What do you think?
Rate this book


465 pages, Hardcover
First published February 1, 2019
“ ঝুম বৃষ্টিবাদলার রাত, ঘরের সব বাতি নিভিয়ে বা যেহেতু ঝড় হচ্ছে বাইরে ইলেকট্রিসিটি না থাকাটাই স্বাভাবিক, তো এই অন্ধকারে বসে, মোমবাতি জ্বালিয়ে, সম্পূর্ণ রুমে একলা বসে পড়তে হবে। তবেই কিনা এই বই পড়ে প্রকৃত ভয়টাকে অনুভব করা যাবে।
... কাছেই একটা গলির মধ্যে একতলা বাড়ির গায়ে টিনের সাইনবোর্ডে লেখা আছে—
“তারানাথ জ্যোতির্বিনোদ—
এই স্থানে হাত দেখা ও কোষ্ঠীবিচার করা হয়।
গ্রহশান্তির কবচ তন্ত্রোক্ত মতে প্রস্তুত করি।
আসুন ও দেখিয়া বিচার করুন।
বড় বড় রাজা-মহারাজার প্রশংসাপত্র আছে।
দর্শনী নামমাত্র।”
আমি জীবনের গল্প বলি, জীবন যেমন বিচিত্র উপলব্ধির মালা দিয়ে গাঁথা, আমার গল্পও তাই। কখনও মেঘ, কখনও রোদ্দুর।
কেবল মনে হয় কখন সন্ধ্যা নামবে বরাকর নদীর শালবনে, কখন দেবী মধুসুন্দরী নায়িকার বেশে আসবেন! সারারাত্রি কোথা দিয়ে কেটে যাবে স্বপ্নের মতো, নেশার ঘোরের মতো। আকাশ, নক্ষত্র, দিক্বিদিকের জ্ঞান লুপ্ত হয়ে যাবে কয়েক প্রহরের জন্যে—কয়েক প্রহরের জন্যে সময় স্থির হয়ে নিশ্চল হয়ে স্থাণুর মতো অচল হয়ে থেমে থাকবে বরাকর নদীতীরের বনপ্রাঙ্গণে।
বাংলার বাতাসে বৈরাগ্য আছে, বুঝলে? কিছুক্ষণ চুপ করে খোলা হাওয়ায় বসে থাকলে মনে হতে শুরু করে-কে কার? কি হবে অনর্থক উন্নতির চেষ্টা করে?