Daud Haider was a Bangladeshi poet who was forced into exile after writing a poem that "insulted" religion including Islam. American Center, International PEN have described him as "distinguished poet".
বাংলাদেশের প্রথম নির্বাসিত কবি দাউদ হায়দারের আত্মজীবনীর প্রথম খণ্ড "ইল্লিন ঝিল্লিন"। নিজের জন্ম থেকে দেশ থেকে নির্বাসিত হওয়ার আগপর্যন্ত রং-বেরঙের বিশ্বাস্য এবং অবিশ্বাস্য ঘটনাবলি স্থান পেয়েছে এই বইতে।
" ফ্যামিলি প্ল্যানিং আল্লাহ-রসুলের বিপক্ষে, অতএব মোহাম্মদ হাকিমউদ্দিন শেখ, আমার বাপ, কিছুতেই বিরুদ্ধাচারণ করতে পারেন না। আমি আট নম্বর। আপাতত আমরা চৌদ্দ। "
এমনই সরসভাবে নিজের আত্মকথা শুরু করেছেন দাউদ হায়দার। জন্মেছিলেন পাবনার দোহার পাড়ার এক সম্ভ্রান্ত যৌথ পরিবারে। যেখানে পরিবারের একেকজন একেকজন। কেউ শখের বাবুয়ানা করে এখন বিরাট ধার্মিক হয়েছেন। কেউবা নাটক কিংবা যাত্রাপালা নিয়ে ব্যস্ত। নিজের কিশোরকাল বড় দুরন্তপনায় কাটিয়েছেন। সামাজিক বিধিনিষেধের বেড়াজাল ডিঙিয়ে নানা "কুকর্মে" তখনই হাত পাকিয়েছিলেন। তার নিজের জবানিতেই শুনুন -
" জিলাপাড়ার বিশাল দোতলা বাড়ি ছিল আমার প্রিয়।ভূগোল এই রকম : পেছনে জেলাস্কুল, সামনে পলিটেকনিক্যাল...এবং বীথিদির বাড়ি। বীথিদি কাছে ডাকতেন। ঘরে ডেকে নিয়ে চুমু খেতেন। বীথিদির এক ভাই হারমোনিয়াম বাজিয়ে পাড়া কাঁপাতেন। যখন কাঁপত না, বীথিদি: খোকন গান শুনবি না? আয়। ঘর বন্ধ করে, 'বুকটা টিপে দে তো, সকাল থেকে ব্যথা করছে। ' তারপর দুই লজেন্সচুষ। " এই ধরনের আদিরসাত্মক অভিজ্ঞতায় তখনই ঝানু হয়ে উঠেছিলেন দাউদ হায়দার।
পাবনা অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষার ব্যাপক ব্যবহার দেখা যায় দাউদ হায়দারের লেখাতে। বেশ রসিয়ে রসিয়ে বর্ণনা করেছেন নিজের এলাকার নানান ঘটনা এবং রটনা। যাত্রায় কল্পবিলাসী দাউদ হায়দার দেখতে পেলেন -
" 'মোরে ছেড়ে কোথা যাবে সুন্দরী?' বলে জাপটে ধরব নায়িকাকে। নায়িকা: ছাড়, কেহ-বা দেখিতে তবে। নায়ক: চক্ষু বুজিয়া থাকুক। কাহাকেও করি না ভয়। পাশ থেকে বললেন একজন দর্শক, 'ক্যা, চোক বোনদো করবো কী কামে? ' "
বিরাট পরিবার দাউদ হায়দারদের। ভাই-বোনদের খুনসুটি নিত্যদিন লেগেই থাকতো। সেই কাহিনি পড়তে পড়তে হয়তো অনেক পাঠক স্মৃতিকাতর হয়ে যেতে পারেন।
আইয়ুবের মার্শাল ল জারি। পাকিস্তান সরকারের দাঙ্গাতে পরোক্ষ মদদদান এবং '৬৪ সালের দাঙ্গা নিজেই চাক্ষুষ করেছেন। দেখেছেন সংখ্যাগুরুর হাতে সংখ্যালঘুর হেনস্থা।
দোহার পাড়ার পাঠ চুকিয়ে সপরিবারে চলে এলেন পুরান ঢাকায়। ঢাকার স্মৃতিতে স্কুলে ফা্কিবাজি করে মার্কসবাদে দীক্ষা আছে, রমণীবাজি আছে, আছে কবিতার চর্চা এবং পরিবারে তা নিয়ে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ।
দোহার পাড়ার দাউদ হায়দারের চেয়ে ঢাকাবাসী দাউদ হায়দারের জীবন অনেক বেশি রোমাঞ্চকর আর কিছু ঘটনা তো সিনেমাকেও হার মানাবে।
১৯৭৪ সালে কবিতা লিখে হরিণবাড়ি তথা জেলে এলেন। দাউদ হায়দারের আত্মজীবনী সবচেয়ে ভার্সাটাইল অংশ বোধকরি জেল জীবনের স্মৃতি। তাতে খিস্তিখেউড় আছে, অশ্লীলতা আছে আর পাবেন মুক্ত জীবের সাথে বদ্ধ জীবের তফাতটা কতটা তা উপলব্ধি করতে।
দাউদ হায়দারের আত্মজীবনী মূল সমস্যা দুটি। প্রথমত, ঘটনার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে পাঠকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে। দ্বিতীয়ত, ঘটনার কোনো ধারাবাহিকতা নেই। তাতে পাঠক বিভ্রান্ত ক্ষেত্রবিশেষে বিরক্ত হতে পারেন।