কিছু মানুষ শুধু নিজে আলোকিত হন না, অপরকেও আলোকিত করেন। যার ঈমান ও আমল দেখে সবাই অনুপ্রাণিত হন, তার মতো হবার স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু এমন তাকওয়াবান লোকেরও পদস্খলন ঘটতে পারে। শয়তান তাকে টেনে এমন নীচে নামাতে পারে যেটা সবাই তো বটেই, সে নিজেও কখনও কপ্লনা করতে পারেনি। তারপর? তারপর কী হয়?
এরপর জীবনের গল্পের পরিসমাপ্তি ঘটে অশ্রুতে। কারও জন্য সে অশ্রু আক্ষেপের, কারও জন্য বা সেটা অনুশোচনার। আমাদের গল্পের ইয়াসারের কেমন পরিণতি হয়েছিল? শয়তানের অব্যর্থ তিরে হৃদয়ের সাতটি দরজা খুলে যাবার পর যে নাজুক অবস্থায় সে উপনীত হয়েছিল, তা থেকে কি ইয়াসার ফিরে আসতে পেরেছিল?
শেষের অশ্রু শুধু বাগদাদের ইয়াসারের গল্প নয়। বরং, সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অসংখ্য হোঁচট খাওয়া যুবকের গল্প।
যতই দ্বীনদার বলে নিজেদেরকে দাবি করি না কেন, আমরা কেউই ফিতনার ঊর্ধ্বে নই। একটু অসতর্কতা, চোরা-দৃষ্টি, সামান্য কথা কিংবা ভুল জায়গায় ভুল সময়ে থাকার ফলে নিজেদের এমন অবস্থায় আবিষ্কার করা খুবই সম্ভব, যেটা হয়তো শুরুতে আমরা কেউ কল্পনাও করতে পারতাম না। তাই উচিত যথাসম্ভব এ ধরনের ফিতনা থেকে গা- বাঁচিয়ে চলা। উচিত সব সময় আল্লাহর কাছে এসব ফিতনা থেকে আশ্রয় চাওয়া। তিনিই তো আমাদের আশ্রয়স্থল। #শেষের_অশ্রু 💙
এক নিশ্বাসে পড়ে ফেলার মতো বই। দ্বীনি এক যুবকের একজন নারীর দ্বারা ফিতনায় পড়ার কাহিনী। বর্ণনা হৃদয়স্পর্শী। অনুবাদও বেশ সাবলীল। সব মিলিয়ে কুইক রিড হিসেবে ভালোই।
অসাধারণ একটি বই, নারী ফিতনার ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্কতা অবলম্বন করা কতটা জরুরি তা গল্পটি না পড়লে হয়তো এভাবে উপলব্ধি করতে পারতাম না।
বইটির সারমর্ম বলতে বলা যায় বইটিতে উল্লেখিত শায়েখের সেই অমৃতবাণী :
"আমি তোমাকে মনে করিয়ে দিচ্ছি : শয়তান তোমার কাছে বিভিন্ন দরজা দিয়ে ঢুকবে। তবে প্রধানত নারীর মাধ্যমে ঢুকবে। তুমি তার থেকে দায়েমি যিকর, দৃষ্টি সংযত করা ও কুরআন তেলাওয়াত করার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও। নিজেকে মনে করিয়ে দাও, এই সুন্দরী মেয়ের চেহারা কিছুদিন পর একটা মৃতদেহে পরিণত হবে ; যে দেহ কীটপতঙ্গ খেয়ে ফেলবে। আর জান্নাতে এমন হূরে ঈন আছে, যাদেরকে উদীয়মান সূর্য দেখলেও লজ্জা পায়।"
বইটি শেষ করার পর চরিত্রের পরিণতিগুলো না জানায় অনেকটা আক্ষেপ রয়ে গেছে।
রসূল সা: বলেন: "আমি আমার পর পুরুষের জন্য নারীর চেয়ে বেশি ক্ষতিকারক অন্য কোনো ফিতনা রেখে যাই নি।”
প্রত্যেক যুগেই সকল পুরুষের জন্য সবচেয়ে বড় ফিৎনা হলো নারী। এর থেকে অতি ঈমানদার, আল্লাহওয়ালা মানুষও বাদ নাই।
আদম সন্তান হাবিল কাবিল থেকে শুরু করে বনি ইসরাইলের সর্বপ্রথম ফিৎনাও ছিল নারী সম্পর্কিত।
উক্ত বইটিতে এই ঘটনারই পুনরাবৃত্তি হয়েছে বাগদাদের ইয়াসিরের জীবনে। কিন্ত শেষভাগে তিনি আল্লাহর দয়ায় সেই মায়াজাল থেকে বেরও হতে পেরেছেন আলহামদুলিল্লাহ।
নোট: 96 পৃষ্টার বইটির ভাষা খুবই সরল-স্বচ্ছ ও গল্পাকারে লেখা , পড়তে মোটেও বোরিং লাগবে না ইনশাআল্লাহ।
আমি তোমাকে মনে করিয়ে দিচ্ছি: শয়তান তোমার কাছে বিভিন্ন দরজা দিয়ে ঢুকবে। তবে প্রধানত নারীর মাধ্যমে ঢুকবে। তুমি তার থেকে দায়েমি যিকর—দৃষ্টি সংযত করা ও কুরআন তিলাওয়াত করার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও। নিজেকে মনে করিয়ে দাও,এই সুন্দরী মেয়ের চেহারা কিছুদিন পর একটা মৃতদেহে পরিণত হবে; যে দেহ কীটপতঙ্গ খেয়ে ফেলবে। আর জান্নাতে এমন হুর আছে, যাদেরকে উদীয়মান সূর্য দেখলেও ভয় পায়। ( ফ্ল্যাপ থেকে)
"শেষের অশ্রু" হলো বাগদাদের তাগড়া যুবক ইয়াসারের কাহিনী। শয়তান কাছে নারী নামক দরজা দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করছে। কিন্তু ইয়াসারকে নিয়ে কথিত আছে যে সে এমন যুবক যার দেহ বাস করে এ দুনিয়ায় কিন্তু তার অন্তর থাকে আখিরাতে। এমন যুবককেও কি শয়তান নারীর মাধ্যমে ফিতনায় জড়াতে পারবে? নাকি সব মোহ ত্যাগ করে স্রষ্টার প্রেমে অটল থাকতে পারবে ইয়াসার? জানতে হলে পড়ুন "শেষের অশ্রু"।
"শেষের অশ্রু" তওবা বিষয়ক দারুণ একটি বই। যুবক বয়সে নারীর ফিতনা থেকে বাঁচার জন্য প্রত্যেক ভাইয়েরই বইটি পড়া উচিৎ। বানান ভুল একেবারেই চোখে পড়েনি। তবে অনুবাদগত একটা ত্রুটি চোখে পড়েছে। ৪৫ পৃষ্ঠায় একটা লাইন আছে "চতুর্থ দিন বিকেলে ইয়াসার এশার সালাতের পর কাজি শাইখ মুহাম্মাদ সালেহের বাড়িতে গেল।" আমার ধারণা অনুযায়ী এখানে বিকেলের বদলে সম্ভবত সন্ধ্যায় বা রাতে হওয়ার কথা ছিল। আশা করি নির্দিষ্ট কতৃপক্ষ বিষয়টি যাচাই করবেন। বইটি উপহার স্বরূপ দিয়েছেন শ্রদ্ধেয় কমল ভাই। আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিক, আমিন।
মহানবী (সা.) বলেন," পুরুষের উপরে মেয়েলোকের অপেক্ষা অন্য কোন বড় ফিতনা আমি রেখে গেলাম না" ( সহীহ বুখারী, হাদিস নং- ৫০৯৬)
🖊️🖊️🖊️ এই দুনিয়াই কেউই ফিতনার ঊর্ধ্বে না। যত ঈমানদ্বার মানুষই হয় না কেন। আর বর্তমান যুগ তো ফিতনার যুগ। যে কেউ যেকোনো সময় যেকোনো কারনে অকারনে ভুল পথে ধাবিত হতে পারে। আর বই টি এই বিষয়ের উপর লেখা। একজন ঈমানদ্বার ও তাকওয়াবান ব্যাক্তিকে নিয়ে লেখা। কীভাবে তার পদস্থলন ঘটে। বইয়ের লেখকের দাবি এটি সত্য ঘটনা। তিনি লোকমুখে যতটুকু শুনেছেন তার উপর ভিত্তি সংক্ষেপে পুরো ঘটনাটি তুলে ধরেছেন।
সমগ্র গল্প একজন মুমিন ব্যাক্তি ইয়াসার ও একজ পারসি মেয়ে সারশীর কে নিয়ে। কীভাবে মেয়েটি ইয়াসারকে ভুল পথে দাবিত করে বা ইয়াসার কীভাবে মেয়েটির পাদে পা দেয়। শুরুটা হয় একটি চিঠি দিয়ে। সেই চিঠির জবাব দিতে গিয়ে ধীরে ধীরে ইয়াসারের অধঃপতন হওয়া শুরু হয়। আমার এই গল্পের শেষ দুটি পার্ট “নব আগন্তক” ও “শাইখের উপদেশ” খুবই ভালো লেগেছে। বিশেষ করে শেষের পার্টে শাাইখের দেওয়া চিরকুটের লেখা গুলো। বিশেষ করে একটি লাইন :
🖊️🖊️🖊️ ”নিজেকে মনে করিয়ে দাও, এই সুন্দরী মেয়ের চেহারা কিছুদিন পর একটা মূতদেহে পরিণত হবে; যে দেহ কীটপতঙ্গ খেয়ে ফেলবে।”
ছোট একটি গল্প শিক্ষার অনেক কিছু আছে। বইয়ের অনুবাদ ভালো হয়েছে তবে কিছু জায়গা রেয়েছে যেখানের অনুবাদ তেমন ভালো লাগেনি। তবে পড়ার মত।
“শেষের অশ্রু” পড়তে গিয়ে আমি শুধু একটি বই নয়, বরং হৃদয়ের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত এক অনন্য আত্মচেতনার যাত্রা অনুভব করেছি। এর প্রতিটি পৃষ্ঠা পাঠককে ভেতর থেকে নাড়া দেয়, চিন্তা করতে শেখায় এবং দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী সৌন্দর্যের ওপরে আখিরাতের শাশ্বত বাস্তবতাকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
এক জায়গায় লেখক বলেন— “নিজেকে মনে করিয়ে দাও, এই সুন্দরী মেয়ের চেহারা কিছুদিন পর একটা মৃতদেহে পরিণত হবে...”—পড়ার সময় মনে হয়েছে এ যেন চোখ খুলে দেওয়া এক বাস্তবতা, যা আমাদেরকে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী মোহ থেকে সরিয়ে আখিরাতের দিকে মনোনিবেশ করায়।
তবু বইটি শুধু কঠোর বাস্তব নয়, এতে আবেগও আছে। যেমন— “একজন পুরুষ দুনিয়ার সব নারী থেকে বেঁচে থাকতে পারে। কিন্তু একজন নারী থাকে, যে তার অন্তরের মাঝে অতি গোপনে জায়গা করে নিতে পারে।” এই লাইন মানবমনের সূক্ষ্ম অনুভূতিগুলোকে স্পর্শ করে।
সব মিলিয়ে “শেষের অশ্রু” এমন এক গ্রন্থ, যা পাঠকের অন্তরে আত্মশুদ্ধির বীজ বপন করে, ভালোবাসা ও আবেগকে সঠিক দিকের দিকে পরিচালিত করে। যারা হৃদয়ের গভীর স্পর্শ ও সত্যিকারের জাগরণ খুঁজছেন, তাদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে পড়ার মতো একটি বই।
এ আমাদের নিত্যদিনের ঘটনা, এ আমাদের দ্বীনি যুবকদের দৈনন্দিন করে চলা সংগ্রামের আখ্যান হোক তা ছোট করে। তারপরও বহুকিছু
একটা নজর ও যে একজন মানুষ কে তার দ্বীনের পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারে, সরিয়ে দিতে পারে অন্ধকার-আলোর খেলায়! তার উপর ভিত্তি করে লেখা এই বই।
একজন দ্বীনদার যুবকের কাহিনি মুলত। যে নিজের ইমান আমল নিয়ে সচেতন। অতঃপর একদিন তার নজর পরে যায় এক বেগানা নারীর উপর। শুরু হয় শয়তানের ওয়াসওয়াসা। যুবক সে নারীতে আসক্তি এড়িয়ে কিভাবে আসে আবার দ্বীনের পথে? কি তাকে সাহায্য করে? এসবের উত্তর মিলে পৃষ্ঠা এগোতে থাকলে!
তরুণ হোক বা তরুণী, যারা তাদের ধর্ম নিয়ে সচেতন ও মানেন, তাদের অবশ্য পাঠ্য বই বলা যায়। একবসায় শেষ করা যেতো, ভাষাগত কিছু কারণে কেন যেন শেষ করে উঠতে পারিনি।
যাই হোক, তারপরও ভালো অনুবাদ। কাহিনি অন্তর ছুঁয়ে গেছে। কাহিনি না বলে বাস্তব বলাই ভালো।
‘‘আমি তোমাকে মনে করিয়ে দিচ্ছি : শয়তান তোমার কাছে বিভিন্ন দরজা দিয়ে ঢুকবে। তবে প্রধানত নারীর মাধ্যমে ঢুকবে। তুমি তার থেকে দায়েমি যিকর--- দৃষ্টি সংযত করা ও কুরআান তিলাওয়াত করার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও। নিজেকে মনে করিয়ে দাও, এই সুন্দরী মেয়ের চেহারা কিছুদিন পর একটা মৃতদেহ পরিনত হবে;যে দেহ কীট পতঙ্গ খেয়ে ফেলবে। আর জান্নাতে এমন হূর আছে, যাদেরকে উদীয়মান সূর্য দেখলেও লজ্জা পায়।’’
এই বইটি সত্য ঘটনার আলোকে রচিত হয়েছে। বইটি পড়ার পর নিজের মধ্যে অনেক কিছুই ধারন করতে পেরেছি। এই বইটি প্রতিটি যুবকের পড়া উচিত!
এই বইটি শুধু বাগদাদের ইয়াসারের গল্প নয়। বরং সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অসংখ্য হোঁচট খাওয়া যুবকের গল্প! আর গল্পগুলো আমাদের-ই।
"সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অসংখ্য হোঁচট খাওয়া যুবকের গল্প। গল্পগুলো তো আমাদেরই!"
"শেষের অশ্রু" বইটা এমন এক যুবকের গল্প। যার দেহ থাকত দুনিয়ায় আর আত্মা থাকত আখিরাতে! একজন নারীর আগমনে কীভাবে পরিবর্তন হয় যুবকের মন। জানতে পড়ুন। (বিস্তারিত রিভিউ আসছে ইনশাআল্লাহ)
সূরা ইউসুফে আল্লাহ 'আযযা ওয়া জাললা সমস্ত যুবকের জন্য দিয়ে রেখেছেন গাইডলাইন! এ থেকে সকলের শিক্ষা নিতে হবে।
"শেষের অশ্রু" বইটা আপনাকে পড়তেই হবে। যদি পড়তে দেরি করেন তাহলে আমার মতো আপনাকেও আফসোস করতে হবে!
ফিতনার যুগে আমরা কেউ-ই ফিতনা থেকে মুক্ত নই। ঈমানদার একজন ব্যক্তিও ফিতনার আশংকা থেকে মুক্ত নয়। পুরুষের জন্য সবচেয়ে বড় ফিতনা হল নারী। এই নারী ফিতনা-ই যথেষ্ট একজন ধর্মভীরু পুরুষের আমল নষ্ট করার জন্য। বইটিতে সেটারই একটি উদাহরণ দেখা গেছে ইয়াসারের জীবনে। তবে এর পরিসমাপ্তিটুকু সুন্দর। আমাদের শেষের অশ্রুটুকু যেন অনুশোচনার হয়, আমিন।
ইয়াসারের তখন মনে পড়ল। আবূ আনাস আজকে আসরের পর বড় বাজারে তার সাথে দেখা করে শাইখের পক্ষ থেকে একটা চিরকুট দিয়েছিল। ডান হাত থেকে বাম হাতে গ্লাসটা নিয়ে নিল ইয়াসার। তারপর সেটা দস্তরখানায় রেখে দিলো। হাত বাড়িয়ে পকেটে চিরকুটটা খুঁজতে লাগল। অবশেষে খুঁজেও পেল। সেটা খুলে পড়তে লাগল :
"আমি তোমাকে মনে করিয়ে দিচ্ছি। শয়তান তোমার কাছে বিভিন্ন দরজা দিয়ে ঢুকবে। তবে প্রধানত নারীর মাধ্যমে ঢুকবে। তুমি তার থেকে দায়েমি যিকর, দৃষ্টি সংযত করা ও কুরআন তিলাওয়াত করার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও।
নিজেকে মনে করিয়ে দাও, এই সুন্দরী মেয়ের চেহারা কিছুদিন পর একটা মৃতদেহে পরিণত হবে; যে দেহ কীটপতঙ্গ খেয়ে ফেলবে। আর জান্নাতে এমন হূরেঈন আছে যাদেরকে উদীয়মান সূর্য দেখলেও লজ্জা পায়।”
পুরো গল্পের মধ্যে এই কথাগুলো সবচেয়ে বেশি হৃদয়ে আঘাত করেছে ।আল্লাহ আমাদের পবিত্র রাখুন আমিন