তিন জগত, তিন বিস্তার, তিন অপদেবতার মিলন এক মহাজাগতিক মাহেন্দ্রক্ষণএ সৃষ্টি করবে এমন এক মহাপিশাচ যার উল্লেক বহু প্রাচীন লোকগাথাতে পাওয়া যায়। পৃথিবীর বুকে যার উপস্থিতই হয় ধ্বংসের কারণ! যার অস্তিত্ব জন্ম দেয় বিনাশ আর হাহাকারের!
ঈশ্বরের তিন পুণ্যভূমি; পুরী, উজ্জৈন আর তারাপীঠ। এই তিন ধর্মক্ষেত্র থেকে মাথা তুলবে তিন মূর্তিমান শয়তান। অষ্টগ্রহ সমস্বয়; এমন এক অশুভ সময় যখন সৌরমণ্ডলের আটটি গ্রহ এক সরল রেখায় এসে যায়, তন্ত্রমতে এই সময়ে স্বর্গ, মর্ত্য, পাতাল, এই তিন জগতের আভ্যন্তরীণ পথ হয় সবচেয়ে সুগম। ঠিক এই সময়ে মিলন হবে তিন অপশক্তির। শুরু হবে ধ্বংসলীলা। যেতে থাকবে মানুষের প্রাণ। কে দাঁড়াবে এই বিপুল অপশক্তির সামনে? কার ক্ষমতা হবে তার সমতুল্য হয়ে তার বিনাশ করার?
ভয়ের গল্প মানেই যে ভূতের গল্প নয়- এটা আমরা অনেকেই মানতে পারি না। তবে সম্প্রতি ফেসবুকে নানা গ্রুপে এমন বেশ কিছু নতুন লেখকের রচনা পড়ার সুযোগ পেয়েছি, যাঁরা ভয়-জাগানিয়া উপাদান হিসেবে বেছে নেন অশুভ শক্তিকে। কখনও সেই অশুভের উৎস হয় আমাদের দেশজ তন্ত্র বা পুরাণোক্ত কোনো শক্তি। আবার কখনও সেই অশুভের জন্য দায়ী হয় কোনো ভিনদেশি ভাবনা। 'ভূতভুতুম' গ্রুপের জনপ্রিয় সাহিত্যিক আবীর রায় তাঁর প্রথম বইয়ে এই অশুভ শক্তির উন্মেষ ও প্রকাশের জন্য যে পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন, তা কিন্তু অভিনব। এতে মোট তিনটি গল্প মিশে গেছে শেষে এসে, যাদের প্রতিটিতে অশুভের আবাহন করেছে বা বাহন হয়েছে অবিশ্বাস ও অন্ধ আক্রোশের মিলনসম্ভূত প্রতিহিংসা। সেই অশুভের বর্ণনায় অক্লেশে মিশেছে দেশ ও বিদেশের অলৌকিক ঐতিহ্য আর বিশ্বাস। পরম মুনশিয়ানায় লেখক এই উপকরণের সাহায্যে এমন এক গথিক ভয়ের আবহ নির্মাণ করেছেন, যা সিরিয়াসলি রোমাঞ্চকর এবং মুক্তকণ্ঠে প্রশংসনীয়। লেখকের পরবর্তী বইয়ের জন্য সাগ্রহে অপেক্ষায় রইলাম।
তন্ত্র মন্ত্র বা তান্ত্রিকের সাথে গল্পের তরী নিয়ে তরতরিয়ে এই তাপদাহে তিষ্ঠোতে না পারলেও তৃপ্তি নিয়ে পড়া গল্প শেষে মনে হয় এই তোড়জোড় আসলেই সফল।
নতুন লেখক তারউপরে এমন এক শাখা নিয়ে লিখেছেন যা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সিংহভাগ গল্পকারই হরহামেশা এটা সেটা লিখছেন, গল্পের শাখা প্রশাখা বিরাট মহীরুহ হয়ে এটা ভালো না সেটা এহেন বাগবিতণ্ডা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া যেখানে সরগরম। অদ্ভুত সব প্রেক্ষাপটের প্রেক্ষিতে নিত্য নতুন তথ্য নিয়ে ফাঁদা গল্পে বাধার কাজটা নেহাতই ছেলেখেলা মনে হলে সহজ নয়।
ঠিক তিনটি গল্পে তিন ধরনের পটভূমি নিয়ে তন্ত্রের মন্ত্রে মনোমুগ্ধ হয়ে যাইনি ঠিকই, কিন্তু বিষয়বৈচিত্র্য আসলেই অল্প করে হলেও বিশেষায়নে ভূষিত করার মতোই;
প্রার্থনা'য় কৃপা সিন্ধু সাথে প্রদু্যন্মের পুরী তে হওয়া পাপাচার রোধের রচনা রোমাঞ্চিত করেনি যেমন,তেমনি বলিদান নিয়ে বলার মতো বিশেষ কিছু নেই।
কিন্তু ওস্তাদের মাত যেমন শেষ রাতে,আবির বাবু তেমন মিষ্টান্ন রূপে শেষ পাতে ডালি সাজিয়ে দিয়েছেন গল্পের নামভূমিকায় ঘিদরা।জাপানি উপকথার সাথে দেশীয় মিশেলে তৈরি এ গল্প,যেখানে তিন অপশক্তির মিলনের মোহনাস্থলে জন্ম নেওয়া আসুরিক শক্তির সাথে ঐশ্বরিক শক্তির লড়াই।যার শেষে অত্রির আর অস্মির আত্মত্যাগের বলে তারাপীঠ,পুরী আর উজ্জেন উন্মুক্ত হয় অন্ধকারের আড়াল থেকে।
এই শেষ গল্পের জন্যই বরাদ্দ রইলো বাড়তি দেড় তারা। রেটিং:🌠🌠🌠.৫০ 23/05/21
ঘিদরা বইটি 'প্রার্থনা', 'বলিদান' এবং 'ঘিদরা' এই তিনটি ছোটগল্প নিয়ে লেখা। বই পড়ার শেষে গিয়ে বোঝা যায় গল্পগুলো ইন্টারকানেক্টেড। বইয়ের প্রধান জনরা তন্ত্র মন্ত্র ভিত্তিক হরর হলেও আমার মনে হয় বইটি বেশিরভাগ জায়গায় তার জনরাগত মার্ক মিস করে গিয়েছে। ছোটগল্প হওয়ায় কোন গল্পেই চরিত্রগুলো ঠিকভাবে পরিস্ফুট হওয়ার সময় পায়নি। তিনটি গল্প মিলিয়ে যেভাবে টেনশন বিল্ডাপ করা হয়েছিলো সেদিক থেকে শেষ গল্পের এন্ডিংটাও বিলো অ্যাভারেজ। বইয়ের প্রোডাকশন অবশ্য পেপারব্যাক হিসেবে বিভা পাবলিকেশনের অন্যান্য বইয়ের মতোই। এক কথায় তন্ত্র মন্ত্র ভিত্তিক অকাল্ট থ্রিলার হিসেবে আরো ভালো কিছু এক্সপেক্ট করেছিলাম বইটা থেকে, যাদের এ ধরনের বইয়ের ক্ষেত্রে এক্সপেকটেশন জনিত সমস্যা তেমন একটা নেই তারা অবশ্য বইটা পড়তে পারেন।
ভারতবর্ষের তিন ধর্মক্ষেত্র- পুরী, উজ্জৈন এবং তারাপীঠ যা ঈশ্বরের পুণ্যভূমি হিসেবে খ্যাত, অষ্টগ্রহ সমন্বয়কালে এই তিন জায়গা থেকে এক এক করে জেগে ওঠে তিন অপদেবতা। তন্ত্র মতে, সৌরমণ্ডলের আটটি গ্রহ যখন একই সরলরেখায় এসে পড়ে, স্বর্গ- মর্ত্য- পাতাল এই তিন জগতের আভ্যন্তরীণ পথ পারাপারের জন্য সবচেয়ে সুগম হয়ে ওঠে। ঠিক সেই সময়েই এই তিন অপদেবতার মিলন হয় এবং সারা পৃথিবী জুড়ে শুরু হয় মারাত্মক ধ্বংসলীলা। এই ভয়ঙ্কর অপশক্তির বিরুদ্ধে কে রুখে দাঁড়াবে?এই বিনাশ ও হাহাকার থেকে আদৌ কোনো মুক্তির উপায় রয়েছে কি? সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে আবীরবাবুর লেখা "ঘিদরা" উপন্যাসের পাতায়।এই উপন্যাসে মোট তিনটি গল্প রয়েছে। অন্তিম পর্বে এসে তিনটি গল্প একই সুতোয় বাঁধা পড়েছে।
১) প্রার্থনা: প্রতি ২৪ বছর পর পর পুরীতে নবকলেবর অনুষ্ঠান পালন করা হয়। সেই সময় জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার পুরোনো মূর্তি সরিয়ে নতুন মূর্তি মন্দিরে স্থাপিত হয়। নানা আড়ম্বর ও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত এক গোপন অধ্যায় রচিত হয় মন্দিরের গর্ভগৃহে। রথের তিনদিন আগে অমাবস্যার রাতে জগন্নাথ মন্দিরের প্রধান পুরোহিত দুইজন দৈতাপতি সমেত মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশ করেন। পুরোনো ও নতুন মূর্তি মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে এক বিশেষ রীতি অনুযায়ী নতুন মূর্তির প্রাণ প্রতিষ্ঠা বা "ব্রহ্ম পরিবর্তন" করা হয়। এই অনুষ্ঠান উপলক্ষেই পুরীতে এসে উপস্থিত হয়েছেন কৃপাসিন্ধু। যাত্রাপথে প্রদ্যুম্ন মজুমদার নামের এক বাঙালি ভ্রমণ কাহিনীকারের সঙ্গে তার আলাপ হয়। পুরীতে আসার পর থেকেই বাতাসে যেন সবসময় এক ধরনের পচা গন্ধ, চারিদিকে অজস্র পোকা, মাছি ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে বেড়াচ্ছে। এলাকার গাছগুলো যেন একসঙ্গে নেতিয়ে পড়েছে। লোকজনের মধ্যেও অদ্ভুত ধরনের ঝিমানি ভাব, রাস্তায় একদম ভিড় নেই। মন্দিরের চূড়া ধ্বজাশূন্য। এ যে ভয়ংকর বিপদের সংকেত। কৃপা ও প্রদ্যুম্ন দুজনেই মাঝরাতে আশ্রম থেকে বেরিয়ে আসে এই রহস্যের কোনো সূত্র খুঁজে পাওয়ার আশায়। স্থান বিশেষে শয়তানের উপাচার পালন করা হচ্ছে, এই আভাস পাওয়ার পরেই ঘটনাক্রমে আশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী বৈকুণ্ঠপতি তাদের ২৪ বছর আগে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিবৃতি দেন। ইষ্টদেবতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা থাকার পরেও কিভাবে মানুষকে তা শয়তানের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়, এই গল্পটিতে সেই রূপই ফুটে উঠেছে। একদিকে "লুসি" নামের সাইক্লোন আছড়ে পড়বে ওড়িশার বুকে, অন্যদিকে ব্রহ্ম পরিবর্তনের সময়েই পিশাচের অনুগামীরা শয়তানকে আহ্বান জানাবে। কৃপা এবং প্রদ্যুম্ন কি অবশেষে শয়তানের হাত থেকে এই পুণ্যভূমি উদ্ধার করতে পারবে? নাকি তারাও এই বিনাশের শিকার হয়ে উঠবে?
২) বলিদান: উজ্জৈন শহরের এক গ্রামে শিপ্রা নদীর পাড়ে এক ছোট্ট শ্মশান, চারিদিকে ঘন জঙ্গল গজিয়ে উঠেছে। তার ভেতরে এক চালাঘরের খুপরির মধ্যে রয়েছে কোষ্ঠী পাথরের কালী মূর্তি। পবন দ্বিবেদী মহাশয় এই মন্দিরের নিত্য পূজারী। শবদাহ করার সময়কালীন তিনি শব দাহকদের অনুরোধে কিছু ধর্মীয় উপাচার পালন করেন এবং কখনো কখনো নিজের গরজেই শান্তিমন্ত্র পাঠ করে আচার পালন করেন। দিনের শেষে মন্দিরে সন্ধ্যাপূজা দিয়ে তিনি ঘরে ফেরেন। এভাবেই তার দিন কাটে। হঠাৎ তার বাসায় তার গুরুদেব আচার্য্য সদাশিব চতুর্বেদি এসে উপস্থিত হন। গুরুদেব স্বপ্নে দেখেছেন, তার শিষ্যের ঘোর বিপদ, কোনো কালো ছায়া তাকে ঘিরে রয়েছে। গুরুদেবের স্বপ্ন কখনো মিথ্যে হয় না। তার প্রিয় শিষ্যকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাতে তিনি এক ভয়ানক অপশক্তির সম্মুখীন হন। এই গল্পটি পড়ে শেষ করার পর একটি প্রশ্ন পাঠককে ভাবাতে বাধ্য করাবে, কে বেশি ভয়ঙ্কর? যে ঈশ্বর নরবলির নামে এক ছোট্ট শিশুকে মায়ের কোল থেকে কেড়ে নেওয়ার পর তার ভক্তদের আশীর্বাদে ভরিয়ে রাখে নাকি যে পিশাচ প্রতিশোধের আগুনে নির্দোষ মানুষেরও প্রাণ নেয়?
৩) ঘিদরা: দোয়েল সেই ছোটবেলা থেকে বইয়ের মধ্যে ডুবে থাকে। ভূতের গল্পের বইয়ের ওপর তার এক অদ্ভুত ধরণের টান রয়েছে। আলাদিন ছদ্মনাম নিয়ে লেখা এক লেখকের লেখা তার ভীষণ পছন্দের। কিন্তু তার আসল লেখক পরিচয় কিছুতেই জানতে পারে না দোয়েল। ঘটনাক্রমে আলাদিনের সাথে দোয়েলের আলাপ হয়। বইয়ের পাতার বাইরেও রক্ত মাংসের আলাদিনের ওপর তার মায়া পড়ে যায়। কিছুদিন পরেই পুরী, উজ্জৈন এবং তারাপীঠ সংলগ্ন এলাকায় এক এক করে সদ্যজাত শিশুর মৃত্যু ঘটতে থাকে। কখনো তারা জন্মানোর ঠিক পরেই মারা যায়, কখনো মায়ের গর্ভেই তাদের শরীরে পচন ধরছে। এই খবর পাওয়ার পরেই দোয়েল অত্রি ওরফে আলাদিনের আচরণে এক অদ্ভুত বদল লক্ষ করতে থাকে। এই ঘটনার সঙ্গে আলাদিনের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি? কিভাবেই বা সদ্যজাত শিশুগুলি এই সর্বনাশী মৃত্যুখেলার হাত থেকে মুক্তি পাবে?
🔹🔹 পাঠ অনুভূতি: সাম্প্রতিক কালে তন্ত্র ভিত্তিক ভৌতিক উপন্যাসের যে জোয়ার উঠেছে, এই বইটি সেই জোয়ারের অংশ মাত্র। মুদ্রণ প্রমাদ অল্প বিস্তর রয়েছে। তবে অত্যন্ত সহজ সরল ভাষায় লেখা। প্রথম গল্পটিতে ডিটেইলিংগুলো বেশ ভালো লেগেছে। পড়তে পড়তে আমিও যেন পুরী শহরে পৌঁছে গিয়েছিলাম। তবে কোথাও যেন চরিত্রগুলোকে দিয়ে এক প্রকার জোর করেই সব করিয়ে নেওয়া হচ্ছিলো বলে আমার মনে হলো। দ্বিতীয় গল্পটি আমার তিনটি গল্পের মধ্যে সবচেয়ে ভালো লেগেছে। ভয়াবহ পরিবেশ সেরকমভাবে তৈরি না হলেও গল্পের বুনন বেশ ভালো। তবে তৃতীয় গল্পটি যেখানে মুখ্য ভূমিকা পালন করছে, সেদিক থেকে প্লট অত্যাধিক দূর্বল লেগেছে। শেষে মনে হচ্ছিল, একটি প্রেমের গল্পের সঙ্গে জোর করে এই গল্পটি মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে। দোয়েল আলাদিনের গল্প আলাদা করে ভালো লাগলেও মূল গল্পের সঙ্গে যেন মানিয়ে নিতে পারলো না। তবে প্রথম দুটি গল্প যেভাবে শেষ হয়েছে, ব্যক্তিগতভাবে লেখার এই ধরণটি আমার পছন্দের। তাই এন্ডিংগুলো বেশ লেগেছে।
আপনারা যারা ভৌতিক উপন্যাস পড়তে ভালোবাসেন, তারা "ঘিদরা" উপন্যাসটি পড়ে দেখতে পারেন। আমার মতে, বারবার পড়ার মতো না হলেও একবারের জন্য পড়ে দেখাই যায়।
"ঘিদরা" পড়ে আপনাদের কিরকম অভিজ্ঞতা হয়েছে, অবশ্যই জানাবেন। সকলকে নতুন বছরের অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল। এই বছরে আরও অনেক বই পড়ুন, নিজে ভালো থাকুন এবং অন্যকে ভালো রাখুন।
First story "Pray" involves a secret occult society "Illuminati" intoxicated a holy place Puri cursed by a saints sacrifice. Pradyumna and his companion ventured the journey to bring back the sanctity and peace as before. The climax is very mystified as this is really the devil want? the peace or the beginning of a reincarnation. The "নবকলেবর স্থাপন" and "প্রাণ প্রতিষ্ঠা" in Jagannath dham was excellent to read.
Second story "Sacrifice" is a revenge story of a mother short but crispy. Devils worship requires human sacrifice. But what will happen when the sacrifice pain felt by a mother of her own child. Pain creates poison. Witness a monster.
Third story "Ghirda" is inspired by Japanese folklore devil with three demonic heads without any shape, stands for annhilaion of fertiliy, apparition of it from hell includes 3 satans sacrificed when "অষ্টগ্রহ সমন্বয়" took place. Ending was happy but unhappy for the incomplete love story!
Tomorrow is "রথযাত্রা". One catchy line from the book "ঘেন্না! রাগ! অবিশ্বাস!এই তিন কারণ। শয়তানকে কেউ তখনই আপন করে নেয় যখন ভগবানের প্রতি অতি ভালোবাসা ঘুরে তার উপর তার বিশ্বাস চলে যায়"
About the novel প্রার্থনা. The writer had said there the negetive worshippers were ILLUMINATI. I would be glad to object on this part. What we have came to know from different texts is that "Illuminati- The Enlighten" was not any occult practising group, neither they worshipped Lucifer. The members of the team are named as Sir Issac Newton, John Milton, Galileo, Rafael, even Walt Disney by non other than Dan Brown. They preserved Pagan Culture which was mainly Matri Puja and other intellectual things & never was a occult practising group. Either the writer thinks himself greater than these renowned writers and other historical evidences. Or he should re-write his novel removing his errors and also from next time he should read more books which should be only bengali before creating his own work.
মূলত বইএর নামেই আকর্ষিত হয়ে বইটি পড়া। লেখক আমার কাছে অচেনা, আগে কখনও নাম পর্যন্ত শুনিনি। বইএর প্রচ্ছদ অন্যরকম করলে বেশি ভালো হত।
এখানে মোট তিনটি গল্প আছে, যথা - ১) প্রার্থনা ২)বলিদান ৩) ঘিদরা ভয় জাগানিয়া গল্প এক একটি, তবে ভূতের গল্প না, এখানে স্থান করে নিয়েছে এক একটি অপশক্তি। ঈশ্বরের তিন পুণ্যভূমি পুরী, উজ্জৈন ও তারাপীঠ এই তিন গল্পের পটভূমি। তিনটি গল্পের মধ্যে সবথেকে বেশি ভালো লেগেছে - বলিদান, তারপর প্রার্থনা। তিনটে গল্পের কমন বিষয় হলো - আরাধ্য দেব দেবীর ওপর ব্যক্তিগত আক্রোশ অভিমান থেকে অপদেবতার আরাধনা। শেষ গল্পটা ঠিক মনঃপুত হলো না, ending টা যেন কেমন যেন। লেখকের বর্ণনাভঙ্গি চমৎকার,নির্মেদ লেখা, পাঠককে লেখার টানে আটকে রাখে। অবশ্যই পড়ে দেখতে পারেন ঠকবেন না। অ্যাকচুয়ালি সাড়ে তিন তারা দেওয়া উচিত।
ঈশ্বরের তিন পূর্ণভূমি পুরী ,উজ্জয়ন ও তারাপীঠ এই তিন পুণ্য মহাপিঠের তিনজন ভগবানের প্রতি ঘৃণা লালসা ও অবিশ্বাসে নিজেদের আত্ম বলিদান করে শয়তানের কাছে। সৌরমণ্ডলের একটি গ্রহ যখন এক সরলরেখা এসে যাবে তন্ত্র মতে এই সময় স্বর্গ মর্ত পাতাল এই তিন জগতে অভ্যন্তরীণ পথ হয় সবচেয়ে সুগম ঠিক এই সময়ে মিলিত হবে তিন অপশক্তির এবং সৃষ্টি হয় এক মূর্তিমান শয়তানের। এই শয়তানের সামনে কে এসে দাঁড়াবে বা এর প্রতিকারই বা হবে কি করে এই নিয়ে সম্পূর্ণ বইটি।
এই গেল বইটির কথা, এবার আসা যাক আমার বইটি পড়ে কেমন লাগলো, বইটি মূলত তিনটি খন্ডে বিভক্ত প্রার্থনা বলিদান ও ঘিদরা। তিনটে ছোট ছোট গল্প নিয়ে বইটি যদিও তিনটি গল্পই তিনটির সঙ্গে এক মালাই গাঁথা। ছোট গল্প হওয়া সত্ত্বেও প্রত্যেকটি চরিত্র কমবেশি ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন লেখক তবে কিছু কিছু চরিত্র সম্বন্ধে আরেকটু বর্ণনা করলে ভালো লাগতো।
সাধারণত কিছুদিন ধরেই তন্ত্রমন্ত্রের উপর গল্প উপন্যাসের সংখ্যা বাড়ছে। তাদের মধ্যে সবগুলিই উৎকৃষ্ট এই দাবি লেখকরাও করেন না, তবুও কিছু বই আলাদা করে চোখ টানে। পৃথিবীতে যা বিজ্ঞানের ব্যাখ্যার বাইরে সেখানেই অলৌকিক এর রাজত্ব, আর সেই ভয় থেকেই জন্ম অপদেবতার। তিনটি গল্প আছে বইটিতে, ১)প্রার্থনা ২)বলিদান এবং ৩) ঘিদরা। এর মধ্যে বাঁধুনির দিক দিয়ে ঘিদরা গল্পটি বাদ দিয়ে বাকি সবগুলিই বেশ সুন্দর। রচনাশৈলী এবং লেখকের গল্প বলার পটুত্ব আলাদা প্রশংসার দাবি রাখে।
মাইনাস রেটিং দেওয়া গেলে সেটাই একেবারে যথার্থ হত এই বইয়ের জন্য। এমন কিছু বই আছে তার না আছে মাথা আর না আছে মুন্ডু, এটা সেই শ্রেণীভুক্ত; হস্তপদমস্তিষ্কহীন। লেখক কলম হাতে নিয়ে পাগলের প্রলাপ লিখে দেন, আর প্রকাশক সেটাকেই সাজিয়ে গুছিয়ে পরিবেশন করে দেন। এই ধরনের বইগুলো গলাধঃকরণ করার পর রীতিমত মাথা ব্যাথা শুরু হয়; নিজের ওপর রাগ হয় এতখানি সময় অপচয় করার জন্য। দুঃখে নিজের মাথার চুল ছিঁড়ি। এক কথায় বললে বলতে হয়- এটা বই না, যন্ত্রণা।🤢🤮
অসাধারণ একটি বই একবার পড়তে শুরু করলে না পড়ে শেষ করা যায় না প্রথম থেকেই গল্পটি এত সুন্দর রুদ্ধশ্বাসে পড়তে শুরু করেছিলাম ঠিক সেই জিনিসটাই শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে হয়েছিল শুধুমাত্র এটা জানার অপেক্ষায় যে শেষটা কি হবে এবং বইটিতে যেভাবে বলা হয়েছে যে তিনটে ঘটনা একত্রিত হয়ে তার শেষটা হবে তো সেই আশাতে প্রথম দুটি গল্প পড়ে ফেলি এবং দুটি নিজের মধ্যে অত্যন্ত সুন্দর অসাধারণ আমার ভীষণ ভালো লেগেছে।
(চতুর্মাত্রিক ভয় সিরিজের আমার প্রিয় বই। বইটি শেষ করেছিলাম এক দূরপাল্লার ট্রেনজার্নিতে, এক রাতে.. বেনারসের পথে 😅) "তিন কাল। তিন বিস্তার। তিন জগৎ।" তিন অপশক্তি তিন জগৎ(স্বর্গ, মর্ত্য,নরক) থেকে কোনো কারণে একসময়েই মুক্তি পেলে মিলিত হয়ে সৃষ্টি হয় ভয়ঙ্কর দানব "ঘিদরা"। ভক্তের অগাধ ভালোবাসা কে স্বার্থপরায়ণ মানুষের অত্যাচার যখন পরিণত করে নিঃসীম ঘৃণায়, তখনই শয়তান গ্ৰাস করে সেই অবহেলিত আত্মাকে।জন্ম নেয় দুরাত্মা।এ কাহিনী সেই দুরাত্মাদের হাহাকারের গল্প। এই বইতে তিনটি পুণ্যস্থান পুরী, উজ্জৈন ও তারাপীঠের কথা জানতে পারি এবং সেখান থেকে ঘটনাপ্রবাহ একটি ধারায় এসে মিশেছে সুন্দর ভাবে। লেখক যেইভাবে পুরো ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন এবং স্থানগুলোর পুজো অর্চনার পুরো খুঁটিনাটি তা অতীব চমৎকার এবং এর থেকে অনেক অজানা তথ্য জানা যায় l প্রথম গল্প "প্রার্থনাতে ' পুরী শহরের নানান তথ্যের নিখুঁত বর্ননা চমৎকার , আর তার সাথে কৃপাসিন্ধু আর প্রদ্যুম্ন মজুমদার এর সাক্ষাৎ এবং তারপরের নানান ঘটনা সত্যি অসাধারণ। দ্বিতীয় গল্পের প্রেক্ষাপট উজ্জৈন, গল্পের নাম 'বলিদান' । বৃদ্ধ পবন দ্বিবেদির জীবনে হটাৎ করেই নেমে আসা অন্ধকারকে দেখতে পেয়ে যায় তাঁর গুরুদেব । তাকে বাঁচাতে এসে তিনি নিজের প্রাণ বলিদান দেন। কিন্তু তবুও ঠেকানো গেলো কি অভিশাপ ??শেষ গল্প 'ঘিদরা' । এই গল্পের প্রেক্ষাপট তারাপীঠ। এখানে উল্লেখ রয়েছে এমন এক পিশাচের , যার তিনটি মাথা । অষ্টগ্রহ সমন্বয়ে তিন অপশক্তির মিলনে জন্ম এই মহা শয়তানের । শেষে কি অত্রি পারবে এই শয়তানের মুখোমুখি হয়ে তাকে ধ্বংস করতে???কিভাবে ধ্বংস হবে সেই অপশক্তি?? জানতে হলে অবশ্যপাঠ্য এই বইটি। যেভাবে সারা বইয়ে নিপুণভাবে লেখক বীভৎসরসের জাল বুনে রেখেছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। নানা চমকপ্রদ ঘটনার সমাবেশে সাজানো উপসংহার শেষ না করে পাঠক বইটি বন্ধ করতেই পারবেন না।পরিণতিতে মিলনের আনন্দ নাকি বিরহের দুঃখ,সে কথা বইটিই বলবে। আমি এই বইটি পড়ার জন্য সবাইকেই সাজেস্ট করবো 😊
আদি ভৌতিক এই গল্প সংকলনে সর্বমোট তিনটা গল্প আছে। এরমধ্যে ঘিদরা আছে সবচেয়ে শেষে। তুলনামূলকভাবে প্রথম গল্পটাই আমার বেশি ভালো লেগেছে। তবে শেষ গল্পটার ফিনিশটা খুব চমৎকার হয়েছে।
ভৌতিক গল্প সংকলন হিসেবে অবশ্যই ভালো হয়েছে। আগ্রহীরা বইটা পড়ে দেখতে পারেন।