What do you think?


রাধেয়
আমি সূত কিংবা সূতপুত্র, কিংবা আমি যে-ই হই না কেন
জন্ম আমার দৈবের অধীন, কিন্তু কর্ম আমার পৌরুষের
এমনটাই বলেছিলেন কর্ণ। যখন মানুষ কুলগৌরবে গৌরবান্বিত হয়ে জন্মের কারণে সুবিধা লাভ করত, ছোটজাত মেনে নিত উচ্চ বর্ণের চাপিয়ে দেওয়া নিয়ম, তখন কর্ণ সে পুরুষ, যিনি বহুযুগ ধরে চলে আসা নিয়মের বিরোধিতা করেছিলেন। জন্মের পরই মাতৃ পরিত্যক্ত সেই কর্ণ, মহাবীর কর্ণ, দাতা কর্ণ নামে পরিচিত হন।
মহাভারতকে আশ্রয় করে কর্ণকে নিয়ে এ উপন্যাস। মহাভারতে কর্ণ কখনও সূতপুত্র, কখনও সূর্যদেবের পুত্র। কিন্তু 'রাধেয়' তাঁর সে সব পরিচয় বহন করেও আরও বৃহৎ কোন অনুসন্ধানে এগিয়ে চলে। 'রাধেয়' একজন মানুষের গল্প। দোষে গুণে যে মানুষ নিজেকে খুঁজে বেড়ায়, নিজের জীবনের অর্থ খুঁজে বেড়ায়। সে খোঁজের মাঝে সমাজের বাঁধা, নিজের বিবেকের সঙ্গে দ্বন্দ্ব। সবকিছু মিলিয়ে কর্ণকে, কিংবা নিজেকে খুঁজে পাওয়ার যাত্রার নাম 'রাধেয়'।
116 pages, Hardcover
First published September 25, 2019
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 23 of 23 reviews
January 5, 2024
মহাভারত আশ্রিত উপন্যাস, তায় বসুষেন কর্ণের কাহিনী। প্রত্যাশা ছিল না বললে মিথ্যাচার হয়। লেখকের গদ্য মন্দ নয়। সচেতন ভাবেই বইতে তৎসম শব্দের প্রাচুর্য্য। লেখনী শুরুতে কিছুটা নড়বড়ে হলেও, শেষমেষ উৎরে যায় ভালোই। সেদিক থেকে আমার কোনো অভিযোগ নেই। তবুও দুটোর বেশি তারা এই বইয়ের প্রাপ্য নয়। কারণ উপন্যাস হিসেবে 'রাধেয়' আদতে বৈশিষ্ট্যহীন।
কোনো র্যাডিকাল বিনির্মাণের পথে হাঁটেননি লেখক। নেই কোনোরূপ ভ্রান্ত হিরো ওয়ার্শিপিংও। থাকবার মধ্যে, কেবল কর্ণের মুখে মহাভারতের সিংহভাগ পুনরাবৃত্তি। সেই একই গল্প, ঘুরিয়ে ফিরিয়ে অতি-সরলীকৃত হয়ে। এরূপ উপন্যাসের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য কি? তাও এত স্বল্প কলেবরে? আশ্চর্য হই, যখন মহাকাব্যের ধারাবিবরণীর চক্করে হারিয়ে যায় খোদ সূর্যপুত্র নিজেই!
প্রথম পুরুষে বর্ণিত হওয়ার দরুন, বইতে কর্ণের মানসিক অন্তর্দ্বন্দ্ব তুলে ধরার প্রচেষ্টা বিদ্যমান। এই ক্ষেত্রে, লেখক সামান্য হলেও সফল। তবুও, এই দ্বৈততা অচিরেই বিভ্রান্তির আকার নেয়। খল কার্যে প্রবৃত্ত হয়ে বারংবার 'কেন যে অমুক কাজটি করলাম, ঠিক বুঝতে পারলাম না' জাতীয় অভিব্যক্তির আশ্রয় নিয়ে বসেন আমাদের উপন্যাসের নায়ক। যা এমন চমৎকার একটি চরিত্রের যাবতীয় ধূসরতা ক্ষীরসাগরে বিসর্জন দিয়ে আসে। সবটাই হয়ে ওঠে ভীষণ অপরিণত ও বিশেষত্বহীন।
ঝটিকা সফরে বিলীয়মান মহাকাব্যের মাধুর্য্য।
তাই কোথাও গিয়ে, আমার এই ঋণাত্মক প্রতিক্রিয়া ন্যায়সঙ্গত। এ বই থেকে চিন্তার খোরাক স্রেফ তাদেরই মিলবে যারা এযাবৎ মহাভারতের সাথে কোনোদিনও পরিচিত হননি। রাজশেখর বসু দুরস্ত, শিশুতোষ উপেন্দ্রকিশোরও একবার পড়া থাকলে, এ জিনিসে মেরিট পাওয়া দুষ্কর।
পুনশ্চ : বাসুদেব কৃষ্ণ ও সৌবল শকুনির প্রথম সাক্ষাতের দৃশ্য আঁকতে গিয়ে কথোপকথনের সাহায্য নিয়েছেন লেখক। যথা...
“প্রণিপাত, মামামশাই।”
“আহা বাসুদেব,” বিগলিত ভাব করে বললেন তিনি, “মামা সম্বোধন করার কী প্রয়োজন?”
“কেন নয়!” যেন বড়ো অবাক হয়েছেন বাসুদেব।
“আপনার মামা হতে বড়ো শঙ্কা হয়। কংসের কথা তো...” বিগলিত হাসি পুনরায় শকুনির।
পড়তে পড়তেই চেনা ঠেকছিল। অগত্যা, খোঁজ লাগালুম। এ জিনিস ব্যাসদেব মূলগ্রন্থে লিখে থাকলে, আমায় কেউ জানিয়ে দেবেন। বুঝবো আমারই অজ্ঞতা। রিভিউ এডিট করে দেবো'খন। তবে আপাতত, আমার গোয়েন্দাগিরির ফল এই লিংকে মিলবে (বাজে এডিটেড মিউজিক উপেক্ষা করুন):
[https://youtube.com/shorts/lymigcJ1ej...]
(২/৫ || ডিসেম্বর, ২০২৩)
কোনো র্যাডিকাল বিনির্মাণের পথে হাঁটেননি লেখক। নেই কোনোরূপ ভ্রান্ত হিরো ওয়ার্শিপিংও। থাকবার মধ্যে, কেবল কর্ণের মুখে মহাভারতের সিংহভাগ পুনরাবৃত্তি। সেই একই গল্প, ঘুরিয়ে ফিরিয়ে অতি-সরলীকৃত হয়ে। এরূপ উপন্যাসের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য কি? তাও এত স্বল্প কলেবরে? আশ্চর্য হই, যখন মহাকাব্যের ধারাবিবরণীর চক্করে হারিয়ে যায় খোদ সূর্যপুত্র নিজেই!
প্রথম পুরুষে বর্ণিত হওয়ার দরুন, বইতে কর্ণের মানসিক অন্তর্দ্বন্দ্ব তুলে ধরার প্রচেষ্টা বিদ্যমান। এই ক্ষেত্রে, লেখক সামান্য হলেও সফল। তবুও, এই দ্বৈততা অচিরেই বিভ্রান্তির আকার নেয়। খল কার্যে প্রবৃত্ত হয়ে বারংবার 'কেন যে অমুক কাজটি করলাম, ঠিক বুঝতে পারলাম না' জাতীয় অভিব্যক্তির আশ্রয় নিয়ে বসেন আমাদের উপন্যাসের নায়ক। যা এমন চমৎকার একটি চরিত্রের যাবতীয় ধূসরতা ক্ষীরসাগরে বিসর্জন দিয়ে আসে। সবটাই হয়ে ওঠে ভীষণ অপরিণত ও বিশেষত্বহীন।
ঝটিকা সফরে বিলীয়মান মহাকাব্যের মাধুর্য্য।
তাই কোথাও গিয়ে, আমার এই ঋণাত্মক প্রতিক্রিয়া ন্যায়সঙ্গত। এ বই থেকে চিন্তার খোরাক স্রেফ তাদেরই মিলবে যারা এযাবৎ মহাভারতের সাথে কোনোদিনও পরিচিত হননি। রাজশেখর বসু দুরস্ত, শিশুতোষ উপেন্দ্রকিশোরও একবার পড়া থাকলে, এ জিনিসে মেরিট পাওয়া দুষ্কর।
পুনশ্চ : বাসুদেব কৃষ্ণ ও সৌবল শকুনির প্রথম সাক্ষাতের দৃশ্য আঁকতে গিয়ে কথোপকথনের সাহায্য নিয়েছেন লেখক। যথা...
“প্রণিপাত, মামামশাই।”
“আহা বাসুদেব,” বিগলিত ভাব করে বললেন তিনি, “মামা সম্বোধন করার কী প্রয়োজন?”
“কেন নয়!” যেন বড়ো অবাক হয়েছেন বাসুদেব।
“আপনার মামা হতে বড়ো শঙ্কা হয়। কংসের কথা তো...” বিগলিত হাসি পুনরায় শকুনির।
পড়তে পড়তেই চেনা ঠেকছিল। অগত্যা, খোঁজ লাগালুম। এ জিনিস ব্যাসদেব মূলগ্রন্থে লিখে থাকলে, আমায় কেউ জানিয়ে দেবেন। বুঝবো আমারই অজ্ঞতা। রিভিউ এডিট করে দেবো'খন। তবে আপাতত, আমার গোয়েন্দাগিরির ফল এই লিংকে মিলবে (বাজে এডিটেড মিউজিক উপেক্ষা করুন):
[https://youtube.com/shorts/lymigcJ1ej...]
(২/৫ || ডিসেম্বর, ২০২৩)
March 6, 2021
'তবু মনে হয়, এক নিরানন্দ জীবন-যাপন করে কোন পরিণতির পানে এগিয়ে চলেছি। জগতে কিছু মানুষ বুঝি এমনই হয়। তাদের অভিলাষ পূর্ণ হয় না। বহু ঘটনায় যুক্ত হয়েও কৃত কর্মের স্বীকৃতি পায় না।' 'কিন্তু নিয়তির বিধান, অথবা সঠিক সিধান্তের অভাবে পুরানে কিংবা ইতিহাসে বারবার এমন ঘটনা ঘটে। কর্ণরা ফিরে আসেন বারবার। চলে যান নিভৃতে'।
আজ হঠাৎই মনে হলো কথাটা, প্রায় ষোল-সতেরো বছর ধরে নিয়মিত বই পড়ছি। কিন্তু এখনও চমৎকৃত হবার গুণটা হারিয়ে যায়নি। বোধহয় যাবেও না কখনো। নিজাকে সাহিত্য বিশারদ মনে হয়নি কখনো, হবেও না। আমার এই পড়ুয়া জীবনের সূচনা হয়েছিল চাচার শেলফ থেকে উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরীর ছেলেদের মহাভারত দিয়ে। তখন কতটা কি বুঝেছিলাম, তা বলাটা মুশকিল। তবে অভিভূত হয়েছিলাম, এটা মনে আছে। কিন্তু একটু বড় হয়ে যখন আবারো ছেলেদের মহাভারত পড়ি, তখন হতাশ হয়েছিলাম আসলেই। আমার সবচেয়ে পছন্দের চরিত্র কর্ণকে সেখানে কিছুটা উপেক্ষিত মনে হয়েছিল। কিন্তু রাধেয়, নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে যে বইটার মুখ্য চরিত্র কে হতে পারে। জ্বি, কর্ণ। পুরাণ আশ্রিত কিছু উপন্যাস আগে পড়ে হতাশ হয়েছি, তাই সহজে এই পথ মাড়াই না। কিন্তু, এবারে একমাত্র কুন্তী পুত্রের কারণে বইটা না নিয়ে থাকতে পারিনি। এবং, সিদ্ধান্তটা যথার্থই ছিল।
রাধেয় উপন্যাসে কর্ণ কেবল দেবতার পুত্র নয়, সে দোষে-গুণে একজন মানুষ। মহাভারতে যে মানুষটি নানা সময়ে নিয়তি, পিতা-মাতা, রাজবংশ কর্তৃক চালিত। পুরো উপন্যাসটি বর্ণিতই হয়েছে তার ভাষ্যে। সুতরাং, সেই দিক বিবেচনায় আমরা হয়তো মহাভারতের একপাক্ষিক মঞ্চায়নই দেখতে পাবো। ব্যক্তিগত ভাবে আমার ভালো লেগেছে, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার প্রাক্কালে কর্ণের ভাবনা এবং আত্মদ্বন্দ্বের বিষয়টা। লেখক দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন এই দিকগুলো। কর্ণের মত মানুষ প্রতি যুগেই থাকে। যে লড়ে যায় নিজের স্বপ্নের জন্যে, মর্যাদা লাভের জন্য। কেউ হেরে যায়, কেউ জয়ী হয়। কর্ণ সেসব লড়াকু মানুষের প্রতিভূ। যারা মহাভারত অনেক আগে পড়েছেন, একবার রিভাইজ দিব দিব করে দেয়া হচ্ছে না, তাদের জন্যে একটা ফ্ল্যাশব্যাকের মত 'রাধেয়' বইটা। একটাই আক্ষেপ, পরিসর বড্ড ছোট।
এই ধরণের উপন্যাস লেখার জন্যে যে ধরণের ভাষার দখল একজন লেখকের থাকার দরকার, তা মাহমুদের আছে। আশা করছি তার কাছ থেকে সামনে আরো এরকম কাজ পাবো।
May 31, 2022
বেশি ভালো লাগেনি। যারা ইতিমধ্যে মহাভারতের কাহিনি জানেন, তাদের জন্য নতুন কিছু নেই। ভাষার ব্যবহার, চরিত্রায়ণ আরো পরিণত হওয়া প্রয়োজন ছিলো। এখন দ্রৌপদি পড়ছি। এটার তুলনায় ওটা বেশ ভালো
March 4, 2020
বইঃ রাধেয়
লেখকঃ মাহমুদুর রহমান
প্রকাশনাঃ নালন্দা
পৃষ্টাঃ ১১৪
কৌন্তিয় পুত্র কর্ণ সেই জন্মলগ্ন থেকেই অবহেলিত৷ ঋষি সেবায় খ্যাতিপ্রাপ্ত মাতা কুন্তি একদা তার সেবার মাধ্যমে ঋষি দুর্বাসা দ্বারা বর প্রাপ্ত হন। এই বরের কল্যানে কোন দেবতা কুন্তি কে ফিরিয়ে দিতে পারবে না পুত্র দান করতে৷ সেই বশীভূত মন্ত্রের প্রয়োগ সুন্দরি কুন্তির দরকার ছিল না৷ মানুষের নিষিদ্ধ বস্তুর প্রতি আর্কষণ সেই পৃথিবীর শুরু থেকেই ছিল৷ মন্ত্রের মাধ্যমে কুন্তি আহবান করলেন সূর্য দেব কে৷ কৌতুহলের অবসান হবার পর তিনি চাননি কোন পুত্র সন্তান। কিন্তু এই মন্ত্রের ফের কাটানো অসম্ভব৷ পুত্র সন্তান পেলেন কুন্তি, সূর্য দেবের কৃপায় তার কুমারিত্বও রইলো অটুট৷ নিছক কৌতুহলের বশেই জন্ম হল মহাভারতের কালজয়ী চরিত্র কর্ণের৷
লোক লজ্জার কলংকে কর্ণ কে ভাসিয়ে দেওয়া হয় নদীর জলে।সূর্যের পুত্র কে সূর্য নিজেই রক্ষা করবেন। অবহেলা সেই জন্মলগ্ন থেকে শুরু৷ পালিত হতে থাকে কর্ণ পালক পিতা অধিরথ ও মাতা রাধার স্নেহে। এই আখ্যান এখানে থেমে গেলে তো কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধক্ষেত্র তৈরি হত না৷ কিন্তু অমোঘ নিয়তি খন্ডাবে কে?
বিচিত্রবীর্যের কনিষ্ট পুত্র পাণ্ডুর সাথে বিবাহ বন্ধনে অবদ্ধ হলেন কুন্তি৷ পাণ্ডুর দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন মাদ্রী। হস্তিনাপুরের রাজধিরাজ পাণ্ডু'র জেষ্ট্য ভ্রাতা ধৃতরাষ্ট্র ছিল জন্মার্ধ। তাই জেষ্ট্য হবার শর্তেও পাণ্ডুর ভাগ্যেই জুটে রাজ সিংহাসন৷ তবে সেই রাজ ক্ষমতা তার কপালে বেশি দিন টিকলো না। একদা জঙ্গলে শিকার করতে গিয়ে রমনরত অবস্থায় দুইটি হরিণ কে তীরবিদ্ধ করেন রাজা পাণ্ডু৷ বিধিবাম সেই পশুরুপি হরিণ ছিল ঋষি কিন্দম ও তার স্ত্রী। ঋষি কিন্দম স্ত্রী গর্ভে সন্তান আনবার জন্য সহবাস অবস্থায় ছিলেন। ঋষি কিন্দম অভিশাপ দেয় রাজা পাণ্ডু কে, স্ত্রী সহবাসে তার মৃত্যু হবে৷
নিজের পাপের বোঝা বইতে দুই স্ত্রী কে নিয়ে বনবাসের সিদ্ধান্ত নেয় রাজা পাণ্ডু৷ সিংহাসনের মায়া ত্যাগ করে চলে যান গহীন অরণ্যে৷ তার অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত রাজা হন ধৃতরাষ্ট্র৷ কুন্তি তো আগেই ঋষি দুর্বাসা দ্বারা বরপ্রাপ্ত ছিল৷ গহীন অরণ্যে ঋষি দুর্বাসার বরের ফলে সন্তান প্রাপ্ত হন রাজা পাণ্ডু৷ কুন্তি মন্ত্র শিখিয়ে দেয় মাদ্রী কে৷ দেবতাদের কল্যানে কুন্তির ওরসে জন্ম হয় যুধিষ্ঠির, ভীম ও আর্জুনের৷ অপর স্ত্রী মাদ্রীর ওরসে জন্ম হয় নকুল ও সহদেব৷ জন্ম হল পঞ্চ পাণ্ডবের৷ অপরদিকে মহাদেবের কল্যানে ১০০ পুত্রের বর লাভ করে ধৃতরাষ্টের স্ত্রী গান্ধারি। মনে মনে গান্ধারির এক কন্যা সন্তানের বাসনা ছিল৷ ধৃতরাষ্টের স্ত্রী গান্ধারি প্রসব করলো এক মাংসপিন্ড। সেখান থেকে জন্ম নিল কৌরব বংশের দুর্যোধন, দুঃশাসন সহ ১০০ পুত্র ও এক কন্যা সন্তান৷ জন্ম হল কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের পেক্ষাপট৷ সেই পাণ্ডব ও কৌরব বংশের যুদ্ধ নিয়ে রচিত হয় মহাভারতের কুরুক্ষেত্র৷
কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের পাশাপাশি আগাতে থাকে রাধেয় কর্ণের গল্প৷ কর্ণ আর্যাবর্তের মাঝে গৌরব অর্জন করা ধনুর্ধর৷ বাল্যকাল থেকেই অস্ত্রের প্রতি ছিল তার নিষিদ্ধ আর্কষণ। পালক পিতা সূত অধিরথ দ্বারা পালিত হওয়ায় ধর্ম ও সমাজের চোখে অস্ত্র শিক্ষা তার জন্য ছিল নিষিদ্ধ৷ বাল্যকাল থেকে বঞ্চিত কর্ণ ছলনার সাহায্য পরশুরামের কাছ থেকে অস্ত্র শিক্ষা তো পেলেন তবে সত্য উন্মোচন হওয়ায় একই সাথে পেলেন বর ও শাপ৷ সংকটের মূর্হুতে বিস্মৃত হবে তার বিদ্যা?
পাঠ্য প্রতিক্রিয়াঃ
মহাভারত এক কালজয়ী মহাকাব্য। এই অপূর্ব আখ্যানের সূতিগার ছোট ছোট গল্প কে এক সুতোয় সেলাই দিয়ে রচিত করেছে কালজয়ী এই সৃষ্টি৷ কালের স্রোতে কিছু চরিত্র উহ্য থেকে যায়৷ তেমনেই এক চরিত্র হল কর্ণ৷ আধুনিক ভাষায় তাকে এন্টি ভিলেন ও বলা চলে৷ মহাভারত কেন্দ্রিক উপন্যাস নিয়ে কাজ করার নতুন স্রোতধারায় গা ভাসালেন মোগলনামা খ্যাত লেখক মাহমুদুর রহমান৷ তার লেখা পড়ার আগ্রহ আগে থেকেই ছিল৷ কিন্তু ছোটখাট কিছু পাচ্ছিলাম না৷ রাধেয় সেই অপূর্ণ স্বাদ পূর্ণ করে দিল৷
রাধেয় শুধু গল্প নয় এক সংগ্রামে আখ্যান৷ যা মহাভারতের অন্য চরিত্রের আড়ালে ঢাকা পড়ে ছিল। লেখক মাহমুদুর রহমান তার লেখনীতে সেই অবহেলা ও সংগ্রামের গল্প যেন তুলে ধরলেন পাঠকের কাছে৷ প্রথমত লেখকের ভাষাশৈলীর ব্যবহার ও শব্দ চয়ন আমায় মুগ্ধ করেছে৷ পুরানিক আশ্রিত চরিত্র নিয়ে উপন্যাস লেখা অবশ্যই সহজ কোন কাজ নয়৷ কর্ণ এর গুরত্ব নতুন করে অনুধাবন করানোর ব্রত নিয়েই যেন লেখকের কলম চলেছিল৷ তবে পড়তে গিয়ে মাঝে মাঝে কর্ণ কে হারিয়ে ফেলতে হয় গল্পের পেক্ষাপটে৷ কর্ণ যে শুধু একজন যোদ্ধা ছিল না৷ ছিল ধর্মপ্রাণ, বন্ধুত্বের মান রাখা এক চরিত্র। যারা সারাটি জীবন কেটেছে ভাল মন্দের দোটানায়৷
আবহেলা তৈরি করেছে তার মধ্যে ছলনা, আত্ম আহংকার৷ তবুও কর্ণের ভিতর যে বাস ছিল এক আলোকিত সত্ত্বার৷ খুব সহজ ভাষায় তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে কর্ণ কে৷ এই রকম উপন্যাস লিখতে গিয়ে মাঝে মাঝে শব্দের প্রয়োগের কারণে কৃত্রিম ভাব এসেই যায়। চলিত ও তৎসমের সংমিশ্রন অনেক ভারী পাঠকের কপাল কুঞ্চিত হলেও আমার মত পাঠকদের জন্য খুবই সহজ ভাষা৷ অপ্রচলিত শব্দের ফুটনোট লেখা কে আরও প্রাঞ্জল করতে সহয়তা করেছে৷ লেখকের বর্ণনা আশা করি এই কৃত্রিমতার আক্ষেপ পুষিয়ে দিবে৷
তবে গল্পটি ১১৪ পেজে থেমে না গিয়ে আরও বড় পরিসরে হতে পারতো৷ তাহলে অনেক কিছুর বর্ণনা আসতে ক্ষতি ছিল না৷ এই তাড়াহুড়ো একটা সাবলীল লেখার মাঝেও দাগ রেখে যায়। নারেটর হিসাবে কর্ণ কে রেখে চরিত্রের গুরত্ব বাড়ানোর চেষ্টা হলেও লেখার মাঝে স্পাইস ও থ্রিল না থাকলে মুড়ির মত পোতাইয়া যায়৷ কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের বর্ণনা, পাণ্ডব ও কৌরবদের অস্ত্রের বর্ণনা হয়তো আরও থ্রিল ও স্পাইস দিতে পারতো লেখায়৷ দিন শেষে লাইট লেখা হিসাবে একেবারে খারাপ লাগেনি৷
মহাভারতের সাহিত্য রসে ডুব দিয়ে এক ছটা মুক্তা অন্বেষণের এই প্রয়াস আরও চলুক৷ মর্যাদা বিচ্যুতির বেদনা ও অবহেলা মানুষ কে কতটা প্রতিশোধ পরায়ন করতে পারে তা জানতে হলে পড়তে হবে রাধেয়। এক বেদনাবিধুর দেবপুত্রের গল্প৷
©বইপিডিয়া
লেখকঃ মাহমুদুর রহমান
প্রকাশনাঃ নালন্দা
পৃষ্টাঃ ১১৪
কৌন্তিয় পুত্র কর্ণ সেই জন্মলগ্ন থেকেই অবহেলিত৷ ঋষি সেবায় খ্যাতিপ্রাপ্ত মাতা কুন্তি একদা তার সেবার মাধ্যমে ঋষি দুর্বাসা দ্বারা বর প্রাপ্ত হন। এই বরের কল্যানে কোন দেবতা কুন্তি কে ফিরিয়ে দিতে পারবে না পুত্র দান করতে৷ সেই বশীভূত মন্ত্রের প্রয়োগ সুন্দরি কুন্তির দরকার ছিল না৷ মানুষের নিষিদ্ধ বস্তুর প্রতি আর্কষণ সেই পৃথিবীর শুরু থেকেই ছিল৷ মন্ত্রের মাধ্যমে কুন্তি আহবান করলেন সূর্য দেব কে৷ কৌতুহলের অবসান হবার পর তিনি চাননি কোন পুত্র সন্তান। কিন্তু এই মন্ত্রের ফের কাটানো অসম্ভব৷ পুত্র সন্তান পেলেন কুন্তি, সূর্য দেবের কৃপায় তার কুমারিত্বও রইলো অটুট৷ নিছক কৌতুহলের বশেই জন্ম হল মহাভারতের কালজয়ী চরিত্র কর্ণের৷
লোক লজ্জার কলংকে কর্ণ কে ভাসিয়ে দেওয়া হয় নদীর জলে।সূর্যের পুত্র কে সূর্য নিজেই রক্ষা করবেন। অবহেলা সেই জন্মলগ্ন থেকে শুরু৷ পালিত হতে থাকে কর্ণ পালক পিতা অধিরথ ও মাতা রাধার স্নেহে। এই আখ্যান এখানে থেমে গেলে তো কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধক্ষেত্র তৈরি হত না৷ কিন্তু অমোঘ নিয়তি খন্ডাবে কে?
বিচিত্রবীর্যের কনিষ্ট পুত্র পাণ্ডুর সাথে বিবাহ বন্ধনে অবদ্ধ হলেন কুন্তি৷ পাণ্ডুর দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন মাদ্রী। হস্তিনাপুরের রাজধিরাজ পাণ্ডু'র জেষ্ট্য ভ্রাতা ধৃতরাষ্ট্র ছিল জন্মার্ধ। তাই জেষ্ট্য হবার শর্তেও পাণ্ডুর ভাগ্যেই জুটে রাজ সিংহাসন৷ তবে সেই রাজ ক্ষমতা তার কপালে বেশি দিন টিকলো না। একদা জঙ্গলে শিকার করতে গিয়ে রমনরত অবস্থায় দুইটি হরিণ কে তীরবিদ্ধ করেন রাজা পাণ্ডু৷ বিধিবাম সেই পশুরুপি হরিণ ছিল ঋষি কিন্দম ও তার স্ত্রী। ঋষি কিন্দম স্ত্রী গর্ভে সন্তান আনবার জন্য সহবাস অবস্থায় ছিলেন। ঋষি কিন্দম অভিশাপ দেয় রাজা পাণ্ডু কে, স্ত্রী সহবাসে তার মৃত্যু হবে৷
নিজের পাপের বোঝা বইতে দুই স্ত্রী কে নিয়ে বনবাসের সিদ্ধান্ত নেয় রাজা পাণ্ডু৷ সিংহাসনের মায়া ত্যাগ করে চলে যান গহীন অরণ্যে৷ তার অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত রাজা হন ধৃতরাষ্ট্র৷ কুন্তি তো আগেই ঋষি দুর্বাসা দ্বারা বরপ্রাপ্ত ছিল৷ গহীন অরণ্যে ঋষি দুর্বাসার বরের ফলে সন্তান প্রাপ্ত হন রাজা পাণ্ডু৷ কুন্তি মন্ত্র শিখিয়ে দেয় মাদ্রী কে৷ দেবতাদের কল্যানে কুন্তির ওরসে জন্ম হয় যুধিষ্ঠির, ভীম ও আর্জুনের৷ অপর স্ত্রী মাদ্রীর ওরসে জন্ম হয় নকুল ও সহদেব৷ জন্ম হল পঞ্চ পাণ্ডবের৷ অপরদিকে মহাদেবের কল্যানে ১০০ পুত্রের বর লাভ করে ধৃতরাষ্টের স্ত্রী গান্ধারি। মনে মনে গান্ধারির এক কন্যা সন্তানের বাসনা ছিল৷ ধৃতরাষ্টের স্ত্রী গান্ধারি প্রসব করলো এক মাংসপিন্ড। সেখান থেকে জন্ম নিল কৌরব বংশের দুর্যোধন, দুঃশাসন সহ ১০০ পুত্র ও এক কন্যা সন্তান৷ জন্ম হল কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের পেক্ষাপট৷ সেই পাণ্ডব ও কৌরব বংশের যুদ্ধ নিয়ে রচিত হয় মহাভারতের কুরুক্ষেত্র৷
কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের পাশাপাশি আগাতে থাকে রাধেয় কর্ণের গল্প৷ কর্ণ আর্যাবর্তের মাঝে গৌরব অর্জন করা ধনুর্ধর৷ বাল্যকাল থেকেই অস্ত্রের প্রতি ছিল তার নিষিদ্ধ আর্কষণ। পালক পিতা সূত অধিরথ দ্বারা পালিত হওয়ায় ধর্ম ও সমাজের চোখে অস্ত্র শিক্ষা তার জন্য ছিল নিষিদ্ধ৷ বাল্যকাল থেকে বঞ্চিত কর্ণ ছলনার সাহায্য পরশুরামের কাছ থেকে অস্ত্র শিক্ষা তো পেলেন তবে সত্য উন্মোচন হওয়ায় একই সাথে পেলেন বর ও শাপ৷ সংকটের মূর্হুতে বিস্মৃত হবে তার বিদ্যা?
পাঠ্য প্রতিক্রিয়াঃ
মহাভারত এক কালজয়ী মহাকাব্য। এই অপূর্ব আখ্যানের সূতিগার ছোট ছোট গল্প কে এক সুতোয় সেলাই দিয়ে রচিত করেছে কালজয়ী এই সৃষ্টি৷ কালের স্রোতে কিছু চরিত্র উহ্য থেকে যায়৷ তেমনেই এক চরিত্র হল কর্ণ৷ আধুনিক ভাষায় তাকে এন্টি ভিলেন ও বলা চলে৷ মহাভারত কেন্দ্রিক উপন্যাস নিয়ে কাজ করার নতুন স্রোতধারায় গা ভাসালেন মোগলনামা খ্যাত লেখক মাহমুদুর রহমান৷ তার লেখা পড়ার আগ্রহ আগে থেকেই ছিল৷ কিন্তু ছোটখাট কিছু পাচ্ছিলাম না৷ রাধেয় সেই অপূর্ণ স্বাদ পূর্ণ করে দিল৷
রাধেয় শুধু গল্প নয় এক সংগ্রামে আখ্যান৷ যা মহাভারতের অন্য চরিত্রের আড়ালে ঢাকা পড়ে ছিল। লেখক মাহমুদুর রহমান তার লেখনীতে সেই অবহেলা ও সংগ্রামের গল্প যেন তুলে ধরলেন পাঠকের কাছে৷ প্রথমত লেখকের ভাষাশৈলীর ব্যবহার ও শব্দ চয়ন আমায় মুগ্ধ করেছে৷ পুরানিক আশ্রিত চরিত্র নিয়ে উপন্যাস লেখা অবশ্যই সহজ কোন কাজ নয়৷ কর্ণ এর গুরত্ব নতুন করে অনুধাবন করানোর ব্রত নিয়েই যেন লেখকের কলম চলেছিল৷ তবে পড়তে গিয়ে মাঝে মাঝে কর্ণ কে হারিয়ে ফেলতে হয় গল্পের পেক্ষাপটে৷ কর্ণ যে শুধু একজন যোদ্ধা ছিল না৷ ছিল ধর্মপ্রাণ, বন্ধুত্বের মান রাখা এক চরিত্র। যারা সারাটি জীবন কেটেছে ভাল মন্দের দোটানায়৷
আবহেলা তৈরি করেছে তার মধ্যে ছলনা, আত্ম আহংকার৷ তবুও কর্ণের ভিতর যে বাস ছিল এক আলোকিত সত্ত্বার৷ খুব সহজ ভাষায় তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে কর্ণ কে৷ এই রকম উপন্যাস লিখতে গিয়ে মাঝে মাঝে শব্দের প্রয়োগের কারণে কৃত্রিম ভাব এসেই যায়। চলিত ও তৎসমের সংমিশ্রন অনেক ভারী পাঠকের কপাল কুঞ্চিত হলেও আমার মত পাঠকদের জন্য খুবই সহজ ভাষা৷ অপ্রচলিত শব্দের ফুটনোট লেখা কে আরও প্রাঞ্জল করতে সহয়তা করেছে৷ লেখকের বর্ণনা আশা করি এই কৃত্রিমতার আক্ষেপ পুষিয়ে দিবে৷
তবে গল্পটি ১১৪ পেজে থেমে না গিয়ে আরও বড় পরিসরে হতে পারতো৷ তাহলে অনেক কিছুর বর্ণনা আসতে ক্ষতি ছিল না৷ এই তাড়াহুড়ো একটা সাবলীল লেখার মাঝেও দাগ রেখে যায়। নারেটর হিসাবে কর্ণ কে রেখে চরিত্রের গুরত্ব বাড়ানোর চেষ্টা হলেও লেখার মাঝে স্পাইস ও থ্রিল না থাকলে মুড়ির মত পোতাইয়া যায়৷ কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের বর্ণনা, পাণ্ডব ও কৌরবদের অস্ত্রের বর্ণনা হয়তো আরও থ্রিল ও স্পাইস দিতে পারতো লেখায়৷ দিন শেষে লাইট লেখা হিসাবে একেবারে খারাপ লাগেনি৷
মহাভারতের সাহিত্য রসে ডুব দিয়ে এক ছটা মুক্তা অন্বেষণের এই প্রয়াস আরও চলুক৷ মর্যাদা বিচ্যুতির বেদনা ও অবহেলা মানুষ কে কতটা প্রতিশোধ পরায়ন করতে পারে তা জানতে হলে পড়তে হবে রাধেয়। এক বেদনাবিধুর দেবপুত্রের গল্প৷
©বইপিডিয়া
April 18, 2021
রাধেয় অর্থাৎ রাধার পুত্র । যদিও আসলে সে কৌন্তেয় (কুন্তির পুত্র ) । মহাভারতের সেই দাতা কর্ণকে নিয়েই এই বই । মহাভারতের এই চরিত্রটি সব সময় ই আমার খুব পছেন্দের ছিল । আমার কাছে কর্ণ কে সবসময় ই খুব বুদ্ধিমান আর বিবেচক একজন মানুষ মনে হয়েছে। Hindu Mythology নিয়ে আগ্রহের কারণে এই বইয়ের সব কাহিনী ই আমার আগের থেকেই জানা ছিল । তবে যারা জানেন না তাদের কর্ণের জবানিতে এই বই পড়তে ভাল লাগবে মনে হয় ।
November 14, 2019
এক কথায় সুন্দর একটা বই,অসাধারণ 👍
April 21, 2026
রাধেয় উপন্যাসের উপজীব্য বিষয় হলো মহাভারতের কাহিনী। বিশেষত্ব হলো — মহাভারতের উল্লেখযোগ্য চরিত্র কর্ণের দৃষ্টিকোণ থেকে।
কর্ণের দৃষ্টিকোণ থেকে — এখানেই এই উপন্যাসের কমতি থেকে গেছে। কর্ণের জবানিতে মহাভারতের সেই চেনা গল্পই উঠে এসেছে। নতুন কিছু পাওয়া যায়নি মোটেও। পাওয়া যেত, যদি কর্ণের টানাপোড়েন, দুর্যোধনের সাথে বন্ধুত্ব আর অন্যায় কাজকর্ম, কেন সে অর্জুনকে মারতে চায় — এসব আরও সুন্দরভাবে আলোকপাত করা হতো। টানাপোড়েন বলতে শুধু কর্ণের জন্ম আর জাত নিয়েই দেখানো হয়েছে। বরং দ্যুতসভায় সে পাঞ্চালীকে গালি দেয়ার পর যখন মনে মনে বলে যে, কেন এমন করলাম — তখন অনেক কিছুই ফিকে হয়ে যায়। তখন যদি কর্ণের দৃষ্টিকোণ থেকে সুন্দর ব্যাখ্যা থাকত, তাহলে উপন্যাসটা আরও শক্তিশালী হতো। বেশ কয়েকবার জায়গাতেই এরকম হয়েছে।
মহাভারতের যুদ্ধ খুব বেশি একটা উঠে আসেনি উপন্যাসে। খুব সংক্ষেপেই কাজ সেরেছেন লেখক। এমনকি কর্ণের শেষ যুদ্ধও। আরও বিস্তারিত আশা করেছিলাম। সব হিসেব নিকেশ মেলানোর যে একমাত্র সুযোগ কর্ণের — সেটা এত সংক্ষেপিত কেন? এটাই তো উপন্যাসের সবচেয়ে দারুণ অংশ হতে পারত! কর্ণ-ঘটোৎকচের বিখ্যাত যুদ্ধের কথাও বলা হয়নি। আমার মনে হয় এই যুদ্ধে কর্ণের একাঘ্নী অস্ত্রের ব্যবহার আর অনুভূতি আলাদা ভ্যালু যুক্ত করত।
সোজা কথায় বলতে — এই উপন্যাসে গভীরে যাওয়ার সুযোগ হয়নি বা কর্ণের সাথে সমব্যথী হওয়ার সুযোগ হয়নি। খুব করে চেয়েছিলাম, এজন্য বেশ হতাশ লেগেছে।
কর্ণের দৃষ্টিকোণ থেকে — এখানেই এই উপন্যাসের কমতি থেকে গেছে। কর্ণের জবানিতে মহাভারতের সেই চেনা গল্পই উঠে এসেছে। নতুন কিছু পাওয়া যায়নি মোটেও। পাওয়া যেত, যদি কর্ণের টানাপোড়েন, দুর্যোধনের সাথে বন্ধুত্ব আর অন্যায় কাজকর্ম, কেন সে অর্জুনকে মারতে চায় — এসব আরও সুন্দরভাবে আলোকপাত করা হতো। টানাপোড়েন বলতে শুধু কর্ণের জন্ম আর জাত নিয়েই দেখানো হয়েছে। বরং দ্যুতসভায় সে পাঞ্চালীকে গালি দেয়ার পর যখন মনে মনে বলে যে, কেন এমন করলাম — তখন অনেক কিছুই ফিকে হয়ে যায়। তখন যদি কর্ণের দৃষ্টিকোণ থেকে সুন্দর ব্যাখ্যা থাকত, তাহলে উপন্যাসটা আরও শক্তিশালী হতো। বেশ কয়েকবার জায়গাতেই এরকম হয়েছে।
মহাভারতের যুদ্ধ খুব বেশি একটা উঠে আসেনি উপন্যাসে। খুব সংক্ষেপেই কাজ সেরেছেন লেখক। এমনকি কর্ণের শেষ যুদ্ধও। আরও বিস্তারিত আশা করেছিলাম। সব হিসেব নিকেশ মেলানোর যে একমাত্র সুযোগ কর্ণের — সেটা এত সংক্ষেপিত কেন? এটাই তো উপন্যাসের সবচেয়ে দারুণ অংশ হতে পারত! কর্ণ-ঘটোৎকচের বিখ্যাত যুদ্ধের কথাও বলা হয়নি। আমার মনে হয় এই যুদ্ধে কর্ণের একাঘ্নী অস্ত্রের ব্যবহার আর অনুভূতি আলাদা ভ্যালু যুক্ত করত।
সোজা কথায় বলতে — এই উপন্যাসে গভীরে যাওয়ার সুযোগ হয়নি বা কর্ণের সাথে সমব্যথী হওয়ার সুযোগ হয়নি। খুব করে চেয়েছিলাম, এজন্য বেশ হতাশ লেগেছে।
April 15, 2025
Could Be better.
March 2, 2020
মহাভারত আখ্যান জানতে চাওয়ার প্রথম প্রচেষ্টা সফল!
July 29, 2021
মাহমুদুর রহমানের দুটো বই একসাথেই কিনি রাধেয় এবং শকুনি উবাচ! আমি আগে থেকেই জানতাম যে মাহমুদুর রহমানের প্রথম উপন্যাস 'রাধেয়'। তাই ভাবলাম শুরু যখন করব তাহলে লেখকের প্রথম উপন্যাস দিয়ে কেন নয়!
'রাধেয়' হচ্ছে কর্ণের আরেক নাম। আমরা যারা মহাভারত সম্পর্কে জানি তারা কর্ণকে চিনি। কর্ণের আরেকনাম রাধেয়। কর্ণ মা কুন্তীর সন্তান হলেও পালিত হয় রাধার কাছে৷ সে সূত্রে কর্ণের পালিত মা রাঁধা। তাই কর্ণকে ক্রান্তিয় এর পাশাপাশি রাধেয় নামেও আক্ষায়িত করা হয়।
ছোটবেলা ছেলেদের মহাভারত পড়েছিলাম। যখন ক্লাস সিক্সে / সেভেনে পড়ি তখন। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে বই স্যার এনে হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলছিলো এটা পড়ো। তখন বই পড়ায় তেমন আগ্রহ না থাকা সত্ত্বেও বইটি পড়েছিলাম। তেমন ভালো লাগেনি এটাও সত্য। তবে আজ যখন রাধেয় পড়ছিলাম সেই অনেকদিন আগের ছেলেদের মহাভারতের কথা মনে পড়ছিলো। যে যাগ্যে এই বইয়ের কথা বলি!
'রাধেয়' উপন্যাসটি লেখা হয়েছে কর্ণের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। প্রথম পুরুষে বর্ণিত একটি উপন্যাস রাধেয়। এখানে কর্ণ কেবল দেবতার পুত্র নয়, সে দোষে গুণে একজন মানুষ। আমার চোখে মহাভারতে কর্ণকে এ্যান্টি হিরো টাইপ লাগতো। কর্ণকে আমরা না একদম হিরোর কাতারে ফেলতে পারি না শকুনি, দুর্যোধন কিংবা ভীষ্মদের মতো ভিলেন হিসেবে ধরতে পারি। পুরাণে কর্ণ আমার একটা প্রিয় চরিত্র বটে৷ এই বইটির পুরোটা জুড়ে আছে কর্ণের পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে মহাভারত৷ না আমি বলছি না, এই বইয়ে মহাভারতের সব কিছু পাওয়া যাবে তবে কর্ণের পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে মহাভারতের কিছু কাহিনি জানা যাবে। এই ছোট একটা বই পড়লে আপনার মহাভারত পড়তে ইচ্ছে হবে, রি-রিডের ইচ্ছে হবে।
রাধেয় উপন্যাসে কর্ণের জীবনের নানা কর্মের বর্ণনা আছে। কর্ণের মনে বারবার তার সম্পর্কে যে প্রশ্ন জাগতো সে সম্পর্কে বলা হয়েছে। বইটি পড়লে একটু ভিন্ন দৃষ্টিকে মহাভারত সম্পর্কে যেনো জানা যাবে!
আর লেখকের কথা কি বলব৷ মাহমুদুর রহমান একজন সুলেখক। তার লেখনীর হাত দারুণ। কি সুন্দর ভাবে তিনি শব্দচয়ন করেছেন! বইটি পড়লে লেখকে প্রথম উপন্যাস বলে মনেই হবে না দারুণ একটি বই।
লেখকের জন্য শুভকামনা। <3
রেটিং : ৪.৫/৫
বইয়ের নাম : রাধেয়
লেখক : মাহমুদুর রহমান
প্রকাশনী : নালন্দা
মলাট মূল্য : ২৫০
'রাধেয়' হচ্ছে কর্ণের আরেক নাম। আমরা যারা মহাভারত সম্পর্কে জানি তারা কর্ণকে চিনি। কর্ণের আরেকনাম রাধেয়। কর্ণ মা কুন্তীর সন্তান হলেও পালিত হয় রাধার কাছে৷ সে সূত্রে কর্ণের পালিত মা রাঁধা। তাই কর্ণকে ক্রান্তিয় এর পাশাপাশি রাধেয় নামেও আক্ষায়িত করা হয়।
ছোটবেলা ছেলেদের মহাভারত পড়েছিলাম। যখন ক্লাস সিক্সে / সেভেনে পড়ি তখন। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে বই স্যার এনে হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলছিলো এটা পড়ো। তখন বই পড়ায় তেমন আগ্রহ না থাকা সত্ত্বেও বইটি পড়েছিলাম। তেমন ভালো লাগেনি এটাও সত্য। তবে আজ যখন রাধেয় পড়ছিলাম সেই অনেকদিন আগের ছেলেদের মহাভারতের কথা মনে পড়ছিলো। যে যাগ্যে এই বইয়ের কথা বলি!
'রাধেয়' উপন্যাসটি লেখা হয়েছে কর্ণের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। প্রথম পুরুষে বর্ণিত একটি উপন্যাস রাধেয়। এখানে কর্ণ কেবল দেবতার পুত্র নয়, সে দোষে গুণে একজন মানুষ। আমার চোখে মহাভারতে কর্ণকে এ্যান্টি হিরো টাইপ লাগতো। কর্ণকে আমরা না একদম হিরোর কাতারে ফেলতে পারি না শকুনি, দুর্যোধন কিংবা ভীষ্মদের মতো ভিলেন হিসেবে ধরতে পারি। পুরাণে কর্ণ আমার একটা প্রিয় চরিত্র বটে৷ এই বইটির পুরোটা জুড়ে আছে কর্ণের পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে মহাভারত৷ না আমি বলছি না, এই বইয়ে মহাভারতের সব কিছু পাওয়া যাবে তবে কর্ণের পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে মহাভারতের কিছু কাহিনি জানা যাবে। এই ছোট একটা বই পড়লে আপনার মহাভারত পড়তে ইচ্ছে হবে, রি-রিডের ইচ্ছে হবে।
রাধেয় উপন্যাসে কর্ণের জীবনের নানা কর্মের বর্ণনা আছে। কর্ণের মনে বারবার তার সম্পর্কে যে প্রশ্ন জাগতো সে সম্পর্কে বলা হয়েছে। বইটি পড়লে একটু ভিন্ন দৃষ্টিকে মহাভারত সম্পর্কে যেনো জানা যাবে!
আর লেখকের কথা কি বলব৷ মাহমুদুর রহমান একজন সুলেখক। তার লেখনীর হাত দারুণ। কি সুন্দর ভাবে তিনি শব্দচয়ন করেছেন! বইটি পড়লে লেখকে প্রথম উপন্যাস বলে মনেই হবে না দারুণ একটি বই।
লেখকের জন্য শুভকামনা। <3
রেটিং : ৪.৫/৫
বইয়ের নাম : রাধেয়
লেখক : মাহমুদুর রহমান
প্রকাশনী : নালন্দা
মলাট মূল্য : ২৫০
May 18, 2021
#অনুভূতির_প্রকাশক
"নিয়তির লিপি দ্বারা চালিত আমরা সকলে। ধর্মের গতিও অতি সূক্ষ্ম। সে সূক্ষ্ম গতি আর নিয়তি আমাদের টেনে নিয়ে যায় অমোঘ কোনো সমাপ্তির পানে। যা ঘটবে, তা নিবারণ করার সাধ্য আমাদের কারও নেই"!
রাধেয়....
মহাকাব্য 'মহাভারত' এর সবচেয়ে অবহেলিত, অসহায় চরিত্র স্মরণ করলেই ভেসে ওঠে রাধেয় 'কর্ণ' এর নাম। সমাজ, রাজ্য, প্রচলিত নিয়মের সঙ্গে তার যে দ্বন্দ্ব, তা ছাপিয়ে আপন ধর্ম(কর্তব্য) নিয়ে নিজের সঙ্গে লড়াই করে যাওয়ার একজন মানুষের গল্প বলা হয়েছে এই উপন্যাসে।
.
.
১.
ঋষি দুর্বাশাকে বছর যাবৎ সেবা করার পর কুন্তিকে তিনি একটি বরপ্রাপ্ত করেন। এ বর প্রয়োগের ফলে যেকোনো দেবতাকে স্মরণ করলে তার সামনে উপস্থিত হবে এবং দেবতা তাকে পুত্রসন্তান দান করবেন। কিশোরী কুন্তী কৌতূহলপ্রবণ হয়ে একদিন আহ্বান করেন সূর্যদেবকে। কৌতূহলে আহ্বান করার পরেও পুত্র সন্তান চাননি কুন্তী। বিকল্প না থাকায় এই ভুলের পর পুত্র সন্তান লাভ করল কুন্তী,সূর্যদেবের কৃপায় অটুট রইল তার কুমারিত্ব। কুন্তীর কৌতূহলের ফলেই জন্ম হয় মহাভারতের সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং চরিত্র 'কর্ণ'র।
.
লোকলজ্জার ভয়ে কুমারী কুন্তী সন্তানকে নদীর জলে ভাসিয়ে দেন। সূর্য-পুত্রকে রক্ষা করেন স্বয়ং সূর্যদেব। কুড়িয়ে পাওয়া কর্ণ মানুষ হতে থাকেন হস্তিনাপুরে, পিতা অধিরধ ও মাতা রাধার গৃহে। মাতা রাধার পুত্র বলে 'রাধেয়' নামেই বইটার নামকরণ।
.
ছোটবেলা থেকেই অস্ত্রের প্রতি অনির্বাণ আকর্ষণ কর্ণের। কিন্তু জাতিতে সূতপুত্র বলে সমাজে নেই অস্ত্রবিদ্যায় অনুমতি। অস্ত্রবিদ্যা শুধু ক্ষত্রিয় আর ব্রাহ্মণ্যের অধিকার !
কিন্তু দমে যায়নি কর্ণ। অস্ত্রবিদ্যার আশায় গৃহ ত্যাগ করেন একসময় । মিথ্যে বলে শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন পরশুরামের! গুরুর কাছে শিক্ষা সমাপ্তির আগে ধরা পড়েন কর্ণ। পরশুরাম তাকে উদ্দেশ্য করে বলে সংকটকালে কর্ণের বিদ্যা কাজ করবে না...
.
২.
বিচিত্রবীর্যের পুত্র পাণ্ডুর সহিত বিয়ে হয় কুন্তীর। পাণ্ডু ছিলেন হস্তিনাপুরের মহারাজ। কিন্তু এক ঋষির অভিশাপে বনবাসে গমন করেন মহারাজ পাণ্ড এবং তার দুই স্ত্রী কুন্তী ও মাদ্রী। তখন হস্তিনাপুরের রাজা হন পাণ্ডুর জৈষ্ট্য ভ্রাতা ধৃতরাষ্ট্র, তিনি ছিলেন জন্মান্ধ।
.
ঋষি থেকে প্রাপ্ত বর প্রয়োগে দেবতাদের কল্যাণে কুন্তী ও মাদ্রী ৫জন সন্তান লাভ করেন। যুধিষ্ঠির,ভীম, অর্জুন, নকুল ও সহদেব যারা পঞ্চপাণ্ডব নামে পরিচিত হয়। হস্তিনাপুরের মহারাজ ধৃতরাষ্ট্র গান্ধারীকে বিয়ে করেন। গান্ধারী প্রসব করেন এক মাংসপিন্ড, সেখান থেকে জন্ম নেয় দুর্যোধন, দুঃশাসনসহ ১০০পুত্র ও এক কন্যা।
.
এই পাণ্ডব ও কৌরব বংশের যুদ্ধ নিয়েই রচিত হয় মহাভারতের কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ।
.
৩.
অস্ত্রবিদ্যার জ্ঞান সমাপ্ত করে রাজপুত্রেরা ফিরে আসে হস্তিনাপুরে, আয়োজন করা হয় এক অস্ত্রক্রীড়ার। যাতে করে হয়ে যাবে তাদের যোগ্যতার প্রমাণ।
সব রাজপুত্ররাই দেখায় তাদের বাহুবল। দ্রোর্ণাচার্যের প্রিয় শির্ষ্য অর্জুনের সামনে একসময় এসে হাজির হন প্রতিযোগিতা উপভোগ করা রাধেয় 'কর্ণ'। কর্ণের বাহুবলে মুগ্ধ হয়ে দুর্যোধন কর্ণকে অঙ্গরাজ্যের রাজা ঘোষণা করে। কর্ণ প্রতিজ্ঞা করে জীবনে সবসময়ই তিনি দুর্যোধনের সহিত থাকবেন। পান্ডবদের আগুনে পুড়িয়ে মারার পরিকল্পনায় কর্ণ দুর্যোধনের সাথে ছিলেন কিন্তু তার মিত্রের এই অধর্ম মন থেকে মনে নিতে পারেননি। দুর্যোধনের কাছে করা প্রতিজ্ঞা রক্ষার্থেই কুরুযুদ্ধে ভাইদের বিপক্ষে অংশগ্রহণ করেন কর্ণ।
রাজকুমারী দ্রৌপদীর স্বয়ম্ভর সভায় কঠিন এক পরিক্ষার আয়োজন করা হয়। অর্জুন আর কর্ণ সে প্রতিযোগিতা জিততে সক্ষম। যখন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে অগ্রসর হবেন কর্ণ, তখন রাজকুমারী সূতপুত্রকে বিয়ে না করার অনীহা প্রকাশ করলেন। সূতপুত্র বলে কর্ণের বাহুবলকে অবজ্ঞা করলেন দ্রৌপদী।ব্রাহ্মণবেশে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ায় দ্রৌপদীকে জয় করলেন অর্জুন। মাতা কুন্তীর আজ্ঞানুসারে পঞ্চপান্ডবের সহিত বিয়ে হয় রাজকুমারী দ্রৌপদীর।
.
৪.
ইন্দ্রপ্রস্থে যুধিষ্ঠিরের রাজ্য অভিষেক অনুষ্ঠানে দুর্যোধনকে অপমান করায় হস্তিনাপুরে এক দ্যূতক্রীড়ায় আয়োজন করা হয়! ছল করে পুরো দ্যূতক্রীড়ায় জয়লাভ করে দুর্যোধন।যুধিষ্ঠিরের পরাজয়ে পঞ্চপাণ্ডব ও দ্রৌপদীকে হতে হয় দাস এবং দ্রৌপদীকে অপমান করা হয়, রাজসভায় সকলের সামনে কেশ ধরে নিয়ে এসে বস্ত্রহরণ করা হয়। পুনরায় দ্যূতক্রীড়ায় হেরে বার বছরের বনবাস এবং এক বছরের অজ্ঞাতবাসে গমন করে পঞ্চপাণ্ডব ও দ্রৌপদী।
.
তেরোবছর পর কুরুযুদ্ধের আগে শান্তিচুক্তির জন্য শ্রীকৃষ্ণ আগমন করেন হস্তিনাপুরে। কিন্তু শান্তিচুক্তি ব্যর্থ হয়। আরম্ভ হয় কুরুযুদ্ধের যুদ্ধ! .যুদ্ধে প্রথমে কর্ণ অংশ নিতে পারেনি, মহামতিম ভীষ্ম ও গুরু দ্রোণের মৃত্যুর পর সেনাপতি হিশেবে কর্ণ অংশ নেন। যুদ্ধের পূর্বে কৃষ্ণ তাকে জানিয়েছিলেন তার জন্মপরিচয়।হোঁচট খেয়েছিলেন কর্ণ তবুও প্রতিজ্ঞায় তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। দেবরাজ ইন্দ্রকে দান করতে হয় তার কবজ-কুণ্ডল।
.
অনুজ অর্জুনের সাথে মুখামুখি কর্ণ যুদ্ধে। কে শ্রেষ্ঠ? প্রমাণ হবে আজ। যুদ্ধ হল অনেক্ক্ষণ একসময় শ্রীকৃষ্ণ রথ নিয়ে বের হয়ে গেল যাচ্ছে কুরুক্ষেত্রের মূল থেকে। পিছুপিছু ধাওয়া করল কর্ণ। একসময় রথের চাকা আটকে গেল মৃত্তিকায়।
অর্জুন একসময় তীর ছুঁড়ে কর্ণের বুকে কর্ণ তখন রথের চাকা বের করতে ব্যস্ত। মাটিতে লুটিয়ে পড়ে কর্ণ। মৃত্যুর পূর্বে শ্রীকৃষ্ণের সাথে অনেকক্ষণ কথোপকথন হয় কর্ণের। কর্ণের জীবনের ভুল-ভ্রান্তি,অর্জন ইত্যাকার বিষয়ে কথা বলেন কৃষ্ণ।
.
.
কুরুক্ষেত্রের সতেরোতম দিনে কর্ণ মৃত্যুবরণ করেন। কর্ণের পরিচয় পঞ্চপাণ্ডবের সামনে প্রকাশ পেলে যুধিষ্ঠির বলল, 'এ সত্য আগে প্রকাশ জলে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধই হতো "....
.
.
.
.
৬.
আমার অনুভূতি ~
মহাভারতের কাহিনি আগেই আমার ভালোই জানা ছিল। তাই অনেক জায়গায় কিছু নতুন তথ্য পেয়েছি। মহাভারতের অন্য চরিত্রগুলোকে নিয়ে বই লেখা হলেও কর্ণকে নিয়ে সম্ভবত এটাই প্রথম। কর্ণকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে উপন্যাসে।
.
লেখকের প্রথম বই পড়লাম। বেশ ভালোই লেগেছে। লেখকের ভাষাশৈলী ও শব্দচয়ন বেশ ভালো। ভারী কিছু শব্দের ব্যবহার সাথে এর অর্থও নোটে দেওয়া ছিল। পড়তেও সহজ হয়েছে। পুরাণিক একটা চরিত্র নিয়ে উপন্যাস লেখাটা অনেক কঠিন কাজ। তবে লেখক তার কাজে সফল।
শেষের দিকটাই লেখক বেশ তাড়াহুড়ো করেছেন বলে মনে হল। একটু সময় নিয়ে লেখাটা আরো বাড়ালে বেশ ভালো হতো।।
.
.
.
নিয়মের বিরুদ্ধে যাওয়া প্রতিটি মানুষই একজন কর্ণ।কর্ণরা ফিরে আসে বারবার। চলে যায় নিভৃতে...
.
.
বই ~ রাধেয়
লেখক ~ মাহমুদুর রহমান
প্রকাশনী ~ নালন্দা
মূল্য ~ ২৫০/-
পৃষ্ঠা ~ ১১৫
প্রথম প্রকাশ ~ সেপ্টেম্বর,১৯
© নাহাস মুহাম্মদ
"নিয়তির লিপি দ্বারা চালিত আমরা সকলে। ধর্মের গতিও অতি সূক্ষ্ম। সে সূক্ষ্ম গতি আর নিয়তি আমাদের টেনে নিয়ে যায় অমোঘ কোনো সমাপ্তির পানে। যা ঘটবে, তা নিবারণ করার সাধ্য আমাদের কারও নেই"!
রাধেয়....
মহাকাব্য 'মহাভারত' এর সবচেয়ে অবহেলিত, অসহায় চরিত্র স্মরণ করলেই ভেসে ওঠে রাধেয় 'কর্ণ' এর নাম। সমাজ, রাজ্য, প্রচলিত নিয়মের সঙ্গে তার যে দ্বন্দ্ব, তা ছাপিয়ে আপন ধর্ম(কর্তব্য) নিয়ে নিজের সঙ্গে লড়াই করে যাওয়ার একজন মানুষের গল্প বলা হয়েছে এই উপন্যাসে।
.
.
১.
ঋষি দুর্বাশাকে বছর যাবৎ সেবা করার পর কুন্তিকে তিনি একটি বরপ্রাপ্ত করেন। এ বর প্রয়োগের ফলে যেকোনো দেবতাকে স্মরণ করলে তার সামনে উপস্থিত হবে এবং দেবতা তাকে পুত্রসন্তান দান করবেন। কিশোরী কুন্তী কৌতূহলপ্রবণ হয়ে একদিন আহ্বান করেন সূর্যদেবকে। কৌতূহলে আহ্বান করার পরেও পুত্র সন্তান চাননি কুন্তী। বিকল্প না থাকায় এই ভুলের পর পুত্র সন্তান লাভ করল কুন্তী,সূর্যদেবের কৃপায় অটুট রইল তার কুমারিত্ব। কুন্তীর কৌতূহলের ফলেই জন্ম হয় মহাভারতের সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং চরিত্র 'কর্ণ'র।
.
লোকলজ্জার ভয়ে কুমারী কুন্তী সন্তানকে নদীর জলে ভাসিয়ে দেন। সূর্য-পুত্রকে রক্ষা করেন স্বয়ং সূর্যদেব। কুড়িয়ে পাওয়া কর্ণ মানুষ হতে থাকেন হস্তিনাপুরে, পিতা অধিরধ ও মাতা রাধার গৃহে। মাতা রাধার পুত্র বলে 'রাধেয়' নামেই বইটার নামকরণ।
.
ছোটবেলা থেকেই অস্ত্রের প্রতি অনির্বাণ আকর্ষণ কর্ণের। কিন্তু জাতিতে সূতপুত্র বলে সমাজে নেই অস্ত্রবিদ্যায় অনুমতি। অস্ত্রবিদ্যা শুধু ক্ষত্রিয় আর ব্রাহ্মণ্যের অধিকার !
কিন্তু দমে যায়নি কর্ণ। অস্ত্রবিদ্যার আশায় গৃহ ত্যাগ করেন একসময় । মিথ্যে বলে শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন পরশুরামের! গুরুর কাছে শিক্ষা সমাপ্তির আগে ধরা পড়েন কর্ণ। পরশুরাম তাকে উদ্দেশ্য করে বলে সংকটকালে কর্ণের বিদ্যা কাজ করবে না...
.
২.
বিচিত্রবীর্যের পুত্র পাণ্ডুর সহিত বিয়ে হয় কুন্তীর। পাণ্ডু ছিলেন হস্তিনাপুরের মহারাজ। কিন্তু এক ঋষির অভিশাপে বনবাসে গমন করেন মহারাজ পাণ্ড এবং তার দুই স্ত্রী কুন্তী ও মাদ্রী। তখন হস্তিনাপুরের রাজা হন পাণ্ডুর জৈষ্ট্য ভ্রাতা ধৃতরাষ্ট্র, তিনি ছিলেন জন্মান্ধ।
.
ঋষি থেকে প্রাপ্ত বর প্রয়োগে দেবতাদের কল্যাণে কুন্তী ও মাদ্রী ৫জন সন্তান লাভ করেন। যুধিষ্ঠির,ভীম, অর্জুন, নকুল ও সহদেব যারা পঞ্চপাণ্ডব নামে পরিচিত হয়। হস্তিনাপুরের মহারাজ ধৃতরাষ্ট্র গান্ধারীকে বিয়ে করেন। গান্ধারী প্রসব করেন এক মাংসপিন্ড, সেখান থেকে জন্ম নেয় দুর্যোধন, দুঃশাসনসহ ১০০পুত্র ও এক কন্যা।
.
এই পাণ্ডব ও কৌরব বংশের যুদ্ধ নিয়েই রচিত হয় মহাভারতের কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ।
.
৩.
অস্ত্রবিদ্যার জ্ঞান সমাপ্ত করে রাজপুত্রেরা ফিরে আসে হস্তিনাপুরে, আয়োজন করা হয় এক অস্ত্রক্রীড়ার। যাতে করে হয়ে যাবে তাদের যোগ্যতার প্রমাণ।
সব রাজপুত্ররাই দেখায় তাদের বাহুবল। দ্রোর্ণাচার্যের প্রিয় শির্ষ্য অর্জুনের সামনে একসময় এসে হাজির হন প্রতিযোগিতা উপভোগ করা রাধেয় 'কর্ণ'। কর্ণের বাহুবলে মুগ্ধ হয়ে দুর্যোধন কর্ণকে অঙ্গরাজ্যের রাজা ঘোষণা করে। কর্ণ প্রতিজ্ঞা করে জীবনে সবসময়ই তিনি দুর্যোধনের সহিত থাকবেন। পান্ডবদের আগুনে পুড়িয়ে মারার পরিকল্পনায় কর্ণ দুর্যোধনের সাথে ছিলেন কিন্তু তার মিত্রের এই অধর্ম মন থেকে মনে নিতে পারেননি। দুর্যোধনের কাছে করা প্রতিজ্ঞা রক্ষার্থেই কুরুযুদ্ধে ভাইদের বিপক্ষে অংশগ্রহণ করেন কর্ণ।
রাজকুমারী দ্রৌপদীর স্বয়ম্ভর সভায় কঠিন এক পরিক্ষার আয়োজন করা হয়। অর্জুন আর কর্ণ সে প্রতিযোগিতা জিততে সক্ষম। যখন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে অগ্রসর হবেন কর্ণ, তখন রাজকুমারী সূতপুত্রকে বিয়ে না করার অনীহা প্রকাশ করলেন। সূতপুত্র বলে কর্ণের বাহুবলকে অবজ্ঞা করলেন দ্রৌপদী।ব্রাহ্মণবেশে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ায় দ্রৌপদীকে জয় করলেন অর্জুন। মাতা কুন্তীর আজ্ঞানুসারে পঞ্চপান্ডবের সহিত বিয়ে হয় রাজকুমারী দ্রৌপদীর।
.
৪.
ইন্দ্রপ্রস্থে যুধিষ্ঠিরের রাজ্য অভিষেক অনুষ্ঠানে দুর্যোধনকে অপমান করায় হস্তিনাপুরে এক দ্যূতক্রীড়ায় আয়োজন করা হয়! ছল করে পুরো দ্যূতক্রীড়ায় জয়লাভ করে দুর্যোধন।যুধিষ্ঠিরের পরাজয়ে পঞ্চপাণ্ডব ও দ্রৌপদীকে হতে হয় দাস এবং দ্রৌপদীকে অপমান করা হয়, রাজসভায় সকলের সামনে কেশ ধরে নিয়ে এসে বস্ত্রহরণ করা হয়। পুনরায় দ্যূতক্রীড়ায় হেরে বার বছরের বনবাস এবং এক বছরের অজ্ঞাতবাসে গমন করে পঞ্চপাণ্ডব ও দ্রৌপদী।
.
তেরোবছর পর কুরুযুদ্ধের আগে শান্তিচুক্তির জন্য শ্রীকৃষ্ণ আগমন করেন হস্তিনাপুরে। কিন্তু শান্তিচুক্তি ব্যর্থ হয়। আরম্ভ হয় কুরুযুদ্ধের যুদ্ধ! .যুদ্ধে প্রথমে কর্ণ অংশ নিতে পারেনি, মহামতিম ভীষ্ম ও গুরু দ্রোণের মৃত্যুর পর সেনাপতি হিশেবে কর্ণ অংশ নেন। যুদ্ধের পূর্বে কৃষ্ণ তাকে জানিয়েছিলেন তার জন্মপরিচয়।হোঁচট খেয়েছিলেন কর্ণ তবুও প্রতিজ্ঞায় তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। দেবরাজ ইন্দ্রকে দান করতে হয় তার কবজ-কুণ্ডল।
.
অনুজ অর্জুনের সাথে মুখামুখি কর্ণ যুদ্ধে। কে শ্রেষ্ঠ? প্রমাণ হবে আজ। যুদ্ধ হল অনেক্ক্ষণ একসময় শ্রীকৃষ্ণ রথ নিয়ে বের হয়ে গেল যাচ্ছে কুরুক্ষেত্রের মূল থেকে। পিছুপিছু ধাওয়া করল কর্ণ। একসময় রথের চাকা আটকে গেল মৃত্তিকায়।
অর্জুন একসময় তীর ছুঁড়ে কর্ণের বুকে কর্ণ তখন রথের চাকা বের করতে ব্যস্ত। মাটিতে লুটিয়ে পড়ে কর্ণ। মৃত্যুর পূর্বে শ্রীকৃষ্ণের সাথে অনেকক্ষণ কথোপকথন হয় কর্ণের। কর্ণের জীবনের ভুল-ভ্রান্তি,অর্জন ইত্যাকার বিষয়ে কথা বলেন কৃষ্ণ।
.
.
কুরুক্ষেত্রের সতেরোতম দিনে কর্ণ মৃত্যুবরণ করেন। কর্ণের পরিচয় পঞ্চপাণ্ডবের সামনে প্রকাশ পেলে যুধিষ্ঠির বলল, 'এ সত্য আগে প্রকাশ জলে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধই হতো "....
.
.
.
.
৬.
আমার অনুভূতি ~
মহাভারতের কাহিনি আগেই আমার ভালোই জানা ছিল। তাই অনেক জায়গায় কিছু নতুন তথ্য পেয়েছি। মহাভারতের অন্য চরিত্রগুলোকে নিয়ে বই লেখা হলেও কর্ণকে নিয়ে সম্ভবত এটাই প্রথম। কর্ণকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে উপন্যাসে।
.
লেখকের প্রথম বই পড়লাম। বেশ ভালোই লেগেছে। লেখকের ভাষাশৈলী ও শব্দচয়ন বেশ ভালো। ভারী কিছু শব্দের ব্যবহার সাথে এর অর্থও নোটে দেওয়া ছিল। পড়তেও সহজ হয়েছে। পুরাণিক একটা চরিত্র নিয়ে উপন্যাস লেখাটা অনেক কঠিন কাজ। তবে লেখক তার কাজে সফল।
শেষের দিকটাই লেখক বেশ তাড়াহুড়ো করেছেন বলে মনে হল। একটু সময় নিয়ে লেখাটা আরো বাড়ালে বেশ ভালো হতো।।
.
.
.
নিয়মের বিরুদ্ধে যাওয়া প্রতিটি মানুষই একজন কর্ণ।কর্ণরা ফিরে আসে বারবার। চলে যায় নিভৃতে...
.
.
বই ~ রাধেয়
লেখক ~ মাহমুদুর রহমান
প্রকাশনী ~ নালন্দা
মূল্য ~ ২৫০/-
পৃষ্ঠা ~ ১১৫
প্রথম প্রকাশ ~ সেপ্টেম্বর,১৯
© নাহাস মুহাম্মদ
February 23, 2020
মহাভারত পড়িনি। মহাভারত নামক একটা টিভি সিরিয়াল হতো তা-ও দেখিনি। তাই মহাভারতের চরিত্রগুলো সম্পর্কে ধারণাও ছিল না।
তবে এ বইটা আমার বেশ ভালো লেগেছে। এবারের বইমেলা থেকে নেওয়া বইগুলোর মধ্যে কয়েকটা পড়ে বেশ হতাশ হয়েছি। সে তুলনায় এ বইটা অনেক সমৃদ্ধ বলা যায়। লেখকের অন্য বইগুলো পড়তে আগ্রহ জন্মেছে ♥
তবে এ বইটা আমার বেশ ভালো লেগেছে। এবারের বইমেলা থেকে নেওয়া বইগুলোর মধ্যে কয়েকটা পড়ে বেশ হতাশ হয়েছি। সে তুলনায় এ বইটা অনেক সমৃদ্ধ বলা যায়। লেখকের অন্য বইগুলো পড়তে আগ্রহ জন্মেছে ♥
January 8, 2026
📚 বই নিয়ে আলোচনা
--প্রভাত সমাগত, সৈন্যদল সজ্জিত। তবু সৈন্যপত্যের দায় স্কন্ধে তুলে সমর-শঙ্খ বাজানোর পূর্বে চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে হয়, "রাধেয় নই, আমি কৌন্তেয়"--
দুঃখ ভরা মন নিয়ে কর্ণ একথা বলে যায়, এ কষ্ট কেউ বোঝেনা।
কুমারী কুন্তী অতি ধার্মিক রমনী। তার সেবায় তুষ্ট ব্রাহ্মণ, ঋষি গন। তাঁর সুনাম ছড়িয়ে পড়ে রাজ্য জুড়ে। সেই কুন্তীর সুনাম গিয়ে পৌঁছে ঋষি দুর্বাসার কানে। তিনি 'শুরসেন'(কুন্তীর পিতা)র ঘরে আতিথ্য গ্রহনের ইচ্ছে প্রকাশ করেন।
এবং গ্রহন করেন।
কিছুদিন ছিলেন ঋষি। আজ ঋষির চলে যাবার দিন। কুন্তীর অতিথি সেবায় মুগ্ধ হয়ে ঋষি তাঁকে একটি বর উপহার দেন। একটি মন্ত্র শিখিয়ে দিয়ে যান তিনি। সেই মন্ত্রবলে যে কোনো দেবতা তাঁর ডাকে সাড়া দিবেন।
একদিন কুন্তী ঋষির দেয়া বর পরিক্ষা করার জন্য মন্ত্র পাঠ করে সূর্য দেবতাকে ডাকেন। সূর্যদেব ধরনীতে আসেন। কুন্তীকে সাক্ষাত দান করেন। এবং কুমারি কুন্তীকে সন্তান উপহার দেন।
এদিকে কুমারী কুন্তী লোক লজ্জার ভয়ে সেই সূর্য সন্তানকে বিসর্জণ দেন। সেই সন্তান পরে মানুষ হতে থাকে এক 'সূত পরিবারে'( প্রাচীন ভারতের জাতি বিশেষ)।
কর্ণের পালিত পিতা এখন 'অধিরথ' মাতা 'রাধা'।
ছোট বেলা থেকেই কর্ণের ঝোঁক অস্ত্র চালনার প্রতি, এবং যুদ্ধ বিদ্যার প্রতি । যুদ্ধের দামামা যেন তার অন্তরে প্রতি মূহুর্তে বাজতে থাকে। কিন্তু বাবা অধিরথ অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিতে বারণ করেন। কারণ সূত পুত্রের জন্য এই শিক্ষা নয়। তাদের কাজ অন্য, মহাপুরুষদের রথ চালানোর মতো কাজ গুলোই তাদের জন্য।
কিন্তু কর্ণ সেকথা শুনবে কেন? তিনি ঘর ছাড়লেন। যুদ্ধ বিদ্যা যার নিকটই শিক্ষতে যান, সবাই তাঁকে প্রত্যক্ষান করেন বংশ পরিচয়ের জন্য। একসময় পান্ডুরের পাঁচ সন্তানের যুদ্ধ বিদ্যা শিক্ষাগুরুর নিকট গেলেও সেই একই ভর্ৎসনা পান। গুরুর সঙ্গে যোগ দেয় পঞ্চ পান্ডবরাও। সেই থেকে পঞ্চ পান্ডবের সাথে কর্ণের বিরোধ শুরু। কর্ণ এবার যান দেবতা পরশুরামের নিকট। তাঁর নিকট মিথ্যা পরিচয় দিয়ে শিক্ষা লাভ করলেন।
মাতা কুন্তীর বিয়ে হয় মহারাজ পান্ডুর সাথে। আর এই পাঁচ পান্ডব হচ্ছে মাতা কুন্তীরই পাঁচ সন্তান। তার মানে কর্ণও ঐ পঞ্চ পান্ডবেরই সহোদর। কিন্তু হায়, ভাগ্যকে কে পরিবর্তন করতে পারেন?
পান্ডবদের চির শত্রু 'দুর্যোধনের' সাথে আমরণ মিত্রতা হয়ে যায় কর্ণের। কর্ণের বাহুবল, এবং সাহস দেখে অন্ধ রাজা 'ধৃতরাষ্ট্রের' পুত্র কুমার 'দুর্যোধন' তাঁকে তার বন্ধু করে নেন। এবং 'অঙ্গরাজ্যের' রাজা করে দেন। কর্ণের দূর্দিনে একমাত্র দুর্যোধনই তাকে এমন ভাবে সাহায্য করেন৷ তাই তার কৃতার্থে দুর্যোধনের যেকোনো বিপদে পাশে থাকার প্রতিঙ্গা করেন। আর সেই প্রতিঙ্গা রক্ষার্থেই আজ কর্ণ নিজ ভাইদের বিপরীতে যুদ্ধ ময়দানে হাজির।
রাজকুমারী 'দ্রৌপদী'র জন্য আজ স্বয়ম্বর সভার আয়োজন করা হয়েছে। বহু রাজ্যের রাজা, ও রাজপুত্ররা আমন্ত্রিত। দ্রৌপদীর পিতার অদ্ভুত পরীক্ষাতে যিনি জয়ী হবেন তার গলায় বরমাল্য দিবেন দ্রৌপদী। সেখানেও কর্ণ বংশ পরিচয়ের জন্য দ্রৌপদী নিকট অপমানিত হয়। এবং দ্রৌপদীকে লাভ করেন পঞ্চ পান্ডব।
যুধিষ্ঠিরের অহংকারের জন্য অপমানিত হয় দ্রৌপদী দুর্যোধনের কাছে। সেই সাথে যুধিষ্ঠির হন সর্বস্বান্ত। পাশা খেলাতে দুর্যোধনের নিকট রাজ্য, সম্পদ, দাস-দাসী, চার ভাই, এবং দ্রৌপদীকে হারিয়ে নির্বাক তিনি। ধৃতরাষ্ট্র পরে অবশ্য সব কিছু ফিরিয়ে দিলেও দুর্যোধন রাজ্য ফিরিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানান, এবং বাহুবলে মানে যুদ্ধ করে রাজ্য জয় করতে বলেন। আর এইসব ষড়যন্ত্রের মূল চালিকা শক্তির যোগান দেন দুর্যোধনের মামা 'গান্ধাররাজ শকুনি'। কুটিল সব চাল চালেন এই মামা শুকুনি।
...
আমি মহাভারত পড়িনি। মহাভারতের কোনো চরিত্রের সাথেও পরিচিত নই। শুনেছি মহাভারত বিশাল এক কলেবরের বই, যার মাধ্যমে আছে অগুনতি চরিত্রের সমাগম।
কর্ণ সেই মহাভারতেরই একটি চরিত্র৷ যিনি কিনা তাঁর জন্ম থেকে অবহেলিত। মহাভারতে নাকি কর্ণকে খল চরিত্রের ধরা হয়। কিন্তু তাঁরও যে কিছু কথা থাকতে পারে, তাঁরও কোনো পরিচয় আছে তা হয়তো ইতিহাস ভাবতে পারেন নি।
মাহমুদুর রহমানের দ্বিতীয় বই "রাধেয়"। তিনি মহাভারতের একটি চরিত্র এই কর্ণকে নিয়ে একটি উপন্যাস রচনা করেছেন। তুলে ধরেছেন কর্ণের না বলা কষ্ট গুলো। হয়তো হতে পারতো কর্ণ - অর্জুণ, ভীম, যুধিষ্ঠিরের মত কোনো চরিত্র। হতে পারতো কোনো কালজয়ী কোনো ঘটনার মহারথী। বা দ্রৌপদীর প্রাণ সখা। কিন্তু কেন হতে পারলেন না, তাই যেন বলে গেছেন লেখক তার সু-লেখনিতে।
পৌরানিক কাহিনী নিয়ে রচনা এই 'রাধেয়', তাই বিষয়-বস্তুর সময়-জ্ঞান ও ভাবগাম্ভীর্যের দিকে লেখক দারুণ ভাবে নজর দিয়েছেন। আমার মতো পাঠকও তাতে বেশ আনন্দ পেয়েছে। লেখক এখানে মহাভারত নতুন করে বলেননি। তিনি কর্ণকে নিয়ে লিখেছেন। লেখার ধরন এমন যে কর্ণ নিজের গল্প বলছেন। কর্ণের মুখ থেকেই লেখক তাঁর কষ্টের কথা প্রকাশ করেছেন।
কুরুক্ষেত্রে শ্রীকৃষ্ণের নিকট কর্ণ জানতে পারে তার আসল জন্ম পরিচয়, বংশ পরিচয়। যে পরিচয়ের সন্ধানে ছিলেন তিনি সারাটা জীবন। শেষ কালে শ্রীকৃষ্ণের কথা গুলো তাঁর কাছে প্রহসনের মতো লাগে।
তিনি এখন কোন পরিচয়কে মেনে নিবেন? যে মা নিজ স্বার্থে আপন সন্তানকে বিসর্জণ দেন? আবার সেই স্বার্থের জন্যই আজ কর্ণকে নিজ সন্তান বলে স্বীকার করছেন, তার পরিচয়কে ? নাকি যে মা বিনাস্বার্থে তাঁকে বুকে জড়িয়ে আগলে রেখে মানুষ করেছেন, তাঁর পরিচয়কে?
কর্ণ এখন দ্বিধার মধ্যে পড়ে গেছেন।
তিনি কী "রাধেয়" নাকি "কৌন্তেয়"
“রাধেয়” একটি দ্বিধার কাহিনী। এখানে কর্ণ কোন দেবতার সন্তান নন। কর্ণকে লেখক একজন মানুষের রূপে এনেছেন আমাদের মতো সাধারণ পাঠকদের সামনে। এমন ভাবে লিখেছেন যেন আমরা কর্ণকে অনুভব করতে পারি। লেখক আমাদের নিয়ে গেছেন কর্ণের কষ্টের খুব কাছে।
লেখকের প্রথম বই "মোগলনামা ১ম খন্ড" আমি বেশ উপভোগ করি। কারণ তাঁর লেখনি। চমৎকার, এবং সহজ ভাবে তিনি কাহিনী বর্ণনা করতে পারেন।
"রাধেয়" বইটি প্রকাশ করেছেন "নালন্দা প্রকাশনী"
ধন্যবাদ।
© মোঃ কামরুল হাসান
সময় - সন্ধ্যা ৬টা - ১৭/১০/২০১৯ ইং
📚 বই হোক আপনার, আপনি বইয়ের 📚
--প্রভাত সমাগত, সৈন্যদল সজ্জিত। তবু সৈন্যপত্যের দায় স্কন্ধে তুলে সমর-শঙ্খ বাজানোর পূর্বে চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে হয়, "রাধেয় নই, আমি কৌন্তেয়"--
দুঃখ ভরা মন নিয়ে কর্ণ একথা বলে যায়, এ কষ্ট কেউ বোঝেনা।
কুমারী কুন্তী অতি ধার্মিক রমনী। তার সেবায় তুষ্ট ব্রাহ্মণ, ঋষি গন। তাঁর সুনাম ছড়িয়ে পড়ে রাজ্য জুড়ে। সেই কুন্তীর সুনাম গিয়ে পৌঁছে ঋষি দুর্বাসার কানে। তিনি 'শুরসেন'(কুন্তীর পিতা)র ঘরে আতিথ্য গ্রহনের ইচ্ছে প্রকাশ করেন।
এবং গ্রহন করেন।
কিছুদিন ছিলেন ঋষি। আজ ঋষির চলে যাবার দিন। কুন্তীর অতিথি সেবায় মুগ্ধ হয়ে ঋষি তাঁকে একটি বর উপহার দেন। একটি মন্ত্র শিখিয়ে দিয়ে যান তিনি। সেই মন্ত্রবলে যে কোনো দেবতা তাঁর ডাকে সাড়া দিবেন।
একদিন কুন্তী ঋষির দেয়া বর পরিক্ষা করার জন্য মন্ত্র পাঠ করে সূর্য দেবতাকে ডাকেন। সূর্যদেব ধরনীতে আসেন। কুন্তীকে সাক্ষাত দান করেন। এবং কুমারি কুন্তীকে সন্তান উপহার দেন।
এদিকে কুমারী কুন্তী লোক লজ্জার ভয়ে সেই সূর্য সন্তানকে বিসর্জণ দেন। সেই সন্তান পরে মানুষ হতে থাকে এক 'সূত পরিবারে'( প্রাচীন ভারতের জাতি বিশেষ)।
কর্ণের পালিত পিতা এখন 'অধিরথ' মাতা 'রাধা'।
ছোট বেলা থেকেই কর্ণের ঝোঁক অস্ত্র চালনার প্রতি, এবং যুদ্ধ বিদ্যার প্রতি । যুদ্ধের দামামা যেন তার অন্তরে প্রতি মূহুর্তে বাজতে থাকে। কিন্তু বাবা অধিরথ অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিতে বারণ করেন। কারণ সূত পুত্রের জন্য এই শিক্ষা নয়। তাদের কাজ অন্য, মহাপুরুষদের রথ চালানোর মতো কাজ গুলোই তাদের জন্য।
কিন্তু কর্ণ সেকথা শুনবে কেন? তিনি ঘর ছাড়লেন। যুদ্ধ বিদ্যা যার নিকটই শিক্ষতে যান, সবাই তাঁকে প্রত্যক্ষান করেন বংশ পরিচয়ের জন্য। একসময় পান্ডুরের পাঁচ সন্তানের যুদ্ধ বিদ্যা শিক্ষাগুরুর নিকট গেলেও সেই একই ভর্ৎসনা পান। গুরুর সঙ্গে যোগ দেয় পঞ্চ পান্ডবরাও। সেই থেকে পঞ্চ পান্ডবের সাথে কর্ণের বিরোধ শুরু। কর্ণ এবার যান দেবতা পরশুরামের নিকট। তাঁর নিকট মিথ্যা পরিচয় দিয়ে শিক্ষা লাভ করলেন।
মাতা কুন্তীর বিয়ে হয় মহারাজ পান্ডুর সাথে। আর এই পাঁচ পান্ডব হচ্ছে মাতা কুন্তীরই পাঁচ সন্তান। তার মানে কর্ণও ঐ পঞ্চ পান্ডবেরই সহোদর। কিন্তু হায়, ভাগ্যকে কে পরিবর্তন করতে পারেন?
পান্ডবদের চির শত্রু 'দুর্যোধনের' সাথে আমরণ মিত্রতা হয়ে যায় কর্ণের। কর্ণের বাহুবল, এবং সাহস দেখে অন্ধ রাজা 'ধৃতরাষ্ট্রের' পুত্র কুমার 'দুর্যোধন' তাঁকে তার বন্ধু করে নেন। এবং 'অঙ্গরাজ্যের' রাজা করে দেন। কর্ণের দূর্দিনে একমাত্র দুর্যোধনই তাকে এমন ভাবে সাহায্য করেন৷ তাই তার কৃতার্থে দুর্যোধনের যেকোনো বিপদে পাশে থাকার প্রতিঙ্গা করেন। আর সেই প্রতিঙ্গা রক্ষার্থেই আজ কর্ণ নিজ ভাইদের বিপরীতে যুদ্ধ ময়দানে হাজির।
রাজকুমারী 'দ্রৌপদী'র জন্য আজ স্বয়ম্বর সভার আয়োজন করা হয়েছে। বহু রাজ্যের রাজা, ও রাজপুত্ররা আমন্ত্রিত। দ্রৌপদীর পিতার অদ্ভুত পরীক্ষাতে যিনি জয়ী হবেন তার গলায় বরমাল্য দিবেন দ্রৌপদী। সেখানেও কর্ণ বংশ পরিচয়ের জন্য দ্রৌপদী নিকট অপমানিত হয়। এবং দ্রৌপদীকে লাভ করেন পঞ্চ পান্ডব।
যুধিষ্ঠিরের অহংকারের জন্য অপমানিত হয় দ্রৌপদী দুর্যোধনের কাছে। সেই সাথে যুধিষ্ঠির হন সর্বস্বান্ত। পাশা খেলাতে দুর্যোধনের নিকট রাজ্য, সম্পদ, দাস-দাসী, চার ভাই, এবং দ্রৌপদীকে হারিয়ে নির্বাক তিনি। ধৃতরাষ্ট্র পরে অবশ্য সব কিছু ফিরিয়ে দিলেও দুর্যোধন রাজ্য ফিরিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানান, এবং বাহুবলে মানে যুদ্ধ করে রাজ্য জয় করতে বলেন। আর এইসব ষড়যন্ত্রের মূল চালিকা শক্তির যোগান দেন দুর্যোধনের মামা 'গান্ধাররাজ শকুনি'। কুটিল সব চাল চালেন এই মামা শুকুনি।
...
আমি মহাভারত পড়িনি। মহাভারতের কোনো চরিত্রের সাথেও পরিচিত নই। শুনেছি মহাভারত বিশাল এক কলেবরের বই, যার মাধ্যমে আছে অগুনতি চরিত্রের সমাগম।
কর্ণ সেই মহাভারতেরই একটি চরিত্র৷ যিনি কিনা তাঁর জন্ম থেকে অবহেলিত। মহাভারতে নাকি কর্ণকে খল চরিত্রের ধরা হয়। কিন্তু তাঁরও যে কিছু কথা থাকতে পারে, তাঁরও কোনো পরিচয় আছে তা হয়তো ইতিহাস ভাবতে পারেন নি।
মাহমুদুর রহমানের দ্বিতীয় বই "রাধেয়"। তিনি মহাভারতের একটি চরিত্র এই কর্ণকে নিয়ে একটি উপন্যাস রচনা করেছেন। তুলে ধরেছেন কর্ণের না বলা কষ্ট গুলো। হয়তো হতে পারতো কর্ণ - অর্জুণ, ভীম, যুধিষ্ঠিরের মত কোনো চরিত্র। হতে পারতো কোনো কালজয়ী কোনো ঘটনার মহারথী। বা দ্রৌপদীর প্রাণ সখা। কিন্তু কেন হতে পারলেন না, তাই যেন বলে গেছেন লেখক তার সু-লেখনিতে।
পৌরানিক কাহিনী নিয়ে রচনা এই 'রাধেয়', তাই বিষয়-বস্তুর সময়-জ্ঞান ও ভাবগাম্ভীর্যের দিকে লেখক দারুণ ভাবে নজর দিয়েছেন। আমার মতো পাঠকও তাতে বেশ আনন্দ পেয়েছে। লেখক এখানে মহাভারত নতুন করে বলেননি। তিনি কর্ণকে নিয়ে লিখেছেন। লেখার ধরন এমন যে কর্ণ নিজের গল্প বলছেন। কর্ণের মুখ থেকেই লেখক তাঁর কষ্টের কথা প্রকাশ করেছেন।
কুরুক্ষেত্রে শ্রীকৃষ্ণের নিকট কর্ণ জানতে পারে তার আসল জন্ম পরিচয়, বংশ পরিচয়। যে পরিচয়ের সন্ধানে ছিলেন তিনি সারাটা জীবন। শেষ কালে শ্রীকৃষ্ণের কথা গুলো তাঁর কাছে প্রহসনের মতো লাগে।
তিনি এখন কোন পরিচয়কে মেনে নিবেন? যে মা নিজ স্বার্থে আপন সন্তানকে বিসর্জণ দেন? আবার সেই স্বার্থের জন্যই আজ কর্ণকে নিজ সন্তান বলে স্বীকার করছেন, তার পরিচয়কে ? নাকি যে মা বিনাস্বার্থে তাঁকে বুকে জড়িয়ে আগলে রেখে মানুষ করেছেন, তাঁর পরিচয়কে?
কর্ণ এখন দ্বিধার মধ্যে পড়ে গেছেন।
তিনি কী "রাধেয়" নাকি "কৌন্তেয়"
“রাধেয়” একটি দ্বিধার কাহিনী। এখানে কর্ণ কোন দেবতার সন্তান নন। কর্ণকে লেখক একজন মানুষের রূপে এনেছেন আমাদের মতো সাধারণ পাঠকদের সামনে। এমন ভাবে লিখেছেন যেন আমরা কর্ণকে অনুভব করতে পারি। লেখক আমাদের নিয়ে গেছেন কর্ণের কষ্টের খুব কাছে।
লেখকের প্রথম বই "মোগলনামা ১ম খন্ড" আমি বেশ উপভোগ করি। কারণ তাঁর লেখনি। চমৎকার, এবং সহজ ভাবে তিনি কাহিনী বর্ণনা করতে পারেন।
"রাধেয়" বইটি প্রকাশ করেছেন "নালন্দা প্রকাশনী"
ধন্যবাদ।
© মোঃ কামরুল হাসান
সময় - সন্ধ্যা ৬টা - ১৭/১০/২০১৯ ইং
📚 বই হোক আপনার, আপনি বইয়ের 📚
February 11, 2021
কেমন হবে যদি জীবনে শেষ মুহূর্তের দ্বারপ্রান্তে এসে জানেন আপনার জীবনের সবচাইতে বড় সত্যিটা?
সবটা খেলায় পেয়াদা বলে অবহেলিত হয়ে দাবার শেষ চালে এসে যদি জানতে পারেন আপনিই ছিলেন মন্ত্রী কেমন লাগবে আপনার তখন?
.
সারসংক্ষেপঃ
প্রাক-কথনে লেখক বলেছেন, মহাভারতের অনেন চরিত্রই জটিল। কর্ণ তেমনই একটা জটিল চরিত্র।
পিতা অধিরথ আর মাতা রাধার কোলে সূত বংশে লালিত হয়েও অস্ত্রবিদ্যার প্রতি তুমুল আকর্ষণ কর্ণের। অথচ আর্যাবতে সূতদের নেই অস্ত্রবিদ্যার অধিকার, তবুও বাবার নিষেধ অগ্রাহ্য করে একা একাই অস্ত্রবিদ্যা চর্চা করে কর্ণ। এদিকে হস্তিনাপুরে বড় হতে থাকে কুরুক্ষেত্রের প্রধান ঘুটি পঞ্চ পাণ্ডব আর দুঃশাসন -দূর্যধনরা। কুরুপুত্রদের গুরু দ্রোণাচার্যের কাছে অস্ত্র শিক্ষার জন্য গিয়ে প্রত্যাখ্যাত হয় কর্ণ, সেদিনই প্রতিজ্ঞা করে দ্রোণাচার্যের প্রিয় শিষ্য অর্জুনকে বধ করবে সে। অস্ত্র শিক্ষার জন্য যায় পরশুরাম এর কাছে। মিথ্যা ব্রাহ্মণ্য পরিচয় দিয়ে অস্ত্র শিক্ষা করে ফিরে আসে মাথায় অভিশাপ নিয়ে, এসেই মিত্র হিসেবে পায় দূর্যধনকে। হয় অঙ্গরাজ্যের অধিপতি, তবুও বারবার অবহেলিত হতে থাকে তার জাতি পরিচয়ের কারণে। নিজের অজান্তেই কিংবা অহংকারের কারণে পরিণত হয় কুরুযুদ্ধের একটি অন্যতম ঘুঁটিতে। এদিকে দুর্যোধনের উচ্চাকাঙ্খা, শকুনির কুটিল বুদ্ধি, যুদিষ্ঠিরের পাশা খেলার অংহকারের কারণে পর্যায়ক্রমে এগুতে থাকে ঘটনা, যার পরিণতি লেখা আছে কুরুক্ষেত্রে।
মোগলনামা খ্যাত লেখক মাহমুদুর রহমানের দারুণ বর্ণনা ভঙ্গীতে কর্ণের কথায় আপনি আবিষ্কার করবেন মহাভারতে খানিকটা আড়ালে চাপা পড়ে থাকা কর্ণকে। পুরো গল্প জুড়ে কর্ণের নিজেকে করা প্রশ্নগুলো যেন আমাদের প্রত্যেকের জীবনের আখ্যান। সবসময় জাতের কারণে অবহেলিত হয়ে আপন ধর্ম মেনে লড়াই করা এক মানুষের গল্প রাধেয়। উপন্যাস পড়ে জানতে পারবেন আমাদের আশেপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে এমন সহস্র কর্ণ, জানতে পারবেন মহাভারতের জটিলতম চরিত্র কর্ণকে।
.
মতামতঃ
লেখকের গল্প বলার ভঙ্গী বেশ ভালো লেগেছে। প্রথমেই লেখক বলে দিয়েছেন, পুরাণ কেন্দ্রীক বই হওয়ায় শব্দ একটু কঠিন হতে পারে, কিন্তু তা মনে হয় নি। দুই একটা শব্দ মনে হলেও প্রতিটি পৃষ্ঠায় দেওয়া অর্থের কারণে পড়েছি বেশ সাবলীলভাবে। কর্ণের নিজেকে করা প্রশ্নগুলো পড়ে মনে হয়েছে আরে এটাতো আমার জীবনেরই প্রশ্ন। পুরো বইটা জুড়ে টাইপিং ভুল চোখে পড়েছে একটি। শেষের দিকে একজায়গায় 'মতো' হয়ে গেছে 'এতো'। মোস্তাফিজ কারিগরের করা প্রচ্ছদটাও গল্পের সাথে মিলে গেছে দারুণভাবে। নালন্দার প্রোডাকশনও দারুণ। সবমিলিয়ে অসাধারণ একটা বই রাধেয়। ১০ এর মাঝে ৮.৫ দিবো আমি ব্যক্তিগত রেটিং। মহাভারত নিয়ে আগ্রহ থাকলে নির্দ্বিধায় পড়তে পারেন বইটি, তাছাড়াও শুধুমাত্র কর্ণের নিজেকে করা প্রশ্নগুলোর জীবনদর্শন এর জন্যও পড়া যায় বইটি।
.
প্রিয় উক্তিঃ
১. আত্মপরিচয় জানে কতজন? সে গূঢ় তত্ত্বের সন্ধান সকলে করেও না।
২.বিদ্রোহী পুরুষের শয্যা কোমল হয় না। তাকে সংগ্রাম করতে হয়। প্রশ্নের উত্তর নিজেকেই খুঁজে নিতে হয়।
৩.মানুষ যাকে ধর্মজ্ঞান করে, যদি কখনো জ্ঞাত হয় তা অধর্ম ছিলো তবে পীড়া উপস্থিত হওয়া স্বাভাবি।
৪.জগতে কিছু মানুষ বুঝি এমনই হয়। তাদের অভিলাষ পূর্ণ হয় না। বহু ঘটনায় যুক্ত হয়েও কৃর্ত কর্মের স্বীকৃতি পায় না।
৫. কর্ণরা ফিরে আসেন বারবার। চলে যান নিভৃতে।
...
সবটা খেলায় পেয়াদা বলে অবহেলিত হয়ে দাবার শেষ চালে এসে যদি জানতে পারেন আপনিই ছিলেন মন্ত্রী কেমন লাগবে আপনার তখন?
.
সারসংক্ষেপঃ
প্রাক-কথনে লেখক বলেছেন, মহাভারতের অনেন চরিত্রই জটিল। কর্ণ তেমনই একটা জটিল চরিত্র।
পিতা অধিরথ আর মাতা রাধার কোলে সূত বংশে লালিত হয়েও অস্ত্রবিদ্যার প্রতি তুমুল আকর্ষণ কর্ণের। অথচ আর্যাবতে সূতদের নেই অস্ত্রবিদ্যার অধিকার, তবুও বাবার নিষেধ অগ্রাহ্য করে একা একাই অস্ত্রবিদ্যা চর্চা করে কর্ণ। এদিকে হস্তিনাপুরে বড় হতে থাকে কুরুক্ষেত্রের প্রধান ঘুটি পঞ্চ পাণ্ডব আর দুঃশাসন -দূর্যধনরা। কুরুপুত্রদের গুরু দ্রোণাচার্যের কাছে অস্ত্র শিক্ষার জন্য গিয়ে প্রত্যাখ্যাত হয় কর্ণ, সেদিনই প্রতিজ্ঞা করে দ্রোণাচার্যের প্রিয় শিষ্য অর্জুনকে বধ করবে সে। অস্ত্র শিক্ষার জন্য যায় পরশুরাম এর কাছে। মিথ্যা ব্রাহ্মণ্য পরিচয় দিয়ে অস্ত্র শিক্ষা করে ফিরে আসে মাথায় অভিশাপ নিয়ে, এসেই মিত্র হিসেবে পায় দূর্যধনকে। হয় অঙ্গরাজ্যের অধিপতি, তবুও বারবার অবহেলিত হতে থাকে তার জাতি পরিচয়ের কারণে। নিজের অজান্তেই কিংবা অহংকারের কারণে পরিণত হয় কুরুযুদ্ধের একটি অন্যতম ঘুঁটিতে। এদিকে দুর্যোধনের উচ্চাকাঙ্খা, শকুনির কুটিল বুদ্ধি, যুদিষ্ঠিরের পাশা খেলার অংহকারের কারণে পর্যায়ক্রমে এগুতে থাকে ঘটনা, যার পরিণতি লেখা আছে কুরুক্ষেত্রে।
মোগলনামা খ্যাত লেখক মাহমুদুর রহমানের দারুণ বর্ণনা ভঙ্গীতে কর্ণের কথায় আপনি আবিষ্কার করবেন মহাভারতে খানিকটা আড়ালে চাপা পড়ে থাকা কর্ণকে। পুরো গল্প জুড়ে কর্ণের নিজেকে করা প্রশ্নগুলো যেন আমাদের প্রত্যেকের জীবনের আখ্যান। সবসময় জাতের কারণে অবহেলিত হয়ে আপন ধর্ম মেনে লড়াই করা এক মানুষের গল্প রাধেয়। উপন্যাস পড়ে জানতে পারবেন আমাদের আশেপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে এমন সহস্র কর্ণ, জানতে পারবেন মহাভারতের জটিলতম চরিত্র কর্ণকে।
.
মতামতঃ
লেখকের গল্প বলার ভঙ্গী বেশ ভালো লেগেছে। প্রথমেই লেখক বলে দিয়েছেন, পুরাণ কেন্দ্রীক বই হওয়ায় শব্দ একটু কঠিন হতে পারে, কিন্তু তা মনে হয় নি। দুই একটা শব্দ মনে হলেও প্রতিটি পৃষ্ঠায় দেওয়া অর্থের কারণে পড়েছি বেশ সাবলীলভাবে। কর্ণের নিজেকে করা প্রশ্নগুলো পড়ে মনে হয়েছে আরে এটাতো আমার জীবনেরই প্রশ্ন। পুরো বইটা জুড়ে টাইপিং ভুল চোখে পড়েছে একটি। শেষের দিকে একজায়গায় 'মতো' হয়ে গেছে 'এতো'। মোস্তাফিজ কারিগরের করা প্রচ্ছদটাও গল্পের সাথে মিলে গেছে দারুণভাবে। নালন্দার প্রোডাকশনও দারুণ। সবমিলিয়ে অসাধারণ একটা বই রাধেয়। ১০ এর মাঝে ৮.৫ দিবো আমি ব্যক্তিগত রেটিং। মহাভারত নিয়ে আগ্রহ থাকলে নির্দ্বিধায় পড়তে পারেন বইটি, তাছাড়াও শুধুমাত্র কর্ণের নিজেকে করা প্রশ্নগুলোর জীবনদর্শন এর জন্যও পড়া যায় বইটি।
.
প্রিয় উক্তিঃ
১. আত্মপরিচয় জানে কতজন? সে গূঢ় তত্ত্বের সন্ধান সকলে করেও না।
২.বিদ্রোহী পুরুষের শয্যা কোমল হয় না। তাকে সংগ্রাম করতে হয়। প্রশ্নের উত্তর নিজেকেই খুঁজে নিতে হয়।
৩.মানুষ যাকে ধর্মজ্ঞান করে, যদি কখনো জ্ঞাত হয় তা অধর্ম ছিলো তবে পীড়া উপস্থিত হওয়া স্বাভাবি।
৪.জগতে কিছু মানুষ বুঝি এমনই হয়। তাদের অভিলাষ পূর্ণ হয় না। বহু ঘটনায় যুক্ত হয়েও কৃর্ত কর্মের স্বীকৃতি পায় না।
৫. কর্ণরা ফিরে আসেন বারবার। চলে যান নিভৃতে।
...
May 19, 2022
"আমি সূত কিংবা সূতপুত্র, কিংবা আমি যে-ই হই না কেন
জন্ম আমার দৈবের অধীন, কিন্তু কর্ম আমার পৌরুষের" - রাধেয়, মাহমুদুর রহমান
বলছিলাম রাধেয় এর কথা, মাহমুদুর রহমানের মিথলজিক্যাল ফিকশন। কর্ণের বয়ানে মহাভারতের প্রধান আখ্যানভাগ বর্ণনা করার চেষ্টা করেছেন লেখক। তবে মহাভারতের কর্ণের সাথে মাহমুদুর রহমানের কর্ণের বেশ কিছুটা তফাত। জীবনের কোন না কোন সময় মানুষ তার চারপাশকে ভেঙ্গে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখে৷ চ্যালেঞ্জ করে বসে নিজের নিয়তিকে। রাধেয়তে কর্ণ এসেছে সেসব মানুষের প্রতীক হিসেবে। জন্ম পরিচয়ে উপদেবতা হলেও, সত্তার দিক থেকে আমার আপনার মতোই।
কর্ণ সূর্যের পুত্র হয়েও পালিত হন সূতের গৃহ। দৈব বিপর্যয়ে তাঁর পরিচয় হয়ে ওঠে সূতপুত্র হিসেবে। ভুল জন্মপরিচয় অলঙ্ঘ পর্বত হয়ে দাঁড়িয়ে পরে স্বপ্নের রাস্তায়। বহুদিনের পুরানো সমাজের শৃঙখল ডানা ভাঙে স্বপ্নের রঙিন প্রজাপতির। সূতপুত্রের যে অধিকার নেই অস্ত্রশিক্ষার। কর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠেন তাঁর স্বীয় ভাগ্যের। পরিচয় লুকিয়ে হয়ে ওঠেন কুশলী অস্ত্রবিদ। ভীষ্ম বা কৃষ্ণ যেখানে কর্ণের পরিচয় জেনেও তাকে সহায়তা করেন নি, দূর্যোধন সেখানে সূতপুত্র পরিচয় জেনেও রাজ্যে অধিষ্ঠিত করেন কর্ণকে। গড়ে ওঠে কর্ণ আর দূর্যোধনের মিত্রতা। আরোহন করে সাফল্যের সর্বোচ্চ চূড়ায়। কিন্তুই সাফল্যই কি বয়ে আনের ধ্বংসের বার্তা? দূর্যোধন সাথে মিত্রতাই কি কর্ণকে নিয়ে যায় ধ্বংসের পথে?
রাধেয় তে কর্ণকে নিয়তির অধীন হিসেবে দেখানোর জন্য লেখক সাহেবকে কর্ণ চরিত্রকে বেশ অনেকটা সংশোধন করতে হয়েছে। কর্ণের দুষ্কৃতিগুলোকে দেখাতে হয়েছে নিরুপায় অংশগ্রহণকারী হিসেবে। বেশ কিছু জায়গায় মহাভারতের গল্পের মোডিফিকেশন করতে হয়েছে। যেমন "রাধেয়" এর কর্ণ দ্রোণের অধীনেও যুদ্ধে অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত। যারা রাধেয় কে স্বতন্ত্র গল্প হিসেবে গ্রহন করতে পারবেন তাদের কাছে রাধেয় বেশ লাগবে কিন্তু সবার কাছে না লাগাটা অস্বাভাবিক না। উপন্যাসের প্রতিটা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার ব্যাখা হয়েছে কর্ণের দৃষ্টিকোণ থেকে। মহাভারতের ঘটনার উপর অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে আলো ফেলার কঠিন কাজে লেখক সফল। তবে লেখকের উচিত ছিল লেখার পরিধি আরো একটু বাড়ানো। কর্ণের আত্মপরিচয় আর মনের বিচিত্র দ্বন্দকে আরো দু-দন্ড সময় দেয়া।
সবসময় পৃথিবীতে বেশ কিছু মানুষ থাকে সংগ্রামী। আত্মপরিচয় জানার জন্য হোক বা হোক জয় লাভের আকাঙ্ক্ষায়। কেউ সফল হয়। বেশিরভাগই হারিয়ে যায়। কর্ণ সেসব লড়াকু মানুষের প্রতিভূ।
রাধেয়ের সবচাইতে আকর্ষণীয় অংশ শেষ যুদ্ধের আগে তাঁর আত্মসমীক্ষা আর মানসিক দ্বন্দ। এ যেন এক সাধারণ মানুষের চাওয়া-পাওয়ার হিসাব মেলানোর গল্প। তবে কর্ণের এই আত্মসমীক্ষায় লেখক এতো কম সময় দিয়েছেন কেন কে জানে!! অবশ্য পুরো লেখাটায় একটু যেন তাড়াহুড়োর আভাস পেয়েছি।
মাহামুদুর রহমানের সহজাত ক্ষমতা আছে জটিল গল্পকে সহজভাবে বলার। সংস্কৃত গাম্ভীর্য মধুর বাংলা ব্যবহার করে রাধেয়-তে তিনি দেখিয়েছেন ভাষার ওপর দখল কতটা। মহাভারতের বিস্তৃত অংশ থেকে রাধেয় এর সাবজেক্ট ম্যাটার বাছাইয়ে লেখক উতরে গিয়েছেন। কিন্তু তারপর ও "রাধেয়" মনে যে ঠিক গভীর দাগ কেটেছে এমন মনে হয় নি। লেখক নিজেও কেন যেন নিজের গল্পের ভেতরে ঢুকতে পারেননি মনে হয়েছে।
জন্ম আমার দৈবের অধীন, কিন্তু কর্ম আমার পৌরুষের" - রাধেয়, মাহমুদুর রহমান
বলছিলাম রাধেয় এর কথা, মাহমুদুর রহমানের মিথলজিক্যাল ফিকশন। কর্ণের বয়ানে মহাভারতের প্রধান আখ্যানভাগ বর্ণনা করার চেষ্টা করেছেন লেখক। তবে মহাভারতের কর্ণের সাথে মাহমুদুর রহমানের কর্ণের বেশ কিছুটা তফাত। জীবনের কোন না কোন সময় মানুষ তার চারপাশকে ভেঙ্গে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখে৷ চ্যালেঞ্জ করে বসে নিজের নিয়তিকে। রাধেয়তে কর্ণ এসেছে সেসব মানুষের প্রতীক হিসেবে। জন্ম পরিচয়ে উপদেবতা হলেও, সত্তার দিক থেকে আমার আপনার মতোই।
কর্ণ সূর্যের পুত্র হয়েও পালিত হন সূতের গৃহ। দৈব বিপর্যয়ে তাঁর পরিচয় হয়ে ওঠে সূতপুত্র হিসেবে। ভুল জন্মপরিচয় অলঙ্ঘ পর্বত হয়ে দাঁড়িয়ে পরে স্বপ্নের রাস্তায়। বহুদিনের পুরানো সমাজের শৃঙখল ডানা ভাঙে স্বপ্নের রঙিন প্রজাপতির। সূতপুত্রের যে অধিকার নেই অস্ত্রশিক্ষার। কর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠেন তাঁর স্বীয় ভাগ্যের। পরিচয় লুকিয়ে হয়ে ওঠেন কুশলী অস্ত্রবিদ। ভীষ্ম বা কৃষ্ণ যেখানে কর্ণের পরিচয় জেনেও তাকে সহায়তা করেন নি, দূর্যোধন সেখানে সূতপুত্র পরিচয় জেনেও রাজ্যে অধিষ্ঠিত করেন কর্ণকে। গড়ে ওঠে কর্ণ আর দূর্যোধনের মিত্রতা। আরোহন করে সাফল্যের সর্বোচ্চ চূড়ায়। কিন্তুই সাফল্যই কি বয়ে আনের ধ্বংসের বার্তা? দূর্যোধন সাথে মিত্রতাই কি কর্ণকে নিয়ে যায় ধ্বংসের পথে?
রাধেয় তে কর্ণকে নিয়তির অধীন হিসেবে দেখানোর জন্য লেখক সাহেবকে কর্ণ চরিত্রকে বেশ অনেকটা সংশোধন করতে হয়েছে। কর্ণের দুষ্কৃতিগুলোকে দেখাতে হয়েছে নিরুপায় অংশগ্রহণকারী হিসেবে। বেশ কিছু জায়গায় মহাভারতের গল্পের মোডিফিকেশন করতে হয়েছে। যেমন "রাধেয়" এর কর্ণ দ্রোণের অধীনেও যুদ্ধে অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত। যারা রাধেয় কে স্বতন্ত্র গল্প হিসেবে গ্রহন করতে পারবেন তাদের কাছে রাধেয় বেশ লাগবে কিন্তু সবার কাছে না লাগাটা অস্বাভাবিক না। উপন্যাসের প্রতিটা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার ব্যাখা হয়েছে কর্ণের দৃষ্টিকোণ থেকে। মহাভারতের ঘটনার উপর অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে আলো ফেলার কঠিন কাজে লেখক সফল। তবে লেখকের উচিত ছিল লেখার পরিধি আরো একটু বাড়ানো। কর্ণের আত্মপরিচয় আর মনের বিচিত্র দ্বন্দকে আরো দু-দন্ড সময় দেয়া।
সবসময় পৃথিবীতে বেশ কিছু মানুষ থাকে সংগ্রামী। আত্মপরিচয় জানার জন্য হোক বা হোক জয় লাভের আকাঙ্ক্ষায়। কেউ সফল হয়। বেশিরভাগই হারিয়ে যায়। কর্ণ সেসব লড়াকু মানুষের প্রতিভূ।
রাধেয়ের সবচাইতে আকর্ষণীয় অংশ শেষ যুদ্ধের আগে তাঁর আত্মসমীক্ষা আর মানসিক দ্বন্দ। এ যেন এক সাধারণ মানুষের চাওয়া-পাওয়ার হিসাব মেলানোর গল্প। তবে কর্ণের এই আত্মসমীক্ষায় লেখক এতো কম সময় দিয়েছেন কেন কে জানে!! অবশ্য পুরো লেখাটায় একটু যেন তাড়াহুড়োর আভাস পেয়েছি।
মাহামুদুর রহমানের সহজাত ক্ষমতা আছে জটিল গল্পকে সহজভাবে বলার। সংস্কৃত গাম্ভীর্য মধুর বাংলা ব্যবহার করে রাধেয়-তে তিনি দেখিয়েছেন ভাষার ওপর দখল কতটা। মহাভারতের বিস্তৃত অংশ থেকে রাধেয় এর সাবজেক্ট ম্যাটার বাছাইয়ে লেখক উতরে গিয়েছেন। কিন্তু তারপর ও "রাধেয়" মনে যে ঠিক গভীর দাগ কেটেছে এমন মনে হয় নি। লেখক নিজেও কেন যেন নিজের গল্পের ভেতরে ঢুকতে পারেননি মনে হয়েছে।
March 8, 2021
মহাভারতকে সমগ্র ভূ-ভারতের সাথে তুলনা করা হয়। বলা হয়ে থাকে "যা নেই ভারতে তা নেই ভারতে "। কুন্তী পুত্র কর্ণকে নিয়েই মূলত পুরো উপন্যাসের ভিত্তি। 'রাধেয়' মানে রাধার পুত্র, রাধা কর্ণের পালক মা। কু্ন্তী আর সূর্যদেবের পুত্র কর্ণ। ঘটনাক্রমে অবিবাহিতা কুন্তী পুত্র কর্ণকে ত্যাগ করলে সে সূতের (তৎকালীন নিচু জাতি বিশেষ) ঘরে প্রতিপালিত হয়। কর্ণের পিতা(পালক) ছিলেন রথ চালক কিন্তু কর্ণের অস্ত্রশিক্ষার ঝোক প্রবল৷ সবসময় বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় তার জন্ম পরিচয় কিন্তু কর্ণ যে মহাভারতের এক পেছনের চরিত্র হলেও কালক্রমে নিজ চেষ্টায় হস্তিনাপুরে নিজের মর্যাদার জায়গা করে নেয়। হস্তিনাপুরের একাংশ এবং গুরু দ্রোণ তাকে তার শ্রেণির জন্য কখনোই গ্রহণ করেননি। এমনকি তার পাঁচ ভাই পঞ্চপাণ্ডবরাও তাকে বহুবার অপমান করে৷ তিনি অস্ত্র ও শাস্ত্র শিক্ষা লাভ করেন ভগবান পরশুরামের নিকট। সীতার দ্বারাও তিনি অপমানিত হয় সূতপুত্র বলে। দূর্যোধন তার দিকে মিত্রতার হাত বাড়ায় এবং তিনি সমস্ত জীবন বন্ধুত্বের বিশ্বস্ততা বজায় রাখেন। তিনি কৃষ্ণের কথায় তার জীবনের পুরো ইতিহাস জানলেও বন্ধুকে কখনো ছাড়েননি। কর্ণ তার জীবনের সমস্ত জীবন নিজেকে জানতে আর সমাজের সেই সংকীর্ণতা ভাঙতে ব্যায় করেন। কর্ণ বারংবার নিজেকে জানার চেষ্টা করেন। কি তার পরিচয়? নিয়তি কি চায় তার থেকে? মূলত মহাভারতের সেই সমাপ্তি যুদ্ধ ঘটে তার জন্যই৷ তিনি কতোটুকু সফল তা নিয়তিই জানে। বইয়ের কয়েকটা লাইনেই তা হয়তো পরিষ্কার -
" অঙ্গরাজ (কর্ণ), ধরাধামে আপনি, অর্জুন,দুর্যোধন সকলেই ঘটনার নিমিত্ত মাত্র। নিয়ন্ত্রক নন। সবকিছু ঘটে আমোঘ নিয়তির নিয়মে। মনুষ্য জন্মে সে অনেক কিছুই করতে চায় কিন্তু মূলত সে একটা গন্ডির বাইরে কিছুই করতে সক্ষম নয়। কেননা এক বিশাল কর্মযজ্ঞের ক্ষুদ্র অংশ সে। আপনিও ব্যতিক্রম নন।" রাধেয় মূলত নিজের স্বত্বার সাথে যুদ্ধ। রাধেয় মানে সমাজের সেই হীন মানসিকতাকে পদে পদে ভেঙে ফেলার গল্প। রাধেয় মূলত সেই সকল মানুষের আদর্শ যারা হেরে যেতে জানে না। রাধেয় হার মানতে জানে না তা সে মৃত্যুই আসুক না কেন। রাধেয় নামই সবার উদ্দীপনাকে নতুন করে জাগাতে সাহায্য করে। একদিকে সমাজ, রাজ্য, আপনজন অন্যদিকে রাধেয় একা বুক চেতিয়ে দাঁড়িয়ে। নিজেকে প্রমাণ করার জেদই মানুষকে উচ্চতায় পৌঁছাতে সাহায্য করে। কেউ কেউ পরিণতি পায় কেউ কেউ কাল গর্ভে হারিয়ে যায়। কর্ণেরা বারে বারে ফিরে আসে। কর্ণেরা লড়তে জানে।
" অঙ্গরাজ (কর্ণ), ধরাধামে আপনি, অর্জুন,দুর্যোধন সকলেই ঘটনার নিমিত্ত মাত্র। নিয়ন্ত্রক নন। সবকিছু ঘটে আমোঘ নিয়তির নিয়মে। মনুষ্য জন্মে সে অনেক কিছুই করতে চায় কিন্তু মূলত সে একটা গন্ডির বাইরে কিছুই করতে সক্ষম নয়। কেননা এক বিশাল কর্মযজ্ঞের ক্ষুদ্র অংশ সে। আপনিও ব্যতিক্রম নন।" রাধেয় মূলত নিজের স্বত্বার সাথে যুদ্ধ। রাধেয় মানে সমাজের সেই হীন মানসিকতাকে পদে পদে ভেঙে ফেলার গল্প। রাধেয় মূলত সেই সকল মানুষের আদর্শ যারা হেরে যেতে জানে না। রাধেয় হার মানতে জানে না তা সে মৃত্যুই আসুক না কেন। রাধেয় নামই সবার উদ্দীপনাকে নতুন করে জাগাতে সাহায্য করে। একদিকে সমাজ, রাজ্য, আপনজন অন্যদিকে রাধেয় একা বুক চেতিয়ে দাঁড়িয়ে। নিজেকে প্রমাণ করার জেদই মানুষকে উচ্চতায় পৌঁছাতে সাহায্য করে। কেউ কেউ পরিণতি পায় কেউ কেউ কাল গর্ভে হারিয়ে যায়। কর্ণেরা বারে বারে ফিরে আসে। কর্ণেরা লড়তে জানে।
July 7, 2021
আমি বেশ হুজুগে পড়ুয়া। একবার কোন একটা বিষয়ের প্রতি মন পড়লে রাত দিন ওই নিয়েই থাকি। এখন যেমন চলছে মহাভারতের হুজুগ। তাও ভালো বছরের শুরুতেই কিনে এনেছিলাম এই বইখানা। বছরের প্রায় অর্ধেকের বেশি চলে যাওয়ার পরে এই বই ধরাতে তাই কোন অভিযোগ নেই।
বইটায় মহাভারতের খণ্ড খণ্ড কাহিনী উঠে এসেছে। এবং তা কর্ণের ভাষায়। কর্ণের বংশ পরিচয় দেয়া আমার এই মুহূর্তে উদ্দেশ্য নয়। তবে মহাভারতে আমার চোখে কেউ অ্যান্টি-হিরো থাকে, তাহলে সে এই কর্ণ; যার আরেক নাম রাধেয়।
মাহমুদুর রহমান সুলেখক। এর পাশাপাশি শব্দচয়ন বইটার সৌন্দর্য অনেকগুনে বাড়িয়ে দিয়েছে। এবং আমার দৃঢ় বিশ্বাস আপাতদৃষ্টিতে কঠিন কঠিন এই শব্দগুলোর ব্যবহার না হলে বইটার মান বেশ হালকা হয়ে যেত। তবে হ্যাঁ, খানিক ধৈর্যের সাথে না পড়লে কারো কারো হয়ত বিরক্তি ভর করতে পারে বৈকি।
বইয়ের কলেবর নিয়ে আমার কোন অভিযোগ নেই। ঠিক যতটুকু দরকার ছিল, লেখক ঠিক ততটুকুই উপস্থাপন করেছেন। পুরাণের কাহিনী অতিমাত্রায় আসেনি। বরং যতটুকু এসেছে তা কর্ণের দৃষ্টি দিয়ে বেশ চমৎকার ভাবে দেখিয়েছেন লেখক। এবং বইটা ঠিক শেষ করবার পরের মুহূর্তেই বুকের ভেতর কেমন একটা হাহাকার করে ওঠে। তবে হ্যাঁ, যদিবা লেখক কর্ণের জীবন নিয়ে বিশেষ করে অঙ্গরাজ হবার পর তাঁর অভিজ্ঞতা এবং অভিযান নিয়ে খানিক এক্সপেরিমেন্ট উপহার দিতেন, তবে মন্দ লাগত না।
রাধেয় আমার সবসময়ের খুব পছন্দের বইগুলোর একটা হয়ে থাকবে। লেখকের জন্যে অনেক অনেক শুভকামনা।
বইটায় মহাভারতের খণ্ড খণ্ড কাহিনী উঠে এসেছে। এবং তা কর্ণের ভাষায়। কর্ণের বংশ পরিচয় দেয়া আমার এই মুহূর্তে উদ্দেশ্য নয়। তবে মহাভারতে আমার চোখে কেউ অ্যান্টি-হিরো থাকে, তাহলে সে এই কর্ণ; যার আরেক নাম রাধেয়।
মাহমুদুর রহমান সুলেখক। এর পাশাপাশি শব্দচয়ন বইটার সৌন্দর্য অনেকগুনে বাড়িয়ে দিয়েছে। এবং আমার দৃঢ় বিশ্বাস আপাতদৃষ্টিতে কঠিন কঠিন এই শব্দগুলোর ব্যবহার না হলে বইটার মান বেশ হালকা হয়ে যেত। তবে হ্যাঁ, খানিক ধৈর্যের সাথে না পড়লে কারো কারো হয়ত বিরক্তি ভর করতে পারে বৈকি।
বইয়ের কলেবর নিয়ে আমার কোন অভিযোগ নেই। ঠিক যতটুকু দরকার ছিল, লেখক ঠিক ততটুকুই উপস্থাপন করেছেন। পুরাণের কাহিনী অতিমাত্রায় আসেনি। বরং যতটুকু এসেছে তা কর্ণের দৃষ্টি দিয়ে বেশ চমৎকার ভাবে দেখিয়েছেন লেখক। এবং বইটা ঠিক শেষ করবার পরের মুহূর্তেই বুকের ভেতর কেমন একটা হাহাকার করে ওঠে। তবে হ্যাঁ, যদিবা লেখক কর্ণের জীবন নিয়ে বিশেষ করে অঙ্গরাজ হবার পর তাঁর অভিজ্ঞতা এবং অভিযান নিয়ে খানিক এক্সপেরিমেন্ট উপহার দিতেন, তবে মন্দ লাগত না।
রাধেয় আমার সবসময়ের খুব পছন্দের বইগুলোর একটা হয়ে থাকবে। লেখকের জন্যে অনেক অনেক শুভকামনা।
March 27, 2023
স্কুলে থাকতে পড়া 'ছোটদের মহাভারত' আর স্টার প্লাসের শো 'মহাভারত', এটুকুই আমার মহাভারত জানার পরিসর। তবে বরাবরই মহাভারতের প্রধান চরিত্র বাদ দিয়া এর অনেকটাই অপ্রধান পার্শ্বচরিত্র কর্ণ বেশি কইরা টানছে আমারে। কর্ণকে কেন্দ্র কইরা সাহিত্য বা নাটক/ সিনেমা তেমন একটা হয় নাই সম্ভবত। অবশ্য স্টার প্লাসের ' কর্ণ সঙ্গিনী ' সিরিয়ালের কথা বাদ দিচ্ছি।ওইটা আমার দেখা হয় নাই।তো মাহমুদুর রহমানের 'রাধেয়' উপন্যাসের মেইন ক্যারেক্টার কর্ণ। সে কারণেই এই বইটা পড়তে শুরু করা।লেখক এইখানে দেবতার পুত্র হিসেবে নয়,বরং দোষে-গুণে একজন মানুষ হিসেবে কর্ণকে দেখাতে চেয়েছেন কাছ থেকে। সেই দোষে-গুণে মানুষ হিসেবে মহাভারতের বাকি সব কুশীলবকেও আমরা দেখতে পাইতেছি এইখানে। এই উপন্যাসে কোন ভিলেন নাই, দেবতার মতো কইরাও দেখা হয় নাই কোন দেবতাকে। দিন শেষে নিয়তির হাতে বন্দী দোষে-গুণের মানুষেরাই যেন আগায়ে যাইতেছে কুরুক্ষেত্রের অন্তিমে। উপন্যাসের ভাষা সহজ, সরল, সাবলীল।পড়তে আরাম আছে। অবশ্য মহাভারত জানা থাকলে এইটা পড়া হবে রিভিশনের মতো। কর্ণের গল্পে মহাভারত আসবে, এইটা স্বাভাবিক। কিন্তু মনে হইছে লেখক যেন খেই হারায়ে ফেলছেন।কর্ণকে খুঁজতে গিয়ে মহাভারতেই ডুবে গেছেন। রাধার পুত্র বলে যে 'রাধেয়' উপন্যাসের অবতারণা, সেইখানে রাধা মা বা সেই রাধেয় ঠিক ততোটা গুরুত্ব পায় নাই।
July 24, 2020
মহাভারত আশ্রিত এই বইটি সত্যিই দারুণ লেগেছে। রামায়ণ কিংবা মহাভারত সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞান ছিলো বটে, তবে সেসব নিয়ে আশ্রিত উপন্যাস খুবই কম পড়া হয়েছে আমার। ঠিক সেরকমই একটি উপন্যাস হচ্ছে "রাধেয়" নামের এই বইটি। মহাভারতে যে মহাযুদ্ধ কুরুক্ষেত্র সংঘটিত হয়েছিল। মূলত সেটা হয়েছিল কৌরব আর পান্ডবদের মধ্যে। কিন্তু জন্মের পর থেকে আজন্ম অবহেলিত হয়ে আসা সূর্যদেব বরুণ আর মাতা কুন্তীর সন্তান কর্ণই হচ্ছে এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। তাঁর চরিত্রকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাস বা আখ্যানটি সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি চরিত্র কিংবা ঘটনা যেভাবে চিত্রিত করা হয়েছে তা সত্যিই অসাধারণ। একটি মহাগ্রন্থ কে কিভাবে স্বল্প পরিসরে একটি আখ্যানে দেখানো হয়েছে তা এই বইটি না পড়লে বোঝা অসম্ভব। আর এরকম চমৎকার একটা বইয়ের জন্যে লেখক মাহমুদুর রহমান একটা ধন্যবাদ পেতেই পারেন।
April 6, 2025
এই বইটা আমাকে একটা ডিলেমায় ফেলে দিছে। মানে লেখকের লিখনশৈলী, ভাষাজ্ঞান এই বই লেখার জন্য নিঃসন্দেহে পারফেক্ট তবে সমস্যা হচ্ছে উপন্যাস হিসেবে এ বই বৈশিষ্ট্যহীন। মানে মহাভারত যাদের পড়া আছে, তারা এ বই পড়ে নতুন কিছু জানতে পারবেন বলে মনে হয় না। হ্যাঁ, কর্ণের POV থেকে লেখা হইছে এইটাই স্পেশালিটি। নাথিং এলস।
March 27, 2020
আমার মহাভারতের দৌড় এতটুকুই!
March 29, 2023
আরও বেশি কিছু আশা করেছিলাম।
Read
August 7, 2023best
This entire review has been hidden because of spoilers.
Displaying 1 - 23 of 23 reviews
























