নদীর বাঁকে জঙ্গল ঘেরা লাল মাটির কোলে জেগে থাকা একটি ছোট্ট পরগণা। সেখানে মাটির ঘরে, পাতায় ছাওয়া কুটিরে কয়েক ঘর দেহাতী মানুষের বাস। দীঘির মিঠে জলের মতো শান্ত, নিস্তরঙ্গ। তবু সেই আপাত স্থবির কাকচক্ষুর তলে ছাই চাপা আগুনের মতো ধিক্ধিক্ করে জ্বলছে কার রক্তচক্ষু? যার সর্বগ্রাসী দৃষ্টিতে সাঁওতাল পল্লীর ওই প্রকৃতির খুব কাছে থাকা মানুষগুলোর উপর নেমে এলো এক অভিশাপের করাল ছায়া!
এক আশ্চর্য ক্ষমতা সম্পন্ন বন্দিনী রমণী, যার চোখের কাজল বারে বারে এঁকে দিয়ে যায় আগাম ত্রাসের ছবি। গাঁয়ের এককালীন গোষ্ঠীপ্রধান বা ‘জানগুরু’, প্রবীণ এই মানুষটি গাঁয়ের অনেক ইতিহাসের সাক্ষী। আর গ্রামের দাম্ভিক জমিদার নিজের অজান্তেই এ কী ভুল করে বসল? যার মাশুল গুনতে হল গোটা গ্রামকেই।
বিজন বনানীর মাঝে ও কার বাস? তার লালাসক্ত দাঁতের ওপর ঝিলিক খেলে যায় তুষে ধরা লালসার লাল আগুনে। সে একা নিভৃতে আয়ত্ত করছে কোন গূঢ় বিদ্যা? কিসের আশায় আহ্বান জানাচ্ছে পাপ সলিলের অতল গভীর থেকে ওই কালরূপী দানবকে?
তার ডাকে সারা দিয়ে গ্রামের গগনে ঘনীভূত হয় সর্বনাশা কালো মেঘ। কেমন করে মুক্তি মিলবে এর থেকে? কিই বা উপায় যেখানে পাপের বিষাক্ত বাষ্পে ঝরে যায় অগুন্তি নিষ্পাপ প্রাণ? যখন প্রাণের আলো আড়াল করে ডানা মেলে ধরে আর থাবা গেঁড়ে বসে কালবিহঙ্গ...
এবছরের শুরুর দিকেই সংগ্রহ করেছিলাম 'ভৈরব' বইটা। কিন্তু 'কালবিহঙ্গ' ছাড়া শুরু করতে একদম ইচ্ছে করে নি। তাই কালবিহঙ্গের একটা গতি করে নিলুম। ছোটোখাটো পিচ্চি একটা বই। জাস্ট এক সিটিংয়েই পড়ে ফেলেছি। লেখিকার প্রথম বই হিসেবে এইটা আমার কাছে বেশ ভালোই লেগেছে। প্রত্যেকটা বছর নতুন নতুন লেখক লেখিকাদের বেশ কিছু হরর সংকলন পড়েছি। অধিকাংশই ছাইপাশ ছাড়া ভিন্ন কিচ্ছু মনে হয় নি। দীপাঞ্জনার লেখা সেই হিসেবে ম্যাচিউরড মনে হয়ছে। খুব সোজাসাপটা গল্প। আঞ্চলিক কথোপকথনগুলো প্রথমে অওকোয়ার্ড লাগলেও কিছুক্ষণ পর ওটাকেই বেশি উপভোগ করেছি। পরিবেশ আর ক্যারেক্টার বিল্ড আপ ও যথেষ্ট ঠিকঠাক। শুধু শেষের দিকের অতি নাটকীয়তা খানিকটা বেখাপ্পা ছিল। প্রচ্ছদটা সুন্দর।
বড়োগল্প আর উপন্যাসের মাঝামাঝি দৈর্ঘ্যের এই লেখাটি নিয়ে বসেছিলাম কাল রাতে। ক্লান্ত শরীর আর ততোধিক ক্লান্ত মন নিয়ে ভেবেছিলাম, ঘুমোবার আগে কয়েক পাতা পড়ে দেখব শুধু। ভুল ভেবেছিলাম! রাত একটা নাগাদ উপন্যাস শেষ করলাম। তার মধ্যে আমি বইটা ছাড়তেই পারিনি! কী নিয়ে লেখা হয়েছে এটি? স্বাধীনতা-পূর্ব ভারতে সাঁওতাল পরগনার এক গ্রামের ওপর ঘনিয়ে এল এক ভয়াবহ বিপদ। সেই বিপদের সামনে গ্রামের সমাজ-জীবনের ফাটলগুলো প্রথমে স্পষ্ট হয়ে উঠল। কিন্তু তারপর, মৃত্যু সবাইকে সমান চোখে দেখে বলেই হয়তো, শুরু হল প্রতিরোধের চেষ্টা। অন্ধকারের সামনে আগুন জ্বালানোর মশাল হয়ে এল এক কিশোর - ভোলানাথ! তারপর কী হল? এই লেখায় ঘটনাক্রম সরলরৈখিক। চরিত্রদেরও আঁকা হয়েছে সাদা আর কালোর সহজ দাগে, যেখানে অপাত্রে সহানুভূতি দানের কোনো সুযোগই নেই। সংলাপের ক্ষেত্রে ওই অঞ্চলের ভাষা ব্যবহৃত হলেও তা শুদ্ধ না অশুদ্ধ - সেই বিচার করার মতো জ্ঞানগম্যি আমার নেই। কিন্তু যেখানে এই লেখা অন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেছে তা হল বর্ণনা! ছোটো-ছোটো শাণিত বাক্যে, অনন্য চিত্রকল্প ব্যবহার করে লেখক ফুটিয়ে তুলেছেন অন্ধকার ও অশুভের রূপ। তন্ত্রসাধনার 'কালো' দিকটার প্রয়োগ-কৌশলের চেয়েও বেশি গুরুত্ব পেয়েছে তার ফল, আর সেই বিবরণ পড়ে আমার ক্লান্ত চোখও বড়ো হয়ে উঠেছে। লাইনগুলো পড়তে-পড়তেই আমি লেখককে সেই প্রশ্ন করেছি, যা শোনার আশায় যুগ-যুগান্ত ধরে মানুষ অন্যদের গল্প শুনিয়েছে ~ "তারপর কী হল?" লেখক, প্রকাশক, এবং তাঁদের মধ্যে মেলবন্ধন স্থাপনকারী 'ভূতভুতুম' গ্রুপের অ্যাডমিন - এঁদের প্রত্যেককে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই এমন একটি গতিময় ও চিত্তাকর্ষক লেখা উপহার চেওয়ার জন্য। লেখককে অনুরোধ জানাই, ভোলানাথ পরে যা হয়েছিলেন, সেই রূপের কাহিনিগুলোকেও দু'মলাটের মধ্যে সংকলিত করুন। আমাদের মতো যে-সব অভাজন ফেসবুকে গল্প পড়তে অভ্যস্ত নয়, তারা তাহলে ওগুলো উপভোগ করতে পারবে। ইতিমধ্যে, সুযোগ পেলেই বইটা পড়ে ফেলুন।
বই - কালবিহঙ্গ লেখিকা - দীপাঞ্জনা দাস প্রকাশনা - বিভা পাবলিকেশন বিনিময় - ১২৩ ভারতীয় মুদ্রা
বর্তমানে বাংলা সাহিত্যে তন্ত্রনির্ভর ভয়াল উপন্যাস/উপন্যাসিকা পাঠক মহলে আলোচনার শিরোমণি। প্রথমেই আলোকপাত করি বইটির প্রচ্ছদের দিকে। এক অমোঘ আকর্ষণে অনেক পাঠকের মন জয় করতে সক্ষম এই প্রচ্ছদ। অনেক সাধুবাদ জানাই প্রচ্ছদ শিল্পীকে। এবার আসি গল্পে। আমি মনে করি যে কোনও গল্পের সাফল্যতা লুকিয়ে থাকে তিনটি বিষয়ের ওপর। প্রথমটি হল, গল্পের পরিপাটি করে সাজানো প্লট। অনেকটা বাঙালি রেস্তোরাঁগুলিতে যেভাবে সুন্দর গুছিয়ে, থালার পাশে পর পর বাটিগুলো সাজিয়ে পরিবেশন করা হয় ঠিক সেরকম। দ্বিতীয় বিষয়টি হল, গল্পের চরিত্রগুলো পাঠকের কাছে কতটা বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করছে। তৃতীয় এবং সর্বোপরি প্রধান বিষয় হল, গল্পের ক্লাইম্যাক্স। লেখিকা তার কলমের জাদুদণ্ড দিয়ে সুন্দর গল্পের প্লট রচনা করেছেন। এরকম ঠাসবুনোট প্লটের জন্যই এই উপন্যাসিকা এতো সাবলীল এবং গতিময়। এবার আলোকপাত করা যাক গল্পের চরিত্রগুলো নিয়ে। গল্পের প্রথমেই দেখি, এক সাঁওতাল সংলগ্ন এলাকায় বজ্রধনু নামক দুষ্ট সাধকের কোপে গোটা গ্রামটা ধ্বংসের পথে। বজ্রধনু "কালপেঁচক" সাধনায় সিদ্ধিলাভ করে প্রতিশোধের নির্মম খেলায় মেতে উঠেছে। সেখানেই নির্ভীক, বলিষ্ঠ এবং সরলমনা ভোলানাথ নামের একটি ছেলের পরিচয় পায় পাঠককুল। সেই গ্রামের পরিত্রাতা হয়ে হাজির হন এক সুদর্শন আদি শক্তির উপাসক। যে কিনা নিঃস্বার্থভাবে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে সাধারণ মানুষকে এই নির্মম মৃত্যু খেলা থেকে মুক্তি দিতে। আরেকটি উল্লেখযোগ্য চরিত্রের কথা না বললেই নয় সেটা হলো বৃদ্ধ বগলাচরণ ওরফে জানগুরু। এই ব্যক্তিটি সবসময় ভোলানাথের পাশে থেকে বটবৃক্ষের মত আগলে গেছে। কোনো স্বার্থ ছাড়াই এক অসহায় বাপ-মরা ছেলের পাশে ছায়ার মত সর্বক্ষণের সঙ্গী হয়ে থেকেছে। এছাড়াও ভোলানাথের মায়ের ভূমিকা এই গল্পে অপরিসীম, উনিই রিলে রেসের শেষ দৌড়টা দিয়েছেন। চরিত্রের বিশ্বাসযোগ্যতার পরিপ্রেক্ষিতে লেখিকাকে ১০০ তে ১০০ দেব। এবার আসি গল্পের ক্লাইম্যাক্স পর্যায়ে। এখানে যেন লেখিকার কলম একটু নড়বড়ে লেগেছে। একটু তাড়াতাড়ি শেষ করে ফেলেছেন বলে মনে হল। শেষের দিকে আমার মনে হয় গল্পের মধ্যে একটু বিশদ বিবরণের অভাব ছিল। একটা সুন্দর গল্পের প্রবাহ চলছিল সেটা হঠাৎ কোনও মন্ত্রবলে হারিয়ে গেল। কলমের দু-একটা আঁচড়ে হয়ত সেটা ফুটিয়ে তোলা যেত।
পরিশেষে বলি, শব্দচয়নে লেখিকা একজন সুদক্ষ শিল্পী। আমার মতো একজন অর্বাচীন ও নগন্য পাঠকের গল্পটি পড়তে বা বুঝতে কোনও অসুবিধা হয়নি। অহেতুক নিজের পাণ্ডিত্য দেখাতে গিয়ে গল্পের রসবোধ থেকে পাঠককে বঞ্চিত করেননি। লেখিকাকে অনেক অভিনন্দন এরকম একটা উপন্যাসিকা পাঠক মহলে নিবেদন করার জন্য। আরো ভালো গল্প - উপন্যাস পাওয়ার আশা রইল। লেখিকার কলমের দীর্ঘায়ু কামনা করে এই পাঠ প্রতিক্রিয়া শেষ করলাম। ধন্যবাদ l।
প্রথমেই বলে রাখি ভৈরব কে নিয়ে অন্য কোন গল্প আমি আগে পড়িনি, এই বইই আমার প্রথম। গল্পটি ছোট্ট একটি তন্ত্র বিষয়ক উপন্যাস। একদিনের মধ্যে শেষ করা যায় 112 পাতার একটি বই। তন্ত্র বিষয়ক অন্যান্য বই যেরকম ভয়াবহ হয় এটা সেরকম নয় বরং বেশ মন ভালো করে দেওয়া একটা বই। যদিও বইয়ের মাঝে মাঝে কিছু ভয়াবহ দৃশ্য আছে তবে তেমন কিছু না, হজম করাই যায়। **লেখিকার একটি স্বভাব আমার খুব ভালো লেগেছে। গল্পের মধ্যেই গল্প কি চলছে না বুঝিয়ে তিনি মাঝেমধ্যে থেমে গিয়ে বেশ ভালো করে বুঝিয়েছেন প্লটটিকে। #বইয়ের মূল মনোযোগ-আকর্ষণকারী দিক হলো কিছু ছোট ছোট ইমোশনকে তুলে ধরা ... যেমন এক গ্রামের ছেলের সারল্য, কঠিন বিষয় বুঝেই শিশুসুলভ জিজ্ঞাসা নিয়ে একগাদা প্রশ্নের ঝড�� তুলে দেওয়া এবং অন্য এক সত্তিকারের জ্ঞানীর সেই প্রশ্ন করা কে প্রশংসা করা, মা ছেলেকে শক্ত হতে বলছে কিন্তু ছেলে হাউ হাউ করে কেঁদে যাচ্ছে (পুরুষের কষ্ট পাওয়া চলে)। পড়ে দেখতে পারেন বেশ ভালো লাগবে। 🥰🥰🥰
শেষ করলাম তন্ত্রনির্ভর গল্প কালবিহঙ্গ। তো গল্পের নাম থেকেই বোঝা যাচ্ছে যে এই গল্পে বিহঙ্গ বা পাখির একটা বড়ো ভূমিকা আছে, এবার এই বিহঙ্গ কিভাবে কাল হয়ে উঠলো সেটা গল্পের মাধ্যমে ক্রমশ প্রকাশ্য। গল্পের প্লট নির্মিত হয়েছে সাঁওতাল পরগনার এক গ্রামের সমাজ জীবনের ওপর ভিত্তি করে। শান্ত প্রকৃতির সেই গ্রামে হঠাৎ আবির্ভাব হয় বজ্রধনু নামে এক অশুভ শক্তির উপাসকের। কেন সে এল এই গ্রামে এবং তার উদ্দেশ্য টাই বা কি? অন্যদিকে দেখা যায় গল্পের মূল চরিত্র ভোলানাথকে, যে তার বাবার সাথে থাকে। ভোলানাথের মাধ্যমে লেখিকা গ্রামের সরল, নির্ভীক এক কিশোরকে তুলে ধরেছেন যে অন্যের বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য সদা সচেষ্ট। হঠাৎ গ্রামের ওপর নেমে আসে এক ভয়াল, অলৌকিক বিপদ। এই বিপদ থেকে গ্রামকে রক্ষা করতে পরিত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হন এক সৌম্যকান্তি পুরুষ, যিনি মহামায়ার উপাসক। কে ইনি? কেনই বা তিনি এলেন? তার সাথে কি আদেও কোনো সম্পর্ক আছে ভোলানাথ এর? কিভাবে দমন হলো সেই দুষ্ট তান্ত্রিকের? - জানতে গেলে অবশ্যই পড়তে হবে এই গল্প।
গল্পটি আসলে একটি প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার গল্প, খুব সহজভাবে সেটির প্লট তৈরি করা হয়েছে যা গল্প পড়ার মাঝপথেই পাঠক বুঝতে পারবেন। গল্পটি তন্ত্রনির্ভর হলেও সেখানে তন্ত্রের বিশদে কোনো বর্ণনা নেই বরং তন্ত্রের প্রয়োগের কথা বেশি বলা হয়েছে। গল্পের মূল ইউএসপি হল সম্পর্কের কিছু আবেগতাড়িত দিক, যা শেষে গিয়ে পাঠকের চোখের কোণ ভিজিয়ে দিতে পারে (উল্লেখ্য - মেয়েরা তো মায়ের জাত)। লেখিকার লেখনীর বাঁধন খুব সুন্দর, তবে গল্পের শেষটা যেন একটু তাড়াতাড়িই হয়ে গেল, ক্লাইম্যাক্স এর আরেকটু বিশদ বিবরণ আশা করেছিলাম। গল্পের অন্যান্য চরিত্রে মধ্যে বগলাচরণ উল্লেখযোগ্য। পরিশেষে বলা যায় যে এটি ভোলানাথ থেকে ভৈরব হয়ে ওঠার গল্প যা বইয়ের প্রচ্ছদে বলা হয়েছে। ভয়ের পরিমাণ কম হলেও যথেষ্ট গোছানো গল্প, পড়ে ভালই লেগেছে। পাঠক বিশেষে নির্ভর করবে এটি একবার না বারবার পড়ার গল্প।
🎋🕊️সদ্য পড়ে শেষ করলাম লেখিকা এর লেখা “কালবিহঙ্গ”! ‘ভৈরব’ আমার আগেই পড়া হয়ে গেছে, যদিও ভৈরব দ্বিতীয় পার্ট এই বই এর। ভৈরব পড়ে আমার দারুন লেগেছিলো। তখনই কালবিহঙ্গ পাড়ার ইচ্ছে হয়েছিল, এই উপন্যাস এ সাধারণ গাঁয়ের ছেলে ভোলানাথ কিভাবে ‘ভৈরব ওঝা’ হয়ে উঠলো সেই কাহিনী বলা হয়েছে। অসাধারণ একটি উপন্যাস পড়লাম ভীষন ভালো লাগলো। লেখিকাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এতো সুন্দর একটা বই পাঠকে উপহার দেওয়ার জন্য। আমি ভৈরব এর আরো একটি নতুন বই এর অপেক্ষায় রইলাম।
এবার আসি উপন্যাসের কথায় -
‘কালবিহঙ্গ' একটি তন্ত্র আশ্রিত উপন্যাস। তন্ত্র কথার অর্থ নিজের দেহ অর্থাৎ তনু'কে জাগ্রত করা আর মন্ত্র হল মন'কে জাগানো অর্থাৎ চিৎ শক্তির জাগরণ। যাকে আমরা একসঙ্গে ‘তন্ত্র-মন্ত্র' বলে থাকি, তা হল প্রকৃতপক্ষে নিজের দেহ ও মনকে জাগিয়ে তোলা, বিকশিত করা। গল্পের নাম থেকেই বোঝা যাচ্ছে যে এই গল্পে বিহঙ্গ বা পাখির একটা বড়ো ভূমিকা আছে, এবার এই বিহঙ্গ কিভাবে কাল হয়ে উঠলো সেটা গল্পের মাধ্যমে ক্রমশ প্রকাশ্য। জানতে হলে অবশ্যই উপন্যাস টি পড়তে হবে।যে সব পাঠক অলৌকিক ভৌতিক থ্রিলার পড়তে পছন্দ করেন তাদের জন্য এই বইটি একদম perfect!🕊️🎋
লেখিকার হাত বেশ ভালো। গল্পতা..হমম... ঠিকঠাক। কিশোর সাহিত্য হিসেবে পড়লে মানানসই। তবে যেটা সব থেকে বেশি ভালো লেগেছে তা হল গল্পের ভাষা। এই গল্প পুরোটাই সাঁওতালি ভাষায় এবং সেই মানুষদের নিয়ে। তবে তন্ত্র নিয়ে গল্প আরও ডার্ক করা যায়, এবং সেখানেই একটু হতাশ হয়েছি। তবে আশা করছি ইনি ভবিষ্যৎে আরও ভালো লিখবেন।
হরর হিসেবে বইটা অতটা ভাল না হলেও চরিত্রায়নে গুলো বেশ গুছানো ছিল। কাহিনী বেশ ছোট সাধারণ এবং সুন্দর বলা যায়। লেখিকা ছোট একটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে বইয়ের মুল চরিত্রকে উঠে এনেছেন যা বেশ দারূণ বলা যায়। তন্ত্র সাধনা এবং অপশক্তি এর অপূর্ব এক মিশ্রণ। সেই সাথে আলো আর অন্ধকারের যুগ যুগ ধরে চলে আসা বিরোধ।
সব মিলিয়ে বইটি এয়ারপোর্ট নভেলা হিসেবে দারূণ বলা যায়। এক বসায় পড়ে ফেলার মত বই।