ভূতের গল্প তো অনেক পড়েছেন, কিন্তু গল্পের ভূতেদের কথা পড়েছেন কি? হ্যাঁ ঠিক ধরেছেন এখানেই এই বইটা আর পাঁচটা ভূতের গল্পের বইয়ের থেকে একদম আলাদা। প্রচ্ছদ দেখেই আশা করি আন্দাজ করতে পেরেছেন যে এই গল্পের ভূতগুলির স্রষ্টা কে। এই বইটিতে মূলত সত্যজিৎ রায় সৃষ্ট গল্পের অতিপ্রাকৃত বা অলৌকিক বিষয়, ভূতেদের প্রকৃতি, তাদের পিছনে লুকিয়ে থাকা মনস্তত্ব, বিজ্ঞান ও আরো অন্যান্য বিষয় নিয়ে লেখক গবেষণামূলক আলোচনা করেছেন। যেমন ধরুন তারিণীখুড়ো বলেছিলেন, "আমি হাঁচি টিকটিকি ভুত-প্রেত দত্যি-দানা বেদ-বেদান্ত আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি"। ফেলুদা বলেছিল, ".....বহু জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তি বলে গেছেন, সেক্ষেত্রে প্ল্যানচেট সম্বন্ধে অবজ্ঞা প্রকাশ করার কোনও মানে হয় না। তবে যেমন সব কিছুর মধ্যেও থাকে তেমনই এর মধ্যেও ধাপ্পাবাজি চলে।" আবার প্রফেসর শঙ্কু মনে করতেন এইসব ভুত প্রেত, অলৌকিক সব কিছুরই একটা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে।
সত্যজিৎ রায় কোন ভূত কে তার গল্পে কিভাবে ভেবেছিলেন, কেনো ভেবেছিলেন এবং অন্যরকম ভাবে ভাবতে পারতেন কিন্তু কেনো ভাবেননি, সেই সমস্ত দিকগুলো লেখক খুব সুষ্ঠু ভাবে এই বইয়ে তুলে ধরেছেন। এছাড়াও তাঁর গল্পের ভূতেদের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি আরো অন্যান্য লেখকদের সৃষ্ট ভুতেদের নিয়েও বেশ কিছু আলোচনা করেছেন। যেমন ধরুন, বিমল করের লেখা "সত্যি ভুতের গল্প" তে সারদাচরণ বক্সী গা ছমছমে ভূতের গল্প লিখতেন, কিন্তু হঠাৎই একদিন তিনি ভূতের গল্প লেখা থামিয়ে গোয়েন্দা কাহিনী লিখতে শুরু করলেন। অনেকদিন পরে জানা যায়, সারদাচরণ বাবুর ভূতের গল্পে ভূতকে দিয়ে শীতের রাতে দু মাইল রিক্সা টানানো, ওয়েটিং রুমের গোসলখানায় ভূতকে দাঁড় করিয়ে রাখা, রাস্তায় বুড়ো ভূতকে তেলেভাজা খেতে দিয়ে নিজেরা অমলেট সাঁটানো, এসব ভূতেরা মোটেও পছন্দ করেনি। তাই তারা একটি ভূতকে পাঠায় সারদাচরণকে একটু কড়কে দিয়ে আসার জন্য। আর সেই কারণেই সারদাচরণ ভূতের গল্প লেখা বন্ধ করে দেন।
এরকমই বিভিন্ন ভূতদের প্রকৃতি, নানান মজার ঘটনা, ভূত বিশেষজ্ঞ, হানাবাড়ি,প্ল্যানচেট, অপমৃত্যু ইত্যাদি বিষয় নিয়ে লেখক এই বইটিকে এক অন্যরকম ভালোলাগার জায়গায় নিয়ে গেছেন। যারা সব রকম ভূতের গল্প ভালোবাসেন (বিশেষ করে সত্যজিৎ রায়ের ভূতের গল্প) তাদের সংগ্রহে রাখার মতো একটি বই।
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী সাহিত্যিকদের মধ্যে সত্যজিৎ রায় অন্যতম। কিন্তু তাঁর চলচ্চিত্রগুলো রসিক, সমালোচক এবং তাত্ত্বিকদের আলোচনার বিষয় হলেও তাঁর সাহিত্য নিয়ে সেইভাবে চর্চা হয় না। হলেও, কিছু ব্যতিক্রম বাদ দিলে প্রায় সব লেখাই গঙ্গাজলে গঙ্গাপূজার মতো করে সত্যজিতের বিভিন্ন লেখার সারসংক্ষেপ তুলে ধরায় সীমাবদ্ধ থাকে। সৌভাগ্যক্রমে, সম্প্রতি বেশ কয়েকজন জবরদস্ত নন-ফিকশন লিখিয়ে সত্যজিতের সাহিত্য ও তাঁর অবিস্মরণীয় চরিত্রদের নিয়ে আলোচনা করা শুরু করেছেন। সুধী পাঠকেরা মনে করতে পারবেন, সন্দেশ-এর সেই ঐতিহাসিক 'ফেলুদা ৩০' সংখ্যার বেশ কিছু লেখা এবং শ্রী ক্ষেত্র গুপ্ত'র লেখা 'সত্যজিতের সাহিত্য' এই কাজটির সূত্রপাত করেছিল। সেই ধারাতেই গবেষক প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত এবার পেশ করেছেন সত্যজিতের লেখায় ও চলচ্চিত্রে ভূত তথা অলৌকিকের উপস্থিতি ও ভূমিকা নিয়ে একটি পর্যালোচনা। এই ক্ষুদ্রকায় সুমদ্রিত হার্ডকভারে নিম্নলিখিত অধ্যায়গুলো আছে~ ১. ভূত কয় প্রকার; ২. অনাথবাবুর অপমৃত্যু; ৩. যাঁরা ভূত বিশেষজ্ঞ; ৪. আরও হাজার ভূত; ৫. হানাবাড়ি; ৬. এবং লোডশেডিং; ৭. প্ল্যানচেট; ৮. ভূত ও বিজ্ঞান; ৯. ভূতের খেলা; ১০. মানিকজোড়; ১১. ভৌতিক পুনরাভিনয়; ১২. দু-একটা ভ্যামপায়ার; ১৩. বিদেহী; ১৪. জাগতিক অনুভূতি; ১৫. জোম্বি ও ভুডু; ১৬. রাম নাম; ১৭. বোকা ভূত; ১৮. কঙ্কাল; ১৯. ওটা যক্ষ; ২০. ভূত বাদ দিয়ে ভূতের গল্প; ২১. অবচেতন; ২২. অপরাধবোধের ভূত; ২৩. স্বপ্ন যখন ভুতুড়ে; ২৪. সাধু মাহাত্ম্য; ২৫. অলৌকিক; ২৬. ভূতের ছায়াছবি; ২৭. 'মৌক্তিকং ন গজে গজে'; ২৮. ভূতের সঙ্গে ঠাট্টা নয়; ২৯. প্রাপ্তবয়স্ক উপাদান; ৩০. ভূতের পক্ষে বা বিপক্ষে এই বইয়ের সবচেয়ে ভালো দিক, এতে ভূত তথা অলৌকিক নিয়ে সত্যজিতের ভাবনাকে যথাসাধ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। কিন্তু বেশ কিছু কারণে বইটা পড়ে অপ্রাপ্তিও রয়ে গেল। সেগুলো হল~ ১) প্রাসঙ্গিকতার খাতিরে বেশ কিছু গল্প বা তার অংশবিশেষ নিয়ে কথার পুনরাবৃত্তি হয়েছে। কিন্তু ভূত তথা অলৌকিক গল্পগুলোর প্রথম প্রকাশ (কবে ও কোথায়)-সংক্রান্ত তথ্য দেওয়া থাকলে ডকুমেন্টেশন সম্পূর্ণ হত। ২) Doppelganger নিয়ে বিশ্বসাহিত্যে যত লেখালেখি হয়েছে, তাদের মধ্যে 'রতনবাবু ও সেই লোকটা' অনন্য। অ্যালবার্তো ম্যাংগুয়েল যে এই গল্পটিকে তাঁর কিংবদন্তিসম সংকলন 'ব্ল্যাক ওয়াটার'-এর দ্বিতীয় খণ্ডে স্থান দিয়েছিলেন, তা বলা হলে ভালো লাগত। একইভাবে গল্পটির একটু মনোবৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ প্রত্যাশিত ছিল। ৩) সত্যজিতের সবচেয়ে বিখ্যাত গল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম হল 'খগম'। গল্পটিতে ভয়ের আবহ নির্মাণ থেকে শুরু করে এক অবিশ্বাসীর ক্রমরূপান্তরের বিবরণ - এগুলো এই বইয়ে নিপুণভাবে আলোচিত হয়েছে। কিন্তু গল্পটি লাভক্র্যাফটের অবিস্মরণীয় আখ্যান 'দ্য কার্স অফ য়িগ'-এর আত্তীকরণ কি না, সেই নিয়ে কিছুটা হলেও আলোচনা প্রত্যাশিত ছিল। সত্যজিতের লেখা নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে এই বইটি নিঃসন্দেহে মূল্যবান। তবে এই পথে এগিয়ে আরও অনেক কিছু করার সুযোগ এখনও রইল। ইতিমধ্যে, সুযোগ পেলে বইটি অবশ্যই সংগ্রহ করুন ও পড়ে ফেলুন।
এই বইটা 'ফেলুদা আর সত্যজিৎ'-এর মতো অত ভালো লাগলো না।
ভালাও না লাগার মূল কারণ পুনরাবৃত্তি, একই গল্প, কথা, বারবার নানান অধ্যায়ে ঘুরিয়ে টেনে আনা। এর চেয়ে একেকটা গল্প ধরে বিশ্লেষণ করলে বেশি উপভোগ্য হতো মনে হয়।
আগ্রহজনক ছিলো 'অবচেতন' আর 'অপরাধবোধের ভূত' আলোচনা দু'টি।
শুধু সত্যজিতের লেখায় না, বরং বাংলা আর বিদেশি সাহিত্যে ভূত বা অতিপ্রাকৃত বিষয় আসার টুকরো তথ্যগুলো ভালো ছিলো।
পরিশেষে অন্য বইটার মতোই বলা উচিত, যারা সত্যজিৎ রায়ের সবকিছুই পড়েছেন, আর বিশেষ ভক্ত, তাদের জন্যেই সম্ভবত এই বইগুলো বেশি উপভোগ্য। না পড়া গল্প থাকলে লেখাগুলো স্পয়লার দিয়ে ফেলবে, আর লেখক যে দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা করছেন, নিজেও একজন সত্যজিৎ অনুরাগী হিসেবে, তা ঠিকমতো রস আস্বাদন হবে না মনে হয়েছে৷
#পাঠ_প্রতিক্রিয়া বইয়ের নাম: ফেলুদা আর সত্যজিৎ লেখক: প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত প্রকাশক: পত্রলেখা মূল্য: ১৫০₹
যখন আমরা কেউ কিছু সৃষ্টি করি, তার অনেক উপাদান নিই আমাদের ব্যক্তিগত জীবন থেকে। ফেলুদার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সত্যজিৎ রায় তাঁর ব্যক্তিগত জীবনকে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ফেলেছিলেন ফেলুদার সঙ্গে। কিভাবে জড়িয়ে গেছিলেন তিনি ও তাঁর চারপাশ? সেই নিয়ে লেখক সযত্নে আলোচনা করেছেন এই বইয়ে। তার মানে এই না যে ফেলুর বাঁ হাতের কড়ে আঙুলের নখ বা উচ্চতা নিয়েই শুধু লেখক আলোচনা করে গেছেন। অধ্যায় ধরে বিশ্লেষণ করলে বোঝাতে সুবিধে হবে: ১. পুরীর পথে ঝড়বাদল: যে কোনো ফেলুদা ভক্তকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয় 'পুরী বলতে আপনার কী মনে আসে?' উত্তর আসবে: 'হত্যাপুরী, হারিয়ে যাওয়া পুঁথি।' কিন্তু উপন্যাসের একটা সামান্য ডিটেলিং কিভাবে জড়িয়েছিল স্রষ্টার জীবনের সাথে, সেটা নিয়ে আলোচনা করেছেন লেখক। মনে পড়ে হরিপদবাবু এসে বলেছিলেন বালেশ্বরে ঝড় নেমেছিল? সেই ঘটনা মানিকনাথের অভিজ্ঞতার সঙ্গে জড়িত। কিভাবে, তা বলা আছে এই শুরুর অধ্যায়ে। ২. কড়ে আঙুলের নখ: এই অধ্যায় নিয়ে বর্ণনায় যাবনা। the heading tells everything. ৩. ও রসে বঞ্চিত: ফেলু শুধু শিশুদের গোয়েন্দা বলে যে মদ্যপান করে না, তা নয়। স্রষ্টাও সে রসে বঞ্চিত। সেই নিয়ে নানা মজার ঘটনা বলা আছে এখানে। ৪. দাবা তাস স্ক্র্যাবল: ফেলু যে ১০০ রকম ইন্ডোর গেম জানত, তা তার স্রষ্টার অবদান। তার সেই জ্ঞান ঘুরে ফিরে এসেছে নানা কাহিনীতে। সেসব নিয়েই এই অধ্যায়। ৫. জাদুবিদ্যা: ম্যাজিক শুধু ফেলুর প্যাশন না, সত্যজিতেরও। সেই জন্যই বারবার করে ফিরে এসেছে জাদুবিদ্যা ফেলুর নানা অভিযানে। ৬. টার্জন দি এপ ম্যান: সত্যজিতের দেখা প্রথম সবাক ছবি(সূত্র: যখন ছোট ছিলাম)। সেই ছবিই একটা বিশাল ভূমিকা পালন করে ফেলুর বেনারস অভিযানে মগনলালের মত দুঁদে প্রতিপক্ষকে কাত করতে। সেই সঙ্গে এখানে সত্যজিৎ ও ফেলুর সঙ্গে সার্কাসের সম্পর্কের অবতারণাও করে রেখেছেন লেখক। ৭. ডাকটিকিট: এই শখটা সরাসরি লেখকের ছিল না। কিন্তু লেখক সেই শখটা তোপসে আর ফেলু দুজনকেই দিয়েছিলেন। সেসব নিয়েই আলোচনা হয়েছে এই অধ্যায়ে। ৮. যখন ছোট ছিলেন: ছেলেবেলায় দেখা পুরোনো কলকাতার আকর্ষণ তীব্রভাবে প্রকট হয়েছে ফেলুর মধ্যে। এমনকি ছেলেবেলার কিছু অভিজ্ঞতা, কিছু পরিচিত মানুষ বেমালুম ঢুকে পড়েছে ফেলুর নানা অভিযানে। সব নিয়েই আলোচনা আছে এই অধ্যায়ে। ৯. স্বপ্ন: সত্যজিতের সঙ্গে সরাসরি স্বপ্নের যোগাযোগ না থাকলেও তাঁর কাকার ছিল। ঠিক একইভাবে জটায়ুর সঙ্গে স্বপ্নের যোগাযোগ ঘোর। মনে পড়ে 'রেনেসাঁস কা সুবাসিত বান্দর?' আবার তোপসের সমাদ্দারের চাবির মামলায় স্বপ্ন দেখে পাঠককে ঘেঁটে দিয়েছিল। সেই প্রসঙ্গও আছে এই অধ্যায়ে। ১০. মোটর গাড়ির শব্দ: ফেলু কিন্তু মোটরের ব্যাপারে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল। যেমন সে জটায়ুকে বলে 'হর্ন না বদলালে রজনী সেন রোডে ও গাড়ির প্রবেশ নিষেধ', তেমনই সে শুধু হর্ন শু���ে ধরে ফেলে হিসপানোসুইজা। এই গুণ সে পেয়েছে স্রষ্টার থেকে। কেন পাবেনা? স্বয়ং স্রষ্টা যে ছেলেবেলায় দুপুর কাটাতেন গাড়ি দেখে। সেসব নিয়েই আলোচনা রয়েছে এই অধ্যায়ে। ১১. অনেক ব্যাপারে ইন্টারেস্টেড: গ্যাংটকে গন্ডগোলের মামলায় ফেলু বলেছিল: 'একজন গোয়েন্দার পক্ষে জেনারেল নলেজ জিনিসটা ভীষণ দরকারি; কখন যে কোন জ্ঞানটা কাজে লেগে যায়, তা বলা যায় না।' এই জ্ঞানপিপাসাও তার স্রষ্টার অবদান। সেসব জ্ঞানের পরিধি নিয়েই আলোচনা রয়েছে এই অধ্যায়ে। ১২. মনের জানলা: এবার আসি সিধুজ্যাঠার কথায়। কে তিনি? কেনই বা তাঁর অবতারণা? সত্যজিতের সঙ্গে তার সম্পর্কই বা কী? সেসব এই অধ্যায়ে আলোচ্য। ১৩. ফেলু চরিত্রের এক্সটেনশন: কেন তপেশ? কেন এক বাচ্চা সহকারী? তোপসের মধ্যেও কিভাবে মানিকনাথ বিরাজমান? সেসব নিয়েই আলোচনা আছে এই অধ্যায়ে। ১৪. দক্ষ এক বিদূষক: জটায়ুর প্রসঙ্গ না থাকলে ফেলু সংক্রান্ত সমস্ত আলোচনা বৃথা। এই অধ্যায়ে জটায়ু আর জটায়ুর প্রখর রুদ্রকে মানিকবাবুর জীবনের সঙ্গে বেঁধেছেন লেখক শ্রীদাশগুপ্ত। ১৫. লোকেশন থেকে পটভূমি: ফেলুর কাহিনীর ঘটনাস্থল নির্বাচনের পেছনে হাত ছিল চলচ্চিত্রকার সত্যজিতের। পটভূমি বর্ণনায় তোপসের কলমের পেছনে এক খুঁতখুঁতে পরিচালকের ছায়া পাওয়া যায়। সেই সংক্রান্ত আলোচনাই রয়েছে এই অধ্যায়ে। ১৬. লোডশেডিং: এখন কারেন্ট যায়না। কিন্তু একসময় লোডশেডিংয়ের দৌরাত্ম্য ছিল প্রবল। মানিকবাবু ও ফেলু, দুজনের জীবনেই লোডশেডিংয়ের প্রভাব অনেকটাই। তা নিয়ে শ্রীদাশগুপ্ত এই অধ্যায়ে আলোচনা করেছেন। ১৭. মকাইবাড়ি বা ম্যাককাচন: সত্যজিতের নিজের পছন্দ ছিল মকাইবাড়ির চা। তাই নিজের প্রতিভূ ফেলুকেও তিনি এই খুঁতখুঁতুনিটা দিয়েছিলেন। ডেভিড ম্যাককাচনকে ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন মানিকবাবু। তাই তাঁর প্রসঙ্গ এসে পড়ে ফেলুর শেষ 'অভিযান'-এর পটভূমিকায় অভিযানে, অর্থাৎ রবার্টসনের রুবিতে। সেসব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে এই অধ্যায়ে। ১৮. টিনটিন ইত্যাদি: টিনটিন ও অন্যান্য সূক্ষ্ম ডিটেলিং কিভাবে সত্যজিতের জীবন থেকে সরাসরি ফেলুর গল্পে চলে এসেছিল, সেসব নিয়েই আলোচনা করেছেন এখানে শ্রীদাশগুপ্ত। ১৯. পভার্টি ইজ মোর ফটোজেনিক: বক্তব্যটা আসলে রোনাল্ড জফের। সেই প্রসঙ্গটা সত্যজিৎ সুচারুভাবে ব্যবহার করেছেন ফেলুদার কাহিনীতে। সেই নিয়েই আলোচনা হয়েছে এই অধ্যায়ে। ২০. এবং অপূর্ব: এছাড়া সত্যজিতের ব্যক্তিগত জীবন, কথার টানও প্রভাব ফেলেছে ফেলুর জীবনে। সেই নিয়ে একটা খুদে আলোচনা শেষে লেখক ইতি টেনেছেন বইয়ে। সমস্ত আলোচনার সময় নিজের বক্তব্যকে জোরদার করতে লেখক নানা বইয়ের রেফারেন্স উল্লেখ করেছেন: সত্যজিৎ রায়ের 'যখন ছোট ছিলাম', সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের 'মানিকদার সঙ্গে', শঙ্করলাল ভট্টাচার্য্যের 'সত্যজিৎকে নিয়ে', বিজয়া রায়ের 'আমাদের কথা' ও ফেলুদার নানা কাহিনীর অংশ। সত্যজিৎ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ভক্তরা হয়ত নতুন কিছু পাবেন না এই বইতে, তবে যাঁরা ফেলুকে দিয়ে সত্যজিৎকে চেনার প্রথম ধাপটা পেরোতে চান, তাঁদের জন্য এ বই খনিস্বরূপ।