'বাবু ও বারবনিতা’ ‘হারিয়ে যাওয়া খুনীরা’ সিরিজের দ্বিতীয় খণ্ড।
এই বইতে রয়েছে দুটি নন-ফিকশন উপন্যাস। একটির সময়কাল ১৮৮১ সাল ও অন্যটির ১৯৩৬ সাল। কিন্তু পটভূমি একই। সাবেক কলকাতার পতিতাপল্লী সোনাগাছি। ১৮৮১ সালে ত্রৈলোক্যতারিণী নামক সোনাগাছির এক বারবণিতা কিভাবে সিরিয়াল কিলার হয়ে উঠল তার রুদ্ধশ্বাস বর্ণনা রয়েছে প্রথম উপন্যাসে। আর ১৯৩৬ সালে উত্তর কলকাতার দুর্ধর্ষ খাঁদা গুণ্ডা, যে কিনা ছিল একদিকে ছিল অসংখ্য খুন-ডাকাতির খলনায়ক, অন্যদিকে সোনাগাছির ‘রবিনহুড’, তার দ্বৈতসত্তার ত্রাস জাগানো কাহিনী হল দ্বিতীয় উপন্যাসের উপজীব্য। পাশাপাশি ঊনবিংশ শতাব্দীর বাবু কালচার, তৎকালীন সোনাগাছির সমাজব্যবস্থাও এই বইতে আলোচনা করা হয়েছে দুই উপন্যাসের ছত্রে ছত্রে।
Debarati Mukhopadhyay is presently one of the most popular and celebrated authors of Bengali Literature and a TED Speaker having millions of readers worldwide.
A young Government Officer by profession and awarded with several accolades like Indian Express Devi Award 2022, Tagore Samman, 2022, Literary Star of Bengal etc, she has written 25+ bestselling novels in West Bengal from leading publishing houses. Global publishers like Harper Collins, Rupa Publication have published her English works worldwide.
A no. of novels are already made up into movies starting Nusrat Jahan, Mithun Chakraborty, Dev etc by big production houses like SVF, Eskay etc. Her stories are immensely popular in Sunday Suspense, Storytel etc.
Her Novel ‘Dasgupta Travels’, has been shortlisted for ‘Sahitya Akademi Yuva Pursakar, 2021’.
Her Novel ‘Shikhandi’ created a history when it was acquired for film by SVF within 24 hours of it’s publication. Beside this, she contributes in Bengal’s prominent literary magazines and journals regularly.
She has been selected as Country's only Bengali Literature Faculty for the esteemed Himalayan Writing Retreat.
An excellent orator, Debarati motivates people through her way of positive thinking, voluntarily guides aspirants for Government job preparation in leisure.
She’s a regular speaker in eminent institutions like Ramakrishna Mission and other educational seminars and often considered as youth icon of Bengal. She’s extremely popular in Bengal and having more than 5,00,000+ followers in Social media.
বইয়ের ভূমিকায় লেখা আছে "নন-ফিকশন উপন্যাস।"কিন্তু বইটা পড়ে উত্তেজনাপূর্ণ থ্রিলার পড়ার মজা পেয়েছি।ত্রৈলোক্যতারিণী নামক নারী সিরিয়াল কিলার আর খাঁদা গুণ্ডার কাহিনি পড়ে আমি বিস্মিত ,বাস্তবেও এদের অস্তিত্ব ছিলো সেটা বিস্ময়ের পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছে।লেখিকাকে ধন্যবাদ এরকম বিষয়বস্তু নিয়ে লেখার জন্য।
কঠোর বাস্তবের ঘটনাক্রম নিয়ে উপন্যাস লেখা সহজ নয়। প্রতি মুহূর্তেই আশঙ্কা থেকে যায়, বুঝি বা তথ্যে ভুল হল বা চরিত্রচিত্রণে গুবলেট হল। আবার এও মনে হয় যে শুষ্কং কাষ্ঠং রিপোর্ট লিখে দিলে সেটাই বা পড়ে কে? এই ক্ষুরস্য ধারা অনুসরণ করে সার্থক ঐতিহাসিক উপন্যাস— সেও আবার ক্রাইম নিয়ে— খুব কম জনই লিখতে পারেন। সৌভাগ্যক্রমে আলোচ্য বইটির লেখক এই প্রক্রিয়ায় অনেকাংশে সফল। এই বইয়ে দু'টি উপন্যাস আছে। তারা হল: ১) রাঁড় কাহিনি: এটির কেন্দ্রে আছে কলকাতার ইতিহাসে প্রথম নথিভুক্ত সিরিয়াল কিলার (অবশ্য ঠিক এই টার্মটি ব্যবহৃত হয়নি সে-যুগের দলিলে) ত্রৈলোক্যতারিণী। তার হত্যালীলা এবং প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়ের বুদ্ধি ও সততার ফলে তার শাস্তি— এই নিয়েই গড়ে উঠেছে লেখাটি। এতে আবেগের আতিশয্য এবং লেখকের তরফে অতিরিক্ত ব্যাখ্যা লেখাটিকে দুর্বল করে দিয়েছে। সর্বোপরি, এই আবেগ ও অতিকথনের ফলে মনে হয়েছে, লেখক তথ্যনিষ্ঠার বদলে গল্প ফাঁদাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। ২) কুমারটুলির রাজাবাবু: এই নাটকীয় এবং ঘাত-প্রতিঘাতে ঠাসা লেখা পড়তে গেলে সংশয় জাগে, এ কি সত্যি, না লেখকের কল্পনা? অথচ তথ্যসূত্র অনুসরণ করলে বোঝা যায়, সব সত্যি! পঞ্চানন ঘোষাল ও তাঁর দলের নিরন্তর প্রয়াস কীভাবে খ্যাঁদা নামের এক জীবদ্দশায় কিংবদন্তি হয়ে ওঠা অপরাধীকে গ্রেফতার করলেন— তাই নিয়ে লেখা হয়েছে এই উপন্যাসটি। এটি গতিময় এবং বস্তুনিষ্ঠ প্রসিডিওরাল হিসেবে যথেষ্ট উপভোগ্য। সামগ্রিকভাবে আমি দ্বিতীয় লেখাটিকে প্রথমটির তুলনায় এগিয়ে রাখব। মুদ্রণ ও বানান শুদ্ধ। অলংকরণগুলোও আবহ নির্মাণে যথাযথ হয়েছে। ট্রু ক্রাইমের অনুরাগীরা এই বইটিকে আশা করি উপেক্ষা করবেন না।
রোমহষর্ক দুটো অপরাধ উপাখ্যান৷ প্রথম গল্পটির কুখ্যাত অপরাধীটিকে আগে চিনলেও পরেরটি অনেক বেশি রোমাঞ্চকর লেগেছে আমার কাছে। অদ্ভুত চরিত্রের এই কুমারটুলির রাজার যেন দ্বৈত ব্যক্তিত্ব। একদিকে দারুণ মেধাবী, মায়া-মমতায় পূর্ণ অন্তর তো অন্যদিকে দুর্ধর্ষ খুনে ডাকাত এবং প্রতিহিংসাপরায়ণ! মনস্তাত্ত্বিক দিক বিশ্লেষণ করলে দুটো গল্পই বৈপরীত্যে ভরপুর। একজন নৃশংস নারী খুনী অথচ মা এবং প্রেমিকা হিসেবে এক নম্বরের। উপভোগ করার মতো দুইটা কাহিনী৷
"দারোগার দপ্তর", "গোয়েন্দাপীঠ লালবাজার" এগুলোর মতো সত্য কাহিনী অবলম্বনে লেখা কাহিনী যারা পছন্দ করে এই বই তাদের জন্য। বাস্তবের রক্ত মাংসের চরিত্ররাই এই গল্পে উঠে এসেছে। এখানে দুটি গল্প স্থান পেয়েছে, আর দুটি গল্পেরই পটভূমি কলকাতার সোনাগাছি। প্রচ্ছদ বেশ নজরকাড়া(অবশ্য যেটা এই মুহূর্তে goodreads এ আছে সেটার কথা বলছি না,যেখানে একজন মহিলা হাতে ছুরি নিয়ে,নাকে নথ পড়ে দাঁড়িয়ে আছে ওটার কথা বলছি) ।
১) ত্রৈলোক্য রাড় : (৪/৫) এ কাহিনী ১৮৮০সালের কলকাতা শহরের আতঙ্ক এক মহিলা সিরিয়াল কিলারের। গ্রামের সাধারণ লাজুক মেয়ে ত্রৈলোক্যতারিণী কিভাবে সোনাগাছির মোস্ট পপুলার বারবণিতা হয়ে উঠলো, ও তারপর কিভাবে অপরাধ জগতে পা রাখলো সেই কাহিনীই বর্ণিত হয়েছে এখানে।
➿ কাহিনীটা প্রথম থেকেই কেমন চেনা চেনা লাগছিলো, তারপর মনে পড়লো এই কাহিনীই তো প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায় তার "স্বীকারোক্তি" গল্পে লিখে গেছেন। পড়তে বেশ ভালোই লেগেছে। তবে সিরিয়াল কিলারদের নিয়ে যেমন থ্রিলিং গল্প হয় এটা ঠিক তেমন না, বরং সাধারণ সামাজিক গল্পের মতোই মনে হয়েছে।আর এখানে বলে রাখি এই ত্রৈলোক্যতারিণীই ভারতবর্ষের প্রথম মহিলা সিরিয়াল কিলার, যাকে "লেডি জ্যাক দ্য রিপার অফ ক্যালকাটা" নামেও আখ্যায়িত করা হয়।
২) কুমারটুলির রাজাবাবু : (৩.৫/৫) এই কাহিনীর কেন্দ্রে আছে এমন এক দ্বৈত সত্ত্বা যে একদিকে যেমন খুন ডাকাতি করেছে, পাশাপাশি সমাজসেবাও করেছে। সে আর কেউ না ১৯৩৬এর দুর্ধর্ষ খাঁদা গুন্ডা। যে কিনা "রাজা অফ কুমারটুলি" নামেও খ্যাত, আবার তাকে কলকাতার রবিনহুডও বলা হয়।
➿ পড়ার সময় মনেই হচ্ছিল না যে এটা সত্যিকারের ঘটনা, কেননা পুলিশকে এমনভাবে ল্যাজে ঘুরিয়েছে আর খাঁদা গুন্ডা যেভাবে সুপারম্যানের মতো বারবার পালিয়েছে যে মনে হচ্ছিল কল্পনার আশ্রয়ে লেখা গল্প। খাঁদা গুন্ডা প্রচুর ঘুরিয়েছে পুলিশকেও, পাঠককেও।
ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন ঘটনা বিভিন্ন সময়ে আলোড়ন ফেলেছে। কালের নিয়মে বেশিরভাগই স্মৃতি থেকে মুছে গিয়েছে, কিছু ছবি রয়ে গিয়েছে অস্পষ্টভাবে। সেই সমস্ত সত্য ঘটনাবলী উঠে এসেছে লেখকের ‘হারিয়ে যাওয়া খুনিরা’ সিরিজে। তিনটি আলাদা সিরিজে এটি ভাগ করেছেন লেখক। প্রত্যেকটি ঘটনায় ‘True Crime’ ধারার অন্তর্গত। ‘বাবু ও বারবনিতা’ এই সিরিজের দ্বিতীয় বই। এই বইয়ে দুটি কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। প্রথম কাহিনি ‘রাঁড় কাহিনি’। যে সময়ের কথা এখানে লেখা হয়েছে সেই সময়ে কোনও মহিলা খুনের দায়ে শাস্তি পাচ্ছেন, তা খুব একটা বিশ্বাস্য ছিল না। সেই সময়ে ভদ্রপরিবারের নারী তখনও অবগুণ্ঠিতা, সতীদাহ খাতায় কলমে রদ হলেও বাস্তবিক সমাজে নারী অধিকার মোটেও প্রতিষ্ঠা পাইনি। সেই সমাজে একজন কুলীন ব্রাহ্মণকন্যা কীভাবে হয়ে উঠলেন পোড় খাওয়া এক খুনি, তা আজকেও বিস্ময়ের। মহিলা সিরিয়াল কিলার ত্রৈলোক্য কীভাবে করে চললেন একের পর এক খুন, দেহব্যবসাতেও হাতেখড়ি হল কীভাবে, কীভাবেই বা দারোগা প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়ের হাত থেকে বার বার প্রমাণাভাবে বেরিয়ে গেলেও শেষে ধরা পড়লেন ও স্বয়ং দারোগাকে নিজের মুখে বললেন একের পর এক রুদ্ধশ্বাস ঘটনা তাঁর অসাধারণ বর্ণনা করেছেন লেখক। এই ঘটনার উল্লেখ ‘গোয়েন্দার দপ্তর’-এ আগেই হয়েছে। কিন্তু, তাতে এই বর্ণনায় কোনওরূপ খামতি পাওয়া যায় না। দ্বিতীয় কাহিনি ‘কুমারটুলির রাজাবাবু’। যার নামে ছিল দুটো প্রমাণিত খুন, কুড়িটা অপ্রমাণিত খুন ও পঁচাত্তরটি চুরি-ডাকাতি-রাহাজানির মামলা। এক দিকে যেমন সে ছিল দাগী অপরাধী, অন্যদিকে ছিল অদ্ভুত নরম মনের, বহু গরীব মানুষের ���াছে ছিলেন মসীহা। কলকাতা পুলিশ সর্বশক্তি দিয়েও তাঁকে ধরতে পারছিল না। পঞ্চাননবাবুর ও তাঁর টিমের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় খাঁদা ওরফে কুমারট��লির রাজাবাবু ধরা পড়ে। সেই ঘটনাপ্রবাহ লেখকের লেখনীর গুণে জীবন্ত হয়ে উঠেছে। নন-ফিকশন বই পড়তে আগ্রহী পাঠকদের এই বইটি ভালো লাগবে বলেই মনে হয়েছে।
অপরাধ জগতের প্রকৃত ঘটনা অবলম্বনে দেবারতি মুখোপাধ্যায় রচিত 'বাবু ও বারবণিতা' (হারিয়ে যাওয়া খুনিরা-২য়)। আজ থেকে প্রায় দেড়-দুশো বছর আগে ব্রিটিশ ভারতের মাটি কাঁপানো, জনজীবনে সাড়া জাগানো কিছু দুর্ধর্ষ খুনের রোমহষর্ক ইতিবৃত্ত নিয়ে এ কাহিনী। এতে রয়েছে ২ জন ব্যতিক্রমী খুনির খুনের নেপথ্য কথা, খুনির মনস্তাত্ত্বিক দিশা আর তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের আদালতে বিচার হওয়া এসব খুনের মামলার খুটিনাটি।
নন-ফিকশন উপন্যাস আকারে রয়েছে মননে অদ্বিতীয় আবেদন সৃষ্টিকারী দুই খুনির কাহিনী, যারা শুধু খুনই করেনি, খুন ঘটিত অপরাধ কে নিয়ে গেছিলো শিল্পের পর্যায়ে!! এদের একজন 'লেডি জ্যাক দ্য রিপার অফ ক্যালকাটা' খ্যাত ত্রৈলোক্যতারিণী, ভারতের অপরাধ জগতের ইতিহাসে প্রথম নারী সিরিয়াল কিলার!!! যে একজন কুলীন ব্রাহ্মণ কন্যা থেকে ভাগ্যের পরিহাসে হয়ে উঠেছিল রূপোপজীবিনী আর তার থেকে কালক্রমে পেশাগত সিরিয়াল কিলার! আর একজন 'কলকাতার রবিনহুড' খ্যাত সংহার শাস্ত্রে হাত পাকানো নিধনযজ্ঞের নায়ক, নির্বিচারে অগণিত খুনের পরও যে পরম নির্লিপ্ত। এই দুই অপরাধীর তদন্তকার্যের ভার ছিল যথাক্রমে প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায় ও ড. পঞ্চানন ঘোষাল এর কাঁধে, যাঁরা ছিলেন অপরাধ বিজ্ঞানের দুই মহারথী ও লালবাজারের পদস্থ কর্মকর্তা। কাহিনী গুলোতে পরাধীন ভারতবর্ষের সামাজিক জীবনের বিভিন্ন অনুষঙ্গের বাস্তব চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, বিশেষ করে নারীর নিম্ন সামাজিক মর্যাদার মর্মস্পর্শী গাথা, কলঙ্কের ধ্বজা ধরে যা অন্তিম নিষ্কৃতি খুঁজেছে।
দেবারতি মুখোপাধ্যায় লিখেছেন সত্য ঘটনা, কিন্তু বাচনভঙ্গি ও কাহিনীর সুনিপুণ পরিবেশনায়, আখ্যানভাগের শৈল্পিক বর্ণনায় বইটি যে উৎকর্ষ লাভ করেছে তা নিঃসন্দেহে স্তুতির দাবি রাখে। সংখ্যাতাত্ত্বিক মানকরণ তাই সন্দেহাতীত ভাবেই ১০/১০।
কয়েকদিন আগেই শেষ করেছি 'হারিয়ে যাওয়া খুনিরা' । সত্য ঘটনা অবলম্বনে ১২ টি গল্পের সমাহার। তবে তার মধ্যে এলোকেশী, এক খেলোয়াড়ের মৃত্যু ও রাইটার্স দখল। এই তিনটি গল্প সবচেয়ে বেশি পছন্দ হয়েছে।
এর পর এগোলাম এর দ্বিতীয় খণ্ড তে অর্থাৎ বাবু ও বারবনিতা তে। সূচিপত্র দেখে একটু খুশি হয়েছিলাম। মাত্র দুটো গল্প ছিলো এতে আফসোস ছিলো না কারণ আমি ছোটগল্পের চাইতে বড়গল্প পড়তে বেশি পছন্দ করি।
দুটি গল্পের মধ্যে প্রথমটি রাঁড় কাহিনী। এর মুখ্য চরিত্রের সঙ্গে অনেকের সাথে সাথে আমিও পরিচিত ছিলাম। দারোগার দপ্তরে ত্রৈলোক্যতারিণী এর সাথে বহুবার পরিচিত হয়েছি কিন্তু পূর্নভাবে তাকে পায়নি। এনার সম্বন্ধে জানার আগ্রহ ছিলো, সেইটি পূরণ করলো এই গল্প। এইজন্য লেখিকা মহাশয়াকে অনেক ধন্যবাদ।🙏🙏 ত্রৈলোক্য সম্পর্কে পূর্ন ধারণা পেয়েছি আপনার জন্যে।
তবে আমার সবচেয়ে পছন্দ ছিলো #কুমারটুলির_রাজাবাবু গল্পটি। এরকম দুর্ধর্ষ চরিত্র এর আগে কোথাও পায়নি। খাঁদা গুন্ডার সম্পর্কে পড়েই এই নামের প্রতি একটা আতঙ্ক অনুভব করছিলাম। এর ক্ষুরধার বুদ্ধি, নৃশংসতা, পরোপকারী কোনদিক সম্পর্কে বলবো। সমস্ত পুলিশ বাহিনীকে একসাথে নাকানি চুবানি দিয়েছে এই খাঁদা গুন্ডা। এই রকম একটা চরিত্রের সঙ্গে পরিচয় করানোর জন্যে আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ🙏🙏🙏।
বলাবাহুল্য প্রথমটির তুলনায় দ্বিতীয় সিরিজটি আমার সবচেয়ে বেশি পছন্দ হয়েছে। এরপর #মৃত্যুমেডেল এর দিকে এগোবো তবে আপাতত সেইটি হাতের কাছে নেই। নয়তো তিনটে পড়ে তারপর একসাথে সিরিজ সম্পর্কে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করতাম। ❤️❤️❤️❤️❤️ 👍👍 পরিশেষে আরেকটি কথা বলবো - ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন। এবং এইভাবে আমাদেরকে এমন বই উপহার দিয়ে যাবেন।🙂🙂👍❤️❤️
1.প্রথম গল্পটি ত্রৈলোক্যতারিণীর বায়োগ্রাফি এবং শেষে দারোগা প্রিয়নাথের সাথে তার অন্তিম সংঘাত নিয়ে।
সানডে সাসপেন্স "রাণী না খুনি" তে যে কালি বাবুর কথা আমরা পাই স্বামী হিসেবে তার সাথে কি ভাবে আলাপ ও তার সাথে অনেক অপরাধের কীর্তি, এছাড়াও প্রাথমিক জীবনে তারিণী যেভাবে পুরাতন সমাজের শিকার হয় সুন্দর ভাবে ব্যাখ্যা করেছেন লেখিকা।
পরবর্তীকালে কালিবাবুর ফাঁসি হওয়া সত্ত্বেও তারিণী ভয়াবহ অপরাধ চালাতে থাকে তার (কালিবাবুর) ছেলের ভরণপোষণের জন্য। প্রিয়নাথ তাকে ধরে কাল ঘাম ছুটিয়ে এবং জেলে তার অদ্ভুত আবদার ছিলো দারোগার কাছে বিদ্যাসাগরকে প্রণাম করার।
2. তারিণীর সব অপরাধ ছিলো প্রধানত তার সংসারকে ধরে রাখার উদ্দেশ্যে কিন্তু দ্বিতীয় গল্পের খাঁদা গুন্ডা হল সম্পুর্ণ বিপরীতধর্মী অপরাধী যাকে ধরার দায়িত্ব পরে ভারতের প্রথম অপরাধবিজ্ঞানী পঞ্চানন ঘোষালের ওপর।
একদা ওরিয়েন্টাল কলেজে পাঠরত অত্যন্ত ভাল ছাত্র অসমসাহসী এই গুন্ডা যেভাবে নরহত্যা এবং অপরাধ করে আর পুলিশের চোখে ধুলো দেয় সেরকমই সে উপকার করতেও পছন্দ করে। সে যেমন নোংরা কাপড় পরে বেশ্যালয় যায় তেমনি হাইকোর্টের জাজের মত উচ্চ মধ্যবিত্তদের সাথেও মিশে যায়। সে নিজের ইচ্ছার ভৃত্য।
ফাঁসির সময় সে একটি সুগন্ধী ফুলের মালা বানায় আর সেটি পরে এই অদ্ভুত অপরাধীর জীবন শেষ হয়।
স্বাধীনতা পূর্ববর্তী যুগের কলকাতা শহরের বুকে দুজন কুখ্যাত ক্রিমিনালকে ফাঁদে ফেলার নেপথ্যকাহিনী নিয়েই দেবারতি মুখোপাধ্যায়ের এই বই 'বাবু ও বারবনিতা'.. এই বই প্রধানত দুটি উপন্যাস নিয়ে লেখা হয়েছে.. স্বাধীনতা পূর্ববর্তী যুগ হলেও এই দুই কাহিনী প্রধানত দুটি ভিন্ন সময়কার, কিন্তু প্রধান ঘটনাস্থল হিসাবে স্থান পেয়েছে উত্তর কলকাতার সোনাগাছি এলাকা.. এই বইয়ের প্রথম কাহিনীতে উঠে এসেছে বাংলার প্রথম সিরিয়াল কিলার 'ত্রৈলোক্যতারিনী'-র কথা; যার ছোটবেলা থেকে শুরু করে প্রভাবশালী হয়ে ওঠা এবং তারপরে শেষ পরিণাম অবধি নিখুঁতভাবে উঠে এসেছে এই কাহিনীর মধ্যে দিয়ে.. দ্বিতীয় কাহিনীতে উঠে এসেছে কুখ্যাত ক্রিমিনাল ও বাংলার 'রবিনহুড' খাঁদা গুন্ডার কথা.. যার প্রভাব প্রতিপত্তি, নিষ্ঠূরতা ও দয়ালু মনের কথা শুনলে চমকে উঠতেন কলকাতা শহরের তাবড় তাবড় পুলিশকর্তারা.. প্রখর বুদ্ধি ও ধূর্ততার ওপর ভর করে প্রত্যেকবারই সে অসাধারণ দক্ষতার সাথে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পালাত.. এই দুই ভয়ঙ্কর খুনিকে ধরতে কি ফাঁদ পেতেছিল কলকাতা পুলিশ? উত্তর আছে এই 'বাবু ও বারবনিতা' বইটিতে..
আমাদের বাস্তব জীবন গল্প উপন্যাসের থেকেও বেশি রোমাঞ্চকর আর রহস��যময়!
ব্যক্তিগত ভাবে আমার ত্রৈলোক্য রাঁড়ের কাহিনী অতো ভালোলাগে নি। টানটান উত্তেজনা টা ছিলো না। পড়তে গিয়ে বোরিং হচ্ছিলাম খালি। তবে খাঁদা গুন্ডার কাহিনী টা এক কথায় অসাধারণ! বার বার খালি মনে হচ্ছিল খাঁদা গুন্ডা যাতে ধরা না পড়ে। পঞ্চানন ঘোষাল তো এক অসাধারণ চরিত্র।
পাচকরি দে র লেখা কাহিনীটা আমার পড়া। তবুও লেখার গুণে আবার নতুনভাবে পড়তে ভাল লাগলো। লেখিকার এই সিরিজের বইগুলো সত্যিই ভাল। পড়লে সত্য ঘটনা পড়ছি বলে মনেই হচ্ছিল না। মনে হচ্ছিল কোন ফিকশান থ্রিলার পড়ছি।
বাস্তব খুনের ঘটনায় ১৮৮০ সালে কলকাতা শহরের আতঙ্ক এক মহিলা সিরিয়াল কিলার ও ১৯৩০ সালে কলকাতা কাঁপানো খুনীর রোমহর্ষক দুটি নন-ফিকশন উপন্যাস সমষ্টি। এই ২টি সত্য কাহিনীর পটভূমি একই, কলকাতার পতিতাপল্লী 'সোনাগাছি' । ‘বাবু ও বারবনিতা’ হল ‘হারিয়ে যাওয়া খুনীরা’ এই বইটির দ্বিতীয় পর্ব। দেবারতি মুখোপাধ্যায়-এর লেখা এই বইটি সত্য খুনের ঘটনা ছাড়াও তৎকালিন ঊনবিংশ শতাব্দীর বাবু কালচার এবং সোনাগাছির সমাজব্যবস্থার উপর আলোকপাত করা হয়েছে।
হারিয়ে যাওয়া খুনিরা বাবু ও বারবনিতা মৃত্যুমেডেল লেখক - দেবারতি মুখোপাধ্যায় প্রকাশক - দীপ প্রকাশন মূল্য - 760 (একত্রে) /-
হারিয়ে যাওয়া খুনিরা সিরিজটি বিখ্যাত লেখিকা দেবারতি মুখোপাধ্যায় এর লেখা ট্রু ক্রাইম সিরিজ। এই প্রথমবার আমরা সিরিজ এর তিনটি বই সম্পর্কে একসাথে আলোচনা করছি। ট্রু ক্রাইম নিয়ে বাংলায় খুব একটা বেশি বই নেই, আমি আগের বছর লালবাজার সিরিজটি পড়েছিলাম এবং খুব এনজয় করছিলাম। সেই আগ্রহ নিয়েই লেখিকার এই সিরিজটি শুরু করেছিলাম। প্রথম দুটো পার্ট আমার কাছে বুক ফার্ম থেকে প্রকাশিত ভার্সন গুলো আছে, শেষ পার্ট মৃত্যুমেডেল দীপ প্রকাশন এর ভার্সনটি। ১৮৭০ সালের ঔপনিবেশিক শাসনে থাকা ব্রিটিশ ভারতবর্ষ থেকে ১৯৯৩ সালের আধুনিক ভারতবর্ষ, এই সুবিশাল সময়কাল নিয়ে ঘটে যাওয়া 20টি ঘটনা নিয়ে এই সিরিজটি, প্রথম পার্ট 'হারিয়ে যাওয়া খুনিরা' বইটিতে 12টি ঘটনা, দ্বিতীয় পার্ট 'বাবু ও বারবনিতা ' 2টি ঘটনা,তৃতীয় পার্ট 'মৃত্যুমেডেল ' বইটিতে 6টি ঘটনার বর্ণনা করা হয়েছে।
পটভূমি - হারিয়ে যাওয়া খুনিরা ট্রু ক্রাইম সিরিজ এর প্রথম বই, এই বইটিতে 12 টি হত্যাকাণ্ড বর্ণনা করা হয়েছে। কোনো হত্যাকাণ্ডের পটভূমি গ্রামবাংলার প্রত্যন্ত গ্রাম, কোনোটির শৈলশহর দেরাদুন, কোনোটির আবার বোম্বাই শহর। ইন্দোরের দেশীয় রাজার বিলাসিতা থেকে পার্কসার্কাসের এক জাদুকরি হত্যা, এই ট্রু ক্রাইম সিরিজের প্রতিটি কাহিনির পরতে পরতে আঁকা হয়েছে অপরাধী মনস্তত্ত্ব, মোডাস অপারেন্ডি, হত্যাকাণ্ডের লোকাস ডেলিক্টি এবং রোমহর্ষক বিবরণ যার নিষ্ঠুরতা ও জটিলতার তীব্রতা বিস্ময়কর ও বেদনাদায়ক। 'বাবু ও বারবনিতা’ ‘হারিয়ে যাওয়া খুনীরা’ সিরিজের দ্বিতীয় খণ্ড। এই বইতে রয়েছে দুটি নন-ফিকশন উপন্যাস। একটির সময়কাল ১৮৮১ সাল ও অন্যটির ১৯৩৬ সাল। কিন্তু পটভূমি একই। সাবেক কলকাতার পতিতাপল্লী সোনাগাছি। ১৮৮১ সালে ত্রৈলোক্যতারিণী নামক সোনাগাছির এক বারবণিতা কিভাবে সিরিয়াল কিলার হয়ে উঠল তার রুদ্ধশ্বাস বর্ণনা রয়েছে প্রথম উপন্যাসে। আর ১৯৩৬ সালে উত্তর কলকাতার দুর্ধর্ষ খাঁদা গুণ্ডা, যে কিনা ছিল একদিকে ছিল অসংখ্য খুন-ডাকাতির খলনায়ক, অন্যদিকে সোনাগাছির ‘রবিনহুড’, তার দ্বৈতসত্তার ত্রাস জাগানো কাহিনী হল দ্বিতীয় উপন্যাসের উপজীব্য। পাশাপাশি ঊনবিংশ শতাব্দীর বাবু কালচার, তৎকালীন সোনাগাছির সমাজব্যবস্থাও এই বইতে আলোচনা করা হয়েছে দুই উপন্যাসের ছত্রে ছত্রে। 'মৃত্যুমেডেল' এই ট্রু ক্রাইম সিরিজেরই তৃতীয় খণ্ড। এই খণ্ডে রয়েছে ছয়টি সত্য ঘটনা, যেগুলো নানা সময়ে দেশের নানাপ্রান্তে আলোড়ন তুলেছিল। সিরিজের নিয়ম মেনে প্রতিটি ঘটনারই কেন্দ্রে রয়েছে একেকটি মৃত্যু, যে মৃত্যু সেইসময় জনমানসে সৃষ্টি করেছিল তীব্র প্রতিক্রিয়া। পরে ধীরে ধীরে সময়ের প্রলেপে তা হারিয়ে গিয়েছে ইতিহাসের গর্ভে। হারিয়ে গিয়েছে কুশীলবরাও।
পাঠ প্রতিক্রিয়া - ট্রু ক্রাইম সিরিজটি মূলত নন ফিকশন এর মধ্যেই পরে। লেখিকার এর আগে একটি মাত্র উপন্যাস আমি পড়েছিলাম ভালই লেগেছিলো, ট্রু ক্রাইম ঘরানা আমার বেশ পছন্দের তাই বই তিনটি তুলে নিয়েছিলাম, লেখিকা হতাশ করেননি। প্রথম পার্টটির 12টি ঘটনার নির্বাচন খুবই ভালো, তার সাথে লেখিকার কল্পনা মূল ঘটনা থেকে বিন্দু মাত্র বিচ্ছিন্ন করেনি। দ্বিতীয় পার্ট এর একটি গল্প চেনা, দারোগা প্রিয়নাথ এর বইটিতে পড়েছিলাম, এখানেও পড়লাম একটু আলাদা কিন্তু বেশ লেগেছে। আমার সবথেকে পছন্দের পার্টটি হলো তৃতীয় পার্ট মৃত্যুমেডেল, অসাধারণ কয়েকটি ঘটনার বর্ণনা এখানে করা হয়েছে। মৃত্যুমেডেল গল্পটি এবং হায়েনা গল্পটি দারুন লেগেছে। লেখিকার রিসার্চ এবং পড়াশুনা সম্পর্কে কুর্নিশ জানাতেই হয়। প্রচুর তথ্যবহুল তিনটি বই। লেখার ভাষা খুব সাদামাটা, তরতর করে পড়ে ফেলা যায়। লাস্ট পার্টটিতে প্রত্যেকটি বিবরণে বেশ থ্রিলিং ব্যাপার পেয়েছি যা অন্য পার্ট গুলোয় মিসিং। লেখিকার সবথেকে বেশি সাফল্য সেখানেই গল্পগুলি পড়তে পড়তে প্রচন্ড অবাক হতে হয়েছে যে এইগুলি সত্য ঘটনা, পড়ার সময় সেটা একবারও মনে হয়নি, পড়ার মাঝে বিরতির সময় মাথায় এসেছে আরে এইসব সত্যিই ঘটেছিল। যারা ট্রু ক্রাইম নিয়ে পড়তে ভালোবাসেন তাদের জন্য এই সিরিজটি অবশ্যই পাঠ্য।