ভাদুড়ি মশাই নিরুদ্দেশ। সকালবেলায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে বালিগঞ্জ লেকে জগিং করতে গিয়ে তিনি আর ফেরেননি। কোনও খোঁজও তাঁর পাওয়া যাচ্ছেনা। ব্যাপারটা নিয়ে সবাই যখন বিভ্রান্ত, ঠিক সেইসময়েই এল রহস্যময় ফোন। সাংবাদিক কিরণ চাটুজ্যেকে আগরতলায় যেতে হবে। এবং অবিলম্বে। রহস্যের গিট কিন্তু ত্রিপুরাতেও খুলছে না। আগরতলা থেকে সিপাহিজলা; সিপাহিজলা থেকে সাগরমহল; সাগরমহল থেকে উদয়পুর। প্রতিটি জায়গায় যেসব কাণ্ড ঘটতে থাকে, রহস্যের গিঁট যেন তাতে আরও শক্ত হয়ে এঁটে যায়।ফলে, কাহিনী রপটভূমিও ত্রিপুরা থেকে সরে আসে ওড়িশার রাজধানী ভুবনেশ্বরে। সেখানে, ভাদুড়িমশাইয়ের বাল্যবন্ধু কোটিপতি ব্যবসায়ী বঙ্কু ঘোষের বাড়ির উপরে, রহস্যের আলো এসে কেন্দ্রীভূত হয়। নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী একালের অগ্রণী কবিদের অন্যতম। অথচ, রহস্য কাহিনী রচনাতেও তিনি যে সমান সিদ্ধহস্ত, তা আর এখনকার ও অজানা নয়। তাঁর সৃষ্ট শখের গোয়েন্দা ভাদুড়িম শাইয়ের কীর্তিকাহিনীর কথাও ইতিমধ্যে বাঙালি পাঠকদের জানা হয়ে গেছে। সেই অদ্ভূতকর্মা ভাদুড়িমশাইয়ের নূতন কীর্তি নিয়ে রচিত হয়েছে এই জমাট রহস্য-উপন্যাস ‘চশমার আড়ালে’।
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর জন্ম ফরিদপুর জেলার চান্দ্রা গ্রামে, ১৯ অক্টোবর ১৯২৪।পিতা জিতেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী ছিলেন ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের বিখ্যাত অধ্যাপক।শিক্ষা: বঙ্গবাসী ও মিত্র স্কুল; বঙ্গবাসী ও সেন্ট পল’স কলেজ।সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি দৈনিক ‘প্রত্যহ’ পত্রিকায়। ১৯৫১ সালে আনন্দবাজার প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন। একসময় ছিলেন ‘আনন্দমেলা’র সম্পাদক এবং পরবর্তীকালে ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’র সম্পাদকীয় উপদেষ্টা।কবিতা লিখছেন শৈশব থেকে। কবিতাগ্রন্থ ছাড়া আছে কবিতা-বিষয়ক আলোচনা-গ্রন্থ। আর আছে উপন্যাস ও ভ্রমণকাহিনি।শব্দ-ভাষা-বানান-শৈলী নিয়ে রচিত বিখ্যাত বই ‘বাংলা: কী লিখবেন, কেন লিখবেন’।পুরস্কার: ১৯৫৮ উল্টোরথ, ১৯৭৩ তারাশঙ্কর, ১৯৭৪ সাহিত্য অকাদেমি, ১৯৭৬ আনন্দ। পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমির সভাপতি (২০০৪-২০১১)। সাহিত্য অকাদেমির ফেলো ২০১৬। এশিয়াটিক সোসাইটির ইন্দিরা গান্ধী স্বর্ণপদক ২০১৫। কলকাতা (২০০৭), বর্ধমান (২০০৮), কল্যাণী (২০১০) বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাম্মানিক ডি লিট।কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে বিদ্যাসাগর লেকচারার হিসাবে ১৯৭৫ সালে প্রদত্ত বক্তৃতামালা ‘কবিতার কী ও কেন’ নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।বহুবার বিদেশ ভ্রমণ করেছেন। ১৯৯০ সালে লিয়েজে বিশ্বকবি-সম্মেলনে একমাত্র ভারতীয় প্রতিনিধি।শখ: ব্রিজ ও ভ্রমণ।
নীরেন্দ্রনাথ কবি, আর কবিতায় সংক্ষেপে অনেক কিছু সারতে হয় বলেই হয়তো কথা বলার আকাঙ্ক্ষাটা মিটিয়ে নেন গোয়েন্দা কাহিনী দিয়ে। রহস্য খুবই সামান্য, বেশিরভাগটাই সামাজিক কথাবার্তা আর স্থানকালের বিবরণ। গদ্যের জন্য রেটিং দিলেও, রহস্য কাহিনি হিসেবে খুব বেশি দেয়া যায় না।