Jump to ratings and reviews
Rate this book

এই দ্বীপ, এই নির্বাসন

Rate this book

405 pages, Hardcover

14 people want to read

About the author

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
2 (40%)
4 stars
1 (20%)
3 stars
2 (40%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 3 of 3 reviews
Profile Image for Arupratan.
235 reviews385 followers
July 20, 2022
দীর্ঘদিন বিদেশে বসবাস করেছেন এমন কোনো বাঙালি লেখক, নিজের প্রবাসজীবনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস লিখেছেন, এরকম কোনো উদাহরণ আমার জানা ছিলো না। ভাগ্যের পরিহাসই হবে হয়তো, এমন উপন্যাস সত্যিই একটি আছে, কিন্তু সাধারণ বাঙালি পাঠকের খোঁজখবরের প্রায় বাইরে। ক্যানো যে এই উপন্যাসটির নাম শুনিনি কোনোদিন, কোনো আলোচনা পড়িনি, দেখিনি কোথাও কোনো উল্লেখ, চোখে পড়েনি মুদ্রিত কোনো সংস্করণ, এই ব্যাপারটাকে একটা রহস্যই বলা যায়। ইলেকট্রনিক ভার্শনে বই পড়তে আমি স্বচ্ছন্দ নই। তবু চারশো পৃষ্ঠার উপন্যাসটা মোবাইলের স্ক্রিনে পড়ে ফেলতে বিশেষ অসুবিধে হয়নি। মোবাইলে পড়া ছাড়া আর উপায়ও ছিলো না।

অসুবিধে না-হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ উপন্যাসটির নির্মেদ লিখনশৈলী। কাহিনিবিন্যাস, চরিত্রনির্মাণ কিংবা পটভূমি বর্ণনা— সবদিক দিয়েই লেখক মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন। বিশ্বাসই হয়না এটি লেখকের প্রথম এবং একমাত্র উপন্যাস। ইন্টারনেট ও বিশ্বায়নের দৌলতে আমেরিকান জীবন আমাদের কাছে এখন খুবই পরিচিত। কিন্তু ১৯৬৫ সালে, উপন্যাসটা যখন লেখা হয়েছিলো, আমেরিকা তখন ছিলো রূপকথার দেশ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর "বেবি বুম" জমানার, কোল্ড-ওয়ার জমানার, ঘটনাবহুল সেই ষাটের দশক। বিত্ত, বৈভব, ঐশ্বর্য্য এবং রাজনৈতিক মহিমায় এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী ঘোড়ার মতো দৌড়চ্ছে আমেরিকা। ভারতের মতো একটি দরিদ্র দেশের কোনো মানুষের কপালে যদি সেই সময়ে আমেরিকায় বাস করার শিকে ছেঁড়ে, কেমন হবে তার জীবন? তার চিন্তাধারা? তার স্ট্রাগল?

ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায়, মানুষ যখন ছিন্নমূল হয়, তখন সে যেন একটা দ্বীপের বাসিন্দা হয়ে যায়। মানসিক অস্তিত্বের দিক দিয়ে এমনিতেই প্রত্যেকটি মানুষ একাকী। তার উপর যখন তাকে ছেড়ে যেতে হয় নিজের শহর কিংবা গ্রাম, নিজের দেশ, তখন যেন তার শেকড় উপড়ে যাওয়ার জোগাড় হয়। নতুন দেশের মাটিতে নতুন একটা স্বপ্নকে ধাওয়া করে মানুষ। বেশ কিছুদিন আবিষ্ট থাকে সেই স্বপ্নের কুহকে। কিন্তু একটা সময় সে বুঝতে পারে, আজন্মের পরিচিত ভাষা, মানুষ, দৃশ্য, শব্দ, ঘ্রাণ, স্বাদ, স্পর্শ, সবকিছুই তার হাতের নাগাল থেকে বহুদূরে সরে গেছে। তাকে যেন নির্বাসন দেওয়া হয়েছে। নির্বাসিত, দ্বীপান্তরিত, সেই মানুষদের জীবনের একটা সার্থক পরিচয় পেয়েছি, খুব সহমর্মিতার সঙ্গে লিখিত এই উপন্যাসটা পড়ে।

প্রায় ষাট বছর আগে লেখা চমৎকার এই বইয়ের গল্পটা আজকের দিনেও একটুও পুরোনো হয়ে যায়নি, প্রাসঙ্গিকতা হারায়নি। শেকড়শুদ্ধু উৎপাটন করে ভিনদেশে পুঁতে দিলেই আমগাছে কমলালেবু ফলতে শুরু করেনা। তৃতীয় বিশ্বের মধ্যবিত্ত জীবনের ভয়, আশঙ্কা, লজ্জা, দ্বিধা, অস্থিরতা, পূর্বজীবনের স্মৃতি— সেই ছিন্নমূল মানুষদের পিছু ধাওয়া করে যায় আজীবন। তারা আপ্রাণ চেষ্টা করে, নতুন দেশের নতুন ছাঁচে নিজেকে গড়ে তুলতে। কিছু কিছু অতিনাটকীয়তা রয়েছে এই উপন্যাসে। গল্পের গতি এবং উপভোগ্যতা সবজায়গায় সমান ছিলো না। তবু বাংলা সাহিত্যে এটি একটি উল্লেখযোগ্য উপন্যাস। একটি বিশিষ্ট উপন্যাস। এই উপন্যাসটিকে নিয়ে আরো অনেক বেশি আলোচনা হওয়া উচিত। আশ্চর্য! কীভাবে হারিয়ে যায় এমন দারুন একটা লেখা?
Profile Image for Shom Biswas.
Author 1 book49 followers
March 6, 2025
Ei Dweep, Ei Nirbason (This island, this exile) isn’t just about immigration; it’s about the liminal space between belonging and exile, between claiming a place and never quite feeling at home.

Woody Guthrie’s This Land Is Your Land is an anthem of ownership, of shared identity, of America as an open, endless possibility. But when you’re walking through Manhattan - through the very island that Guthrie sings about - you can’t help but wonder: Is this land really mine? Or is it just a place I exist in, temporarily, always a little outside of it?

I stayed in the U.S. for a few years - New York, Boston, Dallas, scattered moments in other places. And I remember those walks in Manhattan, in a city that belongs to everyone and no one at the same time. I remember standing still, the skyline towering above, the rhythm of the streets pulling me forward, and that song echoing in my head:

"This land is your land, this land is my land, from California to the New York island..."

It didn't ring true, somehow.

That’s this book, non?



PS: perhaps it’s fitting that these words come to me now, in yet another exile, in yet another city and another island where so many Bengalis before me have arrived with the own mythologies of their minds -London. A different water body, a different skyline, the same quiet question.
Profile Image for Farhana Sultana.
94 reviews71 followers
January 3, 2020
আমেরিকা...। অনেকের কাছেই স্বপ্নের দেশ সন্দেহ নেই। সুখ, ভোগ, বিলাসিতার সবরকম উপকরণই আমেরিকাতে আছে। তাই আমেরিকা মানেই সুখের হাতছানি এমনই আপাত দৃষ্টিতে মনে হয়। কিন্তু যারা, বিশেষ করে ভারত, বাংলাদেশ থেকে যেসব বাঙালীরা আমেরিকায় গিয়ে বসবাস করেন তারা আসলে কেমন থাকেন? তারা কি আমেরিকার মূল স্রোতের সাথে মিশে যেতে পারেন?
বাহির থেকে আমাদের মনে হয় তাদের জীবনটা খুব সুখের আর স্বাচ্ছন্দ্যের। কিন্তু প্রকৃত রূপটা আসলে কী? সেই উত্তরই খোঁজার চেষ্টা করেছেন মনোজ ভৌমিক তাঁর "এই দ্বীপ, এই নির্বাসন" উপন্যাসে। যদিও ভারতীয় বাঙালীদের কয়েকটি চরিত্রকে নিয়ে এই বই, তবুও আমার মনে হয় এই উপন্যাসে যে চিত্র আঁকা হয়েছে তা যেকোনো বাঙালীর জন্যই সত্যি।

সমরেশ মজুমদারের "যাযাবরী" বইটা পড়তে গিয়ে এই বইয়ের খোঁজ পাই। যেহেতু প্রবাসী বাঙালীদের নিয়ে লেখা উপন্যাস তাই বিশেষভাবে আগ্রহ হয় পড়ার।
ইন্ডিয়ান বইয়ের গ্রুপে খুঁজে পিডিএফ সংগ্রহ করে পড়া শুরু করে দেই। আয়তনে বেশ বড়সড় একটি বই। মাঝখানে আবার ফাইনাল পরীক্ষার জন্য আটকে গিয়েছিলাম। সব মিলিয়ে এই বইটা শেষ করতে অনেক বেশী সময় লাগে।
ভালো লেগেছে পড়তে। লেখনীও ভালো। সমরেশ মজুমদারের মতে মনোজ ভৌমিক লেখালেখি চালিয়ে যেতে পারলে বাংলা সাহিত্যের একজন শক্তিশালী লেখক হতে পারতেন। কিন্তু এই কথার সত্যতা প্রমাণের সুযোগ মনোজ ভৌমিক পাননি। তার আগেই তাঁকে পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে যেতে হয়।

বাঙালীরা পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুক, কিছু সংস্কৃতি, কিছু অভ্যাস, কিছু ঐতিহ্য, কিছু অনুভূতি, তারা কখনওই পুরোপুরি ত্যাগ করতে পারে না - এই উপন্যাস পড়ে আরেকবার সেই উপলব্ধি হবে। তবে এই উক্তি বোধহয় সেই দেশে ছোট থেকেই বেড়ে ওঠা কিংবা জন্মানো শিশুর ক্ষেত্রে পুরোপুরি খাটে না। মা-বাবা বাঙালী হলেও তারা বেড়ে উঠে আরেকটি ভিন্ন সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে। ঘরে একরকম পরিবেশ আরে বাহিরে সম্পূর্ন আলাদা এক পরিবেশের মধ্যে বড় হতে গিয়ে তাদের মধ্যে যে টানাপোড়েনের সৃষ্টি হয় সেটা সম্পর্কেও এই উপন্যাসে কিছুটা আভাস পাওয়া যাবে।
আবার যেই আমেরিকায় এত ভোগ-বিলাসের ব্যবস্থা, স্বাচ্ছন্দ্য যেখানে প্রতি পদে পদে - সেই আমেরিকার সত্যিকার বাসিন্দারা কি আসলেই সুখী? তারও কিছুটা আভাস এই উপন্যাসে রয়েছে।
আমেরিকানদের সব থেকেও একটা অভাব যেন রয়েই যায়। কাছ থেকে লক্ষ করলে সেই অভাবের হাহাকার টের পাওয়া যায়। পারিবারিক বন্ধন কী জিনিস তারা জানে না। বন্ধনহীন জীবনে তাই তারা খড়কুটোর মত যা পায় তাই আঁকড়ে ধরতে চায়। কিন্তু ধরে রাখতে পারে না।
এসব মিলিয়েই মনোজ ভৌমিক চমৎকারভাবে উপন্যাসটি এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন। কিছু কিছু কথা খুবই ভালো লেগেছে। একটি লাইন তুলে দিচ্ছিঃ

"ছোটবেলায় বোধহয় সকলেই পথের পাঁচালীর অপু। কেউ গ্রামের, কেউ শহরের।"

এই উপন্যাসের মূল সুর হয়ত এটাই যে, এক দেশ থেকে শিকড় তুলে অন্য দেশে বাস করতে গেলে সেই শিকড় মাটির খুব গভীরে যেতে পারে না। ফলে মানুষগুলো হয়ে যায় নিঃসঙ্গ দ্বীপের মত যেখানে তাদের বসবাস নির্বাসিতের মতই।
Displaying 1 - 3 of 3 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.