ধ্রুব এষ। জন্ম ১৯৬৭। সুনামগঞ্জের উকিলপাড়ায়। বাবা শ্রী ভূপতি এষ। মা শ্রীমতী লীলা এষ। দেশের অপরিহার্য প্রচ্ছদশিল্পী। রঙে, রেখায় কত কিছু যে আঁকেন! গত তিন দশক ধরে বাংলাদেশের প্রচ্ছদ শিল্পের একচ্ছত্র অধিপতি।
এ যাবৎ প্রায় বিশ হাজার প্রচ্ছদ এঁকেছেন। প্রচ্ছদের পাশাপাশি লেখালেখিও করেন। সব ধরনের লেখাতেই সিদ্ধহস্ত। কী ছোটদের কী বড়দের—সব বয়সি পাঠক তাঁর লেখায় আকৃষ্ট হন সমানভাবে।
তাঁর লেখায় দেখা-না-দেখা জীবন আর মানুষের এক বিচিত্র সম্মিলন ঘটে যেখানে খুঁজে পাওয়া যায় পাওয়াকে, না-পাওয়াকে। জীবনের বহুবর্ণিল বাস্তবতাকে নতুন মোড়কে উপস্থাপন করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন এই লেখক।
একটু জিরোয়, ফের ছুটে যায় মাঠ পেরুলেই বন। পুলের ওপর বাজনা বাজে ঝন ঝনাঝন ঝন।
দেশ-বিদেশে বেড়ায় ঘুরে নেইকো ঘোরার শেষ। ইচ্ছে হলেই বাজায় বাঁশি, দিন কেটে যায় বেশ।
থামবে হঠাৎ মজার গাড়ি একটু কেশে খক। আমায় নিয়ে ছুটবে আবার ঝক ঝকাঝক ঝক।
ছোটবেলা কমবেশি সবাই শামসুর রাহমান উপরোক্ত , ‘ট্রেন’ কবিতাটির সাথে পরিচিত। ছোটকলে ট্রেন তো রীতিমত আমার কাছে বিস্ময়কর বস্তু ছিল। যত ইউভার্সের সবকিছু এক্সপেরিয়েন্স করতেছি তত বুঝছি আমার মাথার মধ্যেও চলছে কু ঝিক ঝিক করে চিন্তার রেলগাড়ি। যে রেলগাড়ি থামার নিদিষ্ট স্টেশন নেই। ঝক ঝকঝক ঝক করে ছুটে চলছে।
ধ্রুব এষের লেখার হাত পাগলাটে। কেমন যেন অদ্ভুত অদ্ভুত। আমাদের চারপাশ বড়ই বিচিত্র। আরও বিচিত্র মানুষেরা। আমি সবসময়ই বলি আমাদের ভেতরে আছে প্রচুর রহস্য। আমরা পৃথিবীর সবাই রহস্যের গন্ধ পেতে ভালোবাসি। মাথার মধ্যে ঝক ঝকঝক ঝক করে রহস্য চলে সবার। ট্রেনের বগির যেমন একটার সাথে আরেকটা জোড়াতালি দিয়ে দীর্ঘ পথ ছুটে যায় ঝক ঝকঝক ঝক করে ,তেমনি ধ্রুব এষের ‘ কু ঝিক ঝিক ‘ গল্পের প্রোটাগনিস্টরাও একে অন্যের সাথে কানেক্টেড থেকে ‘কু ঝিক ঝিক’ করে রহস্য তৈরি করবে পাঠক মনে।