একটা দেশকে গড়ে তুলতে হলে যেমন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ম্যানেজার দরকার ঠিক সেরকম বিজ্ঞানীও দরকার। আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন স্বপ্ন দেখতাম বড় হয়ে বিজ্ঞানী হব। বড় হয়ে যখন বিজ্ঞান নিয়ে একটুআধটু কাজ করতে পেরেছি তখন মনে হয়েছে এর চাইতে মজা আর কী হতে পারে? পৃথিবীতে যতরকম আনন্দ আছে তার মাঝে সবচেয়ে বেশি আনন্দ হতে গবেষণাতে। যারা সেটা করেছে তারা সেটা জানে। আমার খুব মায়া হয় যখন দেখি আজকালকার ছেলেমেয়েরা আর বিজ্ঞানী হতে চায় না। তারা শুধু ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার আর ম্যানেজার হতে চায়। মাঝে মাঝে দুই-একজন যখন বিজ্ঞানী হতে চায়, তাদের বাবা-মায়েরা তখন জোর করে তাদের ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার আর ম্যানেজার তৈরি করে ফেলেন। তাই আমাদের দেশে এখন চমৎকার ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার আর ম্যানেজার আছে, কিন্তু বিজ্ঞানীর খুব অভাব! এই বইটা তাই লেখা হয়েছে বিজ্ঞানের জন্য একটু আগ্রহ তৈরি করার উদ্দেশ্যে। পৃথিবীর ইতিহাসে বিজ্ঞানের যত আবিষ্কার হয়েছে তার মাঝে অন্যতম হচ্ছে থিওরি অফ রিলেটিভিটি এবং সবচেয়ে চমকপ্রদ ব্যাপার হচ্ছে স্কুলের গণিত জানলেই এই থিওরিটি বোঝা সম্ভব। কাজেই তেরো-চৌদ্দ বছরের ছেলেমেয়েদের লক্ষ করে আমি এই বইটি লিখেছি। কেউ যেন মনে না করে খুব কঠিন একটা জিনিস একটু ছেলেমানুষি করে এখানে বলা হয়েছে। এখানে একেবারে সত্যিকারের থিওরি অফ রিলেটিভিটির কথা বলা হয়েছে, কেউ যদি এটা পড়ে তার সবকিছু বোঝে, সে বুকে থাবা দিয়ে বলতে পারবে, “আমি থিওরি অফ রিলেটিভিটি জানি!” কেউ যদি থিওরি অফ রিলেটিভিটি জানে শুধুমাত্র তা হলেই সে প্রথমবার অনুভব করতে পারবে আমাদের চারপাশেল জগৎ কত রহস্যময়। তার চাইতে বড় কথা, সে বুঝবে এই রহস্যের একটি পৃষ্ঠা তার জন্যে উন্মোচিত হয়েছে-সামনে আরো না জানি আরো কত পৃষ্ঠা উন্মোচিত হবার জন্য অপেক্ষা করছে। এই বইটা পড়ে একটা ছেলে বা মেয়েও যদি ঠিক করে “আমি বড় হয়ে বিজ্ঞানী হব”, আমি তা হলে মনে করব আমার পরিশ্রমটা সার্থক হয়েছে!
Muhammed Zafar Iqbal (Bengali: মুহম্মদ জাফর ইকবাল) is one of the most famous Bangladeshi author of Science-Fiction and Children's Literature ever to grace the Bengali literary community since the country's independence in 1971. He is a professor of Computer Science & Engineering at Shahjalal University of Science and Technology (SUST). Before that, Iqbal worked as a research scientist in Bell Communication Research for six years until 1994.
Birth and Family Background: Iqbal was born on 23 December 1952 in Sylhet. His father, Foyzur Rahman Ahmed, was a police officer. In his childhood, he traveled various part of Bangladesh, because of his father's transferring job. Zafar Iqbal was encouraged by his father for writing at an early life. He wrote his first science fiction work at the age of seven. On 5 May 1971, during the liberation war of Bangladesh, the Pakistan's invading army captured his father and killed him brutally in the bank of a river.
Education: Iqbal passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1968 and HSC exam from Dhaka College in 1970. He earned his BSc in Physics from Dhaka University in 1976. In the same year Iqbal went to University of Washington to obtain his PhD and earned the degree in 1982.
Personal Life: Iqbal married Dr. Yasmeen Haque in 1978. Yasmeen is the Dean of the Life Science Department, Head of the Physics Department, Provost of the Shohid Janoni Jahanara Imam Hall and a researcher at SUST. They have two children - son Nabil and daughter Yeshim. Yeshim translated the book Amar Bondhu Rashed (Rashed, My Friend) written by her father. Iqbal's elder brother, Humayun Ahmed, was the most popular author and film-maker of Bangladesh since its independence. Humayun died after a nine-month struggle against colorectal cancer on the 19 July 2012. His younger brother, Ahsan Habib, is the editor of the satirical magazine, Unmad and one of the most reknowned cartoonist of Bangladesh.
Academic Career: After obtaining PhD degree, Iqbal worked as a post-doctoral researcher at California Institute of Technology (CalTech) from 1983 to 1988. He then joined Bell Communications Research (Bellcore), a separate corporation from the Bell Labs (now Telcordia Technologies), as a Research Scientist. He left the institute in 1994 and joined the faculty of the Department of CSE of SUST.
Literary career: Iqbal started writing stories from a very early age. Iqbal wrote his first short story at the age of seven. While studying in the Dhaka University Iqbal's story Copotronic Bhalobasa was published in a local magazine. But, a number of readers at that time felt that the story was based on a foreign story. To answer this allegation, he later rewrote the story and published the story in collection of stories named Copotronic Sukh Dukkho. Since then he is the most popular writer both in Bengali Science-Fiction and in Juvenile Leterature of the country.
Other Activities and Awards: Zafar Iqbal won the Bangla Academy Award, the highest award in literature in Bangladesh, in 2004. Iqbal also played a leading role in founding Bangladesh Mathematical Olympiad. In 2011 he won Rotary SEED Award for his contribution in field of education.
বইটি মূলত ১৩ ১৪ বছরের উত্সাহীদের জন্য লিখা। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই উপকারী। আর এ বয়স মাথায় রেখেই এখানে "তুমি" সম্বোধন করছি। তুমি কি মাধ্যমিক বা তার নিচের স্তরে পড়ছ? চিন্তা করতে কেমন লাগে তোমার? আমাদের দেশে প্রথম প্রশ্নের উত্তরে হ্যা বলবে এক বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থী। কিন্তু দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তরে অনেকে হবে দ্বিধান্বিত। অনেকে মুচকি হাসবে; লোকটার মাথায় সমস্যা আছে মনে হয়। খুব কম সংখ্যকই বলবে যে তার চিন্তা করতে ভাল লাগে।
বিজ্ঞান,বিশেষ করে পদার্থ বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে চিন্তা করার আনন্দ পাওয়াটা খুবই জরুরী। আর জাফর স্যারের ভাষায়,একটা জাতির উন্নতির জন্য যেমন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ম্যানেজার দরকার তেমনি দরকার বিজ্ঞানী। আর বিজ্ঞানের প্রতি ভালবাসা,বিজ্ঞান চিন্তায় আনন্দ সৃষ্টির ক্ষেত্রে আমাদের পাঠ্যবইগুলো খুব একটা ভাল ভূমিকা রাখতে পারছে না। আধুনিক পদার্থ বিজ্ঞানের একটি স্তম্ভ হচ্ছে আপেক্ষিকতা। আমরা এ জগতকে যেভাবে বিবেচনা করতাম,এ জগতকে নিয়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি একেবারে পাল্টে দিয়েছে এই তত্ত্ব। সময়,ভর,দৈর্ঘ্য কোনটিই পরম নয়।আর এর ফলে বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড সম্পর্কে আমাদের চিন্তাধারায় এসেছে আমূল পরিবর্তন।
এই অসাধারণ বিষয়টি আমাদের মস্তিষ্কে একটি শুভ ঝড়ের সৃষ্টি করতে পারত। কিন্তু আমাদের পাঠ্য বইয়ের কারণে তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হয় না। এই বইতে জাফল স্যার তার স্বভাবসুলভ প্রাঞ্জল আর আনন্দদায়ক ভঙ্গিকে এই অসাধারণ বিষয়টিই তুলে ধরেছেন।
আচ্ছা Interstellar মুভিটার কথা মনে আছে? যেখানে এক বাবা তার শৈশবে থাকা মেয়েকে ফেলে রেখে একটা আউটার স্পেস অভিযানে পাড়ি জমান। কিন্তু ঐ অভিযানে থাকাকালীন সময়ে বাবার বয়েস এক দু বছর বাড়লেও মেয়েটা বয়সের দিক থেকে বাবাকেও পাড়ি দিয়ে যায়।
হুম, এইরকম তো কত দেখেছেন মুভি-সিনেমায়। এই জিনিসটাকে কি বলে সেটাও তো জানেন। সময় প্রক্ষেপণ-সংকোচন। আচ্ছা এখন যদি আপনাকে জিজ্ঞেস করা হয়, সময়ের এই সংকোচন-প্রসারণটা কেন হয়? হ্যা হ্যা, একটু জ্ঞানী পাঠকেরা তো এটাও জানেন–"এটা তো খুব সহজ!কোন বস্তু আলোর গতির খুব কাছাকাছি গতিতে গেলেই তা হয়(তাই বলে কেউ আলোর গতির সমান গতিতে ছুটতে পারবেন না কিন্তু)।" আপনি অনেক জানেন বুঝলাম।কিন্তু এই প্রায় আলোর গতির কাছাকাছি গতিতে চললে সময়ের এই সংকোচন-প্রসারণ কেনো হয় তা কি বলতে পারবেন। আমার মতো আনাড়ি হলে এইখানে এসেই আপনার আটকে যাওয়ার কথা।
এখন যাতে আর আটকান না, সেই জন্যই বইটা পড়া দরকার। শেষের প্রশ্নটার উত্তর আর লিখে বুঝানো সম্ভব নয়।এর জন্য দরকার গণিত(এইখানে এসে কি বেরসিকের মতোই একটা কথা বলে ফেললাম! যেখানে লোকজন কফি চা খেতে খেতে গল্প-উপন্যাস পড়বে…..সেখানে কি না আমি গণিত নিয়ে এসেছি। তাও আবার আইনস্টাইনের এক বিরাট থিওরির গণিত)।
ভয় পাবেন না। পুরো বই জুড়েই গণিত রয়েছে এটা ঠিক, তবে সেসব গণিত ক্লাস এইটের এলজেব্রা ছাড়া আর কিছুই নয়। এমনকি নাইন-টেনের গতির সাধারণ সমীকরণগুলোও জানার দরকার নেই। শুধুমাত্র বেসিক বীজগণিত জানলেই হলো।
এই বই পনেরো থেকে পঁচাশি সবার জন্য। আপনার টাইম ট্রাভেল নিয়ে আগ্রহ থাকলে বইটা পড়তে পারেন। আর চৌদ্দ পনেরো বছর বয়সী কোনো ভাই-বোন বা পরিচিত জন থাকলে বইটা কিনে দিতে পারেন। কীভাবে অত্যন্ত সাধারণ গণিতের জ্ঞান নিয়েও মডার্ন ফিজিক্সের একটা বিরাট থিওরি একজন বুঝে ফেলতে পারে, তা অবশ্যই তাদেরকে মুগ্ধ করবে। বইটা পড়ার একটাই শর্ত– বিছানায় হেলান দিয়ে বসে পড়া যাবে না,হাতে কাগজ কলম নিয়ে বসতে হবে।
জাফর ইকাবাল স্যার বলেছেন বইটা শেষ করার পর একজন বুকে থাবা মেরে বলতে পারে,“আমি রিলেটিভিটি থিওরি বুঝে ফেলেছি।” আমিও বলছি, আমি কল্পবিজ্ঞানের অন্যতম ভিত্তিটাকে নিয়ে অনেক কনফিউশনই দূর করে ফেলেছি।
সবাইকেই স্পেশাল থিওরি অভ রিলেটিভিটিতে ডুব দেওয়ার জন্য আমন্ত্রন রইল।
বাজারে ছোটদের জন্য বিজ্ঞান প্রজেক্ট বিজ্ঞান এক্সপেরিমেন্টের অনেক বই’ই আছে- কিন্তু বিজ্ঞানের সিরিয়াস বিষয়ের উপর ছোটদের উপযোগী বই তেমন একটা পাওয়া যায় না। তার উপর যদি বিষয়টা হয় আইনস্টাইনের রিলেটিভিটি তাহলে তো কোনো কথাই নেই! রিলেটিভিটি থিওরির মত এমন একটা বিষয়কেও যে ছোটছোট ছেলেমেয়েদের উপযোগী করে উপস্থাপন করা যায় সেটা আমাদের দেখিয়েছেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল। তার লেখা এই বইটি স্বাদু ও সুখপাঠ্য। অনেকটা সহজ ভাষায় উচ্চতর বিজ্ঞানের টার্মগুলো তুলে এনেছেন। বিজ্ঞানের সবচে রহস্যময় জিনিসগুলোর মাঝে রিলেটিভিটি একটি- আর জাফর ইকবাল যেন সবসময়ই এই জিনিসকে ভালবাসেন খুব। সেজন্যই হয়তোবা এই বইটি তার ফসল হিসেবে দেখতে পাচ্ছি।
মোট আটটি অধ্যায়ে বিভক্ত এই বইটিতে স্পেশাল থিওরি অফ রিলেটিভিটির খুটিনাটি অনেক কিছুই আলোচনা করা হয়েছে। গোড়া থেকে শুরু করে একটু একটু করে এগিয়েছেন তিনি। বইটিতে আলোকপাত করা হয়েছে রেফারেন্স ফ্রেম, গতি, সময়ের সম্প্রসারণ, দৈর্ঘ্য সংকোচন, গ্যালিলিয়ান রুপান্তর, লরেঞ্জ রুপান্তর, স্পেস-টাইম, ভর, E=mc2, নিত্যতা সূত্র, কো-অর্ডিনেট, চতুর্মাত্রিক জগত, চেরেনকভ রেডিয়েশন, ওয়ার্ল্ড লাইন, টুইন প্যারাডক্স, কৃষক ও খুটি সমস্যা এবং সবশেষে কিছু প্রশ্নোত্তর।
এই বইটার মাঝেই কোথাও আলোচনা করে বলা হয়েছে ইলেক্ট্রনের বেগ আলোর বেগের চেয়ে বেশি হওয়া সম্ভব- আর সেটা অহরহ হচ্ছেও। আর তাতে পদার্থবিজ্ঞানের কোনো সূত্রের কোনো প্রকার লঙ্ঘন হয় না। সেটা কিভাবে সম্ভব তা জানতে নাহয় বইটা পড়ে দেখুন! আমার কাছে সবচে বেশি মনে ধরেছে চতুর্মাত্রিক জগতের সমীকরণটা। অবাক লাগে আস্ত একটা মহাবিশ্ব কিনা কোনো কোনো জায়গায় শুন্য হয়ে যেতে পারে। যদি কোনো চতুর্মাত্রিক প্রাণী থেকে থাকে তবে তাদের কাছে আমরা না জানি কত হেলাফেলার জিনিস। তাদের কাছে হয়তো আমাদের কোনো অস্তিত্বই নেই। আমরা সকলে আমাদের সীমাহীন এত্তবড় মহাবিশ্ব সব মিলিয়ে জিরো!
বইটার কোথাও কোথাও গাণিতিক টার্মগুলো একদম সাদামাটা করে ফেলা হয়েছে, কখনো কখনো অসম্পূর্ণ ভাবে করা হয়েছে। অবশ্য তাতে কিছু করার নেই। বইটা লেখাই হয়েছে ছোটদের উদ্দ্যেশ্য করে। আশা করি ছোটবড় সকলের জন্য বইটা সুখপাঠ্য হবে।
রেটিং দেওয়ার মত বই আসলে এটা না। গল্পের বইএর মত গড়্গড় করে পড়ে ফেলার মতোও না। তবে আমাদের জেনারেশনকে বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তুলতে এই লেখক চেষ্টার কোন ত্রুটি রাখেন নি। এই বইটা সেই চেষ্টার একটা উদাহরণ। তিনি মনে করেছেন যে স্কুলে যতটুক গণিত শিখানো হয় তাই দিয়েই আইনস্টাইনের স্পেশাল থিয়োরি অফ রিলেটিভিটি বোঝা সম্ভব। সঙ্গে সঙ্গে কাগজ কলম নিয়ে বোঝানো শুরু করে দিয়েছেন। যখন পড়েছিলাম তখন যে খুব বুঝতে পেরেছিলাম এমনটা দাবি করব না, তবে লেখক যতটুকুই লিখেছেন, বেশ সহজ ভাষায় লিখেছেন। সব না হলেও, অনেক ধারণা অবশ্যই পাওয়ার কথা।
অংক আর পদার্থবিদ্যা যে জায়গাটায় পৌঁছে একাকার হয়ে যায়, সেই জায়গাটা নিয়ে সহজ ভাষায় কিছু লেখা বড়োই কঠিন কাজ, কারণ এই দুটি বিষয়ের কোনটিকেই ‘সহজ’ বলা চলে না। মুহম্মদ জাফর ইকবাল একটি জাদু কলমের অধিকারী বটে, কিন্তু আলোচ্য বইয়ে তিনি এমন একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন, যা নিয়ে কিছু লিখতে গেলে হয় দিস্তা-দিস্তা অংক কষতে হয়, নইলে ‘হাতে রইল পেন্সিল’ গোছের ভাবনায় মনকে দার্শনিক হওয়ার পথে ঠেলে দিতে হয় এই আশায় যে রূপক আর উপমা দিয়েই যদি অন্ধের হস্তীদর্শন হয়! এই বইটিতে তিনি প্রথম পদ্ধতিটি বেছেছেন, অর্থাৎ প্রচুর অংক কষেছেন এবং বইয়ের শেষে আমাদের জন্যে দস্তুরমতো অনুশীলনী-ও দিয়েছেন! কিন্তু এই সব করে কাজের কাজ, মানে আমাদের নিরেট মাথায় “থিওরি অফ রিলেটিভিটি” বা আপেক্ষিকতাবাদ কি ঢোকানো গেছে?
বাকিদের কী প্রতিক্রিয়া জানিনা, তবে আমার অন্তত পাতার-পর-পাতা জুড়ে বীজগণিত আর ত্রিকোণমিতি দেখে প্রথমে হাই উঠেছে, পরে মাথা ধরেছে, এবং শেষে এটাই মনে হয়েছে যে বইটার নাম হওয়া উচিত ছিলঃ 1/√(1 – v2/c2) কেন আমার এবম্বিধ ভাবনা? জানতে চাইলে বইটা পড়তে হবে। তবে আমার এটাই মনে হল যে, এই বিষয়টি নিয়ে যারা পড়াশোনা করেন, তাঁদের কাছে ক্যালকুলাস একটি পরিচিত বিষয়। সেক্ষেত্রে সচেতনভাবে ক্যালকুলাস বাদ দিয়ে এত কথা কেন লেখক বলতে গেলেন? আর যদি ওনার উদ্দেশ্য হয়ে থাকে স্পেশ্যাল থিওরি অফ রিলেটিভিটির মূল কথাগুলো আমাদের কাছে স্পষ্ট করা, তাহলে কল্পবিজ্ঞান থেকে শুরু করে ধর্মগ্রন্থ, সবেতেই মজুত সময় ও স্থানের সংকোচন-প্রসারণের ভূরি-ভূরি কাহিনির মধ্যে কিছু তুলে দিলেই আমাদের মতো গোলা লোকও ব্যাপারটা বুঝে ফেলত।
বইটি প্রথম হাতে পেয়েছিলাম ক্লাস টেনে থাকতে। ক্যালকুলেশনগুলো অনেক জটিল মনে হয়েছিল। সায়েন্সের বই- আগ্রহ ছিল- পড়ে ফেলতেই হবে; তাই তখন গল্পের বইয়ের মতো কিছুটা বুঝে কিছুটা না বুঝে পড়ে ফেলেছিলাম। অনেক দিন পর বইটা আবার হাতে ফেলাম, কাকতালীয়ভাবে বইয়ের লেখাগুলোগুলো ভার্সিটির সেকেন্ড টার্মের সিলেবাস। এবারও গল্পের বইয়ের মতো পড়ে ফেললাম, অনেক সহজবোধ্য, মজায় মজায় রুপান্তরগুলো নতুন করে জানার চেষ্টা!
প্রথমত রিলেটিভিটি আমার খুব পছন্দের। আমি বিজ্ঞান সম্পর্কে জানতে এবং বুজতে খুব পছন্দ করি। আর সত্যি বলতে ভালোবাসি বিজ্ঞান কে। আর এই মহাবিশ্ব সৃষ্টির রহস্য, বা মহাকাশ ভ্রমণ এসব নিয়ে চিন্তা করতে ভালো লাগে। চিন্তা করার জন্য রিলেটিভিটি অনেক দারুণ বিষয়। আমি সেকেন্ড ইয়ার এ রিলেটিভিটি এর চ্যাপ্টার পড়তে গিয়েই এর সাথে ভালো ভাবে পরিচিত হই। তার আগে সায়েন্স ফিকশন বা বিজ্ঞান এর বিভিন্ন বই এ এটা সম্পর্কে টুকটাক জানলেও সেটা ছিল ভাসা ভাসা। ইন্টারে আলহামদুলিল্লাহ আমাদের ফিজিক্স টিচার এত সুন্দর করে রিলেটিভিটি বুজিয়েছিলেন যে এর প্রতি ভালোবাসা অনেক বেড়ে যায়। এরপর বিজ্ঞান চিন্তা এর ২ টা সংখ্যায় ই রিলেটিভিটি নিয়ে অনেক আলোচনা করা হয়। যেটা আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। কিন্তু যখন বই এর দোকানে জাফর ইকবাল এর এই বইটা চোখে পরে তখন আর না কিনে পারিনি। এই বইটায় খুব সুন্দর করে তিনি থিওরি অব রিলেটিভিটি পুরোটা বুঝাতে চেয়েছেন। গতানুগতিক নিয়ম ফেলে নিজের মতো করে সুন্দর করে বিষয়টা আলোচনা করেছেন। তবে প্রতি পৃষ্ঠায় চিন্তা করতে হবে অনেক বুঝতে হলে। আর সত্যি বলতে শুধু পাঠ্য এর জন্য কেউ এত বই পড়ে না৷ পুরো জিনিসটা আমার এত পছন্দের যে আমি উপন্যাসের মতো ম্যাগাজিন এর পাতা বা এই বইয়ের পাতা উল্টেপাল্টে পড়েছিলাম। 🍁
চলছে ফিকশন ব্লক। বাংলা সহজবোধ্য ননফিকশনের অভাবের কথা আর কি বলবো। বিজ্ঞান নিয়ে বইয়ের তো আরো অভাব। সময় নিয়ে বরাবরই উৎসাহী। সময়ের উপর ভালো কোন সহজ বই খুজছিলাম। আমি আবার পদার্থবিজ্ঞানে কাচা কিনা। এই বইটার কথা জানতে পারলাম। ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে পড়তে শুরু করেছিলাম। অনেকটাই আশাহত। কারণ পদার্থবিজ্ঞানের সূত্র পাঠের বিন্দুৃমাত্র আগ্রহ আমার এখন নেই। আর থিওরি অফ রিলেটিভিটি অনেকটাই গাণিতিক বিষয়। বইটাতে সূত্রের বাইরে লেখাও বেশি নেই। যারা পদার্থবিজ্ঞানে অতি আগ্রহী তাদের ভালো লাগার কথা। বিশেষ করে উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের।
This book is absolutely good for understanding basic calculations of 'Special Theory of Relativity'.Theory of Relativity is one of the most interesting topics in Physics yet it is not presented in an attractive way in most of the books. Zafar Iqbal have explained it with some thought experiments and simple calculations. Before entering the vast and mysterious world of relativity , one can read this book as a primer.
থিওরী অফ রিলেটিভিটি নিয়ে নেটে কয়েকটা আর্টিক্যাল পড়ার পর কেমন জানি বিজ্ঞানী হবো হবো টাইপ ভাব চলে আসছিল নিজের মধ্যে। তারই ধারাবাহিক কান্ড- মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষের বন্ধে এই বই নিয়ে বসা যাওয়া। আমার এখনো মনে পড়ে, এক্সাম চললে যেরকম রুটিন মেপে মনোযোগ দিয়ে পড়তাম অনেকটা ওরকম এফোর্ড দিয়ে বইটা পড়েছিলাম, কারণ বইয়ের সবকিছু এক চান্সে বুঝিনি। যেকোন রেফারেন্সে ফ্রেমের সাপেক্ষে আলোর বেগ ধ্রুব - এটা মেনে নিতেই অনেক বেগ পেতে হয়েছিল। পরবর্তীতে আবার ইন্টারমেডিয়েটে এসে জিনিসগুলো যদিও আবার পড়া হয়েছিল কিন্তু প্রথমবার এই বই থেকে জিনিগুলো পড়ার আনন্দটা ভিন্ন ছিল।
"Theory of Relativity". A 7-10 standard student think about Einstein and "E=mc²" after hearing this name. A 11-13 standard student visualize the space, time, Maths of rockets etc hearing this name. But Muhammad Zafar Iqbal sir have made it easy to understand and visualize even for a 5 standard student. Good book.
উচ্চমাধ্যমিকের পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্রের রিলেটিভিটির "কাল দীর্ঘায়ন", " সময় সংকোচন", এইসব টপিক বুঝতে কোন অসুবিধা হলে খাতা কলম নিয়ে এই বই পড়তে বসে গেলে বই পড়া শেষে আশা করি আর সমস্যা থাকবে না। গানিতিক উদাহরণ, সমীকরন গুলো এতো সহজ করে ব্যাখ্যা করা আছে যে, সাইন্স ব্যাকগ্রাউন্ড না থাকলেও ��ুঝতে খুব বেশি অসুবিধা হওয়ার কথা না কারো।
মো. জাফর ইকবাল এর থিওরি অব রিলেটিভিটি নিয়ে রচিত বই। গত একমাস ধরে অল্প অল্প করে পড়ি বইটি। এর আগি আপেক্ষিকতা নিয়ে আমার তেমন কেনো ধারনা ছিল না। লটি পড়ার পর মোটামুটিবুঝতে পারি। কিছ কিছু টপিকস পড়তে মজাও লেগেছে। এর আগে এত মনোযোগ দিয়ে আর তেমন কোনো নন-একাডেমিক বই ও পড়ি নি। অনেক উদাহরন, চিত্র আর গানিতিক ব্যাখ্যা দিয়ে পূর্ণ বইটি। শেষের দিকে কিছু গানিতিক সমাধানব করে দেওয়া হয়েছে।