Shawkat Osman (Bengali: শওকত ওসমান; Sheikh Azizur Rahman; 1917 – 1998) was a Bangladeshi novelist and short story writer.Osman's first prominent novel was Janani. Janani (Mother)is a portrait of the disintegration of a family because of the rural and urban divide. In Kritadaser Hasi (Laugh of a Slave), Osman explores the darkness of contemporary politics and reality of dictatorship.
Awards Bangla Academy Award (1962) Adamjee Literary Award (1966) President Award (1967) Ekushey Padak (1983) Mahbubullah Foundation Prize (1983) Muktadhara Literary Award (1991) Independence Day Award (1997)
চৌরসন্ধি একটি রূপকধর্মী উপন্যাস। তবে এই রূপক চিত্রের আবির্ভাব শুরুতে টের পাওয়া যায় না। উপন্যাসের মূল চরিত্রটি রূপক অর্থে ঐতিহাসিক, তার আপাত-পরিচয় হল শহরের এক দিনমজুর রিকশাওয়ালা, তাগড়াদেহী এবং স্বপ্নোত্থিত। শহরের মিল মালিকদের বিরুদ্ধে সংঘটিত এক শ্রমিক-ধর্মঘট পন্ড করে এক লাফে সে রিকশাওয়ালা থেকে লাখপতি হয়ে পড়ে, জায়গা করে নেয় ভদ্র সমাজে। অথচ আড়াল থেকে এমন এক শ্রেণির মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করে, যাদের পেশা হল চুরি। আমাদের সমাজে জিরো থেকে হিরো না হয়ে ভিলেন হবার এরকম চিত্র হরহামেশাই দেখা যায়।
সাধারণত কাহিনীনির্ভর উপন্যাসে যে চটকদার উপস্থাপন থাকে, যা পাঠককে ধরে রাখে দীর্ঘক্ষণ, চৌরসন্ধিতে সেরকম কোনো বিষয় নেই। সম্ভবত শওকত ওসমানের কোনো লেখাতেই তা নেই। কাহিনী নির্মাণের চেয়ে উপন্যাসের শৈল্পিক রস ও রূপকধর্মিতাকেই তিনি গুরুত্ব দিতেন। চৌরসন্ধি পড়তে পড়তে হঠাৎই যেন পাঠক আবিষ্কার করবেন, এই গল্প মামুলি দুই শহুরে চোরের গল্প না। বরং মানচিত্র ভাগ করে রাষ্ট্রীয় চুরিতে লিপ্ত হওয়া দুই বড় চোর, আইয়ুব খান আর মোনায়েম খানের গল্প। এই উপন্যাস যেন আমাদের হাজার বছরের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় চুরিকেই নির্দেশ করে।
শওকত ওসমানের লেখার মাঝে অতিরিক্ত আরবি-ফারসি শব্দের ব্যবহার শুরুতে কিছুটা বিরক্তির উদ্রেক ঘটালেও এটি মূলত লেখকের একধরনের বিদ্রুপাত্মক আচরণ। যে পাকিস্তান সরকার বাংলাভাষাকে তার স্বকীয়তার জায়গা থেকে সরিয়ে আরবি-ফারসিময় করে তুলতে উদ্ধুদ্ধ করেছিল, সেই আরবি-ফারসিময় বাংলাভাষা ব্যবহার করেই লেখক ঐ পাকিস্তানি স্বৈরশাসনকেই তীব্রভাবে ব্যঙ্গ করেছেন। মজার ব্যাপার হল, সেই ব্যঙ্গ বোঝার মত বুদ্ধিবৃত্তিক চেতনা আইয়ুব খানের ছিল না। এইজন্যেই এত অপূর্ব-বাংলা(!) ব্যবহারের জন্য নিজের হাতে পুরস্কার তুলে দিয়েছিলেন শওকত ওসমানের হাতে।