Jump to ratings and reviews
Rate this book

নিশুতি #2

নিশুতি ২ : হরর-থ্রিলার গল্প সংকলন

Rate this book
সূচীপত্রঃ
১) নিশা তান্ত্রিক - মুহম্মদ জাফর ইকবাল
২) ছয়ে ঋতু - ইন্দ্রনীল স্যানাল
৩) ভ্রূণ - সৈয়দ অনির্বাণ
৪) ছত্রশালের নখ- হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
৫) লেন্স- মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
৬) বজ্রচর্চিকা- মণীষ মুখোপাধ্যায়
৭) সংহার - স্বনন আসিফ
৮) হন্তারক - রাফসান রেজা রিয়াদ
৯) মাস্টারপ্ল্যান – আদনান আহমেদ রিজন
১০) পাপ - ইমতিয়াজ আজাদ
১১) ছায়া - আহসান হাবীব
১২) কুহেলী- আসিফ তাউজ
১৩) বুমেরাং- শুভঙ্কর শুভ
১৪) তেল চিটচিটে – সাজিদ রহমান
১৫) কাপুরুষ- নাজিম উদ দৌলা
১৬) প্রক্সি – আসিফ রুডলফায
১৭) পুনর্ণভা – রাফিউজ্জামান সিফাত
১৮) মিথ্যা অভিযোগ - আহসানুল হক শোভন
১৯) শোধ – তানজিনা তানিয়া
২০) গুড বাই জুন – মহুয়া মল্লিক
২১) অক্ষি – পরাগ ওয়াহিদ
২২) জগদীশ ফাইলস - তাসরুজ্জামান বাবু
২৩) বেজমেন্ট - জুলিয়ান
২৪) প্রতিশোধ – শাহরিয়ার সৈকত
২৫) চ্যানেল নম্বর ৩৩ – জুবায়ের আলম
২৬) কানীবুড়ি - নাসির খান
২৭) রাইটার্স ব্লক- সালমা সিদ্দিকা
২৮) একটি অসমাপ্ত গল্প – আহনাফ তাহমিদ
২৯) সকলই গরল ভেল – আবুল ফাতাহ মুন্না
৩০) চারটা চা দেন, একটা চিনি ছাড়া! – নসিব পঞ্চম জিহাদী
৩১) কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল – ওয়াসি আহমেদ
৩২) হৃদয়পুর কতদূর – মুহম্মদ আলমগীর তৈমূর

488 pages, Hardcover

First published May 6, 2019

3 people are currently reading
151 people want to read

About the author

Muhammed Zafar Iqbal

402 books1,607 followers
মুহম্মদ জাফর ইকবাল (Bengali)

Muhammed Zafar Iqbal (Bengali: মুহম্মদ জাফর ইকবাল) is one of the most famous Bangladeshi author of Science-Fiction and Children's Literature ever to grace the Bengali literary community since the country's independence in 1971. He is a professor of Computer Science & Engineering at Shahjalal University of Science and Technology (SUST). Before that, Iqbal worked as a research scientist in Bell Communication Research for six years until 1994.

Birth and Family Background:
Iqbal was born on 23 December 1952 in Sylhet. His father, Foyzur Rahman Ahmed, was a police officer. In his childhood, he traveled various part of Bangladesh, because of his father's transferring job. Zafar Iqbal was encouraged by his father for writing at an early life. He wrote his first science fiction work at the age of seven. On 5 May 1971, during the liberation war of Bangladesh, the Pakistan's invading army captured his father and killed him brutally in the bank of a river.

Education:
Iqbal passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1968 and HSC exam from Dhaka College in 1970. He earned his BSc in Physics from Dhaka University in 1976. In the same year Iqbal went to University of Washington to obtain his PhD and earned the degree in 1982.

Personal Life:
Iqbal married Dr. Yasmeen Haque in 1978. Yasmeen is the Dean of the Life Science Department, Head of the Physics Department, Provost of the Shohid Janoni Jahanara Imam Hall and a researcher at SUST. They have two children - son Nabil and daughter Yeshim. Yeshim translated the book Amar Bondhu Rashed (Rashed, My Friend) written by her father. Iqbal's elder brother, Humayun Ahmed, was the most popular author and film-maker of Bangladesh since its independence. Humayun died after a nine-month struggle against colorectal cancer on the 19 July 2012. His younger brother, Ahsan Habib, is the editor of the satirical magazine, Unmad and one of the most reknowned cartoonist of Bangladesh.

Academic Career:
After obtaining PhD degree, Iqbal worked as a post-doctoral researcher at California Institute of Technology (CalTech) from 1983 to 1988. He then joined Bell Communications Research (Bellcore), a separate corporation from the Bell Labs (now Telcordia Technologies), as a Research Scientist. He left the institute in 1994 and joined the faculty of the Department of CSE of SUST.

Literary career:
Iqbal started writing stories from a very early age. Iqbal wrote his first short story at the age of seven. While studying in the Dhaka University Iqbal's story Copotronic Bhalobasa was published in a local magazine. But, a number of readers at that time felt that the story was based on a foreign story. To answer this allegation, he later rewrote the story and published the story in collection of stories named Copotronic Sukh Dukkho. Since then he is the most popular writer both in Bengali Science-Fiction and in Juvenile Leterature of the country.

Other Activities and Awards:
Zafar Iqbal won the Bangla Academy Award, the highest award in literature in Bangladesh, in 2004. Iqbal also played a leading role in founding Bangladesh Mathematical Olympiad. In 2011 he won Rotary SEED Award for his contribution in field of education.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
8 (19%)
4 stars
14 (33%)
3 stars
17 (40%)
2 stars
3 (7%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 9 of 9 reviews
Profile Image for Ahmed Aziz.
386 reviews68 followers
October 8, 2021
সংকলনের সেরা গল্প আলমগীর তৈমুরের "হৃদয়পুর কতদূর", আস্তে আস্তে গল্পের গাঁথুনি বুনে প্রাচীন মেসোপটোমিয়ান অপদেবতাকে যেভাবে বাংলার আবহমান গ্রামীণ পরিবেশে তুলে এনেছেন তা এককথায় অনবদ্য। জাফর ইকবালের এক গ্রাম্য পিশাচ সাধককে নিয়ে লেখা "নিশা তান্ত্রিক" হরর গল্প হিসেবে চমৎকার, তবে এতে ওনার বিখ্যাত গল্প সুতরন্তুর ছাপ খুবই প্রবল। এরপরের সেরা গল্পগুলো ভৌতিক ক্যামেরা নিয়ে লেখা ফুয়াদ আল ফিদাহর "লেন্স", শশ্মাণচারী পিশাচসাধক তান্ত্রিককে নিয়ে লেখা মনীষা মুখোপাধ্যায়ের "বজ্রচর্চিকা"। জুলিয়ানের "বেজমেন্ট" প্রতিশোধের গল্প হিসেবে ভালোই, তবে শুরুতে একটু বেশি সামাজিক কচকচানি আর শেষে একটু বেশি তাড়াহুড়া হয়ে গিয়েছে। আহনাফ তাহমিদের "একটি অসমাপ্ত গল্প" রহস্যগল্প হিসেবে দুদার্ন্ত। নসিব পঞ্চমের "চারটা চা দেন, একটা চিনি ছাড়া" গল্পের কনসেপ্ট আর ভাষা ইউনিক, ভালো লেগেছে। ওয়াসি আহমেদের " চর্যাপদ আর বৃক্ষদেবতার গল্প "কা আ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল" মুগ্ধ করেছে। এর বাইরে অনির্বাণের "ভ্রুণ", নাসির খানের "কানীবুড়ি", সালমা সিদ্দিকার "রাইটার্স ব্লক", জুবায়ের আলমের "চ্যানেল নাম্বার ৩৩" গল্পগুলো চমৎকার শুরু করেও সেইরকম সব গল্প হয়ে ওঠার আভাস দিয়েও শেষটা ভালোভাবে করতে না পারার কারণে গড়পড়তা কাতারে নেমে গিয়েছে। আবুল ফাতাহর "সকলই গরল ভেল" গল্পের নেপাল চৌধুরীকে দাঁড় করাতে আরো কাঠ খড় পুড়াতে হবে। সংকলনের একমাত্র ওয়েস্টার্ন গল্প ইমতিয়াজ আজাদের "পাপ" গল্পে কাকতালীয় ব্যাপার বেশি বেশি হয়ে যাওয়াতে গল্পটা উৎরাতে পারেনি, আহসান হাবীবের "ছায়া" আর শাহরিয়ার সৈকতের "প্রতিশোধ" মাঝারি মানের হরর গল্প। এর বাইরে বাকি গল্পগুলো একেবারেই ভালো লাগেনি, বিশেষ করে সংকলনের সবচেয়ে বাজে গল্প ইন্দ্রনীল স্যান্যালের থ্রিলার ঘরাণার "ছয়ে ঋতু" চুড়ান্ত ধরণের অ্যামেচার আজগুবি লেখা। বাজে গল্পের দিক দিয়ে দুই নান্বার সায়েন্স ফিকশন (!!!) গল্প তাসরুজ্জামান বাবুর "জগদীশ ফাইলস", গাছপালা যখন হাতে দা বটি নিয়ে মানুষের ভাষায় গালিগালাজ করে কোপ মারতে যায় তখন আর কিই বা বলার থাকে।
Profile Image for Aishu Rehman.
1,109 reviews1,086 followers
July 20, 2022
একঝাঁক গল্পের এত বড় আস্ত একটা বই শেষ কইরা ফেললাম কিন্তু ক্লান্তি কি জিনিস মালুমই হইলো না ।
গরম গরম সূচিপত্র অনুযায়ী একটা রেটিং করে ফেলি এইবেলা:

**** ১) নিশা তান্ত্রিক - মুহম্মদ জাফর ইকবাল
** ২) ছয়ে ঋতু - ইন্দ্রনীল স্যানাল
***** ৩) ভ্রূণ - সৈয়দ অনির্বাণ
**** ৪) ছত্রশালের নখ- হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
*** ৫) লেন্স- মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
**** ৬) বজ্রচর্চিকা- মণীষ মুখোপাধ্যায়
***** ৭) সংহার - স্বনন আসিফ
**** ৮) হন্তারক - রাফসান রেজা রিয়াদ
**** ৯) মাস্টারপ্ল্যান – আদনান আহমেদ রিজন
*** ১০) পাপ - ইমতিয়াজ আজাদ
*** ১১) ছায়া - আহসান হাবীব
***** ১২) কুহেলী- আসিফ তাউজ
**** ১৩) বুমেরাং- শুভঙ্কর শুভ
** ১৪) তেল চিটচিটে – সাজিদ রহমান
***** ১৫) কাপুরুষ- নাজিম উদ দৌলা
** ১৬) প্রক্সি – আসিফ রুডলফায
***** ১৭) পুনর্ণভা – রাফিউজ্জামান সিফাত
*** ১৮) মিথ্যা অভিযোগ - আহসানুল হক শোভন
**** ১৯) শোধ – তানজিনা তানিয়া
** ২০) গুড বাই জুন – মহুয়া মল্লিক
***** ২১) অক্ষি – পরাগ ওয়াহিদ
***** ২২) জগদীশ ফাইলস - তাসরুজ্জামান বাবু
***** ২৩) বেজমেন্ট - জুলিয়ান
** ২৪) প্রতিশোধ – শাহরিয়ার সৈকত
***** ২৫) চ্যানেল নম্বর ৩৩ – জুবায়ের আলম
*** ২৬) কানীবুড়ি - নাসির খান
***** ২৭) রাইটার্স ব্লক- সালমা সিদ্দিকা
**** ২৮) একটি অসমাপ্ত গল্প – আহনাফ তাহমিদ
**** ২৯) সকলই গরল ভেল – আবুল ফাতাহ মুন্না
*** ৩০) চারটা চা দেন, একটা চিনি ছাড়া! – নসিব পঞ্চম জিহাদী
***** ৩১) কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল – ওয়াসি আহমেদ
***** ৩২) হৃদয়পুর কতদূর – মুহম্মদ আলমগীর তৈমূর
Profile Image for Riju Ganguly.
Author 38 books1,866 followers
March 21, 2021
সুন্দর অলংকরণ, রঙিন সূচিপত্র এবং যাচ্ছেতাই বানানে শোভিত এই সংকলনে মোট বত্রিশটি লেখা আছে। তাদের মধ্যে আমার যেগুলো ভালো লাগল সেগুলো হল~
১. নিশা তান্ত্রিক: মুহম্মদ জাফর ইকবাল
২. ছত্রশালের নখ: হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
৩. লেন্স: মো. ফুয়াদ আল ফিদাহ
৪. বজ্রচর্চিকা: মনীষ মুখোপাধ্যায়
৫. সংহার: স্বনন আসিফ
৬. ছায়া: আহসান হাবীব
৭. পুনর্ণভা: রাফিউজ্জামান সিফাত
৮. মিথ্যা অভিযোগ: আহসানুল হক শোভন
৯. শোধ: তানজিনা তানিয়া
১০. বেজমেন্ট: জুলিয়ান
১১. চ্যানেল নম্বর ৩৩: জুবায়ের আলম
১২. রাইটার্স ব্লক: সালমা সিদ্দিকা
১৩. একটি অসমাপ্ত গল্প: আহনাফ তাহমিদ
১৪. সকলই গরল ভেল: আবুল ফাতাহ
১৫. কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল: ওয়াসি আহমেদ
১৬. হৃদয়পুর কতদূর: মুহম্মদ আলমগীর তৈমূর (এটি এই বইয়ের একেবারে সেরা লেখা)
বইয়ের অর্ধেক লেখাই যদি মনে রাখার মতো হয়, তাহলে খুশি হওয়ারই কথা। কিন্তু বাকি অর্ধেক নিয়ে চাপ আছে। বিশেষত এতে এমন কিছু লেখা আছে যেগুলো তাদের লঘিমা দিয়ে পুরো সংকলনটিকেই কমজোর করে দিয়েছে। তাই তিনটি তারার বেশি দেওয়া গেল না একে।
Profile Image for শুভাগত দীপ.
278 reviews43 followers
December 30, 2019
|| রিভিউ ||

বইঃ নিশুতি ২
সম্পাদকঃ মুহম্মদ আলমগীর তৈমূর
প্রকাশকঃ আদী প্রকাশন
প্রকাশকালঃ মে, ২০১৯
ঘরানাঃ হরর ও থ্রিলার গল্প সঙ্কলন
প্রচ্ছদ ও অলঙ্করণঃ আবুল ফাতাহ
পৃষ্ঠাঃ ৪৮০
মুদ্রিত মূল্যঃ ৬২০ টাকা
ধরণঃ হার্ডকভার

শুরুতেই বলে নিই, এই রিভিউটা বেশ বড় হবে৷ যেহেতু বিশাল একটা গল্প সঙ্কলনের রিভিউ। ৩২ জন লেখকের হরর ও থ্রিলার গল্প নিয়ে সাজানো হয়েছে 'নিশুতি ২' গল্প সঙ্কলনটা। এর মধ্যে যেমন পুরোনো লেখকরা আছেন, তেমনই আছেন নবীন লেখকরাও। আছে ওপার বাংলার জনপ্রিয় কয়েকজন সাহিত্যিকের গল্পও। বিশাল কলেবরের এই হরর-থ্রিলার গল্প সঙ্কলনটার ভূমিকা লিখেছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় লেখক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। এই বইয়ে তাঁর একটা গল্পও স্থান পেয়েছে। 'নিশুতি ২'-এর কয়েকটা গল্প সম্পর্কে এবার আলোচনা করা যাক। সেই সাথে জানাবো আমার ভালো লাগা-মন্দ লাগার ব্যাপারগুলোও।

নিশা তান্ত্রিক - মুহম্মদ জাফর ইকবালঃ অনির্দিষ্টকালের জন্য পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়ায় দুই বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া বন্ধু সিদ্ধান্ত নিলো, ট্যুরে যাবে। ট্যুরের সময়ে শ্রীমঙ্গলে এসে অনাকাঙ্ক্ষিত একটা যাত্রাবিরতি নিতে হয় ওদেরকে। ওখানেই দুই বন্ধু সন্ধান পায় নিশা তান্ত্রিকের, যে কিনা পিশাচ দেখাতে পারে। কৌতুহলী দুই বন্ধু নিশা তান্ত্রিকের কাছ থেকে একটা 'অপদেবতা' পায়। আর রাঙামাটির এক গেস্ট হাউজে এক রাতে ওদের দুজনকেই ভয়ঙ্কর এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়।

সঙ্কলনের প্রথম গল্প 'নিশা তান্ত্রিক'। একটা সময় মুহম্মদ জাফর ইকবালের হরর গল্প বেশ আগ্রহ নিয়ে পড়তাম। ভালোও লাগতো। এই গল্পটাও মোটামুটি ভালো লেগেছে।

ছত্রশালের নখ - হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্তঃ মধ্য ভারতের এক জঙ্গলে উৎপাত করে বেড়াচ্ছে এক বিশালাকার পাগলা ভাল্লুক। বেশ ক'জন মরেছেও ওটার নখের আঘাতে৷ ওটাকে মারার জন্য সরকারীভাবে নিয়োগ দেয়া হলো শিকারী সতীনাথকে৷ এদিকে পাগলা ভাল্লুকের পাশাপাশি এক মানুষখেকো বাঘও এসে জুটেছে। কিন্তু জ��্গুলে দুর্গে বসবাসকারী কঙ্কর সিং ও তার ভৃত্য হনুমন্ত যেন কিছুতেই চাইছেনা শিকারী সতীনাথ ভাল্লুকটাকে মারে। কেন?

বেশ ভালো লেগেছে আমার কাছে এই গল্পটা। শেষের দিকের টুইস্টটাও অদ্ভুত ছিলো।

লেন্স - মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহঃ মোহাম্মদপুরের নামকরা এক আবাসিক কলেজের ছাত্র নাজাত। ইলেকট্রনিক ডিভাইসের প্রতি অতি আগ্রহী এই ছেলেটা হঠাৎ করেই একটা অনেক পুরোনো ক্যামেরার মালিক হয়ে যায়। কিন্তু ক্যামেরাটা দিয়ে যেটারই ছবি তোলা হয়না কেন, ধ্বংস হয়ে যায় সেটা৷ ব্যক্তি, বস্তু, পশু - কিছুই বাদ যায়না ওই অভিশপ্ত ক্যামেরার লেন্সের ছোবল থেকে।

মোটামুটি ভালো লেগেছে অতিপ্রাকৃত এই গল্পটা। তবে একটু অসঙ্গতি ছিলো। দুর্ঘটনায় নাজাতের বাম বাত খুব বাজেভাবে ভেঙে যাওয়ার কথা বলা হলেও পরে দেখা গেছে তার বাম ও ডান দুটো হাতই প্রায় অস্বাভাবিক হয়ে গেছে৷ ব্যাপারটা ঠিক বুঝিনি।

বজ্রচর্চিকা - মনীষ মুখোপাধ্যায়ঃ নন্দপুর বলতে গেলে একেবারেই অজপাড়াগাঁ। সেই গ্রামের শ্মশানে একদিন এসে উপস্থিত হলেন শিবার্চন তান্ত্রিক। তাঁর ঝুপড়ি ঘরে আরাধনা চালাতে লাগলেন প্রাচীন এক দেবী যাঁর নাম বজ্রচর্চিকা। যে দীর্ঘদিনের সাধনাই তাঁকে টেনে এনেছে ছোট্ট এই শ্মশানটাতে। গ্রামের প্রভাবশালী হীরেন নন্দের মা হঠাৎ মারা গেলে তাঁর লাশ সেই শ্মশানে আনা হলো সৎকরারের জন্য। আর ঠিক সেই অশুভ রাতেই ঘটে গেলো গা শিউরানো এক ভয়াবহ ঘটনা, যা প্রত্যক্ষ করলো অনেকেই।

গল্পটা আমার খুব ভালো লেগেছে। রীতিমতো রোমহষর্ক একটা হরর গল্প বলা যায় 'বজ্রচর্চিকা'-কে। মনীষ মুখোপাধ্যায় তাঁর লেখনীতে একেবারে মুগ্ধ করে রেখেছিলেন আমাকে।

কাপুরুষ - নাজিম উদ দৌলাঃ শামিম ভালোবাসে ত্রিনাকে৷ কিন্তু সাহস করে কখনো ভালোবাসার কথাটা মেয়েটাকে বলতে পারেনি সে। আর এই জন্য ত্রিনার কাছে ও একটা কাপুরুষ ছাড়া কিছুইনা। এক সময় শামিমের ঘনিষ্ঠ বন্ধু কোটিপতি যুবক ফাহাদের সাথে বিয়ে হয়ে যায় ত্রিনার। কিন্তু ভয়াবহ একটা দুর্ঘটনা পাল্টে দিলো সবকিছু। উল্টে গেলো পুরো খেলাটা।

গল্পটা একটু সিনেম্যাটিক। বেশি সিনেম্যাটিক লেগেছে এর ক্লাইম্যাক্স। মোটামুটি ভালোই লেগেছে পড়তে।

পুনর্ণভা - রাফিউজ্জামান সিফাতঃ মনোয়ার সাহেবকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে উনার শাশুড়ির। গলায় ভাত আটকে মারা গেছেন মহিলা। জিজ্ঞাসাবাদে একটা জিনিস বেশ আশ্চর্যজনক লাগছে তদন্তকারী ওসি'র৷ মনোয়ার সাহেবের আশেপাশের অনেকেরই এমন অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে কোন না কোন সময়। তবে কি তিনিই খুনী?

মার্ডার মিস্ট্রি ও সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ধর্মী এই গল্পটা আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। এর আগে লেখক রাফিউজ্জামান সিফাতের কোন লেখা পড়া হয়নি। 'পুনর্ণভা' পড়ার পর সিদ্ধান্ত নিলাম, নিয়মিত উনার লেখা পড়বো।

মিথ্যা অভিযোগ - আহসানুল হক শোভনঃ প্রভাবশালী এক ব্যবসায়ীর মেয়ে স্নিগ্ধাকে ধর্ষণ ও খুনের দায়ে মিথ্যা মামলায় সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হলো সাবেক সেনাসদস্য শাহেদকে। জেলখানায় ওর সাথে পরিচয় হলো তরুণ শান্ত'র সাথে। আর তার সূত্র ধরে শাহেদ ঝামেলায় জড়িয়ে গেলো কুখ্যাত দুই খুনি রুম্মন ও কালু খাঁ'র সাথে। জেলখানার কঠিন জীবন আরো কঠিন হয়ে গেলো মিথ্যে অভিযোগে সাজা ভোগ করতে থাকা শাহেদের কাছে।

সিনেম্যাটিক আর কিছুটা অবাস্তব এন্ডিং-এর এই গল্পটা মোটামুটি ভালোই লেগেছে পড়তে। আহসানুল হক শোভনের লেখনী বেশ সুখপাঠ্য। লেখালেখি চালিয়ে গেলে আরো অনেকদূর যেতে পারবেন তিনি, এটাই আমার বিশ্বাস।

অক্ষি - পরাগ ওয়াহিদঃ একের পর এক বিভিন্ন পেশাজীবি মানুষ খুন হয়ে যাচ্ছে। খুনের পর খুনি ওদের একটা চোখ উপড়ে নিয়ে যাচ্ছে। আশেপাশে ফেলে রেখে যাচ্ছে কোন না কোন পেইন্টিং, যা খুন হওয়া মানুষগুলোর পেশার দিকেই নির্দেশ করে। বুয়েটের ছাত্র সাদমান আর অলোক ব্যক্তিগত আগ্রহ থেকেই নেমে পড়লো এই সিরিয়াল কিলিংয়ের ঘটনার তদন্তে।

সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ঘরানার এই গল্পটায় শুরু থেকে শেষ অব্দি টানটান উত্তেজনার আবহ বজায় ছিলো। বেশ ভালো লেগেছে। বিশেষ করে এন্ডিংটা।

বেজমেন্ট - জুলিয়ানঃ মাতৃহীন একমাত্র মেয়ে নাবিলাকে নিয়ে ওমর সাহেবের ছোট্ট পৃথিবী। নাবিলাই তাঁর সমস্ত হাসি-আনন্দের উৎস। কিন্তু বড়লোক বাবার বখাটে ছেলে রনি'র কারণে নাবিলাকে হারাতে হলো ওমর সাহেবের। আইন-আদালত সবকিছুই ব্যর্থ হলো রনি'র বিচার কর‍তে। শেষমেষ একমাত্র মেয়ের ওপর হওয়া পৈশাচিক অন্যায়ের প্রতিশোধ নিতে নিজেকেও পিশাচে রূপান্তর করলেন ওমর সাহেব। করলেন ভয়ঙ্কর এক পরিকল্পনা। আর সেই পরিকল্পনার পুরোটা জুড়েই আছে এক বেজমেন্ট।

জুলিয়ানের 'বেজমেন্ট' কি? এটা একটা পিওর রিভেঞ্জ স্টোরি। গল্পটা আমার অত্যন্ত ভালো লেগেছে। কয়েক জায়গায় বাবা-মেয়ের মধ্যেকার ভালোবাসা দেখে চোখ ভিজে উঠেছে। আর প্রতিশোধ নেয়ার সিকোয়েন্সগুলোতে শিউরে উঠেছি বারবার। এই সঙ্কলনের অন্যতম সেরা গল্প 'বেজমেন্ট'।

চ্যানেল নম্বর ৩৩ - জুবায়ের আলমঃ মিলি একটা অফিসে ডাটা এন্ট্রি সেকশনে জুনিয়র ক্লার্ক হিসেবে নতুন জয়েন করেছে। কাজের কাজ সে আসলে কিছুই পারেনা। তার সহকর্মী শিরিনকে সে সন্দেহ ও ঘৃণার দৃষ্টিতে দেখে। কারণ একটাই। আর সেটা হলো সন্দেহ। ওর সন্দেহ, শিরিন ওর নামে বসের কাছে হয়তো নালিশ করে। এদিকে অফিসের সিনিয়র অফিসার পারভেজের সাথে একটা হৃদয়ঘটিত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে মিলি। একদিকে ক্যান্সারে আক্রান্ত মা, আর অন্যদিকে নতুন চাকরি। এর মাঝেই ইন্টারনেটে চ্যানেল নম্বর ৩৩ নামের এক অদ্ভুত সাইটে রহস্যময় এক লোকের বানানো মানুষ খুনের পদ্ধতির ভিডিও টিউটোরিয়াল ওকে একরকম আচ্ছন্ন করে ফেললো। আর এটাই ওকে বাধ্য করলো সহকর্মী শিরিনকে খুনের সিদ্ধান্ত নিতে। মিলি কি পারবে শেষমেষ কাজটা করতে?

ব্যক্তিগতভাবে জুবায়ের আলমের লেখনী বেশ আগে থেকেই পছন্দ করি আমি৷ এই গল্পটাও মোটামুটি ভালোই লেগেছে আমার কাছে। যথেষ্ট পরিমাণ সাসপেন্স ছিলো পুরোটা জুড়েই।

কানীবুড়ি - নাসির খানঃ খেড়েরচর গ্রামের আমেনার তিন মাস বয়সী বাচ্চাটার কি যেন অসুখ করেছে। বাচ্চা সারাক্ষণ কাঁদে, বুকের দুধ খায়না। ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে বাচ্চাটা। তাই খেড়েরচর ও এর আশেপাশের গ্রামের সবাই যা করে, আমেনাও তাই করার সিদ্ধান্ত নিলো। শতবর্ষী কানীবুড়ির কাছে নিয়ে চললো সে তার বাচ্চাটাকে। কানীবুড়ির ওষুধের নাকি অনেক গুণ। সেই ওষুধেই নাকি সেরে উঠবে তার বাচ্চা। এদিকে বেশ অনেকদিন ধরেই অদ্ভুত একটা ব্যাপার ঘটছে গ্রামে। কানীবুড়ির ওষুধে তিন মাসের কম বয়সী অসুস্থ বাচ্চাগুলোরও কোন কাজ হচ্ছেনা। মারা যাচ্ছে তারা। আর এই ব্যাপার‍টা সবার সামনে আনলো খেড়েরচরেরই এক শিক্ষিত যুবক ফয়সাল। তবে কি কানীবুড়ির মাঝেই রয়েছে কোন গোলমাল? রহস্যটা কি?

অতিপ্রাকৃত ঘরানার এই গল্পটা মোটামুটি ভালোই লেগেছে আমার কাছে। ভয়ের রেশ পাওয়া গেছে পড়ার সময়।

রাইটার্স ব্লক - সালমা সিদ্দিকাঃ জন প্যাটারসন একজন বিখ্যাত লেখক। উনার বেশ কয়েকটা বই নিউ ইয়র্ক টাইমস বেস্টসেলার হয়েছে। তবে ইদানীং তিনি কিছুই লিখতে পারছেননা। মাথায় কোন প্লটই আসছেনা তাঁর। মাথা ফাঁকা হয়ে আছে। অনেকদিন আগে প্রেমিকা জুলিয়ার দেয়া একটা অদ্ভুত পানীয় পান করেছিলেন তিনি। এই পানীয় নাকি সাফল্য এনে দেয়। তবে কি আবারো মি. প্যাটারসনকে জুলিয়ার সেই জাদুর পানীয় পান করতে হবে, যেটাতে তিনি কোনদিনই বিশ্বাস করেননি? হয়তো এবার সেই পানীয়র জন্য অনেক কাঠখড় পোড়াতে হবে তাকে।

সালমা সিদ্দিকার অসাধারণ গল্প বলার ধরণে রীতিমতো মুগ্ধ হয়ে গেছি। খুব ভালো লেগেছে 'রাইটার্স ব্লক'। শেষের টুইস্টটা একেবারে মাথা ঘুরিয়ে দেয়ার মতো ছিলো।

সকলই গরল ভেল - আবুল ফাতাহঃ নেপাল চৌধুরী দেশের নামকরা ক্রিমিনাল ল-ইয়ার। এবার তিনি লড়ছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কামরুল আকন্দ মার্ডার কেস। কেসের আসামী খুন হওয়া কামরুল আকন্দের অল্পবয়স্কা সুন্দরী স্ত্রী লিটা আকন্দ। আসামীপক্ষের উকিল নেপাল চৌধুরী। লিটা আকন্দের প্রতি অভিযোগ, স্বামীকে বিষপ্রয়োগে খুন করেছেন তিনি। বাদীপক্ষের উকিল বদরুল প্রামাণিক অভিযোগের স্বপক্ষে একের পর এক প্রমাণ এনে হাজির করছেন৷ এতেও একেবারেই নির্বিকার নেপাল চৌধুরী। তবে কি এবার 'ওপেন অ্যান্ড শাট' কেসটা হারতে চলেছেন তিনি? নাকি উল্টে যাবে পাশার ছক?

কোর্টরুম ড্রামা 'সকলই গরল ভেল' বেশ মজার একটা গল্প। পড়তে গিয়ে কয়েকবার হেসে উঠেছি। মোটামুটি ভালো লেগেছে গল্পটা। ভবিষ্যতেও ক্রিমিনাল ল-ইয়ার নেপাল চৌধুরী বিষয়ক লেখা পড়ার আশা রইলো।

হৃদয়পুর কতদূর - মুহম্মদ আলমগীর তৈমূরঃ স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়। অসুস্থ বন্ধু বদরকে নিয়ে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের ছাত্র অমিত আঢ্যকে যেতে হলো বদরের গ্রাম হৃদয়পুরে৷ উদ্দেশ্য, অসুস্থ বদরকে নিরাপদে তার বাড়িতে পৌঁছে দেয়া। কিন্তু হৃদয়পুরে যেতেই বাবলা গাছের নিচে শোনা সম্মিলিত কণ্ঠের অশরীরী হাসি ওকে একেবারে জমিয়ে দিলো। শুধু তাই না, নির্জন মন্দিরে পূজারিণী ঠাকরুন বেওয়া ও তাঁর অনিন্দ্য সুন্দরী মেয়ে ঘৃতাচীর রহস্যময় আচরণও দ্বিধান্বিত করে তুললো অমিতকে। হৃদয়পুর গ্রামটার অর্ধেক বাংলাদেশ অংশে আর বাকি অর্ধেক ভারত অংশে। ভারতীয় অংশে বন্ধু বদরের হাক্কানি মামার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে গ্রামের অবিশ্বাস্য বাড়বাড়ন্ত ভাব আরো অবাক করলো ওকে। পরিচয় হলো বৃদ্ধ এক পাদ্রীর সাথে। তিনি শোনালেন অনেক গল্প। যে গল্পে আছে মুঘল আমল, এক প্রাচীন অপদেবতা সহ আরো অনেক কিছু।

এই সঙ্কলনের সম্পাদক মুহম্মদ আলমগীর তৈমূরের গল্প 'হৃদয়পুর কতদূর' রাখা হয়েছে একদম শেষে। এটা এই সঙ্কলনের অন্যতম সেরা গল্প, নিঃসন্দেহে। লেখকের গল্প বলার ধরণ বরাবরই ভালো লাগে আমার। আর উপভোগ করেছি এই গল্পটাও।

এসব ছাড়াও 'নিশুতি ২'-এ স্থান পেয়েছে সৈয়দ অনির্বাণের 'ভ্রূণ', স্বনন আসিফের 'সংহার', রাফসান রেজা রিয়াদের 'হন্তারক', আদনান আহমেদ রিজনের 'মাস্টারপ্ল্যান', ইমতিয়াজ আজাদের 'পাপ', আসিফ তাউজের 'কুহেলী', শুভঙ্কর শুভ'র 'বুমেরাং', সাজিদ রহমানের 'তেল চিটচিটে', আসিফ রুডলফাযের 'প্রক্সি', তানজিনা তানিয়ার 'শোধ', মহুয়া মল্লিকের 'গুড বাই জুন', তাসরুজ্জামান বাবু'র 'জগদীশ ফাইলস', শাহরিয়ার সৈকতের 'প্রতিশোধ', আহনাফ তাহমিদের 'একটি অসমাপ্ত গল্প', নসিব পঞ্চম জিহাদীর 'চারটা চা দেন, একটা চিনি ছাড়া' এবং ওয়াসি আহমেদের 'কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল' গল্পগুলো। পড়েছি সবগুলোই।

ওয়াসি আহমেদের করা গল্পের পোস্টারগুলো আলাদা একটা মাত্রা যোগ করেছে এই সঙ্কলনে। চমৎকার আইডিয়া৷ আবুল ফাতাহ'র করা প্রচ্ছদটাও ভালো লেগেছে। 'নিশুতি ২'-এর প্রোডাকশন কোয়ালিটি অসাধারণ। ক্রিম কালারের কাগজ আর শক্তপোক্ত বাইন্ডিংয়ের এই বইটা হাতে এসেছে বক্স সমেত। ২০১৯ সালে এটাই আমার পড়া শেষ বই। আর এটাই আমার লেখা শেষ রিভিউ এই সালে। আর সম্ভবত আমার লেখা সবচেয়ে বড় কলেবরের রিভিউ এটাই। হ্যাপি রিডিং।

ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৩.৮৫/৫ (সামগ্রিকভাবে)
গুডরিডস রেটিংঃ ৩.৩৩/৫

© শুভাগত দীপ

(৩০ ডিসেম্বর, ২০১৯, দুপুর ১ টা ৩০ মিনিট; ব্যাচেলর'স ডেন, নাটোর)
Profile Image for Monika Ghosh.
183 reviews37 followers
June 10, 2019
Loved the book. Some stories were better than the others. But i appreciate the over all effort. Expect more sequels of it.
Profile Image for Razthee Yakini.
48 reviews19 followers
October 15, 2022
প্রথম ৫-৭ টা গল্প খুবই, খুবই সুন্দর। কিন্তু বইয়ের মাঝের অংশটুকু একেবারেই ফ্ল্যাট আর অর্ডিনারি। থ্রিল বা হররের কিছুই তেমন পাই নি, এবং প্রচন্ড বোর ফিল হচ্ছিলাম। তবে শেষের দিকের কিছু গল্প বেশ ভালো। সংকলনের সেরা গল্প "হৃদয়পুর কতদুর", কিন্তু ওটা আগেই পড়ে ফেলেছিলাম সেবা প্রকাশনীর "হ্যালোউইন" সংকলনে☹️।
ওভারঅল এক্সপিরিয়েন্স ৬.৫/১০।
আর বানান ভুল😑
Profile Image for Salma Siddika.
Author 18 books54 followers
July 2, 2019
গল্পের নামে চোখ বুলিয়ে প্রথমেই আটকে গেলাম নসিব পঞ্চম জিহাদির “চারটা চা দেন, একটা চিনি ছাড়া ” তে। ইদানিং চায়ের সাথে থ্রিলারের একটা সম্পর্ক তৈরী হয়েছে তাই কৌতূহল কাজ করলো নামটা দেখে। গল্পে থ্রিলার এলিমেন্ট খুব বেশি না থাকলেও লেখকের বর্ণনাশৈলীর নৈপুণ্যে গল্প উৎরে গেছে, পড়তে ভালো লেগেছে। আরেকটু থ্রিলার মেশালে চিনি ছাড়া চা ও ভালো লাগতো। আমার ধারণা লেখক ইচ্ছা করলে আরো মারাত্মক থ্রিলার লিখতে পারবেন। লেখকের গল্প বলার দক্ষতা অসাধারণ।

এরপর পড়লাম জুবায়ের আলমের "চ্যানেল নাম্বার ৩৩" ।অভিনব প্লট, ভালো লেগেছে শেষের প্লট টুইস্ট। তবে কিছু বিষয় পড়ে মনে হয়েছে গল্পের প্রেক্ষাপট বিদেশী হলেই ভালো হতো।

নাসির খানের "কানীবুড়ি" গল্পের প্লট সাদামাটা, গল্প কথনও সাধারণ লেগেছে।

সাজিদ রহমানের "তেল চিটচিটে" পড়ে বুঝতে কষ্ট হয়েছে লেখক আসলে হরর নাকি থ্রিলার লিখেছেন। উত্তম পুরুষে একজন মানুষ তার অতি গোপন ইচ্ছা অনিচ্ছার কথা প্রকাশ করেছে গল্পে কিন্তু আমি বুঝতে পারিনি সেই ব্যক্তি ঠিক কি করতে চাচ্ছে। সবকিছু একটু কেমন তালগোল পাকিয়ে গিয়েছিলো। হতে পারে আমার বোঝার সমস্যা।

মুহাম্মদ জাফর ইকবালের "নিশা তান্ত্রিক" পড়ে মনে হয়েছে গল্পটা অনেক আগে কোনো বইয়ে পড়েছি। পুরোনো গল্প পড়ে নতুন কোনো থ্রিল পেলাম না, তবে গল্পটা ভালোই।
আহসানুল হোক শোভনের লেখা "মিথ্যা অভিযোগ" পুরো মারমার কাটকাট বলিউড মুভির কাহিনী। জেলখানায় আটক নিরপরাধ ব্যক্তির সাথে দুর্ধর্ষ অপরাধীর তড়িৎ বন্ধুত্ব বিশ্বাসযোগ্য না হলেও গল্পের ধারায় আটকা পরে গেলাম। লেখকের গল্প বলার ক্ষমতা বেশ ভালো। সিনেমাটিক গল্প হলেও ফ্যান্টাসির কারণে পাঠক শেষ পর্যন্ত পড়বে।

আসিফ রুডলফাযের "প্রক্সি" পড়ে অসম্ভব হতাশ হয়েছি। খুবই দুর্বল প্লট, বানান ভুল, সমন্বয়ের অভাব। গল্পের প্রধান চরিত্র কখনো উত্তম পুরুষে কথা বলছে আবার কখনো নামপুরুষে । অগোছালো একটা লেখা। ওনার গল্পে হাই হোপ ছিলো, গল্প পড়ে একেবারেই লো হোপ হয়ে গেলো।

তানজিনা তানিয়ার "শোধ"ও আরেকটা দুর্বল গল্প। খাপছাড়া বর্ণনা, খুবই প্রেডিক্টেবল প্লট, গল্পে অযত্নের ছাপ।
Profile Image for Chowdhury Arpit.
188 reviews5 followers
April 17, 2023
কদিন আগে বুকফার্মের ভয় সমগ্র পড়ে ভয় না পেয়ে কিছুটা জেদ থেকে আর কিছুটা প্রচন্ড ভয় পাবার সুপ্ত বাসনা থেকে বইটি কেনা। বাসনা শতভাগ পূরণ হয়েছে এটা বলবোনা, তবে কিছুটা হয়েছে এ গ্যারান্টি দিতে পারি।
নিশুতি পার্ট টু তে বিখ্যাত স্বল্পখ্যাত অখ্যাত বত্রিশ লেখকের মোট বত্রিশটি গল্প আছে। নিশা তান্ত্রিক (মুহম্মদ জাফর ইকবাল) ছাড়া বাকি ৩১ গল্পের কোনোটাই আগে পড়া হয়নি। কিছু ছিলো চমৎকার, কিছু মিডিওকোর, আর কিছু একেবারেই বিরক্তিকর (আমার দৃষ্টিতে)। আলাদাভাবে সবার রিভিউ দেয়া সম্ভব নয়। তাই ক্যাটাগরাইজ করে সংক্ষেপে বলছি। প্রথমেই ভালোমানের গল্পগুলো, এবং এ ভালো অবশ্যই আমার দৃষ্টিতে, একমত হওয়া না হওয়া যার যার স্বাধীনতা...

শুরুতেই বলি 'ভ্রূণ' এর কথা। সৈয়দ অনির্বান ঢাকায় আসা এক ব্যাচেলার মেয়ে আর লন্ডন ফেরত এক উচ্চাকাঙ্খী ডাক্তারের প্যারালাল কাহিনী শেষে এসে এক সুতায় বেঁধেছেন। কাহিনী ক্ষণে ক্ষণে দিক পরিবর্তন করে সামনে গেছে। রহস্যময় ফ্রিজ, চীনা লৌকিক আচার ও ব্যাচেলর মেয়েদের একাকী জীবন - সব মিলিয়ে ভালোই হরর এলিমেন্ট ছিলো। তবে এন্ডিংটা তাড়াহুড়ো লেগেছে। রেটিং ৪/৫।

আরেকটি চমৎকার গল্প জুবায়ের আলমের 'চ্যানেল নম্বর তেত্রিশ'। এটা অবশ্য হরর নয়, থ্রিলার। বহু কষ্টে সার্টিফিকেট জাল করে চাকরি বাগানো এক মেয়ে আর তাকে ঘিরে অফিস ও অফিসের বাইরে ঘটে চলা ঘটন অঘটন গল্পটির মূল বিষয়বস্তু। বইয়ের যে দুটি গল্প সবচেয়ে ভালো লেগেছে তার মাঝে এটি একটি। রেটিং ৫/৫।

অন্য ভালোলাগার গল্পটি জুলিয়ানের 'বেসমেন্ট'। যদিও কাহিনী টিপিক্যাল। মেয়ের খুন/ধর্ষ ণের বদলা নিতে বাবার প্রতিশোধের কাহিনী। কোরিয়ান নো মার্সি টাইপ। তবে লেখনীর গুনে ভালোই উতরে গেছে। বিশেষ করে বাবা-মেয়ের আদুরে সম্পর্কের দিকটা। আর একইসাথে শাস্তিপ্রদানের প্রসেসটা খুব ডিটেলসে ব্যাখা করেছেন জুলিয়ান। সব মিলিয়ে রেটিং ৫/৫।

উদ্ভিদজাতির প্রতিশোধ নিয়ে লেখা তাসরুজ্জামান বাবুর থ্রিলার গল্প 'জগদীশ ফাইলস।' অশোকের সময়কার নাইন আননোন ম্যান আর জগদীশ চন্দ্র বসুর ব্যক্তিজীবন- ইতিহাসের পাতা থেকে তুলে আনা দুটো কম জানা টপিক একসাথে জুড়েছেন লেখক। তবে এক্ষেত্রেও এন্ডিংটা কিছুটা বিরক্তিকর আর ফানি ছিলো। আরো সিরিয়াসনেস আনা যেত। তবে কনসেপ্ট ইউনিক। রেটিং - ৪/৫।

আসিফ তাউজের 'কুহেলী' সাধারণ ঘরানার ভৌতিক গল্প হলেও বর্ণনার জোরে উতরে গেছে। ছিমছাম এক গৃহস্থালি বিপদে পড়া সহায়সম্বলহীন কোনো এক মেয়েকে (এক্ষেত্রে নারীই হয় সবক্ষেত্রে) ঘরে আশ্রয় দেয়। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায় মেয়েটিকে যতটা অসহায় ভাবা হয়েছিলো ততটা নয়, বরং যতই দিন যায় রহস্যের ডালি খুলে বসে সে।

গল্পটা প্যারানরমাল। খুব বীভৎস কোনো দৃশ্য নেই, কিন্তু গা চমকানো ভয় আছে। কয়েকটা ভয়ের দৃশ্য আছে, যেমন, আশ্রিতার সাদা দুপাটি দাঁত, চাঁদের আলোয় চারপাশে ঘুরন্ত শেয়ালের দল ইত্যাদি। রেটিং ৪/৫।

এবার আসি মোটামুটি মানের গল্পে। এ গল্পগুলো খুব বেশি দুর্দান্ত নয়। তবে আবার খারাপের পর্যায়েও ফেলা যাবেনা। ১০ এ ৬-৭ এ গল্প গুলোর জন্যই বরাদ্দ থাকে সম্ভবত।

মুহম্মদ আলমগীর তৈমুরের অনেক প্রশংসা শুনেছি। তাঁর লেখা 'হৃদয়পুর কতদূর' নিঃসন্দেহে ইউনিক কনসেপ্টের একটি গল্প। দুদেশের বর্ডারে অবস্থিত এক অজ পাড়া গাঁতে তিনি যে কিভাবে সুলতানি আমলের রাজনীতি আর সুমেরীয় মিথকে ঢুকিয়েছেন তা গল্পটা পড়লেই বুঝতে পারবেন। প্রকৃতির খুব সুন্দর বর্ণনা আছে গল্পজুড়ে৷ তবে নেগেটিভ সাইড হলো বিরামের বালাই নেই। গড়গড় করে বর্ণনা বয়ে যাচ্ছে। লেখক আরেকটু গ্যাপ দিয়ে লিখলে হজম করতে সুবিধা হতো। আরেক সমস্যা হলো কাহিনী একটু বেশি প্যাঁচিয়ে ফেলেছেন। বিশেষ করে মন্দিরের পূজারি আর ওর মেয়েটাকে না ঢুকালেও চলত।

একই রকম অতিরিক্ত পেঁচানোর দোষে দুষ্ট রাফিউজ্জামান সিফাতের 'পুনর্ণভা' ও আহনাফ তাহমিদের 'একটি অসমাপ্ত গল্প'। দুটো গল্পই আরো চমৎকার হতে পারতো যদি অল্পতে থামানো যেত। কিন্তু তাহমিদের আতিকুজ্জামান একবার এক চরিত্র থেকে আরেক চরিত্রে হাইজাম্প মারছে আবার সিফাতের গল্পের আসামী একবার মনোয়ার থেকে ওর বৌ আবার মেয়ে আবার মায়ে সুইচ করছে। পড়ে মনে হলো দুজনই তরকারি বেশি ঝাল করতে গিয়ে লাল করে ফেলেছেন।

বৃক্ষজাতি নিয়ে সংকলনের দ্বিতীয় গল্প 'কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল' এক নীলক্ষেতের ভরা বর্ষনের বর্ণনা দিয়েই আসর মাত করে দিয়েছে। এখনো যেনো চোখ বন্ধ করলে নিজেকে ছোট এক দোকানের বন্ধ সাটারের ভেতর আবিষ্কার করছি, বাইরে চলছে অঝোর বর্ষণ আর বজ্রপাত।

তবে গল্পটির এন্ডিং ভালো লাগেনি। ধর্মপাল আর লুইপাকে ঘিরে খুব দুর্দান্ত একটা প্লট দাঁড়াতে না দাঁড়াতেই কেমন যেন মিইয়ে গেলো

হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্তর 'ছত্রশালের নখ' এক মানুষহন্তা ভাল্লুক মারতে এসে সরকারি শিকারীর বিপদে পড়ার কাহিনী। ছোট লেখা, কিন্তু ভালো লেগেছে।

সংকলনে পরকীয়া নিয়ে বেশ কয়েকটা গল্প আছে। কেন জানিনা লেখকেরা এই টপিক বেশ পছন্দ করেন। নাজিম উদ দৌলার 'কাপুরুষ' এই টপিকে বেশ ঝরঝরে একটি লেখা। এক কাপুরুষ, যার অসহায়ত্ব আর সয়ে যাওয়া মেন্টালিটির সুবাদে পছন্দের মেয়েটিকে ঘরে তুলে নেয় লম্পট বন্ধু। পরবর্তীতে কিভাবে পাশার দান উল্টে গিয়ে কাপুরুষের ভাগ্য ফিরলো তা জানতে হলে পড়তে হবে গল্পটি।

এছাড়াও রাইটার্স ব্লক (সালমা সিদ্দিকা, এক জাদুকরী পানীয় আর হতাশাগ্রস্ত লেখকের গল্প), কানীবুড়ি (নাসির খান, অজ গাঁয়ে বাস করা এক রহস্যময় বুড়ির গল্প, অজপাঁড়ার সুন্দর বর্ণনা আছে), লেন্স (ফুয়াদ আল ফিদাহ, অভিশপ্ত ক্যামেরার কাহিনী, যদিও অভিশাপের কারণ জানা যায়নি), পাপ (ইমতিয়াজ আজাদ, ওয়েস্টার্ন ধাচের রিভেঞ্জ স্টোরি), সকলই গরল ভেল (আবুল ফাতাহ মুন্না, হালকা কমেডিক কোর্ট ড্রামা) ও মিথ্যা অভিযোগ (আহসানুল হক শোভন, ভুয়া কেসে জেল খাটা আসামীর জেলব্রেকের গল্প, কাহিনী টিপিক্যাল, এন্ডিং অবাস্তব, তবে বর্ণনা ভালো) ইত্যাদি ভালো লেগেছে।

পটেনশিয়াল থাকা সত্ত্বেও সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে পারেনি পরাগ ওয়াহিদের অক্ষি। হোরাসের উপাসক এক সাইকো কিলার যেকিনা মানুষের চোখ উপরে নেয় আর তার পিছু ধাওয়া করা দুই ভার্সিটি পড়ুয়াকে নিয়ে অনেক জম্পেশ কাহিনী লেখা যেত কিন্তু এটা যেন আশা জাগিয়েও শেষে এসে ডাল হয়ে গেছে।

মণীষ মুখোপাধ্যায়ের বজ্রচর্চিকা তান্ত্রিক হররের ফেইলড এক্সপেরিমেন্ট বলা যেতে পারে। দেবী আসছে মাংস খাচ্ছে রক্ত খাচ্ছে আবার সাধু মন্ত্র বললে উধাও হচ্ছে এই হলো কাহিনী।

এর বাইরে ইন্দ্রজিৎ স্যানালের ছয়ে ঋতু আর স্বনন আসিফের সংহারকে অনারেবল মেনশন দেয়া যায়। বাকি গল্পগুলো চোখে লাগেনি।

বইয়ের বাঁধাই, পেজ কোয়ালিটি, কালার টপ নচ। প্রতিটি গল্পেরই চমৎকার পোস্টার ডিজাইন করেছেন ওয়াসি আহমেদ। তাঁকে ধন্যবাদ।

রেটিং ৩.৫/৫। এটার পার্ট ওয়ান আর থ্রিও আছে। সে দুটোও পড়ার ইচ্ছা রইলো।
Profile Image for Shemul Ghosh.
11 reviews
April 8, 2023
প্রথমত এত বানান ভুল মেনে নেয়া যায় না।
বইয়ের ০৪-০৫ টা গল্প ভালো লেগেছে। বেশ অসাধারণ।
বাকিগুলো ভয়ের কোন সঞ্চার করতে পারেনি।
Displaying 1 - 9 of 9 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.