লতিফুর রহমান বাথরুমের দরজাটা খুললেন, তারপর চিৎকার করতে গিয়েও আচমকা থমকে দাঁড়ালেন, তাঁর হাত-পা কাঁপছে, তিনি টলছেন, মনে হচ্ছে তার চারপাশের জগৎটা চরকির মতো পাক খেয়ে ঘুরছে, পেটের ভেতর গুলিয়ে বমি হয়ে উঠে আসছে নাড়ি-ভূঁড়ি, তিনি তীব্র আত্ঙ্ক নিয়ে আরো একবার চোখ মেলে তাকালেন।
বাথরুমের মেঝেতে কাত হয়ে পড়ে আছে একটা লাশ, লাশটার গলা থেকে মাথাটা প্রায় ছুটে এসে বিভৎসভাবে ঝুলে আছে বুকের ওপর, পচে যাওয়া লাশটার শরীর বেয়ে ভনভন করে উড়ছে মাছি...
মানুষ রহস্যময়তা পছন্দ করে। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই সে সেটা বুঝতে পারে না। জীবনভর সে তার প্রিয়তম মানুষটিকেও পুরোপুরি বুঝে ফেলতে চায়, কিন্তু পুরোপুরি বোঝা হয়ে গেলে তার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। সে আসলে অবচেতনে সবসময়ই অনুদঘাটিত কিছু রহস্য উদঘাটন করতে চায়। যতক্ষণ অবধি সেই রহস্য থাকে, ততক্ষণ অবধি একটা প্রবল আগ্রহ, আকর্ষণ কাজ করে। রহস্য শেষ হয়ে গেলে আকর্ষণ ফুরিয়ে যায়। অথচ জীবনজুড়েই সে ভাবে, সে রহস্য পছন্দ করে না।
মানুষের ভেতরে এই দ্বান্দ্বিক সত্ত্বাটা আছে। মানুষ ভাবে, সে ভয় পেতেও পছন্দ করে না, নৃশংসতা পছন্দ করে না।
কথা সত্য না।
সে অতি আগ্রহ নিয়ে গা হিম হয়ে আসা হরর সিনেমা দেখে, ভূতের বই পড়ে, সিরিয়াল কিলারের ভায়োলেন্ট মুভি দেখে, সাহিত্য পড়ে।
এ কারণেই শিল্প-সাহিত্যে বৈচিত্র্যময় নানান ঘরানার সৃষ্টি হয়েছে। রহস্যোপন্যাস সাহিত্যের সেরকমই একটি সমৃদ্ধ শাখা।
এই শাখাটির প্রতি আমার আগ্রহ একদম শৈশবেই। তবে তা শুধুই পড়ার জন্য, লেখার জন্য নয়। কারণ, এই ঘরাণাটিকে আমার খুবই কঠিন এবং একই সাথে গাণিতিক বা ‘ক্যালকুলেটিভ’ মনে হয়। ফলে এতোদিনে কখনোই রহস্যোপন্যাস লেখার কথা আমি ভাবি নি। তাহলে এই উপন্যাসটি কেন লিখছি?
এই উপন্যাস লেখার কারণটা মজার। বহুবছর আগে এক দৈনিক পত্রিকায় হঠাৎ করেই একটি খুনের ঘটনা পড়েছিলাম। ঘটনাটি খুবই সাধারণ। পুলিশ লাশসহ খুনিকে গ্রেপ্তারও করেছে। কিন্তু তারপরও একটা রহস্য রয়ে গেছে। সেই রহস্যের কোন কুল কিনারা করতে পারছে না পুলিশ।
বিষয়টা আমার মাথায় গেঁথে গেলো। কিছুতেই মাথা থেকে তাড়াতে পারছি না। অবচেতনেই ঘুরেফিরে বারবার মাথায় চলে আসতে লাগলো সেই ঘটনা। এই করতে করতেই আচমকা একদিন একটা গল্পও চলে এলো মাথায়। সেই গল্প লিখেও ফেললাম। লিখতে গিয়ে হঠাৎই আবিষ্কার করলাম, গল্পের প্রধান চরিত্রটিকে আমি বিশেষ পছন্দ করে ফেলছি। এই চরিত্রটি নিয়ে আমার ধারাবাহিকভাবে আরো লিখতে ইচ্ছে হচ্ছে।
প্রতিটি বইতে সে একেকটি রহস্যের সমাধান করবে।
কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, রহস্য গল্প লেখা কঠিন। এই কঠিন কাজটি আমি নিয়মিত করতে পারবো কীনা, সেটি নিয়ে খানিক সংশয়ও আছে। সেই সংশয় নিয়েই আমার প্রথম রহস্যোপন্যাস ‘ছদ্মবেশ’।
'ছদ্মবেশ' আদতেই শেষ অবধি রহস্যোপন্যাস হয়ে উঠতে পেরেছে কীনা, সেই সিদ্ধান্ত পাঠকের।
Sadat Hossain (born 29 June 1984) is a Bangladeshi author, screenwriter, film-maker, and novelist. Sadat Hossain was born In Madaripur, Dhaka, Bangladesh. He studied anthropology at Jahangirnagar University. He was a photojournalist in a newspaper. Then the editor told him that he should write the story of those photos. Eventually, with these, he published his first book in 2013 named Golpochobi. Then, he started to write short stories. In 2014 Janalar Opashe published. In 2015 Aarshinagor is the first book when people recognize him in 2015.[4] Besides writing he has interest in filmmaking as well. He has a production house named ‘ASH’ Production house, released a number of visual contents like short films, dramas, music videos, documentaries, etc.
Not bad at all. However, there are some technical problem. The story never talk about forensic report clearly, and rather focused on forced assumptions. At times it felt like the detective got clues from author himself and know what is at the end of the tunnel (at least 70% of the clues), and that was how he was able to put the right guesses randomly.
But, it felt great to see the detective loosing a bet with his underling. The end game was nice as well. The political imbalance felt real. Subtle hint of romance was not bad either. Hero felt a part of the society, not some superhuman living with prime intellect. And that is very much difficult to achieve in detective stories.
সাদাত হোসাইন। যাকে নিয়ে আলোচনা সমালোচনা যা-ই থাকুক, বাংলাদেশের বর্তমান সময়ের জনপ্রিয়তম ঔপন্যাসিকদের তালিকাতে প্রথম সারিতে তাঁকে না রাখার উপায় নেই কারো। সামাজিক ও রোমান্টিক ঘরানা থেকে বেরিয়ে এসে, এবার তিনি লিখেছেন রহস্য উপন্যাস। লেখকের সঙ্গে আমার চেনা প্রথমে নির্বাসন ও তারপর অন্দরমহল দিয়ে। দুঃখজনক হলো আমি তাঁর খুব একটা ভক্ত হয়ে উঠতে পারিনি। কিন্তু, আমার মতো অভক্তের কাছেও তিনি যে সাফল্যের সাথে পৌঁছে গিয়েছেন তার নতুন রহস্য উপন্যাসটি নিয়ে, এখানেই তার রাজত্ব প্রমাণিত।
যা হোক, মূল গল্পে আসি।
বাংলাদেশের এক বর্ধিষ্ণু মফস্বল শহর পলাশবাড়ী। শহরের শেষ মাথায় নদী, আর কিছু ইটের ভাটা, ভরা বর্ষায় ডুবন্ত। নিরুত্তাপ শহরটিতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলো, যখন নদীর সাথের খালে ভেসে উঠলো বস্তাবন্দি এক পঁচাগলা লাশ।
লাশের পরিচয় পাওয়া গেল দ্রুতই। এলাকার উপজেলা চেয়ারম্যান চুন্নু মিয়ার ভাগনে লিখন, যে ক'দিন হলো নিঁখোজ ছিল। চুন্নু মিয়া লাশ সনাক্ত করে অভিযুক্ত করলেন একই দলীয় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ গোলাম মাওলাকে। এদিকে গোলাম মাওলা-ও অভিযোগ করলেন, তাঁকে ফাঁসানোর জন্য নিজেই খুনটা করিয়েছেন চুন্নু মিয়া।
পলাশবাড়ী থানার নতুন সাব ইন্সপেক্টর রেজাউল হক, এখানে যোগ দিয়েছেন মাস চারেক হলো। লিখনের খুনের তদন্তে নেমে, কেন যেন রাজনৈতিক ছকের সরল সমীকরণটায় খটকা লাগলো তার। নদী ঘেঁষে, শহর থেকে একটু দূরে নির্জনে দাঁড়িয়ে থাকা লতিফুর রহমান সাহেবের তিনতলা বাড়িটা দৃষ্টি টানছে বারবার।
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক লতিফুর রহমান তাঁর জীবনের সব সঞ্চয় ব্যয় করে বানিয়েছেন বাড়িটি। অর্থের অভাবে নির্মাণকাজ পুরো করতে পারেননি, এখন চেষ্টা করছেন দুটো তলা ভাড়া দিয়ে যদি বাকি কাজটা শেষ করা যায়। লতিফ সাহেব শহরের সম্মানিত নির্বিবাদী মানুষ হিসেবে পরিচিত। একমাত্র ছেলে অনেক বছর হলো প্রবাসী, বিয়ে থা করে ওখানেই থিতু হয়েছে। অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে ছেলের জন্য দীর্ঘশ্বাস ফেলা-ই লতিফুর রহমানের শেষ বয়সের নিয়তি, বাড়ির নামও তাই রেখেছেন 'অপেক্ষা'।
বৃদ্ধ লতিফুর রহমানের দিকে কেন নজর যাচ্ছে বারবার এস. আই রেজার? কিছু একটা কিন্তু কি আছে, নাকি সবই তার অতিকল্পনা? চুন্নু মিয়া বা গোলাম মাওলা'র রাজনৈতিক জিঘাংসাই কি খুনের কারণ? শহরে ঘটে যাচ্ছে আরো অনেক কিছু। জনপদ বাড়ছে, অপরাধ বাড়ছে। রেজা কি পারবে সব সামাল দিতে?
'ছদ্মবেশ' উপন্যাসটি খুব টানটান উত্তেজনাময় থ্রিলার নয়, বরং সমসাময়িক বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া একটি অপরাধ নিয়ে পুলিশী তদন্তের গল্প। এতে প্রতিফলন ঘটেছে আমাদের পরিচিত কদর্য সমাজ, রাজনীতির খেলা, আর পারিপার্শ্বিকতার। লেখকের সামাজিক উপন্যাসগুলো নিয়ে যে অভিযোগ পাওয়া যায়, এখানে সেই সমস্যা ছিল না। গল্পে যা কিছু অবতারণা করা হয়েছে, সবকিছুর মাঝে যোগসূত্র ছিল, বাড়তি কথন ছিল না। আর লেখকের ঝরঝরে লেখনীর কারণে কিছুটা ধীর গল্পও একটানে পড়ে ফেলা যায়।
রহস্য উপন্যাসটিতে অসুবিধা বোধ করেছি কেবল রহস্যের অংশটুকু নিয়েই। স্পয়লার এড়াতে বিস্তারিত আলোচনা করছি না, তবে খুনের ঘটনা নিয়ে অনেক কিছুতেই ফাঁক রয়ে গেছে বলে মনে হয়েছে। পুলিশ তদন্তে স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহভাজনের ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করে থাকে, ছোট শহরে তো এমনিতেই একে অন্যের বিষয়ে খবর রাখে। এই ধরনের কিছু সাধারণ বিষয়ও লেখকের এড়িয়ে যাওয়া গল্পকে দূর্বল করেছে। বিষয়বস্তুর গভীরতার অভাব নিয়ে লেখকের প্রতি আমার যে পুরনো অভিযোগ, তা আরেকবার মাথা চাড়া দিল। ময়নাতদন্ত, ফিংগারপ্রিন্ট, ঘটনাস্থল ইত্যাদি নিয়ে আলোকপাত এড়িয়ে লেখক মূলত জোর দিয়েছেন মানবচরিত্রের দিকে।
গোলাম মাওলা আর চুন্নু মিয়ার চরিত্রগুলো পছন্দসই ছিল। চুন্নু মিয়া এলাকার পুরনো ঘাঘু রাজনীতিবিদ, অন্যদিকে গোলাম মাওলা রাজনীতিতে নতুন হলেও অর্থকড়িতে বলীয়ান। দুজনেই অপরাধপ্রবণ, ক্ষমতা দখলের দৌড়ে নেমেছেন। এস. আই রেজার চরিত্রটিকে লেখক শুরুতে যেভাবে দেখিয়েছিলেন - একজন পুলিশ কর্মকর্তা যিনি এলাকার প্রভাবশালীদের থেকে মাসিক খোরাকিও নেন, আবার দরকার মতো এদের দাবড়ে দিতেও পারেন - তাতে তাকে বেশ ইন্টারেস্টিং মনে হয়েছিল। সৎ অথবা অসৎ এর প্রশ্ন নয়, একজন রক্তমাংসের সাধারণ পুলিশ অফিসারের চরিত্রটি গল্পের শেষে সাধু-সন্ত চিত্রিত না করলেও চলতো।
ভূমিকাতে লেখক সাব ইন্সপেক্টর রেজাউল হককে নিয়ে ধারাবাহিক ভাবে লেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। আশা রাখি রেজা'কে সঙ্গে নিয়ে লেখক থ্রিলারপ্রেমী পাঠকদের জন্য আরো চমৎকার সব রহস্য উপন্যাস নিয়ে আসবেন।
অনেকটাই অবাক হলাম পড়ে। আমার পড়া প্রথম সাদাত হোসেনের বই। সত্যি বলতে, গত ৫/৭ বছরে উনার বই নিয়ে যে পরিমাণ সমালোচনা আর ট্রল হতে দেখেছি, স্বাভাবিকভাবেই পড়ার আগ্রহ হয় নি।
গত মেলায় গিফট পেলাম বলেই পড়া হলো। আমার ধারণা ছিল, হুমায়ুন আহমেদের চিপ কপি লিখেন উনি, অন্তত মানুষের সমালোচনা থেকে এটাই জানি।
উৎসর্গ পত্র পড়ে ধারণা আরও বদ্ধমূল হলো। কড়া হুমায়ূনীয় গন্ধ। কিন্তু মূল গল্প শুরু হতেই, অত্যন্ত সতর্কতার সাথে চোখকান খোলা রেখে পড়লেও সেরকম কোন ফিল পেলাম না।
রহস্যটা খুব জমাট, তা বলব না। গড়পড়তা কাহিনি। কিন্তু লেখনী আমার কাছে খারাপ লাগে নি। অন্তত যে পরিমাণ ট্রল হয় উনাকে নিয়ে, তার যৌক্তিকতা অন্তত এই বইতে খুঁজে পাই নি।
লেখকের লেখনী সম্পর্কে বিভিন্ন আলোচনা সমালোচনা শুনে উনার অন্তত একটি বই পড়ার ইচ্ছে ছিল। সেই ইচ্ছে অবশেষে পূর্ণ হলো এক বান্ধবীর কল্যাণে। খুব একটা ভালো না লাগলেও একেবারেই পড়ার অযোগ্য তা বলবো না। পারসোনাল রেটিং: ২.৫/৫.০
আমার এক ছোট ভাইকে কয়েকদিন আগে কথায় কথায় বলছিলাম, আমি এখনো সাদাত হোসেনের একটা বই ও পড়ি নাই। ওনাকে নিয়ে, ওনার লেখনী নিয়ে যে হারে ট্রল করা পোস্ট সবখানে দেখি এতে ইচ্ছা জাগে নাই। আমার প্রতিটা বই কিনতে স্ট্রাগল করা লাগে। এজন্য হুট করেই কোন বই চয়েজ করি না। তো ওই মুহুর্তে ওই ছোট ভাই সাজেস্ট করল আমায়, যেহেতু আমি প্রেম পিরিতি রিলেটেড লুতুপুতু মার্কা বই অপচ্ছন্দ করি সেহেতু ওনার ছদ্মবেশ বইটা পড়তে। এটা নাকি থ্রিলার। তার রিকুয়েষ্টে ঠিক করলাম যে ট্রাই করেই দেখি বরং বলা তো যায় না দেখা গেল ভাল লেগেও যেতে পারে।
কিন্তু আফসোস! বইটা পুরা শেষ ভাগের আগ অব্ধি সবটুকুই পড়ার সময় শুধু মনে হচ্ছিল আরেহ এ তো হুমায়ূন স্টাইল। হুমায়ূন আহমেদের মতন বাক্সের ব্যবহার বা শব্দের খেলা অনেকটাই এখানে ব্যবহৃত হয়েছে কিন্তু হুমায়ূন ভাইবটা তৈরি হয় নাই।
গল্পটা মূলত একটা খুনকে কেন্দ্র করে। শুরুতে দারুণ ভাবে পরিস্থিতি সাজায় ফেলে লেখক। একজন সাধারণ রিটায়ার্ড বাংলা অধ্যাপক লতিফুর রহমান যে তার জীবনের সঞ্চয়ের সব টাকায় একটি তিনতলা বাড়ি বানিয়েছেন। একদিন হঠাৎ তার বাড়ির তিনতলার একটা বাথরুমে পাওয়া যায়। অজানা ব্যক্তির লাশ কিভাবে তার ঘরে এভাবে পাওয়া গেল এই নিয়ে গল্প শুরু।
এরপর চলছিল তদন্ত, জিগ্যেসা। এভাবেই পেজ এগোচ্ছি। কিন্তু কোন থ্রিল মনের মাঝে অনুভব করতে পারছিলাম না। বিরক্ত লাগছিল. তবুও একটা বই শুরু করছি যেহেতু শেষ নামাতে হবে এমন মানসিকতা কাজ করছিল। আমার বিরক্তি চরম পর্যায়ে পৌছায় শেষ কিছু পৃষ্ঠায় এসে। লেখক যেভাবে দুয়ে দুয়ে চার মেলালেন, আমি পুরাই থ! না মানে সকড হয়ে যাওয়া থ না বরং একেমন কী হইল, কেন হইল, হওয়ার কী ম্যালা দরকার ছিল এমন মার্কা থ। ইমেজিন করুন আপনার কাল বাংলা পরীক্ষা। আপনি সন্ধ্যা থেকে পড়তে বসলেন ঠিকই কিন্তু শুরুতে ধরলেন ব্রিফ কোশ্চেন। এখন এই ব্রিফ নিয়ে গুতাগুতি করতে থাকলেন, এবং হঠাৎ ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলেন, ঘড়িতে বাজে ৩টা, আপনার পরীক্ষা ৯টা থেকে। তার আগে একটু ঘুমাতেও হবে কিন্তু ব্রড এবং শর্ট কোশ্চেনের পার্ট একদমই ধরা। একটা লাইন ও পড়া হয় নাই৷ ওই মুহুর্তে যেমনে তেমনে শেষ করার উদ্দেশ্য যেমন এলোপাতাড়ি ব্রুম ব্রুম করে টানবেন, আমার কাছের এই বইয়ের শেষটা ঠিক তেমন ই লেগেছে। এক সাথে এত কিছু হচ্ছে, এতত মানুষের পর্দা সরে যাচ্ছে তাও এত সিম্পিল টুইস্টের মধ্য দিয়ে আমার লেজিট কিছু মুহুর্তে হাডি পাচ্ছিল।
বইটা শেষ করে ভাবতেছিলাম, আমি কেন পড়লাম এটা৷ কী দরকারটা ছিল। আমার লাইফে কী এতই ডিপ্রেশন চলছে যার জন্য শেষ অব্দি পুরাটা বিকাল নষ্ট করে এটা পড়লাম -,-
2★ দেয়ার কারণ হচ্ছে, শুরুটা একটু ভাল লাগছিল, এজন্য আর ১★ দিতে কেন জানি মায়া লাগতেছিল, শত হোক এটাই আমার সাদাত হোসেনের পড়া প্রথম বই যেহেতু 🖐️😞
রিটায়ার্ড এক প্রফেসর জমানো টাকায় তিনতলা বাড়ি করেছেন। শেষ বয়সে আরামে থাকবেন আর ভাড়াও দেবেন কিছু ঘর। একদিন একলোককে বাড়ি দেখাতে নিয়ে যান উপরের ঘরে।বদ্ধ দরজা খুলতেই বিশ্রী গন্ধ নাকে আসে, বাথরুমের দরজা খুলে আবিষ্কার করে বিগলিত লাশ! এখান থেকেই ছদ্মবেশের যাত্রা শুরু।
সাদাত হোসাইনের লেখালেখি ছিল কবিতা, সামাজিক,রোমান্টিক আর সমকালীন ঘরানার মধ্যে। এই গন্ডি পেড়িয়ে লিখেছেন ছদ্মবেশ; রেজা সিরিজের প্রথম রহস্যোপন্যাস। ভালোই লেগেছে,খারাপ লাগেনি খুব একটা। শুরু হিসেবে ভালোই হয়েছে।
*** হয়তো এ মাসেই আসবে এই সিরিজের ২য় বই 'শেষ অধ্যায় নেই'
আমার পড়া সাদাত হোসাইনের প্রথম উপন্যাস। জীবনধর্মী ড্রামা জনরার বাইরেও যে উনি লিখতে পারেন সেটা এই উপন্যাসে ভালোভাবেই প্রমাণ করেছেন উনি। 'ছদ্মবেশ' গতানুগতিক ফাস্ট পেসড থ্রিলার নয়, এখানে নেই কোন ক্যারিশমাটিক হিরো কিংবা কোন কন্সপারেসী। বরং আমাদের আশেপাশের অতি সাধারণ সমাজের দৈনন্দিন জীবনে ঘটে যাওয়া একটি ক্রাইমকে খুব সুন্দরভাবে উপন্যাসের পাতায় থ্রিলার জনরায় বেঁধেছেন। লেখনী বা প্লট নিয়ে আমার কোন সংশয় নেই, তবে একটা ব্যাপার আমার একটু দৃষ্টিকটু লেগেছে। সেটা হলো, গল্পকারের ইন্সপেক্টর রেজাকে প্রথম পুরুষের বর্ণনায় আপনি ব্যবহার করা। 'ইন্সপেক্টর রেজা গেলেন' ব্যবহার না করে আমার মতে 'ইন্সপেক্টর রেজা গেল' ব্যবহার করলে শ্রুতিমধুর হতো।
কেন বাংলাদেশের লেখকদের প্রধাণ চরিত্রকে ধূসর করতে সমস্যা তা আমার জানা নেই। রেজা সাহেব ভালই ছিলেন, শেষ পর্যন্ত এসে তাকে একেবারে নায়কের কাতারে নিয়ে আসাই এক তারা কমিয়ে দিলো আমার জন্য।
এন্ডিং টা একেবারে মনের মতন না হলেও ,মনে হচ্ছিলো যেন আর বিকল্প নেই। একবারে বসে পড়ে শেষ করার মতন মনে হলো। হাত থেকে নামাতেই পারছিলাম না এরপর কী এই ভেবে। ভালোই লাগলো। "রোজকার ভানের পৃথিবীতে ,ছদ্মবেশি অসংখ্য মানুষের ভিড়ে এমন একটা পৃথিবী খুব দরকার ,ভানহীন ,অকপট ,আনন্দময়।" সত্যিই তো।
কাহিনী সংক্ষেপঃ শেষ বয়সে এসে কষ্টের টাকায় বাড়ি করেছেন কলেজের বাং���ার অধ্যাপক লতিফুর রহমান। তিনতলা বাড়ির একমাত্র বাসিন্দা বলতে এখন তিনি, তার স্ত্রী নাসিমা ও একজন গৃহ পরিচারিকা। ছেলে সৈকত অনেক বছর ধরে দেশের বাইরে। বহুদিন ধরে ছেলের শোকে নাসিমা পাগলপ্রায়। প্রতিদিন বাড়ি দেখতে অনেক লোকজন আসে, লতিফুর রহমান তাদেরকে যত্ন করে বাড়ি দেখান। একদিন এরকম একজনকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বাড়ি দেখানোর সময় তিনতলার এক বাথরুমে বহুদিনের পচাগলা লাশ পড়ে থাকতে দেখলেন। দ্রুত নতুন আগন্তুককে সরিয়ে অন্য রুমে নিয়ে যান তিনি।
পুরো শহর জুড়ে আলোড়ন। সামনে নির্বাচন, কিন্তু এক প্রার্থী চুন্নু মিয়ার ভাগ্নেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর রেজা হক লতিফুর রহমানের বাড়ির কাছে আসতেই কিসের যেন একটা আভাস পেলেন। তার অবচেতন মন কোন একটা ইঙ্গিত দিচ্ছে হয়তো। কিন্তু তিনি ধরতে পারছেন না কিছুতেই।
নির্বাচন উপলক্ষে পুরো মফস্বল জুড়ে চাপা উত্তেজনা। তবে কিছু একটা ঘটতে চলেছে হয়তো।
রেজা হক যতবার ঘটনার দ্বারপ্রান্তে এসে সমস্যার সমাধান প্রায় করে ফেলছেন, ততবার যেন নতুন আরেকটা ঝামেলা এসে ঢুকে যাচ্ছে। তিনি কি শেষ পর্যন্ত পারবেন সমস্যার সমাধান করতে নাকি আবারও দেখা দেবে নতুন সমস্যা?
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ সাদাত হোসাইনের প্রথম রহস্যোপন্যাস "ছদ্মবেশ"। এই লেখকের বিরুদ্ধে বেশিরভাগ পাঠকের অভিযোগ হল, তিনি অনেক বড় কলেবরে লিখেন। তাই হয়তো লেখক এই বইটি লিখতে গিয়ে দেড়শ পৃষ্ঠাও নেন নি। ১৪৪ পেইজেই শেষ করেছেন বইটি। অবশ্য এতে করে শেষের দিকে গিয়ে মনে হয়েছে হুট করেই যেন অনেকগুলো ঘটনা চলে এসেছে। অনেক কিছু যেন একসাথে ঘটে গেল শেষের দিকে, প্রথম দিকে যদিও গল্প ভালোই আগাচ্ছিল। শেষের দিকে আরও কিছু পাতা বেশি নিয়ে পরিসরটা আরও একটু বড় করলেই হয়তো ভালো করতেন লেখক।
বাংলা সাহিত্যে কিছু বইতে মাঝে মাঝে একটা লাইন দেখতে পাই, "কিছু বুঝে ওঠার আগেই বেমক্কা ঘুষি খেয়ে চোখে-মুখে সর্ষেফুল দেখতে শুরু করল সে।" বেশ কিছুদিন পর হাতে পেলাম সাদাত হোসাইনের থ্রিলার ছদ্মবেশ। এক বসাতেই শেষ করে ফেললাম। তবে, ছদ্মবেশ পড়ার পর আমার অবস্থাও হয়েছে ঠিক ওপরের লাইনটার মতোই। কেন?
লতিফুর রহমান তার জীবনে তিন তিল করে গড়ে তোলা সঞ্চয় দিয়ে বাড়ি করলেন পলাশবাড়িতে। কিন্তু স্রেফ বাড়ি করলেই তো চলবে না, নিজেদের জীবনধারণের সংকুলানও হওয়া চাই। বাড়ি ভাড়া দিতে গিয়ে ঘটল বিপত্তি। পাওয়া গেল মৃতদেহ। কার? এদিকে মৃতদেহকে কেন্দ্র করে কোন্দল তৈরি হয়েছে স্থানীয় এলাকার চেয়ারম্যান চুন্নু মিয়া ও প্রতিদ্বন্দ্বী গোলাম রহমানের মাঝে। মঞ্চে আবির্ভুত হলো এস আই রেজা। একের পর এক সন্দেহের তীর ছুঁড়তে শুরু করল একেকজনের দিকে। কোনোটাই যে গায়ে লাগছে না! শেষ পর্যন্ত খুনী কে, তা কি বের করা যাবে? লতিফুর রহমানের অতীতেও লুকিয়ে আছে অনেক প্রশ্নের চাবিকাঠি। তার স্ত্রী কেন পাগলের মতো আচরণ করেন? ছেলে কেন বাবাকে ঘৃণা করে দেশে আসে না? সবকিছুর উত্তর দেয়া আছে ছদ্মবেশ বইতে।
ভালো দিক যা যা ছিলঃ ১)সাদাত হোসাইন তার গতানুগতিক সামাজিক ধাঁচের লেখনীর বাইরে থ্রিলার নিয়ে কাজ করেছেন। তার ভাষ্যমতে বোঝা যায় এখানেই তিনি ক্ষান্ত হবেন না। আরও কাজ করার ইচ্ছা তার আছে। ২) প্লটটা বেশ ইন্টারেস্টিং ছিল। চরিত্রগুলোও বিল্ড-আপ করা হয়েছে বেশ শক্তভাবে। ৩) লেখক টুইস্ট দেবার যেসব চেষ্টা করেছিলেন, সেখানে মোটামুটি তিনি সফল হয়েছেন (আমার কাছে)। ৪) ঢাকা শহরের প্রেক্ষাপট থেকে খানিকটা দূরে গিয়ে তিনি একটা থ্রিলার গল্প বিল্ড-আপ করতে চেয়েছেন এবং সেটা করে দেখিয়েছেন। ৫) চুন্নু মিয়া আর গোলাম রহমানের নির্বাচনভিত্তিক দ্বৈরথ ভালো লেগেছে। ভালো লেগেছে প্রোটাগনিস্ট রেজাকেও। যদিও থ্রিলার গল্পে প্রাকৃতিক দৃশ্যের বর্ণনা নিয়ে টানতে থাকা খুব একটা সুখকর কিছু না, তবে অপ্রত্যাশিতভাবে, এই গল্পে এটা খুব একটা খারাপ লাগেনি। বর্ণনাগুলো উপভোগই করেছি।
যেসব দিক ভালো লাগেনি (এবং তালিকাটা বেশ লম্বাই) ঃ ১) পলাশবাড়ি এলাকায় লতিফুর রহমানের সম্মান এবং মর্যাদা নেহাত ফেলনা নয়। প্রথমদিকে তাকে যেভাবে বর্ণনা দেয়া হয়েছিল, আমি ভেবেছিলাম গল্পের প্রোটাগনিস্ট হয়ত তিনিই। তারপরও তার চরিত্র একেবারে পাল্লা দিয়ে এগিয়েছে গল্পের সাথে। এমন একজন ব্যক্তির সাধের গড়ে তোলা বাড়িতে যদি লাশ পাওয়া যায়, তাহলে তিনি পুলিশকে খবর না দিয়ে কেন ওই কাজটি করতে গেলেন? (বললে স্পয়লার হয়ে যাবে)। বিষয়টা কেমন যেন খাপছাড়া লেগেছে। আর প্রাকৃতিক দৃশ্য কিংবা আবেগের বর্ণনার চেয়ে যেখানে খুন হয়েছে, সে সম্পর্কে আরও বর্ণনার দাবি করে এই গল্পটা। ২) গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলো একের পর এক এনে পাঠককে একটু রিলিফ দেয়ার প্রয়োজনবোধ করেননি লেখক। একের পর এক টুইস্ট দিয়ে গিয়েছেন। নতুন নতুন কার্যকারণ ও ব্যাখ্যা দিয়ে গিয়েছেন। ক্লাইম্যাক্স অন্তত আরও অতিরিক্ত ২০ পৃষ্ঠা হলে বেশ জমত। আমি সিরিয়াসলি গল্পটা পছন্দ করতে শুরু করে দিয়েছিলাম। ৩) একটা লাশ পাওয়া গেল নদীর কিনারে। ময়নাতদন্ত হলো না, কোনো সুরতহাল হলো না। এস আই রেজা যাকে মনে ধরে সন্দেহ করে গেলেন, যাকে মনে ধরে বেনিফিট অব ডাউট দিয়ে গেলেন, যাকে মনে ধরে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলেন। মানে তার সন্দেহের কোনো ভিত্তি নেই। একের পর এক মনের সন্দেহ মেটানোর জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করে যাচ্ছেন। ফ্যাক্ট কোথায়? লাশের ময়নাতদন্তের রিপোর্টে কী এলো? এলাকার চেয়ারম্যানের ভাগ্নে খুন হয়েছে। তার মনে হলো প্রতিপক্ষ দায়ী। ব্যস, আর কিছু দেখার দরকার নেই। যেভাবে পারো, পিছে লেগে যাও। সিরিয়াসলি? তাছাড়া লাশের ব্যাকগ্রাউন্ড চেক, কীভাবে সে এলো, পরিচয় কী, অতীত কী- এগুলো সম্পর্কেও কিছু বলা হলো না। একেবারে শেষে গিয়ে দমাদম ঘুষি মারতে শুরু করলেন লেখক। শ্বাস নেয়ারও সময় দিলেন না। ৪) শেষের পাতায় রেজার সন্ত চরিত্রের আনয়ন ভালো লাগেনি। বইতে স্পষ্ট তাকে উৎকোচ গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে। লতিফুর রহমান চরিত্রটাই সবচেয়ে হতবুদ্ধিকর। লেখক এই চরিত্রকে দিয়ে যা ইচ্ছে তাই করিয়ে নিয়েছেন। একজন কলেজের শিক্ষকের আবেগ মাখা একটি বাড়িতে গল্পের শুরু। শেষটাও হলো এখানেই। তবে...
একচুয়ালি ছদ্মবেশ এমন একটা গল্প, যেটা নিয়ে বেশি কিছু আলোচনা করে ফেললেই স্পয়লার দেয়া হয়ে যাবে। তাই আজ এখানেই শেষ করছি। লেখক সাদাত হোসাইনের যদি এই চরিত্র নিয়ে আরও কাজ করার ইচ্ছা থাকে, তাহলে সাধুবাদ জানাই। তবে আরও একটু গ্রাউন্ড ওয়ার্ক প্রয়োজন। কাগজ, বাঁধাই নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই। তবে প্রচ্ছদটা খুবই সাদামাটা লেগেছে।
পলাশবাড়ি শহরের বুকে সারাজীবনের সঞ্চয়ের টাকা দিয়ে তিনতলা বাড়ি গড়ে তুলেন,বাংলার রিটায়ার্ড অধ্যাপক লতিফুর রহমান। অর্থ সংকটের কারণে ,তিনতলা পুরো কমপ্লিট করতে পারেননি তিনি।তিনি চেয়েছিলেন,অর্ধসমাপ্ত এই বাড়ির তিনতলা আর নিচতলা ভাড়া দিতে।এর মধ্যেই ঘটে যায় এক অকল্পনীয় ঘটনা।ঘটনাটা আসলে, সাপ খুড়তে কেচো বের হওয়ার মতোই। . তিনি তিনতলার বাসা এক ভাড়াটিয়াকে দেখাতে গিয়ে সেখানের বাথরুমে একটা বিকৃত পঁচা গলা লাশ আবিষ্কার করলেন।বীভৎস এই লাশ দেখে,তিনি ঘাবড়ে যান। অন্যদিকে এলাকার চেয়ারম্যান চুন্নু মিয়ার আপন ভাগ্নে লিখন নিখোঁজ। চেয়ারম্যানের সাথে এলাকার প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোলাম মাওলার ঝামেলা লেগেই আছে।চেয়ারম্যান চুন্নু মিয়ার সন্দেহ গোলাম মাওলাই তার ভাগ্নেকে নিখোঁজ করেছেন। . এইদিকে যখন লিখনের লাশ ভেসে উঠে নদীতে,তখন পলাশপুর থানার এস.আই রেজাউল হক হন্যে হয়ে উঠলেন হত্যাকারীকে খুঁজে বের করতে।শেষ পর্যন্ত যে মুখোশ উন্মোচন হলে,তার জন্য তৈরি ছিলাম না।
পাঠ প্রতিক্রিয়া- সাদাত হোসাইনের টুকটাক লেখা সোশ্যাল মিডিয়ায় পড়ে থাকলেও।এর আগে তার কোনো বই পড়ি নি।আমার জীবনে প্রথম পড়া থ্রিলার 'ছদ্মবেশ',সাদাত হোসাইনের ও বই এই প্রথম পড়লাম।নির্বাসন পড়বো,পড়বো করে আর পড়া হয় নি।বইটা আমার কাছে সংগ্রহে নেই তাই। এক বসায় শেষ করার মতো বই এটি। সাদাত হোসাইনের লেখা প্রথম থ্রিলার হিসেবে চমৎকার হইছে বইটা।এই বছর 'রেজা সিরিজ' এর দ্বিতীয় বই বের হবে।নামটা ঠিক মনে নেই।অপেক্ষায় রইলাম।রেজা চরিত্রটা আসলে ইন্টারেস্টিং লেগেছিলো।
বইটা ভালোই লাগলো। এক বসায় পড়ে উঠেছি! বেশ ক'দিন খুব ব্যাস্ততায় সময় কাটছে। আজকে ২-২.৫ ঘন্টার মতো ফুসরত পেয়ে মনে হলো বই পড়ে ফেলি একটা। সময় ভালোই কেটেছে। বইটা লকড রুম মার্ডার মিস্ট্রি-ই বলা যায়। সেখান থেকে ডালপালা। ভালো লেগেছে প্রতিটা ক্যারেক্টারের বিল্ডাপ। প্রশ্ন যা যা উঠেছিলো, উত্তরও পেয়েছি প্রায় সবই। কিন্তু 'রেজা সিরিজ' এর প্রধান চরিত্র রেজাকে অতটা ভালো লাগেনি। এইজন্য ভালো লাগেনি কারণ, ক্যারেক্টারটা কিছুটা বোকাসোকা থাকতে থাকতে শেষে দিলো বিশাল ধামাকা!! আবার প্রথমে যে ক্যারেক্টারটাকে এত মর্যাদা দেয়া হলো, শেষ এ গিয়ে এতটা অধঃপতন বেখাপ্পা লেগেছে কিছুটা। পড়তে ভালো লেগেছে দেশি প্রেক্ষাপটের বর্ণণায় ভালো একটা ঝড়ঝড়ে একটা থ্রিলার। ভালোর পাল্লাটাই বেশি। ভেবেছিলাম সোজাসাপটা ঘটনাই হবে পুরোটা, সেই হিসেবে চমকটা ভালোই ছিলো।
গল্পের শুরু থেকেই যেখানে দুশ্চিন্তার শেষ নেই এমন এক মার্ডার মিস্ট্রি নিয়ে লেখা এই থ্রিলার বইটি এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলার মতো। এখানে মুহূর্তে মুহূর্তে একটু একটু করে মিস্ট্রি বেড়েই চলে আর শেষে এসে সব রহস্যের অবসান ঘটে। থ্রিলারপ্রেমিদের উপভোগ করার মতো একটি বই। ব্যক্তিগতভাবে যদি বলি তবে আমি খুব এনজয় করেছি বইটি পড়ার সময়। মার্ডার মিস্ট্রি কে খুব আকর্ষণীয় করে তুলে ধরেছেন লেখক।
ছদ্মবেশ সাদাত হোসাইন. সাদাত হোসাইন যে গোয়েন্দা গল্প লেখতে পারেন ভাবতেই অবাক লাগে. প্রথমে ভাবলাম যে হুমায়ূন আহমেদের মতন মিসির আলি টাইপের বই লিখবেন কিন্তু পরে দেখলাম চেনা আসলেই তার একটা লেখার আলাদা ধারা আছে. হয়তোবা মাঝখানে অনেক উপমা থাকবে অনেক প্রকৃতির বর্ণনা থাকবে কিন্তু আমার সকল আশা ভঙ্গ করিয়া তিনি তার মতোই লিখে গিয়েছেন. বলেছেন যে তিনি পরবর্তীতে এই চরিত্রটি নিয়ে আরও অনেক বই লিখবেন এবং হয়তোবা একসময় হয়তোবা রেজা চরিত্রটি অনেক নাম করে যেতে পারে। বইটি এখানে প্রসঙ্গে বলতে গেলে বলা যায় প্রথম থেকেই যাকে মূল দোষী বলে মনে হচ্ছিল না থাক বলবো না তাহলে আবার বইয়ের স্পয়লার হয়ে যাবে। সাদাত হোসাইন যে নরমাল মোটামুটি উপন্যাসের সাথে সাথে রহস্য চরিত্র গোয়েন্দা চরিত্র তুলে ধরতে পারেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। অন্য ধরনের উপন্যাস কেনার পয়সা নেই তারা নিঃসন্দেহে ছদ্মবেশ কিনতে পারেন। রেজা চরিত্রটি নিয়ে আলোচনা করা যায়. চরিত্রটি বেশ বয়স্ক না উস্কোখুস্কো চুল নেই। মাসুদ রানার মতন পুলিশ চরিত্র কিন্তু তিনি যে ব্যাপক মারামারি করেছেন তাও না। মাঝে মাঝে হাল ছেড়ে দিয়েছেন তাও রাতের বেলা লতিফ সাহেবের বাসার পাশে লুকিয়ে থেকেছেন। হয়তো বা দশ বছর পরে চরিত্রটি বিখ্যাত হতে পারে তবে আপাতত না।
সরি টু সে ভাই! থ্রিলার আপনার জায়গা না! এই বইতে তুলনামূলক লেখনী অনেক ভালো ছিলো। হুমায়ূন আহমেদেকে কপি করার চেষ্টাও কম নজরে এসেছে। কিন্তু খুবই টিপিক্যাল মিস্ট্রি, প্রেডিক্টেবল এন্ডিং। আপনি বরং এই লেখার স্টাইলটা ফলো করে সামাজিক উপন্যাস লিখুন। ভালো হবে।
গল্পের মুল ধারণা আর টুইস্ট আমদানি করা হয়েছে শার্লক হোমস সিরিযের "দ্য রেড হেডেড লিগ"-এর গল্প থেকে। তবুও গল্প বলার ধরনটা খারাপ লাগেনি। যদিও থ্রিলার/রহস্য উপন্যাস লিখতে গিয়ে, হৃদয়ঘটিত চটুল কথাবার্তাই বেশি বলেছেন লেখক।
This entire review has been hidden because of spoilers.
ছদ্মবেশ নিয়ে কিছু বলার আগে লেখককে নিয়ে বলতে চাই। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে গত বইমেলায় আমি উনার নামটা প্রথম শুনেছি। চারদিকে তখন নির্বাসন নিয়ে হৈ-হল্লা চলছে। সবাই লেখকের বই এবং অটোগ্রাফ সংগ্রহ করতে হুমড়ি খেয়েছে বইমেলায়। আমার মনে পড়ে না, এরকম আর কোনো লেখককে নিয়ে হুড়োহুড়ির কথা শুনেছি। আমার মতে, শুধুমাত্র একজনকে নিয়েই হুড়োহুড়ি হতে পারে। তিনি হুমায়ুন আহমেদ। তো, হুমায়ুন আহমেদের একজন গুণমুগ্ধ পাঠক হিসেবে আমার আগ্রহ জাগল সাদাত হোসাইনের প্রতি। আমি সবার কাছে তার বই সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে লাগলাম। আমার একজন পাঠকের টাইমলাইনে নির্বাসনের ছবি দেখলাম। অটোগ্রাফসহ বই পেয়েছে। সাথে সাদাত হোসাইনের সাথে একটা সেলফি। তাকে ইনবক্সে নক করলাম, বইটা পড়া হলে একটা রিভিউ দিও। জানার ইচ্ছে, কেমন লিখেন তিনি। সেই পাঠক অতি উত্তেজনায় আমাকে নির্বাসনের স্পয়লারটাই দিয়ে দিল। বইমেলা থেকে ফিরেই বইটা গলঃধরণ করে ফেলেছে। এখন উগরে দেবার পালা। আমি বইটার রিভিউ চাইলাম। সে দিয়ে দিল স্পয়লারসহ বইয়ের কাহিনী। এবং স্পয়লারসহ বইয়ের সামগ্রিক একটা কাহিনী শুনেই আমার আগ্রহ জাগল, বইটা কিনতেই হবে। কিন্তু আমার সে উপায় নেই। চাইলেও দৌড়ে যেতে পারব না বইমেলায়। অতএব, গালে হাত রেখে পাঠকদের সাথে লেখকের সেলফি দেখতে লাগলাম। আর কল্পনায় ভাসতে লাগলাম, আমিও গিয়েছিলাম বই কিনতে। অটোগ্রাফ পেয়েছি। একজন নব্য লেখকের জন্য অটোগ্রাফ হিসেবে তিনি এমন কিছু লিখে দিয়েছেন যেটা দেখে আমার লাফঝাঁপ করার মতো অবস্থা। যদিও লাফঝাঁপ করার বয়স নেই। তবুও আমি কল্পনায় লাফাই।
নির্বাসন আর হাতে পাইনি শেষ পর্যন্ত। রকমারিতে শপিং কার্টে রেখে দিয়েছি। মাঝেমধ্যে রকমারিতে থাকা দুই চারটা পৃষ্ঠা পড়ি আর মনকে সান্ত্বনা দিই। এমন সময় বের হলো ছদ্মবেশ। রকমারিতেই প্রি-অর্ডার পাওয়া যাচ্ছে। আমার পরিচিত সবাই হুড়মুড় করে বুকিং দিয়ে ফেলল আর আমি গালে হাত দিয়ে আবার কল্পনায় ডুবে গেলাম, রকমারিতে ছদ্মবেশ প্রি-অর্ডার করেছি।
আল্লাহ জানেন কতটা উদগ্রীব ছিলাম নির্বাসনের জন্য। এখন মরার উপর খাড়ার ঘা হিসেবে ছদ্মবেশ বের হচ্ছে। তাই তিনি একটা উছিলা দিয়ে দিলেন। সেই উছিলায় আমি পেয়ে গেলাম “ছদ্মবেশ” বইটা। স্কটল্যান্ডে আমার বাড়ির ঠিকানায় হাজির! এবং বইয়ের পাতা উল্টাতেই অটোগ্রাফ আমার জন্যঃ “আগামীর দিন হোক স্বপ্ন রঙ্গিন”। বই পাব এটাই আশা করিনি। তার উপর অটোগ্রাফ! পারলে তক্ষুনি লাফ দেই। সাদাত হোসাইনের এই অটোগ্রাফ র্যান্ডম ছিল হয়তো। কিন্তু আমার মনে হলো, কথাটা আমার জন্যই লিখেছেন তিনি। আমার জন্য খুবই ইন্সপায়ারিং। ঈদের দিন দুনিয়াদারী ঝেড়ে ফেলে বইটার উপর ঝাঁপিয়ে পড়লাম। এক বসায় শেষ করেছি।
এবার বইটা নিয়ে বলি। লেখকের প্রথম থ্রিলার বই হিসেবে এটা একটা উদ্বোধনী মাস্টারপিস পাঠকদের জন্য। উদ্বোধনী বললাম একারণে যে, আমি আশা করি উনি আরো থ্রিলার লিখবেন এবং সেগুলো একের পর এক মাস্টারপিস হতেই থাকবে। আমি লাইফে থ্রিলার পড়েছি অনেক। তিন গোয়েন্দা থেকে শুরু করে মাসুদ রানার গুণমুগ্ধ আমি। অগাথা ক্রিস্টির বাংলা অনুবাদগুলো পড়ে ফেলেছি, যেগুলো সামনে পেয়েছি। ফেলুদা, বোমকেশ কেউ আমার হাত থেকে নিস্তার পায়নি। আমি বলব না, আমি সব বই পড়ে ফেলেছি। থ্রিলার সবসময় পড়তে ভালোও লাগে না। থ্রিলার পাঠক হিসেবে নিজেকে এভারেজে রাখব আমি। তবু বলব, ছদ্মবেশ বেশি ভালো লেগেছে। কারণ কী জানেন? এটা একটা মৌলিক থ্রিলার। এখানে আমি বিদেশী কোনো থ্রিলারের ছায়া বা গন্ধ পাইনি। পড়তে গিয়ে কোনো থ্রিলারের কথা মনে পড়েনি যে, এখানে এটার সাথে একটু মিল আছে। সম্পূর্ণ নতুন, তাজা একটা মৌলিক থ্রিলার লিখেছেন উনি আমার দেশের ভাষায়, যেটায় কীনা আমার দেশের গন্ধ আছে। বই পড়ে মনে হয়েছে বাংলা অধ্যাপক লতিফুর রহমান আমার গ্রামের মানুষ। আমার গ্রামের বাড়ি থেকে খানিকদূরেই উনার বাড়ি। এবং ঘটনা ঘটেছে আমার গ্রামেই। শুরুতেই সাসপেন্স। লতিফুর রহমানের ছেলে ষোল বছর যাবত আমেরিকায় এবং বাবা-মায়ের সাথে তার কোনো যোগাযোগ নেই। কেন? আমি বিশাল রকমের বিরক্ত হয়ে গেলাম সৈকতের উপর। আমার ধারণা হলো, সৈকত হচ্ছে ওইসব কুলাঙ্গার, যারা জীবনে একটা সুযোগ পেয়েই উৎরে যায় নতুন জীবনে। পেছনে ফেলে আসা জীবনের দিকে তাকাবার দরকার মনে করে না। বাবা-মা তাকে এই দুনিয়াতে এনেছে, লালন-পালন করেছে অথচ সে এখন তাদের জঞ্জাল ভাবছে। বুড়ো বাপ আর অসুস্থ মায়ের খোঁজ নেবার দরকারটুকু মনে করছে না। আমার বিরক্তি গিয়ে ঠেকল লতিফুর রহমান এবং তার স্ত্রী নাসিমার উপর। কী দরকার ছিল এরকম কুলাঙ্গার ছেলে জন্ম দেবার? এর থেকে নিঃসন্তান থাকলেই ভালো হতো। মনকে সান্ত্বনা দেয়া যেতো। এখন তো ক্ষণে ক্ষণে রক্তক্ষরণ হচ্ছে বুকের মধ্যে, যার কোনো মেডিসিন এখনো আবিস্কার হয়নি এই দুনিয়াতে। তো, মরো এখন ধুকে ধুকে। আর কী… টিপিক্যাল বাঙ্গালী বাপ-মায়ের থেকে এর চাইতে বেশি কীইবা আশা করা যেতে পারে?
বিরক্তির রেশ থাকতেই শুরু হয়ে গেল গা ছমছমানি। ভাড়াটিয়া দেখাতে গিয়ে বাথরুমে আবিস্কার হলো লাশ! লিখতে গিয়ে লেখকের কেমন লেগেছে অথবা অন্য পাঠকদের কেমন অনুভূতি হয়েছে পড়ার সময় জানি না। আমার গা শিরশির করে উঠেছে। পাঠক হিসেবে থ্রিলার জগতের সাথে বেশ ভালো পরিচয় আছে। আর থ্রিলারে লাশ খুবই কমন বিষয়। তবুও ভয় লেগেছে। কারণ, গল্পটা আমার পাশের বাড়ির, লাশটা আমার নিজের গ্রামেই পাড়ার একটা বাড়িতে পাওয়া গেছে। গল্পের প্রেক্ষাপট আমার খুবই চেনা। দূরদেশের বিবরণ আর নিজ দেশের বিবরণের এটাই পার্থক্য। যাই হোক, লাশ নিয়ে তুমুল সাসপেন্স শুরু হয়ে গেল। বন্ধ ফ্ল্যাটের বাথরুমে লাশ। চাবি শুধুমাত্র বাড়ির মালিকের কাছেই থাকে এবং তিনি বাড়ির নিরাপত্তা বেশ জোরদার করেছেন আগেই। কাকপক্ষীও বাড়িতে ঢুকতে গেলে উনার নজরে পড়বে। রিটায়ার্ড প্রফেসরের কাজই এইটা। সারাদিনে বাড়ির কোথায় কী হচ্ছে না হচ্ছে তার উপর নজরদারি করা। অথচ একটা বড়সড়, গলাকাটা লাশ পড়ে আছে বাথরুমে। তিনি তো দুরের কথা, কাকপক্ষীও টের পায়নি!! এটা কোনো কথা হলো? লতিফুর রহমান এরপর যা করলেন, সেটা কিছুটা অবিশ্বাস্য লেগেছে আমার কাছে। একজন বুড়ো মানুষ আদৌ কী লাশটার গতি করতে পারবেন নীরবে? কিন্তু তিনি পারলেন এবং আমার মনে হলো, ওইরকম পরিস্থিতিতে পড়লে আমি ভীতুর ডিম, যে কীনা আব্বু-আম্মু ছাড়া আর বাকি সবার লাশ দেখে রীতিমতো ভয়ে কাঁপাকাঁপি করি, এই আমিও তখন দুর্দান্ত রকমের সাহসী হয়ে যাব। কথায় আছে, বিপদে বা ঠেকায় পড়লে মানুষ কী করতে পারে সে তার নিজেরও অজানা।
তারপর লাশ নিয়ে হৈ-হল্লা লেগে গেল গ্রামজুড়ে। আমাদের রাজনীতির কিছু চিরচেনা অংশ চলে এলো স্পটে। এবং আমি ড্যাম শিউর হয়ে নিলাম চুন্নু মিয়া আর গোলাম মাওলা এই দুইটার যে কোনো একটাই কাজ সারছে। আমার সন্দেহ চুন্নু মিয়ার দিকে বেশি ছিল। আমি জানি, থ্রিলার গল্পের মুল পয়েন্ট হচ্ছে, অপরাধী হবে সবচেয়ে নিরীহ মানুষ। তাকে কেউ সন্দেহ করবে না। সেই হিসেবে কিন্তু লতিফুর রহমানকেই সন্দেহ হবার কথা। অথচ উনাকে সন্দেহজনক হিসেবে আমি মানতেই পারছিলাম না। গল্পের বিভিন্ন অংশে আমার খুব রাগ লেগেছিল এই বুঝি নিরীহ মানুষটার উপর খুনের দায় চাপিয়ে দেয়া হয়! সৈকতের কথা আমি ভুলিনি। একে তো সৈকতের ষোল বছর ধরে গায়েব হয়ে থাকাটা আমার মাথায় কুটকুট করে কামড়াচ্ছিল। আমি অস্থির হয়ে পড়েছিলাম কী এমন কারণ থাকতে পারে কুলাঙ্গারের, জানতে হবে। কুলাঙ্গার তার অধঃপতন প্রকাশ করতে কতটা নীচে নেমে একটা লেইম এক্সকিউজ বের করতে পারে, তা জানার জন্য আমি অস্থির ছিলাম। তার উপর লাশ। কীভাবে খুন হলো, বইটা বন্ধ করে কিছুক্ষণ সেটাই ভেবেছি। আগেভাগে বইটা পড়ে রহস্য উদঘাটন করতে মন সায় দিচ্ছিল না। এমনকি কী কারণে খুন হয়েছে সেটা নিয়েও ভাবিনি। শুধু ভাবছিলাম, খুনটা হলো কী করে? নিজেকে লেখকের অবস্থানে দাঁড় করিয়ে অনেকটা সময় ধরে ভাবলাম, আমি হলে কী লিখতাম। যা হোক, মনে মনে অনেক আজগুবি কিছু ভেবে ফেলেছিলাম কিন্তু শেষমেশ বইয়ের সাথে মেলেনি। খুনের কারণ নিয়ে ভাবিনি। চুন্নু মিয়া ইজ দ্য কালপ্রিট, আমি নিশ্চিত ছিলাম। পরে দেখা গেল ওখানেও গলদ। মানে আমার অনুমান ঠিক হয়নি। এর মধ্যে একটা সুক্ষ্ম ভালোবাসাময় কাহিনী পেয়ে গেলাম। অনন্যার জন্য আমার টেনশন হচ্ছিল। কবে না দুম করে মেয়েটার বিয়ে হয়ে যায়! শেষের দিকে আমি একের পর এক টাশকি খেয়েছি। লেখক তার মুন্সিয়ানা ওখানেই রেখে দিয়েছিলেন সব একসাথে। পট পট করে একের পর এক গিট খুলতে লাগল। জানা হলো, খুন কীভাবে হয়েছে এবং কী কারণে হয়েছে। আসল ঘুঘু যে বের হয়ে আসল, আমি ভুল করেও তাকে সন্দেহ করিনি।
গল্প কিন্তু এখানেই শেষ না। খুনীর মুখ থেকেও অনেক কিছু বেরিয়ে এলো, রোমহর্ষক সব কাহিনী। রোমহর্ষক বলতে গতানুগতিক রোমহর্ষক নয়। আপনার আমার চারপাশের খুব পরিচিত মুখোশ খুলে আসলে যে অনুভূত হয়, সেটার আপার ভারসন। আর হ্যা, সৈকতের কুলাঙ্গারগিরির এক্সকিউজ বেরিয়ে এসেছে অবশেষে। সেটা লেইম নাকি লজিক্যাল তা বিচার করব না। সে আসলে খুনের আসামী এবং পলাতক। বুঝেন অবস্থা! লেখক সৈকতের উপর বেশি কনসেনট্রেট করেননি। অল্পের উপর দিয়ে লেখা শেষ করেছেন। তবে আমার মনে হয়েছে সৈকতের এই ব্যাপারটা নিয়ে আরেকটু বিস্তারিত লিখলে ভালো হতো। হয়তো লেখক প্রথম থ্রিলার বইটা বেশি বড় করতে চাননি।
এখন আসি বানানের কথায়। “বানাম নিয়া পোরবেচার সাবের বেহুদা পেরেশানি” হয়েছে মিস্ত্রীর। সে যদি জানতো, এই বইটার একজন পাঠক বানান নিয়ে কী পরিমাণ তুলকালাম করে, তাহলে বোধহয় লেখককে কাকুতি-মিনতি করে বলতো, “বাই, আমার এই কথাডা মুইচ্ছা দ্যান, পিলিজ লাগে”। আমি বই নিয়ে বসলে সাথে পেন্সিল থাকে। পেন্সিল ছাড়া বই পড়তেই পারি না। এটা বদভ্যাস হয়ে গেছে আমার। বই হাতে, অথচ পেন্সিল নেই। এমন পরিস্থিতিতে আমি একটা লাইনও পড়তে পারব না। কারণ পড়তে গিয়ে দুনিয়ার দাগাদাগি করি, বইয়ে ভুল ধরি। প্রতিটা লাইনে লাইনে ভুল না ধরলে আমার শান্তি হয় না। ছদ্মবেশেও অনেক ভুল ধরেছি। কম্পোজ করেছে প্রকাশনী। অতএব, বুঝাই যাচ্ছে কম্পোজের কাজটা ঠিকমতো করেনি। সাদাত হোসাইন লিখতে গিয়ে কোনো কঠিন শব্দ ব্যবহার করেননি। সুন্দর সাবলীল লেখা তার। অথচ কম্পোজ করতে গিয়ে প্রকাশনী অনেক ভুল করেছে। যেমন ঝোড়ো> ঝড়ো, গাঁধা>গাধা, ঝেরে>ঝেড়ে, কর্মিদের>কর্মীদের, তাঁর>তার, খেপে>ক্ষেপে ইত্যাদি এরকম আরো কিছু ভুল আছে। অনেক জায়গায় একটা শব্দ স্পেস দিয়ে আলাদা করে দুইটা শব্দ করা হয়েছে, যেমন, সারা রাত>সারারাত, কোনো মতে>কোনোমতে, সেই সব>সেইসব, আসা মাত্রই>আসামাত্রই, খুন খারাবি>খুনখারাবি, স্যান্ডেল জোড়া>স্যান্ডেলজোড়া, হাত পা>হাত-পা, ভোর রাতে>ভোররাতে, খানা খন্দ>খানা-খন্দ, পাঁচ শ>পাঁচশ, বেশির ভাগই>বেশিরভাগই… ভুলগুলো এধরনের। পান্ডুলিপিটা বিজয় ফন্টে টাইপ করতে গিয়ে হয়েছে এই ভুলগুলো। আবার কিছু ভুল আছে, যেখানে দুইটা শব্দকে একসাথে একটা শব্দ টাইপ করেছে। যেমন, সবকিছুরইতো, বলোতো, বাচ্চাতো, হাত-ছাড়িয়ে, বহুবছর।
একজন পাঠক হিসেবে আমি চাইব, জনপ্রিয় লেখকের লেখাগুলো যেন ভালোভাবে প্রুফ এডিট এবং কম্পোজ করা হয়। কারণ, এই ভুলগুলো লেখকের উপরও অনেকটা নেগেটিভ প্রভাব ফেলে। একজন এক্সপার্টকে দিয়ে কম্পোজ করানো উচিত এবং কম্পোজের পরেও একবার ফাইনাল রিভিশন দেয়া উচিত। জানি এই কাজটা বারবার করতে বিরক্ত লাগে। আমার নিজেরও বিরক্তি লেগেছিল পান্ডুলিপি ফাইনালাইজ করতে গিয়ে। একই গল্প বারবার লাইন ধরে পড়াটা আসলেই পেইনফুল। তবু একজন জনপ্রিয় লেখকের স্বার্থে এই বিরক্তিকর কাজটা মন দিয়ে করা উচিত। বইয়ের পেইজগুলো ভালো মানের ছিল। তবে মাঝখানে কয়েকটা পেইজ অন্যরকম ছিল। বইয়ের বাইন্ডিংস ভালো হয়েছে। বইটা পড়তে গিয়ে আরাম লেগেছে। তবে প্রচ্ছদটা আমার মন কাড়তে পারেনি। আমার কাছে গতানুগতিক লেগেছে এটা। একটু ভিন্ন ধারার প্রচ্ছদ হলে বেশ ভালো হতো।
সবশেষে আবার লেখককে নিয়ে বলি। অনেক বছর পর সুন্দর সাবলীল একটা বই পড়েছি। আজকাল লেখকরা নিজেদের মান উন্নত করতে ভারী এবং কঠিন শব্দ দিয়ে গল্প-উপন্যাস লিখেন। উঠতি জেনারেশনের কাছে এই শব্দগুলো কতটা দুর্বোধ্য সেটার দিকে লক্ষ রাখেন না। বেশিরভাগেরই লেখাগুলো হয় ম্যাচিউর পাঠকদের জন্য। আর যারা ছাত্র-ছাত্রী, যারা এখনো শিখছে, তাদের সাথে একটা গ্যাপ রয়ে যায়। বই পড়ায় তাদের মনোযোগ কমে যায়। আমি ঠিক এধরনের পাঠক ছিলাম। কঠিন শব্দ দিয়ে লেখা অনেক কালজয়ী বই আমি ধরেও দেখিনি। কারণ, ওগুলো পড়ে আমার মাথায় কিছু ঢুকত না। প্রথম পাতায়ই আমি আগ্রহ হারাতাম। একারণেই হুমায়ুন আহমেদ আমার মতো অসংখ্য পাঠকের মন জয় করে নিয়েছেন তার লেখায়। কারণ, তিনি যাই লিখতেন সেটা আমাদের মত সাধারণ পাঠকদের জন্য খুবই সহজবোধ্য ছিল। শুরুটা হতো খুবই সাধারণভাবে। মনের ভাব প্রকাশটা সহজ হতো। এমনকি তার লেখা সায়েন্স ফিকশনগুলোও জনপ্রিয় ছিল। তিনি লিখতেন মানসম্মত, অথচ শব্দগুলো ছিল সহজ আর সাবলীল। সাদাত হোসাইনও এভাবেই লিখেন সহজ ভাষায়। একারণেই উঠতি জেনারেশনের কাছে তিনি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। এবং অন্য লেখকরা যে গ্যাপটা তৈরি করেছেন উঠতি জেনারেশনের সাথে, সেটা তিনি পুরণ করে ফেলেছেন। আজকাল অনেক পাঠকই তাদের পছন্দের লেখককে হুমায়ুন আহমেদের সাথে তুলনা দেন। ফেসবুকজুড়ে এই তুলনা দেখে আমি মোটামুটি ডিসএপয়েন্টেড। তারা হুমায়ুন আহমেদকে ভালোভাবে চেনে না। তাই তুলনা করতেও তাদের বাধে না। আমার নিজের বেলাতেও শুনতে হয়েছে আমি একজন হুমায়ুন আহমেদ। পাঠকের কমপ্লিমেন্ট ছিল সেটা কিন্তু আমি পজিটিভলি নিতে পারিনি। আমার কাছে মনে হয়েছে, আমাকে আসলে ব্যঙ্গ করা হচ্ছে। হুমায়ুন আহমেদ এবং আমাকে অপমান করা হচ্ছে। এই অধিকার পাঠকের নেই। সাদাত হোসাইনের বেলাতেও আমি এরকম কথা কমবেশি শুনেছি। পাঠক বলেছে, তিনি একজন হুমায়ুন আহমেদ। কেউ বলেছেন আগামীতে তিনি হুমায়ুন আহমেদের জায়গা দখল করে নেবেন। আমার খুব খারাপ লেগেছে এই ব্যাপারটা। আমি মনে করি এভাবে তুলনা করে সাদাত হোসাইনকে নিজের অজান্তেই অপমান করা হচ্ছে। হুমায়ুন আহমেদ একজনই ছিলেন এবং আজীবন থাকবেন। আমরা কেন তার সাথে অন্যের তুলনা দিব? আমরা কেন বলতে পারি না, আমরা ভবিষ্যতে একজন সাদাত হোসাইন পেতে যাচ্ছি কিংবা ইতোমধ্যে পেয়ে গেছি? আমরা কেন সাদাত হোসাইনকে বাংলা সাহিত্যে তার নিজস্ব স্থানে বসাতে পারি না? হুমায়ুন আহমেদ যেমন একজনই ছিলেন, সাদাত হোসাইনও নাহয় একজনই থাকুক। আমরা যেন বলতে পারি, আমাদের একজন হুমায়ুন আহমেদ ছিলেন এবং একজন সাদাত হোসাইন আছেন। অনেক অনেক শুভ কামনা রইল আমার প্রিয় লেখকের তালিকায় যোগ হওয়া নতুন এই কথা সাহিত্যিকের জন্য।
বিঃদ্রঃ যে বানানগুলো আমি ভুল ধরেছি, সেগুলো যদি ঠিক থাকে, আমাকে শুধরে দিন প্লিজ। কারণ আমি কোনো সবজান্তা শমসের নই। আমারও জানায় ভুল থাকতে পারে। আর বাংলা একাডেমী প্রতি বছর বানানের নিয়মনীতি পাল্টে যে দ্বিধা তৈরী করেছে, সেটা তো রয়েছেই।
বইঃ ছদ্মবেশ লেখকঃ সাদাত হোসাইন প্রকাশনীঃ অন্যধারা প্রচ্ছদঃ সনদ কুমার বিশ্বাস পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১৪৪ মুদ্রিত মূল্যঃ ২৫৫ টাকা মাত্র প্রথম প্রকাশঃ ১৫ই জুলাই ২০১৯
ঘটনার শুরুটা একটা বাড়িকে ঘিরে যেই বাড়ির নাম অপেক্ষা। বাড়িটার মালিক লতিফুর রহমান। যিনি একজন প্রফেসর। পেনশন, গ্রামের ফসলি জমি সবকিছু মিলিয়ে শেষ বয়সে এসে পূরণ করলেন নিজের স্বপ্নটা। যেটা হচ্ছে তার এই বাড়ি। তার স্ত্রী নাসিমা বেগম, কাজের মেয়ে ডালিয়া এবং সে, এরাই হচ্ছে তার এই স্বপ্নে অবস্থানরত মানুষগুলো। কিন্তু তবুও একটা শুন্যতা। সেই শুন্যতা তার ছেলেকে কাছে না পাওয়ার। কাছে না পাওয়ার যন্ত্রণায় যেমন ব্যতীত হন সে, তেমনি হন তার স্ত্রীও। মাঝে মাঝে সেই না পাওয়ার যন্ত্রণা আর নিজের মানষিক অশান্তি মিলিয়ে উন্মাদের মতো আচরণ করেন লতিফুর রহমানের স্ত্রী। তবে সেই না পাওয়া কাটিয়ে তার ছেলের দেশে ফেরার একটা চিঠি আসে তাদের কাছে। উন্মাদ থেকে মূহুর্তের মা হয়ে ওঠেন নাসিমা বেগম। পাগল হয়ে যান ছেলেকে সমাদর করার জন্য। স্বামীকে সাফ জানিয়ে দেন গ্রামে যেতে হবে। ছেলের জন্য তিনি আনবেন অনেক খাবার, মাছ, আরও কত কি! সেই সুখে গ্রামে যাওয়া। তবে ফিরে এসেই বাধে বিপত্তি। লতিফুর রহমান ঘর ভাড়া দেয়ার চেষ্টা করছেন বহু আগে থেকেই, গ্রাম থেকে ফিরে যখনই ঘর দেখার জন্য লোক এলো তিনি টের পেলেন এক অদ্ভুত রকমের গন্ধ। পরক্ষণেই দেখা গেলো তার সেই নতুন ঘরের বাথরুমেই লুটিয়ে আছে এক লাশ। গ্রামের বাড়ি গিয়ে ফেরত এলেন সে আর তার স্ত্রী, ঘর ছিলো বন্ধ! তবুও কিভাবে এলো এই লাশ তা সঠিক বুঝে উঠতে পারলেন না তিনি। শেষ চেষ্টাটা করতে দ্বিধাবোধ করলেন না। লাশটা তাকে সরাতেই হবে। যেই কথা সেই কাজ। সরিয়েও ফেললেন, নিজের উপর থেকে বোঝা কমাতে। ঝামেলা কমাতে।
পুলিশ যখন লাশ খুঁজে পায়, তখন এই কেসের দায়ভার পড়ে পলাশবাড়ি থানার সাব-ইন্সপেক্টর রেজাউল হকের উপরে। ঐদিকে উপজেলা চেয়ারম্যান নিয়ে যাদের ভীষণ প্রতিযোগিতা তারা হলেন চুন্নু মিয়া এবং গোলাম মাওলা। যার লাশ পাওয়া গিয়েছে সে হচ্ছেন চুন্নু মিয়ারই আপন ভাগনে লিখন। স্বভাবতই পুরো দোষটা তিনি চাপাচ্ছেন্ন তার প্রতিযোগী গোলাম মাওলার দিকে।
তদন্তে নামলে সেভাবে কোনো কিছুরই কুল-কিনারা খুঁজে পাওয়া যায়না। তবে একের পরে এক তথ্য সামনে আসতে থাকে। যেই তথ্যগুলো খুব গ্রহণযোগ্য এমন নয়, আবার যে হাওয়ায় উড়িয়ে দেয়া যাবে এমনও নয়। এসব ধরেই সামনে এগোতে থাকে কেস। কোনো এক ভাবে চোখে না পড়া কিছু একটা খোলাসা করে দেয় কেসটা রেজাউল হকের চোখের সামনে। তবে সেসবও শুধু তার অনুমান। এসব সুত্র ধরে মাঠে নামলে প্রমাণ পান সবকিছুর সত্যতার। খুনের সত্যতা খুঁজতে গিয়ে সামনে আসে আরও কিছু তথ্য। যা মুহুর্তেই বদলে দেয় অনেকের জীবন!
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ সাদাত হোসাইন এর প্রথম রহস্যময়ধর্মী বই এটি। প্রথমে স্বাভাবিকভাবেই শুরু হলেও বুঝতে পারা যায় গল্পটা স্বাভাবিক না। কিংবা কিছু কিছু জায়গায় এমন কিছু বলা আছে যেখানে স্পষ্ট ধারণা দেয়া যে গল্পটার শেষটা স্বাভাবিকভাবে হবেনা। তবে প্রথম দিকে একদমই সাধারণভাবে চলতে থাকে গল্পটা, যেটা গতিবেগ প্রাপ্ত হয় গল্পের শেষের দিকে এসে। তবে আমার মনে হয় গতিবেগটা যদি আরও আগে থেকে হতো কিংবা আরও আগে থেকে বিভিন্ন মারপ্যাচে জড়িয়ে রাখা যেতো তবে সেটা সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট হতো। তবুও এমনটা নয় যে শেষের দিকে এসে গতিবেগ প্রাপ্ত হওয়ার খুব একটা খারাপ লাগবে। মনোযোগ ধরে রাখতে ভালোই সক্ষম হয়েছে বইটি। তবে যারা প্রথম থেকেই অনেক রহস্য আশা করে তাদের জন্য প্রথম দিকে একটু ধীর গতিসম্পন্ন মনে হতে পারে, কিন্তু শেষের পৃষ্ঠাগুলো পর্যন্ত গেলে আমার ধারণা তারা ওখানে মুগ্ধ হবেন। সাদাত হোসাইনের আরো কিছু বই পড়েছি আমি, সেসবের মতোই লেখার ভাষা খুবই সাবলীল লেগেছে আমার কাছে। তেমন কঠিন কোনো শব্দ ব্যবহার না করায়, পড়তে কারোই ঝামেলা হবার কথা না আমার মতে। চরিত্রগুলো সবাইকেই মোটামুটি ভালো জায়গা দেয়া হয়েছে, এক্ষেত্রে চরিত্রগুলোর সাথে যোগাযোগ স্থাপণ করা সম্ভব হবে। হুটহাট বিশাল কোন রহস্য সামনে তুলে ধরা হয়নি, যাতে পাঠকের মনোযোগ একটার পর একটা বিষয় নিয়ে ভাবতে বাধ্য হয়। একদম স্বাভাবিক, সাধারণভাবে চলতে থাকা গল্পটার শেষে এসে আপনি জট পাকানো স্বাভাবিক গল্পটার রহস্যের উদ্ধার দেখে ভালোই অবাক হবেন। এবং সেইসবের সাথে সাথে আরও এমন অনেক কিছুই চোখের সামনে দেখতে পাবেন যা গল্পের বিভিন্ন স্থানে টুকটাক তুলে ধরা হলেও সেভাবে চোখে পড়েনি।
সুতরাং, প্রথম রহস্য উপন্যাস হিসেবে বেশ ভালোই কাজ দেখিয়েছেন সাদাত হোসাইন। যারা থ্রিলার পড়তে চান, পড়ার ইচ্ছা আছে, কিন্তু প্রথমেই খুব বেশি থ্রিল বা রহস্যে যেতে চাচ্ছেন না, তারা এই বইটি দিয়ে শুরু করতে পারেন আপনার থ্রিলারের যাত্রা।
সাদাত হোসেনের লেখা পড়ব পড়ব করেও পড়া হচ্ছিলো না। বন্ধুর টেবিলে ছদ্মবেশ দেখে পড়ে ফেললাম।
এক উঠতি মফস্বল শহরে ঘটে যাওয়া খুন নিয়ে লিখা রহস্যগল্প।
খুনের তদন্ত, রাজনীতি, আর এক ছদ্মবেশি চক্রের মিশেলে গড়ে উঠেছে গল্পের প্লট। সাবলীল, সহজ পাঠ্য। ফাস্ট পেসড বা জটিল থ্রিলার নয়।
গল্পের শুরুটা বেশ, তবে ক্যারেক্টার বিল্ডাপ বা ক্যারেক্টার গুলো সম্পর্কে তেমন কোনো ধারণা দেয়া হয়নি যার ফলে স্টোরি লাইনে কাউকেই ঠিক করে বুঝে উঠতে পারছিলাম না।
বইয়ের শেষভাগে এসে খুব তাড়াহুড়ো করে সব কিছু একসাথে খোলাসা করার ব্যাপারটা অতটা ভালো লাগে নি। মনে হয়েছে হুট করেই একেবারে অগুরুত্বপূর্ণ ক্যারেক্টারগুলোকে অনেক গুলো বড় ঘটনার সাথে জুড়ে দিয়ে গল্পের সমাপ্তি টানা হয়েছে।
খুন, গোলাম মাওলার রাজনীতি, ছদ্মবেশে থাকা আলাউদ্দিন, ব্যাংক ডাকাতি, ডালিয়ার অপরাধজীবন, প্রফেসরের কদাকার রুপ, এনায়েতের খুন সব একসাথে অল্প লেখায় রিভিল করে গল্পটা শেষ হয়েছে সত্যি, কিন্তু অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
কোনো ক্যারেক্টারের ই ব্যাকগ্রাউন্ড স্টোরি নাই বলে কারো সাথে রিলেট করা যায় নি, বা বইটার কোনো অনুভূতি/কোনো চরিত্রই মনে দাগ কাটতে পারে নি।
লেখক রেজা সিরিজের আরো বই লিখছেন বলে শুনেছি, আশা করছি পরবর্তী বই এ আরো ভালো লিখবেন।
ছদ্মবেশ - রহস্য থ্রিলার ডিটেকটিভ উপন্যাস লেখক - সাদাত হোসাইন
আমি অনেকদিন পর কোন রহস্য উপন্যাস পড়লাম। সত্যি বলতে সাদাত হোসাইনের প্রথম উপন্যাস পড়ে ভাল লেগেছিল বলেই আরেকটা পড়ে দেখলাম। এবং যথারীতি হতাশ করে নি লেখক বরং অনেকদিন পর একটা ভাল রহস্য গল্প পড়ে হল এবং ফিরে গেলাম সেই ছোটবেলার তিন গোয়েন্দা পড়ার দিনগুলোতে। একটি নতুন শহরে হুট করে এক প্রফেসরের বাড়িতে হয়ে যায় খুন। সেই লাশ ঢাকতে প্রফেসর নিজেই ব্যাবস্থা করেন। পরে সেটা খুঁজে পায় পুলিশ এবং আমাদের নায়ক সাব ইন্সপেক্টর রেজা সাহেব ময়নাতদন্ত শুরু করেন। লাশটি এলাকার চেয়ারম্যানের ভাগ্নের হওয়ায় শুরু হয় রাজনৈতিক চক্র এই খুনকে ঘিরে।
গল্পটা এত সুন্দর করে সাজানো যে পাঠক সর্বদা এর পর কি হয় কি হয় করতে থাকবে। গল্পটা আমাদের সামাজিক অবস্থার কথা বিবেচনায় রেখে লেখা হয়েছে দেখে সবাই অনেক বেশি মেলাতে পারবে নিজ জীবনের সাথে। গল্পে অনেক রহস্য অনেক প্রশ্ন বানিয়ে শেষে এসে সব জট খোলা হয়। লেখক খুব সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলেছে বিভিন্ন দৃষ্টিভংগী এবং সব চরিত্রগুলোকে এক সুতোয় বেধেছেন খুব সুনিপুণভাবে। আমি সবাইকে পড়ে দেখতে বলব গল্পটা এবং যারা রহস্য থ্রিলার পছন্দ করেন তাদের জন্য মাস্ট রিড।
লেখকের প্রথম থ্রিলার হিসেবে 'মোটামুটি' বলা যায়। শুরুর দিকে লেখক গল্পটাকে ভালোভাবেই এগিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু মাঝ বরাবর তিনি গল্পটাকে গুলিয়ে ফেলেছেন বলে মনে হয়েছে। আর এন্ডিংটা খুবই সাদামাটা। গল্পের প্রবাহ অনেকটা ছিলো অনেকটা এরকম যে গল্প আগাচ্ছে, রহস্যের জট কখনো ঘনীভূত হচ্ছে আবার কখনো অন্যদিকে মোড় নিচ্ছে। এতটুকু পর্যন্ত ঠিকঠাকই ছিলো। কিন্তু এরপর হঠাৎ করেই সকল রহস্যের জট খুলে গেলো। থ্রিলার হিসেবে পাঠকের প্রত্যাশা থাকে রহস্য ঘনীভূত হবে, তারপর ধীরে ধীরে রহস্যের জট খুলবে। মাঝখানে কিছু টুইস্ট থাকবে। কিন্তু গল্পটা ছিলো খুবই সাদামাটা। কোনো টুইস্ট খুঁজে পাইনি। আর তারচেয়েও বড় ব্যাপার আমার প্রতিটা প্রেডিকশন মিলে যাচ্ছিলো। সারকথা হলো, “ছদ্মবেশ” একটা থ্রিলার উপন্যাস হলেও খুব একটা থ্রিল পাওয়া যায়নি। গল্পটাকে থ্রিলার হিসেবে না নিয়ে একটা সাধারণ গল্প হিসেবে পড়তে পারেন।
পুড়ি আমার পছন্দেরই একটা খাবার, কিন্তু চা এ চুবায়ে খাওয়ার মত uncomfortable ব্যাপার আরেকটা নেই। এই অখাদ্যটা দিয়ে বইটা শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত খুবই সুন্দর করে শেষ হল গল্পটা৷ একসাথে একাধিক ঘটনা আমার অতটা পছন্দ না। যেমন সৈকতের সঙ্গে হারাধনের সম্পর্ক, ডালিয়ার সাথে আলাউদ্দিনের সম্পর্ক, সবার সাথে লিখনের সম্পর্ক, আবার কোথা থেকে শিউলি চলে আসলো, মাঝে গোলাম মওলার প্ল্যান। একটু হজবরল হতে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ঠিক ঠাক মতই শেষ হয়েছে। রেজার চরিত্রটাকে ভালো খারাপের মিশ্রণে রাখা হয়েছ, এই ব্যাপারটা ভালো ছিল।