সৈয়দ শামসুল হকের কিশোরসাহিত্যে'র ভাষা বেশ মিষ্টি হয়। এই বইতে ও ব্যতিক্রম নয়। 'আনু বড় হয়' অতি নাতিদীর্ঘ রচনা। কিশোরকালটা বেশ বিহ্বল একটা সময়। সদ্য শৈশবের উঠোন পার হয়ে প্রথম যখন প্রান্তরের দিকে চোখ যায় তখন সারা সত্তা সবুজে ভরে উঠে। মাঠভর্তি প্রজাপতির মতো জীবনকে মনে হয়; সুন্দর,নিষ্কলুষ, রঙিন। কিন্তু একটা সময় যখন জীবনাকাশে ঝড় উঠে আর প্রজাপতিদের মরে যেতে দেখতে হয় তখনই আমাদের প্রকৃত বড় হয়ে ওঠা যেটা বলে সেটা হয়। আনু'র বড় হয়ে ওঠা প্রকারান্তে আমাদের সবার বড় হয়ে ওঠা!
"আনু বড় হয়" ছোট্ট,মায়াময় একটি ঔপন্যাসিকা।বইটা পড়ে একইসাথে মন খারাপ ও অদ্ভুত ভালো লাগার অনুভূতি কাজ করেছে।বিষণ্ণতা বোধ করেছি উপাখ্যানের বেদনাদায়ক পরিসমাপ্তিতে,আবার আনন্দ অনুভব করেছি আনুর বেড়ে ওঠা দেখে,তার দায়িত্ববোধ দেখে।আনুর বড় হওয়া আদতে আমাদের সবারই বেড়ে ওঠার,পৃথিবীতে নিজের স্থান খুঁজে নেওয়ার গল্প।এ গল্প চিরকালীন। (১৬ সেপ্টেম্বর,২০২১)
সৈয়দ হকের লেখা প্রথম কোনো রচনা পাঠ। ছোটদের জন্য যেমন পাঠ্য, বড়দেরও পাঠ্য। ছোটরা জীবনের গভীরতার কাছাকাছি হবে, অনুভূতির তীক্ষ্ণতার মুখোমুখি হয়ে আনন্দলাভ করবে। আর বড়রা, যারা ছেলেবেলা কিংবা বালিকাবেলায় বইটির খোঁজ পায় নি, তারাও মনের অকর্ষিত, অকথিত অঞ্চল পরিচর্যার সুযোগ পাবে। সৈয়দ হক ছিলেন সত্যিই এক মুগ্ধকর শিশুসাহিত্যিক। বাচ্চাদের বই বলে কোনো রকম ছিচকাঁদুনিপনা নিয়ে আসেন নি।