Nabaneeta Dev Sen is an award-winning Indian poet, novelist and academic. Sen has published more than 80 books in Bengali: poetry, novels, short stories, plays, literary criticism, personal essays, travelogues, humour writing, translations and children’s literature. Her short stories and travelogues are a rare combination of fine humour, deep human concern, and high intellect, which has made her a unique figure in the Bangla literary scene.
She is a well-known children's author in Bengali for her fairy tales and adventure stories, with girls as protagonist. She has also written prize-winning one-act plays.
এই গল্পটা নবনীতা দেবসেনের ঘরে যে কুকুর বিড়াল আছে তাদের নিয়ে। হাস্যরসের ভঙ্গিতে নিজের ঘরের এসব প্রাণীর অদ্ভুত কাজকর্ম নিয়ে গল্প করেছেন। খুব ভাল লাগলো আর হাসলাম অনেজ জায়গায়। রসকষ মিশিয়ে হাস্যকর ধাঁচের গল্প যেখানে খারাপ লাগার মতো জায়গাতেও কিঞ্চিৎ মজার ধাঁচের কথাবার্তা।
২। রুবাইয়ের বারান্দা আর বনপাহাড়ি -
কি মায়া মায়া, সুন্দর লেখার একটা গল্প! বাচ্চা মতোন এক মেয়েকে নিয়ে এই গল্প — যে কিনা তার কল্পনার ক্যানভাসে বিভিন্নরকম গল্প তৈরী করে, খেলাধুলা করার চেয়ে যে কিনা আকাশ দেখতে ভালবাসে, পাখি দেখতে ভালবাসে। চাঁদ সূর্য নক্ষত্র এগুলো কত দূরে হলেও তাদের আলো কতো কাছে, এসব ভেবে সে অবাক হয়।
৩। কায়াক -
কৌশিকী এসেছে ভীনদেশে, মানে বেশিদিন হচ্ছে না সে আমেরিকা আসলো। কিন্তু তার ঠাকুমার জন্য মন কেমন করে, চিন্তা করে কিভাবে ঠাকুমা বৃদ্ধাশ্রমে থাকবে। তারপর আরো কিছু উপলব্ধি থেকে তার মন খারাপ হতে থাকে। মন খারাপ করে দিলো গল্পটা। ভালো লাগলো বেশ
৪। রঞ্জনের গল্প -
পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে রঞ্জন হলো লেখাপড়াতে সবচেয়ে কাঁচা। দুইবার ফেল করে তার আর ক্লাস সিক্স থেকে ক্লাস সেভেনে ওঠা হলো না। এসবের পর তার বাবাকে মা বললো "এটাকে আমায় দাও, একে আমার শিক্ষাটাই শেখাই"। তারপর মায়ের হাত ধরে রঞ্জন রান্নাবান্না শিখলো খুব উৎসাহ আর আনন্দের সাথে। এরপর সে বিদেশে গেলো। গল্পটা আহামরি না হলেও, কিছু ছোটখাটো বিষয় অনুধাবন করা যায়
৫। সবুরে মেওয়া ফলে -
হঠাৎ করে কল দেওয়া কোনো অজানা মানুষের সাথে আড্ডা হয়ে যায়, এই গল্পটা এমনই। পরে দেখা যায় যিনি কল দিয়েছে উনি মনে করতে পারছেন না কেন কল দিয়েছে বা কাকে কল দিয়েছে। ফাওল একটা গল্প। বেশ জোর করে হাসানোর চেষ্টা করানো হয়েছে। কিন্তু হাসি পেলো না
৬। শুক্তিমতী -
মহাভারতে কোলাহল নামে এক পর্বতের উল্লেখ আছে। এই পর্বতে স্বচ্ছ নীল দীঘি ছিল এবং সেখানে অভিনব সৌন্দর্যের পন্ম। এই অম্লান পঙ্কজের মালাকে বলা হলো বৈজয়ন্তীমালা, যে মালাটি গাঁথতে সময় লাগলেও মালাটির সুগন্ধী কখনও ম্লান হয় না, মালার ফুল কখনও শুকায় না। একদিন শুক্তিমতী নামে এক পরম কিন্নরী স্বর্গ থেকে এই কোলাহল-পর্বে নেমে এলো। কোলাহল পর্বত অনেক দেবদেবীকে দেখলেও এই অপ্সরীকে দেখে মুগ্ধ মোহিত হয়ে যায় এবং কোলাহল পর্বত এক যুবকে পরিণত হয়ে শুক্তিমতীর সামনে আসলো। এই দু'জনকে নিয়ে এই ছোট গল্পটি.... লেখার হাত বেশ ভালো লাগলো। হালকা ধাঁচের সুন্দর গল্প।
৭। রূপবতীর বিয়ে -
এই গল্পটি আইরিশ উপকথার ছায়া অবলম্বনে। রূপবতী নামক এই রাজকন্যা খুবই সুন্দরী। যেমন সুন্দরী তেমনই তার রূপের অহংকার। এই রূপের বড়াইয়ের জন্য তার বিয়ে হচ্ছিল না এবং মানুষকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার অভ্যাস ছিল তার। এই গল্পে আমরা শিখতে পারি, রাজার মেয়ে হোক আর যে হোক, কোনো কাজকে ছোট করে দেখা উচিত নয়। আর মানুষকে ছোট করে দেখাও উচিত নয়। মানুষ হিসেবে যতো অমায়িক হবে, যতো অহংকার কম থাকবে ততই সে বড়লোক। নিজের পরিবারের টাকাপয়সার অহংকারে এবং সেই জন্যে কোনো কাজ করতে না চাইলে সে ই সবচেয়ে গরীব। কষ্ট করে কাজকর্ম করতে হবে তখনই মানুষ অমায়িক হবে, তখনই অন্যের কষ্ট বুঝতে পারবে
৮। বুদ্ধি বেচার সওদাগর -
গুজরাতী লোককথা অবলম্বনে গল্পটি ধরুন একটা বালক বাজারে বুদ্ধি বিক্রি করা শুরু করেছে। কেউ কোনো ঝামেলা তে পড়লে তার কাছে এসে সমাধান চায়, সাথে টাকা নেয়। এমন একটা অংশও ছিল "এতো টাকার বুদ্ধি দাও তো আমাকে" এমন বলে। এমন সব কাণ্ডজ্ঞান নিয়ে এই গল্পটি। মজাদার গল্প। বাচ্চাদের শুনালে তারা বেশ মজা পাবে। হাসার মতো কিছু জায়গাও ছিল
৯। টাপুর টুপুর আর বনদেবী -
টাপুর আর তার বউ টুপুর মিলে এক বিশাল অরণ্যে কুটির বেঁধে। একদিন টুপুর বিষযুক্ত কোনো এক ঝর্ণাতে গিয়ে মারা গেলে। টাপুরের দুঃখ দেখে বন-দেবী তার কাছে এসে কথা বললো এবং তাকে এটা-সেটা করতে দিলেন... এটিও রূপকথার গল্প। মোটামুটি ভালোই। রূপকথার গল্প যেভাবে লেখা হয় সেরকমই লেখার ধাঁচ।
১০। আলো আর আঁধার -
চাঁদের বুড়ি যে চরকা কাটে, উপহার দেয়, এমন ধরণের রূপকথা ধর্মী গল্প। তেমন ভালো লাগেনি গল্পটা। তবে ইন্টারেস্টিং
১১। হাবু গাবু সাবু -
উপরোক্ত নামের তিন ভাই থাকতো পাঁচমিশালী নামক গ্রামে। তারা তিনজনই ছিলো বোকাসোকা ধরণের। তাদের গাঁ এর কোনো এক মোডল বললো রাজার কাছে যাওয়ার জন্য, আর তাদের বললো ভালো করে কথা বলতে। কিন্তু তারা কি ভালো কথা বলবে বুঝে না। তারপর তারা পথে যেতে যেতে ইঁদুর, ব্যাঙ ইত্যাদি অনেকের সাথে কথা বললো রাজাকে কি বলা যেতে পারে সেই বিষয়ে। এই গল্পটা বেশ মজার লাগলো। পড়ে হাসলাম বেশ
১২। টুলুরাজকুমারী আর টুবান -
টুলুরাজকুমারী যেমন সুন্দর তেমন গুণী। কিন্তু তার বিয়ে হচ্ছে না। অনেক রাজপুত্র, মন্ত্রীপুত্র অনেকেই তাকে দেখতে আসে কিন্তু তারা কোনো এক কারণে ফিরতে পারে না, তারা যেন কোথায় হারিয়ে যায়। টুলুরাজ্যের পাশের রাজ্য ছিল বুলু রাজার এবং তার ছিল তিন ভাই। এর মধ্যে দুই ভাই ঐ রাজকুমারীকে দেখতে গিয়ে আর ফিরে আসে না। তারপর আরেক ভাই টুবান বের হলো রাজকুমারীকে বিয়ে করতে এবং দুই ভাইকে উদ্ধার করতে... এই গল্পটি বেশ ভালো লাগলো। মজাদার রূপকথার গল্প।
**সবমিলিয়ে যদি বলি, কিছু গল্প ছাড়া আমার তেমন ভালো লাগেনি বইটি। হালকা ধাঁচের গল্প পড়ব ঠিক করছিলাম, তেমনই পেলাম গল্পগুলো এবং মজাদার গল্পগুলো।
তবে গল্পগুলো ছোটদের জন্য লেখা। তারা পড়ে বেশ মজা পাবে। অনেকগুলো গল্প রূপকথা গল্প, এসব গল্প ছোটরা পড়ে যেমন বিনোদিত হবে, তেমনি তাদেরকে গল্পগুলো শুনালে বেশ আনন্দ নিয়ে শুনবে গল্পগুলো।
এর আগে লেখিকার কোনো লেখাই পড়া হয়নি, এটাই প্রথম। শিশু কিশোরদের জন্য লেখা কিছু মজার গল্প নিয়ে এই বইটি। মোট ১২টা গল্প আছে। এর মধ্যে আমার ভালো লেগেছে - রঞ্জনের গল্প,রূপবতীর বিয়ে, বুদ্ধি বেচার সওদাগর, আলো আর আঁধার, টুলুরাজকুমারী আর টুবান।
১) বিদঘুটে বাড়ির গল্প : পিকো টুম্পা দের বাড়িতে উদ্ভট সব কাণ্ড কারখানা ঘটতে থাকে।তবে এই কাণ্ড কার খানার পিছনে কোনো মানুষ বা অশরীরী কিছুর যোগ নাই, এর পিছনে মূল হল পশুপাখি। এই বাড়িতে কুকুর সুইসাইড করে, মাছ জলে ডুবে মারা যায়, আরও কত কি - এদের নিয়েই মজার গল্প।
২) রুবাইয়ের বারান্দা আর বনপাহাড়ি : রুবাই ও বুবাই দুই ভাই বোন। রুবাই বড়। রুবাই মনে মনে তার কল্পনার তুলি দিয়ে নানার গল্প আঁকতে থাকে। এই নিয়েই গল্প।
৩) কায়াক : কৌশিকী নামের একটি ছোটো মেয়ে ও তার পরিবারের নিয়ে গল্প। তার বাবা কর্মসূত্রে বিদেশে থাকেন,তাই তাদের কেও অর্থাৎ কৌশিকী ও তার মাকেও নিয়ে যাবার ব্যবস্থা করে।কিন্তু যাবার আগে তার ঠাকুমাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দেয়।
৪) রঞ্জনের গল্প : রঞ্জনরা পাঁচ ভাই। বাকি দাদা ভাইরা পড়াশোনায় ভালো হলেও রঞ্জন খুব কাঁচা। তখন তার মা রঞ্জনের ভবিষ্যতের ভার নেয়। তাকে নিপুণ হাতে রান্না শেখাতে শুরু করে, আর সেই রান্না শিখে রঞ্জন নিজের পায়ে দাঁড়ায়। এমনকি রান্নার দক্ষতা নিয়ে সে বিদেশে পাড়ি দেয়।
৫) সবুরে মেওয়া ফলে : জুবিলি মিত্র নামে এক মহিলা একটা নম্বর ডায়াল করে, ওপাশে ফোন রিসিভও করে। কিন্তু সে মনে আর কিছুতেই করতে পারে না যে কেনো ফোন করেছে, কাকে ফোন করেছে, কিজন্য করেছে। ওপাশের জনকে সবুর করতে বলে তারপর অনেকক্ষণ কেটে যায় তবু মনে পড়ে না। শেষপর্যন্ত ফোন রাখার সময় মনে পড়ে।
৬) শুক্তিমতী : কোলাহল পর্বতে স্বর্গ থেকে এক সুন্দরী কন্যা( নাম শুক্তিমতী) নেমে আসে। কোলাহল পর্বত যুবকের বেশে এসে তাকে বিবাহ করে।তাদের একটি কন্যা হয়, তারও বিবাহ দেয়। শুক্তিমতী স্বর্গ কন্যা তাই তাকে স্বর্গে ফিরে যেতে হয় কিন্তু সেখানে বেশিদিন থাকতে পারে না, ফিরে আসে আবার কোলাহল পর্বতের বুকে।
৭) রূপবতীর বিয়ে : এক রাজার এক রুপসী রাজকন্যা, তার যেমন রূপ তেমনি অহঙ্কার। তার বিয়ের জন্য স্বয়ংবর সভার আয়োজন করা হলে সে সবাই কে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে বিদায় করে দেয়।রাজামশাই রেগে সিদ্ধান্ত নেয় সকালে ঘুম থেকে উঠে যার মুখ দেখবে, তার হাতেই মেয়েকে সঁপে দেবেন। শেষপর্যন্ত কার সাথে বিয়ে হয় রাজকন্যার ?
৮) বুদ্ধি বেচার সওদাগর : এক নাপিতের একমাত্র ছেলে মন্টু। কথায় তার সাথে পেরে ওঠা দায়, তার শুধু খেলা খেলা খেলা। নাপিত তাকে কাজকর্মের ব্যাপারে বললে সে গুরুত্বই দেয় না।একদিন সে এক বুদ্ধি বার করে। হাতে একটা দোকান দেয় , নাম - "এখানে সুবুদ্ধি বিক্রয় করা হয়।" তার সেই কারবার কতদূর এগোয় ? বুদ্ধি বেচার ব্যবসা থেকে কিভাবেই বা হলো সে রাজমন্ত্রী ?
৯) টাপুর টুপুর আর বনদেবী : টাপুর টুপুর দুই স্বামী স্ত্রী। টুপুর হঠাৎ মারা গেলে টাপুরের খুব মন খারাপ হয়। তখন বনদেবী টুপুরকে ফিরিয়ে দেবার কথা বলে। নানা পরীক্ষা পেরিয়ে শেষপর্যন্ত টাপুর টুপুর-কে ফিরে পায়।
১০)আলো আর আঁধার : এক কাঠুরিয়ার দুই নাতনী - দিবা আর রাতি। দুজনেই খুব ভালো মনের মেয়ে।অনেক কষ্টে তাদের সংসার চলে। চাঁদের বুড়ির ছোটো ছেলে ও বড়ো ছেলের সাথে তাদের কিভাবে পরিচয় হয়, বিয়ে হয় এই নিয়ে গল্প।খুব মিষ্টি একটা রূপকথার গল্প ।
১১) হাবু গাবু সাবু : গ্রামের নাম পাঁচমিশেলী। সেখানে বাস করে তিন বন্ধু হাবু গাবু সাবু। তিনজনেই অশিক্ষিত, বোকা। গ্রামের মোড়ল তাদের রাজার কাছে পাঠায়। পথে যেতে যেতে তিনজনে একটা মনগড়া ছড়া বানায়,সেটা রাজাকে দেয়। সেই সামান্য ছড়া কিভাবে রাজার প্রাণ বাঁচায় এবং শেষে হাবু গাবু সাবু এদের কি হয় সেটা নিয়েই গল্প।
১২) টুলুরাজকুমারী আর টুবান : সুন্দরী গুনবতী টুলু রাজকুমারীর বিয়ের জন্য পাত্র খোঁজ চলছে।কিন্তু রাজপুত্র, কোটাল পুত্র যারাই টুলু রাজ্যে আসে তারাই উধাও হয়ে যায়। শেষপর্যন্ত টুবান অনেক বিপদ পেরিয়ে রাজকন্যেকে বিয়ে করে।