|| রিভিউ ||
বইঃ নিশুতি ২
সম্পাদকঃ মুহম্মদ আলমগীর তৈমূর
প্রকাশকঃ আদী প্রকাশন
প্রকাশকালঃ মে, ২০১৯
ঘরানাঃ হরর ও থ্রিলার গল্প সঙ্কলন
প্রচ্ছদ ও অলঙ্করণঃ আবুল ফাতাহ
পৃষ্ঠাঃ ৪৮০
মুদ্রিত মূল্যঃ ৬২০ টাকা
ধরণঃ হার্ডকভার
শুরুতেই বলে নিই, এই রিভিউটা বেশ বড় হবে৷ যেহেতু বিশাল একটা গল্প সঙ্কলনের রিভিউ। ৩২ জন লেখকের হরর ও থ্রিলার গল্প নিয়ে সাজানো হয়েছে 'নিশুতি ২' গল্প সঙ্কলনটা। এর মধ্যে যেমন পুরোনো লেখকরা আছেন, তেমনই আছেন নবীন লেখকরাও। আছে ওপার বাংলার জনপ্রিয় কয়েকজন সাহিত্যিকের গল্পও। বিশাল কলেবরের এই হরর-থ্রিলার গল্প সঙ্কলনটার ভূমিকা লিখেছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় লেখক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। এই বইয়ে তাঁর একটা গল্পও স্থান পেয়েছে। 'নিশুতি ২'-এর কয়েকটা গল্প সম্পর্কে এবার আলোচনা করা যাক। সেই সাথে জানাবো আমার ভালো লাগা-মন্দ লাগার ব্যাপারগুলোও।
নিশা তান্ত্রিক - মুহম্মদ জাফর ইকবালঃ অনির্দিষ্টকালের জন্য পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়ায় দুই বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া বন্ধু সিদ্ধান্ত নিলো, ট্যুরে যাবে। ট্যুরের সময়ে শ্রীমঙ্গলে এসে অনাকাঙ্ক্ষিত একটা যাত্রাবিরতি নিতে হয় ওদেরকে। ওখানেই দুই বন্ধু সন্ধান পায় নিশা তান্ত্রিকের, যে কিনা পিশাচ দেখাতে পারে। কৌতুহলী দুই বন্ধু নিশা তান্ত্রিকের কাছ থেকে একটা 'অপদেবতা' পায়। আর রাঙামাটির এক গেস্ট হাউজে এক রাতে ওদের দুজনকেই ভয়ঙ্কর এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়।
সঙ্কলনের প্রথম গল্প 'নিশা তান্ত্রিক'। একটা সময় মুহম্মদ জাফর ইকবালের হরর গল্প বেশ আগ্রহ নিয়ে পড়তাম। ভালোও লাগতো। এই গল্পটাও মোটামুটি ভালো লেগেছে।
ছত্রশালের নখ - হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্তঃ মধ্য ভারতের এক জঙ্গলে উৎপাত করে বেড়াচ্ছে এক বিশালাকার পাগলা ভাল্লুক। বেশ ক'জন মরেছেও ওটার নখের আঘাতে৷ ওটাকে মারার জন্য সরকারীভাবে নিয়োগ দেয়া হলো শিকারী সতীনাথকে৷ এদিকে পাগলা ভাল্লুকের পাশাপাশি এক মানুষখেকো বাঘও এসে জুটেছে। কিন্তু জ��্গুলে দুর্গে বসবাসকারী কঙ্কর সিং ও তার ভৃত্য হনুমন্ত যেন কিছুতেই চাইছেনা শিকারী সতীনাথ ভাল্লুকটাকে মারে। কেন?
বেশ ভালো লেগেছে আমার কাছে এই গল্পটা। শেষের দিকের টুইস্টটাও অদ্ভুত ছিলো।
লেন্স - মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহঃ মোহাম্মদপুরের নামকরা এক আবাসিক কলেজের ছাত্র নাজাত। ইলেকট্রনিক ডিভাইসের প্রতি অতি আগ্রহী এই ছেলেটা হঠাৎ করেই একটা অনেক পুরোনো ক্যামেরার মালিক হয়ে যায়। কিন্তু ক্যামেরাটা দিয়ে যেটারই ছবি তোলা হয়না কেন, ধ্বংস হয়ে যায় সেটা৷ ব্যক্তি, বস্তু, পশু - কিছুই বাদ যায়না ওই অভিশপ্ত ক্যামেরার লেন্সের ছোবল থেকে।
মোটামুটি ভালো লেগেছে অতিপ্রাকৃত এই গল্পটা। তবে একটু অসঙ্গতি ছিলো। দুর্ঘটনায় নাজাতের বাম বাত খুব বাজেভাবে ভেঙে যাওয়ার কথা বলা হলেও পরে দেখা গেছে তার বাম ও ডান দুটো হাতই প্রায় অস্বাভাবিক হয়ে গেছে৷ ব্যাপারটা ঠিক বুঝিনি।
বজ্রচর্চিকা - মনীষ মুখোপাধ্যায়ঃ নন্দপুর বলতে গেলে একেবারেই অজপাড়াগাঁ। সেই গ্রামের শ্মশানে একদিন এসে উপস্থিত হলেন শিবার্চন তান্ত্রিক। তাঁর ঝুপড়ি ঘরে আরাধনা চালাতে লাগলেন প্রাচীন এক দেবী যাঁর নাম বজ্রচর্চিকা। যে দীর্ঘদিনের সাধনাই তাঁকে টেনে এনেছে ছোট্ট এই শ্মশানটাতে। গ্রামের প্রভাবশালী হীরেন নন্দের মা হঠাৎ মারা গেলে তাঁর লাশ সেই শ্মশানে আনা হলো সৎকরারের জন্য। আর ঠিক সেই অশুভ রাতেই ঘটে গেলো গা শিউরানো এক ভয়াবহ ঘটনা, যা প্রত্যক্ষ করলো অনেকেই।
গল্পটা আমার খুব ভালো লেগেছে। রীতিমতো রোমহষর্ক একটা হরর গল্প বলা যায় 'বজ্রচর্চিকা'-কে। মনীষ মুখোপাধ্যায় তাঁর লেখনীতে একেবারে মুগ্ধ করে রেখেছিলেন আমাকে।
কাপুরুষ - নাজিম উদ দৌলাঃ শামিম ভালোবাসে ত্রিনাকে৷ কিন্তু সাহস করে কখনো ভালোবাসার কথাটা মেয়েটাকে বলতে পারেনি সে। আর এই জন্য ত্রিনার কাছে ও একটা কাপুরুষ ছাড়া কিছুইনা। এক সময় শামিমের ঘনিষ্ঠ বন্ধু কোটিপতি যুবক ফাহাদের সাথে বিয়ে হয়ে যায় ত্রিনার। কিন্তু ভয়াবহ একটা দুর্ঘটনা পাল্টে দিলো সবকিছু। উল্টে গেলো পুরো খেলাটা।
গল্পটা একটু সিনেম্যাটিক। বেশি সিনেম্যাটিক লেগেছে এর ক্লাইম্যাক্স। মোটামুটি ভালোই লেগেছে পড়তে।
পুনর্ণভা - রাফিউজ্জামান সিফাতঃ মনোয়ার সাহেবকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে উনার শাশুড়ির। গলায় ভাত আটকে মারা গেছেন মহিলা। জিজ্ঞাসাবাদে একটা জিনিস বেশ আশ্চর্যজনক লাগছে তদন্তকারী ওসি'র৷ মনোয়ার সাহেবের আশেপাশের অনেকেরই এমন অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে কোন না কোন সময়। তবে কি তিনিই খুনী?
মার্ডার মিস্ট্রি ও সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ধর্মী এই গল্পটা আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। এর আগে লেখক রাফিউজ্জামান সিফাতের কোন লেখা পড়া হয়নি। 'পুনর্ণভা' পড়ার পর সিদ্ধান্ত নিলাম, নিয়মিত উনার লেখা পড়বো।
মিথ্যা অভিযোগ - আহসানুল হক শোভনঃ প্রভাবশালী এক ব্যবসায়ীর মেয়ে স্নিগ্ধাকে ধর্ষণ ও খুনের দায়ে মিথ্যা মামলায় সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হলো সাবেক সেনাসদস্য শাহেদকে। জেলখানায় ওর সাথে পরিচয় হলো তরুণ শান্ত'র সাথে। আর তার সূত্র ধরে শাহেদ ঝামেলায় জড়িয়ে গেলো কুখ্যাত দুই খুনি রুম্মন ও কালু খাঁ'র সাথে। জেলখানার কঠিন জীবন আরো কঠিন হয়ে গেলো মিথ্যে অভিযোগে সাজা ভোগ করতে থাকা শাহেদের কাছে।
সিনেম্যাটিক আর কিছুটা অবাস্তব এন্ডিং-এর এই গল্পটা মোটামুটি ভালোই লেগেছে পড়তে। আহসানুল হক শোভনের লেখনী বেশ সুখপাঠ্য। লেখালেখি চালিয়ে গেলে আরো অনেকদূর যেতে পারবেন তিনি, এটাই আমার বিশ্বাস।
অক্ষি - পরাগ ওয়াহিদঃ একের পর এক বিভিন্ন পেশাজীবি মানুষ খুন হয়ে যাচ্ছে। খুনের পর খুনি ওদের একটা চোখ উপড়ে নিয়ে যাচ্ছে। আশেপাশে ফেলে রেখে যাচ্ছে কোন না কোন পেইন্টিং, যা খুন হওয়া মানুষগুলোর পেশার দিকেই নির্দেশ করে। বুয়েটের ছাত্র সাদমান আর অলোক ব্যক্তিগত আগ্রহ থেকেই নেমে পড়লো এই সিরিয়াল কিলিংয়ের ঘটনার তদন্তে।
সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ঘরানার এই গল্পটায় শুরু থেকে শেষ অব্দি টানটান উত্তেজনার আবহ বজায় ছিলো। বেশ ভালো লেগেছে। বিশেষ করে এন্ডিংটা।
বেজমেন্ট - জুলিয়ানঃ মাতৃহীন একমাত্র মেয়ে নাবিলাকে নিয়ে ওমর সাহেবের ছোট্ট পৃথিবী। নাবিলাই তাঁর সমস্ত হাসি-আনন্দের উৎস। কিন্তু বড়লোক বাবার বখাটে ছেলে রনি'র কারণে নাবিলাকে হারাতে হলো ওমর সাহেবের। আইন-আদালত সবকিছুই ব্যর্থ হলো রনি'র বিচার করতে। শেষমেষ একমাত্র মেয়ের ওপর হওয়া পৈশাচিক অন্যায়ের প্রতিশোধ নিতে নিজেকেও পিশাচে রূপান্তর করলেন ওমর সাহেব। করলেন ভয়ঙ্কর এক পরিকল্পনা। আর সেই পরিকল্পনার পুরোটা জুড়েই আছে এক বেজমেন্ট।
জুলিয়ানের 'বেজমেন্ট' কি? এটা একটা পিওর রিভেঞ্জ স্টোরি। গল্পটা আমার অত্যন্ত ভালো লেগেছে। কয়েক জায়গায় বাবা-মেয়ের মধ্যেকার ভালোবাসা দেখে চোখ ভিজে উঠেছে। আর প্রতিশোধ নেয়ার সিকোয়েন্সগুলোতে শিউরে উঠেছি বারবার। এই সঙ্কলনের অন্যতম সেরা গল্প 'বেজমেন্ট'।
চ্যানেল নম্বর ৩৩ - জুবায়ের আলমঃ মিলি একটা অফিসে ডাটা এন্ট্রি সেকশনে জুনিয়র ক্লার্ক হিসেবে নতুন জয়েন করেছে। কাজের কাজ সে আসলে কিছুই পারেনা। তার সহকর্মী শিরিনকে সে সন্দেহ ও ঘৃণার দৃষ্টিতে দেখে। কারণ একটাই। আর সেটা হলো সন্দেহ। ওর সন্দেহ, শিরিন ওর নামে বসের কাছে হয়তো নালিশ করে। এদিকে অফিসের সিনিয়র অফিসার পারভেজের সাথে একটা হৃদয়ঘটিত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে মিলি। একদিকে ক্যান্সারে আক্রান্ত মা, আর অন্যদিকে নতুন চাকরি। এর মাঝেই ইন্টারনেটে চ্যানেল নম্বর ৩৩ নামের এক অদ্ভুত সাইটে রহস্যময় এক লোকের বানানো মানুষ খুনের পদ্ধতির ভিডিও টিউটোরিয়াল ওকে একরকম আচ্ছন্ন করে ফেললো। আর এটাই ওকে বাধ্য করলো সহকর্মী শিরিনকে খুনের সিদ্ধান্ত নিতে। মিলি কি পারবে শেষমেষ কাজটা করতে?
ব্যক্তিগতভাবে জুবায়ের আলমের লেখনী বেশ আগে থেকেই পছন্দ করি আমি৷ এই গল্পটাও মোটামুটি ভালোই লেগেছে আমার কাছে। যথেষ্ট পরিমাণ সাসপেন্স ছিলো পুরোটা জুড়েই।
কানীবুড়ি - নাসির খানঃ খেড়েরচর গ্রামের আমেনার তিন মাস বয়সী বাচ্চাটার কি যেন অসুখ করেছে। বাচ্চা সারাক্ষণ কাঁদে, বুকের দুধ খায়না। ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে বাচ্চাটা। তাই খেড়েরচর ও এর আশেপাশের গ্রামের সবাই যা করে, আমেনাও তাই করার সিদ্ধান্ত নিলো। শতবর্ষী কানীবুড়ির কাছে নিয়ে চললো সে তার বাচ্চাটাকে। কানীবুড়ির ওষুধের নাকি অনেক গুণ। সেই ওষুধেই নাকি সেরে উঠবে তার বাচ্চা। এদিকে বেশ অনেকদিন ধরেই অদ্ভুত একটা ব্যাপার ঘটছে গ্রামে। কানীবুড়ির ওষুধে তিন মাসের কম বয়সী অসুস্থ বাচ্চাগুলোরও কোন কাজ হচ্ছেনা। মারা যাচ্ছে তারা। আর এই ব্যাপারটা সবার সামনে আনলো খেড়েরচরেরই এক শিক্ষিত যুবক ফয়সাল। তবে কি কানীবুড়ির মাঝেই রয়েছে কোন গোলমাল? রহস্যটা কি?
অতিপ্রাকৃত ঘরানার এই গল্পটা মোটামুটি ভালোই লেগেছে আমার কাছে। ভয়ের রেশ পাওয়া গেছে পড়ার সময়।
রাইটার্স ব্লক - সালমা সিদ্দিকাঃ জন প্যাটারসন একজন বিখ্যাত লেখক। উনার বেশ কয়েকটা বই নিউ ইয়র্ক টাইমস বেস্টসেলার হয়েছে। তবে ইদানীং তিনি কিছুই লিখতে পারছেননা। মাথায় কোন প্লটই আসছেনা তাঁর। মাথা ফাঁকা হয়ে আছে। অনেকদিন আগে প্রেমিকা জুলিয়ার দেয়া একটা অদ্ভুত পানীয় পান করেছিলেন তিনি। এই পানীয় নাকি সাফল্য এনে দেয়। তবে কি আবারো মি. প্যাটারসনকে জুলিয়ার সেই জাদুর পানীয় পান করতে হবে, যেটাতে তিনি কোনদিনই বিশ্বাস করেননি? হয়তো এবার সেই পানীয়র জন্য অনেক কাঠখড় পোড়াতে হবে তাকে।
সালমা সিদ্দিকার অসাধারণ গল্প বলার ধরণে রীতিমতো মুগ্ধ হয়ে গেছি। খুব ভালো লেগেছে 'রাইটার্স ব্লক'। শেষের টুইস্টটা একেবারে মাথা ঘুরিয়ে দেয়ার মতো ছিলো।
সকলই গরল ভেল - আবুল ফাতাহঃ নেপাল চৌধুরী দেশের নামকরা ক্রিমিনাল ল-ইয়ার। এবার তিনি লড়ছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কামরুল আকন্দ মার্ডার কেস। কেসের আসামী খুন হওয়া কামরুল আকন্দের অল্পবয়স্কা সুন্দরী স্ত্রী লিটা আকন্দ। আসামীপক্ষের উকিল নেপাল চৌধুরী। লিটা আকন্দের প্রতি অভিযোগ, স্বামীকে বিষপ্রয়োগে খুন করেছেন তিনি। বাদীপক্ষের উকিল বদরুল প্রামাণিক অভিযোগের স্বপক্ষে একের পর এক প্রমাণ এনে হাজির করছেন৷ এতেও একেবারেই নির্বিকার নেপাল চৌধুরী। তবে কি এবার 'ওপেন অ্যান্ড শাট' কেসটা হারতে চলেছেন তিনি? নাকি উল্টে যাবে পাশার ছক?
কোর্টরুম ড্রামা 'সকলই গরল ভেল' বেশ মজার একটা গল্প। পড়তে গিয়ে কয়েকবার হেসে উঠেছি। মোটামুটি ভালো লেগেছে গল্পটা। ভবিষ্যতেও ক্রিমিনাল ল-ইয়ার নেপাল চৌধুরী বিষয়ক লেখা পড়ার আশা রইলো।
হৃদয়পুর কতদূর - মুহম্মদ আলমগীর তৈমূরঃ স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়। অসুস্থ বন্ধু বদরকে নিয়ে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের ছাত্র অমিত আঢ্যকে যেতে হলো বদরের গ্রাম হৃদয়পুরে৷ উদ্দেশ্য, অসুস্থ বদরকে নিরাপদে তার বাড়িতে পৌঁছে দেয়া। কিন্তু হৃদয়পুরে যেতেই বাবলা গাছের নিচে শোনা সম্মিলিত কণ্ঠের অশরীরী হাসি ওকে একেবারে জমিয়ে দিলো। শুধু তাই না, নির্জন মন্দিরে পূজারিণী ঠাকরুন বেওয়া ও তাঁর অনিন্দ্য সুন্দরী মেয়ে ঘৃতাচীর রহস্যময় আচরণও দ্বিধান্বিত করে তুললো অমিতকে। হৃদয়পুর গ্রামটার অর্ধেক বাংলাদেশ অংশে আর বাকি অর্ধেক ভারত অংশে। ভারতীয় অংশে বন্ধু বদরের হাক্কানি মামার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে গ্রামের অবিশ্বাস্য বাড়বাড়ন্ত ভাব আরো অবাক করলো ওকে। পরিচয় হলো বৃদ্ধ এক পাদ্রীর সাথে। তিনি শোনালেন অনেক গল্প। যে গল্পে আছে মুঘল আমল, এক প্রাচীন অপদেবতা সহ আরো অনেক কিছু।
এই সঙ্কলনের সম্পাদক মুহম্মদ আলমগীর তৈমূরের গল্প 'হৃদয়পুর কতদূর' রাখা হয়েছে একদম শেষে। এটা এই সঙ্কলনের অন্যতম সেরা গল্প, নিঃসন্দেহে। লেখকের গল্প বলার ধরণ বরাবরই ভালো লাগে আমার। আর উপভোগ করেছি এই গল্পটাও।
এসব ছাড়াও 'নিশুতি ২'-এ স্থান পেয়েছে সৈয়দ অনির্বাণের 'ভ্রূণ', স্বনন আসিফের 'সংহার', রাফসান রেজা রিয়াদের 'হন্তারক', আদনান আহমেদ রিজনের 'মাস্টারপ্ল্যান', ইমতিয়াজ আজাদের 'পাপ', আসিফ তাউজের 'কুহেলী', শুভঙ্কর শুভ'র 'বুমেরাং', সাজিদ রহমানের 'তেল চিটচিটে', আসিফ রুডলফাযের 'প্রক্সি', তানজিনা তানিয়ার 'শোধ', মহুয়া মল্লিকের 'গুড বাই জুন', তাসরুজ্জামান বাবু'র 'জগদীশ ফাইলস', শাহরিয়ার সৈকতের 'প্রতিশোধ', আহনাফ তাহমিদের 'একটি অসমাপ্ত গল্প', নসিব পঞ্চম জিহাদীর 'চারটা চা দেন, একটা চিনি ছাড়া' এবং ওয়াসি আহমেদের 'কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল' গল্পগুলো। পড়েছি সবগুলোই।
ওয়াসি আহমেদের করা গল্পের পোস্টারগুলো আলাদা একটা মাত্রা যোগ করেছে এই সঙ্কলনে। চমৎকার আইডিয়া৷ আবুল ফাতাহ'র করা প্রচ্ছদটাও ভালো লেগেছে। 'নিশুতি ২'-এর প্রোডাকশন কোয়ালিটি অসাধারণ। ক্রিম কালারের কাগজ আর শক্তপোক্ত বাইন্ডিংয়ের এই বইটা হাতে এসেছে বক্স সমেত। ২০১৯ সালে এটাই আমার পড়া শেষ বই। আর এটাই আমার লেখা শেষ রিভিউ এই সালে। আর সম্ভবত আমার লেখা সবচেয়ে বড় কলেবরের রিভিউ এটাই। হ্যাপি রিডিং।
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৩.৮৫/৫ (সামগ্রিকভাবে)
গুডরিডস রেটিংঃ ৩.৩৩/৫
© শুভাগত দীপ
(৩০ ডিসেম্বর, ২০১৯, দুপুর ১ টা ৩০ মিনিট; ব্যাচেলর'স ডেন, নাটোর)