দ্বীনে ফেরার গল্পগুলোও কত সুন্দর হয়। প্রথমদিকে কেমন যেন খাঁপছাড়া লাগছিলো। কিন্তু ক্রমেই ঘটনাপ্রবাহে হারিয়ে যেতে থাকলাম। এরপর এক রাশ মুগ্ধতা পেয়ে বসলো আমায়, যা উপন্যাসটা পড়া শেষ হতে হতে কমে নি, বরং বেড়েছে।
জারা! নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে। ছোট একবোন। মা নেই। বাব সামান্য একজন চাকরিজীবী ছিলেন। রিটায়ার্ড করেছেন। সংসারে সচ্ছলতা নেই।
হটা, বড় ধরনের একটা সুযোগ আসে জারার জীবনে। খ্যাতি, সম্মান এবং বিপুল অর্থ উপার্জনের এমন বিশাল সুযোগ খুব কম মানুষের জীবনেই আসে। বিস্ময়ের শুরু তখনই, যখন লোভনীয় সেই সুযোগ পেয়েও হাতছাড়া করে জারা।
কোনো এক ঘটনায় জারার জীবনে ঘটে যায় আমূল পরিবর্তন। কী ছিল সেই ঘটনা?
হিদায়াতের পথ পেয়ে পুণ্যময়ী জারা বসে থাকে না। সে ব্যতিক্রম কিছু ভাবে, সে চায় সমাজের সব শ্রেণির মেয়েদের কাছেই দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছাতে।
এক্ষেত্রে জারার প্রথম লক্ষ অভিনেত্রী কাবেরি। ব্যস্ত এবং দেশজুড়ে জনপ্রিয় এই অভিনেত্রীর সঙ্গে কথা বলা কি এতই সহজ? জারার সামনে একটাই সুযোগ টেলিভিশনে অভিনেত্রীর একটা লাইভ অনুষ্ঠান।
লাইভ অনুষ্ঠানের পর পুলিশের লক্ষবস্তুতে পরিণত হয় জারা। সে কি কোনো অপরাধের সাথে জরিত? পুলিশ তাকে খুজতে থাকে। কী ঘটে তারপর?
উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র মাহদিয়া জারা, একজন দ্বীনদার মা হারা মুসলিম মেয়ে। সে তার নিজস্ব ধর্মকর্ম পালন করার পাশাপাশি অন্য মেয়েদেরকেও দ্বীনের পথে আসার জন্য আহ্বান করতেন।
একদিন জারা একটি দুঃসাহসিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। সে কাবেরী নামক এক জনপ্রিয় চিত্রশিল্পীকে লাইভ অনুষ্ঠানে পরিচয় গোপন রেখে ফোনে ইসলামের পথে ফিরে আসার দাওয়াত দেন। এরপর দেশজুড়ে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হইচই পড়ে যায়। তার চেয়েও বেশি তোলপাড় শুরু হয় কাবেরির অন্তরে। কেননা এইভাবে এত সুন্দরকরে কেও তাকে দ্বীনের পথে ডাকেনি। সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে থাকেন তিনি। কেউ কেউ এই ব্যাপারটিকে জঙ্গী সংগঠনের ষড়যন্ত্র বলে মনে করেন।
জারার দ্বীনে ফেরার ঘটনাটিও ছিলো ইন্টারেস্টিং। আল্লাহর ভয়ে ছেড়ে দেওয়া তার পাপের কারণে অবশেষে তার উত্তম প্রতিদান পাওয়া, সুন্দর সুন্দর কথা বলে মানুষকে দ্বীনের দিকে আহবান করা এসব কিছুরই প্রতিফলন ঘটেছে উপন্যাসটিতে। উপন্যাসের আলোকে লেখক চমৎকার সব ইসলামিক বার্তা আমাদেরকে জানিয়েছেন। বইটি পড়ার পর দাওয়াতি কাজের গুরুত্বটা উপলব্ধি করতে পেরেছি। বেশ কিছু মানুষের আলোর পথে ফিরে আসার হৃদয়স্পর্শী ছোট ছোট ঘটনা বর্ণিত হয়েছে এতে। হেদায়েতের পথে চলতে সমাজে মুসলিম মেয়েদেরকে বিভিন্ন বাঁধার সম্মুখীন হতে হয় এই ব্যাপারটিও নিঁখুতভাবে বর্নিত হয়েছে। প্রতিটি মেয়ের এই বইটি একবার হলেও পড়া উচিত বলে মনে করি। (ছবি সংগৃহীত)
আলহামদুলিল্লাহ্ বইটি পড়ে শেষ করতে পেরে অনেক ভালো লাগছে।
বইটিতে থাকা মূল চরিত্রটির নাম জারা। জারা মেয়েটি অতি সাধারণ পরিবারের একজন মেয়ে। জারার দ্বীনের দাওয়াত ব্যাপারটি তার চরিত্রকে ফুটিয়ে তুলেছে। জারা চায় দ্বীনের দাওয়াত প্রতিটি মেয়ের কাছে পৌঁছে যাক। এইজন্য তাকে অনেক বাঁধা এবং বিপদের মুখে পড়তে হয়েছিল। কিন্তু জারা সবসময় আল্লাহর উপর বিশ্বাস রেখেছেন এবং আল্লাহর কাছেই সাহায্য চেয়েছেন। দ্বীনের দাওয়াত দেওয়ার জন্য জারার প্রথম লক্ষ্যেই রয়েছেন বিখ্যাত জনপ্রিয় অভিনেত্রী কাবেরী। অভিনেত্রী কাবেরীকে কি জারা পারবে দ্বীনের পথে ফিরিয়ে আনতে.? জারার পূণ্যময়ী হয়ে উঠার পিছনেও রয়েছে একটি ঘটনা। কি সেই ঘটনা.? এসকল প্রশ্নের উত্তর জানতে আপনাকে পড়তে হবে পূণ্যময়ী বইটি। 💗