'দহন' শুধু বিশেষ এক বীরাঙ্গনার কাহিনী নয়, টালিগঞ্জ মেট্রো স্টেশনের চত্বরে চারজন যুবকের অশ্লীল থাবা থেকে এক গৃহবধূকে বাঁচাতে যে কিনা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল দুষ্কৃতিদের উপর, থানা-পুলিস, কোর্ট কাছারী পর্যন্ত দৌড়ঝাঁপ করতেও যার দ্বিধা ছিল না, আবার, সাহসিকতার অভিনন্দনের রেশ ফুরোতে-না-ফুরোতেই যে কিনা সবিস্ময়ে আবিষ্কার করেছিল, কত ধরনের চাপ নিস্ক্রিয় আর তুচ্ছ করে দিতে উদ্যত নারীর এই প্রতিবাদ, এমন কি লাঞ্ছনাকেও| এ উপন্যাস একইসঙ্গে এই সময় আর এই সমাজে নারীস্বাধীনতার প্রকৃত চেহারাটাও উন্মোচন, নপুংশক ও ঠুনকো মূল্যবোধের বিশ্লেষণ| সাম্প্রতিক একটি ঘটনা এ কাহিনীর প্রেরণা| কিন্তু চরিত্রাবলী ও ঘটনাপরম্পরা কাল্পনিক|
Her writing focuses on contemporary social issues. She is a perceptive observer of the changing urban milieu and her writing closely examines the contemporary Bengali middle class. Crisis in human relationships and the changing values of the present era along with degeneration of the moral fibre of the society in the backdrop of globalisation and consumerism are depicted in her prose. Exploitations and sufferings of women regardless of their social or economic identities find a distinct voice in her writing. While she is famous for her writing on women's issues, she does not consider herself as a feminist. She took up many odd jobs in her early youth and finally joined the public service which she left in 2004 to become a fulltime writer. Her long career is reflected in many of her stories and novels.
Over the past two decades, Suchitra has written about 24 novels and a large number of short stories in different leading Bangla literary magazines. Some of her acclaimed novels are Kachher Manush (Close to Me), Dahan (The Burning), Kacher Dewal(The Wall Of Glass), Hemonter Pakhi(Bird of Autumn), Neel Ghurni, Aleek Shukh(Heavenly happiness), Gabhir Ashukh (A Grave Illness), Uro Megh(Flying Cloud), Chhera Taar, Alochhaya(Shadows Of Light), Anyo Basanto(Another Spring), Parabas, Palabar Path Nei, Aami Raikishori, Rangin Pritibi and Jalchhobi among others. Her novels and short stories have been translated into many Indian languages such as Hindi, Tamil, Telugu, Malayalam, Oriya, Marathi, Gujarati, Punjabi and English. She also writes novels and short stories for children. Her novel Dahan was made into a movie by famous Bengali director, Rituparno Ghosh.
কখনো কি কোন বই পড়তে গিয়ে মনে হয়েছে বইটা সারাজীবন ধরে চলতে থাকলে মন্দ হয় না? সুচিত্রা ভট্টাচার্যের দহন বইটা পড়তে গিয়ে আমার ঠিক এই অনুভূতি-ই হয়েছে। বইটা একজন সাহসী যুবতীর। শ্লীলতাহানির হাত থেকে এক রমণীকে বাঁচায় সেই যুবতী। এরপর একাই লড়াই চালাতে থাকে উত্যক্তকারীদের বিরুদ্ধে। একসময় নিজের পরিবার, প্রেমিক এমনকি ভিক্টিম পর্যন্ত পিছু হাটতে চায় মানসম্মানের ভয়ে, কিন্তু লড়াই ছাড়ে না সেই সাহসী তরুণী। সে কি পারবে আইনগত উপায়ে এই যুদ্ধে জিততে?
দহন বইটা যতই পড়েছি ততই মুগ্ধ হয়েছি। কি সাবলীল গল্প বলার ধরন! কি অসাধারণ লেখনশৈলী! সেইসাথে দুর্দান্ত উপমার ব্যবহার! সবকিছু ভেসে উঠছিল চোখের সামনে। একইসাথে স্বাধীনচেতা নারীদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি, সম্পর্কের টানাপোড়ন, নিয়ম ভাঙতে চাওয়ার লড়াই দারুণভাবে দেখিয়েছেন লেখিকা। পড়ার সময় মনে হবে গল্পটা আমাদের খুবই পরিচিত। সবার জন্য মাস্টরিড একটা বই। এককথায় মাস্টারপিস। আমার পড়া বছরের অন্যতম সেরা বইয়ের কাতারেই থাকবে।
আমি তিনদিন আগেও তর্ক করেছি বন্ধুদের সঙ্গে। অমুক রাজনৈতিক নেত্রীকে যদি সরিয়ে দেওয়া হয় তাহলে তমুক রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসার সুযোগ পেয়ে যাবে। অমুকের চেয়ে তমুক তো আরো বেশি ক্ষতিকর! রাত দখলের মিছিল করার কি আদৌ কোনো প্রয়োজন ছিল? বাজারে এতো গুজব ছড়াচ্ছে কারা? কী উদ্দেশ্যে? মেয়েটির হাত নাকি চেপে ধরে রেখেছিল আরেকটি মেয়ে (অর্থাৎ আরেকবার প্রমাণিত হলো যে মেয়েরাই মেয়েদের শত্রু)। তথ্যপ্রমাণ ছাড়া কোনোকিছু মেনে নিতে রাজি নই আমি। আমি তো মূলত একটি অরাজনৈতিক প্রাণী, তাই আমার চিন্তাভাবনা নির্মোহ। ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি।
কিন্তু এটা মেনে নিতে দ্বিধা নেই যে বুকের ভিতরে কেউ একজন হাতুড়ি পিটিয়ে যাচ্ছিল ক্রমাগত। সমস্ত রাজনৈতিক তরজা আর লাভ-ক্ষতির হিসেবের বাইরে সেই হাতুড়ির দুম দুম দুম শব্দ শয়নে স্বপনে জাগরণে শুনতে পারছিলাম আমি। ধর্ষণের যেটুকু বর্ণনা, অত্যাচারিতার প্রাণহীন শরীরের যেটুকু বিবরণ, পোস্ট-মর্টেম ঘরের পিচ্ছিল দেয়াল ভেদ করে বাইরে এসেছে, নীতি-আদর্শের ছাল-বাকলা ছাড়িয়ে আমার তর্ক আর যুক্তিগুলো ক্রমশ অর্থহীন হয়ে যাচ্ছিল। ঘরে বাইরে অফিসে বাজারে সদরে অন্দরে আমি শুধু কল্পনা করার চেষ্টা করে গেছি, ওই জায়গায় আমি নিজে থাকলে ঠিক কেমন লাগতো? তার জায়গায় আমি শুয়ে থাকলে? ধরা যাক আমার পা দুটোকে কেউ...
আমার পক্ষে সম্ভব নয় যদিও, এই চিন্তাকে পূর্ণতা দেওয়া। আমার পৌরাণিক যৌনাঙ্গটি বাধা সৃষ্টি করে নিজেকে একজন নারীরূপে কল্পনা করতে। আমি কিছুতেই নিজেকে নিচে-শুয়ে-থাকা-অবস্থায় কল্পনা করতে পারিনা। আমি তো পুরুষ। আমি ভালোবাসতে পারি, কিংবা ধর্ষণ করতে পারি, কিন্তু কখনোই নিচে শুয়ে থাকতে পারিনা। আমি তো পুরুষ। প্রেম কিংবা প্রয়োজন কিংবা পৌরুষপ্রদর্শন— আমি সবসময়ই উপরে থাকি।
তাই নিচে শুয়ে থাকার, শারীরিক কিংবা মানসিকভাবে ছিন্নভিন্ন হওয়ার, বাসে ট্রেনে ভিড়ের মাঝে অশ্লীল স্পর্শলাভ করার, পথে ঘাটে ইভ-টিজড হওয়ার, কর্মক্ষেত্রে উপরওয়ালার অবাঞ্ছিত অস্বস্তিকর "অ্যাটেনশন" সামলানোর, নিজের স্বাভাবিক জৈবিক শরীরী আকাঙ্ক্ষার উন্মোচনে "বেশ্যা" খেতাব লাভ করার, স্বামীর দ্বারা যথেচ্ছ ব্যবহৃত হওয়ার জন্য "বিবাহ" নামক লাইসেন্স প্রদান করার, পারিবারিক সদস্যের দ্বারা যৌনলাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনাকে লোকলজ্জার ভয়ে সারাজীবন গোপন রাখতে বাধ্য হওয়া, সমাজের তুলাদণ্ডে নিজেকে প্রতিনিয়ত পুরুষের বাটখারায় মাপতে বাধ্য হওয়া— এই সবকিছু সবকিছু সবকিছু জানতে হলে আমাকে তাকিয়ে থাকতে হয় একজন সুচিত্রা ভট্টাচার্যের দিকে, একজন আশাপূর্ণা দেবীর দিকে, একজন মহাশ্বেতা দেবীর দিকে, একজন ইসমাত চুঘতাইয়ের দিকে, একজন সিলভিয়া প্লাথের দিকে, একজন জেন অস্টেনের দিকে। কোনো পুরুষ লেখক (যতোই শক্তিশালী হোক না তাঁর কলম) নিজের পুরুষাঙ্গের বিপুল ওজন উপেক্ষা করে কিছুতেই বিশ্বাসযোগ্যভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারেন না মেয়েদের যাপনচিত্রের যাবতীয় বে-দাগ বে-রং বে-জুবান কালার-কম্বিনেশনগুলোকে। একজনও না!
তাহলে আমার মতো কল্পনাশক্তির অ্যানিমিয়ায় ভোগা মানুষের পক্ষে কীভাবে সম্ভব সেই মেয়েটির জায়গায় নিজেকে চিন্তা করা? কীভাবে চিন্তা করবো একজন মেয়েকে যখন টালিগঞ্জ মেট্রো স্টেশনের সামনে ভরসন্ধ্যেবেলায় শত শত মানুষের চলমান দৃষ্টির সামনে শারীরিকভাবে লাঞ্ছনা করা হয়? কী চলে তখন সেই নারীটির মনে? ঝড়? সাইক্লোন? বন্যা? নাকি ধ্বস? নাকি শূন্যতা? এই অপমানের সমতুল্য কিছুই তো খুঁজে পাইনা নিজের জীবনে। পাশাপাশি রেখে বিচার করার মতো কিছুই খুঁজে পাইনা! সুচিত্রা ভট্টাচার্য লিখে না গেলে এই পাহাড়প্রমাণ অপমানের অস্তিত্বই থাকতো না আমার চেতনায়।
আজ যখন ঘটে গেছে আরেকটা পাহাড়প্রমাণ অপমানের ঘটনা (যেটা আবারও আমার কাছে দুর্বোধ্য মনে হচ্ছে, কারণ আমি কিছুতেই নিজেকে তার জায়গায় কল্পনা করতে পারছি না), কলেজজীবনে হোস্টেলে বন্ধুদের সঙ্গে মধ্যরাত্রে বসে বিস্ফারিত চোখে দেখা পর্নোগ্রাফিগুলো আমাকে ধিক্কার জানাচ্ছে। রাস্তা ঘাটে উপভোগের দৃষ্টিতে কতোই তো দেখেছি নারীশরীরের সৌন্দর্য, আজ তারা বুমেরাংয়ের মতো আমাকে প্রত্যাঘাত করে যাচ্ছে। কতোই তো নারীইঙ্গিতবাহী গালি দিয়েছি জীবনে (কারণ নারীর অনুষঙ্গ জড়িয়ে না-থাকলে খিস্তি মেরে সুখ পাওয়া যায় না)— মাদারচোদ, বাঞ্চোত, খানকিমাগী, চুতমারানি, গুদমারানি— কিংবা আরো "পরিশীলিত" (কারণ ভাষা ইংরিজি)— মাদারফাকার, সান অভ আ বিচ।
সেই যাবতীয় গালিগালাজ আজ আমার দিকে ধেয়ে আসছে দশগুণ তীব্রতায়। আমার যাবতীয় রাজনৈতিক আর সামাজিক তর্ক আর যুক্তি আর বিচার আর প্রজ্ঞাকে ন্যাতানো বিস্কুটের মতো মনে হচ্ছে। কারণ পুরুষ হিসেবে আমি নাকি অনেক কিছু করতে পারি, যেহেতু আমার আছে অসীম ক্ষমতাবান একটি পুংলিঙ্গ। এই পৃথিবী নাকি পুরুষের। বীরভোগ্যা বসুন্ধরা! ("বসুন্ধরা" একটি স্ত্রীলিঙ্গবাচক শব্দ, সুতরাং বীর মানেই পুরুষ— "বীরপুরুষ"! আর ভীতুরা সবাই "pussy"!) আমি নাকি সব পারি কিন্তু কিছুতেই একটা নারীর জায়গায় রেখে নিজেকে কল্পনা করতে পারিনা। গত পাঁচ দিন ধরে চেষ্টা করেও পারছি না। কোনোদিন পারবো না। আজকে সকালে দৈনিক পত্রিকার পৃষ্ঠায় দেখলাম আমার এই আজন্মলালিত পৌরুষের প্রতি লিখেছেন গায়ক-সাংবাদিক অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় : যদি একজন্ম-দুইজন্ম বলে কিছু থাকে, তবে যেন পরজন্মে কুকুর হয়ে জন্মাই। যেন চেরা কামুক জিভ হয় আমার, যেন নির্বীর্য, পঙ্গু হয় শিশ্নদণ্ডটি। নারীজন্মের অপমান যেন গিলে খায় পুরীষ পুরুষজন্মকে। যে-অহংকার পুরুষাঙ্গ দিয়েছে আমাকে, সে যেন মাথা তুলে আর দেখতে না পায় এই তপ্ত তমসার ভুবনকে।
যদি বলি পুরুষ হিসেবে আজকে আমার লজ্জা লাগছে— আমার এই ঢঙের লজ্জা ধুয়ে কি জল খাবে সেই মেয়েটি! সেই মেয়েরা! সব মেয়েরা!
ঋতুপর্ণ ঘোষের "দহন" সিনেমাটা দেখেছি বহু বছর আগে।গল্প তো পুরোটাই জানি,এতোদিন পরে বইটা পড়তে যেয়ে তবুও রেখে দিয়েছিলাম মাঝপথে।অনেকটা বাধ্য হয়েই।এই কাহিনির ভদ্রলোক কুশ��লব যে আমরা নিজেরাই!!!নিজেদের এই পরাজিত,বীভৎস,খল সামাজিক চেহারা কি এতো সহজে সহ্য করা যায়? সুচিত্রার প্রধান কৃতিত্ব, ঠিক যেভাবে লিখলে জায়গামতো আঘাত হানা যাবে,ঠিক যেভাবে বললে মানুষ অস্বস্তিতে পড়বে,নিজেকে প্রশ্ন করবে,নিজের বিবেকের সম্মুখীন হবে-ঠিক সেভাবে তিনি সোজাসাপ্টা গল্প লিখেছেন।
ঘটে না এসব?ঠিক ঘটে যায়!!কথা হচ্ছে,"লেখাপড়া শেখানো হয়েছে,চাকরি করতে দেওয়া হয়েছে,তাতেই কি তুমি পুরুষমানুষের সমান হয়ে গেলে নাকি?" কথা হচ্ছে,"কে বলেছে সে পুরুষমানুষের সমান হতে চায়?কক্ষনও না।সে একটা মানুষ হতে চায়।" আর "মেয়েমানুষ" যখন "মানুষ" হতে চায়,সমাজ সেটা মানবে কেন?সমাজের একটা মানসম্মান আছে না?!!
অনেক দিন পরে 'দহন'টা নিয়ে আবার বসলাম। কিছু কিছু উপন্যাস হয় না, যেগুলো পড়লে মন ভালো হয় না ঠিকই, কিন্তু পড়লে মনকে ঝাঁকুনি দিয়ে যায়; চঞ্চল উদোমাদা মনকে ধরে বেঁধে ভাবতে বসায়। 'দহন' সেরকম একটা বই। নারী স্বাধীনতা, নারীত্ব, সমাজে নারীর অবস্থান - সব ভারী ভারী শব্দ, ক্ল্পনার জালে বোনা ঘটনা ও চেনা পরিস্থিতির মাধ্যমে ভাবতে, বুঝতে শেখায়। টালিগঞ্জ মেট্রো স্টেশনের চত্বরে এক গৃহবধূকে এক সাহসী যুবতী শ্লীলতাহানীর হাত থেকে একলা বাঁচায়। আপাতদৃষ্টিতে 'দহন' উপন্যাসের কেন্দ্রবিন্দু এই ঘটনা। আপাতদৃষ্টিতে বলছি কারণ ১৭৪ পাতার এই বইয়ের প্রথম ৩০ পাতাতেই এই ঘটনার বিবরণ শেষ হয়ে যায়, পরের পাতাগুলি জুড়ে থাকে এই দুই নারীর জীবনের টানাপোড়েন।
দহন এর প্রধান দুই নারী চরিত্র - শ্লীলতাহানীর শিকার রমিতা ও তাকে বাঁচাতে গুণ্ডাদের বিরুদ্ধে মরিয়া লড়াই করা ঝিনুক - কেউই কিন্তু আদর্শ চরিত্র নয়। রমিতা অপূর্ব সুন্দরী, আর সে ব্যাপারে সে সচেতন। তার দিদি তার চেয়ে কম সুন্দরী হয়েও 'বিয়ের বাজারে' বেশি ভালো বর জুটিয়ে ফেলায় কোথায় যেন এক মৃদু আক্ষেপ রয়ে গেছে। পলাশের সাথে রমিতার ছ মাস বিয়ে হয়েছে, মানিয়ে গুছিয়ে নেওয়ার পালা শেষ হতে না হতেই তার জীবন এক ক্ষণিকের ঝড়ে উথালপাতাল। নিখুঁত সুন্দরী থেকে খুঁত ধরে যাওয়া নারী। আড়ালে আবডালে তাকে নিয়ে কথা, কুটিল হাসির সাথে সহানুভূতিসূচক চুক চুক শব্দ।তার শ্লীলতাহানীর দায়ে যে যুবকেরা গ্রেপ্তার হয়, সবাই সমাজের উচ্চশ্রেণীর মানুষ, দু সপ্তাহে জামিন পেয়ে যায়। আর মাসের পর মাস শ্লীলতাহানীর শিকার রমিতা ভয়ে, অপমানে কাঁটা হয়ে থাকে। তার লজ্জার ভাগীদার তার স্বামী নিজের নিষ্ফল আক্রোশ তার শরীরের ওপর মেটায়।
এই ঘটনার সঙ্গে ওত্প্রোত ভাবে জড়িয়ে পরে আর এক নারীর জীবন - শ্রবণা সরকার ওরফে ঝিনুক। সংবাদপত্রে তাকে নিয়ে লেখালেখি হয়, আত্মীয়স্বজন বন্ধু মহলে সাড়া পরে যায়। ঝিনুক আনন্দে উৎফুল্ল, আর সাধারণ পাঁচটা মেয়ের মতনই গর্ব হয় - এতো দিনে তার নাম হয়েছে, এতো দিনে সে কিছু করে দেখিয়েছে।কিন্তু এ আনন্দ ক্ষণিকের জন্য, এ গর্ব ক্ষণিকের জন্য।সমাজ প্রথম প্রথম হাততালি দেয়, বাহবা দেয়, তবে তা কিছু দিনের জন্যে। পুরুষালী, ব্যাটা ছেলের বাপ, - লড়াকু ঝিনুকের মেয়েলিত্ব, নারীত্ব নিয়েই যেন প্রশ্ন উঠতে থাকে। "তুমি পুরুষ মানুষের সমান হয়ে গেলে নাকি?" - নিজের মায়ের প্রশ্নবাণ ছুটে আসে। ঝিনুকের বিদ্রোহী মন চিৎকার ওঠে - না, "সে একটা মানুষ হতে চায়, পুরো মানুষ।"
সত্যিই কী মেয়েরা স্বাধীন? না এই স্বাধীনতা মরীচিকা মাত্র? অচেনা যুবককে শ্লীলতাহানীর দায়ে কাঠগড়া অবধি টেনে আনা যায়, কিন্তু রাতের অন্ধকারে প্রভুত্ব দাবী করে যে স্বামী, তাকে কী কোনদিন প্রকাশ্যে কাঠগড়ায় নারী দাঁড় করাতে পারবে? 'দহন' অনেক প্রশ্ন তোলে। যার উত্তর নারী আজও খুঁজে বেড়াচ্ছে।
দহন। বর্তমান সমাজে একটা চিত্র বলা যায় বইটাকে। এত আধুনিক হওয়ার পরেও আমরা নারীদের সম্মান দিতে শিখি নি। তাদের স্বাধীনতা দিতে শিখি নি। নারীদের এখনো মনে করি সমাজের বোঝা। অথচ যুগ যুগ ধরে এই নারীরাই মানব সমাজের অস্তিত্ব রক্ষা করে আসছে। এত আধুনিক সময়ে এসে একটা নারী কেন টিপ পড়েছে তার কৈফিয়ত খুঁজে পুরুষ, এই হলো আমার সমাজ। দহন উপন্যাসে লেখিকা আমাদের এই বিচ্ছিরি সমাজে নারীর সংগ্রাম দেখিয়েছেন,সাথে সাথে সমাজের কালো রুপটাও!
সত্য ঘটনার ভিত্তি লেখা উপন্যাস দহন সম্পর্কে অনেক ভালো রিভিউ পেয়েছিলাম। কিন্তু এই বইটা শেষ করতে আমার ভালোই বেগ পেতে হয়েছে। একদম মন্থর গতিতে এগিয়েছে বই। অর্ধেক শেষ করার পর সংলাপ বা চরিত্রের কথোপকথনগুলো মনে হচ্ছে " জি বাংলা, স্টার জলসার" সিরিয়ালের মতো। যাই হোক,শেষ করেছি। মোটামুটি লেগেছে বইটা।
খেয়াল করলে দেখবেন, চারাগাছ রোপণ করার সময়,বাচ্চা গাছটার সাথে একটা ঢ্যাঙা লাঠি পুঁতে দেয়া হয়। এই লাঠি পুঁতে দেয়ার মতলব হইলো,বাচ্চা গাছ যেটা আজকে রোপণ করা হলো,সে যেন ঐ ঢ্যাঙা লাঠির মত সিধা হয়।
আমাদের সমাজ যখন বাচ্চা ছিল,রেণু ছিল,তখন-ই এটা বিগড়ে দেয়া হয়েছে! ঢ্যাঙা হয়ত কালে কালে অনেকেই এসেছিলেন,কিন্তু শক্ত পোক্ত ভাবে কেউ ই সমাজকে কালিমা মুক্ত করতে পারেনি! বরং কালের বিবর্তনে এই সমাজের উপর নতুন করে কালির স্থর জমেছে!! সমাজ দূষিত,বিষাক্ত হয়েছে আগের চেয়ে বেশি!
এই তথাকথিত সমাজে শুরু থেকে হয়ে আসা সবচে বড় ঘৃণ্য ব্যাপার হইলো, নারী জাত টা কে "এলেবেলে" বা ধাতব্যের মধ্যে না ধরার প্রবণতা! আর সব কিছু পুরুষালি মার্কের মধ্যে রেখে যাচাই করা। "
"দহন" আমাদের কালিমাময় সমাজের রূপটা প্রকাশ করেছে। ঝিনুক আমাদের সমাজের সেই ক্ষুদ্র অংশটা বা প্রায় নেই বললেও চলে এমন অংশ,যারা আজীবন চেষ্টা করে চলেছে,সমাজটাকে একটু বদলানোর! নারীদের বিশ্বাস করাতে যে,তারাও মানুষ, তারা অবাঞ্ছিত কোন অংশ নয়। কিন্তু এই পুরুষ শাসিত সমাজে ঝিনুকেরা পুরোপুরি এটে উঠে না। এটা সম্ভব না আসলে! সমাজ পরিবর্তন আর নারী মুক্তির জন্য দরকার পুরো দেশের পরিবর্তন আর মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন এবং পরিবর্ধন।
আমার খুব কাছের বইগুলোর মধ্যে আরেকটা বই যুক্ত হলো,সেটা "দহন"। এই বইয়ের কাছে আমি বার বার ফিরে আসব। আমার খুব আফসোস হচ্ছে আমি সূচিত্রা ভট্টাচার্যের গুটিকয়েক " মিতিনমাসি" ছাড়া কিছু পড়ি নি,এত চমৎকার লিখতেন মানুষ টা। আহ্। আর "দহন" এমন একটা বই, যার বর্ননা মুখে দেয়া সম্ভব না,এই বইটা "পাঠ্য বই" এর মত ধরে ধরে পড়ানো উচিত!
এক ব্রাহ্মণ জঙ্গলের লতাপাতায় পা জড়িয়ে কুয়োতে পড়ে গেছে। কুয়োর মুখে একটা পাগলা হাতি দাঁড়িয়ে। নিচে এক বিষধর সাপ। ফণা তুলে ফোঁস ফোঁস করছে সাপটা। ব্রাহ্মণের পা ওপরে মাথা নিচে। ঝুলছে। যে লতা জড়িয়ে ঝুলছে সে লতার গোড়াটাও ঘষঘষ করে কাটছে একটা ইঁদুর। লতায় অজস্র ফুল৷ ফুলভরা শাখায় মৌচাক। সেখানে ঝাঁক ঝাঁক মৌমাছি উড়ছে। ওই ভয়ঙ্কর দশাতেও লোকটার মুখে মৌচাক থেকে ফোঁটা ফোঁটা মধু ঝরে পড়ছে। কী আশ্চর্য, এক্ষুনি মরবে তবু লোক���ার তৃষ্ণার শেষ নেই! এক ফোঁটা মধু পড়ে মুখে, তৃষ্ণা আরও বাড়ে। জীবন হল ওইরকমই। ফোঁটা ফোঁটা মধুর লোভেই আমাদের বেঁচে থাকা। - দহন, সুচিত্রা ভট্টাচার্য
বাংলা সাহিত্যে যে কয়জন নারী ঔপন্যাসিককে সামনের কাতারে রাখি সুচিত্রা ভট্টাচার্য তাদের মধ্যে একজন। উনার মিতিন মাসী সিরিজের বইগুলো দিয়ে শুরু করেছিলাম। এরপর একে একে সামাজিক উপন্যাসগুলো পড়া শুরু করেছি। বাদ যায়নি ছোট গল্প সংকলনের বইগুলোও।
দহন বইটা পড়তে শুরু করেছিলাম বেশ আগে থেকেই। ১৭৫ পৃষ্ঠার বই এক বসাতে শেষ করা গেলেও আমি পড়েছি বেশ ধীরে ধীরে। কিছু কিছু বই আস্তে ধীরে সময় নিয়ে পড়তে ভালো লাগে। এই বইখানাও ঠিক তেমনি। গল্পের শেষটায় এসে কি অদ্ভুত ভাবে মনটা দুমড়ে মুচড়ে দিলো! এর রেশ থেকে যাবে অনেকদিন।
শুধু কিছুমাত্র সূক্ষ্ম অনুভূতির দোরগোড়া ছুঁয়ে ফেলতে পারলে একটা বই পাঠকের মনে অমর হয়ে থাকে। এই বইটাও ঠিক তেমনই। একটা সত্য ঘটনাকে খবরের কাগজের চাঞ্চল্যকর খবর থেকে আমাদের কাছে একজন মানুষের সংগ্রামের গল্প হিসেবে তুলে ধরেছেন লেখিকা। ঋতুপর্ণ ঘোষের নির্দেশনায় 'দহন' সিনেমা প্রথমে দেখেছিলাম, মুগ্ধ হয়েছিলাম তার চিন্তাজগতের সৌন্দর্যে, তারপর বইটা পড়া। আর এই প্রথম হয়তো বইয়ের পাতা থেকে উঠে আসা কোনো চলচ্চিত্র দেখে হতাশ হতে হয়নি।
Keeping aside the part that the kindle version of the translated book actually seemed like a first draft with a lotta typos and spelling mistakes and other errors whatsoever... This book addresses what an average Indian thinks and feels(be it a man or a woman) . The author has explored the ideas of the thought process of a middle class Indian and brought it out beautifully.. The story line was relatable and towards the end I did feel a growing resentment towards everything in general because it really spoke out everything that I have thought and questioned over countless times and also showcased the replies we usually end up getting from our parents or significant other.
When everything is done in the name of love and every step of the way is a compromise to one cause or the other.. there are many of us who turn a blind eye to whatever happens right in fromt of us... even if its to one of our own.. The stigma of being “maimed” by the acts of others and the constant need to hide behind the statement “what will others say... what will they think” , leads even the best of us to do things we never thought we would....
I sincerely hope that the next edition comes with all errors rectified because it is a good read.
It's not everyday, that you get to read a great book, let alone a phenomenal one. My friend, Shoileyee has made me a list of bengali books, which have extraordinary titles. However, I picked up this book, 'Dahan' by Suchitra Bhattacharya from that list and utterly moved by the story. My friend surely has a great taste, that deserves much appraisal.
'Dahan' is a story of a brave woman, Jhinuk, who rescued a homemaker, Romita from being raped at the Metro Station, Kolkata. Not only there, she stopped but fought till the end for that woman's right to get justice, however she could not get it as women are always a victim of the shackles of 'sanskars' of the society. In here too, we see that brave woman to challenge the normative ideas of feminine values in a society, as well as pictured how essential is it to give the long-due respect, women deserve. Otherwise, women like Romita would have to remain silent through ages, withstanding the bruises on her body, mind and dignity.
This is a book about lives of women in India, or rather the side which most people don't see and mostly, plainly ignore and take for granted. This is a story on things that everyone thinks but doesn't talk about. The story in itself is good.
The ratings and hype around this book was phenomenal and is one of the widely read Bengali books and honestly, that was the only reason I had to even finish it.
The translation of the book was simply terrible. It clearly was the first draft of the translator that made it into print. It was really saddening to see a powerful story fall prey to unthinkably bad translation.
I do understand that translations aren't easy, but when you have sentences in English which just don't make sense and spelling mistakes every two paragraphs and sentences printed twice all over the book it just sucks the joy of reading. There were sentences whose subjects didn't even agree with the verbs, in some cases because subjects were missing in the sentences. The editing was abysmal! *If it was even **edited*** that is.
Coming to the story, it did touch up on a lot of social stigmas that prevail in the society. It talks mainly on how the honour of a family trumps over rights of a woman to seek justice and forces women (even in educated sections) to take a step back from standing up for themselves and asks the imortant questions on what does *manly* and *womanly* mean in the society where people expect women to have unquestionable loyalty and lack self confidence.
I really believe that I could take back much more from the story if only it were translated properly. I can actually feel sad how a great piece of literature is ruined by careless editing.
The story being good I would recommend this book to anyone who can read Bengali to take it up. Anyone else, better stay away until a better translation is found. I would rate this book a 1/5 for the super bad translation. I would give the story a 3/5 based on what I could assume based on whatever I could take back from the book.
বই পড়ে তার ছায়া থেকে নির্মিত সিনেমা এর আগে অনেকবার দেখে থাকলেও, সিনেমা দেখে মূল বইয়ে ডুব মারা এই প্রথম। এই উপন্যাস থেকে ঋতুপর্ণ ঘোষ বানিয়ে গিয়েছেন এক অসাধারণ ম্যাজিক, যেটা দেখার পর নিজের জীবনে ফিরতে ঢের সময় লেগেছিলো।অদ্ভুত এই সমাজের গায়ে দেয়া নোংরা পর্দা কেমন হেসেখেলে খুলে ফেললেন লেখক ও পরিচালক দুজন মিলেই, সাবলীল ভাষায় বুঝিয়ে দিলেন যা তুমি দেখো, যা তুমি বোঝো- পাশার দান পাল্টালে জানা বোঝাটা খাপছাড়া হয়ে যাবে। যাই হোক,'কাছের মানুষ', 'অন্য বসন্ত', 'আমি রাইকিশোরী' এর মতো চমৎকার সব উপন্যাসের পর লেখক আমাকে এবারও নিরাশ করেননি। কাহিনী আগে থেকে জানা থাকবার পরও সুচিত্রা নামের নেশা ঠিকই আষ্টেপৃষ্ঠে লেগে ছিলো <3
আমার লাস্ট রিড "যাও পাখি" তে মেয়েছেলে মেয়েছেলে শুনতে শুনতে কেমন বিষন্ন লেগেছিলো,আসলেও কি তাই? প্রকৃতি আমাদের তৈরি করেছেই কোমল মাটি দিয়ে? যে মাটিতে শুধুই এক বিশেষ আদল আসে? এর বাইরের কোনো আদল নিতে চাইলেই আমরা কেমন জানি ব্যাটাছেলে হয়ে যাই? হতাশ লাগে খুব। যাও পাখি তে যা কিছু খারাপ লাগা ছিলো,দহন এ তা ভস্ম হয়েছে বটেই,কিন্তু শেষে এসে আবার সেই বিষন্ন-ই লাগলো। প্রকৃতি বুঝি আর কেউ নই,এই পুরুষ শাসিত সমাজ-ই। তারাই কুমারের মত আমাদের আদল নির্ধারিত করে,তারাই সে আদল আগুনে জ্বালায়-পোড়ায়-ঝলসায়।নিত্যদিন দহন সয়েও ঠিক কেমন টিকে যাই।
দহন যতটা না উপন্যাস তারচেয়ে অনেক বেশি আমার মনে চেপে থাকা অনুভূতি। লেখিকার কলমে আমার মনের কথাগুলোই যেন অভিব্যক্ত হয়েছে। একটা মেয়ে পুরুষের সমান হতে কাতর না বরং একজন পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে বাঁচতে চায়। কিন্তু নারী নামের বলয়ে আটকে রাখাই পুরুষশাসিত সমাজের আনন্দ। এতদিন কেন এই বই পড়িনি ভেবে আফসোস হচ্ছে ভীষণ।
The original was published a few decades ago, and I remember reading it long back (I am uncertain if I read it before '80 or after '90, which is unimportant except to fix a timeline for the shelf), it made a vivid impression. Dahan literally translates as burning and would normally indicate a story about a woman being burnt alive, but I am uncertain if that actually occurs although my impression is it is either so or worse. Either way, there is much horror, depicted through a young woman that went through much including being gang-raped in the middle of a street, and another one that attempted to help and the horror it brought to her own life.
The city where it all happened witnessed much in terms of a horror in public several times, majorly during what is known as the Naxal (extreme left terror groups) era of sixties and seventies, which was to overshadow even the horrendous massacres of '46 and dim the memory of the so called Bengal famine which reallly was - like the famine of Ireland before that - an appropriation of harvests of the lands by the ruling for the soldiers, resulting in several hundred thousand dead of starvation in Bengal.
This story belongs to the Naxal era if I am not mistaken, when the supposed ideals of left - equality, fraternity - often took a back seat to the goons that ruled the roost and neither women nor middle class were entirely safe as they normally are or at least perceived to be more so under better circumstances.
For that matter the "party" generally followed either of the two major communist nation's diktat, depending on the faction, and several "intellectuals" proudly declared themselves convinced of superiority of Mao over the way their own nation took, of consent and freedom rather than enforced ideology.
It was quite obvious even then that it was an attempt by a neighbour country to take over the nation if possible without sending anything more than pamphlets that would turn young heads. The about turn by the nation they then aspired to emulate has left the movement, the party, the young and the now not so young a bit confused, a bit embarrassed, and turned the naxals into mostly highway robbers with a few ideologues fighting feudal remnants in the few states where history has not washed away the feudal system so firmly established by the various colonial rulers.
The terror of the general times compounds with a goon-dominated street terror atmosphere and further adds to a general pervasive culture where normal middle class families, including men, are afraid for their lives and those of their own near and dear. And hence the whole street being unable to testify to the goons burning a young woman alive after rape, while the sole witness woman is turtured deeply within even as her own family attempts to dissuade her from making her witnessing the horror known.
While it is tempting to sum up this work as another example of a male dominated society, that would be belittling the work apart from a critique that is incorrect at the very least, showing a lack of perception and judgement; or possibly much worse, hypocrisy or dishonesty at a grave level.
Because a society that is old fashioned or conservative or male dominated - or as usually is all of the above - does not easily tolerate a violation of a woman by strangers. Such a toleration generally shows a lack of virility of males of the neighbourhood, the clan, the social setting the said woman belonged to. This is a direct result of the idea that a woman is a possession, not a person in her own right.
So a society that does tolerate this, or fails to protect or even avenge the woman, it in fact might be a modern society where people are in fact alienated and selfish in that they would rather not risk their own security; and when it is - as it is this story - worse, fails even to seek justice for fear, it amounts to a society paralysed by fear of the goons, the internal terrorist elements within the society. It could be fascist, or it could be terror by another self proclaimed label. Labels are less important when your lives are at stake, and goons are free to do as they please.
When terror reigns at street level, and acid along with other weapons are used freely, the prudent keep their own counsel until better times prevail. Then again, someone - or more than one - has to step forth and strike a determined blow at the terror or it would never go away.
১৯৯৬-এ প্রথম প্রকাশিত হয় 'দহন'। স্বভাবতই উপন্যাসে দেখা যায় তৎকালীন সমাজের প্রতিচ্ছবি। আক্ষেপের ব্যাপার এই যে, আজ ২০১৮-তে এসে দাঁড়িয়েছে শহর, দেশ, মাঝে দু'দশকের ও বেশী সময় অতিক্রান্ত, অথচ মেয়েদের পরিস্থিতিটা কম-বেশী একইরকম রয়ে গেছে। প্রথম প্রকাশের বিশ বছর পরেও তাই এই উপন্যাস ভীষণভাবে প্রাসঙ্গিক।
কলকাতা শহরেরই বুকে ঝড়বৃষ্টির এক রাতে চারজন যুবকের অভব্যতার শিকার হয় সম্ভ্রান্ত, বনেদি পরিবারের গৃহবধূ রমিতা। স্বামী পলাশ সাথে থাকলেও চারজনের ওই অতর্কিত আক্রমণের সামনে পড়ে বিশেষ কিছু করে উঠতে পারেনা। পথচলতি মানুষ যখন স্রেফ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে, শুধুমাত্র একজন এগিয়ে আসে রমিতাকে বাঁঁচাতে। বেপরোয়া ভাবে কোনোকিছুর তোয়াক্কা না করে মেয়েটির সম্মান রক্ষার আপ্রাণ চেষ্টা করে যায় ঝিনুক নামের এক তরুণী। সেই রাতে থানায় এফ. আই. আর. দায়ের হয় ওই চার যুবকের বিরূদ্ধে - তাও ঝিনুকেরই উদ্যোগে। পরের ঘটনাবলী একেবারেই ছকে বাঁধা। প্রাথমিক কিছু বাহবা, অভিনন্দন জুটলেও শেষ পর্যন্ত প্রতিবাদী ঝিনুকের কপালে জোটে একগুঁয়ে, জেদী, পুরুষালী ইত্যাদি বিভিন্ন তকমা। কিন্তু ঘরে বাইরে শত বিরোধ সত্বেও সে অচল থাকে নিজের আদর্শে, কর্তব্যবোধে। দুঃখের বিষয় এই যে তার এই লড়াইয়ে সে পাশে পায়না কোনো প্রিয়জনকে, এমনকি তার প্রাণের মানুষটিকেও নয়। অন্যদিকে পরিবারের সম্মান রক্ষার দায় আর দোষীদের শাস্তি পেতে দেখার ইচ্ছার মধ্যে তীব্র টানাপোড়েনে জেরবার হতে থাকে রমিতা। তার অপমানের থেকে অনেক বেশী বড় হয়ে দাঁড়ায় পরিবারের ঠুনকো আভিজাত্য তার স্বামী, পরিজনের কাছে।
বই পড়ে তার রিভিউ লিখতে বসলে প্রথমেই বোধহয় লিখতে হয় কেমন লেগেছে বইখানা। এ বই পড়ে কিন্তু ভালো লাগে না, মন ভালো হয়না এতটুকু, কারণ ভালোলাগার রসদ এতে ভীষণরকম সীমিত। রাগ হয়, ঘৃণা হয়, কিছুক্ষেত্রে হাসি অবধি পায় পড়তে গিয়ে কিন্তু সর্বোপরি সব আক্রোশ ছাপিয়ে তীব্র এক অসহায়তা, এক গভীর বিষাদ গ্রাস করে মনকে। ঝিনুকের হার না মানার মানসিকতাটুকু মনকে ছুঁয়ে যায়। শরত ঘোষালের চরিত্রটি ভালোলাগার জন্ম দেয় মনে। আর অদ্ভুত ভাবে মনে দাগ কাটে মৃণালিনীর চরিত্র। সর্বোপরি উপন্যাসের প্রতিটা চরিত্র বাস্তবের পৃথিবীর, চারপাশে প্রতিনিয়ত দেখা মানুষগুলোর সাথে তাদের হুবহু মিল, তাই ঘটনাপ্রেক্ষিত বা চরিত্রদের সাথে নিজের জগতকে মেলাতে অসুবিধা হয়না এতটুকু। সেখানেই বোধহয় এই লেখার সবচেয়ে বড় সার্থকতা। আর সার্থক তখন যদি এই বই পড়ে কেউ প্রতিবাদের ভাষাটুকু খুঁজে পায়, লড়াই করার মনের জোরটুকু খুঁজে পায়, তা সে পায়ের তলার ভিত যতই দুর্বল হোক না কেন।
A hard-hitting, serious, thought-provoking take on how India treats (fails) her women.
Dahan is a question on the definition of Indian woman's modesty that changes as per convenience. That is why when a woman is sexually harassed, the bigger question is, "Will she get married?" and not, "Will she get justice?"
Romita is teased on the road by four goons in the presence of her husband. While he and the onlookers don't fight, Jhinuk does. Jhinuk is a young schoolteacher who not only fights the goons but goes on to file a case. This indignates Romita's husband and Jhinuk's fiance alike. Because good girls aren't supposed to go to police stations and courts.
The book, written two decades ago, is relevant even today as politicians openly blame women for rape. We are still told that good girls from good families don't speak up on men's matters. We have a long list of what makes a woman impure and most of these are perpetrated by men.
The author writes what happens in a middle-class Indian home. The conversations are extremely relatable. With very simple writing, the author asks vital questions about victim blaming. She reminds us of how the whole case revolves around Romita's honour (she is married into a so-called respectable family) and not her feelings. Nobody bothers to ask her what she wants. The book does complete justice to any topic it takes up, most of them being related to women. While reading the book, my focus wasn't on how it would end or what would transpire next; it was on the societal setting and commentary. From casual sexism thrown around to middle-class problems, the social drama is the heart of this book. It is not just about four men harassing Romita. It is about Romita's marriage, Jhinuk's upcoming marriage, careers after marriage, raising children, living with in-laws, making (or breaking) decisions and how to be a chaste women while doing it all.
The characters are impactful. Any female would find herself in Jhinuk - be it in the police station or court or at home. The book has working women characters (Indian was modernising then and "allowing" women to work) who fight two battles each - one at the workplace and another at home. The author just masters in narrating the struggles faced by women as she describes them with empathy and anger alike. Each time Jhinuk faces a dead end, we are reminded of all the injustices to women we have seen and let go, thanks to the "system."
My favorite scenes are those of Jhinuk's mother. The author, through her dialogues, conveys how she openly discriminates Jhinuk against her son and son-in-law. She would exalt the career of a man she hardly knows; Jhinuk being a schoolteacher means nothing for her. It is a subtle take on how women's jobs are often treated as hobbies while men's careers are reverred. I would suggest you eat a toffee everytime a female character in the book is told that her career is worth a trifle.
I absolutely loved this book and would recommend to anyone who wants to know the reality of an Indian woman's life.
" বলা যায় না,আমার রেজাল্ট তার থেকেও ভাল হয়ে গেলে সে মুখ দেখাবে কি করে! সেই যে আকাঙ্খাটাকে মেরে ফেলা হল,সেটা অপমান নয়?"
কাহিনি সারসংক্ষেপ: টালিগঞ্জ মেট্রো স্টেশনের চত্বরে রমিতা নামক একটি মেয়েকে চার জন ছেলে ভরা মানুষের সামনে অশ্লীল থাবা বসালো।কেউ এগিয়ে আসেনি রমিতাকে বাচাতে,উলটো সবাই তামাসা দেখতে ব্যস্ত।ঝিনুকের চোখে পরতেই ঝাপিয়ে পরলো অচেনা মেয়েটাকে বাচাতে।কোন রকমে যখন তাদের হাত থেকে বাচাতে পারলো তখন রমিতাকে নিয়ে ছুটলো পুলিশ ডায়েরি করতে।তখনো কেউ এগিয়ে আসেনি।ঝিনুক মেয়েটিকে তখনো চিনতোও না কিন্তু তার জীবনের সাথে জড়িয়ে গ���লো.....
গল্প কী এখানেই শেষ ভাবছেন?তাহলে আপনি ভুল।গল্প এখান থেকেই শুরু। রমিতা কী ন্যায় বিচার পেয়েছিল?ঝিনুক যে সাহস দেখিয়েছিল সেটা কি ধরে রাখতে পেরেছিল শেষ পর্যন্ত? সমাজ কাকে দায়ী করেছিল এই অশ্লীল কাজের জন্য? আদেও ন্যায় বিচার হয়?
পাঠপ্রতিক্রিয়া: সুচিত্রা ভট্টাচার্যের লেখা আমাকে সব সময় টানে।দহন আমাকে পুরো টা সময় ধরে রেখেছে শেষ না হওয়া পর্যন্ত।
আচ্ছা এই যে প্রতিদিন মেয়েরা পুরুষের কাছে অশ্লীল থাবার শিকার হচ্ছে সব দোষ সেইসব মেয়েদের?মেয়েরা ঘর থেকে বের হওয়া বন্ধ করে দিবে?ঘর থেকে বের হওয়া বন্ধ করলেও বুঝি এইসব থেমে থেকেছে কোনদিন?
আমার এত্ত রাগ উঠেছিল রমিতার স্বামীর আচরণ গুলায়।পুরুষ মানুষ মনে করে মেয়েদের কাজই হচ্ছে পুরুষ মানুষের প্রয়োজন মিটানো।পুরুষ যখন চাইবে তখনি মেয়েরা প্রস্তুত থাকবে,যখন বলবে বিছানায় শুয়ে যেতে হবে।তা না হলে সে স্ত্রীর দ্বায়িত্ব পালন করছে না।একটা মেয়ের মানসিক অবস্থার কথাও একবার ভেবে দেখে না।উল্টো তাকেই দোষারোপ করতে থাকে প্রতিনিয়ত। রমিতার কী অপরাধ ছিল?সে শাড়ি পড়ে বাহিরে গেছে এটা তার অপরাধ ছিল?উলটো রমিতাকে দোষ দিতে ব্যস্ত।যে ছেলে ঠিক ভুল বিচার না করে বাবা-মায়ের কথাতে উঠে আর বসে তাদের আমি সহ্য করতে পারি না একদম।
দ্বিতীয় ঝিনুক আর তূণীর শেষ দিকের কাহিনি আমি পুরো অবাক হয়েছি।আগে থেকেই বইয়ের কাহিনি কীভাবে হবে জানতাম।কারণ লেখিকার লেখার ধরণ মোটামুটি চেনা হয়েছে আমার,সে কীভাবে গল্প এগিয়ে নিতে পারে তা বুঝতে পারি।কিন্তু বইয়ের শেষ টা যেন আমার আত্নসম্মানে আঘাত করেছে পুরো।
কেন ভাই মেয়েদের কি নিজের ইচ্ছে অনিচ্ছে থাকতে নেই?বাবা-মা,আশেপাশের মানুষ বলে দিবে তার জীবন কীভাবে চলবে?তাহলে মেয়ে মানুষ কে পুতুল বলাই ঠিক আছে,আমরা পুতুল নিয়ে যেমন ইচ্ছে খেলতে পারি ঠিক তেমন মেয়েদের সাথে খেলা যায়।
শেষ টা মেনে নিতে পারিনি একদম।রাগ উঠেছে,মনে জিদ বাড়েছে কেন এমন হবে!তারপর আবার মনে হয়েছে ভুল তো কিছু লিখেনি লেখিকা,বাস্তব কি এর বাহিরে নয়?কয়টা মেয়ে নিজের ভালো টা বুঝতে পারে?মেয়েরা প্রিয় মানুষের কাছে থাকার জন্য সব আত্নমর্যাদা,আত্নসম্মান,নিজের সব, মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়।সব অপমান,অবহেলা ভুলে যায়।বাস্তব তো এমনটাই হয়,ভুল কিছুই তো ছিল না।
মেয়েরা যতই বলুক আমরা স্বাধীন হয়েছি,স্বাধীন হয়েছি,মেয়েদের স্বাধীনতা ঠিক ততটুকুই যতটুকু পুরুষ মানুষ চেয়েছে তাদের দেওয়া দরকার।এক সময় পুরুষ মানুষ চেয়েছে মেয়েরা ঘরে থাকবে তখন মেয়েরা ঘরে থেকেছে।এখন পুরুষ চায় মেয়ে বাহিরে বের হোক তাদের বিনোদনের দরকার আরো তাই আজ মেয়েরা বাহিরে বের হয়।দুনিয়াটা চলেই পুরুষ মানুষের মন অনুযায়ী,তারা চেয়েভাবে চেয়েছে মেয়েরা সেভাবেই করে গিয়েছে।এটা শুধু বুঝার উপর নির্ভর করছে কে কতটা বুঝতে পেরেছে।
বই: দহন লেখক: সুচিত্রা ভট্টাচার্য জনরা: সামাজিক প্রথম প্রকাশ: ১৯৯৮ সালে মলাট মূল্য ১৫০৳ পৃষ্ঠা সংখ্যা ১৭৪ পারসোনাল রেটিং ৫/৫
বি:দ্রঃ বইয়ের শেষ কয়েকটা পাতা,বইয়ের এন্ডিং টার জন্য আরো ৫/৫ পেতে বাধ্য।একদম দারুণ কিছু বিষয় বুঝিয়ে দিয়েছে।
বই কথন : " দ হ ন " লেখক : সুচিত্রা ভট্টাচার্য রেটিং : ৮.৯/১০
সুচিত্রা ভট্টাচার্যের লেখা আগে কখনো পড়া হয়নি । নাম শুনলেও আগে,বই এর সাথে পরিচয় এই প্রথম ।
বইয়ের কথায় আসা যাক এবার, গল্পের সূত্রাপাত টালিগঞ্জের মেট্রোস্টেশন থেকে শুরু হলেও,সূচনা কিন্তু আদিম রিপুর অভিঘাত থেকে হয়েছে। বীরাঙ্গনাদের নিয়ে এই গল্প । বিরাঙ্গনা বলতে বোঝানো হয় "বীরত্ব যে নারী অঙ্গে ধারণ করেন" । এই সমাজে যদিও এমন নারীদের যতো পিষিয়ে রাখানো যায় কাপুরুষদের জন্য ততো সুবিধা । টালিগঞ্জের মেট্রোস্টেশনে কাপুরুষদের খপ্পড়ে পড়া গৃহবধু ও তাকে বাঁচাতে আসা এক বীরাঙ্গনা। অনেক মানুষ থাকা সত্ত্বেও চার কাপুরুষের বিরুদ্ধে লড়তে হয়েছিলো এক নারীর এমনকি কোর্ট-কাছারি করতেও তার ছিলো দ্বিধাহীন সাহস। গল্পে বীরাঙ্গনা তার সাহসিকতার পর পেয়েছে অভিনন্দন । কেবল অভিনন্দন ই কি সব ছিলো ? চাওয়া ছিলো নারীর অপমানের বিচার। বিচার চাওয়ার পাঠ যখন এলো বীরাঙ্গনা টের পেলো । এই কাপুরুষতান্ত্রিক সমাজে বিচার পাওয়া কোনো কাবাডি খেলার চেয়ে কম না । যতোই এগোতে চাইবে পা টেনে পিছিয়ে আনার মানুষের অভাব ছিলো না । সাথে ছিলো লাঞ্চনা,অপমান আর বহু মাত্রায় হারানোর সংখ্যা । সবথেকে পিছুটান ছিলো গৃহবধুর । ভিক্টিমের পোশাক,বিচার চাওয়া ছিলো তার দোষ,এই সমাজের চোখে। হুমকি কিংবা ছিলো সমাজের দোহাই ছিলো এই গল্পের সবচেয়ে বড় পিছুটান । নিজের কাছের মানুষগুলো ছিলো এই সমাজের সবচেয়ে বড় রেড ফ্লাগ । যারা বিপদের সময় পাশে না থাকে পিছিয়ে আনতে চায় কেবল সমাজের ঠুনকো দাম্ভিকতার ভয়ে । বার বার এই লাঞ্চনার,ভয়ের লুপে পরতে হয়েছিলো দুই নারীকে যারা প্রানপণে লড়েছিলো বিচার এর জন্য যেনো আগামীতে কোনো নারীকে এই অশ্লীলতার থাবায় পড়তে না হয়। কিন্তু শেষটা হলো নানান আক্ষেপে ও বিষন্ন চিরায়ত সত্য নিয়ে। তারা সম্মুখীন হয়েছিলো নারী স্বাধীনতার প্রকৃত চেহারার । যা ছিলো ঠুনকো ও লোক দেখানো ।
বিঃদ্রঃ আমার কাছে বইটির কাহিনীর ধরন ছিলো "গল্প হলেও সত্যি" । সমাজে এমন ঘটনা অহরহ আমাদের চারপাশে ঘটতে থাকে কেবল ভয়ে কেউ এই ঘটনা প্রকাশ করে না কিংবা কেউ প্রকাশ করেও শিকার হয় নানান কিছুর । দিনশেষে আমরা সবাই কাপুরুষতান্ত্রিক সমাজের বেরাজালে আটকে থাকি । যদি আমাদের কাছের মানুষগুলো লোক দেখানো সমাজ উপেক্ষা করে যদি পাশে থাকে তাহলে গল্পের শেষে আক্ষেপ এর অংশটুকু বাদ যেতো । সাম্প্রতিক ঘটনা-ই ছিলো বই লেখার প্রেরণা। সুচিত্রা ভট্টাচার্যb বইরূপে আখ্যায়িত করে নিজের রচনাগুণ যেমন প্রকাশ করেছে তেমনই প্রকাশ করেছে এই সমাজে নারীর জীবনের অন্য এক রূপ ।
অনেকদিন পর যেন সাতকাহনের দীপাবলিকে খুজে পেলাম সুচিত্রা ভট্টাচার্যের ❝দহন❞ উপন্যাসে শ্রবনা সরকার বা ঝিনুকের মধ্যে। কলেবরে ছোট হলেও কাহিনির বিস্তার কিন্তু কম নয়। গল্পের শুরু এক সম্ভ্রান্ত ঘরের গৃহবধূর শ্লীলতাহানির চেষ্টা, যা রুখে দেয় ঝিনুক। এরপর তার উদ্যোগে মামলা হয়, অপরাধীরা ধরা পড়ে। কিন্তু যুদ্ধ কি শেষ হয়ে যায়? বাধা হয়ে দাঁড়ায় সমাজ, বাধা হয় অপরাধীদের পিছনে সাহস দিয়ে যাওয়া অর্থশক্তি, পেশিশক্তি ও রাজনৈতিক আশ্রয়। কাছের মানুষগুলো দূরে সরে যায়, এমনকি অপরাধের শিকার মেয়েটিও পরিবারের চাপে সব মেনে নেয়- শুধু যুদ্ধ করতে থাকে ঝিনুক নামের একরোখা সাহসী মেয়েটি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কি ঝিনুক যুদ্ধ করে যেতে পারবে? নাকি সমঝোতার আগুনে নিঃশব্দে নিজের ভেতর থেকে পুড়ে নিঃস্ব হয়ে যাবে!!!
এককথায় অসাধারণ লেগেছে উপন্যাসটি। উপন্যাসের প্রেক্ষাপট নব্বইয়ের দশকের কলকাতা হলেও, আমাদের দেশের জন্য বর্তমান সময়ে গল্পটি আরও যৌক্তিক। কেন এ কথা মনে আসলো - তা এখনকার জেনারেশানের চিন্তাভাবনা দেখলেই বোঝা যা���়। যাই হোক, শেষ করি ঝিনুকের ঠাকুমার একটা কথা দিয়ে, যা এককথায় হয়ত আমাদের সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, ❝লেখাপড়া শেখানো হয়েছে,চাকরি করতে দেওয়া হয়েছে,তাতেই কি তুমি পুরুষমানুষের সমান হয়ে গেলে নাকি?" কথা হচ্ছে,"কে বলেছে সে পুরুষমানুষের সমান হতে চায়?কক্ষনও না।সে একটা মানুষ হতে চায়।" আর "মেয়েমানুষ" যখন "মানুষ" হতে চায়,সমাজ সেটা মানবে কেন?সমাজের একটা মানসম্মান আছে না?!!❞
এই উপন্যাসের উপর ঋতুপর্ণ ঘোষের একটা মুভি আছে একই নামে। দেখার ইচ্ছা রইল।
দহন" এই বইটার জন্য সুচিত্রা ভট্টাচার্যকে কখনোই ভোলা যাবে না। উনি কি জানতে কি অসাধারণ লেখেন উনি? ঝিনুকের দাদুর কথাগুলো একদম বাস্তব সত্য।
"_সে তুই যা ভাবিস। মৃণালিনী ঝিনুকের কথা কেড়ে নিলেন, আমাদের সময়ে তােদের সময়ে কতটা কি তফাত হয়েছে বুঝি না বাপু। হ্যাঁ, তােরা এখন অনেক বেশি স্বাধীন, মিলিটারিতে যাচ্ছিস, হিমালয়ে উঠছিস, ছেলেদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লেখাপড়া শিখছিস, চাকরি করছিস ! তবু বুকে হাত দিয়ে বল তাে, সত্যি কতটা ছাড় পেয়েছিস তােরা ? এটা বুঝিস না, ছেলেরা যতটা ছাড়বে ঠিক ততটাই জমি পাবি তােরা? তার বেশি এক চুল নয়। ছেলেরা সংসারের ভেতরে আটকে থাকা জবুথবু মেয়ে আর পছন্দ করছিল না, তাই ততাদের পড়াশুনাে করতে দিয়েছে ছেলেরা একা সংসার চালাতে পারছিল না কিংবা বলা যায়, সংসারের প্রয়ােজন হল, তাই তােরা চাকরি করতে বেরােলি। বেশি দূর যেতে হবে না, তুই তাের মা মাসিদের দ্যাখ, তাদের ওপরে ঠাকুমা দিদিমাদের দ্যাখ, তা হলেই বুঝতে পারবি কিভাবে একটু একটু করে ছাড় দেওয়া হয়েছে। তােদের। এখন ছেলেরা তােদের আরও খােলামেলা দেখতে চায়। তাই টিভিতে সিনেমায় বিজ্ঞাপনে তােদের খােলামেলা হয়ে নেচে বেড়াতে হচ্ছে। ছেলেদের মন খুশি রাখার জন্য। আর সেটাকেই তােরা স্বাধীনতা ভেবে ছাগলছানার মতাে লাফাচ্ছিস। এটা স্বাধীনতা নয় রে দিদি, স্বাধীনতার মরীচিকা। স্বাধীনতা হল মনের অনুভূতি। তোদের সেই মনের স্বাধীনতাটাকে ছেলেরা কখনোই মানবে না।
Amazing book… Women are known for keeping secrets but do read this book to understand the amount of pain and humiliation she keeps in depth of her heart. How she is taught to suffer for the sake of her family or husband or in-laws or kids that to from generation to generation. Remarkable characterization, loads of feminist fights against molestation, society and dead legal system. Jhinuk (my fav. Mardani) from a traditional family and very strong upbringing is fighting against system, society and her relations for her and Romita’s dignity. On the Contrary Romita from a so called modern family and in-laws is fighting herself to understand what was her fault and why she is the one who has to suffer all pain & shame. Pool of human emotions with love, jealousy, confusion, anger against the system, trust and ‘kuch nahi ho sakta is society ka’ attitude. Hope we understand women in our life & give them the same respect and love they truly deserve.
এই বইটা প্রকৃতই নারীবাদী রচনা। একটি মেয়ে (প্রটাগনিস্ট) মেট্রোরেলে অন্য একটি মেয়েকে শ্লীলতাহানি থেকে বাঁচায়, নিজেও জখম হয়। পত্রিকায় তার বীরত্ব ছড়িয়ে পড়ে কিন্তু এই নিয়ে প্রটাগনিস্টের পরিবারে অসন্তোষ তৈরি হয় তার মূল কারণ তাদের আদরের মেয়েটি 'পুরুষালি' হয়ে উঠছে দিনকে দিন যা নাকি পরবর্তীতে মেয়ের বিয়ের বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তার প্রেমিক প্রথম প্রথম প্রশংসা করলেও পরে যখন কেস কোর্টে ওঠে আর সে সাক্ষী দিতে চায় এলিট ক্লাসের লোকদের বিরুদ্ধে(যারা শ্লীলতাহানি করেছিল) তখন তার প্রেমিকও তাকে আপোষ করে নিতে বলে। এই উপন্যাস আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজের মনোভাব খুবই সুন্দর ভাবে চোখের সামনে তুলে ধরে। আর আপনি যদি প্যাট্রিআর্কি দ্বারা আক্রান্ত হন তাহলে এই উপন্যাস ভাল লাগবে না মানে প্রটাগনিস্টকে মোটেই সইতে পারবেন না।
সিনেমাটা দেখা, বইটা আগে পড়িনি। সেইভাবে বলতে গেলে লেখিকার খুব কম লেখাই আগে পড়েছি। কেন জানিনা মনে হতো একটু নারীবাদী গোছের লেখা হবে হয়তো। তাই এড়িয়েই চলতাম। ভুল করতাম। এই বইটা পড়ে মনে হলো পরপর গালে সপাটে থাপ্পড় পড়ছে! রীতিমতো হার্ড হিটিং। ঋতুপর্ণর সিনেমাটা খুবই ভালো হতে পারে কিন্তু বইটার কাছে ফিকে মনে হলো।
কিছু কিছু বই আছে এগুলো পড়লে আমরা বাকরুদ্ধ হয়ে যাই। আসলে আমাদের না বলতে পারা কথা গুলোই যেন বইগুলোর মধ্যে দিয়ে বেরিয়ে আসে। এই বইটাও সেরকমই একটা বই।গল্পের চরিত্র গুলোও যেন আমাদের আশেপাশে ছড়িয়ে থাকা মানুষ জন। আসলে এটা কোনো সাধারণ বই নয়, এটা আমাদের সমাজের নগ্নচিত্র! হ্যাঁ, সেই সমাজ যাকে নিয়ে আমরা গর্ববোধ করি!