এই বইটার ঐতিহাসিক মূল্য অত্যন্ত কম। বারবার বিরক্ত হচ্ছিলাম প্রচন্ড একপাক্ষিক কথাবার্তার জন্য। আমিত্বে ভরপুর একটি বই। বইটা বোধ করি নিয়াজী লিখেছেন নিজেকে গ্লোরিফাই করার জন্য।
আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজী পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সবচেয়ে বেশি পদকপ্রাপ্ত সেনানায়ক। একজন বৃটিশ সেনাকর্মকর্তা তাকে উপাধি দিয়েছিলেন টাইগার নিয়াজী। এই গর্বের সোদনে নিয়াজী একটা গুমার্কা বই প্রসব করেছেন।
অত্যন্ত কাঁচা হাতের লেখা। নিয়াজী নিজেই লিখেছেন কি না জানি না, বা যিনি লিখেছেন বা সম্পাদনা করেছেন; সকলেই অত্যন্ত অদক্ষ প্রমাণ করেছেন নিজেদেরকে। সাহাদত সাহেবের অনুবাদ অবশ্য খারাপ ছিল না।
বইটার বিষয়বস্তু যদি বলি, নিয়াজীর জীবনী সংক্ষেপে লেখা হয়েছে। বাকি পুরো বই জুড়েই পাকিস্তানের শাসক এবং সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রকদেরকে ধুয়ে দেয়া হয়েছে৷ মুক্তিযুদ্ধের সময়কালের ঘটনাপ্রবাহের বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে।
এই বইটার একটা মাত্র ভালো দিক আছে, তা হলো পাকিস্তান সেনাবাহিনী মুক্তিযুদ্ধে কীরকম নাকানিচুবানি খেয়েছে সেটার খুব ভালো বর্ণনা দিয়েছেন নিয়াজী🤣 এইটুকুই। তা বাদে বইটার ঐতিহাসিক কোনো মূল্য নেই। পুরো বইয়ে নিয়াজী নিজেকে ফিল্ড মার্শাল রোমেলের কাতারে নিয়ে গেছেন, যিনি কি না যথাযথ রসদ পেলে একাত্তর সালের যুদ্ধে জিততে পারতেন!!
"১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আত্নসমর্পণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। আমি কম্পিত হাতে আত্নসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করি। তখন আমার অন্তরে উত্থিত ঢেউ দু'চোখ বেয়ে অশ্রু হয়ে গড়িয়ে পড়ে। অনুষ্ঠানের একটু আগে একজন ফরাসি সাংবাদিক এগিয়ে এসে আমাকে জিজ্ঞেস করেন, "এখন আপনার অনুভূতি কী, টাইগার " জবাবে আমি বললাম, " আমি অবসন্ন"।
.
রোমান সম্রাটরা যেভাবে মল্ল যোদ্ধাদের লড়াই দেখতেন, আমাদের নেতারা ঠিক সেভাবে যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে দাঁড়িয়ে এ রক্তপাত দেখে তৃপ্ত হয়েছেন। লড়াইয়ের ফলাফল যাই হোক, বিজয়ী হবেন তারাই। আমি বাঙালিদের সফলতা কামনা করি এবং আশা প্রকাশ করি, আমাদের জীবদ্দশায় না হলেও আমাদের নাতি-পুতিদের কালে এ ক্ষত নিরাময় হবে এবং বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বের ভিত্তিতে দু'টি দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে উঠবে।"