Mihir Sengupta is an Indian writer of Bengali origin, best known for his 2005 autobiography Bishaad Brikkho (Tree of Sorrow). It describes the 1947 partition as seen by the author, who was uprooted from his native Barisal in present-day Bangladesh and ended up in Calcutta as a refugee. Bishaad Brikkho is regarded as an important literary document of the 1947 partition and won the Ananda Puroshkar literary prize. His current residence is in the West Bengal state of India.
বহু সময়ে বহু মানুষকে ছাড়তে হয়েছে নিজের ঘর, নিজের দেশ। আর দেশভাগ বললেই প্রথমে মনে আসে আমাদের এই বাংলার এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে চলে যাওয়া মানুষের কথা। ধর্মের নামে এক ভাষার কতগুলো মানুষকে চলে যেতে হলো অন্য একটা ভূখণ্ডে। টেবিলে বসে আলাপ করে রেখা কেটে দিয়ে ভাগ হয়ে গেলো একটা ভাষাভাষী মানুষ। শুধু ভাগ না, রীতিমত বাস্তু ট্যাগ করতে হলো।
এমনই এক বাস্তুত্যাগী ‘বাঙাল’ মিহির সেনগুপ্ত। জন্ম তার দেশভাগের সময়, বর্তমান বাংলাদেশের বরিশালে। সেখানেই একটা বয়স পর্যন্ত বেড়ে ওঠা। তারপর কিশোরবেলায় নিজের বাপের ভিটা ছেড়ে পাড়ি দিলেন ভারতে।
কিন্তু কেমন ছিল সেই দেশত্যাগ? দেশ ত্যাগের আগে বাস্তু সংলগ্ন মানুষ আর তাদের সঙ্গে সম্পর্কের কথা লিখেছেন মিহির সেনগুপ্ত, তার এই বইয়ে। বলেছেন কতোটা আর্থিক অসঙ্গতির মাঝে শুরু হয়েছিল তার সে যাত্রা। আমরা মিহির বাবুর সঙ্গে ঘুরতে বেরিয়ে দেখি, দেশভাগের অনেক দিন পরেও সীমান্ত পাড় হয়ে যাওয়া ছিল এক রকম বোঝাপড়া, সেখানে ভিসা পাসপোর্টের কোন বালাই ছিল না।
মিহির সেনগুপ্ত অনেকদিন পর স্মৃতির ডানায় ভর করে ফিরে দেখেছেন বহু আকাঙ্ক্ষা নিয়ে নতুন ভূমিতে যাওয়ার পরবর্তী সময়টা। যখন শরণার্থীদের নিয়ে তৈরি হওয়া কলোনিতে তারা বসবাস করতেন। একদিকে নতুন ভূমিতে বেঁচে থাকতে মাটি কামড়ে থাকা, অন্যদিকে অন্য দেশে পিতামাতার অবস্থান; সে এক টানাপড়েনের গল্প।
কিন্তু মিহির সেনগুপ্তের এ বই কেবল স্মৃতিচারণের নয়। সেই সঙ্গে আছে কখনও কখনও অবস্থার পর্যবেক্ষণ, পর্যালোচনা। আপন কৈশোর যৌবনকালের অনেক ঘটনা, অনেক মনস্তত্ত্বের বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে আছে তার গ্রামের ঘটে যাওয়া অনেক ঘটনার বয়ান, অনেক মানুষের কথা। এগুলো আমাদের পরিচয় করিয়ে দেয় তৎকালীন গ্রাম সমাজের মানুষ এবং তাদের সংস্কৃতির সঙ্গে।
সেই সঙ্গে আছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কথা। মিহির সেনগুপ্ত ভারতে গিয়ে বাংলাদেশকে ভুলে যাননি। এবং তার ‘অন্তহীন ফিরে দেখা’য় আমরা জানতে পারি তার স্ত্রী একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। কেবল তা-ই নয় তিনি অসম সাহসিনীও বটে। এহেন মিহির বাবুর মনে বাংলা এবং বাঙালীর জন্য রয়েছে ক্ষোভ, অহংকার যুগপৎ। সে সকলই তিনি বলেছেন তার এই বইয়ে।
মূলত আত্ম-স্মৃতিচারণ মূলক এ বইয়ে লেখকের নিজের জীবনের ঘটনার সাথে উঠে এসেছে একটা সময়ের কথা। সেই সময়ের বদলে যাওয়ার কথা এবং সময়ের সাথে বদলে যাওয়া মানুষ এবং সমাজের কথা। স্বাদু গদ্যে লেখা এই বইটি সুখপাঠ্য, তবে সময় নিয়ে একটু একটু করে পড়াই উত্তম।
' বিষাদবৃক্ষ ' যেখানে শেষ হয়েছিল, সেখানেই শুরু 'অন্তহীন ফিরে দেখা'র। ১৯৬৩ সালে দেশ ছাড়লেন মিহির সেনগুপ্ত। পাড়ি জমালেন পশ্চিমবঙ্গে। আজীবনকার মতো।
পশ্চিমবঙ্গে রিফিউজি হিসেবে প্রবেশ করলেন। মাথা গোঁজার ঠাঁই জুটলো এক রিফিউজি ক্যাম্পে। শুরু হলো এক অন্যধারার জীবনকে যাপন করবার চেষ্টা। শরণার্থী ক্যাম্পের স্মৃতি, পূর্ববঙ্গে দেখেছিলাম হিন্দুবিরোধী মনোভাব। 'ধর্মনিরপেক্ষ' দেশে চাক্ষুষ করলেন দাঙ্গায় মুসলমান নিধনের ঘটনা। দেখলেন তারই প্রতিবেশী ভদ্রলোকেরা কীভাবে সোল্লাসে মুসলমানের ঘর থেকে মালামাল লুট করে আনছে। স্মৃতিতে ধারণ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের স্বনামধন্য পত্রিকাগুলোর পূর্ববঙ্গ নিয়ে ব্যাপক মিথ্যাচারের মাধ্যমাধ্যমে জনমত উসকে দেওয়ার ঘটনা। মোহভঙ্গ ঘটলো অনেকটাই। বড় ভাইদের সাথে দ্রুত ত্যাগ করলেন শরণার্থী শিবির।
একটা ভাড়া বাড়িতে আস্তানা গাড়লেন। বাবা-মা, ভাই-বোন পূর্ববঙ্গ থেকে পাকাপাকি চলে এল। দারিদ্রতা ঘুচলো না। বরং বাড়লো। নিজেও জড়িয়ে পড়লেন বামপন্থী রাজনীতিতে। ইন্দিরা গান্ধির ইমারজেন্সির সময় বিরোধী মতবাদের হওয়ায় পুলিশি নির্যাতন থেকে মাফ পাননি।
বামপন্থী রাজনীতিকে কাছ থেকে দেখেছেন। নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে লিখেছেন, কীভাবে সমাজতান্ত্রিক আদর্শের অবমাননা দলের নিবেদিত কর্মীরাই করে।
শুধু পশ্চিমবঙ্গের স্মৃতিই নয়। ফেলে যাওয়া জন্মভূমিকে রোমন্থন করতে ভোলেন নি মিহিরবাবু৷ তবে পিছরার খাল তীরবর্তী জনপদের সবদিককে স্পর্শ করেন নি এবার। যৌনতার সাথে নিজের পরিচয়, তৎকালীন প্রেক্ষাপটে তার বসবাস করা সমাজের মধ্যকার অবাধ যৌনতা সংশ্লিষ্ট কিছু ঘটনা উল্লেখ করেছেন।
'বিষাদবৃক্ষ' বইতে বাক্যের, শব্দবন্ধের যে শান-শওকত ছিল তা এই বইতে অনেকটাই ম্রিয়মাণ। লেখকও যেন লেখার সুর, তাল, লয় এসব মাঝেমধ্যে হারিয়ে ফেলছিলেন। ট্র্যাকে ফিরবার আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও 'বিষাদবৃক্ষ' সমতুল্য মাধুর্যময় গদ্যশক্তির পরিচয় দিতে পারেন নি।
যৌনতা নিয়ে তার অভিজ্ঞতা, স্মৃতি কিংবা শোনা ঘটনার কোনোটাই অবিচ্ছেদ্য অংশ হতে পারে না বইটির। এ অংশটুকু বাদ দিলে কিংবা তিনি না লিখলে বইটির ক্ষতিবৃদ্ধি বিশেষ কিছু হতো না। বরং যৌনতাকে বেশি খেলো করে উপস্থাপন ভালো লাগে নি। পাঠক হিসেবে প্রশ্নবিদ্ধ মনে হয়েছে এই অদরকারি বর্ণনাকে।
'বিষাদবৃক্ষ' না পড়লে এই বইটি পড়তাম না। প্রত্যাশা জন্ম দিয়েছিল বইটি। কিন্তু 'অন্তহীন ফিরে দেখা ' আমাকে হতাশ করেছে।