সীরাতের গ্রহণযোগ্য কিতাবসমূহ থেকে চয়িত, ঝরঝরে সাবলীল ভাষায় লিখিত, রাসূল সা. এর জীবনীবিষয়ক গ্রন্থ “মহানবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম”। সহজ সরল চিত্তাকর্ষক ভঙ্গিতে গল্পের ভাষায় রচিত নবীজীবনের কাহিনী নিয়ে অসাধারণ এক সীরাতগ্রন্থ। বইটি পড়তে গিয়ে পাঠক কোথাও বিরক্তবোধ করবেন না। নিজের অজান্তেই হারিয়ে যাবেন সীরাতের অজানা ভুবনে, স্নাত হবেন নবীপ্রেমে। মনে হবে, নতুন করে জানছেন প্রিয় নবীকে...!
আলেমা, সৃজনশীল ও শক্তিমান লেখিকা। পিতা : মাওলানা মুশতাক আহমাদ খান। মুহতামিম : জামেয়া আরাবিয়া ইসলামিয়া ধনকান্দি, শাহপরান, সিলেট। খতীব : কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, বন্দরবাজার, সিলেট শিক্ষা : দাওরায়ে হাদিস, ২০০৭ খ্রি.,মাদরাসাতুল বানাত, উপশহর, সিলেট পেশা : গৃহিণী, জননী, তালিবে ইলম লেখালেখি : লেখেন প্রবন্ধ, ফিচারসহ শিশুতোষ গল্প। অনলাইনে চমৎকার লেখার পসরা সাজিয়ে রাখেন তাঁর টাইমলাইনে। যুগোপযোগী লেখায় তাঁর হাত বড্ড পাকা। বেশ দরদ নিয়ে লিখেন, যেন তপ্তঅশ্রু বেয়ে বেয়ে ঝরে পড়ছে তাঁর কলম থেকে। বাংলা গদ্যে দক্ষতা অসাধারণ। তাঁর বাক্যের বুনন ও কারুকাজ পাঠককে সম্মোহনী শক্তির মতো টানে।
স্বপ্ন : প্রতিবেশী মুসলিম নারীদের সাথে নিয়ে সব ধরনের দ্বীনি ইলম অর্জন করা এবং এ চিন্তা ও কাজ ব্যাপকভাবে অন্যান্য মুসলিম নারীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া। যাতে মায়েদের কোলে বেড়ে উঠতে থাকা ফুলশিশুরা হয় সভ্য পৃথিবীর পাহারাদার এবং যুগের অন্ধকারে দীপ্ত প্রদীপ।
কি পড়লাম! অসাধারণ। অসম্ভব সহজ সুন্দর সাবলীল লেখনী। কেমন সে মহামানব(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), চৌদ্দশ বছর পরেও উনার জীবনী পড়ে কি নিদারুণ মোহে ডুবে গেলাম। দারুণ। বইটা শেষ করতে মনই চাচ্ছিলো না। "পূর্ণতার পর এখন অপূর্ণতা ব্যতীত আর তো কিছু বাকি নেই"।
আমার মতে যাদের সীরাত এর আগে পড়া হয়নি তাদের জন্য প্রথম সীরাতগ্রন্থ হিসেবে এটি অত্যন্ত উপযোগী সহজ একটি বই।
অসাধারণ একটি সীরাত। রেফারেন্সের জন্য খরচ হয়েছে প্রায় ১৮ পৃষ্ঠা! কিন্তু বইটা পড়ার সময়ে মোটেও মনে হবে না যে কোনো খটমটে বই পড়ছেন। মনে হবে, যেন স্রোতস্বিনী এক নদীতে ভেসে বেড়াচ্ছেন আর চারিদিকে চেয়ে দেখছেন জাযিরাতুল আরবের ঘটনা প্রবাহ! বইটা পড়ার সময় আপনি গাজওয়ায়ে বদর দেখবেন, গাজওয়ায়ে ওহুদ দেখবেন। দেখবেন, মদিনার ছোট মেয়েটির আনন্দ। দেখবেন, রাসুলের শোকে কাতর সাহাবিয়াকে।
যারা উপন্যাস বা থ্রিলার পড়ে অভ্যস্ত তাদের জন্য খুবই সুখপাঠ্য হবে বইটা। বারবার পড়ার মতো একটা বই।
সমগ্র বিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ যে মহামানব, তাঁর জীবণী হাতে নিয়েছি পড়ার জন্য! এটা চিন্তা করলেই মন এক অদ্ভুত ভালো লাগায় আচ্ছন্ন হয়ে যাচ্ছিলো। সংক্ষিপ্ত কিন্তু মোটামুটি বিস্তারিতভাবে নবীজী (সা.)-এর জীবণী পড়তে চান যারা, তাদের জন্য এটা একদম উপযুক্ত একটা বই।
বই - মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লিখেছেন - মাজিদা রিফা প্রকাশনী - রাহবার প্রকাশনী প্রচ্ছদ মূল্য - ৪০০৳ পৃষ্ঠা সংখ্যা - ৪৮০ প্রথম প্রকাশ - আগস্ট ২০১৮
▶লেখিকা সম্পর্কে - নবীজীর জীবণী পড়তে গেলে শুধু পড়ে ফেললেই তো হবে না, বর্ণনার উৎস হতে হবে নির্ভরযোগ্য। সে কারণেই লেখিকা সম্পর্কে জানা দরকার। সিলেটের পরিচিত আলেম মাওলানা মুশতাক আহমাদ খানের দ্বিতীয় কন্যা এই বইয়ের লেখিকা মাজিদা রিফা। এখন পর্যন্ত এই বইটি ছাড়াও 'কুরআনি গল্পগুচ্ছ' এবং 'ইলাল উখতিল মুসলিমা' নামে লেখিকার আরও দুটি বই প্রকাশিত হয়েছে। 'আর রাহীকুল মাখতুম' গ্রন্থের রচয়িতা আল্লামা সফিউর রহমান মুবারকপুরী রহিমাহুল্লাহ - যে মতের অনুসরণ করেছেন, লেখিকা এই বইতে অধিকাংশক্ষেত্রে সেই মতের অনুসরণ করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন।
▶কি আছে বইটিতে? "মহানবী" বইটিকে লেখিকা সর্বমোট ৫২ ছোট ছোট পর্বে ভাগ করে আলোচনা করেছেন, সারসংক্ষেপ তো করা সম্ভব না, তারপরও একটু বলে নেই - ১ম পর্ব 'ইতিহাসের ইতিহাস' - শুরু হয়েছে ইবরাহীম (আ.) কর্তৃক তাঁর স্ত্রী বিবি হাজেরা ও শিশুপুত্র ইসমাঈলকে জনমানবহীন মরুভূমিতে রেখে যাওয়া, পানির খোঁজে হাজেরার সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে দৌড়ে বেড়ানো এবং শিশুপুত্র ইসমাঈল এর পায়ের আঘাতে জমজম কুপ সৃষ্টি হওয়া, আর এরও বহুকাল পর রাসূল (সা.) এর দাদা আব্দুল মুত্তালিব কর্তৃক হারিয়ে যাওয়া সেই জমজম পানির কূপ পুনরুদ্ধারের কথা আলোচনার মাধ্যমে। আর শেষ হয়েছে নবীজী (সা.) এর ইন্তেকাল এবং জানাযা পরবর্তী দাফন-কাফনের বর্ণনার মাধ্যমে। নবীজী (সা.)-এর জন্ম, শৈশব, কৈশোর, যৌবন, বিয়ে, দাম্পত্য, পিতৃত্ব, বন্ধুত্ব, স্নেহবাৎসল্য, সৌন্দর্য, বীরত্ব, নেতৃত্ব সর্বোপরি তাঁর নব্যুওয়াত - কোনোকিছু বাদ যায়নি বইটিতে। আবার পড়তে পড়তে কোথাও বর্ণনার আধিক্যও আছে মনে হয়নি।
▶বইটি ক্যানো পড়বেন? লাগামছাড়া আবেগের ছড়াছড়ির বদলে ভারসাম্যের ভেতর দিয়ে রচিত একটা বই এটা। আবার শুধুই ইতিহাস বর্ণনার মতো রসকষহীন ভাবে এগিয়ে যাওয়া হয়নি। ইতিহাস-সাহিত্য দুইয়ের সুন্দর সংমিশ্রণ ঘটিয়েছেন লেখিকা।এটা কাহিনীর মত সুপাঠ্য, যেন এক সাহিত্যিক লিখেছেন; আবার অথেন্টিক, প্রচুর রেফারেন্স সম্বলিত, যেন এক আলিমা লিখেছেন। তার বর্ণনায় আরবের প্রকৃতির বর্ণনা পড়তে পড়তে মনে হয়েছে, চোখের সামনে তা দেখতে পাচ্ছি; যুদ্ধের বর্ণনা পড়ে মনে হয়েছে, নিজেই যেন যুদ্ধের প্রাঙ্গণে অবস্থান করছি; আবার নবীজীর কোনো খুশি/হাসিমুখের বর্ণনায় একেকজন সাহাবীর অভিব্যক্তি পড়ে মনে হয়েছে, সেই স্বর্গীয় পবিত্রতার আবেশ অনুভব করতে পারছি।
▶মন্দলাগা - - বইটি হাতে নিয়ে পাতা উল্টাতে শুরু করে কিছুক্ষণ পরই অবাক হয়ে আবিষ্কার করেছি, এই বইতে কোনো সূচিপত্র নেই। তাই তাড়াতাড়ি কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা খুঁজে বের করতে চাইলে তা একটু কষ্টসাধ্য হবে। একটা সূচিপত্রের সংযোজন জরুরি মনে করছি। - ৫২টি পর্বের মধ্যে ২/৪টির ক্ষেত্রে মনে হয়েছে পর্বের শিরোনামটা আরও আকর্ষণীয় হতে পারতো। - আর রেফারেন্স বইয়ের শেষে যোগ না করে যে পৃষ্ঠারটা সেই পৃষ্ঠায় যুক্ত করলে পাঠকের পড়তে আরেকটু সুবিধা হয় বলে আমি মনে করি।
▶শেষকথা - এই বইটিতে একদিকে যেমন প্রায় কোন বিষয়ই বাদ পরেনি, আবার সব তুলে ধরতে গিয়ে বইটি কলেবরে বড়ও হয়নি। মানুষের দৈনন্দিন সুখ-দুঃখ, পরিবারনীতি, সমাজনীতি, রাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি সহ জগত-সংসারের সকল প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম এই একটি জীবনকাহিনী। আগে কথাটা জানতাম, এই বইটি পড়ে আরও ভালোভাবে তা অনুভব করলাম। তো সেই মহামানবের জীবণী পড়ে ফেলতে আর দেরি ক্যানো?
বাংলা ভাষায় বিশ্ব নবীর জীবনী নিয়ে অনেক কাজ হয়েছে এবং প্রচুর অনুবাদ কর্ম সম্পাদন হয়েছে ।নিঃসন্দেহে এটি আমাদের জন্য গর্বের এবং অতি আনন্দের একটি বিষয়। তন্মধ্যে অনেকগুলো সীরাত গ্রন্থ অধ্যয়নের সৌভাগ্য আমার হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ ।একটি সিরাজ গ্রন্থ আমাকে প্রচুর বিমোহিত করেছে, তা হচ্ছে "মহানবী " । লিখেছেন মাজিদা রিফা। সীরাত গ্রন্থ সমূহের মধ্যে সংগ্রহে রাখার মত একটি বই। প্রচলিত নিয়ম বা পুরানো সীরাত লেখার রীতি-নীতির বিপরীতে এটি এক বিস্ময় ।৪৮০ পৃষ্ঠার এই বইটি কখনো আপনাকে হাসাবে, কখনো কাঁদাবে, কখনো সাহস যোগাবে, কখনো স্রোতের বিপরীতে চলতে শিখাবে ।সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, বইটি একবার শুরু করলে আপনি শেষ না করে শান্তি পাবেন না। লেখিকার অসাধারণ লেখনি, প্রাঞ্জল সাহিত্যরস উপযুক্ত শব্দ চয়ন ও নবী জীবনের ধারাবাহিকতা আপনাকে সাড়ে চোদ্দশো বছর আগের মক্কার অলিগলি আর মদিনার খেজুর বাগানে হেটে বেড়ানোর অনুভূতি এনে দিবে। আপনি যদি সীরাতপ্রেমী হয়ে থাকেন, এই বইটি আপনার বুকসেলফে শোভা পেতে পারে। ধন্যবাদ। """"মাসউদুর রহমান. ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া।
বইঃ মহানবী (সা:) লেখিকাঃ মাজিদা রিফা ক্যাটাগরিঃ সীরাতুন্নবী স. ধরণঃ হার্ড কভার পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ৪৮০ প্রকাশনীঃ রাহবার মুদ্রিত মূল্যঃ ৪৪০৳ 'সীরাতুন্নবী'- হৃদয়ের নিভৃতলোকে আশ্চর্য স্নিগ্ধ এক অনুভূতি জাগ্রত করে ছোট্র এই শব্দটি। জীবনের জ্ঞান ও অভিজ্ঞান এবং পথ ও পাথেয় লাভের 'আলোক-উৎস' হলো সীরাতুন্নবী। বাংলাভাষায় ১৯১৭��ালে প্রথম কোন 'লেখিকার দ্বারা' রচিত হয় সীরাতুন্নবী স:। তারপর দীর্ঘ এক শতাব্দি পেরিয়ে ২০১৮সালে মাজিদা রিফার "মহানবী" সংযুক্ত হয় বাংলাসাহিত্যের অঙ্গনে। লেখিকা হৃদয়ের সবটুকু ভালোবাসা উজাড় করে দিয়ে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব মুহাম্মাদ স. এর পূর্ণ জীবন এঁকেছেন তাঁর সুনিপূণ কলমের ছোঁয়ায়। যমযম কূপ। শুরু হয়েছে 'ইতিহাসের ইতিহাস' দ্বারা; অতঃপর হস্তিবাহিনী.. আমেনার আলোশিশু; নবীজীর জন্ম.. বিবাহ, চন্দ্রমানবীর রাজপুষ্প! মদীনায় ইসলাম। অতঃপর হিজরত। বদর যুদ্ধ.. উহুদ,খন্দক আরো পরে হুদাইবিয়া, প্রকাশ্য বিজয়। এভাবে আশ্চর্য এক গতিময়তায় বয়ে চলেছে পরের কাহিনী, ছলছল প্রবাহে.. সীরাতগ্রন্হ। অথচ গল্পে যেন আঁকা! আছে উপন্যাসের সবুজ ছায়া! ইতিহাসের ঘণ্টাধ্বনি!
কিছুদিন আগে ড. আসিফ নজরুল স্যারের একটা পোস্টে বইটি নিয়ে লেখা দেখলাম। ভাবলাম কেনা দরকার। যেই ভাবনা সেই কাজ। রমজানের শুরুতেই শুরু করলাম, মোটামুটি ভালোই লাগলো। সাবলীল ভাষা, গোছানো উপস্থাপনা, ঝরঝরে লেখনী। তবে এক্সপেকটেশন আরো বেশি ছিল।
খুবই সহজ সাবলীল ভাষায় সর্বশ্রেষ্ঠ মানব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জীবনকে তুলে ধরা হয়েছে। বর্ণনাশৈলী পাঠককে আকৃষ্ট করে রাখতে বাধ্য।
হিরাক্লিয়াস একটার পর একটা প্রশ্ন করে গেলেনঃ —'তোমাদের মধ্যে তাঁর বংশমর্যাদা কেমন?' --'তিনি উচ্চ বংশমর্যাদার অধিকারী।' —'তাঁর আগে তোমাদের মধ্যে আর কেউ এ দাবি করেছিলেন?' --'না।' —'তাঁর পূর্বপুরুষদের মধ্যে কেউ কি সম্রাট ছিলেন?' --'না।' —'তোমাদের বড়লোকেরা তার আনুগত্য করছে, নাকি দুর্বল লোকেরা?' --'দুর্বল লোকেরা।' —'তাঁদের সংখ্যা বাড়ছে, না কমছে?' --'বেড়েই চলেছে।' —'তাঁদের মধ্যে কেউ কি সেই দীনে প্রবেশ করার পর তাঁর দীনের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে তা ত্যাগ করেছে?' --'না।' —'এ দাবির পূর্বে তোমরা তাঁকে কখনো মিথ্যাবাদী বলে অভিযুক্ত করেছো?' --'না।' —'তিনি কি বিশ্বাসঘাতকতা করেন?' --'না। তবে বর্তমানে তাঁর সাথে একটি সন্ধিসূত্রে আমরা আবদ্ধ রয়েছি। এ ব্যাপারে তিনি কী করবেন, আমরা জানি না।' —'তোমরা কি তাঁর সাথে যুদ্ধ করেছো?' --'হ্যাঁ।' —'সে সব যুদ্ধের ফলাফল কী ছিলো?' --'জয়-পরাজয় সমান সমান। কখনো তিনি আমাদের পরাজিত করেছেন, কখনো আমরা তাঁকে পরাজিত করেছি।' —'তিনি তোমাদের কী কাজের আদেশ দেন?' --'তিনি বলেন, তোমরা শুধু আল্লাহর ইবাদত করো, তাঁর সাথে কাউকে শরিক কোরো না। তোমাদের পিতা-পিতামহ যা বলতেন, তা পরিহার করো। এছাড়াও তিনি নামায, সত্যবাদিতা, পরহেযগারি, পবিত্রতা-পরিচ্ছন্নতা এবং নিকটাত্মীয়দের সাথে ভালো ব্যবহারের আদেশ দিয়ে থাকেন।'
সম্রাট হিরাক্লিয়াস তার দোভাষীকে লক্ষ্য করে বললেন— 'তুমি তাকে বলো যে, আমি তোমাকে তাঁর বংশমর্যাদা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছি; তুমি বলেছো, তিনি উচ্চ বংশমর্যাদাসম্পন্ন; আর আল্লাহর রাসূলগণ পুরো কওমের সবচেয়ে উচ্চ বংশে প্রেরিত হয়ে থাকেন। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি, তাঁর আগে অন্য কেউ এ দাবি করতো কি না; তুমি বলেছো যে করেনি; যদি পূর্বে অন্য কেউ এ দাবি করতো, তবে আমি বলতাম, এই লোকটি অন্যের বলা কথারই পুনরাবৃত্তি করছে। আমি জিজ্ঞেস করেছি, তার বাপ-দাদাদের মধ্যে কেউ বাদশাহ ছিলো কি না; তুমি বলেছো, ছিলো না; যদি তার বাপ-দাদাদের মধ্যে কেউ বাদশাহ থাকতো, তবে আমি বলতাম যে, এই লোক বাপ-দাদার সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধারের মিশনে নেমেছে। আমি জিজ্ঞেস করেছি, এই দাবির পূর্বে তোমরা কোনো দিন তাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করেছিলে কি না; তুমি বলেছো, না; এতে আমার পূর্ণ বিশ্বাস জন্মেছে, যে ব্যক্তি মানুষের সঙ্গে মিথ্যা বলেন না, তিনি সর্বশক্তিমান আল্লাহ সম্পর্কে কখনো মিথ্যা বলতে পারেন না। আমি এ কথাও জিজ্ঞেস করেছি যে, বড়লোকেরা তার আনুগত্য করছে নাকি দুর্বল লোকেরা; তুমি বলেছো, দুর্বল লোকেরা; আর সকল কালে দুর্বল লোকেরাই আগে পয়গম্বরের আনুগত্য করে। আমি জিজ্ঞেস করেছি, দিন দিন তাদের সংখ্যা বাড়ছে না কমছে; তুমি বলেছো, বাড়ছে; এটাই হলো ঈমানের আসল রূপ, যতক্ষণ না তা পূর্ণতার স্তরে পৌঁছে যায়। এরপর আমি জিজ্ঞেস করেছি, তার ধর্ম-বিশ্বাস গ্রহণের পর কেউ বিরক্ত হয়ে আগের ধর্মে ফিরে গিয়েছে কি না; তুমি বলেছো, না; প্রকৃতপক্ষে ঈমানের সজীবতা অন্তরে প্রবেশের পর এরকমই হয়ে থাকে। আমি আরো জিজ্ঞেস করেছি, তিনি তোমাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেন কি না; তুমি বলেছো, না; প্রকৃতপক্ষে পয়গম্বর এরকমই হয়ে থাকেন, তাঁরা কখনো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না, বিশ্বাসঘাতকতা করেন না। আমি জিজ্ঞেস করেছি যে, তিনি কী কী কাজের আদেশ দিয়ে থাকেন; তুমি বলেছো যে, তিনি তোমাদেরকে আল্লাহর ইবাদতের আদেশ করেন, তাঁর সাথে কাউকে শরিক না করার আদেশ করেন, মূর্তিপূজা করতে নিষেধ করেন এবং নামায, সত্যবাদিতা, পরহেযগারি, পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার আদেশ দেন; তোমার বক্তব্য যদি সত্য হয়ে থাকে, তবে আমি দাঁড়ানোর জায়গাও পাবো না; খুব শীঘ্রই আমার দুই পায়ের নিচের মাটিও তার মালিকানায় চলে যাবে; আমি জানতাম যে, এই নবী আসবেন, কিন্তু আমার ধারণা ছিলো না যে, তিনি তোমাদের মধ্য থেকেই আসবেন; যদি আমার নিশ্চিত বিশ্বাস থাকতো যে, আমি তাঁর কাছে পৌঁছতে পারবো, তবে তাঁর কাছে যাওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করতাম; আর যদি এখন তাঁর কাছে থাকতাম, তবে তাঁর চরণ দুখানি ধুয়ে দিতাম।'
This entire review has been hidden because of spoilers.