ্যে কে সেটা খুঁজে বেড়াচ্ছে কলকাতা পুলিশের চিনার মিত্র এবং ফরেনসিক সাইকিয়াট্রিস্ট মোহর চ্যাটার্জী। কথায় আছে " স্নেহ অতি বিষম বস্তু" । মানব শরীরে স্নেহজাত পদার্থ বা ফ্যাট যেমন প্রয়োজনীয়, তেমনই তা অতিরিক্ত পরিমাণে হয়ে গেলে নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দেয় এবং তার পরে সমাজের কাছ থেকে " body shaming" তো আছেই । তাই নিরুপায় হয়ে মানুষ জড়িয়ে যায় রোগা হওয়ার বাসনায়। সেই হলো স্নেহজাল। আবার অপর দিক থেকে যদি ভাবা যায়, একজন মা এর অপত্য স্নেহ যে কতটা তীব্র হতে পারে , সেটা একমাত্র মা ই বোঝেন। এও একপ্রকার স্নেহজাল বটে! সব মিলিয়ে বলা চলে গল্পটি সার্থকনামা। গল্পের কোনো জায়গায় কোনো বিষয় এতটুকু অতিরিক্ত লাগেনি । গল্পে রহস্যের উন্মোচনের পাশাপাশি চিনার ও মোহরের সম্পর্ক টা যেন তাজা অক্সিজেনের মতো । গল্পের মধ্যে অন্য মোড় এনে দেয়। যাঁরা রহস্য খুব ভালোবাসেন এবং একটু আধটু নৃশংসতা থাকলে পড়তে অসুবিধা হয় না তাদের জন্য বইটি masterpiece. সবশেষে বলবো, মোটা হন বা রোগা , নিজেকে ভালোবাসুন। নিজের শরীর কে ভালোবাসুন।
কলকাতা শহরের বুকে ভয়াবহভাবে খুন হচ্ছে একের পর এক সচ্ছল ব্যক্তিবর্গ। সেই শহরের গোয়েন্দা সংস্থার অফিসার চিনার মিত্র এই খুনগুলোর তদন্ত করতে নেমে বুঝতে পারেন খুনির সাইকোলজিক্যাল প্রোফাইলিং করা প্রয়োজন। তাই তিনি দিল্লী থেকে উড়িয়ে নিয়ে আনেন ফরেনসিক সাইকিয়াট্রিস্ট মোহর চ্যাটার্জিকে। তারা দুজনে মিলে খুনিকে ধরার যে প্রক্রিয়া শুরু করেন তার পরিণতি নিয়েই 'স্নেহজাল' বইটি লেখা। - যে থিমের উপরে 'স্নেহজাল' বইটা লেখা তা আমার কাছে বেশ ইম্পর্ট্যান্ট মনে হয়েছে, এ সংক্রান্ত মেসেজটাও বেশ ক্লিয়ারলিই দেওয়া হয়েছে বইতে। মেডিক্যাল এবং সাসপেন্স থ্রিলার হিসেবে মোটের উপরে বইয়ের লেখনশৈলী ভালো লেগেছে, গল্পের বেশিরভাগ সময়েই টানটান উত্তেজনা ছিলো, তবে অনেক পাঠকই শেষের আগেই গেস করে ফেলতে পারেন অনেক কিছুই। আর মূল খুনীর চরিত্র বাদে বাকিদের চরিত্রায়ণ গড়পড়তা লেগেছে, তার ভেতরে চিনার আর মোহরের কেমেস্ট্রি অনেক ক্ষেত্রেই চিজি লাগলো। - 'স্নেহজাল' বইয়ের প্রোডাকশনের দিকে বলতে গেলে এর প্রচ্ছদ এবং নামকরণ গল্পের কাহিনির সাথে মানানসই। তবে কলকাতার বই হিসেবে প্রিন্টিং মিস্টেক এবং কয়েক জায়গায় চরিত্রের নাম অদল বদল হওয়া দেখে অবাক হলাম। যাই হোক, যাদের প্রোডাকশনগত মাথাব্যাথা নেই আর কলকাতার পটভূমিতে সিরিয়াল কিলিং থিমের সাথে মেডিক্যাল এবং সাসপেন্স থ্রিলার পড়তে চান, তাদের জন্য বইটা রিকমেন্ড রইলো।
দারুন টানটান একটি রহস্য রোমাঞ্চ উপন্যাস। খুব সাবলীল লেখনী। Police procedural র উপর detailed focus আলোচনা করা হয়েছে।
Negative points:
১. Medical thriller বলে পড়া শুরু করলেও, এটিকে ঠিক medical thriller মনে হয়নি।
২. Printing mistakes: blurb এ পর্যন্ত! Please!
৩. গল্পে চিনার একজনকে follow করতে করতে গড়িয়াহাট পৌঁছায়। কিন্তু car parking করে দক্ষিণাপণে। এটি অবাস্তব, কারণ এদের মধ্যে distance more than 2km, যেটা দৌড়ে cover করতে minimum ১০-১৫ minutes লাগার কথা।
চিনার মিত্র💝নামটা খুব সুন্দর ছিলো। সেও সুন্দর ছিলো।
কাহিনীটা জটিল ছিলো। এই বই না পড়লে এরকম একটা টপিক নিয়ে কখনোই ভাবতাম। 'স্নেহ অতি বিষম বস্তু'। বইটা পড়েই বুঝতে পারলাম।
ডাক্তার না হয়েই অনেক মেডিকেল টার্ম শিখে ফেলছি। ফিলিং প্রাউড😌।
মোহরের চরিত্রটা বিশেষ ভালো লাগেনি আমার😐। চিনার আর মোহরের মধ্যে সম্পর্কটা আরো সুন্দর করে গড়ে উঠতে পারত। কিন্তু যেহেতু থ্রিলার আর কাহিনীতে ৯/১০ তাহলে এই ভালো না লাগাটা বাদ দেওয়া যায়।
Overall I like it🥰 ইন্দ্রনীল সান্যালের লেখা প্রথম পড়া। আরো পড়তে চাই অবশ্যই😊
খুন করা তো অপরাধ, কিন্তু খুনি যদি সে খুনকে নিয়ে যায় শিল্পের পর্যায়ে? সে যদি মামুলি খুন না হয়ে এক বিকৃত মানসিকতার পরিচয় দেয়? আর তার সাথে যদি জড়িয়ে থাকে চিকিৎসাবিজ্ঞান? তাহলেই সাইকো-মেডি থ্রিলার এর জন্ম হয় বোধহয়! স্নেহজাল তেমনই এক সৃষ্টি, যাতে মনোবিজ্ঞান ও চিকিৎসা বিজ্ঞান এর যুগপৎ সমাবেশ ঘটেছে। কয়েকটি একজাতীয় বিভৎস খুনের তদন্ত করতে গিয়ে লালবাজারের পুলিশ অফিসার চিনার মিত্রকে সাহায্য করে দিল্লির ফরেনসিক সাইকিয়াট্রিস্ট মোহর চ্যাটার্জি। উদ্দেশ্য খুনির মেন্টাল প্রফাইলিং তৈরি করা। এ বিষয়টিই কাহিনীর প্রধান আকর্ষণ। খুনির মোডাস অপারেন্ডি ছিল মাথায় বাড়ি মেরে অজ্ঞান করা, জ্ঞান ফিরলে হাত, পা, মুখ বেঁধে, ছুরি দিয়ে পেট কেটে ভেতরে ফুটন্ত গরম তেল ঢেলে দেয়া, সব শেষে ভিকটিমের রক্ত দিয়ে দেয়ালে একটি টিক চিহ্ন এঁকে দেয়া!! এবার আসি আখ্যান এর গুণগত ময়নাতদন্তে। অতিশয় প্রাঞ্জল ও নিখুঁত বর্ণনার বর্ণোচ্ছটায় কোনো জায়গায় বাড়তি বা ঘাটতি পরিলক্ষিত হয় নি। একদম থ্রিলার এর ব্যাকরণ মেনে, সম্পর্কের যথাযথ রসায়নে ঘনীভূত হয়ে স্নেহজাল হয়ে উঠেছে এক পরিপক্ব ও পূর্ণাঙ্গ কাহিনী। কাহিনী টি প্রথম থেকে শেষ পাতা অবধি পাঠককে চৌম্বক বলয়ে ধরে রাখতে সক্ষম। সামনে আসে প্রথমে একটি রহস্য, যার জাল গুটিয়ে আনতে না আনতে আরেকটি রহস্য হাতছানি দেয়। প্রথম থেকে পাঠক একজন সম্ভাব্য খুনি হয়তো ধরে নেবে, কিন্তু শেষে গিয়ে রহস্যের আড়ালে যে আরেকটি মুখ্য রহস্য লুকিয়ে তা এককথায় অনাস্বাদিতপূর্ব!! এ উপন্যাসের অন্তিম ভাগ একটি প্রচ্ছন্ন বার্তা তুলে ধরে----জীবনের সব রহস্যের উত্তর হয়তো মেলে না, আর তাই জীবন নিয়ে মানুষের বিশ্লেষণের অন্ত নেই। সব বলে দিলে হয়তো বলার, শোনার, বোঝার, ভাবার আর কিছু থাকবে না; তাই অজস্র বলার মাঝে কিঞ্চ��ৎ না বলার গুরুত্ব অনেক! পড়ার পর মনে হয়েছে এ থ্রিলার শেষ হওয়ার পরও থ্রিল এর রেশটা কাটে না। এতো গেল থ্রিলার এর থ্রিল এর প্রকৃতি! এরপর ডা. স্যানালের থ্রিলার এর আরো যে দিকটি বরাবরই উপভোগ্য তা হল, বিবিধ জ্ঞানের অকুণ্ঠ প্রসারণ। ফরেনসিক সাইকিয়াট্রির বিস্তারিত বেশ পুলকিত করে। সেই সাথে চিকিৎসা, অপরাধ ও মনোবিজ্ঞানের বিবিধ তথ্যের ও কৌশলের অকৃপণ সমাবেশ কাহিনী কে উৎকর্ষ ও পাঠককে আনন্দ দান করে। উপন্যাসের কয়েকটি মনে দাগকাটা উক্তি না বললেই নয়।।।। লড়াইটা ছিল টাকা আর পাউন্ডের মধ্যে, home is where the heart is, রক্তের বাইরে যে সম্পর্ক তাতে প্রতি মুহূর্তে অপত্য স্নেহের প্রমাণ দিতে হয়, revenge is a dish best served cold ইত্যাদি।
উপন্যাসের দার্শনিক উপজীব্য ছিল এই বাণীটি----"স্নেহ অতি বিষম বস্তু"। কীভাবে? বুঝতে হলে স্বাদ নিন সুস্বাদু এই থ্রিলারের।
Although it has a disturbing series of murders, I didn't get even a bit of a thrill. No thrill of trying to solve the case mentally alongside the protagonist(and actually loving to be wrong in the climax and think: 'Oh, it was such a slight thing, how could I even not notice such a simple thing!') because the protagonists themselves didn't do anything to solve it.
The concept of bringing in a Forensic Psychiatrist for the purpose of making a mental profile of the killer didn't serve. In fact, not just her, but even the protagonist, the investigating officer, or Detective whatever it was, didn't do anything to trace the killer. Nobody actually solved the case. The murderer herself confessed.
I had expected that at least the officer and doctor would try to predict something but the only thing they did was get news of the murder, reach the spot, collect evidence, and nothing. For eg., in the conference meeting that was held, all that Dr. Mohar Chatterjee said was purely informative and what had already been informed by the author to readers.
Rather it was the story of revenge. The only thing I like was the plot twist of who Diya Maiti actually was.
I get why the murderer wanted to kill Nabeen Rathee and his partner.
But the other series of murders(the ones on which the story has been written) are not at all justified(even ethically). I can feel her feelings but taking such drastic steps and that too in such a ferocious way are not something understood.