#Series_Review :08
সিরিজ রিভিউঃ ভিলেনস
সুপারহিরো, ফ্যান্টাসি আর সাথে যদি থাকে অ্যান্টি-হিরো জাতীয় উপাদান, তাইলে ভি ই শোয়াবের “ভিলেনস” সিরিজ পড়তে আর দেরি কেন। বুকটিউবে এই সিরিজের প্রশংসা, আর গুডরিডসে হাই রেটিং দেখে পড়ার লোভ আর সামলাতে পারলাম না। তাছাড়া আরবান ফ্যান্টাসি নিয়ে আমার আগ্রহ বরাবরই ছিল।
প্লটঃ
ভিক্টর আর এলি দুজনেই কলেজ রুমমেট, অসাধারণ মেধাবী, সাইন্সের ছাত্র। আর দুজনেরই রয়েছে পড়াগুনার বাহিরে অন্যরকম সাইন্সের প্রতি আগ্রহ। এরই মধ্যে তারা এক সাইন্স এক্সপেরিমেন্টের আয়োজন করে নিজেদের রুমে, এই থিওরি পরীক্ষা করার জন্য যে প্রায় মৃত্যুর কাছাকাছি যাবার অভিজ্ঞতা মানুষকে সুপারপাওয়ার দিতে পারে। এরই মধ্যে দুই বন্ধুর মাঝখানে আসে অ্যাঞ্জি, যাকে দুজনেই পেতে চায়। একদিন তাদের সাইন্স এক্সপেরিমেন্টে হয় এক ভয়াবহ গণ্ডগোল, অ্যাঞ্জির মৃত্যু, আর ভিক্টর যায় জেলে। ১০ বছর পরে ভিক্টর জেল থেকে ছাড়া পেয়ে খুঁজে বেড়ায় এলিকে, প্রতিশোধের নেশায়, আর এলি চায় পৃথিবীর সকল সুপারপাওয়ারধারী মানুষদের হত্যা করতে।
রিভিউঃ
শোয়াবের বইয়ের প্রধান আকর্ষণ হল তার ঝরঝরে, মেদহীন গদ্য, আর জটিল চরিত্র। ভিক্টরকে আমরা কখনই পুরোপুরি বুঝতে পারি না, বুঝতে পারি না সে ভাল না খারাপ। তার প্রতিশোধের নেশার পেছনে যে কারন তা ফেলে দেয়া যায় না। সময়ে সময়ে তার জীবনের নষ্ট হয়ে যাওয়া বছরগুলির জন্য আমাদের দুঃখ হয়, কিন্তু প্রতিশোধ নেবার জন্য সে যা করে তা সবসময় মেনে নেয়া যায় না। এলিকে প্রথমে ভালই লাগে কিন্তু পরবর্তীতে দেখি তার ভিন্ন রুপ। সিরিজের প্রথম বই “ভিসাস” শুরু হয় এক কবরস্থানে কবর খুঁড়তে থাকা ভিক্টর, আর জান হাতে পালিয়ে বেড়ানো এক ছোট মেয়ে সিডনিকে দিয়ে। আমরা ভাবি কে এই ভিক্টর, কেন সে চায় প্রতিশোধ, আর কেনই বা সিডনি পালিয়ে বেড়াচ্ছে। রহস্য ঘনীভূত হতে থাকে, আর সাথে আমরা ফ্লাসব্যাকে পরিচিত হই আসল ভিক্টর আর এলির সাথে। ভিক্টরের সাথে হওয়া অন্যায়ের জন্য আমাদের কস্ট হয়, একই সাথে আমরা সমবেদনা বোধ করি এলির সাথে তার প্রেমিকার মৃত্যুর জন্য। কিন্তু বর্তমানে যখন আবার তাদের দেখি, তখন আর কাউকেই সাদাকালো চোখে বিচার করা যায় না। বই শেষ হয় ক্লিফহ্যাংগার দিয়ে, আর পরবর্তী বইয়ের জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হয় ৫ বছর। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ বই “ভেঞ্জফুল” শুরু হয় আগের বইয়ের ৫ বছর পরে। এলি এখন জেলে, আর ভিক্টর খুঁজে বেড়ায় তার সুপারপাওয়ার থেকে মুক্তি পাবার উপায়। এলি চায় ভিক্টরের উপরে প্রতিশোধ নেবার, আর আমরা আটকে পড়ি এক ভয়ানক প্রতিশোধের চক্রে। এদিকে আরও নতুন কিছু মানুষ সুপারপাওয়ার লাভ করে সংঘবদ্ধ হচ্ছে নিজেদের ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য। এই বইয়ে আমরা পরিচিত হই নতুন কিছু চরিত্রের সাথে, যার মধ্যে মারসেলাকে আমার খুব ভাল লেগেছে। যদিও তার আছে এক কষ্টকর অতীত, কিন্তু সে এলি বা ভিক্টরের মতো অ্যান্টি-হিরো নয়, সে পুরোপুরি এক ভিলেন। ছোট্ট সিডনিকে ইচ্ছা করে আদর করি খুব, আর ভিক্টর আর সিডনির মধ্যে সম্পর্ক শুধু হিরো আর তার সাইডকিকের নয়, বরং অন্য রকম বাবা-মেয়ের মত সম্পর্ক। দুইটি বই টানটান, এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলার মত, আর শোয়াবের ঝরঝরে গদ্যর জন্য একটুও বোরিং লাগে নি।
শেষকথাঃ
বুঝাই যাচ্ছে যে আমার অনেক প্রিয় একটি সিরিজ এটি। যারা সুপারহিরো আর ফ্যান্টাসির মিশেল ভালবাসেন তাদের জন্য অবশ্যই রিকমেন্ড করব।