আমরা এখন আর বাঁচার জন্য খাইনা, খাওয়ার জন্য বাঁচি। বিশাল সব ভুঁড়ি নিয়ে আমরা ঘুরে বেড়াই, এটা আমাদের কাছে এখন আর লজ্জার না, যেন খুব মজার ব্যাপার। সালাফরা কিছু খেতে ইচ্ছে হলেই খাওয়াটাকে অপচয় মনে করতেন, একজন মুমিন বান্দা ভুঁড়ি নিয়ে ঘুরবে, এটাকে আযাব হিসেবে দেখা হতো, মুটিয়ে যাওয়া ব্যক্তিকে তাঁরা সেভাবে দেখতেন, যেভাবে আমরা আজ কোনো রোগীকে দেখি। তাঁদের আত্মশুদ্ধি, কোমল হৃদয় আর আল্লাহমুখী জীবনের পেছনে অন্যতম কারণ ছিল তাঁদের পরিমিত খ্যাদ্যাভ্যাস। "সালাফদের ক্ষুধা" আমাদের সেই সালাফদের খাওয়া দাওয়ার যুহদের বর্ণনা। আমাদের এই বস্তুবাদ আর ভোগবাদের জীবন থেকে উত্তরণের প্রেসক্রিপশন।
আমাদের পূর্বসূরিরা যে জিনিসটা নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিদ'আতের আশঙ্কা করতেন তা হল উদরপূর্তি! যেটা আমাদের মাঝে এখন একদম নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার। বইটিতে লেখক সালাফদের খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন। দেখিয়েছেন কিভাবে তারা দিনের পর দিন ক্ষুধার্ত অবস্থায় কাটিয়েছে, ক্ষুধার্ত অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও তাদের ইবাদাতের উপর থেকে মন ও মনন সরে যায় নি বরং আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। পেটুক লোকদের হিসাবের কঠিনতা সম্পর্কেও আলোচনা করা হয়েছে।
বইটিতে মূলত সালাফদের খাদ্যাভ্যাসের উপর সংক্রান্ত হাদিস এবং তাবেয়ী-তাবেয়ীনদের উক্তি স্থান পেয়েছে। মৌলিক কথাবার্তা নেই। পর্যাপ্ত টিকা রয়েছে৷ যা দ্বারা হাদিস এবং উক্তিগুলোর সঠিক রেফারেন্স পাওয়া যায়। আল্লাহ আমাদের উপর রহম করুন। অধিক খাদ্যাভ্যাস পরিহার করার তাওফিক দিন আমিন।
অন্যান্য প্রাণীদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো তারা খাওয়ার জন্যই বাঁচে। দিনের শুরুতে বের হয়ে শেষভাগে উদরপূর্তি করে ফিরে আপন আপন নিবাসে। তাদের দিনগুলো শুধু খাবারকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। মানুষ হিসেবে আমাদের বৈশিষ্ট্য কি হওয়া উচিত? বিশেষত মুসলিম হিসেবে আমাদের উচিত “খাওয়ার জন্য বাঁচি না, বাঁচার জন্য খাই” নীতিকে মেনে চলা। উম্মাহর শ্রেষ্ঠ তিন-চার প্রজন্মের মানুষগুলো কি খেতেন, খাওয়া সম্পর্কে তাদের কি মানসিকতা আর নবিজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামই বা কি খেতেন তা এই বইয়ে কিছুটা হলেও জানা যায়। বইটির লেখক ২৮১ হিজরিতে মারা যান। মানে বইটির বয়স এক সহস্রেরও বেশি।