Abu Muhammad 'Abd al-Malik bin Hisham ibn Ayyub al-Himyari (Arabic: أبو محمد عبدالمالك بن هشام), or Ibn Hisham [ - May 7, 833 AD], is known for 'As-Sirah an-Nabawiyyah', or 'Sirat Ibn Hisham: The Life of the Prophet', the edited biography of Islamic prophet Muhammad (SAW) written by Ibn Ishaq.
অনুবাদের নামে একটা বইকে কিভাবে নষ্ট করতে হয় তার ভাল উদাহরন এই বইটি। আমি এই বইটির ইংরেজী অনুবাদ The Life of Muhammad by A Guillaume পড়েছি। বাংলা অনুবাদক তার ভূমিকায় বলেছেন মুল বইটি টীকায় পূর্ন যা সীরাহ বিশেষজ্ঞদের জন্য প্রয়োজনীয় হলেও সাধারন পাঠকের জন্য কষ্টকর। কথাটি সত্য যা আমি ইংরেজী অনুবাদ পড়তে যেয়ে টের পেয়েছি। কিন্তু বাংলা অনুবাদক টিকামুক্ত অনুবাদ করতে যেয়ে তার পছন্দমত অংশ রেখেছেন, অংশ বাদ দিয়েছেন। ফলে পুর্বে যারা যেকোন সীরাহ পড়েছেন তাদের কাছে অনুবাদটি ছাড়া ছাড়া মনে হবে।
এই বইটাতে নবী মুহাম্মদ (সা.) এক ভিন্ন আঙ্গিকে পেয়েছি। নবীজির (সা.) যুদ্ধ জীবনের এতো গুরুত্ববহ বিবরণ এর আগে পাইনি। অন্যান্য সীরাতের সাথে (আসলে এটা আমার ৩য় সীরাত অধ্যয়ন) এর মূল পার্থক্য এখানেই লেগেছে যে স্রেফ নবীজির (সা.) দয়া আর মমতার দিকই নয় বরং এক সার্বজনীন জীবনই তুলে ধরা হয়েছে।
সীরাতে ইবনে হিশাম লেখকঃ ইবনে হিশাম , অনুবাদকঃ আকরাম ফারুক প্রকাশনীঃ বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার মূল্যঃ ২৭০ টাকা, পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৬৪ ওয়া ইন্নাকা লা’আলা খুলুকিন আজিম অর্থাৎ এবং নিশ্চয় আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী। (সূরা কলম, আয়াত-৪) বলেছেন স্বয়ং মহান রাব্বুল আল আমিন, যিনি নিজে সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম। আয়াতে ব্যবহৃত ‘আজিম’ শব্দটি আল্লাহর গুণবাচক নামগুলোর একটি। যার অর্থ আল্লাহ তায়ালা এমন মহান বা বিশাল সত্তা যার মহানত্ব ও বিশালতা সীমা-পরিসীমা আমাদের কল্পনা, চিন্তা ও ইন্দ্রিয়ানুভূতির বাইরে। অর্থাৎ তিনি সীমা বা আয়ত্বের দুর্বলতা থেকে পবিত্র। রাসূলুল্লাহ সা:-এর নৈতিক চরিত্রের মহানত্ব প্রকাশ করার জন্য আল্লাহ তায়ালা ‘আজিম’ শব্দ ব্যবহার করে এই কথাই বুঝানো হয়েছে যে, তাঁর চরিত্রের বিশালতাও সীমাহীন। আমাদের কল্পনা, চিন্তা ও ইন্দ্রিয়ানুভূতির বাইরে। আল্লাহ তায়া'লা বলেনঃ আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্যে রহমত স্বরূপই প্রেরণ করেছি। (সূরা আম্বিয়াঃ ১০৭) এর চাইতে আর বড় কমপ্লিমেন্ট আর কি হতে পারে!মুহাম্মাদের (সা) উপর লেখা হয়েছে অনেক গ্রন্থ, অনেক জীবনীকার জীবনীগ্রন্থও লিখেছেন। তার জীবনীগ্রন্থকে সাধারণভাবে "সীরাত" গ্রন্থ বলে।অনেক মুসলিম ও অমুসলিম তার জীবনীগ্রন্থ লিখেছেন। এর মাঝে উল্লেখযোগ্য হলো তাবারি রচিত "সীরাতে রাসুলাল্লাহ", ইবনে কাসির রচিত "আল-সিরাত আল-নববিয়াত", মার্টিন লিংসের "মুহাম্মাদ : হিজ লাইফ বেজড অন দ্য আর্লিয়েস্ট সোর্সেস", ক্যারেন আর্মস্ট্রং রচিত "মুহাম্মাদ : এ বায়োগ্রাফি অব দ্য প্রফেট" এবং "মুহাম্মাদ : এ প্রফেট অব আওয়ার টাইম", মার্মাডিউক পিকথাল রচিত "আল আমিন : এ বায়োগ্রাফি অব প্রফেট মুহাম্মাদ", সাম্প্রতিককালে রচিত আর্-রাহিকুল মাখতুম, বাংলা ভাষায় গোলাম মোস্তফা রচিত বিশ্বনবী, এয়াকুব আলী চৌধুরীর নুরনবী, মওলানা আকরম খাঁ রচিত মুস্তাফা চরিত প্রভৃতি। সিরাতের ওপর লিখিত প্রাচীন গ্রন্থগুলোর মধ্যে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য ও প্রচারিত এই গ্রন্থটির লেখক আবু মুহাম্মাদ আবদুল মালেক ইবনে হিশাম ইবনে আইয়ুব আল হিমইয়ারি রহমাতুল্লাহি আলাইহি। এই মহান লেখক বসরায় জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই লালিত-পালিত হন। এরপর তিনি মিসরে গমন করেন। সেখানে দ্বিতীয় হিজরির শেষাংশ এবং তৃতীয় হিজরির প্রথার্ধ অতিবাহিত করেন। মিসরে অবস্থানকালে তিনি ইমাম শাফেয়ি রহমাতুল্লাহি আলাইহির সান্নিধ্য লাভ করেন। যা ছিলো আব্বাসীয় খেলাফতের বিকাশকাল। এ সময় মুসলিম বিশ্বে জ্ঞান-বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতি ও বিকাশ ঘটে। ইসলামি জ্ঞান-বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখার ন্যায় সিরাতও একটি স্বতন্ত্র শাস্ত্রে পরিণত হয়। এ গ্রন্থটি মূলত সিরাতে ইবনে ইসহাকের সংক্ষিপ্তরূপ। ইবনে হিশাম রহমাতুল্লাহি আলাইহি সিরাতে ইবনে ইসহাক থেকে (নিজস্ব মূলনীতির আলোকে) অপ্রয়োজনীয় ও ভিত্তিহীন বিষয়গুলো পরিহার তাকে নতুনভাবে বিন্যস্ত করেন। যা বর্তমানে সিরাতে ইবনে ইসহাক নামে খ্যাত। কোথাও কোথাও কিছু সংযোজন ও সমালোচনাও করেছেন। আবার কখনো অন্যান্য মনীষীর বর্ণনার সঙ্গে ইবনে ইসহাকের বর্ণনার তুলনা বা যাচাই-বাছাইও করেছেন। ওই গ্রন্থের সংকলনে তার অনুসৃত পদ্ধতির কিছু বর্ণনা তিনি গ্রন্থের শুরুতেই দিয়েছেন। তিনি সৃষ্টির সূচনা থেকে হজরত ইসমাইল আলাইহিস সালামের বংশধরদের ইতিহাস পর্যন্ত যা কিছু সিরাত সংশ্লিষ্ট মনে করেননি এবং যেসব কবিতার সঙ্গে সিরাতের যোগসূত্র খুঁজে পাননি তা তার সংকলন থেকে বাদ দিয়েছেন। সিরাতে ইবনে ইসহাকের সংক্ষিপ্তকরণের ক্ষেত্রে ইবনে হিশাম রহমাতুল্লাহি আলাইহি তার শিক্ষক আবু মুহাম্মাদ যিয়াদ ইবনে আবদুল মালেক আল বুকায়ির মধ্যমপন্থা গ্রহণ করেন এবং তাকে বিশেষভাবে মূল্যায়ন করেন। তিনি বলেন, ‘আমি সেসব বিষয় বাদ দিযেছি; যার বর্ণনা অনেকের কাছে অপ্রীতিকর লাগবে অথবা যা বুকায়ি নিজের বর্ণনা দ্বারা আমাদের কাছে প্রামাণ্য বলে সাব্যস্ত করেননি। সিরাতে ইবনে হিশামে আলোচিত বিষয়গুলোকে তিনভাগে ভাগ করা যায়। তাহলো- ক. জাহিলি যুগের ইতিহাস। যেখানে তিনি হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশসহ অন্যান্য আরব গোত্রগুলোর ইতিহাস এবং মক্কা ও ইয়ামানের ইতিহাস আলোচনা করেছেন। খ. মক্কা ও মদিনায় হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন ও ইতিহাস। গ. হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুদ্ধ ও সামরিক অভিযানসমূহ। গ্রন্থটি প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সিরাত পাঠকদের নিকট একটি সাধারণ গ্রহণীয় এবং প্রামাণ্য গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন ও কর্ম নিয়ে গবেষণা ও কাজ করেন অথচ সিরাতে ইবনে হিশামের সঙ্গে তার পরিচয় ঘটেনি এবং তা থেকে উপকৃত হয়নি এমনটি খুঁজে পাওয়া মুশকিল। এ প্রসঙ্গে আল্লামা ইবনে খাল্লিকান রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ‘ইবনে হিশামই ইবনে ইসহাকের সংগৃহীত হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামরিক ও সাধারণ জীবনোতিহাসসহ গোটা জীবনোতিহাসকে একত্রিত, সংকলিত ও সংক্ষিপ্ত করেছেন। এটাই বর্তমানে সিরাতে ইবনে হিশাম নামে পাঠক সমাজের হাতে শোভা পাচ্ছে। আস সীরাতুন-নাবাবিয়্যাহ’ নামক সিরাতশাস্ত্রের এই মূল্যবান সম্পদটি বাংলাভাষী পাঠকদের জন্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ‘সীরাতুন্নবী (সা.)’ নামে গ্রন্থটির প্রথম প্রকাশ ১৯৯৪ সালে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ মোট ৪ খণ্ডে বইটি প্রকাশ করেছে। তবে তারও পূর্বে ইসলামিক সেন্টার বাংলাদেশ কর্তৃক গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। ১৯৮৮ সালে প্রথম প্রকাশের পর থেকে ত��রা এ পর্যন্ত প্রায় ২০টি সংস্করণ প্রকাশ করে বাজারজাত করেছে। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব যিনি, অধিকাংশ ইতিহাসবেত্তা ও বিশেষজ্ঞদের ম��ে, যিনি ছিলেন পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতা।যার এই বিশেষত্বের অন্যতম কারণ হচ্ছে আধ্যাত্মিক ও জাগতিক উভয় জগতেই চূড়ান্ত সফলতা অর্জন। তিনি ধর্মীয় জীবনে যেমন সফল, তেমনই রাজনৈতিক জীবনেও। সমগ্র আরব বিশ্বের জাগরণের পথিকৃৎ হিসেবে তিনি অগ্রগণ্য, যাঁকে সকল সুন্দরতম বিশেষণে বিশেষিত করলেও কম হবে। Michael J Hart তার The Most Influential বইটিতে যাকে রেখেছেন ১ নাম্বার কাতারে, আরো বলতে গেলে বলতে হয় স্বয়ং আমাদের সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা ও রিজিকদাতা আল্লাহ তায়ালা যাকে ভালোবেসে বন্ধুরূপে স্বীকৃতি দিয়েছেন ও পূর্ণ একটি সূরা যার নামে অবতীর্ণ করেছেন তিনিই আমাদের প্রানপ্রিয় রাসূল হযরত মুহাম্মদ মুস্তাফা (সা)। তবে ইবনে ইসহাক রচিত মুহাম্মাদের (সা) সর্বাধিক প্রাচীনতম নির্ভরযোগ্য জীবনী সংকলন 'সীরাতে ইবনে ইসহাক',যা অনেকের মতে বর্তমানে প্রায় বিলুপ্ত এবং তা হতে সম্পাদিত 'সীরাতে ইবনে হিশাম'। রসূলুল্লাহর (সা) জীবনীগ্রন্থ হিসেবে সীরাতে ইবনে হিশাম' প্রাচ্য ও প্রতীচির শুধু সকল ঐতিহাসিকের নিকট সমান ভাবে সমাদৃতই নয় বরং সবচে নির্ভরযোগ্য সীরাতগ্রন্থ এটি। আর অনুবাদক হিসেবে আকরাম ফারুক জনপ্রিয়, লব্ধপ্রতিষ্ঠিত এবং পাঠক-নন্দিত। বাংলা ভাষাভাষী পাঠকদের জন্য এটিই চমৎকার সীরাতগ্রন্থ। মুহাম্মাদ (সা) এর জীবনী নিয়ে হয়তো নতুন করে কিছু বলার নেই। পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ এই মানুষটিকে যতই লেখা হোক না কেন তা কম বলা হবে।আনুমানিক ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে ১২ই রবিউল আওয়াল আবু আল-কাশিম মুহাম্মাদ ইবনে ʿআবদুল্লাহ ইবনে ʿআবদুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম, মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন।জন্মের পূর্বে পিতাকে হারানো এতিম মুহাম্মাদ (সা) পরবর্তীতে মায়ের ইন্তেকালের পর প্রথমে তাঁর পিতামহ আবদুল মোত্তালিব ও পরে পিতৃব্য আবু তালিবের নিকট লালিত পালিত হন। অন্যান্য সীরাতগ্রন্থের সাথে এর একটিই পার্থক্য যে পুরো বইটিতে আমাদের জানা এসকল ঘটনার সমন্বয়ের সাথে পূর্বের আরব সমাজ, তার নামকরণের ঘটনা, দাদা আবদুল মোত্তালিব এর জীবনের কিছু ঘটনার মিশেল, তাঁর ও আদম (আ) উর্দ্ধতন বংশ পরম্পরা, ইসমাঈল (আ) অধস্তন পুরুষদের বংশক্রম, বিবাহ, সামাজিক-রাজনৈতিক-ধর্মীয় কর্মপদ্ধতি, সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রত্যেকটি যুদ্ধ, যুদ্ধের বর্ণনা, চুক্তি, সনদ,সকল যুদ্ধবন্দীর নাম, বদরের মুসলিম বাহিনীর ব্যবহৃত সমস্ত ঘোড়ার নাম, আনসার ও কুরাইশদের মধ্য থেকে যেসব মুসলিম সৈনিক বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন, যারা শহীদ হন এবং মুশরিকদের মধ্যে যাঁরা নিহত হয় তাদের সকলের নামের সুদীর্ঘ বর্ণনা,অনুরূপভাবে বদর যুদ্ধে যেসব কবিতা আবৃত্তি করা হয়েছে, পূর্ব-পুরুষের মহিমা কীর্তনমূলক যেসব সংলাপ উচ্চারিত হয়েছে উল্লেখ করা হয়েছে নিপুণভাবে। সীরাতগ্রন্থ আমার বরাবরই প্রিয়।কিছু অপ্রয়োজনীয় বর্ণনা ব্যাতিত পুরোটাই গুরুত্বপূর্ণ।মন্ত্রমূগ্ধ হয়েছি তাঁর চারিত্রিক মাধুর্যতায় একের পর এক কাফেরেরা যখন অনুপ্রাণিত হয়ে ইসলামের ছায়াতলে আসছিলো। আবার বুকের ভেতরটা মোচড় দিচ্ছিলো ষড়যন্ত্রের, তাঁর প্রতি আক্রোশের বাক্যালাপ পড়ে।এক কথায় অসাধারণ।এই বইটির তুমুল জনপ্রিয়তাই প্রমান করে অল্পকথায় বইটিকে সংজ্ঞায়িত করা আমার পক্ষে বেশ কষ্টসাধ্য।
যতো গুলো সীরাতের বই আছে তার মধ্যে সব থেকে পুরাতন এটি । বিভিন্ন সীরাতের বই তে ইবনে হিশাম এর বর্ণনা পড়তে খুব ভালো লাগতো । নতুন করে জানার, নতুন কিছু উপলব্ধি করার এবং নতুন করে ভাবতে পারবেন বইটি পড়লে ।
আরেকটা ভালো সীরাত পড়লাম। নবুয়তের আগের বর্ণনা তেমন ভালো না হলেও নবীর জীবনের যুদ্ধগুলোর বিস্তারিত বর্ণনা এসেছে বইটাতে। প্রাচীনতম সীরাত হওয়ায় তথ্যগুলোর গ্রহণযোগ্যতা নিঃসন্দেহে সবচেয়ে বেশি। কবিতাগুলো দারুণ ছিল।
গত কয়েকদিনে পড়ে শেষ করলাম রাসূলুল্লাহ (সা.) এর প্রাচীনতম জীবনীগ্রন্থ সীরাতে ইবনে হিশাম। মূলত এই বইটি সীরাতে ইবনে ইসহাক গ্রন্থের সংক্ষিপ্ত সার। সিরাত গ্রন্থগুলির মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ, সবচেয়ে প্রামাণ্য ও নির্ভরযোগ্য এবং সবচেয়ে উন্নতমানের গ্রন্থ হিসেবে সীরাতে ইবনে ইসহাককে বিবেচনা করা হয়। মুহাম্মদ ইবনে ইসহাকের জন্ম ৮৫ হিজরী ও মৃত্যু ১৫২ হিজরী সনে। তিনি ইস্কান্দারিয়া, আলজাজিরা, কুফা, রাই, বুহায়রা ও বাগদাদ ভ্রমণ করেন, হাদীস ও তথ্যাদি সংগ্রহ করেন। তিনি সীরাতে ইবনে ইসহাক গ্রন্থটি রচনা করেন আব্বাসী শাসনামলের গোড়ার দিকে। বাগদাদের আব্বাসীয় শাসক মানসুরের দরবারে লেখক উপস্থিত হলে তাঁর ছেলে মাহদীর জন্য তিনি একটি ইতিহাস গ্রন্থ রচনা করার নির্দেশ দেন। আদম (আ.) এর সৃষ্টি থেকে শুরু করে সে সময়কাল পর্যন্ত যাবতীয় ঘটনাবলীর বর্ণনা লিপিবদ্ধ করার কথা তাকে বলা হয়। কিন্তু গ্রন্থখানি অনেক বেশি দীর্ঘ হয়ে যাওয়ায় তা খলিফার কোষাগারে রেখে দেয়া হয়েছিল। প্রায় অর্ধশতাব্দী পরে ইবনে হিশাম মূল গ্রন্থটির একটি সংক্ষিপ্তসার রচনা করেন। তবে মূল গ্রন্থের আসল বক্তব্য যাতে অবিকৃত থাকে সে ব্যাপারে ইবনে হিশাম পূর্ণ সচেষ্ট থেকেছেন।
পরবর্তীকালে রচিত সিরাত তথা নবীর বিভিন্ন জীবনী গ্রন্থে ধীরে ধীরে অনেক তথ্য পরিবর্তিত হয়ে যায় এবং প্রকৃত তথ্যাদি সঠিক ভাবে উপস্থাপিত হয়নি, অনেক ক্ষেত্রে ভিত্তিহীন তথ্য যুক্ত হয়। সেই বিবেচনায় প্রাচীন গ্রন্থ হিসেবে এই সিরাত গ্রন্থের গুরুত্ব অপরিসীম। এখানে মূলত নবীর জীবনীকেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে, তবে খুবই সংক্ষিপ্তভাবে আদম (আ.) থেকে শুরু করে নবীর জন্ম পর্যন্ত কিছু বিষয়ের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা এবং নবীর বিস্তারিত জীবনী এখানে স্থান পেয়েছে। বইটিতে নবী জীবনের প্রাসঙ্গিকতায় সে সময়ের আরবের বিভিন্ন গোত্রের কিছু কিছু আচার আচরণ সংস্কৃতির বিবরণ যেমন পাওয়া যায়, তেমনি নবীর সময়ে ইসলামের নিয়মকানুন, সাহাবাগণ ও মুসলিমগণের জীবন ও আচরণ সম্পর্কেও কিছু ধারণা পাওয়া যায়।
এই গ্রন্থে নবীর ব্যক্তিজীবন, নবুওয়াতের পূর্বে ঘটনাবলী, নবুয়াত প্রাপ্তি, প্রাথমিক পর্যায়ে ইসলামের দাওয়াত দেয়ার প্রক্রিয়া, মক্কার কুরাইশ ব্যক্তিবর্গের প্রতিক্রিয়া উপস্থাপন করা হয়েছে। মহানবীর হিজরত এবং মদিনায় অবস্থান, বিভিন্ন চুক্তি সম্পাদন, ধর্মপ্রচার, পরবর্তীতে নবী ও তাঁর মনোনীত সাহাবাদের নেতৃত্বে বিভিন্ন সামরিক অভিযান ও যুদ্ধের বিস্তারিত বিবরণ উপস্থাপিত হয়েছে। মক্কা বিজয়ের পরে, বিশেষ করে নবম হিজরী সন হতে নবীর কাছে আগত বিভিন্ন প্রতিনিধি দলসমূহের বিস্তারিত বিবরণ এই গ্রন্থে তুলে ধরা হয়েছে। সবশেষে এসেছে নবীর ইন্তেকালের পরপরই ঘটে যাওয়া খলিফা নির্বাচন সংক্রান্ত অল্প কিছু ঘটনা। এসকল তথ্য উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গের ��াম ও তথ্যাদি উল্লেখ করায় গ্রন্থটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচ্য। এছাড়াও যুদ্ধ এবং বিভিন্ন সভা-সমাবেশে উপস্থাপিত নবী ও সাহাবাদের বক্তব্য, ভাষণ এবং তৎকালীন কবিদের লিখিত কবিতাসমূহের কিছু অংশ এই গ্রন্থে স্থান পেয়েছে। নবীর ইন্তেকালে শোকাহত কবি হাসসান ইবনে সাবিতের লিখা শোকগাথার বেশ কিছু অংশ বইটির শেষাংশে তুলে ধরা হয়েছে, যা অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী কাব্য। কবিতাটির কয়েকটি ছত্র নিম্নরূপ:
"হে চোখ, তোমার কি হয়েছে যে ঘুমাচ্ছো না, মনে হচ্ছে যেন তাতে সুরমা লাগানো হয়েছে। আমি অস্থির চিত্তে তোমার কাছে আশ্রয়কামী হয়েছি। উষর পার্বত্য ভূমির হে শ্রেষ্ঠ বিচরণকারী, তুমি মরো না। মাটি যেন তোমাকে স্পর্শ না করে! হায় আফসোস! আমি যদি তোমার আগে কবরে বিলীন হয়ে যেতাম তাহলেই ভালো হতো।..."
কিছু কিছু ক্ষেত্রে বর্ণিত ঘটনাবলীর বিবরণ শেষ না করেই ভিন্ন প্রসঙ্গের অবতারণা করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ঘটনাবলীর ও বিবরণের ধারাবাহিকতা পুরোপুরি বজায় থাকেনি। তবে, সার্বিকভাবে, নবীর জীবনের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ইতিহাসের একটি প্রামাণ্য গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত এই গ্রন্থটি অধ্যয়ন করা সকলের জন্য জরুরী। মূল সীরাতে ইবনে ইসহাক গ্রন্থটি যেহেতু আমার সংগ্রহে আছে পরবর্তী সুবিধাজনক সময়ে সেটাও পড়ার চিন্তা আছে।
সীরাত গ্রন্থের তুলনা করলে “সীরাত ইবনে হিশাম” এর চেয়ে “আর-রাহীকুল মাখতুম” কেই বেশী প্রাণবন্ত ও ধারাবাহিক লেগেছে। এর কারন হচ্ছে “সীরাত ইবনে হিশাম” যথেষ্ট জনপ্রিয় সীরাত গ্রন্থ সন্দেহ নেই তবে যে ক্ষুদ্র ব্যাপারটি আমার চোখে পরেছে সেটি হল কিছু স্থানে ঘটনার বর্ণনা পরিপূর্ণ শেষ না হয়ে যেন হঠাৎ থমকে গিয়ে ভিন্ন ঘটনার সূচনা করেছে। এতে পাঠকের পরিতৃপ্তির অভাব থেকে যাচ্ছে বলে মনে হয়েছে, এটি মূল গ্রন্থের না অনুবাদকের সংক্ষিপ্ত করনের চেস্টায় হয়ে থাকবে কিনা নিশ্চিত নই। এ ছাড়া স্বাভাবিক বিচারে গ্রন্থটি যথেষ্ট তথ্যবহুল এবং আগ্রহ নিয়ে পড়ার মত। আশা করি গ্রন্থটি নবী (সাল্লেল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) এর জীবনী সম্পর্কে পাঠককে যথেষ্ট সহায়তা করবে।
একেবারে প্রথম দিকের একটা বিখ্যাত সীরাত। বিভিন্ন কিতাব পড়তে গিয়ে এটার রেফারেন্স দেখতাম। তখন থেকেই পড়ার ইচ্ছা ছিল। আল্লাহর রহমতে অবশেষে পড়ে ফেললাম। খুবই সুন্দর এবং সাবলীল ভাষায় এটা বাংলায় অনুবাদ করা হয়েছে। এই সীরাত পড়ে অনেক নতুন বিষয়ে জানা হয়েছে এবং পড়ার সময় অনেক ঘটনায় অভিভূত হয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ
হারাম শরীফের গোটা এলাকা বিরান হয়ে ঊষর মরুতে পরিণত হলো কেননা তাঁর কাছে যে ওহীর বিধান আসছিল তা বন্ধ হয়ে গেল। একমাত্র কবরের জগতটি বিরান হলো না যেখানে সেই হারানো মানুষটি অতিথি হলেন।